Home এক প্রণয় রাত্রি এক প্রণয় রাত্রি পর্ব ২১

এক প্রণয় রাত্রি পর্ব ২১

এক প্রণয় রাত্রি পর্ব ২১
আসিফা খান

“Good night wifey,,,, কোলবালির অভ্যাস দ্রুত দূর করতে হবে। বিবাহিত পুরুষ হয়ে অবিবাহিতদের মত রাত পার করছি,,আর সময় দিচ্ছি অপর পাশের রূপসী কে।। খুব জলদি দেখতে চাই তোমায়,,,আরো একবার ছুঁতে চাই মিসেস আতিকা আহিল শেখ।”

ম্যাসাজ টা দেখা মাত্র আতিকার গাল দুটো লাল হয়ে আসে। ফোনটা চট জলদি বালিশের তলায় রেখে মুখ গুঁজে দেয় সেই বালিসেই। ইসস এই লজ্জা সে রাখবে কোথায়! মনে পড়ে যায় আজকের মধুর স্মৃতি।
নামাজ আদায় করে আতিকা সবে বসেছে সোফায়। আহিল দোয়া শেষ করেই আচমকা আতিকার কোমর আকড়ে ধরে দাঁড় করায় সম্মুক্ষে। আনমনা আতিকা চমকে উঠলো,, চিত্ত রঞ্জন হলো। কিছু সময় নিজের সদ্য বিবাহিত স্ত্রীকে আপাদ মস্তক পরখ করে পাঞ্জাবির পকেট থেকে বের করলো ছোট্ট ডায়মন্ডের নোস পিন ,,,আলতো হাতে তাহ পরিয়েও দিল আতিকের নাকে। ততপর আতিকাকে আয়নার সামনে দাঁড় করিয়ে তার কোমর আঁকড়ে ধরে থুতনি রাখে আতিকার কাঁধে আলতো স্বরে বলে,,,

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

“নাও পারফেক্ট একদম বউ বউ লাগছে,,, আমার বউ।”
কঙ্কিত ‘ বউ ‘ শব্দটি আতিকার মনে সৃষ্টি করল এক অজানা সুখ,, লজ্জায় মাথা নত করে ফেললো সে ,,লাজুকতায় ভর করেছে আতিকার মুখমন্ডল,, ঠোঁটের কোণে থাকা সূক্ষ্ম মিষ্টি হাসিটা চোখ এড়ালো না আহিলের।। ভাবতেই ভালো লাগছে,, সামনের রমনী তার,শুধুই তার,একান্ত তারই।।,,, চোখ গেলো আতিকার কানের পাতায় কালো কুচকুচে তিল ,,,যা অতিরিক্ত মাত্রায় কর্ষণ করলো আহিল কে,,, ছুঁয়ে দিতে মন চাইছে, সেই আকর্ষণকারীর তিল টা কে,,,, আহিলের আঁখি জোড়ায় নেমে এলো ঘোর। নিজের প্রিয়তমাকে সামনে পেয়ে একটুখানি ছুঁয়ে দেওয়ার বাসনা কার না হয়! আর এই ছুয়ে দেওয়া দোষের নয়।
আহিল আতিকাকে সামনে ফেরালো হাত উঠিয়ে মেয়েটার থুতনি ধরে নত মস্তিষ্ককে সোজা করলো। চোখে চোখ রাখার সাহস আতিকার নেই ,,তাই মাথা উঁচু করে থাকলেও চোখ নামিয়ে রেখেছে। কিন্তু তা ঠিক আহিলের পছন্দ হলো না গমগমে স্বরে বলল,,,

“তাকাও আমার দিকে আতিকা,,, এতটা কুৎসিত তো আমি নই যে আমার দিকে তাকানোও যাবে না।”
আহিলের কথা মনে লাগলো আতিকার চোখ তুলে তাকায় আহিলের দিকে,, দেখে লোকটা মিটিমিটি হাসছে সেই হাসির মধ্যে রয়েছে দুষ্টুমি ,,,হয়তো জানতো এরকম কথায় আতিকা তাকাবেই।।
“ছুঁতে চাই তোমায়,,, পাবো অনুমতি?”

আতিকা যেন লজ্জায় মিশে যাবে মাটিতে,, বুক ধক করে উঠেছে তার ,,,হাত-পা কেমন অসাড় হয়ে আসছে,,, আহিল এটা প্রশ্ন করল নাকি তাকে লজ্জা সাগরে ডুবিয়ে মারার এক চেষ্টা!,,, মুখ থেকে একটা টু শব্দ বার করলো না আতিকা,, চোখ বন্ধ করে আছে সে ,,, আহিল এই নীরবতা কে সম্মতি হিসেবে মেনে নিল।।,,, খুবই সংগোপনে নিজের ঠোঁট ছোয়ালো আতিকার কানের সেই কঙ্কিত তিলে,, ততপর আবার তাকালো আতিকার পানে,,,মেয়েটি শক্ত করে শাড়ির আঁচল চেপে ধরে আছে তা দেখে আহিল মুচকি হাসলো,, ততপর চোখ গেল তার মায়াবিনীর কাঁপা কাঁপা ঠোঁটের ওপর,,,উত্তেজনা কাজ করলো আহিলের মাঝে। পবিত্র ছোঁয়ায় দেরি কিসের?,, মাথা নোয়ালো, আলতো ভঙ্গিতে নিজের অধর মিশিয়ে ফেললো আতিকার কম্পনরত ঠোঁটে ,,,সময় নিল চুম্বনে,,, গাঢ় রঙ ধারণ করেছে সেই চুমু।। জীবনের প্রথমবার কোনো নারীকে এত কাছ থেকে ছুঁয়ে দিচ্ছে আহিল ,,,আর আতিকাও এই প্রথম কোন পুরুষের ছোঁয়া এতো কাছ থেকে পাচ্ছে।।,,

আতিকা খামচে ধরেছে আহিলের বুকের কাছের পাঞ্জাবি,,, কোমড় বন্ধন দৃঢ় হল,,, আঙ্গুলের শক্ত ভাজে রয়েছে আতিকার নরম দেহ।। সময় বহিল নিজের মত ,,,কপালে কপাল ঠেকালো আহিল। দুজনেই বেশ হাপাচ্ছে,, প্রশ্বাস টানছে দ্রুততার সাথে।।
কিছু সময় পর আহিল তাকালো আতিকার মুখশ্রীর দিকে গাল দুটো আস্ত টমেটো লাগছে ,,ঠোঁট চেপে হাসলো,,, জড়িয়ে ধরল আতিকাকে নিজের বুকের সাথে,, চেপে ধরল আতিকার মস্তক,,, আতিকা ও চুপ করে শুনতে লাগলো তার প্রিয় মানুষের হৃদ স্পন্দন।। আহিল লাগামহীন ভাবে বলল কিছু কথা,,

“তোমার মা মানে আমার শাশুড়ি মা আজ আমায় এখানেই থাকার রিকোয়েস্ট করেছে,,, কিন্তু বিশ্বাস কর আতিকা আমি যদি আজ রাতে এখানে থেকে যাই তাহলে আমি প্রতি রজনীতে তোমাকে চাইবো। যেহেতু তোমার পরীক্ষার পর আমাদের আনুষ্ঠানিক বিয়ে, তারপর তোমায় ঘরে তুলব নিজের ,,ততদিনে এই আশা আমার দ্বারা করোনা।। রোজ আসব জামাই আদর খেতে, নিজেও আদর করে যাব আমার এই ছোট্ট বউটাকে,, আর তার আদরের আশায় আমি থাকবো। আজ আসি,, আই উইল সি ইউ সুন।”

কথাটা বলেই আতিকার কপালে ডিপলি একটা চুমু এঁকে বেরিয়ে গেল আহিল রুম থেকে। আতিকার মা বাবা বড় ভাই সবাই তাকে জোর করেও থামাতে পারেনি,, খুবই নম্রতা ভদ্রতার সাথে তাদের বলে গেছে সে আবার আসবে ।। এদিকে আতিকা বিমুর,, কি বলে গেল লোকটা তাকে!

দশ মিনিট ধরে রাফির শুধুই অপলক দৃষ্টিতে দেখে চলেছে নিদ্রায় নিমজ্জিত ইয়ানা কে। পাশের টেবিলে রাখা খাবারের প্লেটের দিকে একবার তাকিয়ে রুদ্ধ শ্বাস ছাড়লো। এতক্ষণ সে ভাবছিল ইয়ানা কে জাগ্রত করবে কি ভাবে?,,,চশমা নাকের ডগা হইতে তর্জনী আঙ্গুল দিয়ে উপর দিকে ঠেলে উঠে দাড়ালো। ইয়ানার পাশে বসে তার মাথায় হাত রাখলো রিফাত।। কয় একবার আওয়াজ দিলো আলতো কণ্ঠে।
“ইয়ানা,,,ইয়ানা,,,ডিনার করবে,,, ওঠো।”

ইয়ানা,,,সেতো যেনো বেহুস।। রিফাত মৃদু শাস ছাড়ে। তত্পর ইয়ানার কাধে হাত রেখে বেশ জোরে ঝাঁকায় মেয়েটাকে। এবার মিহি ভাবে তাকায় ইয়ানা। ঠোঁট উল্টিয়ে ঘুমের ঘোরে বলে,,
“আমার স্বপ্নেও এসে হাজির,,,বদ লোক।। যান বলছি,,,আমার স্বপ্নে আপনার প্রবেশ নিষেধ।”
রিফাত যেনো আকাশ থেকে পড়ল,,,খোলা চোখে স্বপ্ন দেখছে নাকি মেয়েটা। কারণ ইয়ানা হালকা ভাবে চোখ খুলে তার দিকেই তাকিয়ে আছে। তবেকি ইয়ানা ঘুমের ঘোর কে স্বপ্ন ভাবছে?,,, রিফাত হালকা ধমকের সুরে বলল,,,
“এই ইডিয়েট,,,খোলা চোখে স্বপ্ন দেখছো?,,ওঠো ডিনার করবে।”
ইয়ানা এবার ভ্যা করে কেঁদে ওঠে।। অশ্রুহিনা কান্না যাকে বলে। রিফাত ভরকে যায়। ইয়ানা অভিযোগের মিশ্রণে ঠোঁট কপিয়ে বলে,,,

“স্বপ্নে এসেও বোকছেন! সব সময় ধমক দেয় আমাকে,,,,কথা বলবো না,,,আজ সকালেও আমায় ভুল বুঝে বলেছেন,,,বাজে আপনি,,ভীষণ রকম নির্দয়।”
এতক্ষণে রিফাত বুঝতে পারে মেয়েটা তার উপর অভিমান করেছে,,,তীব্র অভিমান। তাইতো রিফাত কে স্বপ্নেও কল্পনা করতে চাইছে না সে। এখন রিফাত এর বেশ মজা লাগছে। অবশ্য অন্তরের কোথাও অনুসুচনা ও কাজ করছে,,,আজ সারাদিন শুধুই মেয়েটা কে নিয়েই ভেবেছে। দীর্ঘশ্বাস ফেলেছে নিজের উপর,,, পলক ফেলতে সর্বক্ষণ ইয়ান ার অশ্রুসিক্ত নয়ন, করুণায় ভরপুর মুখশ্রী ভেসে উঠেছে।। রিফাত সময় অপচয় না করে ইয়ানা কে বাচ্চাদের মত করে তুলে কোলে বসিয়ে নিল নিজের।। মেয়েটার এই রকম বাচ্চা সুলভ আচরণ রিফাতকে আঁকড়িয়ে ধরেছে।। এখন শুধু মেয়েটাকে কোনরকম খাওয়াতে পারলেই কাজ হয়!

“ছাড়ুন আমায়,,,” ইয়ানা ঠোঁট উল্টিয়ে রিফাতের বুকে গুতা মেরে বললো কথাটি।
“তুমি চাও আমি তোমার স্বপ্ন থেকে বেরিয়ে যাই,,,তাই তো!”
ইয়ানা মাথা ঝাঁকায়,, মানে সে চায়।। রিফাত বলে,,
“তাহলে আমি যা বলব তাই করতে হবে,,,।”
“করলে চলে যাবেন?”
“হ্যাঁ,,,এখন আমি তোমায় খাইয়ে দেবো আর তুমি ভালো মেয়েদের মত করে খেয়ে নেবে,,,ওকে?”
ইয়ানা মাথা ঝাঁকায়,,,,তত্পর ইয়ানা কে বিছানায় বসিয়ে প্লেটের ভাত মেখে ইয়ানা কে খাইয়ে দিতে থাকে। মেয়েটা বসে বসে ঘুমাচ্ছে,,,আর ধীরে সুস্থে ভাত চিবাচ্ছে,,,মাঝে মাঝেই আবার চোখ খুলে সামনে রিফাত কে দেখছে।। খাবার খাওয়ার মধ্যে বার বার কেশে উঠছে মেয়েটা,,,পানি খেয়ে লাভ হচ্ছে না।। খাওয়ানো শেষ করে রিফাত হাত ধুতে যায়,, এসে দেখে ইয়ানা বসা অবস্থায় বালিশে কপাল ঠেকিয়ে ঘুমাচ্ছে, তা দেখে রিফ াত মৃদু হেসে বাম হাতের আঙুলগুলো কপালে ঘষে।।

রিফাত ড্রয়ার থেকে একটা কাশির সিরাপ এর বোতল বের করে। তত্পর মেজারমেন্ট করা সেই ছোট্ট কাপে ওষুধ ঢেলে ইয়ানা পাশে বসে,,, এক হাতে ইয়ানা কে আগলিয়ে বলে,,,
“ইয়ানা এই ওষুধ খেয়ে নাও,,,তারপর ঘুমিয়ে যেও।
ইয়ানা এবার পুরো পুরি চোখ খুলে তাকালো রিফাত এর দিকে,,,তত্পর পাশে রাখা সেই সিরাপ এর বোতল এর দিকে,,, নাক কুচকে,,,মুখে উচ্চারণ করলো,,
“এই টুকু ওষুধে কি হবে?”
কথা শেষ হওয়ার প্রায় সঙ্গে সঙ্গে ইয়ানা সিরাপ এর বোতল ছো মেরে নিয়ে ঢক ঢক করে এক নিঃশ্বাসে পুরো বোতল খালি করে দিলো। এদিকে রিফাত আহাম্মক বোনে গেলো,,,চোখ বড় আকার ধারন করেছে তার,,,চোয়াল খানিক ঝুঁলে গেছে,,, ইয়ানার পাগলামী দেখে সে নিথর, বাক্যহীন।।
এরপর কি হবে তাহ ভেবেই রিফাত এর মাথায় হাত।

ঘড়িতে তখন রাত প্রায় সাড়ে বারোটা। সোফায় বসে আছে রিফাত। শান্ত দৃষ্টি তার বিছানার ওপরে বাবু হয়ে বসে থাকা ইয়ানার পানে। মেয়েটা প্রায় পনেরো মিনিট ধরে রিফাত এর দিকে তাকিয়ে আছে আর মিটিমিটি হাসছে। চোখে তীব্র ঘোর ইয়ানার। মাঝে মধ্যেই আবার ভ্রু নাচিয়ে রিফাত কে বিব্রত করছে সে।।,,, রিফাত এর রাগে নাক লাল হয়ে আছে,,,মনে হচ্ছে মেয়েটা কে ধরে আছাড় দিতে কিন্তু সে নিরুপায়। মেয়েটার ঘোর যতক্ষণ না টাকবে তার হাত বাঁধা।

ইথানল কাশির সিরাপ এবং টনিকগুলিতে ব্যবহৃত হয় কারণ এটি একটি খুব ভাল দ্রাবক। ইথানল হল একটি জৈব রাসায়নিক যৌগ। এটি রাসায়নিক সহ একটি সাধারণ অ্যালকোহল।। (গুগল এর সাহায্যে) তাই পুরো সিরাপ এক সাথে খাওয়ায় ইয়ানা নেশায় বিভোর হয়ে গিয়েছে।

ইয়ানা এবার রিফাতের দিকে তাকিয়ে চোখ টিপ মেরে দুষ্টু হাসে,,, রিফাত ভোরকে যায়,,,”ইয়াহ আল্লাহ্” বলে বাম হাত কপালে ঠেকায়।।,,, ইয়ানা এবার বিছানা ছেড়ে ধীর পায়ে হেটে আসে রিফাতের কাছে,,, রিফাতের একদম সামনে রাখা টি টেবিলের উপরে বসে পড়ে,,, আর ঘোর লাগা মিটিমিটি দৃষ্টিতে রিফাতের চোখের দিকে তাকিয়ে থাকে কিছুক্ষণ,,, এদিকে রিফাত রীতিমতো ঘামছে ইয়ানার এরকম চাহনি, মুভমেন্ট তার কাম্য নয়।।
ইয়ানা হুট করে হাত বাড়িয়ে রিফাতের চোখের চশমা খুলে নেয়,,রিফাত হকচকিয়ে যায় কিছু বলতে নিলে,, তার আগেই ইয়ানা ধির আওয়াজের পালে,,,,”আপনার চোখ গুলো এরকম কেন? ”
“কেমন?” ইয়ানার ওরকম কথায় রিফাত ো কৌতুহলী হয়ে ওঠে তাই চট করে জিজ্ঞাসা করে।
“বিপদজনক, নিষ্ঠুর এক সেকেন্ডে আমায় কনফিউজ করে দেয়,,, এই চশমার ফাঁক দিয়ে যখন আপনি আমার দিকে তাকান আমার অন্তর দুলে ওঠে,,, আচ্ছা আপনি এত সুন্দর কেন?”

প্রথম মেয়ের কথাগুলো অত্যন্ত নমনীয় স্বরে বললেও শেষের কথাটি ইয়ানা বাচ্চাদের মত করে বলে ওঠে। ব্রীড়ার মধ্যে পড়ে যায় রিফাত। এদিক সেদিক চোখ ফেরায় সে,,, একটা অস্থির অবস্থার শিকার হয় রিফাত,, তার ওপরে ইয়ানার ঘোরলাগা দৃষ্টি সব মিলিয়ে যেন কাহিল অবস্থা ছেলেটার।। ইয়ানা এখনো তার দিকে তাকিয়ে আছে উত্তরের আশায়।। রিফ াত বুড়ো আঙুল কপালে ঘষে,,,গলা ঝেড়ে বলে,,,
“ইয়ানা,,,ঘুমাবে চলো রাত হয়েছে অনেক।”

কথাটি বলে রিফাত সোফা থেকে উঠতে নেবে কি? তার আগেই ইয়ানা ঝট করে রিফাতের কোলে বসে পড়ে,, ততপর রিফাতের ডান হাত নিজের বুকের বা পাশের কিছুটা উপরে চেপে ধরে ঠোঁট ফুলিয়ে কাঁদো কাঁদো সুরে বলে,,,”এখানে আঘাত করেছেন আমায় আপনি,,, দয়াহীন পুরুষ আমার উপর কি আপনার একটুও মায়া হয় না ! অভিমান করেছি আমি।”

রিফাত এবার ভালোভাবে তাকায় ইয়ানার পানে। এতক্ষণে মেয়েটাকে পর্যবেক্ষণ করলো সে,,,সাদা ঘের ওয়ালা চুড়িদার, প্লাযো,,, খোলা লম্বা চুল লুটেপুটে খাচ্ছে পিঠে,,, কপালে এসেও আঁচড়ে পড়েছে কিছু বেবি হেয়ার। এই সময় মেয়েটাকে রিফাত এর কাছে অত্যাধিক অদূরে,মায়াময় লাগছে। নেশাগ্রস্ত চোখ মুখ।।,,, আজ সকালের বিষয় নিয়ে ইয়ানা অত্যাধিক শান্তহীন ,,,ঘোরের মধ্যেও তার অভিমানের প্রকাশ পাচ্ছে রিফাত। রিফাতের জন্য অভিযোগে ভরপুর কে আনার অন্তর।,,,রিফাত ও মেয়েটাকে আকড়ে ধরে, তারও অনুসুচনা হচ্ছে। মেয়েটার রাগ ভাঙ্গানো উচিত। নিজের বাঁধনে বন্দিনী বানিয়ে ফেললো মেয়েটাকে।।
রিফাত এক হাত উঠিয়ে ইয়ানার এক গালে রাখল আদুরে ভঙ্গিতে ইয়ানার গালে নিজের বুড়ো আঙ্গুল স্লাইড করতে করতে বলল,,,”কি ভাবে অভিমান কমবে?”
ইয়ানা এবার ঠোঁট কামড়িয়ে হাসলো,,, দুষ্টু ভঙ্গিতে বলল,,,”নেচে দেখান।”

“কিইই।”
“আপনার নাচ দেখবো,,,নেচে দেখান,,,রেটিং পয়েন্ট দেবো আপনাকে,,,জিতে গেল মিশির বেবি হলে তাকে আপনাকে গিফট করবো।”
রিফাত যেন ঠাস করে বেরিয়ে এলো ঘোরের মধ্যে,, দিয়ে আহাম্মক বনে গেল ছেলেটা।।ভুরু কুঁচকালো রিফাত ,,তার চোখ মুখের ভঙ্গি বলে দিচ্ছে সে ইয়ানার এহেন কথায় অত্যাধিক বিস্মিত।। লাইক সিরিয়াসলি মেয়েটা রিফাতকে নেচে দেখাতে বলছে,,,, রিফাত দীর্ঘ শ্বাস ফেলে পাশে তাকায় ,,, ইয়ানা তখনো রিফাতের দিকে তাকিয়ে হাসছে,,, রিফাত যেন আর থাকতে পারে না ইয়ানার দিকে ফিরে সেও হেসে দেয়।।
রিফাতের হাসি দেখে ইয়ান া অত্যধিক অবাক হওয়ার ভঙ্গিতে রিফাতের মুখের সামনে ঝুকে যায়,, ঘাড় বাঁকিয়ে কিউট একটা স্মাইল দিয়ে বলে,,”আল্লাহ,, আপনি হাসতেও পারেন?”

“কেনো,,পারি না।”
“জানেন না ছেলেদের এরকম সুন্দর হতে নেই!,,এটা পাপ,,, ঘোর অপরাধ।।,,, শাস্তির যোগ্য আপনি!”
“কেমন শাস্তি?”
“শাস্তি হলো আপনি হাসতে পারবেন না,,,হাসলে আপনাকে আরো বেশি সুন্দর লাগে।”
ইয়ানার এই কথায় রিফাত আরো প্রস্থর হেসে উঠলো। ইয়ানা ঠোঁট ফুলিয়ে বসে।। তত্পর মুখ কালো করে বললো,,,
“আপনি রিফাত কে চেনেন?,,,একদম আপনার মত দেখতে,,,কিন্তু সে হাসে না,,,কেমন রাক্ষস মত গম্ভীর হয়ে থাকে,,মনে হয় পানি ছাড়াই কাচা চিবিয়ে খাবে আমায়,,, প্রনয়হীন পুরুষ একটা।। ”

ইয়ানার কথা শুনে রিফাত রীতিমত অবাক। মেয়েটা জানেও না যে সে কি বলে গেলো এতক্ষণ।।
ইয়ানার এদিকে কোনো হেলদোল নেই সে আপন মনে রিফাতের বিরুদ্ধে অভিযোগ জাহির করছে।।
রিফাত এবার ইয়ানাকে ধুপ করে সোফায় ফেলে হাত দুটো আটকে ধরল। ঝুঁকে গেল ইয়ানার মুখের কাছে,,,
রিফাতের এহেন কাণ্ডে ইয়ানা কিছুটা চমকে উঠল, ভোরকে গেল মেয়েটা,,, মাসুম ফেস বানিয়ে রিফাতের দিকে তাকিয়ে আছে,,, রিফাতের উষ্ণ নিঃশ্বাস ইয়ানার চোখে মুখে আঁচড়িয়ে পড়ছে,,,ইয়ানা বারে বারে পলক ফেলে দেখছে তার সামনের সুদর্শন পুরুষ টা কে,,,যে কি না তার পানেই তাকিয়ে আছে এক দৃষ্টিতে।

“আবার বলো কী বললে,,,আমি কি?,,,রাক্ষস,আনরোমান্টিক!”
“উম হুঁ,, উম হুঁ।।,,,আমি কিছুই বলিনি।”
“তাই,,,!”
ইয়ানা কিছুটা সময় নিস্তব্ধ থেকে, পিছন দিকে চোখ এবং ভ্রু দ্বারা ইশারা করে বললো,,,”ওই যে দাদু।”
রিফাত ও ফট করে পিছনে ফিরে তাকাতেই ইয়ানা জোরে হেসে উঠলো,,,এক ঝটকায় রিফাত এর কাছ থেকে নিজেকে মুক্ত করে বিছানার কাছে চলে গেল,,,সহসা রিফাত বিস্মিত। মেয়েটা তাকে বকা বানালো। রিফাত নিজেকেও মনে মনে বকলো,, এত রাতে দাদু কোথা থেকে আসবে সেটাও তার ভাবা উচিত ছিল!,,,এদিকে ইয়ানা রিফাত কে বোকা বানিয়ে বেশ মজা পেয়েছে,,,তাই তো গালে হাত রেখে হেসেই চলেছে,,,পেটে হাত চেপে বললো,,,”বুদ্ধু ডাক্তার সাহেব।”

“তবে রে,,,”
সোফা থেকে হাওয়ার বেগে ছুটে আসলো রিফাত,,, ইয়ানাও কম যায় নাকি! রিফাতের কাছে ধরা না দেওয়ার জন্য পালাতে লাগলো,,, রিফাত ও ইয়ানা কে ধরার জন্য তার পিছনে ছুটলো,,,পুরো রুম জুড়ে তারা একপ্রকার বাচ্চাদের মত ছুট ছুটি লাগিয়ে দিয়েছে,,,সাথে কক্ষ মেতে উঠেছে দুই নর নারীর হাসির গুঞ্জনে। বিছানা,সোফা, টি টেবিল এর চতুর্দিকে ইয়ানা পাক খাচ্ছে সাথে রিফাত ও।।

ইয়ানা মাঝে মধ্যে জিভ ভাঙায়, তো আবার বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বলে,,,”পারবেন না ধরতে।”,,,
রিফাত ও চ্যালেঞ্জ একসেপ্ট করে,,সে ইয়ানা কে ধরেই দম নেবে।।,,, কিন্তু ইয়ানা নিজের চিকন নরম শরীর নিয়ে এদিক-ওদিক গলে গেলেও রিফাত এর জন্য তা মুশকিল হয়ে পড়ছে। রিফাত কোমরে হাত দিয়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে পরল, মাথায় বুদ্ধি খেলে গেল, ঠোঁট বাঁকিয়ে জোর গলায় বলল,,,”ইয়ানা,,, ককরোজ।”
পা থেমে গেল ইয়ানার ভয়ে কানে হাত দিয়ে চিৎকার করে বলল,,,”এ্যআ,,,,,কোথায়,,,ককরোজ,,,বাঁচান!”
রিফাত বাঁকা হেসে ইনার কাছে ধেয়ে গেলো,,মেয়েটা কে তুলেই বিছানায় ফেলে হাত দুটো বিছানার সাথে চেপে ধরল।। ইয়ানার ছোট্ট শরীর এখন রিফাতের প্রশস্ত দেহের নিচে,, হুট করে এরকম হওয়ায় ইয়ান া স্বজরে নিঃশ্বাস ফেলছে। বুকের ওঠা নামা ক্রমশ বেড়েই চলছে,,, ইয়ানার কপালের ওপর এসে হাজির হলো বেহায়া কেশ,,,রিফাত ঠোঁট কামড়িয়ে হাসলো,,,ফু মেরে কপালে পড়ে থাকা চুলগুলো উড়িয়ে দিয়ে ইয়ানার উদ্দেশ্যে লো ভয়েস এ বললো,,,,”এবার কোথায় পালাবে?”

ইয়ানা ঠোঁট ফুলিয়ে কিছু বলতে নিলে রিফাত তার অধরে তর্জনী আঙ্গুল ঠেকিয়ে বলে,,,”চুপ,,,অনেক বলেছ,,,আর আমি শুনেছি। পাগলামী করেছে আর আমি দেখছি। এখন আমি যা করব তাহ চুপ চাপ অনুভব করবে,,,”
রিফাতের অন্তরের কোন সৃষ্টি হল উথাল পাথাল ঢেউ,,, এক অজানা অনুভূতিরা হানা দিয়েছে তার হৃদয় মাজারে,,, নেশাগ্রস্থ ইয়ানা মিটমিট করে তাকিয়ে আছে রিফাতের পানে, রিফাত যেন কোন এক ঘোর এর মাঝে চলে গিয়েছে,,, নেশাহীন মাতাল লাগছে নিজেকে ,,, শিরদাঁড়া বেয়ে বয়ে চলেছে শীতল শিহরণ ,,, বাহিরের ঠান্ডা হওয়া রুমকে শীতল করে তুলেছে।।,,, বেশ কিছুক্ষণ রিফাত তাকিয়ে থাকলো ইয়ানার মুখপানে। হলদেটে ফর্সা সুশ্রী মাসুম সুরৎ,,মায়ায় ভরা চেহারা, কাজল কালো চোখ,,,এই সুভাশিনী,,, যেন আজ রিফাত কে বড্ড টানছে।। মেয়েটা তার অর্ধাঙ্গিনী। পবিত্র বন্ধন এর একটা টান আছে না!,,, ইয়ানাকে শুধুই নিজের দায়িত্ব ভাবা রিফাতের মস্তিষ্ক আজ, এখন, এই মুহূর্তে পুরোই অন্তরের বিরুদ্ধে।।

এদিকে ইয়ানা নিরব ,,এক নেশার মাঝেও সে অনুভব করতে পারছে রিফাতের দুর্ধর্ষ চাহনি। যা ইয়ানার ছোট্ট হৃদয়কে সিক্ত করে তুলছে।।,,, মুহূর্ত গড়ালো,, কিয়ৎকাল যেতে এমন কিছু ঘটল যা ইয়ানাকে কাঁপিয়ে তুলল ,,গলা শুকিয়ে গেছে মেয়েটার। রিফাতের পুরুষালী উষ্ঠো ছোঁয়া তার গলদেশকে আবৃত করে ফেলেছে।। ছোট্ট ছোট্ট মৃদু সুখে হারিয়ে যাচ্ছে ইয়ানা,,,শরীর নেতিয়ে পড়ছে,,,তার হাতের কব্জি রিফাত খুব সংগোপনে কৌশলে চেপে ধরে আছে বিছানার সাথে।। হালকা মিষ্টি মধুর ব্যাথা যুক্ত চুমু তে ভরিয়ে দিচ্ছে রিফাত ইয়ানার গ্রীবা, কন্ধন।। আজ রিফাত নিজের মাঝে নেই। মৃদু ব্যথায় আর্তনাদ করে উঠল ইয়ান া ,,এই ছোঁয়া তার জন্য একদম নব ,,,ইয়ানা নিজেকে সরিয়ে নিতে চাইলে রিফাত টা দিল না শক্ত করে নিজের অধীনে রাখল ইয়ানার নরম দেহটাকে। বেসামাল ছোঁয়ায় ভরিয়ে দিতে লাগলো মেয়েটার গ্রিবাদেশ,,, সেকেন্ড পেরালো,অতিবাহিত হলো মিনিট ও ,,,রিফাত মাথা তুলে ইয়ানার দিকে তাকাতেই দেখল,, মেয়েটা চোখ বন্ধ করে আছে নরম গোলাপী ঠোঁট দুটো কেপে চলেছে অবিরাম।।
রিফাত পারলনা নিজেকে সামলে রাখতে,,টুপ করে একটা চুমু এঁঠে দিলো সেই গোলাপী পাপড়ি জোড়ায়,,,তত্পর আবার মুখ গুঁজে দিলো গলায়।।

এক প্রণয় রাত্রি পর্ব ২০

“,,, আ আমি ঘুমাবো।”
অত্যন্ত সূক্ষ সুরে,কাপা কন্ঠে কোনো রকম কথাটি উচ্চারণ করলো ইয়ানা,,,কিন্তু তাহ রিফাত এর কান পর্যন্ত পৌঁছালো কি না সেটা বোঝা যায়নি,,,কারণ রিফাত তখনও ইয়ানার মাঝে বিলীন।। অনেকটা সময় চলে যাওয়ার পর শোনা গেলো মেয়েটার ভারী নিঃশ্বাসের শব্দ,,,রিফাত দেখলো ইয়ানা ঘুমের সাগরে তলিয়ে গিয়েছে।। রিফাত উঠে ইয়ানা কে ভালো ভাবে শুইয়ে দিল,,,গায়ে চাদর চাপিয়ে কপালে চুমু দিয়ে বেড সাইড টেবিল থেকে নিজের ফোন নিয়ে ব্যালকনিতে চলে গেল।।

এক প্রণয় রাত্রি পর্ব ২২