Home এক প্রণয় রাত্রি এক প্রণয় রাত্রি পর্ব ২০

এক প্রণয় রাত্রি পর্ব ২০

এক প্রণয় রাত্রি পর্ব ২০
আসিফা খান

অভিমানের পাল্লা অত্যাধিক ভারী। সেই দিনের পর পেরিয়েছে অনেকটা সময়। কিন্তু ছোট্ট মনে আঘাতের চিহ্ন পরিষ্কার। হাফিজ নানান ভাবে আলেয়ার সাথে কথা বলার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে প্রতিটা মুহূর্ত। মেয়েটা তাকে দেখলেই উপেক্ষা করে। মুখ ভার করে চোখ ফিরিয়ে চলে যায়। হাফিজের ও অনুশোচনা বোধ হয়,,, সেদিন বিক্ষিপ্ত মস্তিষ্কে করা কাজটি একদমই অনউচিত ছিল তার। ছোট্ট মেয়েটাকে ওইভাবে বীজ সড়কে একা ফেলে আসা উচিত হয়নি।। অবশ্য কিছুক্ষণের মাঝেই একটা রিক্সা ওয়ালাকে দেখে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে ততপর,, আলেয়ার কাছে সেই রিকশাকে পাঠিয়ে দেয়,,,অবশ্যই এই সম্পর্কে আলেয়া গাফিল।

পরীক্ষা যত ঘনিয়ে আসছে আলেয়া যেনো ততই বই এর মধ্যে ঢুকে যাচ্ছে। সন্ধ্যা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত টানা পড়াশুনা করে আলেয়া বেশ ক্লান্ত,,,একটু রিফ্রেশমেন্ট এর প্রয়োজন তার।। এক বান্ধবীর সাথে ফোন আলাপ পর্ব শেষ করে ব্যালকনির রেলিং ধরে দাড়ায়।। চোখ যায় হাফিজ এর রুমের খোলা বড়ো জানালার দিকে,,,রুমের লাইট অফ মানে হাফিজ রুমে অনুপস্থিত। আলেয়া চোখ ঘুরিয়ে ঠোঁট বাকায়।। তত্পর ঠান্ডার স্নিগ্ধ হাওয়া উপভোগ করতে মগ্ন হয়ে পড়ে আলেয়া।। কিন্তু তার এই মগ্নতা খুব বেশিক্ষণ টেকে না হাতে থাকা মুঠো ফোনের ভাইব্রেট কাপুনি আলেয়া কে কিছুটা বিরক্ত করে।

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

স্ক্রিন এর দিকে তাকাতেই আলেয়ার চোখ মুখ এর রং পাল্টে। হাফিজের কল।। কল রিসিভ না করায় ফোনটি বাজতে বাজতে একটা সময় বন্ধ হয়ে যায় সেকেন্ড অতিবাহিত না হতে হতেই হাফিজের আরেকটা কল আসে আর সেটা আলিয়া ইচ্ছাকৃত কেটে দেয়। সে চায় না এই মানুষটার সাথে কথা বলতে,,, যে তাকে বিনা কারণে বীজ সড়কে ছেড়ে চলে আসে,,,একটা বার ফিরেও তাকায় না সে ।। এবার ফোন ভাইব্রেট হয়ে আসে একটা মেসেজ হাফিজের দিক থেকে।

“ফোন না তুললে তোর অবস্থা কাহিল করবো আলু। আই সোয়্যার।”
মেসেজটার মধ্যে কি ছিল তা জানা নেই কিন্তু এই ঠান্ডা হুমকিতে আলেয়া কিছুটা ভোরকে যায়। সে চেনে হাফিজ কে,,,ছেলেটার কোনো জিনিসের প্রতি জেদ চেপে বসলে সেটা সে করেই ছাড়ে। ধুপ করে নিভে গেল আলেয়ার সব অভিমান। তৃতীয় বারের মতো ফোন ভাইব্রেট হওয়ার সাথে সাথে আলেয়া চট করে ফোন রিসিভ করে কানে ধরল।। ওই পাশ থেকে ভেসে এলো অত্যাধিক চাপ ধমক, হিশহিসানি,,,
“অনেক বড়ো হয়ে গেছিস তাই না,,,ইগনোর করতেও শিখেছিস।”
আলেয়ার গলা জড়িয়ে এলো কি বলবে কিছু খুঁজে পাচ্ছে না সে,,,হাফিজ আবার ও বললো,,,
“কি হলো কথা বল আলু,,,,কথা না বললে তোরে বউ বানিয়ে সমস্ত অভিমানের পাহাড় ভেঙ্গে গুড়িয়ে ফেলবো অন্য পদ্ধতিতে,,,তার পর দেখবো কোথায় যাস তুই।”

রাগের মাথায় হাফেজ কি বলছে সে নিজেও জানে না । । সে জানে না তার এই ছোট্ট ” বউ ” বাক্যটি শ্রোতার মনে কেমন অশান্ত বাতাস এর সৃষ্টি করেছে। ছোট্ট আলেয়া হাফিজের কথা শুনে অবাক হয়,সাথে কেমন একটা অনুভুতি তার চিত্ত আকুল করেছে।। ঠোঁট নাড়িয়ে না চাইতেও বলে,,,
“তোমার বউ হবো না আমি।”
“সে সময় বলবে।”
দুই জনেই নিজের কথায় অত্যাধিক বিস্মিত। দুই দিক থেকে ফুটলনা কোনো বুলি। নিস্তব্ধ থাকলো বেশ কিছু সময়।। এই নিস্তব্ধতার মাঝে আলেয়া শুনতে পেলাম ফোনের অপর পাশ থেকে ভেসে আসা কিছু মানুষের কথা। আচমকা ঠোঁটের কোলে ফুটে উঠলো হাসির রেখ া অত্যন্ত চঞ্চলতার সাথে বললো,,,

“আফিয়া আপি এসেছে?”
হাফিজ দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো,,,”হ্যাঁ সন্ধার দিকে।”
“আমায় জানাওনি কেনো?”
“জানানোর মত কোনো সুযোগ দিয়েছিস আমায়!”
চুপ হয়ে গেলো মেয়েটা। উত্তরে কি বলবে তাহ বুঝে আসলো না,,,আপাতত সে আফিয়া আপির সাথে দেখা করতে পারলেই খুশি। কত দিন পর দেখা পাবে অপির।
“আমি যাচ্ছি আপীর সাথে দেখা করতে।”

“১০.১৫ বাজে এখন আসবি মানে!”
“চিন্তা নেই তোমার কাছে যাচ্ছি না,,, আমি যাচ্ছি আমার আপির সাথে দেখা করতে আর এমন ভাব করছো যেনো তোমাদের ঘর আর আমাদের বাড়ি,,
এপার বাংলা আর ওপার বাংলা যে,, যেতে পাসপোর্ট ভিসা লাগবে।।”
হাফিজ বাকরুদ্ধ মেয়েটাকে একভাবে কথাটা বললে এটা আরেক ভেবে ফেলে।। আসছে আসুক হাফিজের লাভ,, সরি বলার একটা চান্স পাবে। অবশ্য সে সরি বলার জন্যই আলিয়া কে ফোন করেছিল। কিন্তু এখন মন টানছে আলিয়াকে দেখে চোখের সামনে দাঁড় করিয়ে সরি বলবে।

আজ রাত আটটা পর্যন্ত নিজেকে অবিবাহিত আর সিঙ্গেল বলে দাবি করা আতিকা এখন বিবাহিত।। পবিত্র সম্পর্ক বিয়ে নামক বন্ধনে সে আবদ্ধ। নাম না জানা কোনো এক পুরুষের সাথে সে বিবাহ নামক অটুট বন্ধনে বেঁধে গেছে।। নাম না জানা পুরুষ বললে ভুল হবে নাম তো তাকে বলা হয়েছিল কবুল বলার আগে,, কিন্তু সে তখন মনের মধ্যে দমিয়ে থাকা রুদ্ধ শ্বাস ফেলতে ব্যস্ত ছিল, হৃদয়ের আকুলতা হাহাকার তাকে গ্রাস করে ফেলেছিল।চোখের সামনে ভেসে উঠছিল সেই হৃদয়হীন পুরুষ আহিলের মুখশ্রী। নিজের উপর ধিক্কার জানাচ্ছে আতিকা কিভাবে সে এমন পুরুষকে চেয়ে ফেলেছিল যে কিনা তার প্রতি বিন্দুমাত্র দায়িত্ববান নয়।। কান্না করতে করতে চোখের পানি শুকিয়ে গেছে। হয়তো একেই বলে কিসমত,বিধান। আতিকা পণ করলো সে আর ওই লোকের জন্য চোখের পানি ফেলবে না,,,মেনে নেবে তাকেই যে এখন তার মেহরাম,,তার স্বামী।।

“আতিকা জামাই এসছে তোর রুমে,,ঠিক ঠাক করে বস,,দরকার পড়লে চোখে মুখে পানি দে।
জানি তোরা দুই জন একে অপরকে না দেখেই বিয়ে করে ফেলেছিস,,,কিন্তু বিশ্বাস কর মা আমার,,,তুই অনেক সুখে থাকবি। ছেলে অনেক ভালো,,,ছেলের বাবা তোর আব্বুর পূর্ব পরিচিত তাই তো তারা হুট করেই বিয়ের কথা বললেও না করতে পারিনি।।”
আতিকা তার মায়ের কথা শুনলো নিঃশব্দে। কিছুই বললোনা চুপ চাপ উঠে ওয়াশরুমে চলে গেল। এমন নয় যে সে তার মা বাবার প্রতি রাগ বা অভিমান করেছে কিন্তু তাও যেন তার মায়ের কথার পরিপ্রেক্ষিতে কোন কথা বলতে আর ইচ্ছা করলো না। মন কেমন বিষিয়ে গেছে, বুকের মধ্যে ধুকপুক করছে এই কথাটা শুনে যে তার সদ্য বিবাহিত স্বামী তার রুমে আসছে।

দরজার উল্টো পিঠে মুখ করে বিছানায় বসে আছে আতিকা। হুট করেই ছিটকানি লাগানোর আওয়াজ শুনেই আতিকা শাড়ির আঁচল খামছে ধরলো চোখ বন্ধ করে জোরে প্রশ্বাস টানতে লাগল। বুকের মধ্যে যেন কেউ হাতুড়ি পেটাচ্ছে। ঘামছে প্রচুর।। এত কিছুর মধ্যে শুনতে পেল এক ভরাট কণ্ঠ,,
“আস-সালামু – আলাইকুম।”
আতিকা চমকে উঠলো সাথে বিস্ময় ছেয়ে গেল মুখশ্রীতে, এতো তার চিরো চেনা কন্ঠ ,,,সেই হৃদয়হীন পুরুষের কন্ঠ যাকে নিয়ে এসে ভাববে না ভেবেছে।।,, না এটা মনের ভুল! নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করে চোখে মুখে হাত বুলালো অন্তর কেমন ভারি হয়ে আসছে। চারিদিকে বাতাস শান্তহীন।। আতিকা পিছনে ফেরার আগেই আবার ও ভেসে আসলো কয়টা বাক্য,,,

“মিসেস. আতিকা আহিল শেখ।,,,সালামের উত্তর কি আজ পাবো না।!”
কি এক ব্যাকুলতা সৃষ্টি হলো আতিকার মনে,, চিত্ত বিমূঢ়,,,ফট করে পিছনে ফিরে তাকালো আর তাকাতে তার হুস উড়ে যাওয়ার কথা।। হালকা নীল রঙের পাঞ্জাবি সালোয়ার পরিহিত তার সেই হৃদয়হীন পুরুষ দাঁড়িয়ে আছে,,, যার নজর তার দিকেই সীমাবদ্ধ,,,ঠোঁটের কোনে কেমন তৃপ্তির ছোঁয়া।। আতিকার চোখ মুখ বিস্ময়ে অভিভূত,, মেরুদন্ডে শীতল স্রোত,,,,এই মানুষ টা এখানে কি করছে! কেনই বা সে এখানে?। প্রশ্নের ভেলা আর তীব্র অভিমান রাগের সম্মনয় ঘটে আতিকার মস্তিষ্কে। হিংস্র বাঘিনীর ন্যায় তেড়ে যায় আহীল দিকে।। ক্রুদ্ধ রূপ মেয়েটার।। তেড়ে গিয়েই আহিল এর বুকে নিজের হাতের ঝড় তোলে,,,ফুপিয়ে কাদঁছে আতিকা সাথে আহাজারি শোনাচ্ছে সে বাচ্চাদের মত,,,
“চলে যান,,চলে যান বাজে লোক। এখন এসেছেন কেনো?,,,আমার বিয়ে হয়ে গেছে এখন নিশ্চই খুশি আপনি,,,বদ লোক,,আমার মনে ভালোবাসার বীজ রোপণ করে এখন সেই বাড়ন্ত গাছ কাটতে এসেছেন। কেনো করলেন আপনি এরকম আহিল,,,”

আহিল এর বুকের পড়ে অবিরাম ধারায় কেঁদে চলেছে আতিকা। হাতের মুঠোয় ঘাপটি মেরে ধরে রেখেছে আহিল আর বুকের পাঞ্জাবির অংশ। চোখের পানি নাকের পানি এক অবস্থা আতিকার।,, আহিল স্তব্ধ,,সাথে খুশিতে আত্মহারা। তার বুকের উপর নেতিয়ে থাকা মায়াবিনী তাকে অসম্ভব ভালোবাসে,,,অপ্রকাশ্যে প্রকাশিত মেয়েটির অনুভূতি আহিল কে প্রচণ্ড সুখের আবেশে তলিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। আহিল তৃপ্তির হাসি ফুটিয়ে আতিকার মাথায় হাত রাখলো,,,, আদুরে ছোঁয়া পেয়ে আতিকা আরো মিহীয়ে গেলো,,,কান্নার জায়গায় ফুপাচ্ছে মেয়েটা।

“নিজের বর কেই চলে যেতে বলছো আতিকা,, ভেরি ব্যাড।”
“বর?”
“একটু আগে আমি তোমায় কি নামে সম্মধন করলাম,,, রিমেম্বার!”
আতিকা ভ্রু কুঁচকে আহিল থেকে কিছুটা সরে দাঁড়ালো,,,মনে করার চেষ্টা করলেই আহিল সেই কাঙ্খিত বাক্য মনে পড়ে ‘ মিসেস আতিকা আহিল শেখ ‘। তার মানে তার বর অন্য আর কেও নয় বরং তার এই হৃদয়হীন পুরুষ! ভাবতেই মনের কোণে সৃষ্টি হলো ভালোগালার বন্যা। কিন্তু পরক্ষণেই রাগ হলো,,,বিছানা থেকে বালিশ নিয়ে ছুড়ে দিল আহিল এর দিকে,,, আহিল তাহ ক্যাচ করে হেসে উঠলো।

আতিকার সান্নিধ্যে অগ্রসর হতে হতে বললো,,,”কী ভাবে ভাবলে আমি তোমায় এমনই ছেড়ে দেবো,,,আমার জীবনের প্রথম অনুরাগের অনুভূতি তুমি,,,যেমন তুমি হুট করেই আমার জীবনে আগমন ঘটিয়েছো ঠিক তেমনি আমিও তোমার জীবনের নিজের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করলাম।। মেয়ে দেখতে এসেই বিয়ে করলাম,,,মা কে বোঝালাম,কাজীর জন্য অপেক্ষা করলাম। শুধুই তোমার ঐ বিস্ময় রুপ দেখবো বলে,,,কিন্তু এখানে এসে দেখি মেয়ে তো বিরহে দেবদাসী।”

আতিকার কোমরে হেচকা টান মেরে নিজের সাথে মিশিয়ে ফেললো আহিল।আতিকা কেপে উঠল,,,বুক ধড়পড় করছে তার। এতক্ষণ যার বিরহে কাতর ছিল মন এখন তার ছোয়াতেই শরীর কেমন। আহিল ঝুঁকে পড়ে আতিকার মুখের কাছে,,সামনের চুল কানের পিছে গুজে দিয়ে,,, আতিকার গালে আলতো হাতের স্পর্শ করতেই আতিকা নতজানু হয়ে যায়,,,ঠোঁট নাড়িয়ে কাপা কন্ঠে বলে,,,
“ছাড়ুন আমায় বাজে লোক,,,আমায় কাদিয়ে, কষ্ট দিয়ে এখন আদিখ্যেতা দেখাতে এসেছে।”
“আদর দিয়ে সব পুষিয়ে দেবো!”
ঘোর লাগা কণ্ঠ আতিকার কানে আসতেই আতিকা চোখ খিচে বন্ধ করে,কান গরম হয়ে উঠেছে,,,আহিল এর পাঞ্জাবি অক্রিয়ে ধরলো।,,, আতিকার অমন মুভমেন্ট অত্যন্ত সূক্ষ ভাবে উপভোগ করলো আহিল।
“কিছুই করলাম না তাতেই এত নার্ভাস,,, এই নার্ভাসনেস সত্যিই প্রকাশ পাবার আগে চলো দুই রাকাত নামাজ আদায় করি।”

ক্লান্ত শরীরে রুমে প্রবেশ করলো রিফাত। রাত প্রায় এগারোটা। খাওয়ার নেই এখন শুধুই ক্লেশ মুক্ত একটা ঘুম দরকার।। সব কিছুর মাঝে রুমে চোখ বুলালো,,, ব্যাগ সোফায় রাখলো হুট করেই ‘ কিছু একটা নেই ‘ এমন অনুভূতি রিফাতকে আঁকড়িয়ে ধরল।। হুট করে ই মস্তিষ্ক চাগার দিলো,,,ইয়ানা,,, হ্যাঁ ইয়ানা কোথায় সে?,,,, কিয়ৎকাল পর রিফাতের আজকের সকালের কথা মনে পড়লো।।,, রাগ সংবরণ না করতে পেরে মেয়ের ওপরে করা তার ক্রুধ ব্যবহার এর কথা স্মরনে আসলো।

চোখ মুখ কুচকে এক হাত কোমরে রেখে অন্য হাত এর বৃদ্ধা আঙ্গুল কপালে ঘষলো সে। চোখের চশমা খুলে টি টেবিলে রাখলো,,তত্পর দ্রুত গতিতে বেরিয়ে গেলো রুম থেকে।। ফাঁকা রুমে দম বন্ধ লাগছে তার,,,কিছু দিনের মধ্যেই মেয়েটার অস্তিত্ব রিফাত এর অভ্যাসে পরিনত হয়েছে।। চোখ দুটো বিদ্রোহ করে বলছে ‘ ইয়ানা কে দেখতে চাই ‘। তবে কি মেয়েটা রিফাত এর হৃদয় ও গ্রাস করেছে? না না একদম না। মেয়েটা শুধুই তার দায়িত্ব।। তবে এই অস্থিরতা কিসের?,,,প্রশ্ন মনের কোন চেপে রাখলো।

পদচারণ দ্রুত। এদিক সেদিক তাকিয়ে ইয়ানা কে খুঁজলো। কোথাও বাদ নেই। শেষে এগিয়ে ইয়ানার রুমের দরজা ধাক্কাতেই তাহ খুলে গেলো। আর সোজা চোখের সামনেই দেখা মিলল সেই কঙ্কিত মানুষটার,,,, শিথিল হলো অন্তর।চিয়ার এ বসে পড়ার টেবিল এর উপর মাথা রেখে আরামে ঘুমাচ্ছে ইয়ানা,,,ছোট্ট যার এর মধ্যে ছোট্ট গোল্ডেন ফিস আরামে চড়ে বেড়াচ্ছে,,,মেয়েটার পায়ের কাছে মিশি বসে লেজ দুলায় রিফাত কেই দেখা মাত্র ধীরে সুস্থে রুম থেকে বেরিয়ে বারান্দায় চলে যায় রিফাত দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল,,,হেঁটে ইয়ানার কাছে গিয়ে মেয়েটার দিকে তাকালো।
চোখের কোন এখনও ভিজে,ঠোঁট ফুলিয়ে গুমাচ্ছে। চুল কষে পড়েছে শুভ্র মূখে। রিফাত এর কি হলো হুর করেই কোলে তুলে নিলো ইয়ানা কে,,মেয়েটাও প্রশস্থ বুকে লুটিয়ে পড়লো।। ধীর পায়ে হেঁটে নিজের রুমে প্রবেশ করে বিছানায় শুইয়ে দিল ইয়ানা কে।

এরই মধ্যে রিফাত ফ্রেশ হয়ে এলো,,, ভিড়ানো দরজায় কেও নক করল,,,ঘড়িতে তখন ১১.৪০ কে এলো এখন। দরজা খুলতেই দেখলো ইয়ামিন বেগল দাড়িয়ে হাতে ট্রে,ঢাকা দেওয়া।,,রিফাত কিছু বলার আগেই তিনি বললেন,,
“এত রাতে বিরক্ত করতে চাইনি বাবা,,আসলে মেয়েটা সকাল থেকেই সেরকম কিছু খাইনি,,,বুঝিয়ে,ধমক দিয়েও লাভ হয়নি, রাতের খাবারটাও খেলোনা। তোমায় ওকে আনতে দেখলাম তাই খাবার টা নিয়ে এলাম,,,একটু ওকে বুঝিয়ে সুঝিয়ে খাইয়ে দেবে বাবাকিছু দিন আগেই জ্বর থেকে উঠলো,,,এখন না খেয়ে ঘুমালে যদি শরীর খারাপ করে!”

এক প্রণয় রাত্রি পর্ব ১৯

সমস্ত কথা শুনে রিফাত একটু অপ্রস্তুত হয়ে পড়লো,,,ইয়ানা কে কোলে নিয়ে আসার দৃশ্য ইয়ামিন বেগম দেখেছেন,,,কথাটা বুজতে পেরেই রিফাত খানিক লজ্জিত হলো,,
“হ্যাঁ,,,আমি ওকে খাইয়ে দেবো খালামা আপনি চিন্তা করবেন না।”
ইয়াসমিন বেগম হাসলো,,, ট্রে রিফাত এর হাতে তুলে দেয়। রিফাত এর মাথায় হাত রেখে মুচকি হেসে বলে,,,”আমার দেখা দশ বছরের রিফাত আজ এত বড় হয়ে গেছে ভাবতেই অবাক লাগে,,,আমার এক মাত্র সম্পদ তোমার হাতে তুলে দিয়ে আমি ভীষণ খুশি,চিন্তা মুক্তো।,,আমার দোয়া সব সময় তোমাদের সাথে।”
রিফাত মৃদু হাসলো,,, অনেক দিন পর কেও মাথায় হাত রেখে দোয়া দিলো। ব্যাপারটা অনন্য।,,,দরজা বন্ধ করে টেবিলে খাবার রাখলো,,, ইয়ানার দিকে তাকালো,,,এবার মেয়েটাকে জাগতে হবে।

এক প্রণয় রাত্রি পর্ব ২১