এক রহস্যময় ভালোবাসা পর্ব ৫২
Chadny islam
সিকদার মহলের পুরো বাড়িটা খুব সুন্দর করে সাজানো হচ্ছে! আদিস সিকদার কড়া নজরে সব কিছু ঠিক ঠাক আছে কিনা সেটা দেখছেন! তাকে অনেক বার বোঝানো হয়ে ছিলো, উল্টা পাল্টা জিদ না দেখানোর জন্য!কিন্তু তিনি বিয়ের বিষয়টা নিয়ে খুব বেশি সিরিয়াস হয়ে গিয়েছেন! মেয়ের বিয়ে দিয়েই ছাড়বেন!
আদিস সিকদার রাতেই সব কিছুর লিষ্ট রেডি করে রেখে ছিলেন! আপাতত সেইসব বাজার করতে রিফাত আদিব এবং ঈশান গিয়েছে!
আজকে সিকদার পরিবারের সবাই বাড়িতে আছে, কেউ নিজেদের প্রয়োজন ব্যাথিত বের হয় নি বাড়ি ছেড়ে! আশরাফ সিকদার সকাল থেকেই মেজাজ হারিয়ে বসে আছেন! সবার কথা একটাই এই মেয়ে কে এখনি বিয়ে দিতে হবে কেন আগে পড়াশোনা শেষ করুক! তারপর না হয় ভেবে দেখা যাবে বিয়ের বিষয় টা!
অহনা সিকদার সবার জন্য খাবার রেডি করছিলেন! মাইমুনা সিকদার কাল থেকে কেঁদেই চলেছেন! তিনি একবার যে কলির সামনে গিয়ে দাড়াবেন তাতেও সাহস পাচ্ছেন না! তিনি খুব করে প্রিয়াশ কে মিস করলেন হয়তো আজ প্রিয়াশ থাকলে কেউ জোর করে তার মেয়ে টিকে বিয়ে দিতে পারতেন না!ছেলে নামক বট গাছ কে খুব মিস করছেন মাইমুনা সিকদার!!
সময় দশ টার কাটায় ,,
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
সবাই নিয়ম করে খাবার টেবিলে চলে এসেছে, রিফাত সহ সবাই বাজার শেষ করে চলে এসেছে কিছুখন আগে! এখন আদিল ইরা সবাই টেবিলে বসে আছে নিজেদের মতোন নাস্তা করছে! সকালে মাইমুনা সিকদার একবার কলির রুমে গিয়েছিলো তাকে ডাকতে, বার বার ডাকার পরও কেনো সাড়াশব্দ পাওয়া যায় নি! সবার খাওয়ার মাঝে আশরাফ সিকদার বিরক্তি প্রকাশ করে বললেন!!
_____সামান্য দেখতে আসতেছে, এর জন্য পুরো বাড়ি সাজাতে হবে কেনো??
আদিস সিকদার খেতে খেতে বললেন!!
____না ভাইজান শুধু দেখতে আসবে না, রাতে বিয়ের কাজটি ও সম্পূর্ণ করা হবে!
রিফাত কেবলি এক টুকরো রুটি মুখে দিতে যাবে তখনি আদিস সিকদার এর এমন কথায় বিষম খেয়ে উঠলো! হঠাৎ করে বিষম খাওয়াতে সবাই ব্যাস্ত হয়ে পরলো পানি দিতে! আদিব হাতে তুলে পানি খাইয়ে দিলো!ঠিক তখন কলি উপর থেকে নিচে নেমে আসে, হয়তো এতখন নিচে নামতে নামতে সবার কথা তার কানে গিয়ে ঠেকছে! সবার দৃষ্টি এতখনে কলির দিকে! কলি চেয়ারে এক পাশে বসে টেবিলে নিজের খাবার খুজতে লাগলো, তার খাবার কোথায়! কি আশ্চর্য তার খাবার টা এই খানে নেই কিচেনেই রয়ে গেছে, অহনা সিকদার ভেবে ছিলেন হয়তো কলি খেতে আসবেন না তাই টেবিলে আনেন নি! আজকে রান্নার দায়িত্বে মাইমুনা সিকদার ছিলেন না! কলি সকাল সকাল পরোটার সাথে ডিম পুচ খাই! মাইমুনা সিকদার দূত কিচেন থেকে কলির খাবার টা নিয়ে আসেন!
সবার নজর কলির দিকে থাকলেও! কলির নজর রিফাত নামক মানুষ টার দিকে পরে আছে! রিফাত বেশ কয়েক বার তাকিয়ে দেখেছে কলিকে, চোখে চোখ পরতেই রিফাত চোখ সরিয়ে নেয়!তা দেখে কলি মৃদু হাসলো ফের খাওয়ায় মনোযোগ দিলো!
বাড়ি কেনো সাজানো হচ্ছে তার আগা মাথা আদিল কিছু জানে না! সে এখন রেডি হয়ে চলে যাবে অফিসে তার কিছু কাজ আছে, আদিল কে উদ্দেশ্য করে আদিস সিকদার বললেন!!!
_____তোমাকে কিছু জামা কাপড় প্লাস গোল্ড এর জন্য যেতে হবে মার্কেটে আদিল!
আদিল কিছুটা বিরক্তি প্রকাশ করে বললো!!
_____এই গুলো কেন??
আদিস সিকদার ভনিতা ভঙ্গিতে বললেন!
___তোমার ছোট বোনের বিয়ে তুমি এইটাও জানো না!
কলির বিয়ে অথচ সে জানে না, তাকে জানানো হয়নি, নাকি কারোর প্রয়োজন পরেনি তাকে জানানোর, আদিল সবার দিকে একবার নজর বুলিয়ে দেখে ফের বললো!!
_____কলির বিয়ে দেয়ার ডিসিশন কি শুধুই তোমার,!
পাশ থেকে কলি লাজ লজ্জা ভেঙে বলে উঠলো!!
____না ভাইয়া আমার ও মতামত রয়েছে!
কলির কথা শুনে সবার বেশ অনেক টাই অবাক হয়! তাহলে কি কলি ও রাজি হয়ে গেলো, যদি বিয়ের জন্য সে রাজি হয়ে, তবে কালকে কেন এত কান্নাকাটি করলো, বিয়ে করবে না বলে জিদ করলো! কলি যদি রাজি হয় তাহলে তো সব কিছু চুকেই গেলো!
আদিল এবার কপাল কুঁচকে ফেললো, বাসায় কি লোকের ওভাব পরছে নাকি, যদি পরে তাহলে ডজন খানেক লোক কিনে আনলেই হয়, আদিস সিকদার কে উদ্দেশ্য করে বললো!!!
____সরি চাচ্চু আমার হাতে এক্টা সময় নেই এসব কেনা কাটা করার!তুমি অন্য কাউকে দেখো, এক্সকিউজ মি!
আদিল কথা শেষ করে নিজের রুমের দিকে চলে গেলো! এর মাঝে কলি বলে উঠলো!!
___আব্বু আমার বিয়ের কেনাকাটা আমি করবো! জীবনে বিয়ে তো একটাই তাই না! তাই বিয়ের আনন্দ টাকে উপভোগ করতে চাই!!
কলির এমন ভাবে কথা বলার কারন টা সবার কাছে পরিষ্কার, হয়তো সে বিয়ে করতে চাইছে, বাবার পছন্দের ছেলে কে! চেয়ারের এক পাশে রিফাত মাথা নত করে বসে আছে! বড্ড কষ্ট হচ্ছে তার কলির এমন কথার আঘাতে!
রিফাত আর সহ্য করতে পারলো না, বরং মিথ্যা অজুহাত দেখিয়ে বললো!!
___স্যার আমার আম্মু কিছুটা অসুস্থ আমার আজকের জন্য ছুটি লাগবে!
কলি মৃদু হাসলো, আর ভাবলো, খুব কষ্ট হচ্ছে বুঝি আপনার, হোক কষ্ট এর থেকেও হাজার গুন কষ্ট দিয়েছেন আমাকে, আপনাকে রেখে চলে যাবো আমি অনেক দূরে! কলি কিছুটা রাগী গলাই বললো!!
____আজকে কোনো ছুটি দেয়া হবে না আপনাকে, আজকে আমার বিয়ে তাছাড়া আপনি তো এই পরিবারের একজন! আপনার মাকে আপনি কালকে ডক্টর দেখাতে নিয়ে যাবেন! আমি চাই, আমার বিয়েতে প্রতিটি মানুষ কে উপস্থিত থাকতে হবে! এমন কি আপনাকে ও মি.রিফাত!
রিফাত বেশ কিছুটা রেগে ফেটে উঠলো, সে বিয়ে করবে করুক, তবে আমাকে টানার কি প্রয়োজন, মৃত্যু স্বাদ দিতে চাইছেন, নাকি আমি ঠিক কতটা কষ্ট পাচ্ছি তা দেখতে চাইছো! রিফাত কিছু বলার আগেই আদিস সিকদার বললেন!!
____আমাদের বিশস্ত লোকের মাঝে তুমি ও একজন, তাই আমি চাই তুমি ও এই বিয়েতে থাকো, আর হ্যা কলি কে নিয়ে তুমি শপিং মলে যাও! ওর পছন্দ মতোন কেনা কাটা করে দাও!
কলি বাঁকা হাসলো তার প্লান আপাতত সাকসেসফুল, রিফাত বেশ সংকোচ নিয়ে বললো!!
___মা…মানে আমি!
হ্যা তুমি নিয়ে যাবে!
আদিস সিকদার খাওয়া ছেড়ে উঠতে উঠতে বললেন!!
___আদিব তুমি ও বরং কলির সাথে যাও!
আদিস সিকদার এর এমন কথায় কলি কপাল কুঁচকালো, তবে কাউকে বুঝতে দিলো না সে আপাতত কতটা বিরক্ত! কলি দূত উঠে রুমে চলে যায়!
আদিল ল্যাপটপে কাজ করছিলো, আশরাফ সিকদার নিষেধ করছেন আজকে কোনো রকম কোম্পানির কাজে না যেতে! কি আর করার, তাই আপাতত যেই কাজ গুলো বাড়িতে বসে করলে ভালো হবে সেই গুলাই করছে! ইরা হাতে এক কাপ কফি নিয়ে রুমে প্রবেশ করে, ইরা রুমে প্রবেশ করতেই আদিল বলে উঠলো!!
____কলি বিয়ে সম্পর্কে তুমি কিছু জানতে??
ইরা মৃদু হাসলো, পুরো সিকদার বাড়ির সবাই জানে তাহলে সে কেনো জানবে না আজব প্রশ্ন “ইরা কপাল কুঁচকে বললো!!
____হ্যা, ছোট আব্বু তো কালকে রাতে ফাইনাল ডিশিসন জানালেন! কেন কিছু হয়েছে??
“”না এমনি, কোথায় যাবে হানিমুনে??
ইরা কপাল কুঁচকে গম্ভীর গলাই বললো!!
____আজকে কলির বিয়ে, তার তিন দিন পর আদিব ভাইয়ার বিয়ে চৌদ্দ দিন পর আমার ফাইনাল এক্সাম! আর এখন আপনি আমাকে বলছেন, কোথায় হানিমুনে গেলে ভালো হয়!
আদিল নিঃশব্দে হাসলো,এরপর ঠোঁটে ঠোট কামড়ে বললো!!
___এত বিয়ে খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো না, আর আমরা যেখানে যায় না কেন তোমার এক্সাম এর আগেই চলে আসবো! আই প্রমিজ!!
আমি কোথাও যাবো না এখন, এবং বিশেষ করে আপনার সাথে হানিমুনে! আমি এই বাড়ির বড় বউ এখন আমার অনেক দায়িত্ব! এক্সাম এবং বিয়ে শেষ হোক তারপর আমরা ভেবে না হয় কোথাও একটা যাবো!
আদিল ইরার কথা শুনে রাগে খিপ্ত হয়ে উঠলো, ___অন্য সব হাসবেন্ডরা তাদের বউ কে কোথাও ঘুরতে নিয়ে যেতে চাই না, আর আমি যাওয়ার জন্য বলছি জের করছি, কিন্তু এই মেয়ে বারন করছে! সালার কপাল, পুরাই কুওা কপাল! ছ্যা…
আদিল কে এমন ভাবে রাগ করতে দেখে ইরা আদিল এর হাতে কফির কাপ টা দিতে দিতে বললো!!
___শোনেন সিকদার সাহেব, আপনার মতোন স্বামী যখন নারী পাচার কারী, সেই লোকের সাথে কোথাও যাওয়া যে বড্ড রিক্স,যদি টাকার জন্য আমাকে বিক্রি করে দেন! তাই আমি ভেবে নিয়েছি, আমাদের সাথে আরও দুইজন কাপলরা যাবে! আপনি নিষেধ করলে কিন্তু আমি যাবো না!
আদিল রাগে ফুসফুস করে উঠলো, তাকে কিনা নারীর দালাল বলা হচ্ছে, তাও এমন ভাবে অপমান করছে তার একমাএ বউ, ছি, আদিল রাগে রিরিরি করে বললো!!
____আপনার কোথাও যেতে হবে না ম্যাডাম, আপনি নাকে সরিষার তেল দিয়ে বরং একটু ঘুমান!
ইরা আদিল ঠেস মেরে বললো!!!
___আহারে কষ্ট হচ্ছে আপনার জন্য,আপনাকে এখন একা একা হানিমুনে যেতে হবে!
ইরার কথাটা আগুনে ঘি ডালার মতোন করে লাগলো, আদিল গম্ভীর গলাই বললো!!
____কাটা জায়গায় লবণ ছিটানো হলে, আপনি এবার একটু রেস্ট করুন!
ইরা একটু ইমোশনাল এর নাটক করে বললো!!
___এমন ভাবে বলছেন কেনো? আমি তো আপনার কথা চিন্তা করে তারপর বললাম! এর জন্যই বলে মানুষের ভালো করতে নেই!
তাই নাকি ম্যাডাম! তা আপনি আমার কোন ভালো টা করলেন??
এই যে আপনার একা একা হানিমুনে যেতে হবে বলে দুঃখ প্রকাশ করছি!!
তোমার হানিমুনে তুমি যাও! আমি কোথাও যাচ্ছি না!
আদিব গাড়ি ডাইভিং করছে, পেছনে রিফাত এবং কলি বসে আছে! তারা দুইজন বেশ স্বাভাবিক তাদের এই মূহুর্তে যে কেউ দেখলে বলবে এভরিথিং ওকে! কলি ফোনে কার সাথে যেনো টেক্সট করছে!কিছু সময় যাওয়া পর কলি হুট করে বলে উঠলো!!
___ভাইয়া একটু দাড়াও …!
আদিব দূত গাড়ি থামিয়ে কলি জিজ্ঞেস করলো!!
____কি হয়েছে, গাড়ি থামাতে বললি যে!
কলি বেশ স্বাভাবিক ভাবে বললো!!
__ভাবী আসতেছে!
আদিব একবার কলি কে দেখলো, ফের আবার তাকালো সামনে, রিমঝিম খুব তাড়াতাড়ি এগিয়ে আসছে গাড়ির দিকে! রিমঝিম কে এগিয়ে আসতে দেখে আদিব দূত গাড়ির দরজা খুলে দিলো, রিমঝিম ও তাড়াতাড়ি গাড়িতে উঠে বসে! রিমঝিম একবার পেছনে তাকিয়ে এক নজর কলি কে দেখে নিলো! তারপর রিফাত কে লম্বা এক সালাম দিলো! রিফাত সম্পর্কে রিমঝিম বেশ আগে থেকেই অবগত!আজকে শুধু সঠিক সিন্ধান্ত নেয়ার পালা, রিমঝিম আদিব কে উদ্দেশ্য করে বললো!!
____আপনি তো আমাকে একবার জানাতে পারতেন, যে আপনি শপিং যাচ্ছেন! ছি আপনি কত কিপটে, হবু বউ কে কিছু একটা কিনে দিতে হবে বলে আপনি আমাকে জানান নি! একজন ডক্টর এত কিপ্টে হয় কিভাবে ??
রিমঝিম এক নিশ্বাসে কথা শেষ করলো, না জেনে শুনে কিভাবে একজন মানুষ কে কিপ্টে বলে এই মেয়ে কে না দেখলে বুঝতেই পারতাম না! আদিব কপাল কুঁচকে বললো,!!
____ওই রকম কিছু না, আর হ্যা আমাকে একজন কিপ্টে বলবা না! হাতে সময় খুবি কম ছিলো সেই সুবাদে তোমাকে জানানো হয়! আমি ফ্রী টাইম করে তোমাকে অবশ্যই নিয়ে যেতাম!
রিমঝিম আদিব এর কথা শুনে মুখ বাকালো, কত এক্সকিউজ দিচ্ছে, ছোট করে একটা সরি বলে দিলেই তো হয়! না সরি বলবে না ওকে কি করে সরি বলাতে হয় আমি ও জানি!তাই রিমঝিম গম্ভীর গলাই বললো!!
____আর এক্সকিউজ দিতে হবে না ডক্টর সাহেব! আমার ননদ আছে আমার পাশে থাকার জন্য আপনি না থাকলেও চলবে!!
রিমঝিম এর কথার মাঝে কলি হঠাৎ বলে উঠলো!!
___আমি ও আর থাকবো না তের পাশে!!
কলি থাকবে না মানে কি কোথায় যাবে, রিফাত অগ্নি দৃষ্টি নিক্ষেপ করে তাকিয়ে আছে কলির দিকে, আদিব পেছন গুরে তাকাতেই, কলি মৃদু হেসে বললো!!
_____এই তোমাদের সমস্যা কি এমন ভাবে তাকিয়ে আছো, যেনো মনে হচ্ছে চোখ দিয়ে গিলে খেয়ে ফেলবে!
রিফাত রাগে কটমট করে উঠলো!!!
_____কি বললা এইটা থাকবা না মানে কি???
কলি মৃদু হাসলো, এই মানুষ টা ভাঙ্গবে তবুও মচকাবে না! ভালোবাসে কিন্তু স্বীকার করে না! কলি নিঃশব্দে হাসলো,,
___আমি আর থাকবো কিভাবে আমার তো বিয়ে হয়ে যাচ্ছে, আমাকে শশুর বাড়ি চলে যেতে হবে না!
আদিব এক গাল হেসে বললো!!
____এমন ভাবে বললি মনে হলো শশুর বাড়ি নয় বরং জমের বাড়ি যাচ্ছিস!
আদিব এর কথায় সবাই ফিক করে হেসে ফেললো, কলি একমনে গাড়ির জানালা ছেদ করে তাকিয়ে আছে বাইরের দিকে, ____আকা বাঁকা রাস্তা, চার পাশে সৌন্দর্যে ভরা,সবুজ ফসল গাছ পালা ঠান্ডা শীতল হাওয়া ছেদ করে ডুকছে জানালা দিয়ে, ছুয়ে দিচ্ছে বার বার! রিমঝিম কে সাথে আনার একটি কারন, রিমঝিম ব্যাস্ত হয়ে পরবে আদিব কে নিয়ে! সেই ফাঁকে রিফাত এর সাথে কথা বলা যাবে, অল্প হেসে ফের তাকালো রিফাত এর দিকে!
ইশান জুথী আদিল ইরা সবাই এক সাথে বসে আছে, আদিল এর ব্যাস্ততার জন্য খুব বেশি দেখা হয় না ইশান এর সাথে! ঈশান মাঝে মাঝে ফ্রী থাকলেও আদিল আর ফ্রী হয় না! ঈশান বললো!!
_____ভাবতেছি কোথাও ঘুরতে যাবো!
আদিল এক নজর ইরা কে দেখে, এর পর বললো!!
____কোথায় যাবি?
এখনো জায়গা ঠিক করা হ্য় নি, জুথী চাইছে আমরা একসাথে কোথাও ঘুরতে যায়!
আদিল কপাল কুঁচকে ভাবলো,বন্ধু বউ আর নিজের বউ আকাশ এবং পাতাল তফাত! আদিল বললো!!
____ওকে লোকেশন জানিয়ে দিস!
ওকে!
ইরার খুব করে বলতে ইচ্ছে করলো, সে কোথাও যাবে না! কিন্তু কিভাবে বলবে????
প্রায় ঘন্টা খানেক পর,
চেনা জানা একটি শপিং মলে প্রবেশ করে, আদিব কলি কে বললো !!!
___প্রায় এগারো টার কাছাকাছি, বিকেলে ছেলের বাড়ি থেকে লোক আসবে, দুই ঘন্টার মধ্যে সব কেনা কাটা শেষ করবি!!
পাশ থেকে রিমঝিম বলে উঠলো!!
____মেয়ে দের কে শপিং করার টাইম দিচ্ছে এই লোক আজব!
হ্যা কেন দিতে পারি না!
অবশ্যই পারেন!
রিমঝিম মনে মনে বলে উঠলো!! ___ শপিং শেষ হলেই হয় পাঁচ ঘন্টার ভেতরে!
রিমঝিম আদিব এর হাত টেনে বললো,ওই খানে লেডিস ক্যালেকশন আছে ওই খানে চলেন!!
আদিব কিছু বলার আগেই রিমঝিম টেনে নিয়ে গেলে!
কলির প্লান সাকসেসফুল, কলি হাসছে কলিকে হাসতে দেখে রিফাত বললো!
____কি কেনাকাটা করবেন! চলুন!!
কলি অসহায় কন্ঠে বললো!!
____আপনাকে কোনো ভাবে আমার করে কিনে নেয়া যাবে না!
“””সরি ম্যডাম আমি মানুষ কোনো পন্য না!
“””আমার জন্য পন্য সামগ্রি হয়ে যান না!
“”সরি ম্যডাম!
কলি কথা বাড়ালো না, বরং হাটতে শুরু করলো সামনের দিকে, এই শপিং মল থেকে তারা আগে মাঝে মাঝেই শপিং করছে, সেই সুবাদে দোকানের লোকেরাও বেশ ভালো করে চেনে! কলির সামনের একটি শাড়ির দোকানে প্রবেশ করলো, প্রবেশ করতেই দোকানের স্টাফরা সালাম দিয়ে চেয়ার এগিয়ে দিলেন,সেই সাথে কফি!
কলি শাড়ি দেখতে শুরু করলো, একটা দুইটা তিনটা এক এক করে দেখতে দেখতে পুরো মলের শাড়ি দেখা শেষ করলো ঘন্টা খানেক এর মধ্যে! একটা শাড়ি তাকে দেখতে হাতে দিলে একবার উপর থেকে হাত বুলিয়ে ফের বলে ভালো লাগে নি পরের শাড়ি দেখান, এই সব ব্যান্ডের শাড়ি যার দাম লাখ এর কাছাকাছি! এই শাড়ি ও পছন্দ হচ্ছে না! একটা সময় রিফাত সহ স্টাফ রা রেগে গেলো!একজন স্টাফ তো বলেই বসে,
____ম্যাম আই ইউ ওকে!
কলি মাথা দিয়ে সম্মতি প্রকাশ করলো, তার কিছুই হয় নি! পরবর্তী আরেক জন স্টাফ বললো!!
____সরি ম্যাম এর থেকে ভালে কোয়াটেলির শাড়ি শুধু আমাদের দোকানে কেনো, পুরো মলে একটাও খুজে পাবেন না! দুঃখিত ম্যাম আপনার পছন্দ মতোন শাড়ি দিতে পারছি না!
কলি ইট’স ওকে বলে দোকান থেকে বের হয়ে গেলো! রিফাত অগ্নি মূর্তি ধারন করে তাকিয়ে আছে কলির দিকে! রাগে রিরিরি করে বললো!!
____এত গুলা শাড়ির মাঝে সামান্য একটা শাড়ি পছন্দ করতে পারো না!
কলি নিশব্দে হাসলো অপ্রকাশিত সেই হাসি, এক রাশ অভিমান মিশিয়ে বললো!!
____১৮ কোটি মানুষ এর মাঝে আমি শুধু আপনাকে চয়েস করেছিলাম!
কলি এবার মুখে এক রাশ হাসি নিয়ে বললো!
____একটা শাড়ি পছন্দ করতে যেই মেয়ের দেড় ঘন্টা সময় লেগেছে, না জানি সেই মেয়ের জীবন সঙ্গী ঠিক করতে কতটা সময় লেগেছে!
কলি নিজের মনের কথাটা শেষ করে, দীর্ঘ শ্বাস নিয়ে বললো!!
____আমি সত্যি আপনাকে ভালোবাসি, আপনি এই সত্যিটা তখন বুঝবেন যখন আমি থাকবো না!
রিফাত কিছু সময় নিয়ে তাকিয়ে রইলো কলির দিকে, রিফাত ঠিক বুঝে নিয়েছে কলি তাকপ কি বলতে চাইছে! রিফাত এতখন চুপ থাকলেও এখন বললো!!
____যেই খানে আপনার লাখ টাকার শাড়ি টাও পছন্দ নয়, সেই খানে আমি সামান্য একজন মানুষ আপনাকে ৫০০ টাকা দামের শাড়ি কিনে দেয়ার ক্ষমতা রাখি না!
রিফাত কিছুটা অসহায় কন্ঠে আক্ষেপ মিশিয়ে বলল!!
___আর আপনি বলছেন আমাকে ভালোবাসেন! আমার সাথে থাকতে চান, আজ বাধে কাল যখন অভাব এসে কড়া নারবে তখন এই আবেগ ভালোবাসা হাওয়ার সাথে মিশে যাবে! আপনি আজ বিয়ে করে নিলে, হয়তো আজ নয়তো কাল আমাকে ভুলে ঠিক সুখী হয়ে যাবেন!
“”আপনি সুখ চাই না আমি শুধু আপনাকে চাই! আপনার সাথে থাকতে চাই! আর যদি দামের কথায় আসে, তবে আমি এর থেকেও সস্তা কাপড় পরে জীবন পারি দিতে রাজি!
কলির এমন কথায় রিফাত এর কোনো প্রতিক্রিয়া নেই দেখে কলি আবারও বললো!!
___তাহলে কি বড়লোক বাড়িতে জন্ম নেয়া টাই আমার ভুল ছিল!
“””না, আল্লাহর সৃষ্টি কখনো ভুল হয় না, হয়তো নিয়তি চাই না আপনি আমার হন!
কলি রিফাত এর দুই হাত আঁকড়ে দরে কাঁদতে কাঁদতে বললো!!
____প্লিজ সময় নষ্ট করবেন না আমাকে নিয়ে চলোন!
রিফাত নিজের হাত থেকে কলির হাত ছাড়িয়ে, অসহায় কন্ঠে বললো!!
____সরি ম্যাডাম, আমি নিজের স্বার্থের জন্য আপনার পরিবারের সাথে বেইমানি করতে পারবো না!
“””আর যে আপনি আপনার মনের সাথে এবং আমার সাথে বেইমানি করলেন! তার কি হিসাব দিবেন আপনি???
“”জানি না, এই মূহুর্তে আমি আপনার বাবা চাচার সম্মান এর কথা ভাবছি!
“”তাহলে কি আমাকে নিয়ে যাবেন না আপনি??
“”আপনি বুঝতে কেনো পারছেন না, আপনার বড় আব্বু একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং আপনার ভাইয়া এমপি তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে আমরা কয়দিন বাঁচতে পারবো!আমরা শহরের যে প্রান্তেই থাকি না কেন তারা ঠিক খুঁজে বের করবে!
তাই নিজের ভালোর কথা চিন্তা করে প্লিজ বিয়ে টা করে নেন!
“””আমি বিয়ে করলে আপনি কি খুশি হবেন??
“””দরে নেন হ্যা আমি খুশি হবো হবুও বিয়ে টা করে নেন!
“””আপনাকে এই জীবনে হয়তো এইরকম সুসংবাদ দিয়ে খুশি করতে পারবো না, তবে হ্যা যে সুসংবাদ পেতে চলেছেন সারাজীবন ভর মনে রাখবেন আমাকে!
“”মানে কি বলছেন এসব??
এক রহস্যময় ভালোবাসা পর্ব ৫১
“””কিছু না! আপনার জন্য আমি ঠিক রাত আট টা পর্যন্ত অপেক্ষা করবো!! ঠিক আট টা!
“””বোকার মতোন কথা বলো না আমি আসবো না!
রিফাত আর এক মিনিট ও দাড়ালো সোজা বের হয়ে গেলো শপিংমল থেকে!কলি ঠায় হয়ে দাড়িয়ে দেখলো রিফাত এর যাওয়া প্রাণে! আর বললো!!
____তুমি হীনা এই জীবনটা অপূর্ণতাই ঘেরা””
