Home এমপি রুশভিয়ান মির্জা এমপি রুশভিয়ান মির্জা পর্ব ২৮

এমপি রুশভিয়ান মির্জা পর্ব ২৮

এমপি রুশভিয়ান মির্জা পর্ব ২৮
ফাতেমা তুজ জোহরা

ইনানের পেটে বাচ্চা আছে, সায়েরার কয়েক মুহূর্ত নিঃশ্বাস আটকে গেল। তার দৃষ্টি ধীরে ধীরে গিয়ে আটকে গেল বেডে নিস্তেজ হয়ে থাকা ইনানের দিকে। মেয়েটার চোখ বন্ধ, মুখটা নিষ্প্রভ। কয়েক মুহূর্ত আগে ও যে মেয়েটাকে দেখে বুকের ভেতর হাজারটা প্রশ্ন জেগেছিলো, সেই মেয়েটার পেটে নতুন প্রান বেড়ে উঠছে। আর সেই প্রানের পরিচয়টা ভাবতেই সায়েরার শরীরের ভেতর দিয়ে যেন বরফের স্রোত বয়ে গেল। আর তার বাচ্চাকে নাকি ন*ষ্ট করবে।
সায়েরার ঠোঁট কেঁপে উঠলো

—বাচ্চা, নিজের অজান্তেই শব্দটা তার মুখ থেকে বেরিয়ে গেল। তার বুকের ভেতর ভার হতে লাগলো । এই বাচ্চাগুলো আর করো না। উত্তরটা তার জানা। সায়েরার চোখের সামনে ভেসে উঠলো আইসিউতে শুয়ে থাকা রুশভিয়ানের মুখটা। ফ্যাকাশে মুখ,মেশিনের মধ্যে সারা শরীর ঘেরা । জীবন আর আর মৃ*ত্যু*র মাঝে দাঁড়িয়ে আছে ছেলেটা। সায়েরা কয়েক মুহূর্তের জন্য চোখ বন্ধ করে ফেলল। মনের মধ্যে একটা প্রশ্ন বারবার ঘুরতে লাগলো। রুশভিয়ান যদি জানতে পারে তার সন্তান পৃথিবীতে আসছে…. আর সেই সন্তানকে ন*ষ্ট করে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে , তাহলে এই পৃথিবীটা ধ্বংস করে দিবে। সায়েরা এগিয়ে আসতেই গিয়ে থমকে গেল একটা কথা শুনে!
এদিকে অনু ডক্টরের উদ্দেশ্য বলল,”বাচ্চা ন*ষ্ট করতে হবে না ডক্টর ! নায়েরা চকিত তাকালো অনুর দিকে। একটু আগে বাইরে বলল বাচ্চাটা যত সম্ভব ন*ষ্ট করতে আর এখন বলছে বাচ্চা ন*ষ্ট করতে হবে না। নায়েরা কপালে তিনটা ভাঁজ ফেলে অনুর দিকে তাকালো। অনু হালকা হেঁসে বলল,” আপনি হয়তো ভাবছেন কেন আমি তখন বাইরে বললাম আপনাকে বাচ্চা ন*ষ্ট করতে, তাহলে কেন এখন এগুলো বলছি। নায়েরা মাথা ঝাকিয়ে হ্যাঁ বোঝালো। অনু একটু গম্ভীর্য টেনে বলল,” আমি একজন মা ডক্টর, আর মা কিভাবে আরেকটা মায়ের বুক খালি করতে পারি আপনি বলুন?কথাটুকু বলে এগিয়ে গেল ইনানের দিকে, তাকালো ইনানের অবচেতন মুখটার দিকে।সায়েরা একটু আড়াল থেকে বের হয়ে আসলো, কিন্তু অনুদের সামনে এলো না, পিছনে দাঁড়িয়ে রইলো। অনু বলল,” মেয়েটার পেটে একটা না দু দু’টো প্রান আছে, আর মেয়েটা সেখানে জানে না? নায়েরা হকচকিয়ে বলল, ” কি?

সায়েরা চোখ দুটো বড় বড় হয়ে তার, ইনানের পেটে একটা না দুটো বাচ্চা আছে। আর মেয়েটা কিছু জানে না। সায়েরা ঠোঁটে হাসি ফুটলো এক চিলতে দুটো বাচ্চার আগমনের কথা শুনে, কিন্তু চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়লো বাচ্চাগুলোর ভাগ্যর কথা ভেবে। পেটে জন্ম পেয়ে জীবন মৃ*ত্যু*র লড়াই লড়ছে অনাগত বাচ্চা দুটো।
অনু বলল, ” হ্যাঁ ইনানের পেটে একটা না দুটো বাচ্চা আছে, কিন্তু সে নিজেই জা*নে না বাচ্চাদুটোর বাবার নাম কি?
নায়েরা হতভম্ব হয়ে গেল, তার মনে হলো সে কোন টিভিতে সিরিয়াল দেখছে।এরকমটা কখনো হয়। মেয়েটা গর্ভবতী আর সে নিজেই জানে না তার বাচ্চার বাবার নাম কি?
অনু নায়েরা দিকে এগিয়ে গিয়ে বলল,” মেয়েটা আজ থেকে দেড় দুইমাস আগে বাড়ি থেকে নিঁ*খোজ হয়ে যায়, তারপর মেয়েটাকে ভাগ্যবশত আমি খুঁজে পায় একটা নির্জন রাস্তায়। যেখানে মেয়েটা দৌড়ে আসছিলো। উ*দ্ধা*র করার পর তাকে আমি নানা কিছু জিজ্ঞেস করি। কিন্তু তার সব মনে আছে বাট মনে নেই ওর নিঁ*খো*জের দিনগুলোর কথা!

নায়েরা ইনানের মুখের দিকে তাকিয়ে বলল,” তাহলে বাচ্চা গুলো অ*বৈ….. নায়েরার বাকি কথা উচ্চারন করার আগে সায়েরা চেঁচি*য়ে বলল,” চুপ করো মেয়ে, আমার রুশভিয়ানের বাচ্চা ওগুলো,ওরা অ*বৈ*ধ না” কথাটুকু বলেই আড়াল থেকে বেরিয়ে এলো।
অনু আর নায়েরা চমকে গিয়ে পিছন ফিরে তাকাতেই দেখল একজন মধ্যবয়স্ক মহিলা, পরনে সাদা পাড়ের শাড়ী,চুলগুলো এলোমেলো হয়ে আছে তার সাথে চোখ দুটো বেজায় লা*ল টকটকে হয়ে আছে।
অনু ভ্রুকুচকে বলল,” কে আপনি, আর এখানে কিভাবে এলেন?
সায়েরা অনুর প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন করলো না, সে পায়ে পায়ে এগিয়ে গেল ইনানের দিকে। সায়েরা প্রথম নজর গেল ইনানের মুখের দিকে সে হাত বাড়িয়ে ইনানের গালে আলতো করে স্পর্শ করে বলল,” তোমার জন্য রুশভিয়ান কত ক*ষ্ট পাচ্ছে আর তুমি এইভাবে শুয়ে থাকবে মা” বলেই ডুকরে কেঁদে উঠলো, আজকে যেন তার চোখের পানি বাঁধ মানছে না। তার নজর গেল ইনানের উদরে সে হাতবাড়িয়ে স্পর্শ করতে গিয়ে শব্দ করে কান্না করে উঠলো সে।

অনু বুঝতে পারছে না কে এই মহিলা, আর ইনানকে এমন ভাবে জড়িয়ে ধরে কান্না কেন করছে।
সায়েরার কান্না থামাথামি নেই, সে জোরে জোরে কেঁদে যাচ্ছে ।
অনু এবার এগিয়ে এসে সায়েরার কাঁধে হাত রেখে বলল,” আপনি চুপ করুন আন্টি?সায়েরা ঘাড়ে হাতের স্পর্শ পেয়ে
কান্নাভেজা চোখ নিয়ে তাকালো অনুর দিকে।
অনুর মায়া হলো সায়েরাকে দেখে সে দুই হাতবাড়িয়ে সায়েরার কাঁধে স্পর্শ করে বলল, ” সব খুলে বলুন আন্টি, কি করে চেনেন ইনান কে আপনি? বলেই সায়েরাকে নিয়ে এগিয়ে গেল সোফার দিকে। সায়েরা কিছু বলল না সে এগিয়ে গিয়ে গেল অনুর সাথে, অনু তাকে সোফায় বসিয়ে একগ্লাস পানি এগিয়ে দেয়। পানি খেয়ে সায়েরা নিজেকে ধাতস্থ করলো। আঁচল দিয়ে চোখের পানি গুলো মুছে বসলো।

অনু তার পাশে বসে সায়েরাকে আশ্বস্ত করে বলল,” বলুন আন্টি, আপনি কিভাবে ইনানকে চিনলেন বলুন.
সায়েরা একবার অনুর দিকে তাকালো, আরেকবার তাকালো নায়েরার দিকে তারপর আস্তে আস্তে সব খুলে বলল অনু কে,এমনকি ইনান কে খুঁজতে গিয়ে রুশভিয়ানের এক্সিডেন্ট হয়েছে সেটাও বাদ দেয়নি । অনু যেন বিশ্বাস করতে পারলো না, তার মাথা চক্কর দিয়ে উঠলো ,কালকে থেকে যে বাচ্চাগুলোকে অ*বৈ*ধ ভাবছিলো, সে বাচ্চাগুলোর বাবার নাম স্বয়ং এমপি রুশভিয়ান মির্জা। অনু খতিয়ে খতিয়ে সব জিজ্ঞেস করলো সায়েরা বেগম কে। তার এতটুকু সন্দেহ হলো না সায়েরার কথাগুলো। অনুর মুখে এক চিলতে হাসি ফুটলো, তার বুকের ভেতরটা যেন হালকা হলো এতক্ষণ । যেইদিন থেকে শুনেছে ইনান মা হতে চলেছে সেদিন থেকে একরাত ও শান্তিতে ঘুমাতে পারেনি ।
অনু সায়েরার হাত দুটো আকড়ে ধরে বলল,” আপনি অনেক বড় উপকার করলেন, মেয়েটাকে আর বাচ্চা দুটোকে হারাতে হবে না। না তার বাচ্চাগুলোকে কেউ অ*বৈ*ধ তকমা লাগাতে পারবে ” কথাগুলো বলতে বলতে অনু আবেগী হয়ে উঠলো চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়লো তার।

যুবক বললে ভুল হবে, লোকটা কোন যুবকের পর্যায়ে পড়ে না। বয়স পয়তাল্লিশ হবে, মাথায় কাঁচা পাকা চুলের সমাহার। পরনে পাঞ্জাবি আর পাজামা পরে বসে ম*দ পান করছে তিয়াসার রুমে। বোঝায় যাচ্ছে তিয়াসা আজকে রাতের জন্য নিজের শ*রী*রে*র চাহিদা মেটানের জন্য এই লোকটাকে নিতে মেতে উঠবে । কিয়তক্ষন পর ওয়াশরুমের দরজা খট করে খুলতে লোকটা ফিচেল হেঁসে তাকালো দরজার দিকে। পরনে ই*না*র আর ছা*য়া পরে বেরিয়ে এলো তিয়াসা, যার জন্য পুরো শ*রী*র উন্মুক্ত হয়ে আছে। লোকটা বড় বড় চোখ করে তাকাল তিয়াসা শরী*রের দিকে। তিয়াসা ঘাড়ের চুল সরিয়ে আরো উ*ন্মু*ক্ত করার চেষ্টা করলো নিজেকে। লোকটা ওয়া*ই*নের গ্লাস টেবিলে রেখে ঝট করে উঠে দাঁড়িয়ে এগিয়ে গিয়ে তিয়াসার ঠোঁ*ট সাথে ঠোঁ*ট মি*লি*য়ে দেয়, তিয়াসা ও সায় জানালো দুজনে দুজনকে পাল্লা দিয়ে চু*মু খাচ্ছে । লোকটা কি*স করার সাথে তিয়াসার স্প*র্শ*কা*তর জায়গা গুলো ছুয়ে দিচ্ছে , লোকটার হাতের ছোঁ*য়া*য় তিয়াসা সুখের রাজ্য বিচরন করতে গিয়ে ও করতে পারলো না, তক্ষুনি তার ফোনটা ক’র্ক’শ শব্দ বেজে উঠলো। তিয়াসা এক সেকেন্ড ও টাইম নিলো না লোকটাকে নিজের থেকে ছাড়াতে। লোকটা হকচকিয়ে গেল,রা*গ উঠলো তার। সে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আর এই মেয়ে কিনা তাকে ধা*ক্কা দিলো। লোকটা এগিয়ে আসতে গিয়েও আসলো না, রা*গ*টাকে সংবরন করে তিয়াসার শরী*রের দিকে তাকিয়ে রইলো। আজকে যখন সুযোগ পেয়েছে তখন মে*য়েটাকে নিজের না করে ছাড়বে না সে। তাই গাঁট হয়ে বসে গেল সোফায়।

আর তিয়াসা ধ*ড়ফ*ড় করে ফোনটা ধরতেই ওপাশ থেকে বলল,”ম্যাডাম এদিকে অনেক বড় কান্ড ঘটে গেছে, আপনার না হওয়া সতিন বেঁচে আছে,তারথেকে বড় কথা সে মা হতে চলেছে। তাও আবার একটা না দুটো বাচ্চা হবে আর আপনি আজকে কচি কালকে বুড়ো এগুলোর সাদ নি……
তিয়াসার আর শোনার প্রয়োজন বোধ করলো না। ফোনটাকে আছরে ফেলে রা*গে গ*জগ*জ করতে করতে বলল,” না না এটা হতে পারে না, আমি কিছুতেই ওই বাচ্চাগুলোকে পৃথিবীর আলো দেখতে দেবো না, নো নো নেভার ” বলেই বড় কাঁচের টেবিলটা আ*ছরে ফেলল ঘরের মধ্যিখানে, মুহুর্তেই পুরো ঘর ঝনঝন শব্দে মুখরিত হয়ে উঠলো। লোকটা ভ*য় পেয়ে গেল তবুও দমলো না, সে সাহস নিয়ে এগিয়ে এসে তিয়াসার কাঁধে হাত রাখতেই তিয়াসা ঘুরে লোকটাকে সর্বশক্তি দিয়ে কাঁচ গুলোর উপরে ফে*লে দেয়।

লোকটা সাথে আ*র্ত*না*দ দিয়ে উঠে, সেদিকে তিয়াসার কোন ভ্রুক্ষেপ হলো না। সে কাঁ*চযুক্ত মেঝের উপর দিয়ে এগিয়ে গেল বারান্দার দিকে সাথে নিয়ে গেল,কাঁচে পা বিঁ*ধে র*ক্ত গড়িয়ে পড়লো তার তবুও তার পায়ের গতি থামলো না। তার অভিব্যাক্তি দেখে মনে হচ্ছে বিধাতা যেন তাকে আজকে ঐ*শ্ব*রিক শক্তি প্রদান করেছে যার জন্য পায়ে ব্যা*থা পেল না মেয়েটা। বারান্দায় গিয়ে হুড়মুড় করে বসে পড়লো তিয়াসা চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়লো পানি। সাথে ঠোঁটে ফুটলো বাঁকা হাসি। তিয়াসা রাতের অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে বিরবির করে বলল,” আমি তোমাকে ভালোবাসি রুশভিয়ান, আমার প্রতিটা শিরা উপশিরায় তুমি আছো রুশভিয়ান । কেন আমাকে বুঝলে না তুমি ” বলেই কাঁদতে লাগলো তিয়াসা। এভাবে কিয়তক্ষন কে*টে যাবার পর তিয়াসা চোখের পানি মুছে উঠে দাঁড়িয়ে ড্রয়ার থেকে বের করলো ব*ন্দু*ক। বেরিয়ে গেল ঘর থেকে আর রেখে গেল তার পায়ের র*ক্ত*যুক্ত ছাপ আর কা*ত*রা*তে থাকা মন্ত্রীকে।

ইনায়ার চেতনা ফিরলো রাত আটটার দিকে, পুরো কেবিন তখন ফাঁকা। সে একবার চারদিকে তাকিয়ে চোখ বুলিয়ে উঠতে নিলেই মাথাটা প্রচন্ড রকমের ভারী ভারী লাগলো। কিন্তু ইনান সে গুলোকে পাত্তা দিলো না, ওড়নাটাকে শক্ত
করে আকড়ে ধরে আস্তে আস্তে নেমে দাঁড়িয়ে আরেকবার চারদিকে তাকালো,না কেউ নেই চারপাশে। ইনান চোখ দুটো ডলে এগিয়ে গেল দরজার দিকে৷ দরজার বাইরে পা রাখতেই চমকে উঠে দেখলো পুরো করিডোর ফাঁকা। চারদিকে কেউ নেই, শুধু আবছা আলোতে চারদিকে কেমন ভৌতিক রুপ ধারন করে আছে । ইনান আর এগিয়ে গেল না , সে আবার কেবিনে প্রবেশ করতে নিলেই তার হাতটাকে কেউ শক্ত করে চেপে ধরলো । থমকে দাঁড়াল ইনান, আস্তে আস্তে ঘাড় বাঁকিয়ে দেখলো সামনে একটা অজানা মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে, পরনে মোটা জানদানি শাড়ী, চুল গুলো এলোমেলো হয়ে আছে।আর তার দিকে কেমন বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে আছে। মেয়েটাকে দেখে কেমন জানি ভয় ভয় লাগলো তার, তবুও সেটা মুখে প্রকাশ না করে শান্ত স্বরে বলল, ” কিছু বলবেন?

মেয়েটা মাথা নাড়ালো, কিন্তু মুখে কোন আওয়াজ করলো না,শুধু ইনানের চোখের দিকে তাকিয়ে রইলো, আর ইনান ও স*ম্মোহনী দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সেই ধূসর রঙা চোখের দিকে। এভাবে কিয়তক্ষন কেটে যাবার পর মেয়েটা এবার দাম্ভিকতার সাথে বলল,” আমার সাথে যাবে, বাইরে গাড়ি অপেক্ষা করছে? ইনান তৎক্ষনাৎ মাথা নাড়িয়ে বলল,” আমি যাবো আপনার সাথে, আমাকে নিয়ে চলুন এই দো*য*খ থেকে ” বলেই মেয়েটার আরেকটা হাত শক্ত করে চেপে ধরলো ।
মেয়েটা ঠোঁটে ফুটলো বি*কৃ*তকর হাসি, শাড়ির ভাঁজ থেকে বের করলো একটা মালা যা ইনানের গলায় পড়িয়ে দেয়।এটাকি আদো কোন চেনের পর্যায়ে পড়ে উঁহু পড়ে না। এটা হলো ইনানকে নিজের ব*শে রাখার প্রথম ধাপ মাত্র। মেয়েটা আলতো করে ইনানের গালে হাত ছুঁয়েই বলল,” তাহলে চলো তোমাকে আমি শান্তির জায়গায় নিয়ে যায় ” ইনান মাথা নাড়ালো এগিয়ে গেল মেয়েটার সাথে, দেখতে দেখতে দুজনে মিলে গেল অন্ধকার করিডোরের মধ্যে । আর দেখতে পাওয়া গেল না তাদের।

“ভাই তাড়াতাড়ি উঠেন, সামনে যে অনেক বড় বি*প*দ ওরা আপনার সন্তানের ক্ষ*তি করানোর লেইগা হাসপাতালে লইয়া আইছে ভাবিরে। ও ভাই উঠেন না, আপনার সন্তানদের বি*প*দ আর আপনে উঠবেন না ভাইই “”…. আমির তার ভাইয়ের ক্যানুলা যুক্ত হাতটা চেপে ধরে বসে আছে ছেলেটা। সায়েরা যতক্ষণ থেকে এসে বলেছে ইনানের পেটে বাচ্চা, আর বাচ্চাগুলোকে তার মামা ন*ষ্ট করে দিতে চেয়েছে। ততক্ষণ ধরে ছেলেটা থেকে থেকে ভাইয়ের সামনে আ*হা*জা*রি করে উঠছে।কিন্তু কে জানতো তার আ*হা*জা*রি কান্নাকাটি আজ সার্থক হবে। এরইমধ্যে রুশভিয়ানের চোখের পাতা দুটো আস্তে আস্তে নড়ে উঠলো, থমকে গেল আমির তার ভাইয়ের জ্ঞান ফিরছে বুঝতে পারলো বোকা ছেলেটা। আমির খুশিতে আত্মহারা হয়ে চেঁ*চি*য়ে উঠে বলল,”ভাইয়ের জ্ঞান ফিরে আইতাছে, আমার ভাইয়ের জ্ঞান ফিরে আইতাছে কেউ আর তাদের ক্ষ*তি করতে পারবো না ” এইরকম ভাবে নানা ধরনের কথা বলতে লাগলো আমির। সায়েরা কেবিনের সোফায় বসে ছিলো সে আমিরের কথা শুনে এগিয়ে এলো হকচকিয়ে হ্যাঁ সত্যিতো রুশভিয়ানের জ্ঞান ফিরছে । সায়েরার চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়লো। রুশভিয়ান পিটপিট করে চোখ খুললো, নিজেকে আবিষ্কার করলো হাসপাতালের বেডে ।

আমির দুইহাত দিয়ে রুশভিয়ানের মুখটা ধরে কান্নাভেজা গলায় বলল,” ভাই, উইঠ্যা গেছে, আমার ভাই উইঠ্যা গে…. বাকি কথা শেষ হওয়ার আগে রুশভিয়ান ধমকে দিয়ে বলল,” এত ষাঁড়ের মতো চি*ল্লা*তে কি বইলাছে তোকে, সর সামনে থেইকা নামবো আমি, আমার ইনানরে খুঁজতে যামু ” বলেই আগের মতো করে ক্যানুলা খুলতে নিলেই সায়েরা তেড়ে এসে রুশভিয়ানের হাতটাকে শক্ত করে চেপে ধরে বলল,” ইনান এইখানে আছে, তোকে কোথাও যেতে হবে না? প্লিজ ক্যানুলা খুলে নিস না রুশভিয়ান ?
রুশভিয়ান থোড়াই না তার কথা শুনবে সে হলো নিজের মর্জির মালিক।সায়েরা কথার মাঝে ক্যানুলা টেনে সায়েরার হাতে ধরিয়ে বলল,” কে হন আপনে, যে আপনার কথা শুনা লাগবো? সরুন তো সামনে থেইক্কা, আর ক্যানুলা ফ্যানুলা নিজের হাতে লাগাইয়া বইয়া থাকেন ” বলেই নিচে নামতে
নিলেই তখন কেবিনে অনু হন্তদন্ত হয়ে প্রবেশ করলো। সায়েরা বেগম,রুশভিয়ান হকচকিয়ে সামনে তাকালো। সায়েরা আর আমির চিন্তে পারলো এটা ডক্টর অনু, কিন্তু এত বি*ধ্ব*স্ত অবস্থা কেন বুঝতে পারলো না। গালে পাঁচ আঙুলের ছাপ,চুল গুলো এলোমেলো হয়ে আছে, ঠোঁটের কোনে র*ক্ত। রুশভিয়ান ভ্রু কুচকে তাকিয়ে রইলো অনু দিকে। আর সায়েরা ধ*ড়ফ*ড় করে এগিয়ে গিয়ে অনুকে আগলে ধরে বলল,” কি হয়েছে তোমার, মুখ চোখ এর এমন বেহাল দশা কেন?অনু বুকে হাত দিয়ে হাঁপাতে হাঁপাতে বলল,” ও… ওরা ইনান কে নি*য়ে চ*লে গেল? আ… আমি গিয়েছিলাম আটকাতে কিন্তু পারলাম না ” এতটুকু বলে জোরে শ্বাস নিতে লাগলো।
অনু কথা শুনে সায়েরা চমকে উঠলো,আর রুশভিয়ান হাত থেকে ক্যানুলা খুলে একলাফে বেড থেকে নেমে এসে অনুর সামনে দাঁড়িয়ে গেল। রুশভিয়ানের চোখ দুটো রক্তজবার মতো লা*ল টকটকে হয়ে আছে, যা দেখে অনু আরো ভয়ে গুটিয়ে গেল।

রুশভিয়ান স্ফু*লি*ঙ্গে*র ন্যায় গর্জন করে বলল,” আমার ইনান কারা নিয়া গেল ? রুশভিয়ানের হুং*কা*রে পুরো কেবিন থ*র*থর করে কাঁপতে লাগলো।
সায়েরা এগিয়ে এসে রুশভিয়ান কে বলল,” ও কেমন করে জানবে কারা ধরে নিয়ে গেল, তুই তাড়াতাড়ি করে বেরিয়ে পর মেয়েটা উদ্ধার কর রুশভিয়ান?
রুশভিয়ান আর শোনার প্রয়োজন বোধ করলো সে হাসপাতালের পোশাক পরা অবস্থায় বেরিয়ে গেল কেবিন থেকে, তার পিছু পিছু আমির যেতে ভুললো না ।

কারা আপনারা আমাকে যে*তে দিন প্লিজ, আমাকে এই অন্ধকার থেকে বের ক*রুন কেউ, আমার খুব ভ*য় করছে.. কথাগুলো একনাগারে বলতে লাগলো ইনান কিন্তু এই ঘুটঘুটে অন্ধকার ঘরে তার কথা শোনার মতো কেউ নেই, ইনান আবারো গলা ফা*টি*য়ে চি*ৎ*কা*র করতে লাগলো। এভাবে কিয়তক্ষন কেটে যাবার পর অন্ধকার ঘরের দ্বার উন্মুক্ত হলো ক্যাচক্যাচ আওয়াজ তুলে। ইনান থেমে গেল আর কোন চি*ৎ*কা*র চেঁ*চা*মে*চি করলো না। অন্ধকারে ছটফটিয়ে পাশের দিকে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালো। দরজাটা খোলার দরুন সেখান দিয়ে প্রবেশ করছে এক চিলতে আবছা আলো। আলোটা খুব একটা তীক্ষ্ণ ও না। ওই আবছা আলোতে দাঁড়িয়ে আছে একটা ছায়া যার হাতে রয়েছে বড় তলো*য়ার যা স্পষ্ট ভাবে বোঝা যাচ্ছে । কেননা আবছা আলো তলো*য়ারের গায়ে পড়ে চিকচিক করে উঠছে।
ইনান আনমনে শুকনো ঢোক গিললো, ভ*য়ে তার হাত পা থরথর করে কাঁপছে। সাথে পাল্লা দিয়ে চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে তার। আস্তে ছায়াটা তার কাছে এগিয়ে আসতে লাগলো। ইনানের কন্ঠ রো*ধ হলো কিছু বলতে চাই কিন্তু তা গলাধঃকরণ হলো না।

ছায়াটা তার তলো*য়ার দিয়ে মেঝেতে আ*ঘা*ত করতেই পুরো ঘরে সাথে সাথে লাইট জ্বলে উঠলো। এতক্ষণ অন্ধকারে থাকার পর হুট করেই আলো চলে আসাতে ইনানের চোখ স*হ্য করতে পারলো না। চোখ মুখ খিঁচিয়ে বন্ধ করে নেয়। এমন সময় অনুভব করলো তার গলায় খুব ঠান্ডা কিছু ধরে রাখা আছে। ইনান আস্তে আস্তে চোখ খুলে দেখলো সামনে একজন মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে, পরনে ই*না*র আর ছা*য়া,চোখ মুখ লাল টকটকে হয়ে আছে।ক্রো*ধা*ন্বি*ত হয়ে চোখ দুটো বড় বড় করে তাকিয়ে আছে ইনানের পেটের দিকে। ইনান ও তার দৃষ্টি অনুসরন করে তার পেটে তাকিয়ে কিছু নজরে এলো না। সে আবার মাথা তুলতেই নজর গেল তলো*য়ারের দিকে যেটা তার কাঁধে চেপে ধরে রাখা আছে। তার জন্য এতক্ষণ ধরে ঠান্ডা অনুভূতি হচ্ছিল তার।
ইনান চোখ দুটো আবার ঝাপসা হয়ে এলো, সে খবরে টিভিতে দেখেছে এইরকম ভাবে কি*ড*ন্যা*প করে এনে মে*রে ফেলে শরীরের সব অ*রগ্যা*ন গুলো নিয়ে নেয়। তাহলে কি তার সাথে এমন হবে। কথাগুলো ভাবতে গিয়ে ইনান ডুকরে উঠলো।

তিয়াসার নজর সরে এলো পেট থেকে তাকালো ইনানের মুখের দিকে। মুখের দিকে তাকাতেই আরো ভেতরে তার ক্ষো*ভ আর রা*গ দুটো চেপে বসলো। তলো*য়ার নামিয়ে ইনানের গাল বরাবর দিলো দুটো থা*প্প*ড়। ইনানের মাথাটা একপাশে হেলিয়ে পড়লো। তিয়াসা আরেকটা থা*প্প*ড় মা*র*তে নিলেই কেউ তার হাতটাকে শক্ত করে চেপে ধরলো। এত শক্ত করে চেপে ধরেছে যেন হাতটা গোড়া থেকে ছুটে চলে আসবে। তিয়াসার হাত থেকে তলো*য়ার নিচে পড়ে গিয়ে ঝনঝন শব্দ হতে লাগলো পুরো ঘর জুড়ে, তার মুখ থেকে বেরিয়ে এলো আ*র্ত*না*দ। তিয়াসা ঘাড় ঘুরিয়ে দেখলো রুশভিয়ান দাঁড়িয়ে আছে, চুল গুলো এলোমেলো আর বড় হয়ে আছে, সাথে লম্বা দাঁড়ি, চোখ দুটো লাল হয়ে আছে, আর পরনে হাসপাতালের পোশাক।

এমপি রুশভিয়ান মির্জা পর্ব ২৭

রুশভিয়ান হাতটাকে শক্ত করে চেপে ধরে তিয়াসার গালে শক্তি বরাবর থা*প্প*ড় বসিয়ে দিয়ে বলল,” তোরে কত কইছি আমার বউ এর লগে ঝামেলা না করতে বা*ন্দির বাচ্চা” বলেই আরেকটা থা*প্প*ড় দিয়ে হাত ছেড়ে দেয় সাথে সাথে তিয়াসা হুড়মুড় করে মেঝেতে আছরে পড়লো……

এমপি রুশভিয়ান মির্জা পর্ব ২৯

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here