কালকুঠুরি পর্ব ৫২
sumona khatun mollika
সামহা হাতের কাদাগুলো ধুয়ে তিতিনের পা দুটোও মুছে দেয় । সেতু বই হাতে নিজের ঘরে হা হুতাশ করছে৷ তাদের অবস্হান আপাতত রামচন্ডিপুর গ্রামে। মাহার ফিরতে বিকেল হয়ে যাবে। সেতু তাকে গলা উচিয়ে ডেকে বলে,,,
– সামহা,, তোর দিদু ফোন করেছে রে,,
– এই থেতু আমাকে দে!
– তুই যদি আমাকে থেতু না বলে সেতু বলিস তাহলে দেব!
– লাগবেনা৷
– এই যাস না যাসনা ধর ধর।
লাইব্রেরি মেডাম ফোন করেছে। মাহাকে তার পড়াশোনা শেষ করতে লাইব্রেরী মেডাম অনেক বড় ভুমিকা পালন করেছে। তার মিসিং আইডি উঠানো, নতুনকরে এপ্লিকেশন করা, এডমিট চেঞ্জ আরো যা যা প্রয়োজন হয়। প্রশ্ন রয়ে যায়, সামান্য লাইব্রেরি মেডাম কিভাবে এত কাজ করতে পারে!
পারবেইতো। লাইব্রেরি মেডাম এর হাসবেন্ড রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এসিস্ট্যান্ট প্রিন্সিপাল । সেই সুবাদে তিনি মাহাকে সাহায্য করতে সক্ষম হয়েছেন।
ফোন উঠিয়ে সামহা তার সাথে কিছুক্ষণ কথা বলে কল কাট করল। ফোনটা সেতুর কাছে এগিয়ে দিয়ে বলল,,
– এই থেতু,, আমার পুইপুই টা পেরে দেও তো।
– তুমি আগে আমাকে থেতু না বলে সেতু বলো!
– দেবে, কিনা?
– আগে সেতু বলো,,
– হুউহ!
– হুউউহ!
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
সেতু নাকোজ করায় ভেংচি কেটে সে নিজেই বিছানার ওপর উঠে বিছানা ঝাড়া ঝাড়ু দিয়ে টেনে নিজের গিটার নামিয়ে নিল তারপর টুকটুক করে হেটে এক কর্নারে বসে একা একাই পুইপুই বাজাতে বাজাতে
গান গাইতে ধরল,,
~ সে আমার থেতু,
পদ্মা নদীর সেতু,
মুখটা একটু ব্যাকা
মাথা পূরো ফাকা
থেতু থেতু,, ওগো থেতু,,
– আর তুই কি রে থামহা থিকাদদাল বুমি!
– ঠিক করে বলো মুর্খ, সামহা সিকাদদার ভুমি!
– নিজে ঠিক করে বল, সিকাদদার না সিকান্দার!
– ওই হলো,,
সেতু গাল টেনে একটু হাসলো। সামহা তার পুইপুই টা পাশে রেখে সেতুর উদ্দেশ্যে বলে,,
– ও থেতু?
– বল
– তুমি আমার আব্বু কে দেখেছ?
– হুম দেখেছি।
– আব্বু কি অনেক সুন্দর ? আমি কবে আব্বুকে পাবো থেতু?
– কেন? আব্বু দিয়ে কি হবে ভুমি?
– আমার আব্বু কি অনেক খারাপ থেতু?
– হ্যা।
সামহা আর টু শব্দ ও করলো না। কিছুক্ষণ গম্ভীর হয়ে রইলো। হুট করে সেতুর পেছনে চিমটি কেটে মারলো দৌড় ! চিমটিটা মারার কারণ হচ্ছে সে তার আব্বুকে খারাপ কেন বলল,, । দৌড়াতে গিয়ে
পরে যেতে লাগলে একজোড়া হাত তাকে ধরে ফেলর,, তার দিকে তাকিয়ে সামহা বলল,,
– মিমি?
– এহ,, আমার দুততু থামহা থিকাদদাল বুমি টা কোথায় যাচ্ছে দৌড়ে দৌড়ে?
– তুমি কখন এসেছো মিমি?
– মাত্র সোনা। চলো ভেতরে যাই।
সামহাকে কোলে করে ভেতরে গেলে সেতু বলল,,
– লামু তুই?
– ও সারাদিন একা একা দৌড়াদৌড়ি করে ধরিসনা কেন? যদি আঘাত লেগে যায়.?
– আঘাতও ওকে দেখে পালাবে লামু, ভাইয়া আসেনি?
– ভাবিজানের সাথে আসবে। ।
– আচ্ছা। আয় ভেতরে যাই,,
লামু, সেতু আর সামহা ভেতরে গেল। লামু আর সেতু নিজেদের ভেতরে কিছু কথা বলছিল। সামহা লামুর কোলে বসে। তার লম্বা চুল নাড়াচাড়া করছিল । তখনি তার খেয়াল হয় একটা পাখি এসে জানালার ধারে বসে বাথরুম করে দিয়েছে,৷
সামহা লামুর কোল থেকে উঠে জানালার গ্রিল ধরে চেচিয়ে ওঠে,,
– ওই,, দুষ্ট বেবি বাড,, এখানে আর হাকু করবিনা। তোর আম্মু শেখায়নি ডায়পুর পরে আসবি! শুনেছিস, ডায়পুর পরে আসবি! নইলে পিটবো তোকে৷
লামু আর সেতু হাহা করে হাসতে থাকে। সেতু লামুর চেহারা পরিদর্শন করে জানতে চাইলে,,
– লামু??
– হুউ?
– এতগুলো বছর পার হয়েছে, ভাইয়া কি এখনো তোকে নিজের করে নেয়নি?
প্রশ্নের জবাব না দিয়ে লামু গম্ভীর চেহারায় তাকিয়ে থাকে। কথায় কথা বাড়ে মানে অভিমান বাড়ে। মাহবুব উদ্দিনই সেই যে লামু কে ২ লক্ষ টাকার বিনিময়ে লালকুঠি থেকে কিনে এনেছিল । আর সেতু মেয়ে টা সেই অনিন্দিতা। দুজনকে একি দিনে কিনে এনেছিল মাহবুব উদ্দিন ।
লামুকে একটা কারণে আর সেতুর নসিব ভালো থাকায় টাকাগুলো দিয়েছিল মাহা।
মাহার অনুরোধে মাহবুব উদ্দিন লামুকে বিয়ে করতে বাধ্য হয়। তবে সবাই জানে এবং হাভভাব দেখলেই বোঝে,, মাহবুব উদ্দিন হয়ত তাকে এখনো মেনে নিতে পারেন না । সেতু এর দুইটি কারণ চিহ্নিত করেছে, প্রথম এবং সর্বচ্চ, সে মাহাকে ভালোবাসে। দ্বিতীয় লামু লালকুঠি থেকে এসেছে । তার জন্ম পরিচয় কিছুই নেই। না আছেপড়াশোনা৷ এটা ও হতে পারে বা ওটাও।
বহমান নদীর জলের মতো আমাদের জীবনের কিছু অংশ কেটে যায় । যেভাবে সুখের সময় টুকু ৬০ সেকেন্ডে ১ মিনিট হিসেবে কাটে তেমন দুঃখের সময়ও ৬০ সেকেন্ড ১ মিনিট বেগে কাটে ।
আল্লাহ তায়ালা সবার জীবনেই কিছুনা কিছু খারাপ সময় দিয়ে থাকেন। তবে মহান সৃষ্টি কর্তা ঠিক আবার সময় মতো তার দুঃখের আকাশে সূর্যের কিরণ তুলে দেন।
লামুকে নিয়ে আসার দিন মাহা অনেক বলে কয়ে মাহবুব উদ্দিন কে বিয়েতে রাজি করিয়েছে। তবে মাহবুব উদ্দিন লামুর কাছে কিছুই লুকোয়নি। সোজা বলে দিয়েছিল,, ” তোমাকে মন থেকে মেনে নিতে হয়ত আমার অনেক সময় লেগে যাবে, তবে স্ত্রী হিসেবে তুমি তোমার অধিকার দাবি করতে পারো। আমার কোনো সমস্যা নাই ”
লামুর যা প্রয়োজন ছিল সত্যি কারের ভালোবাসা। কিন্তু সেটা বাদে সে সবই পেয়েছে। তারজন্য মাহবুব উদ্দিন কে দায়ী করে না লামু। তার কি দোষ ? সেও তো মাহাকে ভালোবেসেছে কিন্তু মাহা অন্য কারো সন্তানের মা।
দীর্ঘ একটা নিঃশ্বাস ফেলে সামহার দিকে তাকালো। পুইপুই নামের গিটার টার একটা একটা করে বাটন টিপছে আর নিজে নিজে বলছে,,
~ তারা লেলো তারালা
উরকা লেলো উরকালা
তামো মো তা ওতামো
কোকো মো কে
এল এ ফানদো,,
মাহবুব উদ্দিন এর আওয়াজ ভেসে আসলো,
– কিরে ভিলেনের বেটি, একা একা কি গাইছো?
– আঙ্কেল !
দৌড়ে গিয়ে মাহবুব উদ্দিন এর কোলে চড়ে গলা জড়িয়ে ধরে বলল, ,,
– আমার চকলেট দাও!
– উমমম,, এ্যাইযযে আমার মামণির চকলেট!
– ইয়েই! আঙ্কেল, আমার এই থেতুটাকে ধরে জেলে ভরে দাও।
– কেন সামহা?
-এ আমার আব্বঁকে অনেক খারাপ বলেছে।
– তাই নাকি?
– হুমম।
– ঠিকাছে, রাজশাহী যাবার পরে থেতুকে জেলে ভরে দেব চলবে?
– হুউ। নয়ত ওর মাথায় দুটো বাঙ্গি ভেঙ্গে দিও ।
মাহাবুব উদ্দিন মন খুলে একটু হাসলো ।
দৃশ্য বদল হলো সিকান্দার বাড়িতে,,
সিয়েরা আর নাজিয়া বসে বসে ফোনে ভিডিও দেখছিল। সামিরকে বাড়িতে ঢুকতে দেখে নাজিয়া সিয়েরা কে বলে,,
– বলে দে সিয়েরা তোর কাকাকে, আজ আবার বাড়িতে খাসির মাংস রান্না হয়েছে , আমি ফিশ ফ্রাই বানিয়েছি। দিলে আবার টেবিল উল্টে দেবেনাতো?
সিয়েরা সামিরের দিকে তাকালো ড্যাব ড্যাব করে। সামির দম ফেলে জবাব দিল,
– না। সিযেরা, আমার খুব খিদে পেয়েছে। মাকে একটু খাবার দিতে বল।
– আচ্ছা কাকা।
নাজিয়ার সাথে খারাপ আচরণ কিছুটা কমিয়েছে সামির। সিয়েরর কথামতো নুসরাতের বদলে নাজিয়া খাবার নিয়ে যায় । সামির তখন বাথরুমে। খাবারের প্লেটটা পাশে রেখে সামিরের টেবিলের ওপরের খাতাটা নেরে দেখতে শুরু করে নাজিয়া। খাতায় আঁকাআকি করা অনেকগুলো চিত্র ।
চোখগুলো নাজিয়ার অচেনা৷ ধারণা করেই নিল, নিশ্চয়ই তার মরা বউয়ের ছবি হবে। বকা খাওয়ার ইচ্ছে হচ্ছে না। তাই আবার খাতাটা যেভাবে ছিল, ওভাবেই রেখে দিল।
সামির বেরিয়ে সোজা খেতে বসে গেল৷ নাজিয়া ভালো মনেই জিজ্ঞেস করল,,
– আর কতদিন একা পরে থাকবেন? অন্য কাওকে হলেও একটা বিয়ে তো করবেন নাকি?
– কেন?
– কেন আবার কি? আজীবন আবিয়াইত্তা থাকবেন নাকি?
– আমি কি অবিবাহিত?
সামিরের চোখের দিকে তাকাতেই নাজিয়ার ভেতরটা কেমন চিনন করে ওঠে। যখনি সামিরের চোখের দিকে তাকায়,, মনে মনে বলে,,
” তেরি ইয়েহি আদাপেতো হাম ফিদা হেয় ”
– আপনার বউতো,,,,
– তোমার মুখ বেশি চলছে না? আমার বউ কি বলো? আমার জানিনা কেন মনে হয় দিবা মরেনি। আজ যাকে দেখেছি সে হয়ত সত্যি দিবা ছিল,,
– দিবা কে?
– আমার বউ ।
– ওর নামতো মাহা,,
– দিবা। দুইজন মাত্র মানুষ তাকে দিবা ডাকতো। আমি আর ওর বাবা। ।
– আমি যতদূর জানি, ওর বাবাতো অনেক আগে মারা গেছে। আপনি কি করে জানেন?
– জানি,,
সামির কেমন অদ্ভুত করে হাসে,, নাজিয়া আর কিছু জিজ্ঞেস করার আগেি সাফিন ঘরে ঢুকে একটা ছবি দিয়ে বলে,,
– এই বাচ্চাটাকে তুলতে হবে ।
– কার ছুড়ি?
– কার্তিক আরিয়ানের নাতিন।
– তোলার পর,, টপকে দেব?
– উহু। কয়েকদিন ওটাকে চোখে চোখে রাখবি তুই। কোনোরকম কোনো নেটওয়ার্ক কানেকশন রাখবিনা যাতে তোর অবস্থান ধরা না যায় । জায়গা আর সময় বুঝে কাওকে দিয়ে খবর পাঠিয়ে দেব ।
– আচ্ছা ।
– ভার্সিটি তো ছুটি না? বেশ ভালো টাইম ফাকা আছিস। তোর ঘুরাও হয়ে যাবে। কাজও। বাকি যা সব আছে, সিয়াম আর আমি সামলে নেব।
-হুমমম।
সামির সাফিনের কথার ধাচ বুঝতে পারল, সারকথা এই সে তাহলে নেক্সট বেশ কয়েকদিন গা ঢাকা দিয়ে থাকবে। যে ঠিকানা সাফিন দিয়ে গেল তা রামচন্ডিপুর এর কাছাকাছি । পাচটি বছর হয়ে গেছে সামির রামচন্ডিপুর এর মাঝে শুধু একবারি গিয়েছিল যখন বুড়ো মানে তার নানা মারা গিয়েছিল । বুড়ির ঠিক পাশে কবর দেয়া হয়েছে তাকে। ওই কুঁড়েঘরে এখন কে থাকে না থাকে কেও জানেনা।
পরেরদিন নিজ মতো রামচন্ডিপুর পৌছে যায় সামির। দুধারের সেই পথ ধরে একাই হেঁটে যাচ্ছে সে। এই রাস্তায়, এখনো সেই অদ্ভুত নিস্তব্ধতা ।
সামির হেঁটে চলেছে রামচন্ডিপুর এর মেঠোপথের মধ্যে দিয়ে । একটা তীব্র বাতাস ধাক্কা দিয়ে গেলে সামির কেমন অদ্ভুত করে কেঁপে ওঠে। চোখদুটো খুললেই দেখে সেদিনকার মতো মাহা তার কোমর সমান চুলগুলো হেলিয়ে সামনে সামনে হেঁটে চলেছে।
পরক্ষণেই আরেকটা বাতাসে মিলিয়ে যায় মাহা। সে প্রথমেই তার নানার বাড়ি যায়নি । হাটতে হাটতে চলে গেছে সেই যায়গায় যেই পুকুর থেকে মাহাকে শাপলা তুলে দিয়েছিল সে।
পুকুরে শাপলাও নেই। পাশে মাহাওনেই। জগৎকূলে নিজেকে বড্ড একা মনে হলো তার। বড় করে দম ফেলে গাছের সেই ডালটায় চড়ে বসল ডালটা আগের চেয়ে শক্ত হয়েছে। বেরেছে শাখা প্রশাখা। নিচের মাঠটা ভরে গেছে সাদা হলুদ অযত্নে বেরে ওঠা ফুলের বাহারে।
বড় করে দম ফেলে সামির খেয়াল করল এই নিস্তব্ধতা ভেঙে মাঠের ভেতর থেকে একটা ছোট্ট ফর্সা পুতুলের মতো শিশুকন্যা প্রজাপতির মতো দুদিকে দুহাত মেলে একাই গুনগুন করে গান গাইছে আর নাচতে নাচতে দৌড়ে বেড়াচ্ছে। তার মাথায় ফুলের ব্যান্ড পুরো মাঠের ভেতর আর কেউ নেই সে একাই। তার সঙ্গে খেলছে একটা সুন্দর বেড়াল।
সামিরের দিকে চোখ পরতেই মেয়ে টা তার দিকে এগিয়ে এলো। কেমন এক অদ্ভুত মিনমিনে কণ্ঠ মেয়েটার। বামহাত কোমরে রেখে, ডান হাত উচিয়ে বলল,,,
” এই লাল সাদা ভূত,, নেমে এসো! ”
সামির লাফ মেরে নামতে গেলে পা টা একটু বেকিয়ে পরে গেল। মেয়েটা ছুটে এসে জিজ্ঞেস করল,,
– ইশশরে,, এই ভূত তোমার ব্যাথা লাগেনি তো?
সামির প্রথমে মেয়েটার দিকে তাকিয়ে একপলক থমকে গেল।চেনা চেনা লাগছে, কি অদ্ভুত ব্যাপার , মেয়েটা যদি একটু শ্যামলা হতো, গালগুলো যদি চিকন হতো, আর চোখের মণি যদি গাঢ় কালো হতো তবে তাকে একদম টিট্টু সামির সিকান্দার মনে হতো।
” এই ভূত? কি দেখছ? ব্যাথা লেগেছে? ”
” এই ছুড়ি, তোর মাথা খারাপ! এত সুন্দর থোবড়া দেখে ভূত মনে হচ্ছে? ”
” মনে হবে কেন, তুমি তো ভূত-ই রে বাবা ”
” কিজন্য আমাকে ভূত মনে হচ্ছে? ”
” এইযে তুমি সাদা শাট পরে দুপুরবেলা করে গাছের ডালে চড়ে বসে ছিলে। ”
” ওয়াও কি বাঙ্গিমারা লজিক মাইরি! কে শিখিয়েছে?”
” আমার আম্মু ”
” আম্মু! কি নাম তোর, এখানে তুইওতো একা একা ভূতের মতো নেচে বেরাচ্ছিস ”
” নাম শুনে কাম কি? হবো কোনো বাঙ্গি ক্ষেতের মূলা কিন্তু তুমি,, তুমি আমাকে তুই করে বলছ কেন? জানোনা অচেনাকে তুই বলতে নেই ব্যাড ম্যানারস! ”
” আচ্ছা? তো তুমি ইংরেজিও জানো? ”
” শিওর, আম্মু বলেছে আমি আমার আব্বুর মতো ট্যালেন্টেড ”
” ডিজগাস্টিং লজিক ”
” ইউ ডিজগাস্টিং! আমাকে তোমার গাইয়া মনে হয়? আমি শিক্ষিত মায়ের শিক্ষিত মেয়ে । তুমি জানো আমার মা কে? কাঁপতে শুরু করবে ”
” কোনো ওঝা তান্ত্রিক নাকি? ”
” স্বিকার করছ তুমি ভূত! হাহ হাহা ”
” কোনো ভূত টুত নই আমি। পুরো রাজশাহী শহরের বাদশাহ আমি! ”
” এহ,, তুমি বাদশাহ হলে আমি রাজমাতা শিবকামী দেবী ”
” কি পাকনা ছুড়ি রে বাবা! তোমার বাড়ি কোথায়? এখানে যে ঘুরছো তোমাকে ধরে কেলাবে না? ”
” একটা সিক্রেট বলি,, তুমি আমার মায়ের হাতের পাওয়ার জানোনা। তুলাধুনা করে পিটে মা আমাকে ”
” আমাকে বলছো কেন? ”
” তুমিনা নিজেকে বাদশাহ দাবি করছ,, বিচার পেশ করলাম জনাব। ”
” হাউ ফানি। বাড়ি কোথায় তোমার কয় ভাইবোন ? ”
মেয়েটা আর কোনো জবাব দেওয়ার আগেই ওপাশ থেকে শাড়ি পরা চেহারা আচলে ঢাকা এক নারীর আওয়াজ ভেসে এলো,,
” ভূমি ?? ”
” যাইগো ভূত। তুমি তোমার গাছের ডালে ফিরে যাও। টাটা। ”
কালকুঠুরি পর্ব ৫১
তারপর মেয়েটা আবারো নাচতে নাচতে চলে গেল। সামির তার দিকে এক পলকে তাকিয়ে রইল । বুকটা কেমন ভারি হয়ে আসছে। তবে চোখ ফেটে অশ্রু গড়াচ্ছে না। বের হতে পারেনা। সামির সিকান্দার কখনো কাদে না। কাঁদতে পারেনা। কান্না আসেনা। দুর্বল রা কাঁদে । সামির সিকান্দার দুর্বল নয়।

লিখিকা আপু প্লি তাড়াতারি শেষ করো আর ধৈর্য ধরতে পারতেছিনা আর প্লিজ প্লিজ প্লিজ সেড এন্ডিং দিও না অবরুদ্ধ নিশীথ পইরা বড় শড় একটা বাশ খাইয়া এই টা পরতে আসছি মন টারে একটু শাম্ত করতে তো তুমি আবার সেড এন্ডিং দিয়া কষ্ট টা ডাবল করে দিও না প্লিজ