কি করিলে বলো পাইবো তোমারে পর্ব ১৬
মুনমুন বুড়ি
মুখের উপর পানির ছিটা পড়তেই পিটপিট করে চোখ খুলল মিহি।
চোখ খুলতেই ঝাপসা দৃষ্টিতে চারপাশ দেখার চেষ্টা করল সে। মাথাটা যেন ভারী হয়ে আছে, শরীর অবশ। কয়েক সেকেন্ড পর সবকিছু একটু পরিষ্কার হতেই চোখের সামনে একটি পরিচিত মুখ ভেসে উঠল মিহি। কিছু মুহূর্ত চুপচাপ সেই মুখটার দিকে তাকিয়ে রইল, কিন্তু পরমূহূর্তে কিছু বিভৎস গা শিউরে ওঠা চিত্র চোখের সামনে ভেসে উঠতেই ধরফড়িয়ে উঠে বসল মিহি। সামনে থাকা লোকটিকে দেখে থরথর করে কেঁপে উঠল মিহি। কাঁপতে থাকা হাত দুটো জোড় করে অনুনয়ের স্বরে বলল—
— আ… আমাকে ছেড়ে দিন প্লিজ। আমাকে মারবেন না… মারবেন না…
মিহির কথা শুনে বিরক্তিকর মুখে ভ্রু কুচকালো ইভান। ইভানকে নিজের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে রুহ কেঁপে উঠল। ভয়ার্ত দৃষ্টিতে একবার চারপাশে চোখ বুলিয়ে নিল মিহি। এরপর সামনে বসে থাকা প্রলয়ঙ্কারীর দিকে তাকাল, যে এই মুহূর্তে পায়ের উপর পা তুলে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে মিহির কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করছে।
মিহি কোনো রকম টলোমলো পায়ে উঠে দাঁড়িয়ে পিছনে ফিরে পালাতে যাবে, তখনই ওর হাতে হ্যাঁচকা টান পড়ে। ফলস্বরূপ টাল সামলাতে না পেরে ইভানের বুকে গিয়ে আছড়ে পড়ে মিহি। মিহি নিজেকে সামলে উঠতে না উঠতেই ওর হাতের কব্জি শক্ত হাতে চেপে ধরে দৌড়াতে শুরু করে ইভান।
মিহি আঁতকে উঠে চিৎকার করতে যাবে, তখনই ইভান অগ্নিচক্ষু নিয়ে মিহির দিকে তাকিয়ে বজ্রকণ্ঠে বলে—
— একটা আওয়াজ মুখ দিয়ে বের করলে জিভ টেনে ছিঁড়ে ফেলব আমি। তুই বোবা হলেও কোনো প্রবলেম নেই আমার। কাজ চালিয়ে নেব আমি।
কথাটা বলেই আর কোনো রূপ শব্দ ব্যয় না করেই মিহিকে টেনে হিচড়ে কোথাও নিয়ে যেতে থাকে ইভান। মিহি ইভানের হুমকি শুনে চুপসে গেছে, চেয়েও কোনো রূপ আওয়াজ ব্যয় করতে পারছে না ও। অগত্যা ইভানের সাথেই পায়ে পা মিলাচ্ছে ও।
এই পুরো ফার্মহাউজটাই গোলকধাঁধার মতো—কোনো সোজা পথ ধরে গেলে পুনরায় ঘুরেফিরে একই জায়গায় ফিরে আসবে মানুষ। শত শত গার্ড পাহারা দিচ্ছে এই ফার্মহাউজের ভেতরে ও বাইরে। মিহিকে যে রুমে রাখা হয়েছিল, সেটি ছিল রিকার্ডোর পার্সোনাল রুম। সেই কারণে সেই রুমের ধারে কাছেও কোনো গার্ডের উপস্থিতি থাকে না এবং রুমটি সাউন্ডপ্রুফ হওয়ায় রিকার্ডোর বুক কাপিয়ে তোলা আর্তনাদ কেউ শুনতে পায়নি।
এই ফার্মহাউজের এখনো কেউ জানে না যে এখানের গডফাদার, আন্ডারগ্রাউন্ডের অতি কুখ্যাত “ডেথ হেল” দুনিয়ার মোহমায়া ত্যাগ করেছে। ইভান সতর্ক মস্তিষ্কে চারপাশে দেখে মিহিকে নিয়ে উল্টো পথ ধরে এগোচ্ছে। এখন ইভানকে আটকাতে সক্ষম এমন কেউ এই ফার্মহাউজে নেই। ইভান কারো তোয়াক্কা করে না, কিন্তু ইভানের মাথাব্যথা হচ্ছে মিহি—ইভান চায় না মিহিকে পুরো পৃথিবীর সামনে আনতে, নতুন করে কারো টার্গেট বানাতে। শুধুমাত্র এই একটি কারণেই ইভানের এত লুকোচুরি।
হঠাৎই ইভান তাদের থেকে কিছু কদম দূরে একজন গার্ডকে দেখতে পেয়ে মিহিকে নিয়ে একটি পিলারের পিছনে লুকিয়ে পড়ে। গার্ডটি তাদের পাশ কাটিয়ে চলে যেতেই ইভান পকেট থেকে ফোন বের করে কাউকে ফোন করে। এই সময় মিহি কিছু বলতে চাইলে ইভান মিহির মুখ চেপে ধরে। ফোন রিসিভ হওয়ার সাথে সাথেই কোনো রূপ বাক্য ব্যয় না করেই আদেশের সুরে ইভান বলে ওঠে—
— পাঁচ মিনিটের মধ্যে ওদের সবাইকে এখান থেকে সরাও।
ইভানের কথা বলার মাঝেই মিহি ছাড়া পেতে ইভানের হাতে কামড় দিতে থাকে। হাতে চিনচিনে ব্যথার অনুভূতি হতেই ইভান মিহির দিকে রাগী চোখে তাকায়। ফলস্বরূপ মিহি শান্ত হয়ে যায়। ইভান কথা বলা শেষ হতেই মিহিকে কাঁধের উপর তুলে হাঁটা দেয়।
ফার্মহাউজ থেকে বের হতেই ইভান মিহিকে কাঁধ থেকে নামিয়ে দেয়। এতক্ষণে মিহির জানে জান আসে। ইভান মিহির হাত ধরে পুনরায় হাঁটা দিতে চাইলে মিহি ধপ করে মেঝেতে বসে পড়ে।
ইভান গম্ভীর কণ্ঠে জিজ্ঞাসা করে— — কী হয়েছে? বসে পড়লে কেন?
মিহি কয়েকবার জোরে জোরে শ্বাস নিয়ে জিজ্ঞাসা করে—
— আপনি সত্যি করে বলুন… আপনি কে?
ইভান মিহির কথায় পাত্তা না দিয়ে পুনরায় মিহির হাত ধরে টানতে থাকলে মিহি পুনরায় বাধা দিয়ে বলে ওঠে— — আগে বলুন আপনি কে? আপনি সুস্থ মস্তিষ্কের কেউ হতে পারেন না। আপনি ওই লোকটাকে…
আর বলতে পারে না মিহি। এর আগেই ফুপিয়ে ওঠে ও।
ইভান চারদিকে একবার সূক্ষ্ম নজরে পরখ করে নিয়ে মিহিকে তাড়া দিয়ে বলে—
— মিহি ওঠো। আমাদের যেতে হবে। এই জায়গাটা ভালো না।
মিহি দুই হাতে চোখ মুছে জেদি সুরে বলে ওঠে
— যাব না আমি। আপনি একটা পিশাচ। আপনার সাথে কোথাও যাব না আমি। আগে আমাকে আপনার পরিচয় দিন।
ইভান দীর্ঘশ্বাস ফেলে মিহির সামনে হাঁটু গেড়ে বসে মিহির দিকে হাত বাড়িয়ে দিলে মিহি হাত-পা ছুঁড়ে বলে ওঠে—
— ছুঁবেন না আমাকে! আগে বলুন আপনি কে?
ইভান এবার নিজের রাগ সংবরণ করতে না পেরে চিৎকার করে বলে ওঠে—
— তোর ভাতার আমি। শুনেছিস? শান্তি হয়েছে এবার চল, না হলে হাত-পা ভেঙে তারপর নিয়ে যাব এখান থেকে।
মুহূর্তেই কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে গেল মিহি। কিছুক্ষণ আগের সেই বিভীষিকা গুলো চোখের সামনে ভেসে উঠছে বারংবার । অভ্র মানুষ খুন তাও এইভাবে এতটা নিকৃষ্ট ভাবে। অভ্র পুনরায় মিহির হাত ধরতে যাবে তখনি মিহি বাধা দিয়ে বলে ওঠে
আপনি মানুষ খুন করেন?
অভ্র মিহির দিকে শান্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে জিগ্গাসা করে
আমি বললে তুই আমাকে অবিশ্বাস করবি
মিহি অভ্রের দিকে তাকিয়ে
দৃঢ় কন্ঠে বলে
আপনি আমার চোখের দিকে তাকিয়ে সত্যি করে বলুন যদি আপনি মিথ্যে বলেন তাহলে তার আভাষ আমি পেয়ে যাব।
অভ্র মিহির দিকে তাকিয়ে কিছু ভেবে বলে
হ্যা করি আমি মানুষ খুন ।
কেন এইসব করেন আপনি? এরকম খারাপ কাজের সাথে খারাপ মানুষের সাথে কেন জড়িয়েছেন আপনি?
কারণ ওরা আমার দুর্বলতায় হাত দিয়েছিল?
মিহি হতবিহ্বল হয়ে বলল
তাহলে ঐ লোকটাকে এত নিকৃষ্ট ভাবে কেন মারলেন? আমিও কি আপনার দুর্বলতা?
মূহূর্তেই মুখের রঙ পাল্টে গেল অভ্রের থাবা মেরে অভ্রের মিহির চোয়াল শক্ত হাতে চেপে ধরে বলল
মুখ সামলে কথা বলবি নাহলে ঐ জবান আমি কেটে নেব। নিজেকে কি মনে করিস তুই ? তোকে কেটে এখানে পুতে ফেলতেও আমার বুক একবার কাপবে না তাই এইসব আকাশ কুসুম ভাবনা ছেড়ে দে।
কথাটা বলেই অভ্র মিহির চোয়াল ছেড়ে দেয়।মিহি ব্যাথা সহ্য করতে না পেরে কান্না করে দেয় মিহির কান্নার আওয়াজ পেয়ে অভ্র বিরক্ত হয়ে মিহির দিকে তাকাতেই মিহির গালে পাচ আঙুলের ছাপ দেখতে পায় মুহূর্তেই অভ্রের চোখ নরম হয়ে যায় অভ্র আওয়াজ নিচু করে মিহিকে বলে ওঠে-
মিহি ওঠো আমাদের এখান থেকে বেরোতে হবে।
তখনি মিহি মাথা নিচু করে বলে ওঠে
ওই মেয়েগুলো কোথায়?
অভ্র মিহিকে টেনে তুলতে তুলতে বলে
ওরা সুরক্ষিত আছে।
সত্যি?
-হুম
অভ্র মিহি গাড়ির সামনে আসতেই ভিতর থেকে একজন লোক বেরিয়ে এসে অভ্রকে মাথা ঝুকে সম্মান জানায়। অভ্রকে লোকটির উদ্দেশ্য বলে ওঠে
নিক ড্রপ হার হোম সেইফলি
কথাটা শুনে মিহি ছটফটিয়ে বলে উঠল
আপনি যাবেন না?
না?
আমি একা একা যাবো না
ভয় নেই ও আমার লোক
কিন্তু..
বাকি কথা শেষ করার আগেই শো করে গাড়িটি চলে যায়। মিহি মাথা বের করে কিছু বলছে হয়তো গাড়ি থামাতে বলছে কিন্তু গাড়ি তার আপন গতিতেই চলতে থাকে।
আধো অন্ধকার রুমে মুখোমুখি বসে আছেন একজন মধ্যেবয়ষ্ক লোক এবং একজন যুবক । তাদের মাঝের টেবিল এ নানা নামি দামি ব্যান্ডের মদের বোতল।
মধ্যেবয়ষ্কী লোকটা এক পেক মদ শেষ করে বলে ওঠে
ওই শালীকে এতদিনে ঠিকানায় লাগাতে পেরেছি
কিন্তু আব্বু পুরো সম্পত্তি তো লিখে নিতে পারোনি।
আরে ওই মেয়েকে পাছার করে যা টাকা পেয়েছি তা ওই সম্পত্তির তিনগুণ হবে
কিন্তু ওর মা বাব কে খালাস করে ছোট থেকে ওই মেয়েকে পেলেপুষে বড় করেছ ওই সম্পত্তির জন্যেই তো তাই না?
তখন কি জানতাম বড় হয়ে এই মেয়ে এমন আগুন সুন্দরী হবে? মাইরী
বলছি সেই সুন্দরী শালী যেকোনো পুরুষ ওরকম মেয়ের সাথে এক রাত কাটাতে চাইবে। ইচ্ছা তো আমারো ছিল ওই মেয়েকে একরাত নিজের কাছে রাখার কিন্তু ওই কৌশিক এর বাচ্ছার জন্যে আর পারলাম ক ই?
হারামজাদাটা নিজে একা একা মজা লুটতে চেয়েছিল কিন্তু মাঝখান থেকে কৌশিক বাজি মেরে দিল
বাজি মেরেও আর লাভ কি হলো ভালো করে তো ফুর্তিও করতে পারলো না তার আগেই পাখি ফুষ হয়ে গেছে
এতোক্ষণে হয়তো ওই
কি করিলে বলো পাইবো তোমারে পর্ব ১৫
” DM” শয়তানটা ওকে ছিড়ে খুড়ে খাচ্ছে
কথাটা বলেই আলতাফ শেখ সিয়াম হো হো করে হেসে উঠলো ঠিক তখনি দরজার ছায়ার ভেতর থেকে বেরিয়ে এলো এক দৈহিক অবয়ব। দীর্ঘ, অদম্য এক উপস্থিতিতে চারপাশে শীতল অথচ জ্বলন্ত শূন্যতা ছড়িয়ে দিল।
