কি করিলে বলো পাইবো তোমারে পর্ব ১৫
মুনমুন বুড়ি
মিহিকে অন্য একটা রুমে আনা হয়েছে প্রায় ১ ঘণ্টা হয়ে গেছে। মিহি অনেকবার চিৎকার করেছে, দরজা খোলার চেষ্টা করেছে, কিন্তু কেউ দরজা খুলে দেয়নি। শেষপর্যন্ত ক্লান্ত হয়ে বিছানায় বসে আছে মিহি। মিহির সঙ্গে যে এখন ভালো কিছু হবে না, সেটা সে ভালোই বুঝতে পারছে। মিহি চোখ বন্ধ করতেই মাথায় উল্টাপাল্টা ভাবনা আসছে।
শেষমেষ আর না পেরে হাঁটুর ওপর মুখ বুজে ফুঁপিয়ে উঠে ও ভাবছে, পারছে না অভ্র ওর সঙ্গে এমনটা কীভাবে করতে পারলো? একজন মানুষ কতটা নিচে নামতে পারে, কিভাবে? মিহির ভাবনার মাঝেই দরজা খোলার আওয়াজ আসে। মিহি মাথা তুলে দেখলে রিকার্ডো দরজা লক করছে। মুহূর্তেই মিহির আত্মা কেঁপে ওঠে। মিহি কতটা ভয় পেয়েছে ওকে দেখলেই বোঝা যাচ্ছে।
রিকার্ডো এক পা এক পা করে মিহির কাছে এগোতে এগোতে বলে—
— কি হলো, ডার্লিং, তোমাকে দেখে এমন লাগছে কেন?
মিহি কাপা কাপা কণ্ঠে বলে—
— একদম এগোবেন না।
রিকার্ডো মিহির কথা শুনে বাকা হেসে বলে—— কেন নয়, ডার্লিং। দেখো, ভবিষ্যতে এর থেকেও বেশি ট্রাজেডির স্বীকার হতে হবে, তোমাকে তাই ভালো হবে, আজকেই তার একটু ঝলক দেখিয়ে দিই তোমাকে।
কথাগুলো বলতেই বলতেই রিকার্ডো মিহির কাছাকাছি চলে আসে। রিকার্ডো নিজে শার্ট এর বটম খুলতে খুলতে বলে—
— আজকে তোমাকে এত সুখ দেব, ডার্লিং, যাতে আমার সঙ্গে আরেক রাত কাটানোর জন্য তুমি ছটপট করো।
রিকার্ডোর নোংরা ইঙ্গিতমূলক কথায় মিহি বিছানায় ভর দিয়ে পিছাতে থাকে। মিহিকে পিছাতে দেখে রিকার্ডো মিহির পা ধরে নিজেকে কাছে নিয়ে আসে। রিকার্ডো ঝুঁকে মিহির কাছাকাছি আসতে থাকলে দরজায় কেউ নক করে ওঠে। রিকার্ডো নাকি মুখ কুচকে রাগী স্বরে বলে—
— কোন মারফার?
কিন্তু বিপরীত পাশ থেকে কোনো উত্তর আসে না। ওপর পাশ থেকে কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে
রিকার্ডো পুনরায় মিহির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হতে চায়। তখনি পুনরায় দরজায় কড়াঘাত পড়ে। এইবার অবিরামভাবে কড়াঘাত পড়তেই থাকে। রিকার্ডো বিরক্ত হয়ে দরজা খুলতে এগোয়। দরজা খুলে কিছু বলার আগে জোড়ালো এক ঘুষি পড়ে রিকার্ডোর মুখে। পরপর অবিরামভাবে একের পর এক ঘুষি পড়তেই থাকে রিকার্ডোর ওপর। কে মারছে, কেন মারছে, কিছু বুঝতে পারছে না। হঠাৎই রিকার্ডো দেয়ালে এক জোড়ালো ধাক্কা খায়। ফলে কপাল বেয়ে অজোড় ধারায় রক্ত বের হতে থাকে।
রিকার্ডো হাতড়ে পাশে থাকা ফুলদানিটা নিয়ে না দেখেই সামনে থাকা লোককে মেরে বসে। ফলে এক মুহূর্তের জন্য রিকার্ডো ছাড়া পায় লোকটার হাত থেকে। ঝাপসা চোখে সামনে তাকিয়ে দেখতে পাই ইভান অগ্নিচক্ষু নিয়ে রিকার্ডোর দিকে তাকিয়ে আছে। ইভানের নাক থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে। রিকার্ডো নিজেকে সামলাতে সামলাতে কাপা কাপা কণ্ঠে বলে
— ইভান, তু…
বাকি কথা শেষ করার আগেই ইভান রিকার্ডোর গাঢ় ধরে টেনে মিহির পায়ের কাছে নিয়ে আসে। মিহি আতঙ্কে চিৎকার করে ওঠে। ইভান হঠাৎ হুংকার দিয়ে ওঠে। ইভানকে দেখতে প্রচণ্ড ভয়ঙ্কর লাগছে। কপালের শিরাগুলো ফুলে গেছে, চোখগুলো রক্তলাল হয়ে আছে। ইভান রিকার্ডোকে মিহির পায়ের কাছে চেপে ধরে রিকার্ডো ছাড়া পেতে ছটপট করে উঠলে
‘ইভান রিকার্ডোর গাঢ় ধরে মেঝেতে ধাক্কা মেরে ফেলে এরপর ওর বুকের উপর বসে আক্রমণ করে রিকার্ডোর পাঁজরে। মটমট শব্দে হাড় ভাঙল। রিকার্ডোর চিৎ’কার পুরো ঘরে প্রতিধ্বনিত হতে থাকে। থেমে থাকে নি ইভান একের পর এক নরক যন্ত্র’ণাদা’য়ক আক্রমণ করতে লাগল। ইভানের প্রতিটি লাথি রিকার্ডোর শরীরকে মাটির গভীরে ঠেলে দিচ্ছে। র’ক্তে ভিজে গেল রিকার্ডোর শরীর। সেই র’ক্ত ছিটকে পড়ছে ঘরের চারিপাশে। ইভানের চোখে জ্বলন্ত দানবীয় ক্রোধ। নিঃশ্বাস ঘন হয়ে আসছে। প্রতিটি আঘাতে রিকার্ডোর আর্তনাদ শুনে আগের চেয়েও বেশি হিংস্র হয়ে উঠছে ইভান। রিকার্ডোর মুখে একের পর এক ঘুষি দিয়ে মুখের নকশা বদলে দিচ্ছে ইভান। নিজের ভেতর দমিয়ে রাখা হিং’স্রতা প্রতিটি আঘাতে রিকার্ডোর জীবন ধ্বংস করতে প্রস্তুত।
‘মেঝের উপর শুয়ে থাকা রিকার্ডোর পুর দেহ রক্তে রন্জিত দেহের কোন অংশ রক্তাক্ত হওয়া থেকে বাকি নেই। মুখ থেকে গলগল করে বেরিয়ে আসছে গাঢ় লাল র’ক্ত অনেক কটা দাত ও ইতিমধ্যে ভেঙে গেছে। তবুও ইভান থামে না বুকের ভেতরের আগুন এখনো নেভি নি। অস্থির হয়ে উঠেছে ইভান। বিছানায় বসা মিহি মৃগী রোগীর মতো থরথর করে কাপতে থাকে চোখ বেয়ে অজোড় ধারায় জল গড়িয়ে পড়ছে ওর দিকে এক পলক তাকিয়ে ইভান পাশে থাকা ফল কাটার ছুরিটা হস্ততন্ত হয়ে ছুটে গেল তুলতে। ছুড়িটা নিয়ে পাগলের মতো ছুটে আসে মেঝেতে পড়ে থাকা রিকার্ডোর দিকে ।
ইভানের হাত অস্বাভাবিক ভাবে কাঁপছে। হাতের শিরা উপশিরা ফুলে উঠেছে ক্রোধের বশে। দুনিয়া ধ্বংস করে দেওয়ার মতো প্রলয়ের উন্মাদনায় মেতে উঠেছে হৃদয় তার। রিকার্ডো তখনও মেঝেতে কাতরাচ্ছে, চোখমুখ দিয়ে অঝোরে র’ক্ত ঝড়ছে। ইভানের মুখে স্থান পেয়েছে পৈশাচিক হাসি। ‘রক্তের লালসায় ছটপট করছে হৃদয় তার। ভয়ংকর হাসি দিয়ে গিয়ে বসল রিকার্ডোর পেটের উপর। রিকার্ডো রক্তপাত এর কারণে কিছু দেখতে পাচ্ছে না একবার আন্দাজ ও করতে পারছে না সামনে কি অমানুষিক নির্যাতন অপেক্ষা করছে ওর জন্যে। পেটের উপর চাপের ফলে মুখ দিয়ে আর্তনাদের শব্দ বের হয় রিকার্ডোর।
ইভান খুবই ধীরস্থির ভাবে চুরিটা ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখল কয়েকবার। ভিতরে ছিল ভয়ঙ্কর অমানুষিক পরিকল্পনা মুখে লেপ্টে আছে পৈশাচিক হাসি।ইভানের প্রতিটি অআচরণ হিংস্রতার আরেকটি রূপ। ইভান শান্ত দৃষ্টিতে তাকাল মিহির পায়ের দিকে ফর্সা পায়ে পাঁচ আঙ্গুলের ছাপ স্পষ্ট। অতঃপর তুলে নিল ছুরিটি। রিকার্ডোর ছুটতে থাকা হাত দু’টো শক্ত করে চেপে ধরল ইভান। খুবই অল্প সময়ের মধ্যে বন্ধ হয়ে গেল ছটফটানি। হিংস্রতার প্রভাবে বিড়বিড়িয়ে ওঠে পৈশাচিক, জঙ্গলী আওয়াজ
এই হাত দিয়ে ধরেছিলী নাহ?
ইভান এক মুহূর্তের জন্যও ভাবল না। চোখে এক নিষ্ঠুর দহনে প্রতিশোধের আগুন জ্বলছে। ছুরিটা হাত উঁচু করে মাথার উপর তুলল। অতঃপর আঘাতের কোনোরূপ পূর্বাভাস না দিয়েই পৈশাচিক শক্তিতে ছুরিটি সজোরে ঢুকিয়ে দিল রিকার্ডোর চোখের কোটরে। একটি বিকট, বুকভাঙা করুণ চিৎকার কাঁপিয়ে তুলল চারিপাশ। আশপাশের গাছ থেকে বন্য পাখিগুলো আতঙ্কে ছুটে গেল। রিকার্ডোর শরীর থরথর করে কেঁপে উঠছে একটু পরপর। কোনোরুপ দয়ামায়া না দেখিয়ে একটানে চোখ থেকে বের করে আনল ছুরিটা পরমূহূর্তেই একভাবেই অবিলম্বে ছুরিটা ঢুকিয়ে দিল অপর চোখে মূহূর্তেই তারস্বরে চিৎকার করে উঠলো রিকার্ডো।
ইভানের মুখে প্রশান্তিময় হাসির অস্পষ্ট ঝলকানি। ঠোঁটের কোণে লুকিয়ে থাকা দানবীয় হাসি আরও স্পষ্ট হলো। ছুরিটি শক্ত হাতে চেপে ধরে শুরু করল ধীরে ধীরে নিখুঁত এক মোচড়ানি। চোখের কোটরের ভিতর থেকে ভোঁতা আর ভিজে চপচপ শব্দ শোনা গেল। হঠাৎই হেঁচকা টানে ছুরি’টি বের করে ফেলল ইভান। তবে সাথে করে মাংস, রক্ত আর ধূসর চোখের মনি নিয়েই বেরিয়ে এলো ধাতব অস্ত্রটি। তরল র’ক্ত ছুরি বেয়ে ফোঁটা ফোঁটা করে চুইয়ে চুইয়ে ইভানের হাত বেয়ে পড়ছে। ইভান চোখের সামনে মণিটি ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখছে বারবার। ইভানের চোখে কেবল এক বিজয়ী শিকারীর নিষ্ঠুর জ্বলজ্বলে দৃষ্টি। ইভান ছুরিটা হাতে নিয়ে মিহির কাছে এগিয়ে যায় মিহি ইভানকে নিজের কাছে আসতে দেখে ছটপট করে ওঠে ইভান মিহির কাছাকাছি এসে মিহির মুখোমুখি হয়ে বসে ছুরিটা সামনে ধরে ছুরির সাথে আসা রক্ত মাংস নিজের হাতে নিয়ে মিহির পায়ের পাতায় লেপ্টে দিতে থাকে যা দেখে মিহি চোখ মুখ উল্টে পেলে।
মূহূর্তেই গলগল করে বমি করে দেয় মিহি এবার ইভান রুম থেকে বেরিয়ে যায় এর কিছুক্ষণ এর মাঝেই রুমে ফেরে কিন্তু এবার ও একা আসে নি সঙ্গে করে নিয়ে এসেছে ধারালো দা । আশপাশ তোয়াক্কা না করেই তীব্রঘাতে কু’প বসালো বুকের মাঝ বরাবর। গগনবগধারী চিৎকার এ কেপে উঠল চারিপাশ গলা থেকে বের হতে লাগল হৃদয়বিধারক আর্তনাদ। ফিনকি দিয়ে রক্ত গিয়ে ছিটে পড়ল ইভানের হিংস্র মুখে। দা এর তীক্ষ্ণঘাতে হা’ড্ডি ভাঙার কর্কশ শব্দ ভাসছে চারিপাশের বাতাসে৷
কি করিলে বলো পাইবো তোমারে পর্ব ১৪
দ্বিতীয় কোপ বসালো রিকার্ডোর হাতে যেই হাত দিয়ে মিহির পা ধরেছিল ও মূহূর্তেই শরীর থেকে আলাদা হয়ে গেল হাতটি পরপর কোপ বসালো অন্যে হাতে সেটিও একইভাবে আলাদা হয়ে গেল হাতটি । সর্বশেষ কোপটি বসালো রিকার্ডোর অন্ডকোষ বরাবর মূহূর্তেই প্রাণপাখি খাচা থেকে বেরিয়ে গেল রিকার্ডোর। রিকার্ডো প্রাণত্যাগ করা মাত্র ই দা টা ঘরের এক কোণে ছুড়ে মারল ইভান। পাশ ফিরে দেখল অর্ধাঙ্গীনি কে যে এই মূহূর্তে অচেতন হয়ে পড়ে আছে বিছানায়। হঠাৎই ঘর কাপিয়ে হেসে উঠলো ইভান। হাসির তালে তার শরীর দুলছে যে কেউ এই মূহূর্তে ইভানকে দেখলে ভয় পাবে

ভাই আমারই তো বর্ননা দেখে চোখ মুখ উল্টে।যাচ্ছে 🥲
আল্লাহ রাইতে আর ঘুম আসত না