শ্যামা সুন্দরী পর্ব ৩৮
সুরভী আক্তার
ময়না তড়িতে চাইলো । চোখ দুখানা বিভৎস গোল । মুড়িয়ে রাখা হাত আপনা আপনি সোজা হয়ে গেলো ওর । ঝিনঝিন শব্দ হলো চুড়ি গুলোর ঠোকায় ।
কানে ভুল শুনেছে ও । আফতাব কেমন আগের ন্যায় গম্ভীর ভঙ্গিমায় বসে আছে । এক চুল ও নড়ে নি । মুখ নাড়িয়ে কথা বললো কি ? ময়না সন্দিহান !
ড্যাপ ড্যাপ করে চেয়ে আছে ও । নীরবতা দেখে আফতাব ধীরে ধীরে চাইলো । ময়না কে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে মুখো ভঙ্গিমায় বদল টেনে কাঠ কাঠ গলায় ধমকে উঠলো….
” কথা কানে যায় না ? শাড়িটা পড়েছো কেনো ? খোলো….
চমকালো ময়না । ধক্ করে উঠে বললো চকিতে….
” হ্যাঁ ! আম্মা পড়াই দিলো !
” খোলো এখন !
সংকিত হয়ে দাঁড়িয়ে ময়না । বুক কাঁপছে দুরুদুরু । আফতাবের সোজা দৃষ্টি ওর দিকেই । ময়নার মনে উল্টো সুর বাজলো । ও শুধালো কাঁপা গলায়…
” এই শাড়ি খান আমার লাইগা আনেন নাই ?
প্রচন্ড বিরক্ত হলো আফতাব । এমন প্রশ্নের মানে কি । ময়নার ভীত মুখখানা দেখে অধিক বিরক্তি প্রকাশ করলো না । কন্ঠ শক্ত রেখেই জবাব দিলো ক্ষীন…
” হুম !
” তাইলে খুলমু ক্যান ? আম্মা তো পড়াই দিলো… কইলো ভালো মানাইবো আমারে ।
” ভালো মানায় নাই তোমারে , এই জন্য খুলবা । খোলো….
ফের ধমক । ময়না বললো জিদ ধরে….
” ভালো মানায় নাই , তাইলে আনছেন ক্যান ?
” আমি পড়ার জন্য আনছি , আমাকে সেই মানাবে, খুলে দাও আমি পড়বো !
ময়না কপাল গুটালো । বোকার ন্যায় প্রশ্ন করলো..
” আপনে পড়বেন ?
দাঁত পিষে ঝাড়ি মারলো আফতাব…
” একটা থাপ্পর মারবো । বেশি কথা বলো ক্যান ? মাথায় ঘিলু নেই ? খুলতে বলেছি খোলো ! এখন এনে দিয়েছি বলে এখনই পড়তে হবে তোমায় ? কাল পড়বে ওটা । পড়ে বাপের বাড়িতে যাবে ।
ফের বৃহৎ হলো ময়নার অক্ষি যুগল । চিকচিক করে উঠলো খানিক । দ্বিধা কাটিয়ে এক ঝটকায় এগোলো ও …
শুধালো ব্যাগ্র হয়ে….
” বাপের বাড়ি যামু মানে ? আমগো বাড়ি যামু ?
” হু !
” সত্যিই ? কেডায় নিয়া যাইবো আমারে ?
” আমি !
খুশিতে লাফিয়ে উঠলো ময়নার হৃদয় । ছটফট করে উঠলো সে । হেসে উঠলো চোখে মুখে । শাড়ির আঁচল খানা পড়ে গেছে মাথা থেকে । ঢিলে ঢালা একটা খোপা করা চুলে , যেটা ঢিলঢিলে হয়ে কাঁধে এসে পড়েছে ।
প্রফুল্ল হৃদয় মুহুর্তেই নিস্তেজ হলো ময়নার । চিকচিক করা মুখ খানাতে আঁধার নামলো । খুশিতে ভরে ওঠা হাস্যোজ্জ্বল মুখের হাসি ফিকে হলো এক মুহুর্তেই । বুক খানা ধক্ করে উঠলো । নিস্তেজ কাতর হয়ে আসলো অক্ষি যুগল । ও আফতাবের পানে তাকালো , ধরা গলায় কেমন করে শুধালো….
” রাইখা আইবেন আমারে ? আর নিয়া আইবেন না ?
খাটে ঠেসে রাখা হাত দুখানা আলগা হলো আফতাবের । টান টান মুখশ্রী বদলালো । উত্তর করতে সময় নিলো কয়েক মুহূর্ত…
ময়না উদ্বিগ্ন হয়ে চেয়ে । ওর ব্যাকুলতা কে শিথিল করে আফতাব উত্তরে বললো…
” আসবো !
বেশি খুশি হতে পারলো না ময়না । হাসলো না আর । তবে মনের উৎকর্ষতা দূর হলো নিমিষেই । একটু ভালো লাগলো বোধহয় । আফতাব খানিক চুপ থেকে আস্তে করে বললো….
” বসো ।
বসলো না ময়না । দ্বিতীয় বার আর একই কথা ফুটলো না আফতাবের মুখে । ফের খানিক নীরবতা চললো । এই কদিনে আজ প্রথম দুজন দুজনের মুখোমুখি , পাশাপাশি । কথাও হলো আজ প্রথম । ময়না মাথা নুইয়েছে । আফতাব মুখ খুললো… প্রশ্ন করলো…
” বয়স কতো তোমার ?
ধীরে চোখ তুললো ময়না । উত্তর করতে সময় নিলো না ।
” সাড়ে ষোলো ?
ময়নার ঝট করে উত্তরে হাসি পেলো আফতাবের । তবে হাসলো না । ঠোঁটের কোণে ভিড় জমানো হাসি টুকু ঠেলে প্রশ্ন করলো…
” সামনে তো মেট্রিক পরীক্ষা ! তুমি তো পরীক্ষার্থী ?
ময়না ভাবলো । হ্যাঁ তো , সামনে তো পরীক্ষা । তাতে ওর কি ? মাথা চুলকে দায় সারা ভাবে বললো ময়না….
” হ !
” কালকে বাড়িতে যাবে , সব বই পত্র নিয়ে আসবে । এক মাস ও নেই পরীক্ষার । এই কদিন মন দিয়ে পড়াশোনা করবে , আর তারপর পরীক্ষা দেবে ।
আফতাবের কথা গুলো মোটেও পছন্দ হলো না ময়নার । চোখ মুখ কুঁচকে জড়ো করলো সে । কিছুটা বেপরোয়াভাবে বললো….
” হুসসস…আমি পড়মু ? পরীক্ষা ও দিমু ? কেডায় কইছে আপনেরে ?
” কে বলবে ? আমি বলছি , সাতাশ দিন আছে পরীক্ষার । এই কদিন ভালোমতো পড়বে ।
ময়নার অবাক হওয়ার ভঙ্গিমা বাড়লো । এই লোক আবার হঠাৎ ওর পড়াশোনায় বা হাত ঢোকাচ্ছে ক্যান ? এমনিতে তো একদিন ও কথা বলে নি । আজ তাহলে এজন্যই মুখ ফুটেছে এনার ? মুখখানা মলিন করলো ময়না । চোখ নামিয়ে গুটিসুটি মেরে দাঁড়ালো । মনমরা হয়ে বললো নিচু স্বরে….
” পড়াশোনা ভাল্লাগে না আমার , আমি পড়মু না !
” পরীক্ষার আগ পর্যন্ত পড়বে , তারপর আর পড়তে হবে না !
” আমি পড়মুই না । পরীক্ষাও দিমু না । এখন আর কি হইবো পড়াশোনা কইরা ?
” পড়াশোনার ফজিলত অনেক । পরীক্ষা তো তোমায় দিতেই হবে ।
” দিমু না , ঐ সব বিরক্তিকর কাম কাজ ভালো লাগে না আমার ।
” কি ভালো লাগে তাহলে ?
” পড়ালেখা বাদে সবকিছু ! এমনিতেও মেলা দিন থাইকা পড়ি নাই । সব পড়া ভুইলা গেছি ।
” পড়লে আবার মনে পড়বে !
” দুরু , আমি কইছি না , আমি পরীক্ষা দিমু না । পড়মু না আমি । আপনে এমনে জোর করতাছেন ক্যান আমারে ?
” তোমাকে জোর করার অধিকার রাখি আমি ।
ছ্যাত করে উঠলো ময়না । কুঁচকানো মুখশ্রী স্বাভাবিক হলো অনিমেষে । আফতাব শান্ত কন্ঠে কথাটা বলে দৃষ্টি ফিরিয়েছে । ময়না খানিক চেয়ে থাকলো । অধিক মানে খুঁজতে গেলো না কথাটার । বেশি বেশি কিছু ভাবতে চায় না ও । আফতাব ফের বললো , এবার গুরুত্বর ভঙ্গিতে….
” আমার অবাধ্যতা আমি পছন্দ করি না । যেহেতু আমার জীবনে আছো , বাধ্য হয়েই থাকতে হবে তোমায় । যদি অবাধ্য হও , তাহলে নিজের রাস্তা নিজেকে বুঝে নিতে হবে ! আর যদি মনে হয় বাধ্য হয়ে থাকবে , তাহলে প্রথম বাধ্যতা হবে পরীক্ষা দেওয়া । আগামীতে পরীক্ষা , যখন বলেছি পরীক্ষা দিতে হবে , তখন দিতেই হবে ।
ময়না চুপ হয়ে গেল । মুখ খানা শুকিয়ে গেলো আরো । এতক্ষণ কোন জোরে কথা বলছিলো কে জানে ! এখন গলার স্বর রুদ্ধ হয়ে আসলো । আফতাবের সামনে ওর যে জড়তা কাজ করে , সেটা প্রকট হলো এখন ।
মস্তিষ্কই ফাঁকা , মুখে কথা আসবে কোথা থেকে । একেবারে চুপ ময়না । আফতাব নীরবতা ভেদে উঠে দাঁড়িয়ে মুখ খুললো আবার..
” শাড়ি পাল্টে নাও , কাল দুপুরে তৈরি থাকবে । নিয়ে যাবো , কাল গিয়ে যদি থাকতে চাও, তাহলে একরাত থাকতে পারো । পরদিন আবার নিয়ে আসবো ।
বলতে বলতে ঘরের দরজার দিকে এগোলো । দরজা খোলার উদ্দেশ্যে দরজায় হাত দিতেই আধো কাতর স্বরে বলল ময়না….
” পরীক্ষা দিমু , যদি ফেল্টুস হই ? মেলা দিন থাইকা বই ছুঁইয়া দেখি নাই । পড়া বাকি মেলা ।
আফতাব থামলো । একটু ঘাড় ঘোরালো । চোখের দৃষ্টি বাঁকা করে বললো….
” এই কদিন আমি পড়াবো । আমার কাছে পড়বে । মাথা থেকে ফেল্টুস হওয়ার চিন্তা বাদ দাও । পড়াশোনা পারো না তা তো নয় । পড়লেই পারবে ।
কথা শেষ করে খট করে দরজা খুলে বেড়িয়ে গেলো । দরজা হাট হয়ে খুলতেই একটা দমকা ঠান্ডা হাওয়া লাগলো ময়নার শরীরে । শিউরে উঠলো ময়না । হাওয়ার গতির বিপরীতে বড় বড় পা ফেলে আঁধারে মিলিয়ে গেলো আফতাব । সে বোধহয় বাইরে গেলো , এখন আর ফিরবে না ।
আফতাব চোখের অগোচর হতেই ঠোঁট উল্টালো ময়না । মুখ খানা কাঁদো কাঁদো করে ধপ করে বসলো খাটের উপর । মনে মনে হা হুতাশ করলো । ঘুরে ফিরে আবার সে পড়াশোনা করবে ! কি কঠিন কাজ সেটা ! বিড়বিড় করে পড়াশোনার আবিষ্কারক কে হাজার খানিক ঝাড়লো ময়না ।
রাত এগারোটা প্রায় । সবে বাড়িতে ফিরলো সংগ্রাম । সারাটা দিন বাড়ি ফেরে নি । শ্যামা দের বাড়ি থেকে বিকেলে বেরিয়েছে । সেখান থেকে গেছিলো কোথাও । ফিরলো এখন এই রাতে । অন্দরের দরজা পেরিয়ে ভেতরে ঢুকে সোজা সিঁড়ির দিকে এগোতে গেলে পিছন থেকে ডাকলো কেউ । সালেহার কন্ঠ স্বর…
” সংগ্রাম !
থামলো সংগ্রাম । শরীর ঘুরিয়ে পিছু ফিরলো । সোফার পাশে সালেহা দাঁড়িয়ে । চোখ নিভু । ঘুমায় নি এখনো । সংগ্রাম কপাল গুটিয়ে প্রশ্ন করলো….
” তুমি ? এতো রাতে ঘুমাও নি এখনো ?
” তুই তো ফিরিস নি এতক্ষণ , ঘুমাই কি করে ? এতো দেরি হলো কেনো ফিরতে ?
সংগ্রাম শেষের প্রশ্নের উত্তর করলো না । পাল্টা শুধালো…
” আমি না আসা পর্যন্ত কখনো জেগে থাকো নি , আজ জেগে আছো যে ?
” তুই না আসা পর্যন্ত আমার জেগে থাকার প্রয়োজন হয় নি কোনদিন । আগে বালা ছিল , তার পর ঐ মেয়েটা । এখন বালা নেই । বিকেলে চলে গেছে । শুনলাম ঐ মেয়েটাকে নিয়ে ওর বাপের বাড়িতে গেছিলি । রেখে এসেছিস তো ! সাত সকালে বেরিয়ে ভরা রাত্রিতে বাড়ি ফিরছিস । খেয়াল আছে নিজের প্রতি ? বাড়িতে তোর খেয়াল রাখার আর কে আছে ?
” ঐ মেয়ে টা নয় আম্মা , বেগম ও আমার । ঐ মেয়েটা সম্বোধনে ছোট করো না ওকে !
আজ ও এক রাতের জন্য নেই বলে ঘুম হারাম করে জেগে থাকতে হচ্ছে তোমায় ! কদর বুঝলে ওর ?
সালেহা তপ্ত স্বরে মুখ ফিরিয়ে বললো….
” ওর কদর বোঝার ইচ্ছে নেই আমার । কদর তো বুঝলাম বালার , আফসোস হচ্ছে । মেয়েটা কে পরের বাড়ি না পাঠিয়ে নিজের বাড়িতে রাখতে পারলাম না । তুই কদর বুঝলি না ওর ..
” যার কদর যার বোঝার দরকার , সে ঠিকি বোঝে । আমার বেগমের কদর বুঝি আমি , তুমি না বুঝলেও চলবে ।
বেকার বেকার জেগে না থেকে ঘুমাও গিয়ে..
” খাবি না ? ভাত বাড়বো ?
” ক্ষিদে নেই….
ফের সিঁড়ির দিকে পা বাড়িয়ে গলা নামিয়ে দায় সারা জবাব দিলো সংগ্রাম । এতক্ষণ বেকার বেকার ছেলের আশায় জেগে ছিলেন সালেহা । এমনিতে রাতের খাবারের পর পর না ঘুমালে চলে না তার । আজ চলেছে, ছেলের চিন্তায় জেগে বসেছিলেন এখানে । শ্যামা থাকলে অবশ্য এটা হতো না । বালা থাকলেও জাগতে হতো না হয়তো । মেয়েটা চলে গেছে বিকেলের পর । সংগ্রাম আর শ্যামার জন্য অপেক্ষায় ছিলো । যাওয়ার আগে দেখা হয় নি ওদের সাথে ।
সংগ্রাম পুরো সিঁড়ি উঠে ঘরে না ঢোকা পর্যন্ত ওখানেই ঠায় দাঁড়িয়ে দেখলেন সালেহা । শ্যামার কথা মনে উঠতেই দাঁত কপাটি পিষলেন তিনি । দুচোক্ষে সহ্য হয় না ঐ মেয়ে টাকে । কি করেছে কি ও সংগ্রাম কে ? ঐ মেয়েটার জন্য এতোটা বদলে গেলো সংগ্রাম ?
সংগ্রামের ঘরে চাপানো দরজা । ঠেলে দরজা খুললো সংগ্রাম । চোখ তুলে সামনে তাকাতেই সর্বপ্রথম খালি বিছানা চোখে পড়লো । অমনি বিষন্ন মুখশ্রী আরো বেশি কাতর হয়ে আসলো ওর । অন্য দিন ঘরে ঢুকতেই সবার আগে বিছানার উপর গুটানো তার বেগমের ঘুমন্ত চেহারা খানা নজরে আসে , আর নয়তো নামাজে সিজদা রত তার বেগম কে নজরে আসে । তবে আজ বিপরীত । কিছুই নজরে আসলো না আজ । সবটা শূন্য । ফাঁকা পুরো ঘর । কেমন ভ্যাপসা বিষন্নতা ।
পুরো ঘরে চোখ বুলিয়ে ভেতরে ঢুকলো সংগ্রাম । মুখ ভার করে চোখ নামিয়ে সোজা গোসল খানার দিকে এগিয়ে হাত মুখ ধুয়ে বেরোলো অনেক সময় নিয়ে । মুখ মুছতে মুছতে বেরোলো । আয়নার সামনে দাঁড়ালো গিয়ে । নিজের গম্ভীর থমথমে মুখটাকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখলো । দেখতে ভালো লাগলো । হাতের গামছাটা কোথাও ছুড়ে মেরে সরলো আয়নার সামনে থেকে । বিরক্তি লাগছে । সংগ্রাম ঘুরে এসে খাটের ডান পাশে বসলো । পা তুলে আধশোয়া হলো পিছনে হেলান দিয়ে । পাশ ফিরে চাইলো একবার । নাহ , ফাঁকা ফাঁকা লাগছে কেমন ! খালি পড়ে আছে জায়গা টুকু । পিছনে মাথা এলিয়ে উপরে চাইলো সংগ্রাম । চোখ বুজে দীর্ঘ শ্বাস টানলো । কিয়ৎ কাল চোখ বুজেই রইলো । অতঃপর বিরক্তি বোধ বাড়তেই নেমে পড়লো খাট থেকে । পেছনে হাত গুটিয়ে পায়চারি করলো পুরো ঘরে । ঘুম তো দূর , চোখে স্বাভাবিক পলক ও পড়ছে না । সোফার উপর শ্যামার পড়া একটা শাল ভাঁজ করে রাখা । সংগ্রাম সেটা হাতে তুলে গায়ে জড়ালো , হাঁটতে হাঁটতে বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ালো সে । মিষ্টি হাওয়া বইছে । তবে সংগ্রামের উদ্বিগ্ন উত্তাল মনকে শীতল ঠান্ডা করতে পারলো না । সেখানেও বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে পারলো না সংগ্রাম । ছটফট করে ভেতরে আসলো ঘরের ।
ঘরে আসতেই দৃষ্টি নিচু থাকায় প্রথমে নজর পড়লো মেঝের দিকে । গলু লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়াচ্ছে । সংগ্রাম দরজার দিকে তাকালো , দরজা অর্ধেক খোলা । দরজা খোলা পেয়ে ঢুকে পড়েছে এই খরগোশ টা । বালা এটাকে নিয়ে যায় নি । আজকাল সংগ্রামের চোখে বেশি একটা পড়ে না গলু । সংগ্রাম গলুর দিকে তাকিয়ে এগিয়ে আসলো । এটা এখনো এভাবে লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়াচ্ছে ! আজ কেউ যত্ন নেওয়ার নেই এটার ? ঘুমায় ও নি এখনো । সংগ্রাম হাঁটু মুড়ে বসে গলু কে কোলে নিলো । উঠে দাঁড়িয়ে গলুর গায়ে হাত বোলাতে বোলাতে সোফায় গিয়ে বসলো । গলু ওর বাদামী অক্ষি যুগলে পিটপিট করে চেয়ে আছে । বাপের কোলের উঠেছে অনেক দিন পর । সংগ্রাম ওর গায়ে আলতো হাত বুলিয়ে দিতে দিতে অবুঝ প্রানি টার উদ্দেশ্যে বললো মোলায়েম কন্ঠে…
” কি রে বাচ্চা ? ঘুমাস নি এখনো ? এভাবে এদিক ওদিক ঘুরে বেড়াচ্ছিস যে ?
মাকে খুঁজছিস ? তোর মা বাড়িতে নেই রে । তোর নানু বাড়িতে রেখে এসেছি তাকে । মনে পড়ছে মাকে ?
কথা শেষে বিরাট শ্বাস ফেললো । আবার বললো….
” আমার ও খুব মনে পড়ছে তোর মাকে ! কেনো যে রেখে এলাম ? দেখ রেখে এসে ভুল করেছি , এখন আর ভালো লাগছে না কিছু । আমার ও যত্ন নেওয়ার মতো কেউ নেই , আর তোর ও ! তোর ও ঘুম আসছে না মাকে ছাড়া, আর আমার ও ঘুম আসছে না আমার বেগম কে ছাড়া । কে দেখবে আমাদের ?
ফের কথা শেষ হতেই গরম তপ্ত হতাশ শ্বাস পড়লো গলুর গায়ে ।
সংগ্রাম খানিক চুপ করে গলুর পানে তাকিয়ে কিছু একটা ভাবলো । ঠোঁটের কোণা কামড়ে ভাবুক ভঙ্গিতে দেখলো গলু কে । মাথায় কিছু একটা ভাবনা আসতেই তৎক্ষণাৎ হাসি ফুটলো ঠোঁটের মাঝে । ঝটপট উঠে দাঁড়ালো সংগ্রাম…
বললো এগিয়ে যেতে যেতে…
” চল তোর মা’র কাছ থেকে ঘুরে আসি । এভাবে অনুভবে তাকে রেখে লাভ নেই । চলবে না তাকে ছাড়া । বাচ্চা মানুষ , কাঁদিস না । তোর মাকে আর কোনো দিন দূরে যেতে দেবো না । বলবো তোকে একটু আদর করে দিতে… কেমন ? চল যাই ।
গটগট পা ফেলে দ্রুত ঘর ছাড়ল সংগ্রাম । অন্দর ছাড়তেও সময় লাগলো না । বাইরে এসে উঠে বসলো নিজের চার চাকা জিপে । গলু কে রাখলো নিচে । গাড়ির ইঞ্জিন চালু করতেই দারোয়ান ঘুমের মাঝে লাফিয়ে উঠলো । আচ্ছন্ন চোখে এদিক ওদিক তাকিয়ে সংগ্রাম কে দেখেই গেইট খুললো তড়িঘড়ি করে । মুহুর্তেই অন্ধকারে ধোঁয়া উঠিয়ে গাড়ি নিয়ে জমিদার গন্ডি ছাড়লো সংগ্রাম ।
মোখলেছ এখনো বাড়ি ফেরেন নি । বারোটা পেরিয়ে রাত একটার কোঠায় । অলকা জেগে থাকতে থাকতে সবে চোখ দুটো বুজে এসেছে তার । শ্যামা পাশে ঘুমিয়ে । দুই মা মেয়ে কতই না গল্প করলো আজ । দীর্ঘ দিনের জমানো কথা গুলো মুখ ফুটে বেরিয়েছে আজ ।
অলকা আর শ্যামা ব্যতিত বাড়িতে আর কেউ নেই । তিনটে ঘরের মধ্যে দুটো ঘরই ফাঁকা । অন্ধকার ঐ দুটো ঘর । শ্যামার ঘরটায় নিভু হারিকেন জ্বলছে । আলো কমিয়ে চোখ বুজেছেন অলকা । ধারনা – মোখলেছ আজ বাড়ি ফিরবেন না ।
দেউড়ির খিড়কি আটকে রশি দিয়ে বেঁধে রেখেছেন ভিতর দিক থেকে । সংগ্রাম মাধবপুরে ঢুকেই জিপের গতি কমিয়েছে । শ্বাস ফেলেছে তৃপ্ত । এখন একটু ভালো লাগছে বোধহয় । দম নিতে পারছে প্রাণ খুলে । শ্যামা দের বাড়ির সামনে গাড়ি দাঁড় করিয়ে গলু কে কোলে নিয়ে নামলো সংগ্রাম । অন্ধকার পুরো গ্রাম । বিদ্যুৎ নেই অধিকাংশ বাড়িতে । শ্যামা দের পাশের বাড়িতে আছে । সেখান থেকে এক ফালি আলো ছুটে এসে পড়েছে শ্যামা দের বাড়ির বাইরে । সংগ্রাম দেউড়ির সামনে গিয়ে থম মেরে দাঁড়ালো । ফাঁক গলিয়ে বাইরে থেকে হাত ঢুকিয়ে খোলার চেষ্টা করলো খিড়কি । তবে খুললো না । শক্ত বাঁধন উপরে । এতো রাতে কেউ জেগে আছে কিনা সন্দেহ । সন্দেহ থাকলেও একটুও ইতস্ততা নেই সংগ্রামের মাঝে । সে শব্দ করলো খিড়কিতে বাড়ি মেরে । অদ্ভুত ঠকঠক শব্দ হলো । এতো রাতে গলা তুলে ডাকলো না সংগ্রাম । বেশ কয়েক বার শব্দ করলো নিজের উপস্থিতি জানান দিতে ।
অলকা কান পাতলা । গভীর ঘুমান নি এখনো তিনি । মন খচখচ করছিল , এই বুঝি মোখলেছ এসে ডাক পাড়বে ।
খিড়কির শব্দে সদ্য ঘুম ভেঙ্গে তড়িঘড়ি করে চমকে উঠলেন অলকা । পরিস্থিতি বুঝে নিজেকে সামলে নিলেন তৎক্ষণাৎ । মোখলেছ এসেছে হয়তো । হাত বাড়িয়ে হারিকেনের আলো বাড়িয়ে দিয়ে পাশ ফিরে এক পলক ঘুমন্ত শ্যামার দিকে তাকালেন তিনি । অতঃপর অতি সন্তর্পণে খাট থেকে নামলেন । ঘর ছেড়ে বেরোলেন বাইরে । ক্ষন কাল বাদ বাদ কেউ কড়া নাড়ছে খিড়কিতে । বারান্দা থেকে নিচে নেমে ভ্রু গুটালেন অলকা । মোখলেছ আসলে চড়া গলায় হাঁক ডাক শুরু করে দেন । আজ দিচ্ছেন না যে ?
মনে সন্দেহ জাগলো অলকার । এমনিতেও রাত হলে মোখলেছ আর আসেন না । তাহলে, এখন কে আসলো ?
অলকা বিনা ভয়ে আর একটু এগিয়ে গলা তুললেন সন্দেহ কাটাতে….
” কেডায় ?
” আমি আম্মা !
সংগ্রামের শান্ত উত্তরে ধক্ করে উঠলেন অলকা । তড়িঘড়ি করে খিড়কির বাঁধন খুললেন তিনি । আবছা আলোয় সামনে সংগ্রাম কে দেখে খানিক অপ্রস্তুত ও হলেন । দ্বিধা ঠেলে বললেন….
” জামাই বাবা, তুমি ? এতো রাইতে ?
সংগ্রাম প্রথমেই অলকা কে পাশ কাটিয়ে বাড়ির ভেতরে ঢুকলো । অতঃপর উত্তর করলো সোজাসাপ্টা…
” হুম , ভালো লাগছিল না । তাই চলে আসলাম ।
থতমত খেলেন অলকা । চোখ নামিয়ে সংগ্রামের কোলের গলুর দিকে তাকালেন । এটাকে চিনতে অসুবিধা হলো না একটুও । সংগ্রাম থেমে আবার বললো….
” ঘুমিয়ে পড়েছিলেন আম্মা ? আমি বোধহয় বিরক্ত করলাম ?
” আরে না বাবা , কি কও ? বিরক্ত ক্যান করবা ? আমি তো ঘুমাই নাই এহনো ! শ্যামার আব্বা আহে নাই । জাইগাই আছিলাম হের লাইগা !
” ওও…
খিড়কি আটকে দিলেন অলকা । সংগ্রাম কে ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বললেন…
” খাঁড়ায় আছো ক্যান বাবা । ঘরে চলো….
অলকার পিছু পিছু ঘরে ঢুকলো সংগ্রাম । খাটের পাশের চেয়ারে হারিকেন জ্বলছে । ঘরে ঢুকেই হলদে কম্পিত আলোয় শ্যামার ঘুমন্ত মুখখানা দেখলো সংগ্রাম । অমনি পুরো সত্ত্বা শিথিল হয়ে আসলো ওর । নিঃশব্দে তৃপ্ত মৃদু হাসলো সংগ্রাম । অলকা শ্যামার দিকে এগিয়ে সবে ডাকতে যাবেন ওকে । তার আগেই বাঁধা দিলো সংগ্রাম ।
” থাক আম্মা , ও ঘুমাচ্ছে,ঘুমাক । ডাকার প্রয়োজন নেই ।
থেমে গেলেন অলকা । কন্ঠের ডাক কন্ঠেই গিলে নিলেন । কুন্ঠা বোধে জড়িয়ে তিনি । ইতস্তত লাগছে এভাবে । নিজেকে স্বাভাবিক করে শুধালেন অলকা….
” রাইতে খাইছো বাবা ?
না খেয়েও মিথ্যে উত্তর করলো সংগ্রাম । আবার প্রশ্ন ও করলো…
” হুম ! আপনারা খেয়েছেন ? শ্যামা খেয়েছে ?
অলকা মাথা দোলালেন । কন্ঠের রুদ্ধতা ঠেলে বললেন কোনো রকমে….
” আমি তাইলে ঘরে যাই বাবা ! রাইত হইছে মেলা !
সংগ্রামের নীরবতার মাঝে দ্রুত ঘর ত্যাগ করলেন অলকা । সংগ্রাম খানিক দাঁড়িয়ে থেকে গলুকে নিজের কোল থেকে নামিয়ে খাটের উপর রাখলো । দরজা লাগিয়ে পিছু ফিরলো । সেখানেই দাঁড়িয়ে ঘুমন্ত শ্যামা কে কপাল কুঁচকে দেখলো । পেছনে হাত গুটিয়ে মনে মনে বিড়বিড় করলো ।
” বাহ্ , মেয়ের মা তার বিটকেল স্বামীর জন্য রাত জেগে বসে আছেন । আর মেয়ে ? তার প্রেমিক স্বামী কে রেখে বিভোর হয়ে ঘুমোচ্ছে ? এদিকে তার জন্য আমার ঘুম নেই , আর তার ? কোনো মাথা ব্যাথাই নেই আমাকে নিয়ে ?
নিজের মনে খানিক অভিমান জমালো সংগ্রাম । অভিমান টুকু একপাশে ঠেলে রাখলো । কাল শ্যামা জাগলে না এই টুকু অভিমান দেখানো যাবে । আজ থাক । গলুর দিকে খেয়াল নেই আর ! বেচারা নিভু আলোয় পিটপিট করে দেখছে । মনে মনে সংগ্রাম কে স্বার্থপর ভাবছে হয়তো । সংগ্রাম ঘুরে এসে শুয়ে পড়লো শ্যামার পাশে । শ্যামার নড়চড় না দেখে মাথা একটু তুলে ওষ্ঠ বাড়িয়ে আলতো পরশ আকলো ওর কপালে । শ্যামার ঘুম যাতে না ভাঙ্গে , তাই খুব সতর্কতার সহিত ওকে নরম আবেশে আলতো করে টেনে নিজের বুকের মাঝে মেশালো , জড়িয়ে ধরলো ওকে । গুটানো শ্যামার স্থান হলো তার স্বামীর বুকের মধ্যিখানে ।
দীর্ঘ শ্বাস ফেললো সংগ্রাম । চোখ দুটো আবেশে বুজতেই শ্যামার প্রশ্নাত্মক নরম স্নিগ্ধ মৃদু স্বর কানে আসলো…
” এতো রাতে আসতে গেলেন কেনো ?
ঝট করে চোখ মেললো সংগ্রাম । মাথা তুলে নিজের বুকের মাঝে সেপ্টে থাকা শ্যামার দিকে তাকালো । হারিকেনের আলোয় শ্যামার স্বর্ণের নাক ফুলের চকচকে ঝলকানি চোখে বিধলো তাৎক্ষণিক । শ্যামা ডাগর চোখ জোড়া পুরোপুরি মেলে নিজেও মাথা উঁচু করে দৃষ্টিপাত করলো সংগ্রামের দিকে । অমনি চোখাচোখি হলো দুজনের । সংগ্রামের কপাল গুটিয়ে আসলো । সে প্রশ্ন করলো পাল্টা…
” ঘুমাও নি ?
” আপনিও তো ঘুমান নি ! এতো রাতে আসার মানে কি ? আসলেন কেনো ?
সংগ্রাম ঘন শ্বাস ফেললো শব্দ করে । তোলা মাথাটা ফের নরম বালিশে এলিয়ে দিলো । শ্যামা কে জড়িয়ে ধরা নিজের হাতের বাঁধন দৃঢ় করলো । ভিষন আদুরে গলায় বলল কেমন করে….
” তোমায় ছাড়া ঘুম আসে না, বেগম !
শ্যামা সংগ্রামের মতো করেই নিজের মাথাও সংগ্রামের বুকে এলিয়ে দিলো । সংগ্রামের কথায় হাসলো ফিক করে । খানিক শব্দ হলো । উঠলো মেয়েলি হাসির ঝংকার । সংগ্রাম হাসির শব্দে ফের চোখ খুললো । শুধালো…
” হাসছো কেনো ?
” আপনার পাগলামো দেখে । লোকে কি ভাববে ? আম্মা’ই বা কি ভাবলো ?
” কে কি ভাবে ভাবুক , আমার যায় আসে না কিছুতেই । শুধু যায় আসে তোমাতে । তোমাকে ছাড়া চলে না আমার ।
” এমন করলে,লোকে বউ পাগল ভাববে আপনাকে !
” লোকে বউ পাগল ভাবলে, আমি বউ পাগলই ! পাগলরা নিজেদের জিনিস ছাড়ে না , আমিও ছাড়বো না । আর ইসলামে বউ পাগলদের উত্তম স্বামী বলে , জানো না ?
” জানি তো , আর এটাও জানি – আপনি আমার উত্তম স্বামী !
” আর আপনি আমার উত্তম বেগম । আমার ডালিয়া….
এবার হাসলো দুজনে । শ্যামার সিঁথিতে গাঢ় চুমু এঁকে চুলের ভাঁজে আঙুল চেপে আবার শুধালো সংগ্রাম….
” এখনো ঘুমাও নি কেনো ?
” এমনি , ঘুম পেয়েছিল সবে, চোখ বুজেছিলাম , আপনার উপস্থিতিতে ঘুম উবে গেছে !
” এখন কি করা উচিত ?
” আপনার উচিত আমাকে ঘুম পাড়িয়ে দেওয়া !
” মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছি , ঘুমাও !
শ্যামা চোখ বুজলো । এদিকে গলু বেচারা ওদের পায়ের কাছে গুটিসুটি মেরে বসে । দেখছে মা বাপকে । সংগ্রামের চোখ ওদিকে যেতেই মুচকি হাসলো সংগ্রাম । ফের কথা তুললো…
” আমি কিন্তু এমনি এমনি আসি নি ! তোমার ছেলে টা কাঁদছিলো , তাই ওকে নিয়ে আসলাম ।
বন্ধ চোখ ঝট করে খুললো শ্যামা । না বুঝে প্রশ্ন সূচক নয়নে তাকালো । সংগ্রাম মৃদু হেসে চোখের ইশারায় গলুকে ইশারা করলো । নিজেদের পায়ের দিকে তাকাতেই গলু নজরে পড়লো ।
” গলু ?
” হুম ! তোমাকে খুঁজে না পেয়ে ম্যা ম্যা করে কাঁদছিল ! তাই নিয়ে আসলাম ওকে ।
শ্যামা সংগ্রামের হাত ছাড়িয়ে উঠে বসলো । গলুকে এক হাতে টেনে কোলে নিলো । বললো সংগ্রামের মতো করেই…
” তাহলে ওকে দূরে রেখেছেন ক্যান ? ও তো কাঁদছিল আমার কাছে আসার জন্য , আপনি তো কাঁদেন নি । আমার প্রয়োজন ওর , আপনার নয় !
” উহুম , তোমার প্রয়োজন আমার , ওর নয় !
” আমার কিসের প্রয়োজন আপনার ?
” আমার মনের প্রশান্তির জন্য ! তোমার নেশা বড্ড নেশা বেগম । তোমার নেশা ধরেছে আমায় । এক মুহুর্ত ও ভাবতে পারি না তোমাকে ছাড়া ! কি নেশায় জড়ালে আমায় ?
শ্যামা মুখ বাঁকিয়ে বললো…
” নেশা হারাম !
” তুমি আমার হালাল নেশা ! যে নেশার কোনো দাওয়াই নেই , একমাত্র তুমি ছাড়া …
সংগ্রাম উঠে বসে শ্যামার কোল থেকে গলু কে ওকে মাথার কাছে বসালো । আঙ্গুল তুলে বললো…
” চুপচাপ ঘুমাবি এখন !
বলেই ফের শ্যামা কে বুকে জড়িয়ে নিলো । নরম বালিশে মাথা এলিয়ে দিলো । শ্যামাকে শরীর ছাড়া, শক্ত হয়ে থাকতে দেখে চোখ বুজেই বললো…
” হলো টা কি ?
” কিছু না !
সংগ্রাম হাতের বাঁধন আলগা করলো । নরম করে জড়িয়ে ধরল । সংগ্রাম নরম আবেশে শ্যামা কে আগলে নিতেই মুচকি হাসলো শ্যামা । সংগ্রামের গলার কাছে মুখ এনে ফিসফিস করে বললো…
” আপনিও কি আমার নেশা , ছোট জমিদার সাহেব ? এতো ক্যান ভালোলাগে আপনাকে ? আপনাকে দেখতে ? আপনি আমার চোখের ও নেশা !
অতঃপর কন্ঠ আরো নিচু করে বিড়বিড় করে গাইলো…
” নিশা লাগিল রে , বাঁকা দুই নয়নে নিশা লাগিল রে…
সংগ্রাম মৃদু হাসলো । চোখ খুললো না আর । বরং নিজের বেগমের সাথে তাল মিলিয়ে চমৎকার কন্ঠে মুগ্ধতায় গাইলো সংগ্রাম নিজেও….
শ্যামা সুন্দরী পর্ব ৩৭
” সংগ্রাম রাজা শ্যামার প্রেমে মজিল রে ,
সংগ্রাম রাজা শ্যামার প্রেমে মজিল রে…
নিশা লাগিল রে , বাঁকা দুই নয়নে নিশা লাগিল রে….
সংগ্রাম থামতেই শ্যামা শুধরে দিলো সংগ্রাম কে ।
” উহুম , সংগ্রাম রাজা নয় …
আমার ছোট জমিদার সাহেব..!
