জলকাব্য || লেখিকা:সুরাইয়া আয়াত

3712

জলকাব্য পর্ব ১
লেখিকা:সুরাইয়া আয়াত

“তোমার বউ ঘুমিয়ে পড়লে , তারপর তুমি আমার ঘরে এসো,আর যত তাড়াতাড়ি পারো ওকে ডিভোর্স দাও,আর আমাকে নিজের করে নাও ৷ তুমি এখন কেমন হয়ে গেছ, দূরে দূরে থাকো সবসময় ৷ বউকে কি ভয় পাও?”
কথাগুলো রুমের পাশের সিঁড়িঘর থেকে শুনতে পাচ্ছে নীলু,আজ রাতে যে তার স্বামী কোন পরনারীর সাথে আবেগঘন মূহুর্তে লিপ্ত হবে তা বলাই বাহুল্য ৷ এতদিন সবার মুখে পরকীয়া নামক সম্পর্কটার কথা লোকের মুখে শুনেছিলো আর আজ এই পরকীয়া নামক সম্পর্কে তার স্বামী লিপ্ত ৷ 2 মাসের অন্তঃসত্ত্বা নীলু, এক সপ্তাহ হলো জানতে পেরেছে প্রেগনেন্ট আর এর মাঝেই এতোকিছু ৷ ওর নিজের এই সংসারে কোন গুরুত্ব নেই তাই বলে ওর সন্তানটাও কি কোন প্রাধান্য পাবে না ?কথাগুলো ভাবতেই চোখে জল চলে এলো ৷ ঘরে চলে গেল নীলু, আগে থেকে পরিপাটি করে বিছানা করাই ছিলো, গায়ে চাদর টেনে পাশ ফিরে শুয়ে পড়লো , আজকাল দিনগুলো এভাবেই কাটে, দুজন দুদিকে মুখ করে ঘুমায় ,ভালোবাসা নামক জিনিসটার বড্ড অভাব ৷

মিঠির এমন অকপট স্বীকারোক্তিতে রুদ্র খানিকটা নড়েচড়ে উঠলো ৷ শঙ্কিত গলায় বলল
” দেখ মিঠি বোঝার চেষ্টা করো , এখন এটা সম্ভব না ৷ নীলু জেনে গেলে কি হবে বুঝতে পারছো ?”
মিঠি রুদ্রর ঠোঁট জোড়া আঙুল দিয়ে চেপে ধরলো
” শশশশ, একটাও কথা না, এটা কি এই প্রথম বার নাকি ? এর আগেও তো কতোবার কাছে এসেছো আজকে তাহলে সমস্যা কোথায়? আমি কোন কথা শুনতে চাইনা ৷ তুমি আসবে ৷ আমি অপেক্ষায় থাকবো ৷”
কথাটা বলে রুদ্রর কোকড়ানো চুলগুলোতে আলতো করে হাত বুলিয়ে চলে গেল মিঠি ৷
রুদ্র বিড়বিড় করে বলতে লাগলো
” মহা মুশকিলে পড়া গেল তো ৷ ”

তিনদিন অগে দাড়ি শেভ করেছিলো, এই কদিনে হালকা পাতলা দাড়ি গজিয়ে গেছে আবার, দাড়িতে হাত দিয়ে চিন্তিত ভঙ্গিতে বারান্দায় পাইচারি করতে লাগলো ৷ মাঝে মাঝে রুমের পর্দা সরিয়ে দেখছে নীলু ঘুমিয়েছে কি !
” আজকে আর ঘরে ঢুকবো না, নীলু ঘুমিয়ে পড়লে তারপর না হয় মিঠির কাছে যাবো ‌৷ এই মেয়েটাও মাসে মাসে একবার এসে আমার জীবনে বিনোদন দিয়ে যাই ৷”কথাটা বলে একটু মুচকি হাসলো রুদ্র ৷
রাত3.30,,,

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

হঠাৎ বিছানায় কেউ ধপ করে শুয়ে পড়াই পুরো বিছানাটা এটু কেঁপে উঠলো সাথে নীলু নিজেও ৷ বুঝতে বাকি রইলো না যে প্রায় 2 ঘন্টা পর রুদ্র তার ঘরে ফিরেছে ৷ নীলু একবার রুদ্রর দিকে ঘুরে তাকালো, চুলগুলো অগোছালো, শরীরটাও বিষন্ন , আর গলায় কিছু নখের আচড়,নীলুর সমগ্র শরীর শিউরে উঠলো , কখনো কল্পনাও করেনি এমন কিছুর সম্মুখীন ওকে হতে হবে ৷ চোখের কোনে জল চলে এলো ,রুদ্র বড়ো বড়ো শ্বাস নিচ্ছে ৷ নীলু এতখন জেগেই ছিলো ৷ আজ রাত্রিটাকে বড্ড বড়ো বলে মনে হচ্ছে , সমগুলো যেন কাটছে না ৷
নীলু মিনমিন সুরে বলে উঠলো

” এতো রাতে কোথায় ছিলেন?”
নীলুর কথায় হুড়মুড় করে নীলুর দিকে ঘুরলো রুদ্র, নীলুর পাগল পাগল চাহনিটা রুদ্রর চোখে বিদ্যমান, এই চোখজোড়া অনেক কিছুই বলতে চাইছে আর সেই ভয়টাই রুদ্র পাচ্ছে ৷
রুদ্র একটু থতথত খেয়ে বললো
” তুমি ঘুমাওনি? আর হঠাৎ এমন প্রশ্ন করছো কেনো? আমি ওয়াশরুমে গিয়েছিলাম ৷”
হঠাৎ নীলু বলে উঠলো
” আমাকে একটু ভালোবাসবেন?”
রুদ্র কটমট করে বলল
” পাগল হলে ! এতো রাতে এসব বলছো ! সারাদিনের পরিশ্রমে আমি ক্লান্ত , তাছাড়া কালকে আমার অফিস আছে, আর তোমার শরীরের এই কন্ডিশন, তাড়াতাড়ি ঘুমাও , আর আমাকেও ঘুমাতে দাও ৷”
কথাগুলো বলে রুদ্র পুনরায় পাশ ফিরে শুয়ে পড়লো ৷ নীলু ইচ্ছা করেই রুদ্রকে কথাটা বলেছে তার মুখের ভাবভঙ্গি লক্ষ করার জন্য ৷ সময়ের সাথে মানুষের সম্পর্কগুলোও কতো বদলে যাই তেমনি রুদ্রর মাঝেও তা স্পষ্ট ৷
নীলু গায়ের চাদরটা শক্ত করে টেনে ধরলো , নিজের জন্য কষ্ট না পেলেও অনাগত বাচ্চাটার জন্য কষ্ট লাগছে ৷ তার কি এতোটা খারাপ ভবিষ্যৎ প্রাপ্য ছিলো ?

সকাল সকাল রুদ্র অফিসে যাবে, তাই নীলু রান্নঘরেই পড়ে আছে , নীলু রুম থেকে বেরোলে মিঠি ওদের বেডরুমে ঢুকেছে, তার পরেই ঘর থেকে রুদ্রর কড়া হুকুম এলো
” নীলু দু কাপ কফি দিও ৷”
মিঠি হলো রুদ্রর খানিকটা দূর সম্পর্কের কাজিন ৷ রুদ্র মায়ের কোন দূর সম্পর্কের কোন বোনের মেয়ে কিন্তু দূর সম্পর্কের হলেও যোগাযোগ ভালোই , আর সেই সূত্রেই মিঠি মাসে একবার হলেও এই বাসা থেকে ঘুরে যাই, তার এই অবাধ বিচরনের আনাগোনা নিয়ে কারোর মাঝে কোন প্রশ্ন নেই,থাকবেই বা কি করে আপনজনদের কি কখনো সন্দেহের চোখে দেখা যাই ?

নীলু গিয়ে দুই কাপ কফি দুজনকে দিয়ে এলো, কফির কাপটা মিঠির হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলল
” তুমি ঘুরতে খুব ভালোবাসো তাই না মিঠি ?”
মিঠি রুদ্রর দিকে একবার তাকিয়ে নীলুর দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ বলল
” হঠাৎ এমন প্রশ্ন করলে যে?”
” নাহ মানে এই যে প্রতি মাসে আমাদের বাসায় একবার হলেও আসো সেই জন্যই বললাম আরকি ৷ ”
মিঠি মুচকি একটা হাসি দিয়ে ব্যাপারটাকে থামানোর চেষ্টা করলো ৷
নীলু রূদ্রর উদ্দেশ্য করে বলল

” আপনি কি এক্ষুনি বেরিয়ে যাবেন নাকি মিঠির সাথে আরো কিছুখন গল্প করে তারপর ৷”
” তুমি টেবিলে নাস্তা দাও আমি আসছি ‌৷”
নীলু রুম থেকে বেরিয়ে গেল ৷ রূদ্রর টিফিনটা রেডি করে দিলো ৷ এই গুলোই ওর নিত্যদিনের একঘেয়েমি রুটিন, তবুও বিরক্ত হয়ে কাজ নেই, কেউ ওকে বুঝবে না ৷
মিঠি নাস্তা করে রুমে চলে যেতেই নীলু রুদ্রকে বলল
” মিঠি কবে বাসায় যাবে?”
রুদ্র সাবলীল ভাবেই বলল
” হঠাৎ এমন কথা !”

” নাহ আসলে আমি একটু বসায় যেতাম আরকি , আম্মু ফোন করে অনেকবার যাওয়ার কথা বলছে তো তাই ৷”
” হমম ,তা যাওনা কে বারন করেছে , তাছাড়া মিঠি তো আছেই , তুমি না আসা অবধি না হয় থাকবে এখানে ৷”
নীলু আর কোন কথা বাড়ালো না ৷ চুপচাপ রইলো ৷ বুঝলো এ সংসারে ওর গুরুত্বটা ঠিক কোথায় ৷
এভাবে এতো বিতৃষ্না নিয়ে এটা মানুষের পক্ষে কি সংসার করা সম্ভব যেখানে কোন ভালোবাসা নেই ৷
আজ নীলুর হাতে যদি কোন একটা জব থাকতো তাহলে ও ঠিকিই এই সংসার থেকে ও মুক্তি নিতো, একা বাঁচতো ওর সন্তান নিয়ে ৷
বিরাট এই ফ্ল্যাট এ নীলু আর রুদ্র একা থাকে, নীলুর শ্বশুর আর শ্বাশুড়ি তাদের গ্রামের বাড়িতে থাকেন, আর প্রতিমাসে মিঠি আসে ৷ একদিন নীচের ফ্ল্যাটের একজন নীলুকে মিঠিকে নিয়ে অবাঞ্চিত অনেক প্রশ্ন করেছিলো তাই পরবর্তীকে আর যাতে এমন পরিস্থিতি না হয় সেই কারনে নীলু এখন আর বেশি বাইরে যাই না দরকার ছাড়া , একা একাই থাকে ৷
দুপুর দু টো,,,,

নীলুর সন্দেহের চোখ থেকে বাঁচার জন্য সকালে মিঠি আর একবার গোসল করেছে ৷ মাথাটা মুছতে মুছতে কিচেনে নীলুর কাছে গেল , গিয়ে বলল
” ভাবী বলছিলাম কি আমি না আজকে রাতে বাসায় ফিরে যাবো, তাই সেই বুঝেই রান্নাটা করো নাহলে অপচয় হবে ৷”
নীলু নিরব চোখে তাকিয়ে বলল
” কেন মিঠি আর কদিন থেকে যাও না হয় তাছাড়া তুমি থাকলে রুদ্রও বেশ খুশি খুশি থাকে আমি লক্ষ করেছি ৷ ”
মিঠি এবার খানিকটা চালাকী ভঙ্গি নিয়ে বলল
” আচ্ছা ভাবী একটা প্রশ্ন করি ?”
” হমম বলো ৷”

” যদি তুমি কখনো জানতে পারো যে রুদ্র ভাইয়া তোমার সাথে সুখী নয় তাহলে তুমি কি করবে ? আর পাঁচজনের মতো ও কি ভাইয়াকে ডিভোর্স দিয়ে দেবে?”
নীলু মিঠির প্রশ্নে অবাক হলো না, ও জানতো যে এই প্রশ্নটা মিঠি একদিন না একদিন ওর দিকে ছুড়েই দেবে তাই মিঠির দিকে এবার ঘুরে বলল
” জোর করে কি কোন কিছুকে আটকে রাখা যাই বলো? তেমনি বিবাহের সম্পর্কটাও আটকে রাখা যাইনা, ওনার যদি কখনো মনে হয় যে তার আর আমাকে প্রয়োজন নেই, আমাকে সে ত্যাগ করবে তাহলে আমি চাইলেও কি তাকে আটকে রাখতে পারবো ? ”

মিঠি মুচকি হাসলো, নীলুর এই কথাতে ওর মনে একরাশ প্রশান্তি কাজ করছে , কারন ও রুদ্রকে বিয়ে করতে চাই , আর নীলুকে রুদ্রর জীবন থেকে সরাতে চাই ৷
তবে নীলু মিঠির এই কল্পনার মাঝে বলল
” তবে এখন আমার গর্ভে তার সন্তান আছে তাই ছেড়ে যাওয়া বললেই তো আর যাওয়া নয়, আমার সন্তানের ও তো একটা পিতৃ পরিচয় দরকার তাই নয় কি?”

নীলুর এমন কথা মিঠির একদম ভালো লাগলো না তবুও একটা মিথ্যা হাসি ফুটিয়ে তুলে বলল
” আরে ভাবি তুমি তো দেখছি একেবারে সরিয়াস পর্যায়ে ভেবে ফেলেছো, আমি কিন্তু সেই অর্থে বলিনি, আমি তো কেবল পরিস্থিতি বোঝাতে চেয়েছি মাত্র ৷”
নীলু আর কিছু বলল না সেভাবে ৷ চুপচাপ নিজের কাজে মন দিলো ৷ আজ মিঠির কথায় একটা আঁচ পেলো যে খুব শীঘ্রই ওর এই সংসার নামক খেলাঘর থেকে মুক্তি হতে চলেছে ৷

” করে নীলু কেমন আছিস ? আমাকে ভুলেই তো গেলি, কোন খবর নিস না আর ৷ একেবারে ভুলে গেছিস তাইনা আমাকে ৷ এটাও হয়তো ভুলে গেছিস যে শ্রাবন নামেও তোর জীবনে কেউ ছিলো যে তোকে পাগলের মতো ভালোবাসতো কিন্তু পরিস্থিতি আর বাস্তবতার জন্য সে তার নীলুপাখিকে পাইনি ৷”
“থাক না শ্রাবন ভাইয়া এসব পুরোনো কথা , আমি আর এসব ভাবতে চাইছি না , তাছাড়া তোমাকে যে কারণে ফোন করলাম সেটাই তো এখনো বলতে পারলাম না ৷”

শ্রাবন ওর কাঁধ থেকে গিটারটা রেখে তোয়ালে দিয়ে কপালের ঘামটা মুছে বলল
” হমম বল কি বলবি , আর আমার কথায় প্লিজ কিছু মনে করিস না, মজা করছিলাম, তুই তো চিনিস আমাকে ৷”
কথাটা বলে শ্রাবন ওর চোখের জলটা মুছে নিলো, নীলুও জানে শ্রাবন ওকে কতোটা ভালোবাসে কিন্তু ওর দিক থেকে তেমন কোন অনুভূতি ছিলোনা শ্রাবনের প্রতি ৷
” আচ্ছা এমন হয় না কি করা যাই না যে একটা বাচ্চার জন্মের পর তার সব ভরন পোষন তার মা ই নেবে সেই বাচ্চার প্রতি তার বাবার কোন অধিকার থাকবে না ৷”
নীলুর কথায় শ্রাবন চমকে উঠলো

” এ কেমন কথা নীলু ! আর এসব কেন বলছিস, কোন সমস্যা ?”
” নাহ ভাইয়া আমার কোন সমস্যা না, আসলে আমার একটা ফ্রেন্ড জানতে চাইলো তাই বললাম ৷”
” তোর কোন ফ্রেন্ড এর কথা বলছিস নীলু ৷”
” তুমি কি আমার সব ফ্রেন্ড দের চেনো নাকি , ওসব বাদ দাও বলো তোমার গানের কনসার্ট কেমন চলছে ?”
” ভালো যাচ্ছে না রে, তেমন কোন অফার পাচ্ছি না, মাঝপথে এসে কেন জানি না মনে হচ্ছে যে গানটা আমার জন্য না ৷”
” এসব কথা কখনো ভাববে না ভাইয়া , ওটা তোমার প্রতিভা, আর প্রতিভা কখনো খারাপ বা নষ্ট হয়ে যাই না ৷”
শ্রাবন মুচকি হাসলো, হয়তো দরকারে পড়ে নীলু ফোন করে ভালোই করেছে , ওর মনের খারাপ লাগাটাতো কমেছে !
হঠাৎ পায়ের আওয়াজ শুনে নীলু বলল
” আচ্ছা ভাইয়া আমি রাখছি, রুদ্র এসেছেন, পলে কথা হবে আল্লাহ হাফেজ ৷”
ফোন কাটার পূর্ব মুহূর্তের শ্রাবন বললো
” তুই ভালো আছিস তো নীলু ?”
নীলু মুচকি হেসে বলল
” আছি ৷ ”

কথাটা বলে ফোন কেটে দিলো ৷ বিছানা ঝাড়তে লাগলো নীলু ৷ তখনই রুদ্র এসে নীলুকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরলো ৷ নীলুর পিঠে ঠোঁট ছুইয়ে বলল
” তুমি দিনদিন কেমন গোলগাল হয়ে যাচ্ছো, শরীরের গড়নটাও আগের মতো নেই আর ৷”
নীলু ওর কাজ থামিয়ে বলল
” ছাড়ুন আমি কাজ করছি ৷ ”
” নাহ ছাড়বো না, আজকে তোমাকে অনেক ভালোবাসবো নীলু ৷”
রুদ্রর কথাটা শুনে নীলু তাচ্ছিল্যর হাসি হেসে বলল
” কেন আজ মিঠি নেই তাই আমার কাছে এসেছেন? এই গোলগাল শরীরের গঠন বুঝি আর ভালো লাগে না? আপনার সন্তান বহন করছি বলে আমার ভ্যালু নেই? গভীর রাতে নিজের বউকে ছেড়ে যখন অন্য একটা অবিবাহিত মেয়ের ঘরে যান তখন সমাজে সেটাকে ঠিক কোন ধরনের সম্পর্ক বলে বলতে পারেন?”
গলা ছেড়ে চেঁচিয়ে কথাগুলো বলল নীলু ৷ এভাবে দিনের পর দিন মানুষটা ওকে ঠকিয়ে চলেছে,আর সহ্য হচ্ছে না এসব ৷

রুদ্রর সত্যিটা নীলু সামনে এনেছে, নীলুকে থামানোর প্রয়োজন ৷ রুদ্র রেগে গিয়ে নীলুকূ এটা চড় মারলো ৷ নীলুর দূর্বল শরীর তাল সামলাতে না পেরে নীচে পড়ে গেল ৷
” তোর মতো মেয়েকে বিয়ে করাই আমার ভুল ৷”
কথাটা বলে নীলুকে উদ্দেশ্য করে থুতু ছুড়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেল ৷
নীলু ফুঁপিয়ে কাদছে ৷ এ সমাজে প্রতিবাদ করার অর্থই হলো অত্যাচার আবার কখনো বা মৃত্যু ৷

জলকাব্য পর্ব ২