পৌষপার্বণ পর্ব ১৭
Irfa Mahnaj
পুস্পছায়া বাড়িতে পূর্ণাদের দাওয়াত পড়েছে। ওরা সেখানেই আজ দুপুরের খাবার খাবে।
পূর্ণা আর বনচাঁপা ফ্রেন্ড তো হয়ই সাথে দূরসম্পর্কের আত্মীয়ও হয়। তাই সপরিবারে দাওয়াত দেওয়া হয়েছে পূর্ণাদের।
রান্না বান্না শেষ। এমনকি খাবার ডাইনিং এও দেওয়া হয়ে গেছে। এখন শুধু পালা খাবার খাওয়ার।
সবাই এসে পড়েছে। তাঁদের নিজ নিজ বরাদ্দ আসনে বসেও পড়েছে। শুধু একজন বাদে। আর সে হলো কালমেঘ।
বাহিরে গিয়েছিলো। এসেছে একটু আগে।দ্রুত ফ্রেশ হতে গিয়েছে যাতে সবার সাথে বসতে পারে।
চারদিকে শুধু চামচের টুংটাং আওয়াজ ছাড়া আর কোনো আওয়াজই নেই। কেউ কোনো কথাও বলছে না।
এতটাই নীরব পরিবেশ। এই নীরব পরিবেশটাই সহ্য হচ্ছে না পূর্ণার। হবে কি করে ওর যে ভীষণ চাপ পেয়েছে বায়ু ত্যাগের।
কিন্তু এরকম নিস্তব্ধ পরিবেশে ওর পাদের আওয়াজ বোমা বিস্ফোরনের মতো শুনাবে। সাথে লজ্জা তো আছেই।
তাই তো নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে চেপে যেতে। চেপে যেতে চাইলেও পারছে না। নাকমুখ লাল হয়ে গেছে।
ওর চেহারার করুন দশা দেখে বকুল জিজ্ঞেস করে,
— আরে পূর্ণা মা তোমার চেহারায় কি হয়েছে?
ভড়কে যায় পূর্ণা। মেকি হেসে জবাব দেয়,
— হেঃহেঃহেঃ! ওই মানে আন্টি এলার্জি প্রবলেম।
পূর্ণার কথা শুনে গন্ধরাজ বিস্মিত গলায় জিজ্ঞেস করেন,
— এলার্জি প্রবলেম!কিন্তু তুমি তো কিছু খাওইনি। খাওয়ার আগেই এলার্জি?
গন্ধরাজের কথায় পূর্ণার মস্তিস্ক কোমায় চলে গেছে। আসলেই তো খাওয়ার আগে আবার এলার্জি হয় কিভাবে?
কিন্তু কিছু একটা তো বলতে হবে। তাই যা মাথায় আসে তাই বলে দেয়,
— ওহ না মানে ঘ্রানে। হ্যা হ্যা ঘ্রানে। খাবারের ঘ্রাণ নাকে এসে লেগেছে ব্যস আমার এলার্জি হয়ে গেছে।
— এ্যা?
সকলে একসাথে বলে উঠে আর পূর্ণাও আর নিজের পাদ আটকে রাখতে পারেনা। ঠুস্ করে বেরিয়ে যায়।
তবে পূর্ণার ভাগ্য বোধহয় ওর সহায় ছিলো তাই তো যখনই ও বায়ু ত্যাগ করলো ঠিক তখনি ওর পাশের ফাঁকা চেয়ার টেনে বসলো কালমেঘ।
চেয়ারের আওয়াজের কারণে পূর্ণার পাদের আওয়াজ আর শুনতে পায়নি কেউ। শব্দের ঝামেলা মিটলেও গন্ধ!
এখন এই গন্ধর করবে কি সে? সেটাই ভাবতে ভাবতে মাথা খারাপ হয়ে যাচ্ছে পূর্ণার।
অবশেষে পূর্ণাকে আর বেশি ভাবতে হয়না। তার আগেই শুনতে পায় বকুলের গলা,
— এই ছেলে তোকে কতবার করেছিলাম না কালকে ইফতারে এতো ভাজা পড়া খাস না। তবুও খেলি এখন দেখ পরিবেশটা কিভাবে দূষণ করে দিয়েছিস।
বকুলের কথার সাথে তাল মিলিয়ে বনচাঁপা ও বলে,
— শুধু নিজের ভাগের টা না আমার ভাগের থেকেও খেয়েছিলো।
— এই ছেলে উঠো তুমি টেবিল থেকে গন্ধে বসা যাচ্ছে না।
গন্ধরাজের কথা শেষ হতেই মুখ খুলে কালমেঘ।
— আশ্চর্য কিসের গন্ধ? আর আমি বসলামই মাত্র। আগে খাবার খেয়ে তো নেই।তাছাড়া কিসের গন্ধের কথা বলছো তোমরা? আমার নাকে তো কিছুই লাগছে না।
— লাগবে কিভাবে নিজের পাদের গন্ধ কেউ নিজে পায় নাকি আবার।
মায়ের কথা শুনে বিস্মিত হয় কালমেঘ। অবাক সুরে বলে উঠে,
— পাদ!
মূলত কালমেঘের ঠান্ডা লাগায় ওর নাক বন্ধ। তাই কোনো গন্ধই নাকে যাচ্ছে না। যেহেতু কালমেঘ আসার সাথে সাথেই গন্ধ সবার নাকে লাগে।
তাই সবাই এটাই ভাবে পাদ কালমেঘই দিয়েছে। তাছাড়া পূর্ণার পাশেই কালমেঘ বসার কারণে সবাই এরকমটা ভাবতে বাধ্য হয়।
এদিকে পূর্ণা মনে মনে বলে,
— হে আল্লাহ তোমাকে লাখ লাখ শুকরিয়া আজকের মতো বাঁচিয়ে দিলে। নিয়ত অনুযায়ী যাওয়ার সময় মসজিদে পাঁচ টাকা দান করে যাবো।
পার্বণের শর্ত শুনে মানতে চায় না পৌষ। ও ভাবে এতো গুলো চুমু জীবনেও সম্ভব না।আসলে ব্যাপারটা হালকা ভাবে নিচ্ছে ও।
তাও রিস্ক নিতে আগ্রহী না পৌষ। এই বেটা পার্বণের কোনো ভরসা নেই। আপাতত কম করে এমাউন্ট বলে ওকে বাজিয়ে দেখা যাক।
যেই কথা সেই কাজ। শুকনো কাঁশি কেসে পৌষ বলে,
— আমি জানি তোর কাছে টাকা নেই। তু্ই গরিব মানুষ…
পৌষের কথার মাঝেই ফোড়ন কাটে পার্বণ। বলে,
— অর্থের দিক থেকে এই পার্বণগরিব হতে পারে কিন্তু সে তার বউ আদরের কখনোই গরিব নয়। বরংচ সবার থেকে বড়লোক।
পার্বণের পিঠে ধূপধাপ দুটো কিল বসিয়ে দেয় পৌষ। পিঠে হাত দিয়ে ডলে নাটকীয় ভাবে পার্বণ বলে উঠে,
— ওরে মা রে বাবা রে ওরে আমার ছানা রে ওরে ভাই রে ওরে খালা রে থুড়ি ওরে শাশুড়ি রে ওরে শশুর রে গেলাম গেলাম গেলাম। আমার পিঠ টা আজ শহীদ হয়ে গেলো।
— উফ! চুপ কর তোর এই ড্রামা। ড্রামাবাজ একটা।আমার কথা শেষ করতে তো দে।
— ঠিক আছে বল।
— তোর উপর কৃপা করে আমি ১০০ টাকা সালামি দাবি করছি।
— ছি তু্ই এই আমার মহান ব্যাক্তি পার্বণের বউ হয়ে এতো কম টাকা চাচ্ছিস! যাইহোক কাছে আয়।
পার্বণের কথা শুনে ভাজ পড়ে পৌষের কপালে। জিজ্ঞেস করে,
— টাকার সাথে কাছে যাওয়ার কি সম্পর্ক?
— আগে আয় তো।
ছোট ছোট চোখ করে পার্বণের দিকে তাকিয়েই এগিয়ে যায় পৌষ। পৌষ আসতে দেরি কাছে কিন্তু পার্বণের ওকে চেপে ধরতে দেরি হয়না।
— এই কি করছিস ছাড় আমায়।
— হুঁশ আমি এখন আদর করবো।
পৌষের চোয়াল চেপে ধরে ওর মুখটা নিজের কাছে নিয়ে আসে। টপাটপ ওর গালে, মুখে, থুতনিতে, কপালে, নাকের ডগায় এমনকি চোখের পাতায় ও চুমু খায় পার্বণ।
মোট কথা পৌষের চেহারার এমন কোনো জায়গা বাদ নেই যেখানে ও চুমু খায় না। পৌষের সারা মুখ ভিজে গেছে ওর চুমুর ঠেলায়।
পার্বণ মোট ৩৪ টা চুমু খায় পৌষের সারা মুখ জুড়ে। ঠোঁট বাদে। এবার মুখ ছেড়ে নিচের দিকে নেমে আসে পার্বণ।
গলার কাছে মুখ গুঁজে ভারি শ্বাস ফেলতে ফেলতে বলে উঠে,
— আজ শুধু চুমুই কোনো ব্যথা দিবো না তোকে প্রমিজ।
পার্বণের উত্তপ্ত নিশ্বাস গুলো পৌষের গলায় আছড়ে পড়ছে আর পৌষ কেঁপে উঠছে।ওর শ্বাস আটকে যাচ্ছে।
ও পার্বণের গলা জড়িয়ে ধরে।পৌষের রেসপন্স এ পার্বণের ঠোঁটে খেলে যায় এক টুকরো হাসি।
শুকনো চুমু, ভিজে চুমু বেশ কিছু সময় ঠোঁট চেপে চুমুও খায় পার্বণ। মোট কথা যত ভাবে চুমু খেতে ও জানে সব ভাবে চুমু খাচ্ছে পার্বণ।
পার্বণের প্রতিটি চুমু পৌষকে পাগল করে দিচ্ছে। ও আরেকটু শক্ত করে স্বামী নামক পুরুষটিকে আঁকড়ে ধরে।
পৌষের গলায়, ঘাড়ে লাল হয়ে গেছে। অতিরিক্ত চুমুর ফলে এটা। কথা অনুযায়ী ৫০ টা চুমু খেয়েই থামে পার্বণ।
ঠোঁটে চুমু না দেওয়ায় একটু অবাক হয় পৌষ। তবে মনে মনে খুশি হয়।
— চুমু দেওয়া শেষ না? এখন তাহলে সালামি দে।
— চুমু দেওয়া শেষ কিন্তু চুমু নেওয়া তো শেষ হয়নি।
ঠিক যেটা ভেবেছিলো সেটাই হলো। কোন দুঃখে যে সাময়িক খুশি হয়েছিল পৌষ। এখন কপাল চাপড়াচ্ছে।
— সালামি দেও।
হেমন্তের কথা শুনে আকাশ থেকে পড়লো বোধহয় বনচাঁপা। অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো,
— সালামি কেনো দিবো তোমাকে?
বিকেল হওয়ায় পার্কে এসেছিলো বনচাঁপা। এমনিই মাইন্ড ফ্রেশ করতে। কিন্তু এখানেও পিছু নেয় হেমন্ত নামের বান্দাটি।
বনচাঁপা যেখানে যেখানে যায় হেমন্তও সেখানে সেখানে হাজির। মানে ওর পিছে আঠার মতো লেগে ছিলো।
শেষে বিরক্ত হয়ে যখন হেমন্তকে জিজ্ঞেস করলো,
— সমস্যা কি? এভাবে চিপকে আছো কেনো?
অতঃপর জবাবে হেমন্ত উপরের কথাটা শুনিয়ে দেয় বনচাঁপাকে।
— তুমি না আমার বড়।
কপাল কুঁচকে গেলো বনচাঁপার। বলল,
— তো?
— জানোনা ছোটদের কে বড়দের ঈদ সালামি দিতে হয়।
— এতদিন তো বড় বললে মানতে না এখন এতো বড় বড় করছো কেনো!
— এতদিন তো বউ বউ করলে বড় বড় করতে এখন তাই আজ সালামি চাই আমার।
— আশ্চর্য এতদিন বড় যেহেতু মানোনি তাই আজ ও মানা লাগবে না।
— তাহলে মেনে নিচ্ছ তুমি আমার হবু বউ।
— এ কথা আবার আমি কখন বললাম!
— একটু আগেই তো বললে তোমায় বড় না মানতে। তাহলে তো বউই হলে। এখন বলো আমার ডিলে রাজি?
— কিসের ডিল?
— হয় সালামি দিবে না হয় আমার সাথে কমিটমেন্টে আসবে।
পার্বণ চাইবে আর ও সেটা আদায় করবে না তাও আবার হয় নাকি? হয় না। অগত্যা পৌষকে রাজি হতে হয় পার্বণেকে লিপ কিস করার জন্য।
তবে আজ একটু ভিন্ন হয়েছে কিসের ধরণ। এতদিন পার্বণ পৌষকে চেপে কিস করতো আজকে পৌষের কাজ হলো সেটা।
মানে পার্বণকে কিস করা। ও আমাদের দয়ালু পার্বণ আবার অতি দয়াশীল।কেননা একটু আগে যখন পৌষ বলেছিলো,
— এতো গুলো চুমু আমি দিতে পারবো না।
— সমস্যা নেই।
— সত্যিই!
খুশি হয়ে যায় পৌষ। তবে ওর খুশি বেশিক্ষন থাকতে পারে না। কারণ পার্বণ বলে,
— তু্ই শুধু একটা কিস করবি লিপসে। যেহেতু তোর ভাগে ৫০ টা চুমু পড়েছে তাই ৫০ মিনিট ধরে কিস করবি। তোর অসুবিধা হলে মাঝে শ্বাস নেওয়ার বিরতি দিবো নো টেনশন।
কি আর করার যেহেতু পার্বণ বলেছে কিস করতে তখন যাই হয়ে যাক কিস ও নিয়েই ছাড়বে।
ফোঁস করে একটা দম ফেলে কিস করার জন্য প্রস্তুত হয় পৌষ। ওর এমন তালবাহানা দেখে বিরক্ত গলায় পার্বণ বলে,
— আরে বাবা তু্ই যুদ্ধ করতে যাচ্ছিস না। নিজের স্বামীকে চুমু খেতে যাচ্ছিস। সিম্পল একটা লিপ কিস।
— কঁচু সিম্পল।
— ছি পৌষ তু্ই তো আমার নাক কাটাবি এতদিন ধরে চুমু খাওয়াটাই শিখাতে পারলাম না। হায়!এই মুখ আমি কাকে দেখাবো।
— হয়েছে তোর?
— হুম।
পৌষপার্বণ পর্ব ১৬
নিজের ছোট্ট দুই হাতের আজলায় পার্বণের মুখ ধরে পৌষ। তারপর চোখ বুজে আস্তে আস্তে মেয়েলি ঠোঁটটা এগিয়ে নেয় পুরুষ ঠোঁটের নিকটে।
এই তো ঠোঁট দুটো একদম ছুঁই ছুঁই। কিঞ্চিৎ ফাঁকা। মিলিত হবে ন্যানো সেকেন্ডর মাথায়।
