প্রণয়ের বিরহ পর্ব ৪

554

প্রণয়ের বিরহ পর্ব ৪
তাসনিয়া রহমান স্নিগ্ধা

বাসায় পা রাখার সাথে সাথেই তাহমিমা এসে আমাকে জড়িয়ে ধরলো ।
‘ আপুই কংগ্রাচুলেশনস্ । তুই চাকরি টা পেয়ে গেছিস আমি তো ভাবতেই পারছি না রে,কংগ্রাচুলেশনস্ এগেইন।’
বিকাল সাড়ে পাঁচটায় একটা টিউশন ছিল, ওটা শেষ করে দিয়ে সন্ধ্যা সাতটার দিকে বাসায় ফিরলাম। বাসায় পৌঁছাতে না পৌঁছাতেই তাহমিমা শুরু করলো।একের পর এক সারপ্রাইজ পেয়ে যাচ্ছি আজকে, আমি তো এখনও চাকরির খবর টা দেইনি বাসায় তাহলে ও জানলো কি করে?

‘ তোকে কে বলেছে তামু,যে আমি চাকরি পেয়েছি?’
‘ আরেহ্ আপু, একটু আগেই তো পূর্ব ভাইয়া কল করে বললো যে আমার বড় বোন উনার পি এ পোস্ট এ চাকরি পেয়ে গেছে।'(তাহমিমা)

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

আমি ভ্রু কুঁচকে তাকালাম ওর দিকে। পূর্ব টা আবার কে? ইন্টারভিউ নিলেন শাহরিয়ার চৌধুরী তূর্য, বিনা বাক্য ব্যয়ে চাকরি দিলেন উনি তাহলে এর মাঝে এই পূর্ব এলো কোথা থেকে।বেশ অবাক হলাম।
‘ পূর্ব কে রে তামু? আমাকে তো দুলাভাই চাকরি দিয়েছেন, আমি পূর্ব না পশ্চিম ওর পি এ হতে যাবো কেন?'(বেশ অবাক হয়েই বললাম আমি)

তাহমিমা আমার কথা শুনে মাথায় হাত দিল। বাসার বাইরে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলাম দু’জনে,ও আমার হাত ধরে টেনে রুমে নিয়ে গেল। দরজা টা ঠাস করে বন্ধ করে দিয়ে বললো,,
‘ তুই কি বললি? তূর্য তোকে চাকরি দিয়েছে? তুই তূর্য কে চিনিস আপু?'( তাহমিমা)

‘ কেন চিনবো না কেন? কালকে তোকে দেখে চলে যাচ্ছিলো যখন তখন উনার সাথে তো আমার দেখা হলো।সবার শেষে গেল যে ছেলেটা ও তূর্য ভাইয়া না?আর আজকে উনিই তো আমার ইন্টারভিউ নিলেন প্লাস চাকরি ও দিলেন।’ (আমি)
‘ কি?’ এইটুকু বলে তাহমিমা কিছুক্ষণ আমার দিকে স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে রইল।পরক্ষণেই পাগলের মত হাসতে শুরু করলো।হো হো করে হাসছে তো হাসছেই, হাসি আর থামছে না তার।

এমন উদ্ভট মার্কা হাসি দেখে প্রচুর বিরক্ত হয়ে গেছি আমি,বেশ জোরে শোরে ধ’ম’ক দিয়ে কিছু বলতে যাবো তার আগেই মা দরজা ধাক্কাধাক্কি শুরু করলো। আমি ওর দিকে একবার কটমট করে তাকিয়ে দরজা খুলে দিলাম। তাহমিমা অনেক কষ্টে হাসি চেপে রেখে আমার পিছনে এসে দাড়ালো।

‘ শোন তাসনিয়া,তোর ওই সবুজ শাড়ি টা আছে না, ওটা তাড়াতাড়ি পড়ে রেডি হয়ে নে।'( মা)
‘ হঠাৎ করে রাতের বেলায় আমি শাড়ি পড়বো কেন মা, আমি এখন শাড়ি পড়ে কি করবো?'( আমি অনেক টা অবাক হয়ে গেলাম )

‘ এতো প্রশ্ন করিস কেন তুই? আচ্ছা শোন, আমার ভাইয়ের শশুর বাড়ী থেকে তোকে দেখতে এসেছে মাত্রই। ছেলে নাকি বেশ ভালো, ট্রাকের ড্রাইভার। নিজের ট্রাক আছে দুইটা ভাবা যায় বল তো? তোকে ওদের পছন্দ হলে আজকেই বিয়ে করে নিয়ে যাবে। এখন আর দেরি না করে তাড়াতাড়ি সেজে বসার রুমে আয়। আমি যাই দেখি ওদের কি কি লাগবে।’
এইটুকু বলে না মা আর দাঁড়াল না, দ্রুত পায়ে হেঁটে চলে যায়।

আমি মায়ের কথা শুনে দু’পা পিছিয়ে গেলাম শকড হয়ে। নিজেকে সামলাতে না পেরে পড়ে যেতে ধরেছিলাম তাহমিমা তাড়াতাড়ি করে আমাকে ধরে বিছানায় বসালো।ওর আর আমার মুখের হাসি মুহূর্তের মধ্যে কোথায় যেন মিলিয়ে গেল। তাহমিমা কে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে শুরু করলাম আমি।

সবসময় আমার সাথেই এমন কেন হয়, ভাগ্য এতো খারাপ কেন আমার। নতুন চাকরি পেয়েছি কোথায় নিজের জীবন টা নতুন ভাবে শুরু করবো আর সেখানে কিনা মা আমার বিয়ে দেওয়ার পাঁয়তারা করছে। আবার ছেলে কি করে,ট্রাক ড্রাইভার, নিজস্ব ট্রাক আছে কি গর্বের বিষয় মায়ের কাছে।

অবশ্য এটা শুধু আমার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য মায়ের কাছে,যদি এটা তাহমিমার জন্য হতো তাহলে মা মুখের উপর এই সমন্ধ না করে দিত। কিন্তু এখন আমি তো তাই মা কোনোরকমে বাড়ি থেকে আমাকে বিদায় করে দিতে পারলে বাঁচে। কাঁদছি তখন তাহমিমা আমাকে চুপ করতে বলে আলমারি থেকে সবুজ শাড়ি টা বের করে নিয়ে এলো। শাড়িটা পড়াতে লাগলো আমাকে, আমি কিছু বলবো তখন ও আমার ঠোঁটের উপর আঙ্গুল দিয়ে চুপ করিয়ে দিল।

‘ হুশশশ্ আপু, একদম চুপ করে থাক।শাড়ি পড়ে সুন্দর করে সেজেই তুই ওদের সামনে যাবি, এরপর বাকিটা আমি দেখছি।আর তুই আমার উপর সম্পূর্ণ ভরসা রাখ, আমি থাকতে মা যত চেষ্টাই করুক না কেন এখানে তোর বিয়ে দিতে পারবে না হুম? চোখ মুছে স্বাভাবিক হয়ে নে।'(তাহমিমা)

আমি আর কোনো কথা বললাম না। তাহমিমা কি করতে চাইছে করুক আর এমনিতেও ও ছাড়া আর কেউ নেই এই বাড়িতে আমার পাশে দাঁড়ানোর জন্য। চোখ মুছে নিয়ে চুপটি করে বসে রইলাম,আর ও আমাকে সাজাতে থাকলো।

‘ দোস্ত, একটু কাজ ছিল।’
সন্ধ্যা পার হয়নি এখনও। পূর্ব নিজের রুমে বসে কফি খেতে খেতে তাসনিয়ার বায়োডাটা দেখছিল আর ভাবছিল ওর সাথে কি করে কথা বলা যাবে এখন। ফোন নাম্বার আছে ওর কাছে কিন্তু কল দেওয়ার সাহস হচ্ছিল না, তাই ওর ছবিতে জিজ্ঞেস করল ”””” ওহে কি করিলে বলো পাইব তোমারে, রাখিতে নয়নে নয়নে ”””””’ । ঠিক তখনই তূর্য ওর রুমে ঢুকল।

দরজায় দাঁড়িয়ে নক করে শান্ত কন্ঠে বলল,, ‘ দোস্ত, ভিতরে আসতে পারি কি? তোর সাথে কথা আছে আমার।’
‘ তূর্য তুই? আমার রুমে আসতে তোর পারমিশন লাগে এটা আমি আজ শুনলাম।'(পূর্ব)
তূর্য মুখ কালো করে বেডে বসে পড়ল। কিছুক্ষণ আগে তাহমিমার বলা কথাটা পূর্ব কে বলবে কিনা সেটা নিয়ে দোটানায় পড়ে রইলো কিছুক্ষণ। এরপর আস্তে করে বললো,,,

‘ তাহমিমার বড় বোন তাসনিয়ার আজকেই বিয়ে দিয়ে দিচ্ছে আমার হবু শাশুড়ি মা তাও আবার একটা বাজে ছেলের সাথে।'( তূর্য )
পূর্ব কফি মুখে তুলছিল তখন কথাটা শুনে চমকে উঠলো, মুখের সবটা কফি বেডের উপর পড়ল।

প্রণয়ের বিরহ পর্ব ৩

‘ কি বললি তুই? স্নিগ্ধার বিয়ে হয়ে যাচ্ছে আজ?'(পূর্ব)
‘ হ্যা রে। কিন্তু ও বিয়েতে রাজি না, তুই কিছু কর দোস্ত,ও তো আমার হবু বউ এর বড় বোন ‌। ওর জন্য অন্তত কিছু একটা করা উচিত আমাদের,তাই নয় কি?’ (তূর্য)

প্রণয়ের বিরহ পর্ব ৫