Home প্রাণসঞ্জীবনী প্রাণসঞ্জীবনী পর্ব ৪৯

প্রাণসঞ্জীবনী পর্ব ৪৯

প্রাণসঞ্জীবনী পর্ব ৪৯
রাত্রি মনি

অন্ধকার রজনী। ঘন জঙ্গল। চারিদিকে শুনশান নীরবতা, যা ভয়ের এক গাঢ় স্তর তৈরি করেছে। সেই নীরবতাকে চিরে দিচ্ছে কতগুলো বুটের তীক্ষ্ণ, যান্ত্রিক শব্দ। তাদের দৌড়ের গতিতে থেঁতলে যাচ্ছে পায়ের নিচের শুকনো মাটি, যেন মৃত্যু এসে কড়া নাড়ছে।

তারা একেকজন ছড়িয়ে পড়লো চারপাশে—শিকারীর মতো।
সামনেই মেইন রোড। ল্যাম্পপোস্টের মৃদু, হলুদ আলো সেই রাস্তায় আবছা আলো ছড়াচ্ছে। সেই আলোয় দেখা যাচ্ছে এক তরুণীর রক্তাক্ত, বিধ্বস্ত মুখ। দিগ্বিদিক ভুলে ছুটে যাচ্ছে সে। তার পায়ের গোড়ালি দিয়ে চুঁইয়ে পড়ছে রক্ত। সেই রক্তের লালচে পায়ের ছাপ বসে যাচ্ছে ফেলে আসা রাস্তায়। কপাল থেকেও চুঁইয়ে পড়ছে রক্তের স্রোত। হঠাৎ দৌড়ের মাঝে তীব্র যন্ত্রণায় মাথা ঘুরিয়ে উঠল তরুণীর। দৌড়ানোর শক্তি প্রায় হারিয়ে ফেলেছে সে। দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসছে। তবুও, ভেতরে সঞ্চিত শেষ সাহসটুকু নিয়ে ছুটে চলল সে।চারপাশে বিশাল বিশাল বিল্ডিং—সবকিছু কেমন ঘূর্ণায়মান। তার মনে হচ্ছে হয়তো, সময় শেষ।
হঠাৎ একটা ছায়া ফোঁস করে নড়ে উঠল। দূর থেকে ভেসে আসছে বুটের শব্দ, যা ধীরে ধীরে সামনের দিকে অগ্রসর হয়ে তীব্র থেকে তীব্রতর হতে লাগল।
তরুণীর বুকে তখন ‘ধুকধুক’ ‘ধুকধুক’ শব্দ হচ্ছে আতঙ্কে। সে নিঃশ্বাস ফেলতে ফেলতে দেওয়ালের সাথে মিশে গেল, শেষবারের মতো আড়াল খুঁজছে।

আর ঠিক তখনই,
“আ-আ-আ-আ-আ-আ-আ-হ্…….”
অন্ধকারের মধ্যে থেকে একটি রুক্ষ পুরুষালি হাত তার বাহুতে চেপে ধরল। তীব্র বেগে টেনে নিল নিজের দিকে, এক অন্ধকার কোণে। গলা ফাটানো চিৎকার। কিন্তু পুরুষটা তার মুখ চেপে ধরল শক্ত হাতে। যুবকটি তরুণীর কোমরে এক হাত রেখে কানের কাছে মুখ নিয়ে এসে গাঢ়, হাস্কি ভয়েসে ফিসফিস করল,
“শিশশশ্…… বার্বিডল!”
চমকে মাথা উঁচু করে তাকালো তরুণী। যুবকটির মুখে কালো মাক্স। শুধু চোখ দুটো মৃদু লাইটের আলোয় জ্বলজ্বল করছে। সেই চোখে চোখ রাখল তরুণী।
সেই সমুদ্রের মতো গভীর নীলাভ চোখ—সেই চেনা গভীর কামুক দৃষ্টি! চেনা পুরুষের মাতাল করা পারফিউমের ঘ্রাণ পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লো তরুণীর বুক। আর এক মুহূর্ত বিলম্ব না করে পাগলের মতো সে জড়িয়ে ধরলো সেই পুরুষটিকে।

“তুমি এসেছো? এতো দেরি কেন করলে? হা-আআহহ্… আ…আ..আআ…”
তার কণ্ঠস্বর আর্তনাদে পরিণত হলো।
যুবকটি যেন তার সমস্ত শক্তি দিয়ে নিজের বুকের সাথে আরও গভীরভাবে মিশিয়ে নিল তরুণীকে। তার হাস্কি ভয়েসে ফিসফিসিয়ে বললো,
“হুশশশশ্ ডোন্ট টক। জাস্ট হোল্ড অন টু মি….”
যুবকটি তরুণীর মাথায় আদুরে হাত বুলিয়ে দিতে লাগল। প্রিয় পুরুষের আদুরে স্পর্শ পেয়ে তরুণী টি যেন আরও আহ্লাদী হয়ে ফুঁপিয়ে উঠল।

“আরাত্র…. ও-ওরা.. ওরা আমাকে… ওরা….”
জেইন শক্ত করে রিমের মাথা উঁচু করে ধরল। তার কপালে একটা গাঢ় চুমু দিয়ে, চোখে চোখ রেখে বলল,
“চুপ, চুপ শান্ত হও। কিচ্ছু বলতে হবে না, সব জানি, সব। কাউকে, ছাড়ব না আমি। কাউকে না। All betrayals will die. মৃত্যু ঘন্টায় কড়া নেড়েছে ওরা। এবার শুধু যম আসার অপেক্ষায়।”
রিম হাউমাউ করে কেঁদে উঠল, পাগলের মতো অস্থির হয়ে জেইনকে ধরে বিলাপ করতে লাগল,
“ও-ও..ওরা মাত্তেওকে…… মাত্তেও! ওকে বাঁচাও প্লিজ। ওকে বাঁচিয়ে নাও। ওর কিছু হলে আমি, আমি নিজেকে কিভাবে ক্ষমাআ্ কর্…। ও আমার জন্য… আমার জ… মরতেহ্ যাচ্ছে….. ওকে…”
রিম শান্ত হচ্ছে না কিছুতেই। রিমের এই অস্থিরতা জেইনকে বিচলিত করলো। সে কোনো কিছু না ভেবেই এক টানে মাস্কটা খুলে ফেলল। তার শুষ্ক খয়েরী ওষ্ঠাধর দ্বারা শক্ত করে চেপে ধরল রিমের কাঁপা ঠোঁট।
মুহূর্তেই শান্ত হয়ে গেলো রিম। তার চিৎকার থেমে গেল। বুকের ধুকপুকানিও যেন ক্ষণিকের জন্য থেমে গেল। এই গভীর, চুম্বন যেন তাকে বাইরের জগতের সব ভয় আর যন্ত্রণা থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিল। সময় যেন স্থির হয়ে গেল।

রিম নিস্তেজ, নিথর দেহে মেঝেতে পড়ে আছে। আগন্তুক তার উপর সমস্ত ভার ছেড়ে দিয়েছে। রিমের সমস্ত আশার আলো তখন নিভে গেছে। ব্যর্থতা আর ঘৃণার এক শীতল স্রোত বইছে তার শিরায়। এই অপবিত্র শরীর নিয়ে সে আর কক্ষনো সেই পুরুষের মুখোমুখি হবে না—মনে মনে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললো সে। অসহায়তায় বুজে গেল চোখ। আগন্তুক তার ঘাড়ে মুখ গুজে, তার উদ্দেশ্য হাসিল করতে উদ্যত।ঠিক সেই চরম মুহূর্তে…
ধড়ম! ক্র্যাশ!
সিরামিকের বিশাল ফ্লাওয়ার ভেজটা ভয়ঙ্কর শব্দে ভেঙে পড়লো আগন্তুকের মাথার পেছনের দিকে। কাঁচের টুকরোগুলো চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে গেল, সেগুলোর উপর ছিটকে পড়লো টকটকে লাল রক্ত।
আঘাতের ধাক্কায় আগন্তুকের সবকিছু ঘূর্ণায়মান হতে লাগলো। এক মুহূর্তের জন্য বিস্ময়ে স্থির হয়ে গেল সে। হাত ধীরে ধীরে চলে গেল মাথার পেছনে, স্পর্শ করলো সেই উষ্ণ, সান্দ্র তরল। চোখের সামনে এনে ধরতেই – গাঢ়, টকটকে খয়েরী রক্ত!

তার ঠিক পেছনে, দেয়ালের সাথে হেলান দিয়ে, ঝুঁকে দাঁড়িয়ে আছে মাত্তেও। তার নিজের মাথা থেকে তখনো অবিরাম রক্ত ঝরছে, ফ্লোরে পা রাখতে পারছে না সে। চারপাশের সবকিছু তার কাছে কুয়াশাচ্ছন্ন, ঘূর্ণায়মান মনে হচ্ছে। তার চোখের পাতা কাঁপছে, হয়তো এক্ষুনি জ্ঞান হারাবে। তবুও মনে ছিল এক উন্মত্ত জেদ।
আগন্তুক ধীর গতিতে পেছন দিকে ঘুরে তাকালো। তার চোখে যেন দাবানলের আগুন জ্বলছে। তার চাহনি পিশাচের মতো ধারালো, যেন দৃষ্টি দিয়েই মাত্তেওকে পুড়িয়ে ছাই করে দিতে চাইছে। আগন্তুকের হাতের বাঁধন আলগা হতেই, রিম নিজেকে গুটিয়ে, বিদ্যুৎবেগে উঠে দাঁড়ালো। তার কপাল বেয়েও রক্ত গড়িয়ে পড়ছে। সে একবার উন্মত্তের মতো আশেপাশে তাকালো, তারপর কোণে পড়ে থাকা একটি ভারি হকিস্টিক হাতে তুলে নিল। রাগে জ্বলে, নিজের শরীরের সমস্ত শক্তি, সমস্ত জমে থাকা ক্রোধ একত্রিত করে সে হিংস্রভাবে একের পর এক আঘাত হানতে লাগলো আগন্তুকের শরীরে।
ধাঁই! ধাপ!!

কাঁধ, পাঁজর, পিঠ—অন্ধের মতো আঘাত করে চলেছে রিম। আঘাতে আঘাতে লোকটার শরীর রক্ত জমে নীলচে, বীভৎস হয়ে উঠেছে। রিম থামছে না কিছুতেই। নিজের ভেতরে জমে থাকা সমস্ত নরক যন্ত্রণা সে উগরে দিচ্ছে লোকটার শরীরে। ব্যথায় আগন্তুকের চোখ কুঁচকে যাচ্ছে, মুখ দিয়ে কেবল গলা আটকানো গোঙানির শব্দ বেরোচ্ছে। রিমের হাত যখন পরবর্তী আঘাতের জন্য প্রস্তুত, আচমকা আগন্তুক বিশ্রী হেসে, অবিশ্বাস্য শক্তিতে চেপে ধরলো হকিস্টিকের মাথা। রিমের বুক ধুকধুক করছে। সেই হাসিতে তার আত্মার পানি শুকিয়ে এলো। লোকটার হাতের বাঁধন ইস্পাতের মতো শক্ত।এক ঝটকায় আগন্তুক হকিস্টিক টেনে নিয়ে দূরে ছুঁড়ে ফেলে, উঠে দাঁড়ালো। রক্ত ঝরছে তার মাথা থেকে, তার পোশাকে রক্তে মাখামাখি। তার মুখে ফুটে উঠলো এক, ভয়ংকর পৈশাচিক হাসি। কণ্ঠস্বর বরফের মতো ঠান্ডা, কিন্তু ভেতরে চাপা আছে এক উন্মত্ত লোলুপতা।
“ওহ্ লিটল এঞ্জেল! সো… সুইইট অফ ইউ! এতো সফট কেন তুমি বলো তো? কিন্তু… হটনেস আছে… এতো ভোল্টেজ! উপস!…”

সে আহত শরীরেও একটু সামনে এগিয়ে এলো, চোখের সেই পিশাচের দৃষ্টিতে রিমকে গিলে খাচ্ছে। বুকে হাত রেখে নাটকীয় ভঙ্গিতে বলল,
“আউচ্ বুক জ্বলে যাচ্ছে… তোমার এই রূপে। এই ঝাঁঝ, এই আগুন… আমাকে আরও বেশি পাগল করে তোমার জন্য। জাস্ট দিওয়ানা হয়ে যাচ্ছি! তুমি আমাকে মারতে চাও, তাই তো? কাম, কাম ক্লোজার,আরেকবার চেষ্টা করো, কাম বেবি কিলার!”
আগন্তুকের সেই ভয়ঙ্কর, বীভৎস হাসি! ঘৃণায় রিমের শরীর শিউরে উঠলো। রিম ধীরে ধীরে পিছিয়ে গেলে আগন্তুক রিমের কব্জিটা শক্ত করে চেপে ধরলো। সেই চাপ এতটাই তীব্র ছিল যে রিম যন্ত্রণায় মুখ বিকৃত করে হাত মোচড়াতে লাগলো। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে রিমের হাতের কব্জি লালচে হয়ে উঠলো।
অন্যদিকে, মাত্তেও তখনো দেয়ালে ভর করে নিজেকে কোনোভাবে ধরে রেখেছে। সে চলতে পারছে না, বারবার মাথা ঘুরে পড়ে যেতে নিচ্ছে। পা লড়খড়িয়ে যাচ্ছে। তবুও সে রিমকে বাঁচানোর শেষ চেষ্টা করতে দেয়ালে ভর করেই ধীরে ধীরে,সে সেই হকিস্টিকটা হাতে তুলে নিলো।নিজের শরীরের সমস্ত অবশিষ্ট শক্তি একত্র করে হকিস্টিকটা দিয়ে আবারও আগন্তুকের মাথায়, ঠিক প্রথম আঘাতের সেই ক্ষতস্থানে সজোরে আঘাত করলো।
ক্র্যাক!

ফুটবলের মতো ঘূর্ণি খেল আগন্তুকের মাথা। রক্ত ছিটকিয়ে, ছড়িয়ে পড়লো করিডোরে। দু’বার একই জায়গায় প্রচণ্ড চোট পেয়ে আগন্তুকের চোখের সামনে অন্ধকার হয়ে গেল চারপাশের সবকিছু। একটা প্রচণ্ড ঝাঁকুনি দিলো উঠলো মাথায়। রিমকে ছেড়ে দিয়ে সে মুহূর্তের জন্য টালমাটাল হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।
ঠিক সেই সময়, সমস্ত গার্ড মাত্তেওকে খুঁজতে খুঁজতে সিঁড়ি দিয়ে করিডোরে এসে পড়েছে। মাত্তেও দেরি করলো না রিমকে ধাক্কা দিলো লিফটের দিকে। মাত্তেও দ্রুত লিফটের বাটনে হাত রাখতে যাবে, ঠিক তখনই গার্ডরা টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে একের পর এক আঘাত করতে থাকে তার শরীরে। অন্যদিকে একজন গার্ড পিশাচশুলভ হেসে ধীরে ধীরে এগিয়ে আসতে লাগলো রিমের দিকে।রিম যেন শকট, স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। তার কোনো নড়াচড়া নেই। শরীর যেন জমে গেছে। তার দৃষ্টি শূন্য, ফ্যাকাশে।
মাত্তেও আঘাতের যন্ত্রণায় বিকৃত স্বরে চিৎকার করে উঠলো। আঘাতে আঘাতে তার শরীর কুঁচকে যাচ্ছে। রক্ত ছিটকে পড়ছে তার শরীর থেকে। শেষবারের মতো, মাত্তেও তার জীবনের শেষ শক্তি দিয়ে, আর্তনাদের মতো চিৎকার করে উঠলো,

“ভাবী… পালালললন! পালান এখান থেকে ভাবীইইই! জলদি… লিফটের বাটন চাপুনন! পালিয়ে যান ভাবী… তাড়াতা…”
তার চিৎকারে যেন হুঁশ ফিরে এলো রিমের। তার দিকে তখনো এগিয়ে আসছে সেই গার্ডের লোলুপ, হিংস্র হাসি। অন্যদিকে মাত্তেওর ক্ষতবিক্ষত, ছিন্নভিন্ন দেহ। রিম কি করবে, কোনো দিশা খুঁজে পাচ্ছে না। সে কান্নায় ভেঙে পড়ে আর্তনাদ করে উঠলো,
“না! আমি যাবো না! আমি তোমাকে এভাবে, একা, বিপদে ফেলে যেতে পারবো না মাত্তেও!”
“ভাবী! আপনাকে যেতেই হবে ভাবী! পালান এখান থেকে! আপনাকে ভাইয়ের দোহাই লাগে! ভাইয়ের জন্য, ভাইয়ের জন্য পালাতে হবে আপনাকে! ভুলে যাবেন না, আপনি ভাইকে কথা দিয়েছিলেন! আমি আপনার কাছে হাত জোড় করছি ভাবী… পালান আপনি!”

মাত্তেওর সেই করুণ, আত্মত্যাগী আর্তি শুনে রিম কান্নায় আরো ভেঙে পড়লো। চোখের জল ফেলতে ফেলতে কাঁপা কাঁপা হাতে লিফটের বাটন চাপতে নিল। ততক্ষণে গার্ড লিফটের একদম কাছাকাছি চলে এসেছে। আতঙ্ক তাকে গ্রাস করলো। সে লিফটের বাটন প্রেস করলো—কিন্তু লিফট চালু হচ্ছে না কিছুতেই।
বিষয়টা যেন ভীষণ উপভোগ্য সামনে অগ্ৰসর হতে থাকা গার্ডের কাছে। তার মুখে সেই কুৎসিত হাসি আরও চওড়া হলো। সে হাত বাড়ালো রিমের দিকে—তার হাত রিমের শরীর ছুঁতে প্রায় প্রস্তুত।
রিম তখনো কাঁপছে। নিজেকে বাঁচাতে সে কী করবে বুঝতে না পেরে, পাগলের মতো বারবার লিফটের বাটন টিপতে থাকলো।

“আআ্আ্আ্আআআ্!!!”
হঠাৎ, একটি যন্ত্রণাময়, বিষাক্ত চিৎকার করিডোরের নিস্তব্ধতা ভেঙে দিলো।
রিম আতঙ্কে চোখ তুলে দেখলো, লিফটের দরজা বন্ধ হচ্ছে দ্রুত গতিতে। আর সেই গার্ডের হাতটা! রক্তাক্ত অবস্থায় লিফটের আটকে ঝুলে রয়েছে দরজার ঠিক মাঝখানে।লিফটের দরজা গার্ডের হাতটাকেই দ্বিখণ্ডিত করে দিয়েছে। ঝুলে থাকা কাটা হাত আর গড়িয়ে পড়া তাজা রক্তে রিমের মাথা চক্কর দিয়ে উঠলো। হাত পা বরফের মতো ঠান্ডা।
হঠাৎ একজন গার্ড চিৎকার করে উঠল,
“ঐ ধর ও’কে। পালিয়ে যাচ্ছে।”
চিৎকার শুনে বাকি গার্ডরা সব মাত্তেওকে ছেড়ে ছুট লাগালো সিঁড়ির দিকে।

রিম যখন করিডোরে সেই আগন্তুকের বাহু বন্ধনে আবদ্ধ। তখন মাত্তেওকে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে আসা হয়েছিল এক অন্ধকার, স্যাঁতস্যাঁতে গুদাম ঘরে। সে তখন মেঝেতে উপুড় হয়ে পড়ে ছিল, হাত-পা দড়ি দিয়ে শক্ত করে বাঁধা। তার মাথা থেকে অবিরাম তাজা রক্ত চুঁইয়ে পড়ছিল, সেই রক্তের ধারা গড়িয়ে মেঝেতে জমাট বাঁধছে। আঘাতে তার চোখের পাতা বন্ধ হয়ে আসছে, চেতনা প্রায় বিলীন।
হঠাৎ, তার নিস্তেজ কানে ভেসে আসে এক গভীর, গুরুগম্ভীর কণ্ঠস্বর: ‘ভাবীর খেয়াল রাখিস। ওকে দেখে রাখার গুরুদায়িত্বটা তোকেই দিলাম আমি। আই ট্রাস্ট ইউ, ব্রাদার।’
মুহূর্তের মধ্যে যেন মাত্তেওর শরীরে নতুন বিদ্যুৎপ্রবাহ এলো। সেই বিশ্বাস, সেই শব্দগুলো তার মরে যাওয়া চেতনাকে এক ঝটকায় জাগিয়ে তুললো।সে দ্রুত চোখ খুলে তাকালো। দৃষ্টি তখনো ঝাপসা, কিন্তু সে তীক্ষ্ণভাবে লক্ষ্য করতে লাগলো। চারপাশের গার্ডরা বসে আছে; কেউ সিগারেট ফুঁকছে, কেউ কার্ড খেলছে, কেউ কেবল হাসি-তামাশায় মত্ত—তাদের চোখে নেই কোনো নজরদারি। হঠাৎ, তার পিঠের কাছে কারো হাতের বরফের মতো ঠাণ্ডা স্পর্শ অনুভব করলো সে।
কেউ একজন খুব সাবধানে তার বাঁধনগুলো খুলে দিচ্ছে! মাত্তেও চমকে উঠলো, দ্রুত পেছনে তাকাতেই দেখলো সেই পরিচিত মুখ—ডাক্তার! রিমের চিকিৎসক!
ডাক্তার ইশারায় তাকে চুপ থাকতে বললো। তারপর প্রায় না শোনা যায় এমন ফিসফিসানো স্বরে বললো,
“এবার আমাকে তোমার জায়গায় বাঁধো। তারপর ম্যামের কাছে যাও। এই মুহূর্তে উনার তোমাকে প্রয়োজন। ডু ইট, ফার্স্ট!”

মাত্তেওর চোখ বিস্ফারিত হলো। তার কন্ঠস্বর কাঁপছে,
“আ-আপনি… আপনি এখানে কিভাবে এলেন? আর কেনই বা…”
ডাক্তার তার কাঁধে আলতো চাপ দিলেন। তার কন্ঠস্বরে কেবল জরুরী তাগিদ,
“এটা এখন প্রশ্ন করার সময় নয়। আমি যা বলছি, তাই করো। সময় কম।”ষ
জেইনের প্রতি মাত্তেওর আনুগত্য আর রিমের প্রতি তার দায়িত্ববোধ তখন তার সব দ্বিধা ছাপিয়ে গেল। কাঁপতে কাঁপতে, রক্ত ঝরা মাথায়, কোনোমতে সে উঠে বসলো। দ্রুত হাতে ডাক্তারকে শক্ত দড়ি দিয়ে পেঁচিয়ে, মেঝেতে শুইয়ে দিলো। একই কায়দায়!

কাজ শেষ করেই, মাত্তেও পেছনের অন্ধকার দরজা দিয়ে গুদাম ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। তার মাথা চক্কর বারবার দিচ্ছে, কিন্তু ভাইকে দেয়া কথা রাখতে মনে জোর সৃষ্টি করে এগিয়ে চললো।
মাত্তেও বেরিয়ে যাওয়ার মিনিটখানেক পরেই, এক গার্ড আরাম করতে গিয়ে মাত্তেওর জায়গায় ডাক্তারকে বাঁধা অবস্থায় দেখে চমকে উঠলো। তার মুখ কুঁচকে গেল।
“এই তুই কে? এখানে কিভাবে এলি? আর ওটা কোথায় গেল?”
গার্ডটা পেছনের দড়জায় তাকিয়ে দেখলো মৃদু দোল খাচ্ছে।
সে চিৎকার করে উঠলো,
“এই! সবাই ধর ওকে! ও পালিয়ে গেছে! ও কে ধরতে হবে। ”

লিফট থেকে বেরিয়েই নিজেকে ম্যানশনের ভূগর্ভস্থ বেইজমেন্টে আবিষ্কার করলো রিম। করিডোরের আলো এখানে পৌঁছায় না; কেবল কয়েকটি জরুরি বাতি জ্বলছে। সামনে সাজানো সারি সারি গাড়ি। সেখান থেকে একটা বিশাল কালো এসইউভি গাড়ির পেছনে হাঁটু গেঁড়ে লুকিয়ে আছে রিম। কপালে ঘাম আর রক্ত মিলেমিশে একাকার। আতঙ্কে বুক কাঁপছে।
উপরে ঘটে যাওয়া ঘটনার পর সিঁড়ি বেয়ে সমস্ত গার্ড নিচে নেমে এসেছে। তাদের বুটের শব্দ বেইজমেন্টের নিস্তব্ধতাকে চুরমার করে দিচ্ছে। তীক্ষ্ণ চোখে চারপাশ তন্ন তন্ন করে খুঁজছে তারা।
সম্মান হারানোর তীব্র আতঙ্ক রিমের বুক চিরে যেন চিৎকার হয়ে বেরিয়ে আসতে চাইছিল। চোখের সামনে ভেসে উঠলো জেইনের মুখ, তার প্রতি করা প্রতিশ্রুতি।সে শব্দ করে ফুঁপিয়ে উঠলো।
‘ফিস ফিস!

সেই চাপা কান্নার শব্দ কান খাড়া করে তুললো একজন গার্ডের। সে সতর্ক হয়ে ধীরে ধীরে, খুব সাবধানে গাড়ির সারির দিকে এগিয়ে আসতে লাগলো। রিম দু’হাতে নিজের মুখ চেপে ধরলো, যেন তার কান্নার সামান্যতম শব্দও কেউ শুনতে না পায়। তার শ্বাস-প্রশ্বাস তখন অস্বাভাবিক দ্রুতগতির, প্রায় দম বন্ধ হয়ে আসার উপক্রম। রিম সামনে তাকাতেই; ‘ধপাস’
ভড়কে গিয়ে কয়েক কদম পিছিয়ে পড়ে গেল মেঝেতে।
তার ঠিক সামনেই, গাড়ির হেডলাইট প্রতিফলিত হয়ে এক ভূতের মতো ভয়ংকর হাসি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে; সেই আগন্তুক। মাথা থেকে রক্ত ঝরছে, যা তার গাঢ় পোশাককে আরও গাঢ় করে তুলেছে। তার বাঁ-চোখ তখন পুরোপুরি বন্ধ, ফুলে উঠেছে কালশিটে পড়ে।
রিমের কলিজায় পানি শুকিয়ে গেল। পেছনে দেয়াল আর সামনে আগন্তুক! মাঝে ফাঁদে পড়া এক নিরীহ শিকার সে। সামনে সেই মৃত্যুর প্রতীক ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে। রিমের শ্বাস আটকে গেল; এবার বুঝি আর শেষ রক্ষা হলো না। সে শুষ্ক ঢোক গিলে, নিজেকে গুটিয়ে পিছিয়ে গেল। আতঙ্কে বুকের কাঁপন বেড়েই চলেছে। লোকটা তার একেবারে কাছে চলে এসেছে। তার মুখ থেকে আসছে উন্মত্ত, গরম নিশ্বাস।

হঠাৎ—ক্র্যাক!
রিম দেখলো, একটা ভারী লোহার শাবল তার পায়ের ঠিক পাশে পড়ে রয়েছে। সে আর কোনো কিছু না ভেবে বিদ্যুৎ-গতিতে শাবলটি তুলে নিলো হাতে।মুহূর্তে যেন ধারন করলো বাঘিনী রূপ। আত্মরক্ষার সমস্ত শক্তি একত্র করে সে হিংস্রভাবে আঘাত করলো লোকটার পেটে! ধড়ম!
আঘাতে লোকটা গোঙিয়ে উঠলো, মেঝেতে লুটিয়ে পড়লো। রিম এক মুহূর্তও দেরি করলো না। শাবল ফেলে এক উন্মত্ত ছুট লাগালো বাইরে মেইন ডোরের দিকে!
আগন্তুক যন্ত্রণায় কাতরাতে কাতরাতে হাত বাড়ালো। মেঝেতে লুটিয়ে থাকা শাবলটা তুলে নিয়ে ছুঁড়ে ফেললো রিমের পায়ের দিকে।
ঠাস!
শাবলটি সজোরে রিমের গোড়ালিতে আঘাত হানলো। সামনে মুখ থুবড়ে পড়লো রিম। পায়ে অনুভব হলো তীব্র জ্বালা। গোড়ালি দিয়ে উষ্ণ রক্ত ঝরছে।
আগন্তুক আহত অবস্থায় গর্জন করে উঠলো,
“Boys, catch her! ও যেন পালাতে পারে না কিছুতেই! যেকোনো ভাবেই হোক ওকে জীবিত চাই আমার! Run!”

গার্ডরা তার দিকে দৌড়ে আসতেই, রিম যন্ত্রণা উপেক্ষা করে, হুড়মুড়িয়ে উঠে দাঁড়ালো। তার পা যেন অবশ হয়ে আসছে। তবু সে খোঁড়াতে খোঁড়াতে দৌড় লাগালো বাইরে! বাইরে অন্ধকার, জমাট বাঁধা রাত। ম্যানশনের আলো ছাড়িয়ে এলে ঘন জঙ্গল। রিম দিক-বিদিক ভুলে সেই অন্ধকারের মধ্যে ছুট লাগাচ্ছে।
তার পায়ে অসহ্য ব্যথা। ঘন ঝোপঝাড়ে বারবার হোঁচট খেয়ে পড়ে যাচ্ছিল সে। কাঁটা আর লতা-পাতা তার পোশাক ছিঁড়ে দিচ্ছে। তার ঠিক পেছনেই, গার্ডদের ভারী পায়ের শব্দ ক্রমশ কাছে আসছে।
তবুও সে থামছে না। তার কানে তখন শুধু ভাসছিল সেই আদুরে, চাপা কন্ঠস্বর,
“নিজের খেয়াল রাখবে, আমার জন্য। কথা দাও, নিজেকে সুরক্ষিত রাখবে।”
যতবার সেই কণ্ঠস্বর তার কানে ভেসে ওঠে, ততবার তার চোখে কান্নার বাঁধ ভেঙে যায়। সে কাঁদতে কাঁদতে, খোঁড়াতে খোঁড়াতে ছুটতে লাগলো—তাকে বাঁচতে হবে, নিজেকে সুরক্ষিত রাখবে হবে; শুধুমাত্র তার আরাত্রর জন্য।

জেইন নিজের ওষ্ঠ দ্বারা শক্ত করে আঁকড়ে ধরে রেখেছে রিমের ওষ্ঠ।
চারিদিকে তখনো শিকারীর বুটের তীক্ষ্ণ শব্দ; কিন্তু জেইন আর রিম যেন সেই মুহূর্তের জন্য এক অন্য জগতে—এক উষ্ণ, একান্ত কোণে আশ্রয় নিয়েছে।সেই চুম্বন গভীর থেকে গভীর হচ্ছিল। রিমও তার স্পর্শে সম্পূর্ণরূপে সাড়া দিচ্ছে। সে জেইনকে এমন শক্তভাবে জড়িয়ে রেখেছে যেন ছেড়ে দিলেই এই মানুষটা মায়াজালের মতো মিলিয়ে যাবে। তার তীব্র আকাঙ্ক্ষা যেন এই মানুষটাকে নিজের দেহের সাথে পুরোপুরি মিশিয়ে নিবে।
তাদের দুজনের কেউই ছাড়ছে না একে অপরের ঠোঁট। গভীর ভাবে টেনে নিচ্ছে সেই আকাঙ্ক্ষিত মধু—যেন শত জনমের তৃষ্ণা জমে আছে আজ এই এক মুহূর্তে। তাদের এই মিলন ছিল আগুনের বিপরীতে এক শান্ত জলাধার, ক্ষণিকের জন্য হলেও যা বাইরের জগৎকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।

হঠাৎ, সেই বুটের তীক্ষ্ণ শব্দ রিমের মাথায় আঘাত করে। বাস্তবতার হিমশীতল স্পর্শে রিম চমকে ওঠে। আতঙ্ক তাকে গ্রাস করে,সে শক্ত করে টেনে ধরে জেইনের চুলে। জেইন শব্দ করে ঠোঁটে শক্ত একটা চুমু খেয়ে তাকে ছেড়ে দেয়।
দেয়ালের ঠিক পাশেই এখন গার্ডগুলো। তাদের সতর্ক, ধীর পদক্ষেপের শব্দ ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। রিম অস্থির হয়ে উঠল, ছটফট করতে লাগলো। তার কণ্ঠস্বর তখন আতঙ্কে অস্থির ও হাঁপিয়ে ওঠা,
“ওরাহ্… ও-ওও.. ওরা এসে গেছে। ওরা আমাকে নিয়ে যাবে। তোমার কাছ থেকে দূরে নিয়ে যাবে। আমি যাবো না, যাবো না ও..ওদের কাছে। তোমাকে ছেড়ে যাবো না। আমাকেহ্… আমাকে যেতে দিও না।”
রিমের অস্থিরতা তার পাগলামী জেইনকে আরও বেশি বিচলিত করে তুললো। রিমকে শান্ত করতে সে রিমের দু’গালে শক্ত করে চেপে ধরে তাকে নিজের চোখের দিকে তাকাতে বাধ্য করে।
“হুশশশ্, কিচ্ছু হবে না। কেউ নিয়ে যেতে পারবে না তোমাকে আমার কাছ থেকে। একমাত্র সৃষ্টিকর্তা ছাড়া আর কারো সাধ্য নেই তোমাকে আমার কাছ থেকে দূরে সরানোর। প্রয়োজনে সেই সৃষ্টিকর্তার কাছ থেকেও চেয়ে আনবো তোমায়।”

রিম শব্দ করে ফুঁপিয়ে উঠল। জেইন তাকে নিজের বুকের সাথে গভীরভাবে জড়িয়ে ধরল।
“আ..আ-আ-হা-হাহাহা…আআ্আ্আ্… তুমি-তুমি জানো আমি খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম আর কোনোদিন হয়তো তোমাকে দেখতে পাবো না। আমি.. আমি তোমাকে…. আমি….”
রিম-এর কথাগুলো আবেগের তীব্রতায় অস্পষ্ট হয়ে আসছিল। জেইন তার পিঠে আলতো করে হাত বুলিয়ে দিতে লাগল, যেন তার সব ভয় শুষে নিচ্ছে তার স্পর্শ।
“চুওওপ। একদম চুপ। কোনো কথা নয়। আর কিচ্ছু হবে না। এইতো, আমি আছি তোমার সাথে।… এখন আর কেউ কিচ্ছু করতে পারবে না। কেউ আলাদা করতে পারবে না তোমাকে আমার কাছ থেকে… কেউ না।”
তার আদুরে স্পর্শে রিম ধীরে ধীরে শান্ত হয়ে এলো। জেইন রিমকে নিয়ে ধীরে ধীরে সতর্কভাবে পদক্ষেপ ফেলে সামনে এগোতে লাগলো। কিন্তু প্রথম পদক্ষেপেই রিম তার আহত পায়ের কারণে লেংরিয়ে হোঁচট খেয়ে উঠল।
রক্ত!
রিমের পায়ের গোড়ালি দিয়ে তখনও রক্ত চুঁইয়ে পড়ছে। সেই দৃশ্য দেখে জেইনের বুকটা যেন খাক করে জ্বলে উঠল— তীব্র যন্ত্রণায়। নিজের ফায়ারফ্লাইয়ের এই কষ্ট সে সহ্য করতে পারছে না।এক ঝটকায়,রিমকে কোলে তুলে নিল।রিম ভড়কে গিয়ে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল তার গলা। জেইন তাকে কোলে নিয়ে খুব ধীরে ধীরে পা ফেলল, চারদিকে তীক্ষ্ণ নজর বুলিয়ে মেইন রোডের দিকে এগিয়ে যেতে লাগল। সেখানেই তাদের জন্য গাড়ি নিয়ে অপেক্ষা করছে ইয়াশ।

তারা ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছিল, হঠাৎ— তাদের ঠিক সামনে দাঁড়িয়ে আছে একজন গার্ড—সাবধানে আশপাশ খুঁজে চলেছে।জেইন রিমকে নিয়ে একটি বিশাল বিল্ডিংয়ের দেয়ালের সাথে মিশে গেল। রিম আতঙ্কে গুটিয়ে গিয়ে জেইনকে আরও শক্ত করে জড়িয়ে রাখল।
তাদের পেছনেই একটা পুরোনো, ভাঙা টেলিফোন বুথ। জেইন নিঃশব্দে সেখানেই ঢুকে গেল রিমকে নিয়ে। জায়গাটা বেশ অন্ধকার হওয়ায় তাদের উপস্থিতি সহজে ধরা পড়বে না।
জেইন রিমকে খুব সাবধানে কোল থেকে নামিয়ে দিলো। তারপর নিজে ঝুঁকে বসল নিচে, রিমের আঘাত প্রাপ্ত পা’ টা টেনে নিলো নিজের কাছে।রিম কেঁপে উঠল, দ্রুত পা’ টা সরিয়ে নিলো। কাঁপা গলায় ফিসফিস করে বলল,
“ক-কী করছো… পায়ে হাত দিচ্ছো কেন? তুমি আমার বড়!!……”

জেইন ভ্রু কুঁচকে তাকালো। এই বিপদের মুহূর্তে এমন নিরর্থক সংকোচ তার পছন্দ হলো না। সে বিরক্ত কণ্ঠে বলল,
“হোয়াট রাবিশ!!…. এখন এই কথা মনে হচ্ছে?… কেন রাতে যখন এই ছোট্ট পা দুটো কখনো আমার কোমরে কখনো বা কাঁধে চলে আসে, তখন মনে থাকে না?… আর যখন এই পায়ে ঠোঁট ছুঁইয়ে চুমু খাই… তখন!!!”
রিম লজ্জায় পুরোপুরি গুটিয়ে গেল। তার গলায় নিঃশ্বাস আটকে গেল। মুখটা তীব্র রক্তিম হয়ে উঠলো। তার মুখ দিয়ে আর একটাও শব্দ বের হলো না।
জেইন আর কোনো কথা না বলে পকেট থেকে একটি কাপড়ের টুকরো বের করে খুব যত্ন করে রক্তটুকু পরিষ্কার করে মুছে আলতো ভাবে বেঁধে দিলো রিমের পা। এমনভাবে যেন একটুও ব্যথা না লাগে।
রিমের কপালেও চোট ছিল। জেইন নিজের রুমাল দিয়ে সেখানটাও আলতো হাতে পরিষ্কার করে দিলো। ব্যথায় কুঁচকে গেল রিমের মুখ। চোখের কোণ বেয়ে গড়িয়ে পড়লো এক ফোঁটা জল।

“আহহহ্”
রিমের মুখ দিয়ে বেরিয়ে এলো এক ব্যথাতুর আওয়াজ। সে শব্দ করে ফুঁপিয়ে উঠলো। জেইন তার চোখের জলটুকু খুব যত্নে মুছে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরলো।
রিমের ভেজা চুলে হাত বুলিয়ে ভাবল: একটা দিন একটু নিজের থেকে আলাদা করতেই এই কী অবস্থা হয়েছে মেয়েটার! না, এটাই শেষ, এরপর থেকে আর কখনো সে এভাবে একা রেখে যাবে না তার ফায়ারফ্লাইকে। আর কখনো কষ্ট পেতে দেবে না। একটুও না।
সে রিমের কপালে একটা ভেজা চুম্বন এঁকে দিয়ে গাঢ় কণ্ঠে ফিসফিস করল,
“বেশি ব্যথা করছে?…”
ভালোবাসার মানুষের সান্নিধ্য, তার আদরের স্পর্শে- রিম যেন ছোট্ট বাচ্চার মতো আহ্লাদী হয়ে উঠল। সে ঠোঁট ফুলিয়ে বাচ্চামো গলায় বলে উঠল,

“খুউউউব…”
জেইনের বুকটা যেন চিরে গেল। আর এক মুহূর্তের জন্যও নিজেকে ধরে রাখতে পারল না। তাদের মধ্যকার এই সামান্য ব্যবধানের অন্ধকার তাকে চরম উন্মত্ত করে তুলল। সে রিমকে টেনে আরও কাছে নিয়ে একেবারে মিশিয়ে নিল নিজের সাথে। তার ঠোঁট কোনো বাঁধন মানল না। সে রিমের চোখ, নাক, ঠোঁট থেকে শুরু করে তার সম্পূর্ণ মুখেই আঠালো, তীব্র চুম্বনে ভরিয়ে দিল। সেই চুম্বন যেন দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষুধা। রিমের মুখ লালায় ভিজে উঠল। সে শ্বাস আটকে কাঁপতে লাগল। জেইন আবারো শক্ত করে আরো বেশি গভীরে তীব্র ভাবে শুষে নিতে লাগলো রিমের তুলতুলে কম্পমান ঠোঁট। জেইন যেন নিজের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছে। জেইনের এক হাত ঢুকে গেল রিমের জামার ভেতর।

সেই ঠান্ডা হাতের স্পর্শ রিমের মসৃণ ত্বকে পড়তেই শিরশির করে উঠল। রিম তখনো কাঁপছে, উষ্ণ শরীরে এই ঠান্ডা হাতের এলোমেলো স্পর্শ যেন তাকে আরও বেশি পাগল করে তুলছে। রিম এক হাতে শক্ত করে টেনে ধরল জেইনের সিল্কি, এলোমেলো চুল। এই তীব্রতা যেন তাকে শ্বাসরুদ্ধ করে দিচ্ছিল। জেইন তার ঠোঁট ছেড়ে গলায়, ঘাড়ে, বুকে চুম্বন করে লালায় ভিজিয়ে ফেলছে। তার অন্য হাত জামা ভেদ করে ঢুকে গেছে রিমের জিন্সের ভেতর। রিমের সমস্ত শরীর যেন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলো। সে মুখ বন্ধ থাকা সত্ত্বেও খিঁচিয়ে গেল। তীব্র শিহরণে ঝাঁকুনি দিয়ে উঠল।
রিমের সেই তীব্র ঝাঁকুনিতে বাইরে থেকে পুরো টেলিফোন বুথটাই নড়ে উঠলো।
গার্ডরা ততক্ষণে টেলিফোন বুথের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। তারা অন্ধকারে টেলিফোন বুথ অস্বাভাবিক ভাবে কাঁপতে দেখে থমকে দাঁড়াল। তাদের মধ্যে একজন হঠাৎ সবাইকে অবাক করে দিয়ে চোখের পলকে উল্টো দিকে ছুটে পালিয়ে গেল! এক সেকেন্ডের মধ্যে সে হাওয়া!
বাকি গার্ডরা হা হয়ে তাকিয়ে রইল। আরেকজন ভয়মিশ্রিত চাপা উত্তেজিত কণ্ঠে বলল,
“এই ওখানে কী হচ্ছে রে?…. টেলিফোন বুথটা এভাবে ভূমিকম্পের মতো কাঁপছে কেন?”
কথাটা বলে একজন গার্ড সামনে পা বাড়াতে নিলে, পেছন থেকে অন্যজন তাকে টেনে ধরে ফিসফিস করে বলে উঠলো,

“থাম! সামনে যাস না!! শুনেছি এখানে রাতের বেলায় ভূতের উৎপাত দেখা যায়। কয়েকদিন আগে নিউজ পেপারে বেরিয়েছিল—রাতের বেলা এক দারোয়ান কাজ শেষে এই পথ দিয়েই বাড়ি ফিরছিল। রোজ যে পথ দিয়ে বাড়ি যেত, সেদিন সেই পথ বন্ধ। সে এইখানে আসে, আর তারপর গায়েব! সিসিটিভি ফুটেজেও কিছু পাওয়া যায় নি! গায়েব মানে একদম হাওয়া হয়ে গেছে, বুঝলি? এখানে আর এক মুহূর্ত থাকা যাবে না! এখনই পালা! বেঁচে থাকলে আবার আসা যাবে। আপাতত জীবন বাঁচাতে হবে।”
ভেতরে, জেইন আর রিম তখনো একে অপরের মাঝে ডুবে। জেইনের বেসামাল, নিয়ন্ত্রণহীন উন্মত্ততা আর রিমের শরীর থেকে আসা তীব্র ঝাঁকুনি আবার বুথকে কাঁপিয়ে তুলল। তাদের সেই তীব্র, বেসামাল উন্মত্ততা তখন টেলিফোন বুথের কাঁচের কাঠামোকে প্রায় ভেঙে ফেলার জোগাড় করেছে। বাইরের অন্ধকার, ভয় মেশানো পরিবেশ এবং এই অস্বাভাবিক কাঁপন—গার্ডদের জন্য এক নিখুঁত আতঙ্ক তৈরি করল।
“ভাই, তোরা যদি ওখানে ভূতের সাথে ডেটিং করতে যাস, যা! আমি বাবা জীবনের রিস্ক নিতে পারবো না! একটামাত্র কিডনি আমার! এখনো বিয়েও হয়নি, বাচ্চা কাচ্চা নেই! মরলে সব লস!”
কথাটা বলেই লোকটি ছুট লাগাল। বাকি গার্ডরা অবাক হয়ে কাঁপতে থাকা বুথের দিকে তাকিয়ে রইল। কিন্তু আবারো একটা তীব্র ঝাঁকুনি, যার শব্দে কাঁচের জানালাগুলো যেন এখনই ভেঙে পড়বে—সাথেই সাথেই আর কেউ সাহস পেল না দাঁড়ানোর।
সবকটা গার্ড একসাথে উল্টো দিকে ঘুরে ছুট লাগাল—কে আগে দৌড় প্রতিযোগিতায় ফার্স্ট হবে সেই ভয়ে! তারা কোনোমতে জীবন নিয়ে পালাতে পারলেই যেন বাঁচে।

“আহহ্… আস্তে”
রিমের ঠোঁট থেকে মৃদু, যন্ত্রণাময় ফিসফিসানি বেরিয়ে এলো। কিন্তু জেইনের উন্মত্ততা তখন চরমে। সে তখনো রিমের ঠোঁট গভীর চুম্বনে আবদ্ধ করে রেখেছে। সেই চুম্বন যেন দীর্ঘদিনের জমে থাকা পিপাসা মেটানোর এক তীব্র প্রয়াস। রিমের সেই ছোট্ট যন্ত্রণাদায়ক শব্দ জেইনের নিয়ন্ত্রণকে সম্পূর্ণরূপে ভেঙে দিয়ে তার উন্মত্ততাকে আরও বাড়িয়ে দিয়ে তার ভেতরের তীব্র আকাঙ্ক্ষাকে জ্বালানি জোগাল। জেইন তার ওষ্ঠদ্বয়ে রিমের ওষ্ঠদ্বয় আরও গভীরে পুরে নিল।তাদের ঠোঁটের এই মিলন যেন সময়ের শেষ প্রান্তসীমা। চুম্বন এতটাই গভীর, তৃষ্ণার্ত এবং দাবিদার যে রিম কোনো শব্দেই সাড়া দিতে পারছে না। সে শুধু মৃদু স্বরে ‘উমম’ ‘উমম’ করে গুঙিয়ে উঠছে—সেই গুঙানি যেন রাতের নীরবতাকেও ভেঙে দিয়ে তাদের তীব্রতা’কে আরও প্রগাঢ় করে তুলছে। ঠান্ডার মধ্যে এই তীব্র চুম্বন তাদের শরীরের তাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

চুম্বন করতে করতেই জেইন রিমের জিন্সের ভেতর হাত রেখে নিচের দিকে ধীরে ধীরে আলতো ভাবে আশ্লেষে বুলিয়ে দিচ্ছে, তার স্পর্শে রিমের শরীর বারবার উষ্ণতায় কাঁপছে। জেইনের হাতের প্রতিটি স্পর্শে রিমের রক্তস্রোত যেন তীব্র বেগে ছুটছে। সেই স্পর্শ রিমের মেরুদণ্ড বেয়ে এক হিমশীতল শিহরণ জাগাচ্ছে, যা নিমেষেই আবার চরম উষ্ণতায় পরিণত হচ্ছে। রিম জেইনকে আরও গভীরভাবে আঁকড়ে ধরল, এই নিষিদ্ধ উন্মত্ততা যেন তাকে শ্বাসরুদ্ধ করে দিচ্ছিল। এই চুম্বন শুধু ঠোঁটে ঠোঁটে নয়, যেন দুই সত্তার তীব্র মিলন।
জেইন যখন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চরম থেকে চরম শীর্ষে পৌঁছে রিমের জিন্সের জিপার খুলে ফেললো। রিমের মস্তিষ্ক সজাগ হয়ে উঠলো।সে জেইনের চুল মুঠোয় টেনে ‘কুট’ করে একটা তীব্র কামড় বসিয়ে দিল ঠোঁটে। রক্তের নোনতা স্বাদে ভরে গেল জেইনের মুখ। কিন্তু সে ছাড়ল না। বরং সেই রক্তের স্বাদ যেন তার ভেতরের হিংস্র সত্তাটাকে আরও জাগিয়ে তুলল। সে যেন আরও বেশি তৃপ্তি করে পান করতে লাগল সেই ‘মধুসুধা’।
রিম যন্ত্রণায় কুঁচকে ঠোঁট সামান্য ফাঁক করে নিঃশ্বাস ছাড়ল। সেই ফাঁকা ঠোঁট দিয়েই অস্পষ্ট স্বরে ফিসফিস করে উচ্চারণ করল,

“মাত-তেও…ওহ…… ও’কে…… ও…”
মাত্তেও। সেই এক নাম যেন মুহূর্তে ঠান্ডা জলের ঝাপটার মতো লাগালো জেইনের মাথায়।
জেইন ফোঁস করে ছেড়ে দিল রিমের ঠোঁট। সে জিন্সের ভেতর থেকে হাত’টা বের করে নিল। তারপর রিমের পোশাক ঠিকঠাক করে, গায়ে নিজের বুলেট প্রুফ জ্যাকেটটা পড়িয়ে দিল। এক লহমায় কোলে উঠিয়ে নিল রিমকে। নাকে আলতো নাক ঘষে, ছোট্ট একটা চুমু দিল। মুখে হালকা মুচকি হাসি ফুটে উঠল।
তারপরেই তার নীলাভ চোখ দুটো যেন আগুন জ্বলা লাভার লেলিহান শিখায় ভয়ঙ্করভাবে জ্বলজ্বল করে উঠল।
তার কণ্ঠস্বর যেন নরকের অন্ধকার থেকে উঠে আসা এক শীতল প্রতিজ্ঞা,
“লেটস দা গেইম বিগেইন। The devil is coming back.”
তার কণ্ঠস্বর এতটাই তীক্ষ্ণ যে, বাতাসেও প্রতিধ্বনিত হচ্ছে,

“ওরা কেবল আমার সীমানা লঙ্ঘন করেনি, ওরা নিজেদের মৃত্যু পরোয়ানা স্বাক্ষর করেছে। আমার জিনিসে হাত দেয়ার মতো জঘন্য অপরাধের শাস্তি যে কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তা ওদের কল্পনাতেও নেই।ওরা আমার ভেতরের ঘুমন্ত মৃত্যুদূত-কে জাগিয়ে তুলেছে। এতদিন ওরা শুধু আমার ‘মানুষ’ রূপ দেখেছে। এবার দেখবে সেই সত্তা-কে, যার চোখে কোনো আলো নেই, শুধু আছে হিমশীতল অন্ধকার। ওদের প্রতিটা শ্বাস-প্রশ্বাস, প্রতিটা ধীর সেকেন্ড, ওদের কেবল একটাই জিনিস মনে করিয়ে দেবে— যন্ত্রণা কতটা দীর্ঘ এবং মৃত্যু কতটা স্বাদযুক্ত হতে পারে। ওদের অন্তিম মুহূর্তের কাউন্টডাউন শুরু হচ্ছে এখন থেকে…….”

“তোর সবথেকে বড় শত্রু, তোরই গুহায় ঢুকে, তোর শিকারকেই ছিনিয়ে নিয়ে গেল, তোর চোখের সামনে দিয়ে! আর তুই বসে বসে চুপচাপ শুধু দেখেই গেলি! কিছু করলি না! বাট… হুয়াই?”
সিগারেটটা ঠোঁট থেকে নামিয়ে নিল আলেসান্দ্রো। তার চোখে কেবল এক শীতল, বুদ্ধিদীপ্ত ঔদ্ধত্য।আলেসান্দ্রোর বন্ধু, ড্যানিয়েল, তার পেছনে দাঁড়িয়ে প্রশ্নটি করল। তার কণ্ঠে স্পষ্ট অবিশ্বাস এবং হতাশা।
আলেসান্দ্রো হাতের সিগারেটটা টোকা দিয়ে দূরে কাঁচের দেয়ালের দিকে ছুড়ে ফেলল। রাতের শহরে জ্বলন্ত সিগারেটের টোকাটি দ্রুত নিচে নেমে গেল, ঠিক যেন কোনো তুচ্ছ ঘটনা।
রহস্যময়ী বাঁকা হাসিতে তার ঠোঁট বেঁকে উঠল। সেই হাসি ছিল অনেক বেশি অন্ধকার ও ভয়ঙ্কর। সে উঠে দাঁড়ালো আরামদায়ক চামড়ার চেয়ার ছেড়ে।
সামনে বিশাল কাঁচের দেয়াল। তার নিচ থেকে দেখা যাচ্ছে রাতের আলো ঝলমলে রোম শহর। আলোকমালায় শহরটি উজ্জ্বল হলেও, আলেসান্দ্রোর দৃষ্টি ছিল বরফের মতো শীতল।সে পকেটে হাত গুঁজে সটান হয়ে দাঁড়াল, যেন সে নিজেই এই শহরের সবচেয়ে শক্তিশালী স্তম্ভ। তার ঠোঁটের কোণে তখনও লেগে আছে সেই বাঁকা হাসি।
ড্যানিয়েল চোখ কুঁচকে তাকে প্রশ্ন করল,

“অ্যালেস, তুই কি শকড খেয়ে পাগল হয়ে গেছিস? এভাবে পাগলের মতো হাসছিস কেন?”
এবারে আলেসান্দ্রো যেন অট্টহাসিতে ফেটে পড়ল। সেই হাসি ছিল স্বাভাবিকের চেয়ে বহুগুণ জোরে—যেন কোনো উন্মাদ, অশুভ আত্মা হাসছে। সেই হাসিতে ঘরের দেওয়াল সহ কেঁপে উঠলো। ড্যানিয়েলের বুক ধড়ফড় করে উঠল।
তারপর হঠাৎ করেই হাসি থেমে গেল। সেই নীরবতা ছিল আরও বেশি ভয়ঙ্কর। আলেসান্দ্রো মাথা ঘুরিয়ে ড্যানিয়েলের দিকে তাকাল। তার চোখগুলো অন্ধকারে শিকারীর মতো চকচক করছে।
আলেসান্দ্রো কণ্ঠস্বর নামিয়ে আনল এক হাড় কাঁপানো ফিসফিসানিতে,
“আমি যেতে দিয়েছি বলেই তো নিয়ে যেতে পেরেছে, ড্যানিয়েল।”

প্রাণসঞ্জীবনী পর্ব ৪৮

ড্যানিয়েল হতবাক হয়ে তাকিয়ে রইল।আলেসান্দ্রো এক পা এগিয়ে এলো। তার কণ্ঠস্বর এখন ঠান্ডা, কিন্তু প্রতিটা শব্দে ছিল গভীর অর্থ,
“আমি ইচ্ছে করেই আটকাইনি। অনেক তো দূরে থাকল মায়ের থেকে। জীবনের শেষ মুহূর্তটা না হয় পরিবারের সাথে একটু আনন্দ করেই কাটাক! আমি যদি আটকে রাখতে চাইতাম, তাহলে ও কখনোই নিয়ে যেতে পারত না, ফুপিকে……”

প্রাণসঞ্জীবনী পর্ব ৫০