Home প্রিয় জারুলফুল প্রিয় জারুলফুল পর্ব ২৫

প্রিয় জারুলফুল পর্ব ২৫

প্রিয় জারুলফুল পর্ব ২৫
সাদিয়া সাদু

সন্ধ্যা সাত টা বেজে পঞ্চান্ন মিনিট । দিগন্ত সবাইকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিয়েছে । আকাশ টা গুড়গুড় করছে , তার সাথে হালকা বাতাস বয়তে শুরু করেছে যখন তখন বৃষ্টি শুরু হতে পারে । আকাশে মেঘ জমেছে, হালকা বাতাসে মেঘ সরে ও যাচ্ছে আর একটু পর পর বিদ্যুত চমকাচ্ছে । জারুল আকাশের এই ভিন্ন রুপ দেখে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে আছে কাঁচের জানালা ভেদ করে । ঠোঁটের কোণে লেগে আছে এক চিলতে হাসির রেখা ।
_’ পাপা । ”
জারুল এর ধ্যান ভাঙে মেয়ের ডাকে । কোল থেকে দুই হাত বাড়িয়ে দিয়েছে দিগন্তের দিকে । দিগন্ত গাড়ি চালাতে চালাতে মিররে তাকিয়ে বলল ।

_’ হে মাআআ। ‘
_’ আমার ভয় কচ্চে । কোলে নাও । ‘
দিগন্ত গাড়ি থামিয়ে মেয়েকে কোলে নিয়ে আবারও গাড়ি চালানো শুরু করল ।
তারা এখনো গ্ৰামের আঁকাবাঁকা রাস্তা দিয়ে যাচ্ছে । চারিদিকে বড় বড় গাছপালা জঙ্গলের মতো আর তার সাথে আকাশের গর্জনে খুব ভয় পেয়েছে দিয়া । সে এখন বাবার কোলে মাথা এলিয়ে শুয়ে আছে । চোখ দুইটা ঘুমে ভরপুর। ফোলে আছে ।
জারুল মেয়ের দিকে তাকিয়ে বিরক্ত হলো।
ঝাঁঝাল কণ্ঠে বলল ।‌
_’ দিয়া ,আম্মুর কোলে আসো । ঘুমাবে তুমি”
দিয়া আর না করতে পারলে না । আসলেই তার ঘুম ধরেছে । দিয়া মেয়েকে কোলে শুয়ে ঘুম পারিয়ে দিল । দিগন্ত গাড়ি চালাতে চালাতে সামনের মিররে তাকাল ‌। পিছনে জারুল , দিয়া আর সালমা বেগম । দিয়া মায়ের কোলে ঘুমিয়ে আছে । তার পাশেই সালমার অবশ শরীরটা আধ শুয়া হয়ে আছে ‌ । দিগন্ত গাড়ির গম্ভীর ভাব মুছে দিতে বলল ।

_ “দীর্ঘদিন পর শশুর বাড়ি যাচ্ছেন মেডাম অনুভুতি কি ? ”
_’ অনুভূতি মনে গেছে । ”
জারুল এর কাটকাট কথা ।
জারুল এর এমন কথায় মুখে হাত দিল দিগন্ত অবাক হওয়ার ভান করে বলল ।
_’ ও মা । কবে মরল ? আমাকে বলো নাই কেনো ? তোমার অনুভূতি কে কোথায় কবর দিয়েছ ? ‘
দিগন্তের কথায় কটমট চাউনি নিক্ষেপ করল জারুল । দাঁতে দাঁত চেপে ধরে বলল ।
_’অনুভুতি অস্পর্শনীয়, যা চোখে দেখা যায় না কিন্তু অনুভব বা উপলব্ধি করা যায় । ”
_” আই নো‌। কিন্তু তোমার অনুভূতি মরল কিভাবে সেটাই ভাবছি ‌। ”
_” যেই শশুড় বাড়িতে দীর্ঘ দুই বছর কাজ আরে আসছি সেইখানে যাওয়ার জন্য অনুভূতি কি বেঁচে থাকবে ? ”
দিগন্ত ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে বলল ।‌
_’ এইটা তোমার ব্যর্থতা। তুমি কাজ করতে গেলে কেন ? আমি তো আমার কোনোকিছু পরিবর্তন করিনি , চাইলেই তো আমার সাথে যোগাযোগ করতে পারতে । না তা করবে কেন ? খালি দেখবে কিভাবে আমাকে নাচানো যায় ‌ ‌। ‘
_'”চুপচাপ গাড়ি চালানোয় মনোযোগ দেন। ”
দিগন্ত দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে গাড়ি চালাতে চালাতে বলল ।

_’আনোয়ার আলীর ইজ্জত নাই , সত্য কথার ভাত নাই । ”
মূহূর্ত তেতে উঠল জারুল ‌। দিগন্তের কথায় তার কান দুইটা ঝাঝা করে গরম ধোঁয়া বের হচ্ছে । তার বাবাকে নিয়ে এত্তো বড় কথা সে কখনোই মেনে নিবে না । কর্কশ স্বরে একনাগাড়ে বলতে তাকাল ‌ ।
_'” কি আমার বাপের ইজ্জত নাই ! আপনার ইজ্জত না….
_’ আমার ইজ্জত তুমি হরণ করেছ । ভুলাভালা একটি ছেলে পেয়ে ইজ্জত লুটে নিয়েছ । একটা ছেলের ইজ্জত নিতে তোমার হৃদয় কাঁপল না? ”
জারুল একদম চুপ হয়ে গেছে। এই লোকের সাথে কথা বলায় বেকার । মুখে কিছু আটকায় না । পাশেই সালমা বসে আছে সেই দিকে কোনো ধ্যান নাই দিগন্তের।
জারুল চুপচাপ মাথা এলিয়ে শুয়ে আছে গাড়িতে ।

ঢাকায় পৌঁছাতে পৌঁছাতে রাত ১১ টা বেজে যায় ‌ ‌। রাতের শহর তখন বৃষ্টির চাদরে ঢাকা। উঁচু ওভারব্রিজের দুপাশে সারি সারি স্ট্রিটলাইট, নিচে ছুটে চলা অসংখ্য গাড়ির আলো—সবকিছু মিলিয়ে চারপাশে এক অদ্ভুত ঝলমলে আবহ। বৃষ্টিতে পিচঢালা রাস্তা চকচক করছে, টায়ারের নিচে পানি ছিটকে উঠছে বারবার। ওভারব্রিজের মাঝামাঝি দিয়ে ছুটে যাচ্ছে দিগন্তের কালো প্রাইভেট কার। মেয়ে পিছনে জারুলের কোলে ঘুমিয়ে আছে । দিগন্ত আপন মনে গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছে । সমনে হঠাৎ করেই বিশাল একটি ট্রাক! ট্রাকের তীব্র হেডলাইট মুহূর্তের মধ্যে দিগন্তের চোখ ঝলসে দিল। সে আঁতকে উঠে সর্বশক্তি দিয়ে ব্রেক চেপে ধরল । গাড়িটা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একপাশে ছিটকে গেল। দিগন্ত শেষ মুহূর্তে স্টিয়ারিং ঘুরিয়ে গাড়িটাকে ওভারব্রিজের পাশের নিরাপত্তা ব্যারিয়ারের দিকে নিয়ে গেল তার আগেই গাড়িটা ব্রীজের দেয়ালে জোরে বারি খেল ।
পেছনের সিটে থাকা তার বউ আর শাশুড়ি ধাক্কায় আসনে হেলে পড়লেন।
দিগন্তের বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল।
সে কয়েক সেকেন্ড নিথর হয়ে স্টিয়ারিং আঁকড়ে ধরে রইল। বাইরে অঝোর বৃষ্টি। কাচ বেয়ে নেমে আসা পানির ফোঁটাগুলোর ওপারে বিশাল ট্রাকটা দাঁড়িয়ে আছে।

_’ দিগন্ত আমার মা । আল্লাহ । ”
সালমার কপাল বেড়ে লালচে রক্ত গড়িয়ে পড়েছে ‌ । দিগন্ত সে দিকে তাকায় ‌ ‌ । বুকটা ধক করে উঠল ‌। গাড়ির সামনের সীটে লেগে কপাল ফেটে গেছে জারুল তো চিৎকার করে কান্না করছে । জারুল এর কান্নায় দিয়ার ঘুম ছুটে গিয়েছে ।
_’ জারুল শান্ত হও মেয়ে টা ভয় পাবে । সামনেই হাসপাতাল একটু ধৈর্য ধর ‌ ”
জারুলকে শান্তনার বানী দিলেও মনে মনে ভেবে যাচ্ছে ।
“ট্রাকটা কি সত্যিই দুর্ঘটনাবশত আমাদের সামনে এসেছিল? নাকি কেউ ইচ্ছে করেই তাদের গাড়িটাকে লক্ষ্য করেছিল?”
দিগন্ত ধীরে ধীরে পেছনে তাকাল।

তার আপন মানুষগুলোকে দেখে গম্ভীর মুখটাও মুহূর্তে ভেঙে পড়ল। চোখের কোণে জমে থাকা পানি।
বাহিরে তখন ও জুম বৃষ্টি _ ঝরররর… ঝরররর…
আর সেই বৃষ্টির আড়ালে দাঁড়িয়ে দিগন্তের চোখে জন্ম নিল এক ভয়ংকর সন্দেহ
রাত তখন গভীর। শহরের ঘড়িতে কতটা বাজে, সেটা দেখার মতো মানসিক অবস্থা কারও নেই। চারপাশের উঁচু দালানগুলো রঙিন আলোয় ঝলমল করলেও সেই আলো যেন আজ অদ্ভুত বিষণ্ণ। নীল, সাদা আর হলুদ বাতিগুলো বৃষ্টিভেজা রাস্তায় পড়ে হাজারো ভাঙা আলোর রেখা তৈরি করেছে। আকাশটা কালো হয়ে আছে। মেঘের ভারে যেন শহরের ওপর নেমে এসেছে এক অদৃশ্য চাপ। তারপর হঠাৎ করেই ঝুম বৃষ্টি। বৃষ্টির বড় বড় ফোঁটা ছুটে এসে আছড়ে পড়ছে কালো গাড়িটির কাচে। ওয়াইপার দ্রুতগতিতে কাচ পরিষ্কার করছে, কিন্তু কয়েক সেকেন্ড পরপরই আবার ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে সামনের পৃথিবীটা। দিগন্ত এক টানে ঢাকা মেডিকেল এসে থামল ‌। সামলাকে নিয়ে এগোল । জারুল এর কোলে মেয়ে ।

সালমার তেমন কিছু হয়নি , মাথা সামান্য ফেটে গিয়েছে। ডাক্তার রাতেই ছেড়ে দিয়েছে হালকা পাতলা ব্যান্ডেজ করে ।
দিয়া এখনও বাবার গলা জড়িয়ে মাথা এলিয়ে শুয়ে আছে , বাচ্চা মেয়েটা ভীষণ ভয় পেয়েছে । দিগন্ত তো সেই দৃশ্যটা কেবল কল্পনা করেই যাচ্ছে , তার কল্পনার রেশ কাটল ফোনের বিকট শব্দে। ফোনটা বের করে এসএমএস টা চেক করল।

প্রিয় জারুলফুল পর্ব ২৪

_’ কেমন লাগল মিষ্টার খান ? সামনে বড় সারপ্রাইজ অপেক্ষা করছে । এমন সারপ্রাইজ জীবনেও পাননি। আর আমি দিলে পাবেন ও না । ”
দিগন্ত একটু হাসল ‌ । তার যা বোঝায় ইতিমধ্যে বুঝে গিয়েছে । সে মেয়েকে জড়িয়েই টাইপ করল ‌ ।
_’ বিয়ের দাওয়াত খাওয়াবেন নাকি ? জানিয়ে দিলে দামি কিছু গিফট কিনে রাখব । বিয়ের জন্য আগ্ৰিম ধন্যবাদ। ”

প্রিয় জারুলফুল পর্ব ২৬

বাকি পর্ব গুলো পড়তে প্লেস্টোর থেকে রোমান্টিক গল্প অ্যাপ ইন্সটল করুন অথবা এই লেখাতে ক্লিক করুন বাকি পর্ব গুলো সেখানেই দেওয়া হবে আপনাদের যদি সমস্যা হয় যে এখানে পরবো তাহলে সেটাও জানাবেন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here