Home প্রিয় প্রণয়িনী ২ প্রিয় প্রণয়িনী ২ পর্ব ৪২

প্রিয় প্রণয়িনী ২ পর্ব ৪২

প্রিয় প্রণয়িনী ২ পর্ব ৪২
জান্নাত নুসরাত

হেলাল সাহেবের আদেশে নুসরাত আর আরশ আসলো ইমামকে বিয়ে পড়াতে নিয়ে যাওয়ার জন্য। ভদ্রলোক যখন মানা করলেন এত রাতে তিনি যাবেন না, তখন অনেক করে বোঝানোর চেষ্টা করল আরশ। নুসরাত আরশের কথা কানেই তুলল না, তার একটাই কথা,
‘সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে, আঙুল বাঁকাতে হয়!
এক কাজ করুন আরশ ভাই, ইমাম সাবকে বাইকের পেছনে সিলিন্ডারের মতো বেঁধে ফেলুন। ‘

আরশ এই বাচালের চেচামেচিতে বিরক্ত হয়ে উঠল কিছুক্ষণের ভেতর! মুখ চোখ কুঁচকে রাম ধমকে দিল,
”শাট দ্যা ফাক আপ নুসরাত নাছির!”
এরপর টু শব্দটি করল না নুসরাত, মুখ গোমড়া করে দাঁড়িয়ে রইল। আরশ ইমামকে শান্ত কন্ঠে ধৈর্য ধরে বোঝাল রাত বারোটা পাঁচ থেকে বারোটা পনেরো মিনিট পর্যন্ত, শেষ পর্যন্ত যখন দেখল লোকটা কথাই বুঝতে পারছে না, এখনো একই জায়গায় আটকে আছে, তখন রেগে মেগে আগুন হয়ে গেল। এত এফোর্ট যদি সে মাস্টার্সে দিত তাহলে আজ ইকোনোমিক্স এ সে ১৯ এর জায়গায় বিশ নাম্বারের স্কেল পেতো।

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

নুসরাত আরশের ফুলে ফেপে ওঠা নাকের পাটা দেখে হাসল। মৃদু স্বরে আরশের শোনার মতো বলল
,”লাথ মারার ভুত, কথা শুনে মানে না, এমনি নিজের সময় ওয়েস্ট করলেন ব্রো!”
গলা খাঁকারি দিয়ে হাসল ঠোঁট এলিয়ে আবার। আরশকে টাট্টা করে বলল,
”এক কাজ করুন বিগ ব্রাদার, এই ইমাম সাবকে কোলে করে নিয়ে যান!”
আরশ মাথা নাড়াল। নুসরাতের কথায় সহমত পোষণ করে বলল,
“হ্যাঁ ঠিক!”

কোনো পূর্ব হুশিয়ারি না দিয়ে ইমাম সাহেবকে পাজো কোলে তুলে নেওয়ার জন্য শার্টের হাতা গোটাল সুঠান দেহের অধিকারী ছেলেটা।
ভদ্রলোক অবাক হলেন, তার বাড়িতে এসেই তার সাথে ভন্ডামি! ইঁচড়েপাকা ছেলে মেয়ে দুটোকে ইচ্ছে করল মাথায় তুলে আছাড় মারতে। চোখ মুখ অন্ধকার করে গিয়ে বসতে নিলেন বাইকের পেছনে তখনই তাকে থামিয়ে দিল আরশ। দু-জনে বাইকে বসা নিয়ে আবারো ঝগড়া বাঁধিয়ে দিল। নুসরাত কড়মড় করে দাঁতের কপাটি পিষে বলে ওঠল,
”দেখুন ব্রাদার, আসার সময় আপনি বাইক চালাইছেন, এখন আমি ইমাম সাবকে নিয়ে যাব!*

আরশ এক ভ্রু তুলে শুধাল,
“বসবি কই তুই?”
নুসরাত বলে ওঠল,
“ সামনে আমি পেছনে আপনি, আর সবার শেষে ইমাম সাহেব।”
আরশ কপাল কুঞ্চন করল।। দন্ত পাটি শক্ত করে পিষে বলল,”এখানে কয় সিট বসার জন্য তুই দেখতেছিস!”
নুসরাত নির্বিকার ভঙ্গিমায় বলে ওঠল,
“তিন সিট!”

পুরুষালি শীতল গলায় জিজ্ঞেস করল,
“এখানে তিন সিট?
নুসরাত তেতো স্বর বাতাসে ভেসে বেড়াল,
“কানা নাকি, দেখতে পাচ্ছেন না!
“বেয়াদবের বাচ্চা এজন্যই তো বলছিলাম কার নিয়ে আসি, না ঘাড়ত্যাড়ামি করে এই খাটারা বাইকে আসবে সে!”
নুসরাত এক আঙুল তুলে আরশের দিকে খ্যাপাটে ভঙ্গিতে পা বাড়াল,তেতিয়ে উঠে বলল,
”একদম আমার বুলেটকে খাটারা বলবেন না, আজ এইটা থাকায় দু-মিনিটের রাস্তা আপনি তিন মিনিটে আসছেন। ”

নুসরাতের কথা শ্রবণ হতেই না চাইতেও শব্দ করে হেসে ফেলল আরশ। কপাল কুঞ্চন করে, ঠোঁটের হাসি চাপার চেষ্টা করল। এক ভ্রু উচিয়ে জিজ্ঞেস করল,
”কী, বুলেট!”
কথা শেষ করে আবারো হা হা করে হেসে উঠল। নুসরাত নাকের পাটা ফুলিয়ে বিড়বিড়াল,
”পুরাই পাটার মতো হাসে, আস্তো খাইষ্ঠা, গন্ডার একটা!”
আরশ শুনল না তার অগোচরে ছুঁড়ে দেওয়া গালির ভান। নুসরাত বিরক্ত হয়ে বলে ওঠে,
”খে খে করে হাসি বন্ধ করুন, বিচ্ছিরি লাগতেছে আপনাকে।”

আরশ ঠোঁট কামড়ে হাসি থামাল।। একহাতে নুসরাতের বাহুতে চাপড় মেরে বলল,
”অপেক্ষা করো আসতেছি ইমাম সাহেবকে রেখে।”
নুসরাত ভ্রু উচিয়ে জানতে চাইল,
“আমি যাব না?”
“ তোমাকে পুরুষ মানুষের সাথে বসিয়ে নিয়ে যাব, অসম্ভব, দাঁড়িয়ে থাকো এখানে বেয়াদব, আমি না আসা পর্যন্ত।”
রাতের অন্ধকারে ইমাম সাহেবকে একপ্রকার ব্ল্যাকমেইল করে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া হলো সৈয়দ বাড়িতে। বাইকের স্প্রিড এত বেশি ছিল যে আরশের পেছনে বসারত ইমাম সাহেবের মাথা ঘুরে উঠল। ভদ্রলোকের পরণে থাকা লুঙ্গিখানা ও বাতাসের জোরে হাওয়ায় ভাসল। সৈয়দ বাড়ির গেটের সামনে ইমাম সাহেবকে নামিয়ে দিয়ে একজন অপরাধীর মতো হস্তান্তর করা হলো হেলাল সাহেবের নিকট। বাইক নিয়ে আবার ছুটল নুসরাতকে নিয়ে আসতে! আধঘন্টার রাস্তা পনেরো মিনিটে পাড়ি দিল। উল্কা পিন্ডের গতিতে এসে পৌঁছাল ইমাম সাহেবের বাড়ির সামনের গেটে। নুসরাত আরশকে এত তাড়াতাড়ি ফিরে আসতে দেখে ত্যাড়া চোখে তাকাল এক পলক। কোনোপ্রকার ঘাড়ত্যাড়ামি না করে হেলমেট পরে পিছনে উঠে বসল। দু-হাতে আরশের বাহু পেঁচিয়ে ধরতেই, আরশ নির্লিপ্ত ভঙ্গিমায় বলে ওঠে,
”শক্ত করে ধরে বস!”

নুসরাত কপালে ভাঁজ ফেলে বলে ওঠল,
“শক্ত করেই ধরেছি। আপনার মতামতে কী, পিঠের সাথে একদম ঠেসে বসব?”
আরশ বাইক স্টার্ট করে শান্ত স্বরে আওড়াল,
“বসলেও কোনো সমস্যা নেই!”
নুসরাত শুনতে পেল না আরশের কথা। বাতাসের শা শা শব্দে উড়িয়ে নিয়ে চলে গেল অন্যদিকে কথার আওয়াজ গুলো। দু-হাতে আরেকটু শক্ত করে আরশের বুক চেপে ধরে চ্যাঁচিয়ে শুধাল,
”হুউ, কী বলেছেন, শুনতে পাইনি!”
আরশ বাইকের গতি আরো একটু বাড়িয়ে দিয়ে নুসরাতের মতো চ্যাঁচিয়ে বলল,
”কিছু বলিনি! ”

ইমাম সাহেব বসে আছেন বিরস মুখে। কোনো আগাম বার্তা না দিয়ে ওই গুন্ডা ছেলে মেয়ে দুটো একপ্রকার তুলে নিয়ে আসছে তাকে! যতক্ষণ বাড়ির গেটে দাঁড়িয়ে ছিল ততক্ষণ পর্যন্ত মুখ দুটো চেনা চেনা ঠেকছিল, সৈয়দ বাড়িতে প্রবেশের পর শিওর হলেন, হ্যাঁ এই দুটোর বিয়ে এককালে পড়িয়েছিলেন স্বয়ং তিনি! বিতৃষ্ণা ইমামের মুখটা তেতো হয়ে উঠল। ছোট বেলা যেমন দুটো খবিশ ছিল, বড় হয়েও তেমন রয়েছে! এখনো স্পষ্ট মনে আছে তেরো বছর পূর্বের কথা। ইঁচড়েপাকা ছেলে মেয়ে দুটোকে বিয়ে পড়াতে এসে কী বেগ পোহাতে হয়েছিল!
বাহিরে তখন ঘুরুম ঘুরুম শব্দে মেঘ ডাকছে। সোফার উপর বসারত ইমাম সাহেবের মুখটা মেঘের ঘনঘটার মতো কালো! পাত্রকে একপাশে নিরুদ্বেগ ভঙ্গিতে বসে থাকতে দেখে বললেন
,”যাও, ওযু করে আসো!”

ইরহাম একবার চোখ তুলে দেখল ইমাম সাহেবকে। এরপর আলগোছে উঠে দাঁড়াল। হেলদোল বিহীন গায়ে সোজা হেঁটে চলে গেল ইসরাতের রুমের দিকে। সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠল রক্তশূণ্য মুখ নিয়ে। নুসরাতের রুমের দিকে চোখ যেতেই দেখল নিষ্প্রাণ মুখ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে মেয়েটা। কোনো দোষ না করে যার শরীরে কলঙ্কের মোটা দাগ লেপ্টে গেছে। লাল শাড়ী পরিহিত মেয়েটাকে নিজের বধু রুপে সাজতে দেখে শ্বাস আটকে আসলো তার! সে শ্বাস নিতে পারল না! এই মেয়ে আজ তার বউ হয়ে যাবে! তার নামের সাথে ইরহামের নাম লেগে যাবে! কী আশ্চর্য, কী আশ্চর্য! আজ তো তার খুশি হওয়ার দিন, কিন্তু সে খুশি হতে পারছে না কেন! নিষ্পাপ মেয়েটাকে তার নামে কলঙ্কে লেপ্টে দেওয়া হয়েছে সে জন্য! সে নিজেও কী করল! গলা উচিয়ে কেন বলতে পারল না মেয়েটার কোনো দোষ নেই, এভাবে তার চরিত্রের দিকে আঙুল তুলছেন কেন! নিজ মনে নিজেকে গালি দিল, কত্ত বড় একটা ভুল করেছে সে, চাইলেই বলতে পারত তারা নির্দোষ কিন্তু তা কেন সে বলতে পারেনি, মেয়েটাকে নিজের করে পাওয়ার আশায়, কী লজ্জাজনক! ইস’স এত নিচ কবে হলে সে!

ইরহাম এক পা দু-পা করে এগোলো নিজের রুমের দিকে। দো-তলায় একপাশে ঝিম মেরে পড়ে থাকা মায়ের মুখটা দেখল। চোখাচোখি হতেই তার পায়ের নিচের মাটি কেঁপে উঠল। ওই চোখগুলো নীরবে অভিশাপ দিচ্ছে কী তাকে! ইরহাম এক সেকেন্ড দিরুক্তি করল না, ধপ করে নিজের দৃষ্টি মাটিতে নামিয়ে নিল। মাকে না দেখার ভান করে লাল হয়ে আসা রক্তবর্ণের চোখ মেঝেতে নামিয়ে দ্রুত পায়ে পাশ কাটিয়ে চলে গেল।

ইরহাম ওযু পড়ে আসতে আসতে সবকিছু বর্ণনা করল জায়িন। লজ্জায় বাড়ির প্রতিটা মানুষ দৃষ্টিতে দৃষ্টি মিলাতে পারছেন না। এর মধ্যে টুকটুকে লাল শাড়ী পরিয়ে কাঠপুতলের মতো সৌরভিকে এনে বসাল ইসরাত। ইমাম সাহেব নিষ্পলক চোখে দেখলেন অভিজাত্য চেহারার অধিকারী মেয়েটার মুখ! কী নিষ্পাপ মুখটা! এত বড় ব্যাভিচারে লিপ্ত এই মেয়েটা ভদ্রলোক মানতে পারলেন না। না চাইতেও বিশ্বাস করতে হলো, এরপর কনে ও বরের সম্বন্ধে সকল তথ্য জেনে নিলেন ইমাম সাহেব! শব্দ করে দীর্ঘশ্বাস ফেলে জিজ্ঞেস করলেন,”দেনমোহর কত টাকা বাঁধবো

হেলাল সাহেব নিজের গম্ভীরতা এক পাশে ফেলে বলে ওঠলেন,
”পনেরো লাখ টাকা দেনমোহর বাঁধুন!”
নিজাম শিকদার জিজ্ঞেস করলেন,
“নগদ দিতে পারবে ওই ছেলে?”
শোহেব সাহেব বলে ওঠলেন,
“কামাই করবে যখন, তখন দিবে, এখন লিখে রাখুন।”

ইমাম সাহেব বললেন,
“মহর মেয়ের অধিকার। আপনারা চাইলে এখনই দিতে পারেন, আর যদি পরবর্তীতে দিতে চান, তা লিখে রাখতে হবে। কিন্তু স্বীকৃতি দিতে হবে যে আপনাদের ছেলে নির্ধারিত পনেরো লাখ টাকা মহর হিসেবে দেবে। এটি একদম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। মেয়ে যদি এতে সম্মতি দেয় তবেই বিয়ে সম্পন্ন হবে। পরবর্তীতে দেনমোহর দেওয়ার জন্য বর এর দায়িত্বে থাকবেন।”

এরপর কয়েক পল কাটল নিরিবিলি। ইমাম সাহেব প্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে মেয়ে দুটোকে দেখলেন। রাষ্ট্রীয় মতে ছেলেটা এখনো প্রাপ্ত বয়স্ক না, তাই রেজিস্টার হবে না তাদের। একটা কাগজে তারিখ লিখে রাখলেন ২৪-০৮-২০২৫ ইংরেজি। দেনমোহর পনেরো লাখটাকা! বর পক্ষের সাক্ষী হিসেবে আছেন তার বাপ-চাচা, ও মেয়ের পক্ষের সাক্ষী হিসেবে আছেন ভাই ও দাদা!

পরিবারের সকলের সম্মতিতে পাপাচারে লিপ্ত হওয়া ব্যাভিচারি ও ব্যাভিচারিনীর নিকাহ পড়াতে শুরু করলেন ইমাম সাহেব। নিজের জায়গা ছেড়ে এসে বসলেন সৌরভির ছোপ ছোপ লাল বর্ণ ধারণ করা মুখের সামনে। সাথে একদল আসলো পাত্রীর সম্মতি জানার জন্য। ইমাম নিকাহনামা পাঠ করলেন,
”আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। পিতা, সৈয়দ শোহেব আহমেদ পুত্র, সৈয়দ ইরহাম শোহেব, ঠিকানা সিলেট সদর, পনেরো লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করে তোমাকে নিকাহের প্রস্তাব দিয়াছে, আমি তার হয়ে এই প্রস্তাব তোমার নিকট নিয়ে আসছি মা, তুমি যদি এই দেনমোহরে সন্তুষ্ট হও, নিজ ইচ্ছেয় এই বিয়েতে রাজী থাকো, তাহলে এই নিকাহ কবুল করো! যদি কবুল করে থাকো বলো আলহামদুলিল্লাহ কবুল!

এই মুহুর্তে এসে সৌরভি বুক ধড়ফড় করে কেঁপে উঠল। মাংস পিন্ডে গড়া হৃদ যন্ত্রের গতি এত দ্রুত হলো পাশে দাঁড়ানো ইসরাত সেই ধুকপুক শব্দ শুনতে পেল। নিষ্প্রাণ দেহে বসে থাকা মেয়েটার মাথায় শাড়ীর আঁচল টেনে দিয়ে একহাতে কাঁধে হাত রেখে ভরসা দিল। নুসরাত একহাতে থরথর করে কাঁপতে থাকা সৌরভির হাত চেপে ধরল। তবুও কাঁপল ঠান্ডা বরফের ন্যায় হয়ে যাওয়া শীতল হাতখানা। ঠোঁট দিয়ে কবুল বলতে গিয়ে আটকে গেল গলার কাছে কথাটুকু। ভাই, দাদার দিকে শেষ বারের মতো মিনতিপূর্ণ চোখে তাকাল, কিন্তু দু-জনের একজন-ই তার সাথে দৃষ্টির মিলন ঘটাল না। বোবার মতো সেদিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে একসময় চোখ থেকে টুপ করে এক ফোটা জল গড়িয়ে পড়ল, কেঁপে ওঠা স্বরে নির্ঘত হলো,
”আলহামদুলিল্লাহ কবুল!”

ইমাম সাহেব ছেলে পক্ষের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন,
”কন্যার স্বীকারোক্তি শুনেছেন?”
অনেকে হ্যাঁ বলল অনেকে না। হেলাল সাহেব সকলের কথা শুনে গম্ভীর স্বরে বললেন,
“মেয়ের স্বীকারোক্তি আবারো নিন!”
সৌরভির হাত নুসরাত আরেকটু শক্ত করে চেপে ধরল। ইমাম সাহেব দ্বিতীয় বারের ন্যায় বিবাহ পড়াতে শুরু করলেন। নিকাহ নামা পাঠের মধ্যেই নুসরাত বলে ওঠল
”জোরে বলিস, শুনতে পায়নি আগের বার সবাই!”

“পিতা, সৈয়দ শোহেব আহমেদ পুত্র, সৈয়দ ইরহাম শোহেব, ঠিকানা সিলেট সদর, পনেরো লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করে সে তোমাকে নিকাহের প্রস্তাব দিয়াছে, আমি তার হয়ে এই প্রস্তাব তোমার নিকট নিয়ে আসছি মা, তুমি যদি এই দেনমোহরে সন্তুষ্ট হও, নিজ ইচ্ছেয় এই বিয়েতে রাজী থাকো, তাহলে এই নিকাহ কবুল করো! যদি কবুল করে থাকো বলো মা আলহামদুলিল্লাহ কবুল!”

সৌরভি নিষ্প্রাণ কন্ঠে বলে ওঠল,
“আলহামদুলিল্লাহ কবুল!
ইমাম সাহেব বললেন,
“ আবার বলো!”
সৌরভি আবারো বলল,
“আলহামদুলিল্লাহ কবুল!”
ইমাম সাহেব মেয়েটার মুখের দিকে তাকিয়ে মায়া মায়া কন্ঠে বললেন,
”একটু জোরে বলো মা কবুল!”
“আলহামদুলিল্লাহ কবুল!”

এরপর সৌরভির সামনে থেকে উঠে গিয়ে বসলেন সৈয়দ ইরহাম শোহেব এর সামনে ইমাম সাহেব। একইভাবে নিকাহনামা পাঠ করা শুরু করলেন,” পিতা মৃত সৌরভ শিকদার, একমাত্র কন্যা, সৌরভি শিকদার, ঠিকানা, সিলেট সদর, দেনমোহর পনেরোলাখ টাকা ধার্য করিয়া তুমি কি এই বিয়েতে রাজী, রাজী থাকলে বলো আলহামদুলিল্লাহ কবুল!

ইরহাম এক সেকেন্ড দুরুক্তি না করে বলে ওঠল,
“আলহামদুলিল্লাহ কবুল!
ইমাম সাহেব বললেন,
“এই বিয়েতে রাজী থাকলে আবার বলো বাবা আলহামদুলিল্লাহ কবুল! ”
ইরহাম বলল,
“আলহামদুলিল্লাহ কবুল!”
ইমাম সাহেব জিজ্ঞেস করলেন,
“ তুমি সৌরভি শিকদারকে নিজের অর্ধাঙ্গিনী রুপে স্বীকার করছ, করলে বলো আলহামদুলিল্লাহ কবুল!
ইরহাম ইমামের সাথে সাথে বলে ওঠল,
“আমি সৌরভি শিকদারকে নিজে অর্ধাঙ্গিনী রুপে স্বীকার করছি, আলহামদুলিল্লাহ কবুল!
ইমাম এবার সাক্ষীদের জিজ্ঞেস করলেন,
“আপনারা কি এই বিবাহের সাক্ষী হতে রাজী?
সবাই সমস্বরে বলে ওঠল,
“হ্যাঁ আমরা রাজী!”

সৌরভিকে তুলে নিয়ে গিয়ে বসানো হলো সদ্য তার স্বামীতে রুপান্তরিত হওয়া ছেলেটার পাশে। আর এতেই হৃদ যন্ত্রের বেগ বৃদ্ধি পেল ইরহামের। কেউই ঘাড় বাঁকিয়ে দেখল না কাউকে! ছেলেটা অপরাধবোধে ঝুঁকিয়ে নিল নিজের মাথাটা মেঝের দিকে। এর মধ্যে ইমাম সাহেব দু-হাত তুলে দোয়া পড়তে শুরু করলেন, সদ্য দম্পতি হওয়া ছেলে মেয়ের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য। সাথে হাত তুলে শামিল হলো ড্রয়িংরুম জুড়ে অবস্থান রত সবাই।
সংক্ষিপ্ত দোয়া পাঠ করলেন কুরআনের কয়েকটা আয়াত দিয়ে,
”রাব্বানা হাবলানা মিন আজওয়াজিনা ওয়া জুররিয়্যাতিনা কুররাতা আয়ুনিওঁ-ওয়াজআলনা লিল মুত্তাকিনা ইমামা! আল্লাহ তোমাদের বিবাহ বরকতময়, ও সৌন্দর্যে ভরিয়ে দিক। তোমাদের ভবিষ্যৎ বাচ্চাদের নেক আমলী করে তোলার তৌফিক দান করুক। আমিন! ”

সকলে দোয়া পাঠ শেষে আমিন বলে ওঠলেন। ইমাম সাহেব বলে ওঠলেন,
”তোমাদের বিয়ে সম্পূর্ণ হলো, আজ থেকে ইসলামী শরিয়ত মতে তোমরা বৈধভাবে স্বামী স্ত্রী!”
রিসিপশনে আসা লোকজন নাটক দেখা শেষে সবাই তৈরি হলেন নিজ নিজ গৃহে ফিরার জন্য। না চাইতেও ভঙ্গুর শরীর নিয়ে রাতের খাবারের প্রস্তুতি নিলেন সৈয়দ বাড়ির মানুষগুলো। পাড়া প্রতিবেশীর সবার মনোভাব এখন একটাই ডিভোর্স দিক আর যাই করুক তাতে তাদের কী, তারা তো বিয়ে পড়িয়ে দিয়েছে, এই বাড়িকে সম্মানহানি হওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়ে দিয়েছে।

প্রিয় প্রণয়িনী ২ পর্ব ৪১

আসলেই কী বাঁচিয়ে দিল! যাদের বিয়ে পড়াল এত আয়োজন করে তাদের কী হবে! কেউই খেয়াল করে একবার দেখল না, চাকচিক্যের আড়ালে ঢাকা ঘোমটা দেওয়া নিষ্প্রাণ মুখখানা, ভেতরে টগবগ করতে থাকা মেয়েটার ঘৃণাটুকু!

প্রিয় প্রণয়িনী ২ পর্ব ৪৩

2 COMMENTS

  1. কি ভাই কে শুরু করলা এগুলা😡😣।।এখনো কেন নেক্সট পার্ট দিলানা,,, প্লিজ তাড়াতাড়ি দাও।। অপেক্ষা করতে করতে আমি শহীদ হয়ে গেলাম।।।😶😩
    প্লিজ আর অপেক্ষা করিও না, তাড়াতাড়ি করে গল্পটা দাও আর সহ্য হচ্ছে না আমার 😣😩😥।।এত কেন দেরি করো তোমরা তাড়াতাড়ি দাও প্লিজ🙏🙏🙏🙏🙏

Comments are closed.