প্রিয় মোনালিসা পর্ব ১৪
নীতি জাহিদ
হাত ধরে সোজা হেঁটে যাচ্ছে। রোবটের মতো হাঁটছে মেয়েটা। সাদাফ,রিমি ফাইল নিয়ে বেরিয়েছিলো কিউবিকল থেকে। মোনাকে দেখে মুচকি হাসি দিলো। ইমরান জোরে ডাকলো রহমতকে। কাছে আসতেই বললো,
– ঝটপট এক গ্লাস লেবুর শরবত বানিয়ে আনো। ঠান্ডা পানি দিয়ে।
সোজা নিজের কেবিনে নিয়ে বেসিনে দাঁড় করিয়ে মুখে পানির ঝাপটা দিতে থাকলো। সাদাফ, রিমি,চৈতি এবং তিহান ছুটে এলো। ইমরান অনবরত পানির ঝাপটা দিচ্ছে মোনার মুখে। মেয়েটা ভয়ে জমে গিয়েছে। শ্বাস অবধি নিচ্ছেনা। মাথার ঘোমটা নামিয়ে দিলো ইমরান। সাদাফকে বললো,
– সাদাফ আমার রেফ্রিজারেটরে ঠান্ডা পানি আছে নিয়ে আসুন তো।
পানি ইমরানের হাতে দিতেই মোনার মাথায় দিলো। তোয়ালের সাহায্যে মুখ মুছিয়ে মোনাকে চেয়ারে বসিয়ে দিলো৷ হাঁটু গেড়ে বসলো মোনার সামনে। বাম গালে হাত রেখে বললো,
– মোনালিসা এভ্রিথিং ইজ ফাইন। দেখো। এখানে সবাই আছে।
রহমত শরবত নিয়ে ঢুকলো। ইমরান মোনাকে একটু করে শরবত খাওয়ানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু মেয়েটা মুখ খুলছেনা। ইমরানের হাঁসফাস লাগছে। ইলেক্ট্রিসিটি কি তখনই যাওয়ার ছিলো? অসহ্য লাগছে। উঠে দাঁড়ায়। চৈতিকে বললো,
– দেখুন তো শরবত খাওয়াতে পারেন কিনা?
গায়ের ব্লেইজার খুলে ছুঁড়ে মেরেছে সোফায়। গলার টাই খুলে ফেলেছে। শার্টের হাতা গুটিয়ে পুনরায় মোনার সামনে এলো। নিজেকে মনে মনে দুষছে সিড়ি দিয়ে উঠতে চেয়েছিলো। উঠতে দিলেই হতো। মেয়েটা মুখ খুলছেনা কেনো। রিমিও বেশ কয়েকবার চেষ্টা করলো। এত কিছুর মাঝে ব্রেইন থেকে ছুটে গিয়েছে মিনহাজ বা নয়নের কথা। শরবত খাওয়াতে না পেরে মেয়ে গুলো বলে উঠলো,
– স্যার নিচ্ছে না তো। কি হয়েছে ওর। এমন করছে কেনো?
ইমরান শরবতের গ্লাস হাতে দিয়ে পুনরায় আদুরে গলায় বললো,
– মোনালিসা, সুইট হার্ট লুক এট মি। একটু খাও। আই প্রমিজ আর কখনো জোর করে লিফটে উঠতে বলবোনা। তাকাও আমার দিকে।
হালকা মুখ খুলে একটু শরবত নিলো। ইমরানের মুখে হাসি। এতক্ষনে বলে উঠলো,
– বাবা কোথায়? আমি বাবার কাছে যাবো।
এতটুকু বলেই সজোরে কেঁদে দিলো। ইমরানের হুঁশ এলো। সবার দিকে তাকিয়ে বললো,
– মি. মিনহাজ কোথায়? মি. নয়ন কোথায়?
সাদাফ উত্তর দিলো,
– স্যার, উনারা তো আজ ফ্যাক্টরি ভিজিটে গিয়েছেন।
মনে পড়লো আজ ফ্যাক্টরি ভিজিটের কথা। ইমরান ও আজ একটা বায়ার মিটিংয়ে এটেন্ড করেছিলো। তাই আলাদা ভাবে যেতে হয়েছিলো। মাথা নেড়ে বললো,
– ভুলে গিয়েছিলাম।
মোনার দিকে তাকিয়ে বললো,
– বাবার তো আসতে সময় লাগবে কিছুটা। তুমি কিছুক্ষন অপেক্ষা করো। কিছু খাবে? অর্ডার দিবো।
কাঁদতে কাঁদতে হেঁচকি উঠিয়ে ফেলেছে। কত আশা নিয়ে এসেছিলো। বাবার সাথে গল্প করতে করতে ক্যালকুলাস করবে, ইমরান সাহেবকে ক্ষেপাবে। কিছুই হলোনা। দু চোখ মুছে সবার দিকে তাকিয়ে আঙুল তুলে শাসিয়ে বলে,
– আমাকে কেউ জীবনেও লিফটে উঠতে বলবে না।
সবাই মাথা ঝাঁকিয়ে বললো,
– ঠিক আছে।
ব্যাগ থেকে ম্যাথ বই আর খাতা বের করে নাক টেনে বলে,
– এখন আমি ফুচকা খাবো ইমরান সাহেব। ঝাল টক দিয়ে। একটা চকবার আইসক্রিম, আর একটা ডেইরিমিল্ক। আমার ব্যাগের টা প্রায় শেষ।
তাজ্জব বনে গেলো উপস্থিত সকলে। এই না কেঁদে কে/টে সব প্লাবিত করলো। এখন বলে ফুচকা খাবে। ইমরান ঠোঁট কামড়ে হাসছে। সেই হাসি আড়াল করল মাথা নামিয়ে। যার চোখে লাগার, সেই রমনী মুগ্ধ হয়ে চেয়ে মনে মনে বললো,
– মা শা আল্লাহ।
মোনার মতো এমন চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের প্রাণী দ্বিতীয়টি পাওয়া ভারী মুশকিল হবে। চৈতি বলে উঠলো,
– স্যার আমি ফুচকা অর্ডার করছি।
ইমরান নিজের ফোনের লক খুলে চৈতির হাতে ধরিয়ে বললো,
– আমারটা দিয়ে দিন। সাথে আর যা যা লাগে তাও দিন।
মোনা ব্যাগ থেকে বিশাল সাইজের এক চকলেট বের করে খাওয়া শুরু করলো। সবার দিকে তাকিয়ে বললো,
– তোমরা কি ক্যালকুলাস পারো?
– উঁহু।
– তাহলে কাজে যাও। ফুচকা আসলে ডাকবো। ইমরান সাহেব ওরা এতক্ষন আমার কত সেবা করেছে ওদের জন্য এক প্লেট করে দিন।
বাকিরা মুখ টিপে হাসছে। পুরাই ড্রামা কুইন একটা। ইমরান চৈতিকে বললো সবার জন্য দিতে।
রিমি হঠাৎ বলে উঠলো,
– মোনা তুমি স্যারকে নাম ধরে ডাকো?
কথাটি ইমরানের কানে লাগলো। ব্যাপারটা খুব বাজে ভাবে সবার মাঝে ছড়িয়ে যাবে বলে মনে হচ্ছে। মুখের অভিব্যক্তি ও পরিবর্তন করা যাবেনা। উপস্থিত কিছু বলবে তার আগেই মোনা উত্তর দিলো,
– হ্যাঁ উনি শুধু আমার ইমরান সাহেব। এই নামে আর কেউ ডাকেনা আমি ছাড়া, ডাকতেও পারবেনা। ডাকলে জিভ ছিড়ে নিব। কারণ এই অধিকার শুধু আমার।
রিমি বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে আছে। সাদাফ আর তিহান মুচকি মুচকি হাসছে। রিমির কথাটা অপমানে লাগলো। চৈতি ফুচকা অর্ডার দেয়া শেষ করে ইমরানকে ফোন ফিরিয়ে দিতে দিতে বললো,
– মোনার মুখে সব ডাকই সুন্দর।
মোনার গাল টেনে আদুরে ভঙ্গিতে বললো,
– ফুচকা আসলে একসাথে খাবো। তুমি ম্যাথ করো। মন খারাপ হলে আমাদের কাছে যেও।
মোনা মাথা ঝাঁকিয়ে সম্মতি জানালো ঠিকই কিন্তু রিমির সন্দেহাতীত দৃষ্টি ইমরানের চোখ এড়ায় নি। ইমরান এমন ভাবে কাজ করছিলো যেন মোনা এবং রিমির কনভারসেশন তার কান অবধি পৌঁছায় নি। ইন্টারকমে কথা বলতে ব্যস্ত ছিল।
যে যার যার কিউবিকলে ফিরে যেতেই ইমরান মোনাকে বললো,
– মোনালিসা, এভাবে সবার সামনে ডাকবেনা। আজ রিমি খেয়াল করেছে। অন্য সময় বাকিরা করবে। এটা নিয়ে কথা উঠতে পারে।
মোনা হঠাৎ করে লিখা থামিয়ে ইমরানের চোখের দিকে তাকিয়ে বললো,
– একটা সত্য স্বীকার করবেন?
– কি?
– সত্যি কি আমার প্রতি কোনো অনুভূতি জাগেনি আপনার? ভয় পাননি লিফটে আমার অবস্থা দেখে?
বুকে কম্পন উঠেছে। এভাবে প্রশ্ন করেনি কেউ ইমরানকে। করার সাহস হয়নি। সেই অধিকার কারো ছিলোনা। এই মেয়ের স্পর্ধা বরাবর বেশি।
কড়কড়ে শক্ত স্পষ্ট জবাব,
– তোমার প্রতি কোনো অনুভূতি কখনোই ছিলোনা। যা দেখেছো তা মানবিক দিক বিবেচনা করে করা। লিফটে রিমি, চৈতি বা অফিসের যে কাউকে দেখলেই এমন অবস্থা হত।
– বুকে টেনে নিতেন সবাইকে?
হতচকিত হলো ইমরান। ঠান্ডা মস্তিষ্কে জবাব করলো,
– সুইমিং করার সময় বা পানিতে কেউ ডুবে গেলে ব্রিদিং সিস্টেম সচল রাখতে মুখ দিয়ে শ্বাস প্রশ্বাস চালু রাখতে হয়। ওটা কি অনুভূতি? নিজেকে এতটা বিশেষ কেউ ভাবছো কেনো? ফ্যান্টাসি থেকে বেরিয়ে আসো। তোমার মতো আবেগে গা ভাসিয়ে চলা সদ্য কিশোর বা কিশোরী নই যে যার তার প্রেমে পড়ে যাব। আমি যে বিবাহিত সে খবর রাখোনি? এত এত খবর রেখেছো, কেউ তোমাকে এটা জানায় নি আমার বারো বছরের ছেলে সন্তান আছে?
অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে মোনা। তবুও হেসে উঠলো। মনোযোগ দিলো অংক কষাতে।
বহমান স্রোতের মত সময় পেরিয়ে গেলো। ঋতু বদলে গেলো। বর্ষার বারিধারা হঠাৎই হেসে ভাসিয়ে দেয় ধরনী আবার চলে যায় না বলে। কখনো ঝকঝকে পরিষ্কার আকাশ তো কখনো অমোঘ বিষন্ন মেঘ। প্রকৃতির এই লীলাখেলা কতই না সুন্দর চোখে দেখতে!
কোচিং ক্লাস শেষ করে নিচতলার সিড়িতে অপেক্ষা করছে। চয়নের সাথে রেস্টুরেন্টে বসার কথা। কলেজের পাশে ছোট রেস্টুরেন্ট। মাঝে মাঝেই বন্ধুদের সাথে এখানে আসা হয়। কিছু চাইনিজ নাস্তা পাওয়া যায়। রেস্টুরেন্টে বসার কারণ মোনা জানেনা। কোচিং, কলেজ এবং প্রাইভেট ব্যতীত সব ভুলে পড়াশোনায় পূর্ণ মনোযোগ দিয়েছে। গত দশ মাসের আচরণ বেশ লক্ষ্যনীয়। মাঝে সাঝে চয়ন বাসায় এসে টুকটাক গল্প করতো। প্রতিটি ধাক্কা ছিলো অস্বাভাবিক, ধ্বংসাত্মক। যার ধাক্কা সামলাতে গিয়ে অসহনীয় দূর্ঘটনার শিকার হয়েছে অষ্টাদশী। চয়ন ওয়েটারকে অর্ডার দিয়ে চেয়ারে বসেই দেখে অন্যমনস্ক মোনাকে,
– মোনা…
চয়নের ডাকে সম্বিত ফিরে মোনার। জীবনের প্রারম্ভিকে যে ভুলটা করে বসেছে তার মাশুল কিভাবে দিবে? নির্বাচনী পরীক্ষা শেষ হলো। পাশ করার মতো পরীক্ষা দিয়েছে। অথচ সব বিষয়েই ভালো দখল ছিলো মোনার গণিত ব্যতীত। চোখের নিচে আজ কালির রেখা। ভেঙে গিয়েছে ভেতরে ভেতরে। অন্তর্দহন কি বুঝে বাহ্যিক বিশ্ব? চয়নের দিকে তাকিয়ে বললো,
– বল শুনতে পাচ্ছি।
– কি হয়েছে তোর? কেঁদেছিস,মন খারাপ জানিয়েছিস, আন্টির কথা মনে পড়ছে বলেছিস। সব শুনেছি গত এক বছর। দুই মাসের বেশি তো বিছানায় ছিলি। সত্যি কথা লুকিয়েছিস। কি সেটা? আন্দাজ করতে পারছি পারিবারিক ঝামেলা হয়তো ? বাসায় যতবার গিয়েছি সব তো স্বাভাবিক মনে হলো। তবে ঘাপলা কোথায়?
দুটো স্যান্ডউইচ টেবিলে দিয়ে গেলো। কিছু কথা চাইলেও চয়নকে বলা যাবে না। মোনা মৃদু হেসে বলে,
– সব কিছু নিয়ে আমি অনেক আপসেট চয়ন। দাদীকে দেখিস না সারাক্ষন খিটমিট করে। বাবাকে আমার অনেক অসহায় লাগে। আমার জন্য জীবনে কাউকে আনে নি। নিজেকে অপরাধী মনে হয়। তাই গুটিয়ে ফেলেছি নিজেকে।
– আর কিছু অর্ডার দিবো?
– নাহ। ক্ষুধা নেই আমার। স্যার কেমন আছেন?
– আলহামদুলিল্লাহ।
চয়নের মুখে শুনেছিলো এহসান স্যার বিয়েটা নিজেই ভেঙে দিয়েছিলো। বিস্তারিত চয়ন জানে না। স্যারের পোস্টিং এখন রাজশাহীতে কোনো এক কলেজে। চয়নের সাথে কথা হয় প্রায়ই। হয়তো তাদের মধ্যে ভালো বোঝাপড়া তৈরি হয়েছে। উদাসীন গলায় বললো,
– আমার কিছুই ভালো লাগেনা এখন আর।
– কেনো?
– জানি না।
আজ মোনা ভেবেছিলো মনের সবটুকু কষ্ট উজাড় করে প্রাণপ্রিয় বান্ধবীকে জানিয়ে দিবে সব। অথচ যা হলো তা মোটেও কাম্য ছিলোনা। মুখ দিয়ে একটি শব্দ ও বের হলোনা। বিপরীতে ভেতরটা আরো জমে গেলো। মনে হলো সেই সময় এখনো আসেনি।
একাকী রাস্তা জীবনের একান্ত সকল ভাবনার সঙ্গী। চয়নের সাথে কথা বলার পর মন কিছুটা হালকা হলো। এক জোড়া কপোত- কপোতী রাস্তায় বেশ অভিমানরত দেখা যাচ্ছে। মোনার বেশ মজা লাগলো। একটু এগিয়ে গিয়ে দেখা যাক কি হচ্ছে এদের মাঝে? এদের তর্ক বিতর্ক দেখে বুঝা গেলো চরম ঝগড়া হয়েছে দুজনের মাঝে তৃতীয় পক্ষের জন্য। হঠাৎ মনে পড়লো মোনা আর ইমরানের মাঝে কি তৃতীয় পক্ষ ছিলো! ভাবতে ভাবতে অফিসের একটা মজার ঘটনা মনের কোণে উঁকি দিলো। সেবার বাবা,মামা এবং ইমরান সাহেবের মিটিং ছিলো সম্ভবত বিজিএমইএ তে। মোনার কলেজ থেকে অফিসে এসেছিলো বাবার কাছে প্রোগেস রিপোর্ট নিয়ে। দুপুরে ক্ষুধা লাগাতে সাদাফদের সাথে লাঞ্চ করতে বসেছে। সবাই ভাত খেতে ব্যস্ত আর মোনা একটা বার্গার নিয়ে বসেছে। পর্যায়ক্রমে সবাই যত্ন করে মোনাকে মুখে তুলে খাইয়ে দিচ্ছে। সাদাফ যখনই মুখে তুলে খাওয়াবে ঠিক তখনই হাজির হলো অফিসের হেডমাস্টার মশাই। পেছনে ছিলো তার সাঙ্গ নয়ন। সাদাফের দিকে এমনভাবে তাকিয়েছিলো সেবার বেচারা ভুলেই গিয়েছিলো সে খেতে বসেছে। মোনা আগ বাড়িয়ে সাদাফের থেকে নলা নিলো। ইমরান কথা না বাড়িয়ে নয়নের দিকে তাকিয়ে চলে গেলো। ক্যান্টিনে সে কখনোই আসেনা। আজ কেনো এলো! নয়ন সাদাফদের একটু চিন্তিত হয়ে বললো,
– খাবার শেষ করে দ্রুত আসো। মিটিং আছে। একটা ফাইলে ঝামেলা হয়েছে। কোয়ালিটি এপ্রুভ হয়নি।
মোনা বার্গার শেষ করে সকলের পিছু নিলো। কেনো যেন আজ মনে হলো ইমরানের তাকানোর মাঝে অন্যরকম রাগ ছিলো। যেমনটা সেদিন তামান্নাদের বাড়িতে ছিলো। বাইরে থেকে নক করে ইমরানের কামরায় ঢুকলো। হাতে কফি এবং ল্যাপটপে কাজ করছে। সরাসরি প্রশ্ন,
– কোনো কাজ আছে?
মোনা আমতা আমতা করে বললো,
– কাজ না একটা কথা।
ইমরানের তাকানোর ভঙ্গি দেখে মোনা নিজ থেকেই বললো,
– আসলে সাদাফ ভাইয়া একা খাওয়ায় নি। সবাই খাইয়ে দিয়েছে…
– ডিড আই আস্ক এনিথিং টু ইউ?
– নো।
– সো ডোন্ট ওয়েস্ট মাই টাইম। লিভ।
চোখ মুখে কান্না ভাব করে বললো,
– আপনি আমাকে সবসময় ভুল বুঝেন কেনো। আমার কান্না পায়। এখনো ভুল বুঝলেন। উনি আমার ভাইয়ের মত। আপনি জেলাস ফিল করেন কেনো উনাকে?
বড় বড় চোখ করে ইমরান হতবাক হয়ে চেয়ে রইলো। এদিকে মোনা কি বললো হুশ হারিয়ে নিজেই জানেনা। মুখে হাত দিয়ে বলে,
– স্যরি, আমি এভাবে বলতে চাইনি।
ইমরানের মস্তিষ্ক কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে, কি বললো এই মেয়ে? এদিকে মোনা ইমরানের একেবারে সামনে চলে এসেছে। এতটা কাছে ইমরান নিজেই ঘাবড়ে গিয়েছে। মোনা চোখে মুখে অসহায় ভাব করে বললো,
– এই যে সমান সমান করে দিলাম, আর সাদাফ ভাইয়াকে জেলাস করতে হবেনা।
এতটুকু বলে ইমরানের মগ থেকে এক চুমুক কফি গিলে জিহবা বের করে বললো,
– এ্যা কি তিতা, আপনার মত। মনে রাখবেন আপনার জন্য আজ আমি এই কুখাদ্য খেলাম। দু চামচ চিনি দিয়ে খেলেও তো স্বাদ একটু বাড়তো।
ছুটে পালিয়ে গেলো। পেছনে ইমরানের হতবাক মুখভঙ্গি রেখে গেলো। পেছন ফিরে তাকানোর সাহস হলোনা মোনার।
প্রিয় মোনালিসা পর্ব ১৩
পুরোনো কথা মনে পড়তেই রাস্তায় হেসে দিলো আনমনে, মাঝে মাঝে মনে হয় ছোট ছিলাম বেশ ছিলাম। বড় হতে হতে স্মৃতি সব হারিয়ে যায়। এক বছরে এমন কি বড় হলাম। তবে এখন চাইলেও এসব দুষ্টুমি খুনশুটি করতে পারবোনা। সময় মাঝে মাঝে অনেক বাস্তবতা শেখায়। শিখিয়েছে তার তাৎপর্য। আজ মোনা বুদ্ধিতে পরিপক্ব। আবেগকে অনেকটা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছে, মাঝে মাঝে শুধু রাতে ঘুম আসেনা। অজানা কষ্ট হয় মানুষটার জন্য। মাঝরাতে ঘুম থেকে উঠে বেশ কিছুক্ষন সময় নিয়ে কেঁদে নিজেকে হালকা করে। আজকে হয়তো কাঁদার দিনগুলোর মাঝে একটি। সারাদিন,রাত আজ কাঁদবে। বাসায় কেউ নেই। বাবা ও অফিসে। অশ্রুঝরা দিনগুলো মোনার একাকী কাটে।
