Home প্রেমসুধা সিজন ২ প্রেমসুধা সিজন ২ পর্ব ৫১

প্রেমসুধা সিজন ২ পর্ব ৫১

প্রেমসুধা সিজন ২ পর্ব ৫১
সাইয়্যারা খান

সফেদ বিছানায় চোখ বুজে ঘুমিয়ে আছে তৌসিফ। পিঠের বাম সাইডের কাঁধ থেকে চার সেন্টিমিটার নিচে বুলেট বিঁধেছিল। সময় মতো হাসপাতালে পৌঁছানোর দরুন চিকিৎসা হয়েছে খুব দ্রুত। বুলেট বের করা হয়েছে গতকাল রাতেই। মিরপুরের পাশের ডায়াগনস্টিক হাসপাতালটা তৌসিফদেরই। এই হাসপাতালের সাথে পুরাতন সম্পর্ক তালুকদার বাড়ীর তিন ভাইয়ের। ড্রাইভার বুদ্ধিমান বলেই উদ্ধার হলো এ যাত্রায়। রনি, টনি পৌঁছেছ সেই রাতেই। তুরাগ বাসায় ছিলো না।

তার কাছে খবর যাওয়া মাত্রই ছুটে এসেছে ভাইয়ের কাছে। পরিচিত সকল মুখ হওয়ার দরুন পুলিশ কর্মকর্তারা তৎপর হয়ে কাজ করছেন৷ ড্রাইভার থেকে যতটুকু জানলেন তাতে স্পষ্ট এটাই যে ইচ্ছাকৃত তৌসিফ তালুকদারকে শ্যুট করে তার ওয়াইফকে কিডন্যাপ করা হয়েছে। তুরাগ রাত থেকেই চিন্তিত। পুলিশের এসআই তাদের পরিচিত। নাম জুবায়ের কবির। গতকাল চলে গেলেও আজ আবার এসেছেন। তুরাগ রাত থেকেই হাসপাতালে। শোনা মাত্রই আদিত্য, মীরা, অদিতি চলে এসেছে। পলক কোথা থেকে খবর পেয়েছে কে জানে, সেও উপস্থিত এখানে। জুবায়েরের সাথে আরো দু’জন এসেছে। একা জুবায়ের এগিয়ে এলো। তুরাগ খানিকটা বিরক্ত হলো বটে। এই সময়ে পুলিশের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মন বা ইচ্ছে কোনটাই তার নেই। জুবায়ের তুরাগের দৃষ্টি বুঝলো তবুও সামান্য নত হয়ে বললো,

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

“ওনার ওয়াইফের খোঁজ পাওয়া যায় নি। এছাড়াও সিসিটিভি ফুটেজ চেক করা হচ্ছে কিন্তু তারা যেই স্থানে ছিলো সেটা স্যার সলিমুল্লাহর সিঁড়ির দিকে। ওখানকার স্পষ্ট ফুটেজ পাওয়া যাচ্ছে না। এই বিষয়েই কিছু কথা ছিলো।”
তুরাগের কাঁধে মাথা দিয়ে ছিলো অদিতি। মেয়েকে রেখে তুরাগ সাইডে এলো। জুবায়ের নম্রতা নিয়েই বললো,
“আমি জানি এটা কথা বলার ঠিক সময় না কিন্তু তৌসিফের ব্যাকগ্রাউন্ডে রাজনৈতি নামক শব্দটা জুড়ে। নিজ দলের হয়েও সে বিপক্ষের হয়ে প্রচারণা চালিয়েছিলো। সন্দেহ করছি, সম্রাট চেয়ারম্যানের মতো কিছু না হোক।”
তুরাগ ভড়কে গেলো। গম্ভীর কণ্ঠে বললো,
“রাজনীতি? তৌসিফ দলের হয়ে কোন পদ গ্রহণ করে নি আজ পর্যন্ত। বিপক্ষ দলের কথা বলছো, উমায়ের শিকদারের সাথে ওর ভালো সম্পর্কেও না আবার খারাপও না।”

“সম্রাট চেয়ারম্যানকে তো নিজ দলের লোকই হত্যা করেছিলো।”
“ইতিহাস পুনরাবৃত্তি হবে না।”
“হতেও পারে।”
“তুমি বলতে চাইছো আমাদের দলেরই কেউ এই কাজ করেছে? সম্রাট ভাইজানের বিষয়ে কতটুকু জানো? শোনা কথা আর বাস্তবতায় আকাশ-পাতাল তফাত থাকে কবির। ভাইজানের হাতে ক্ষমতা ছিলো। চেয়ারম্যান ছিলেন। তৌসিফ এসবের কোনটাই না৷”
“ফরদিকে সন্দেহ করছি।”
সহসা খানিকটা চমকালো তুরাগ। জুবায়ের নিজ আন্দাজে বললো,
“যতটুকু জানি শুধু মাত্র তৌসিফ বলায় ফরিদ এবারে উপজেলা নির্বাচনে দাঁড়ায় নি৷ হয়তো মুখের উপর না করতে পারে নি। সবটা উমায়ের শিকদারের হাতে এখন৷ শুধু মাত্র সন্দেহ করছি।”

“তোমাদের খুব জঘন্য বৈশিষ্ট্য এটা কবির৷ পুরো দস্তুর ঘটনা শুনিয়ে শেষে বলো সন্দেহ।”
একটু থেমে তুরাগ পুণরায় বললো,
“বুলেট বেরিয়েছে। যাই করো না কেন তৌসিফ জাগ্রত হওয়ার আগে করো। উঠে যদি পৌষকে না পায়, খুনখারাপি করে ফেলবে।”
জুবায়ের ক্ষুদ্র শ্বাস ফেললো। বললো,
“সন্দেহের তালিকায় আরেকজনকে রাখছি।”
তুরাগ তাকালো। নামটা শুনে অবাকও হলো। মাথা নেড়ে বললো,
“প্রতিমন্ত্রী? উনি এ কাজ করবেন? আমাদের বাসায় এসে খেয়ে গিয়েছেন নির্বাচনের আগে।”
“মানুষ যেই পাতে খায় সেই পাতেই ছেদ করে জনাব।”
তুরাগের মনেও সন্দেহ জাগলো। জুবায়ের তৌসিফের খোঁজ নিয়ে বিদায় নিতেই তুরাগ হাত মিলিয়ে বললো,

“পৌষের খোঁজ নাও।”
“জি।”
জুবায়ের চলে যেতেই সেখানে হেমন্ত উপস্থিত হলো। সে শুধু জানে তৌসিফ গুলিবিদ্ধ হয়েছে। রনি ফোন দিয়ে জানালো তাকে। দ্রুত পায়ে এগিয়ে আসতেই
রনি ডাকলো,
“হেমন্ত, এখানে।”
পদযুগল থামলো তার। রনির কাছে এসে উদ্বিগ্ন হয়ে জিজ্ঞেস করলো,
“ভাই কোথায়?”
“ঘুমাচ্ছেন। জ্ঞান ফেরেনি।”
“কিভাবে হলে রনি? খোঁজ পেয়েছো?”
“ইন্সপেক্টর জুবায়ের এসেছিলেন৷ মাত্র গেলেন৷ তদন্ত চলছে।”
হেমন্ত এদিক ওদিক তাকালো৷ কাঙ্খিত মানুষটাকে না দেখে বললো,

“পৌষকে দেখেছো? ও কোথায়?”
রনির মনে পরলো। সে তো হেমন্তকে জানায়ই নি পৌষকে যে তুলে নিয়ে গিয়েছে। হেমন্তের কাঁধে হাত রেখে ব্যথিত স্বরে জানালো,
“ভাবীকে তুলে নিয়ে গিয়েছে। ড্রাইভার এতটুকুই জানেন।”
“কিহ!”
হেমন্তের আত্মা খাবলে ওঠে। বুকের অস্থিরতা অনিয়ন্ত্রিত হয়। ওর কণ্ঠে বাকিরাও তাকালো এদিকে। হেমন্তের অবস্থা তখন আর ঠিক রইলো না৷ তার বাচ্চাটাকে তুলে নিয়ে গিয়েছে অথচ এদের কারো মুখে কোন চিন্তার ছাপ নেই। যা আছে, যতটুকু আছে পুরোটাই তৌসিফের জন্য। হেমন্ত ঢোক গিলে বললো,

“কোন খোঁজ? কোন পুলিশে খবর দিয়েছো?”
“ইন্সপেক্টর জুবায়ের দেখছেন।”
“দেখছেন? গতকাল রাত থেকে নিখোঁজ আমার বোন৷ জলজ্যান্ত মানুষ খুঁজে পেলো না।”
বলেই তুরাগের দিকে তাকালো৷ পৌষের ভাই হওয়ার আগে থেকে তৌসিফের বড় একটা প্রজেক্ট সামলাচ্ছিলো হেমন্ত। সেই সুবাদে তুরাগও তাকে ভালোই চেনে। তুরাগের দৃষ্টিতে তেমন কোন ব্যাস্ততা দেখলো না হেমন্ত। রনিকে জিজ্ঞেস করলো,

“ড্রাইভার কোথায়?”
“বাসায়।”
হেমন্ত এক দুই পা করে বেরিয়ে গেলো সেখান থেকে। ওর পৌষ কোথায়? কোথায় খুঁজবে এখন হেমন্ত?
রিক্সায় চড়েই ফোন করলো রনিকে। ড্রাইভারের নাম্বার নিয়ে ফোন করলো তাকে। দেখা করবে জানিয়ে কল দিলো শ্রেয়াকে। ওপাশ থেকে হ্যালো বলতেই হেমন্ত থেমে গেলো৷ এই মূহুর্তে শ্রেয়াকে বলা কতটুকু ঠিক হবে বুঝলো না ও। ওপাশ থেকে শ্রেয়া দ্বিতীয় বার ডাকলো,

“হেমন্ত? হেমন্ত?”
গলা ঝেড়ে উত্তর করে হেমন্ত। শ্রেয়া চিন্তিত স্বরে জানতে চাইলো,
“তৌসিফ ভাই কেমন আছেন?”
“জ্ঞান ফেরে নি এখনও।”
“পৌষটা কি করছে? ওকে ফোন দিলাম। ধরছে না। একটু কথা বলিয়ে দিন তো। ও তো কাউকে বলতেও পারবে না। আপনি ওর সাথে থাকুন হেমন্ত। আমার সাথে কথা বলিয়ে দিন।”
হেমন্ত একটু চুপ করে গেলো। থমকে যাওয়া স্বরে বললো,
“আমি বেরিয়ে এসেছি শ্রেয়ু।”
শ্রেয়া একটু চুপ করে গেলো পরপর বললো,

“সাবধানে আসুন।”
“একটু দেড়ী হবে।”
“হেমন্ত?”
“শুনছি।”
“সব ঠিক আছে? আপনি ঠিক আছেন? খারাপ কিছু ঘটেছে কি? আমার কেমন জানি লাগছে।”
হেমন্ত চুপ করে গেলো। শ্রেয়ার সাথে মিথ্যা সে বলতে চাইলো না৷ সত্যি বলাটাও সম্ভব হলো না। পৌষকে নিজের বোনের মতোই আদর করে সে। শুধু কথা কাটিয়ে রেখে দিলো ও। ড্রাইভারের সাথে সরাসরি কথা না বললে হেমন্ত কোন উদ্যোগ নিতে পারছে না। আকাশ পানে হা করে তাকালো হেমন্ত। তার গলায় দলা পাকিয়ে কান্না আটকে আসছে। এই মাঝ রাস্তায় কান্না করা যাবে না। কেন যাবে না? হেমন্ত নিজের সন্তান হারিয়ে ফেলেছে। সন্তানহারা বাবারা কি কাঁদে না? কাঁদে তো তাহলে হেমন্ত কেন কাঁদবে না? জ্বলে ওঠা চোখ দুটো শার্টের হাতায় মুছলো ও। চেপে আসা বুকটা ডলে বিরবির করে বললো,
“পৌষ, বাচ্চা আমার। কই তুই? তোর হেমু ভাই কোথায় খুঁজবে তোকে?”

ঠাস করে একটা শব্দ হলো বদ্ধ ঘরে। নিঃস্তব্ধ কক্ষে শব্দটা জোড়ালো শোনালো। গালে হাত দিয়ে মাথাটা নিচু করে নিলো রাফিদ। উমায়ের ভাইয়ের কলার চেপে ধরলো। চোয়ালের কঠোরতায় কণ্ঠ জমে এলো তার।
“তুই কাকে তুলে এনেছিস এটা জানোয়ার?”
রাফিদ চরমভাবে ক্ষুদ্ধ হলো তবে প্রতিক্রিয়া দেখালো না। কোনরকম ভাবে বললো,
“তোমাকে তো বলেছিলাম ভাই৷ জানিয়েছিলাম আমি একজনকে ভালোবাসি।”
দ্বিতীয় চড়টা আরেক গালে পড়তেই রাফিদের মুখে নোনতা স্বাদ লাগলো। গাল কেটেছে বোধহয়। উমায়ের চাপা শ্বাস ফেলে হিসহিসিয়ে বললো,

“চিনিস একে? জানিস ও কে?”
“পৌষরাত হক ওর নাম ভাই৷ হক বাড়ীর মেয়ে। মা-বাবা নেই। চাচার কাছে থাকতো।”
নিঃশ্বাস চেপে উচ্চারণ করলো রাফিদ। উমায়ের ভাইয়ের হতবুদ্ধি দেখে হতাশ হলো। চোখে বারুদ জমলো তার। কলারটা আরেকটু চেপে ঝাঁকিয়ে ক্ষুব্ধ স্বরে বললো,
“বিবাহিত মেয়ে এটা। শুনেছিস তুই? আরেকজনের বউ তুলে এনেছিস!”
রাফিদ অবাক হওয়া দৃষ্টিতে তাকালো। আস্তে করে জিজ্ঞেস করলো,

“তুমি চেনো ওকে ভাই?”
“জানোয়ারের বাচ্চা, তৌসিফ তালুকদারের বউ ও।”
“তো? কি হয়েছে তাতে? আমি জানি ও কার বউ? তুমি ওসব ভেবো না ভাই। ওসব কোন ব্যাপার না। আমি ব্যাবস্থা করে এসেছি।”
কপাল কুঁচকে গেলো উমায়ের। সন্দিহান কণ্ঠে বললো,
“এক মিনিট, ব্যাবস্থা করেছিস মানে? আর তুই ওকে কোথা থেকে তুলেছিস গতরাতে?”
“তৌসিফকে শ্যুট করে তুলে এনেছি। মিটফোর্ডের ওখান থেকে।”
হাত দুটো কলার থেকে আলগা হতেই রাফিদ ভাবলো হয়তো ভাই এবার খুশি হবে। রাফিদ তো কোন পিছুটান রাখে নি। তৌসিফই না থাকলে পৌষ যাবেটা কারে কাছে? চাচারা নিশ্চিত ততটাও ভালো না যে বিধবা ভাতিজি রাখবে। তাহলে ঘুরেফিরে কে পাবে পৌষকে? এই রাফিদ শিকদারই তো পাবে।
আচমকা মুখ বরাবর ঘুষি পড়তেই ছিটকে নিচে পড়লো রাফিদ। উমায়ের গর্জ ওঠে তখন,

“জানোয়ারের বাচ্চা তুই কি করেছিস এটা?”
“ভা..ভাই..।”
রাফিদ কিছু বলার আগেই উমায়ের টেনে তুললো ওকে। অতি চিন্তায় ঘাম ছুটে গেলো ওর। কোনমতে বললো,
“তুই মামার কাছে যা। জলদি যা।”
“মামার কাছে? এখন দেশের বাইরে কেন যাব? আমি পৌষকে বিয়ে করব ভাই। শুধু শুধু তুলে আনি নি।”
“তৌসিফ তোকে কুত্তা দিয়ে খাওয়াবে।”
কথাটা ঠান্ডা স্বরে বললো উমায়ের।
“আমি ওকে ভালোবাসি।”
রাফিদের দাঁতের ফাঁক গলে কথাটা বেরোল আর সঙ্গে সঙ্গে উমায়ের ওর চোয়াল চেপে ধরলো। তীক্ষ্ণ বাজখাঁই গলায় বললো,

“জানে মেরে দিব রাফিদ।”
“তুমি বলেছিলে মেয়ে রাজি না হলে তুলে আনতে। এখন এমন কেন করছো ভাই? ঐ তৌসিফ আমার কি করবে? আমার ভাই উপজেলা চেয়ারম্যান আর তৌসিফ সামান্য এক বিপক্ষদল!”
“তোর ভাইকে এই গোটা পাড়া থেকে এক ভোটও দিতো না জনগণ। শোকর কর, তৌসিফ ছিলো বলে কাজটা হলো নাহয়…”
থেমে গেলো উমায়ের। রাফিদকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে ধপ করে বসে পড়লো কাঠের চেয়ারটায়। গোডাউনের এই জায়গাটায় নেশা করে ছেলেপেলেরা। তৌসিফ যদি জানে বা ঘূর্ণাক্ষরেও টের পায় তাহলে রাফিদকে জীবিত ছাড়বে না। হঠাৎ ভাইয়ের পায়ে পড়লো রাফিদ। তার চোখ দুটো টকটকে লাল। আবদার ধরে বললো,
“ভাই..ভাই তাহলে পৌষকে নিয়ে যাই মামার কাছে? দেশের বাইরে গেলে তৌসিফ জানবে না।”
“তুই না ব্যাবস্থা করে এসেছিস?”

রাফিদ কথা বলে না। উমায়ের এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো,
“নিশানা কোন সাইড ছিলো?”
“পিঠে লেগেছে ভাই। মাথায় করতে চেয়েছিলাম।”
“ব্যাস, তোর কবর দেখার সৌভাগ্যও হবে না আমার রাফিদ। প্রতিমন্ত্রীও তৌসিফ ছাড়া এদিক ওদিক হচ্ছে না আজ-কাল। ভেগে যা নাহয়… ”
“পৌষ ছাড়া যাব না আমি।”
কণ্ঠে সামান্য জেদ তার। উমায়ের ধাক্কা দিয়ে সরালল ওকে। চিৎকার করে ডাকলো কাউকে। আশেপাশেই ছিলো সকলে। আসা মাত্রই শক্ত চোয়ালে বললো,

“একে নিয়ে যাও আমার চোখের সামনে থেকে। সোজা মামার কাছে পাঠাবে।”
দু’জন আসতে নিলেই রাফিদ চেঁচালো,
“খবরদার! ধরবি না আমাকে। ভাই? ভাই পৌষকে সাথে দিয়ে দাও। প্লিজ ভাই। ওকে দিয়ে দাও আমাকে। আমি আর কিছু চাইব না কখনো। শুধু পৌষ দিয়ে দাও ভাই। ভাই..প্লিজ ভাই।”
আর শোনা গেলো না। রাফিদকে সরাসরি কানাডা পাঠাচ্ছে উমায়ের। দেশে থাকলে তৌসিফ ওর দেহে জান রাখবে না।

প্রেমসুধা সিজন ২ পর্ব ৫০

দুই এক পা করে হেঁটে এলো উমায়ের। ময়লা, বদ্ধ কামরার চেয়ারে জ্ঞানহীন বাঁধা অবস্থায় পড়ে আছে পৌষ। মাথাটা ডান পাশে কাত হওয়া। তৌসিফ তালুকদারের বউ যাকে খুব সামলে রাখে তৌসিফ। আজ পর্যন্ত কাউকে দেখায় নি ততটা। উমায়ের আরেকটু এগিয়ে এলো। মনোযোগ দিয়ে দেখলো মুখটা। কি আছে এতে যে তৌসিফ গললো? কি আছে এই রূপে যা রাফিদের মতো ছেলেকে সরাসরি বিয়ে করতে টানলো? বিবাহিত জেনেও কেন এত উন্মাদ হলো তার ভাই? কিছু তো অবশ্যই আছে। সাধারণ এই মুখটার পেছনে অবশ্যই কিছু আছে।
এদিক ওদিক হাঁটলো কিছুক্ষণ উমায়ের। একে কোথায় ফিরাবে? ফেরত পাঠাবেটা কিভাবে? তৌসিফ কোন ভাবে টের পেলে তার ক্ষমতা ছুটে যেতে সেকেন্ডও লাগবে না। উমায়ের চিন্তিত হলো। তার কপাল বেয়ে লবনাক্ত পানি গড়ালো চিকন ধারায়।

প্রেমসুধা সিজন ২ পর্ব ৫২