Home প্রেমের নীলকাব্য প্রেমের নীলকাব্য পর্ব ৫০

প্রেমের নীলকাব্য পর্ব ৫০

প্রেমের নীলকাব্য পর্ব ৫০
নওরিন কবির তিশা

নবপ্রভাতের অপার্থিব স্নিগ্ধতা যেন ঘরের জানালার পর্দা ঠেলে ভেতরে এসে লুটিয়ে পড়ছে। তিহু আজ অনেক ভোরেই জেগে উঠেছে। দীর্ঘদিন পর কাছের মানুষগুলোর সঙ্গে দেখা হওয়া উপলক্ষে;মনের কোণে এক অদ্ভুত চপলতা। সকাল সকাল দীর্ঘ শাওয়ার সেরে সে কক্ষের দীঘল আয়নার সামনে দাঁড়াল,সুদীর্ঘ তার কেশরাশি বেয়ে তখনও শ্রাবণের ধারার মতো টুপটুপিয়ে গড়িয়ে পরছে আবরত।তিহু কাঁধ থেকে ঝুলিয়ে রাখা ওড়নার আঁচলটা পুনরায় কাঁধে তুলে নিতে নিতে একবার বিছানার দিকে তাকাল।

​নীল তখনও গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। তার প্রশান্ত মুখচ্ছবির দিকে তাকিয়ে তিহুর ঠোঁটের কোণে একটি দুষ্টুমিভরা হাসি খেলে গেল। নীলের সেই অঘোর ঘুমাচ্ছন্নতায় তিহুর দুষ্টুমি ভরা মস্তিস্কে খেলে গেল আরেক দুষ্টুমির ঘনঘটা।​সে পা টিপে টিপে বিছানার একদম কাছে গিয়ে দাঁড়াল। তার পিঠের ওপর এলিয়ে থাকা জলসিক্ত একগোছা কেশরাজ সজোরে একবার ঝাড়া দিল নীলের ঘুমন্ত মুখশ্রীর ওপর।

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

ঠিক যেন পদ্মপাতার ওপর জমে থাকা শিশিরবিন্দু আচমকা ঝোড়ো হাওয়ায় ঝরে পড়ল। শীতল জলের অবাধ্য কণাগুলো নীলের প্রশস্থ ললাট ছুঁয়ে তীক্ষ্ণ চোয়ালে বিঁধতেই সে এক অদ্ভুত আবেশে চোখ মেলল​ নীল। আধবোজা চোখে দেখল, তার সামনে দাঁড়িয়ে তার অর্কিড—যার চুলে মেঘের ঘনঘটা আর চোখে ভোরের শুকতারা। মুখে পানির ছিটে লেগে ঘুমের ঘোরটা এক নিমিষেই কেটে গেল,কিন্তু সেই মুগ্ধতা কাটল না।
এদিকে নীলকে হঠাৎ এমন জেগে যেতে দেখামাত্র বিস্মিত তিহু ছুটে পালাতে উদ্যত হতেই নীল হাত বাড়িয়ে বিদ্যুৎগতিতে তার ওড়নার আঁচল টেনে ধরল। এক ঝটকায় তিহু আছড়ে পড়ল নীলের লোমহীন প্রশস্ত বক্ষদেশে। নীলের হাত দুটো মুহূর্তেই তিহুর কোমরে শক্ত বেড়ি পরিয়ে দিল। তিহু নিজেকে সামলে নিয়ে অপ্রস্তুতভাবে নীলের চোখের দিকে তাকাতেই নীল মৃদু হেসে ঘুম ঘুম কণ্ঠে বলল,

—’সকাল সকাল কি আমারে ঘায়েল করার যুদ্ধে নেমেছেন ম্যাডাম?
তিহু খানিকটা লজ্জা আর জেদের সংমিশ্রণে নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করে বলল,,
—’উফ, ছাড়ুন! সবাই ওয়েট করছে আমাকে রেডি হতে হবে। আর দেখুন, আমার ভিজে চুলে আপনার শার্টটাও ভিজে যাচ্ছে।
তিহু এমন সঞ্চালনায় নীল আরও একটু শক্ত করে জড়িয়ে ধরল ওকে। ওর নাকটা তিহুর নাকের সাথে ঘষে দিয়ে ফিসফিস করে বলল,,
—’শার্ট ভিজুক না হয়, ক্ষতি নেই। কিন্তু এই যে আগুনটা জ্বালিয়ে দিয়ে আপনি যাচ্ছেন,ওটা নেভানোর দায়িত্ব কার?
প্রত্যুত্তরে তিহুকে নিশ্চুপ দেখে নীল ফের বলল,,–‘ তো?সকাল সকাল এইভাবে ঘুম ভাঙানো কারন টা কি জানতে পারি ম্যাডাম?

—’এমনি।
নীল বাকাঁ হেসে বলল,,—’এমনিই…?নাকি….!
তার কথার মর্মার্থ বুঝে তিহু কিঞ্চিৎ রাগান্বিত হওয়ার অভিনয় করে আলতো তাকে ধাক্কা দিয়ে বলল,,—’খুব বেশি কথা বলেন আপনি। আমি তো জাস্ট চেক করছিলাম মিস্টার আপনার ঘুমের ডিপনেস কতটুকু।
নীল তিহুর চিবুকটা আলতো করে ধরে ওর দৃষ্টি আটকে দিলো নিজের চোখে। তারপর বেশ গাঢ় স্বরে বলল—
—’আমার ডিপনেস চেক করতে যেও না নুর, তল খুঁজে পাবে না। আর শোনো, কয়েক দিনের জন্য যাচ্ছ যাও, কিন্তু ওখানে গিয়ে বেশি চঞ্চল হওয়া চলবে না। মনে থাকে যেন, তোমার প্রতিটি শ্বাস আর এই চঞ্চলতাগুলো এখন আমার পারসোনাল প্রপার্টি। দূরে থাকলেই যে তুমি আমার রেঞ্জ থেকে বাইরে চলে যাবে, সেই ভুল করো না কিন্তু।

তিহু ছলেবলে কৌশলে নিজেকে নীলের বন্ধন থেকে মুক্ত করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। নীল সামান্য অন্যমনস্ক হতেই মুহূর্তেই সেই সুযোগ লুফে নিল তিহু। বন্ধন সামান্য শিথিল হতেই তা থেকে চট-জলদি নিজেকে ছাড়িয়ে নিল সে। দ্রুত দৌড়ে রুম থেকে বাহির হয়ে যেতে যেতে বলল,,
—’আই নো মিস্টার!
তিহুর এমন চঞ্চলতায় উঠে বসে তাকে ধরতে গিয়েও আনমনে মুচকি হাসলো নীল।

ঘড়ির কাঁটা সকাল দশটা ছুঁই ছুঁই। জীবনে প্রথমবারের মতো নিজের পৈত্রিক ভিটে‌য় ফেরার সৌভাগ্য হয়েছে রাফার। তাও মাকে নিয়ে সসম্মানে। দিন টা একটু বেশিই আনন্দ আর উদ্দীপনা নিয়ে এসেছে তার জন্য। পরনের মেঞ্জেডা কালারের গাউনটা দুই হাতে সামান্য উঁচিয়ে উচ্ছ্বসিত হয়ে দোতলার করিডোর পেরিয়ে নিচ তলার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল সে।সকলে অপেক্ষমান সেখানেই। রওনা হবে মুহূর্ত কয়েকের মাঝে।
বন হরিণীর মত রাফার চঞ্চলতা;সিঁড়ি দিয়ে দ্রুতবেগে নামতে গিয়েই ঘটল বিপত্তি। ঠিক সেই মুহূর্তেই নিহিত নিচ থেকে উপরে উঠছিল। অতর্কিত এই সংঘর্ষে রাফা টাল সামলাতে না পেরে ছিটকে পড়ে যাচ্ছিল পেছনের দিকে। ভয়ে আর আশঙ্কায় সে চোখ দুটি শক্ত করে বুজে ফেলল,সে।
কিন্তু পতন তাকে স্পর্শ করার আগেই দুটি বলিষ্ঠ হাত লতার মতো তাকে জড়িয়ে ধরল। নিহিত পরম আবেশে আর অসীম সতর্কতায় তাকে পতন থেকে রক্ষা করে নিজের বুকের কাছে টেনে নিল। মুহূর্তকালের জন্য সময় যেন থমকে দাঁড়াল। রাফা অনুভব করল এক নিবিড় আশ্রয়ের স্পর্শ।
ধীরে ধীরে চোখের পাতা মেলে নিহিতের চোখের দিকে তাকাতেই রাফার বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল। নিজেকে সামলে নিয়ে সে এক চিলতে হাসি ফুটিয়ে বলল,

—’উফ! বাঁচালে। অনেক ধন্যবাদ নিহিত ভাই।
রাফা এবার নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে নিচের দিকে পা বাড়াতে চাইল, কিন্তু নিহিতের হাতের বাঁধন আলগা হলো না। সে রাফার পথ আগলে দাঁড়িয়ে শুধাল,
—’বানরের মতো এতো লাফালাফি করছিস কেন? আমি না ধরলে এক্ষুনি তো চিৎ হয়ে পড়তি।
রাফা বিরক্তিতে একগাদা কথা শোনানোর জন্য উদ্বুদ্ধ হলো নিহিতকে। কিন্তু সে আজকে শপথ করেছে একদমই ঝগড়া করবে না কারো সাথে;বিশেষ করে নিহিতের সাথে। শুভদিন টাকে কিছুতেই বানচাল হতে দেবে না সে। সেই উদ্দেশ্যেই রাগটুকু কে সর্বগ্রাসে গিলে জোরপূর্বক হেসে চপল কণ্ঠে সে উত্তর দিল,

—’নিজের বাড়ি যাচ্ছি তো, তাই আর তর সইছে না।
—’ভাবতো এমন করছিস মনে হচ্ছে বিয়ের পর শ্বশুর বাড়ি যাচ্ছিস।
—’ব্যাপারটা মন্দ বলো নি। বয়সটা শ্বশুর বাড়ি যাওয়ার-ই। কিন্তু বিয়ে দিচ্ছে না!
রাফার এমন ‌দুষ্টুমি পূর্ণ কথায় নিহিত রেগে গিয়ে বলল,
—’থাপ্পড় চিনস? শখ কত বিয়ে করবে! তোর মত কানাকে কে বিয়ে করবে শুনি?
রাফা মুখ বাঁকিয়ে বলল,,—’তোমার মত আবা’লকে যদি বিয়ে করার মানুষ থাকে তাহলে আমাকেও বিয়ে করার বহুৎ মানুষ আছে। তাই এখন ছাড়ো আমার পথ যেতে দাও দ্রুত।

—’স্যরি? বাট তুই আ’বা’ল কাকে বললি?
রাফা একবার আশেপাশে তাকালো পরক্ষণে নিহিতের দিকে তাকিয়ে বলল,,,
—’এখানে আমরা ব্যতীত কেউ আছে? আর তো কাউকে দেখছি না। তো কথাটা আমি নিজেকে বলব না, নিশ্চয়ই।
নিহিত রেগে বলল ,,—’থাপড়িয়ে গাল লাল করে দিবো। ভার্সিটিতে কতগুলো মেয়ের ক্রাশ আমি জানিস?
—’যেগুলো আবা’ল তারাই তোমার উপর ক্রাশ খায়! এ আবার নতুন কি?
বলেই সেখান থেকে ছুট্টে পালালো রাফা। নিহিত তার পিছু করতে গিয়েও থমকালো। একরাশ বিষন্নতা আষ্টেপৃষ্ঠে ধরল তাকে যখন মনে পড়ল এই রিনরিনে কণ্ঠস্বর; সকাল বিকাল নিয়ম করে আর শুনতে পাবে না সে। হুট করেই হৃদযন্ত্রটা মোচড় দিয়ে উঠল তার।

বিদায়ের প্রস্তুতিতে নিমগ্ন পুরো ড্রয়িংরুমে বর্তমান ব্যস্তমধুর আবহ। ব্যাগপত্র সব গোছানো, দরজার কাছে রাখা হয়েছে সারি সারি সুটকেস। বাড়ির প্রত্যেকটা নবীন থেকে প্রবীণ সকলে উপস্থিত এখানে। নওফেল হকের উচ্ছাস যেন দৃষ্টিতেই ছাড়িয়ে বেরিয়ে আসছে।দীর্ঘ সময় পর নিজের শেকড়ে ফেরার আনন্দ আর একান্ত প্রিয়জনদের সঙ্গে পুনর্মিলনের উত্তেজনায় তার চোখেমুখেই এক উজ্জ্বল আভা ছড়িয়ে পড়ছে।
সকলে প্রস্তুতি সম্পন্ন করে অপেক্ষমান আয়োজনের মধ্যমণির। ঠিক তখনই সিঁড়ি দিয়ে তড়িঘড়ি করে নেমে এল তিহু। তার পিছু পিছু নীল আসছে বেশ ধীরলয়ে, পকেটে হাত গুঁজে। তিহুর পরনে ল্যাভেন্ডার কালার গাউন সঙ্গে চোখেমুখে চঞ্চলতার ছাপ।
তারা নামতেই নওশাদ হক ওয়ালিদ খানের উদ্দেশ্যে বললেন,,

—’বেলা তো বেশ হয়েছে। তাহলে এবার না হয় আমরা রওনা দেই কি বলিস?
ওয়ালিদ খান সোফা থেকে উঠলেন। নওশাদ হকের উদ্দেশ্যে বললেন,,—’হ্যাঁ হ্যাঁ দেরি করার প্রয়োজন নেই। এমনিতেই আবহাওয়া ভালো না। কখন ঝড় বৃষ্টি শুরু হয় তার থেকে বরং তোরা রওনা দে।
—’আচ্ছা!
নওশাদ হক কথাটা বলার ঠিক পর মুহূর্তেই মির্জা সূচনা তিহুর কাছ থেকে সরে নওশাদ হকের উদ্দেশ্যে বললেন,,
—’মেয়েটা কিন্তু আমাদের। আপনাদের কাছে গচ্ছিত মাত্র কিছুদিনের জন্য। আশা করছি ঠিকমত নজর রাখবেন তার।
মেয়ের প্রতি মির্জা সূচনা এমন ভালোবাসায় মুগ্ধ হলেন নওশাদ হক।স্মিত হেসে বললেন,,

—’ইনশাআল্লাহ।
প্রবীনদের হাসিতে মুখরিত হলো ড্রয়িংরুম। এরই মাঝে তিহু এক ঝলক নীলের পানে চাইল।লোকটা এখনো গাম্ভীর্যের সহিত চেয়ে আছে অপরদিকে;পূর্বের ন্যায় এখনো পকেটে পুরে রাখা হাতে দুটো।তিহুর চপলতা মুহূর্তেই হারিয়ে, বিষন্নতা গ্রাস করল তাকে। হৃদ কুঠুরিতে বিদায় বেদনা তীব্র হলো। তবুও নিজেকে স্বাভাবিক রাখার চেষ্টাই মত্ত হলো সে।
এদিকে রাফা আর নিহিতের নীরব যুদ্ধ তখনও চলছে। রাফা নিজের ব্যাগটা টেনে নিতে নিতে আলতো করে নিহিতকে শুনিয়ে বলল,,

—’যাক, কদিন অন্তত আ’বা’ল মার্কা বকুনি থেকে কান দুটো রেহাই পাবে।
নিহিত পকেটে হাত দিয়ে অন্য দিকে তাকিয়ে তচ্ছিল্যের সুরে বলল,
—’সেম; কদিন অন্তত কারো বাঁদরামো সহ্য করতে হবে না।
সবাই একে একে বাইরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। কিন্তু তিহুর পা দুটো যেন সহসা মাটির সঙ্গে জুড়ে গেছে। গন্তব্য জানা আছে, তবুও গৃহাঙ্গন ছেড়ে যাওয়ার এই মুহূর্তে এক অদ্ভুত দ্বিধা তার মনে দোলা দিয়ে যাচ্ছে। সে একবার থমকে পেছনে ফিরে তাকাল। দেখল, নীল ঠিক আগের মতোই স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে। হৃদ যন্ত্রটা বেগতিক হারে কম্পিত হতে শুরু করল তিহুর‌। অস্পষ্ট স্বরে সে বলল,,
—’বাই মিস্টার।
তিহুর কথাটা নীলের কর্মগোচর হলেও কিছুই বলল না সে। শুধু নিজের গহীন চোখের সেই তৃষ্ণার্ত চাউনি দিয়ে তিহুকে আগলে রাখল। যে দৃষ্টিতে মিশে আছে এক বুক রিক্ততা।

একে একে ছাড়া হচ্ছে হকদের গাড়িগুলো।কিছুক্ষণের মাঝেই তিহুদের গাড়িও মন্থর গতিতে চলতে শুরু করল। নামিয়ে রাখা জানালার কাঁচের ওপারে নীলকে ক্রমশ ঝাপসা হতে দেখল তিহু। ধূলিকণার আড়ালে মানুষটা যখন ক্রমে মিলিয়ে যাচ্ছে, তখন নিস্তব্ধ দুপুরে মেঠো সুরের মতো এক করুণ বিষাদ তিহুর মনকে আচ্ছন্ন করে ফেলল।
নীল এক দৃষ্টিতে পথের দিকে চেয়ে রইল যতক্ষণ না গাড়ির শেষ চিহ্নটুকু মিলিয়ে যায়। শূন্য ঘরে বাতাসের হাহাকার নেই, কিন্তু একরাশ নিস্তব্ধতা যেন তার বুকের ভেতরটা দুমড়ে দিয়ে গেল।

তাদের গাড়িগুলো যখন হক ম্যানশন নামক রাজপ্রাসাদটার সম্মুখে এসে ভিড়লো ‌তখন অপরাহ্নের নরম রোদ গাছপালার ফাঁক দিয়ে আলপনা আঁকছে। সকলে ধীর পায়ে গাড়ি থেকে নামতেই কেয়া আর বেলি ফুলের মিশ্র সুবাসে মনটা ভরে উঠল মুহূর্তেই। রাওফিন আর রাফা বিমূঢ় দৃষ্টিতে চেয়ে আছে আপন পৈতৃক নিবাসের পানে। ভিটেমাটির গল্প তারা কেবল নওফেল হকের কাছে গল্প আকারে শুনে এসেছে, আজ তা চাক্ষুষ করার শিহরণে তাদের শরীরের লোমকূপ যেন দাঁড়িয়ে গেল।

বাড়ির সদর দরজায় তখন এক মহোৎসবের আমেজ। নব কুড়িগুলো তিহুকে দেখামাত্র দৌড়ে এসে জাপ্টে ধরেছে। এদিকে রাওফিনদের দেখামাত্র বাড়ির প্রবীণদের চোখ ছলছল করে উঠল। কতকাল পর এই উঠোনে অপূর্ণতার অবসান হলো! ম্যানশন এর ইট পাথরের দেয়ালগুলোও যেন আজ প্রাণ ফিরে পেয়েছে।তিহুর দাদা দাদি মা চাচি সহ সকলে রুমিন আরার আপ্যায়নে তৎপর হলেন।

প্রেমের নীলকাব্য পর্ব ৪৯

যেন তাকে এত দিনের জমিয়ে রাখা প্রাপ্য সম্মানটুকু দিতে মগ্ন হয়েছে সকলে। প্রবীনরা যখন রুমিন আরাকে নিয়ে তৎপর ঠিক তখনই পরিবারের নবকুড়ি গুলোর সঙ্গে একে একে রাওফিন আর রাফাকে পরিচয় করিয়ে দিল তিহু। পরিচয় পর্ব শেষে সকলে একে একে প্রবেশ করল ম্যানশনের বৃহৎ অন্দরমহলে। রাওফিন-রাফা হয়তো আজ জীবনে প্রথমবারের মতো উপলব্ধি করছে আপনজনদের ভালোবাসার গভীরতা।

প্রেমের নীলকাব্য পর্ব ৫১