প্রেমের পাঁচফোড়ন পর্ব ১৫+১৬
Afnan Lara
আমি সত্যিটা জানতে চাই,আমি জানতে চাই তোমার এমন করে কান্নার কারণ কি?
কেন?জেনে কি করবেন?আপনার কি তাতে?একটা রাস্তার মেয়ে রাস্তায় কাঁদলে সেটায় আপনার কি যায় আসে?
শান্ত এগিয়ে এসে আহানার দুহাত ধরে টেনে বললো কি বললে?রাস্তার মেয়ে?নিজেকে রাস্তার মেয়ে বলতে লজ্জা করে না তোমার?
কেন লজ্জা করবে,সত্যি কথাই তো বললাম,আমি রাস্তার মেয়ে,যাদেরকে মানুষ সামনে ফেলেই ছিলে খেতে চায়
শান্তর চোখ মূহুর্তেই রক্তবর্ণ ধারন করলো,সে হাত ছেড়ে দিলো আহানার
আহানা শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে শান্তর দিকে তাকিয়ে
শান্ত একটা ঢোক গিলে চোখ নরমাল করে আবারও আহানার দিকে তাকালো
কেন কাঁদছিলে?আমি সত্যিটা জানতে চাই,টেল মি Damn ইট!!!
আপনি সত্যিটা জানতে চান তাই না?জানতে চান?ঠিক আছে
আহানা এগিয়ে এসে শান্তর কাছে গিয়ে দাঁড়ালো,হাত দিয়ে কাঁধ থেকে জামা টেনে নিচে নামিয়ে ফেললো
হাতে আঁচড়ের দাগগুলো স্পষ্ট হয়ে উঠে আছে
দেখুন!এটা হলো সত্যি
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
শান্ত চুপচাপ আহানার হাতের দিকে তাকিয়ে আছে,তার নিজের হাতটা মুঠো করে
আহানা জামা ঠিক করে আরেকদিকে ফিরে দাঁড়িয়ে পড়লো,ওড়না ঠিক করতে করতে চলে গেলো সেখান থেকে আর একটিবারও শান্তর দিকে তাকালো না সে
শান্তর চোখ দিয়ে আগুন ঝরছে,নিজেকে ঠিক করে বাইকে উঠে বসলো,বাইকের আয়নায় তাকে দেখে সে নিজেই চিনতে পারলো না,চোখ মুখ দিয়ে আগুনের লাভা বের হচ্ছে মনে হচ্ছে,সে এখন কি করবে সে নিজেও জানে না
আহানা পিউকে পড়িয়ে আকাশদের বাসার দিকে আস্তে আস্তে যাচ্ছে,ভয় করছে খুব
যাওয়ার সময় ছেলেগুলোকে দেখলো না সে,আসার সময় তাদের আবারও দেখতেই আহানা থেমে গেলো,আজ কি করে বাঁচবে,বিকাল সাড়ে ৫টা বাজে মনে হয়,তেমন লোক ও নজরে পড়তেসে না,ছেলেগুলো দাঁত কেলিয়ে চেয়ে আছে ওর দিকে
আহানা নড়তেসে না,কি করবে সেটার হাজারও ভাবনা মাথায় ঘুরে যাচ্ছে তার
৫মিনিট দাঁড়িয়ে থেকে ঢোক গিলে হাঁটার জন্য পা বাড়াতেই একটা রিকসা সামনে এসে পড়লো
আপা যাবেন নাকি?
রিকসায় একটা ৫বছরের বাচ্চা মেয়ে বসে আছে,সে বললো তার একা বাসায় যেতে ভয় করে,আহানা যেন তার সাথে উঠে,আহানাকে কোনো ভাড়া দিতে হবে না
এই সুযোগ আল্লাহ দিয়েছে,আমাকে বাঁচানোর জন্য
আহানা আর সাত পাঁচ না ভেবে রিকসায় উঠে পড়লো মেয়েটার হাত চেপে ধরে আছে সে,রিকসাটা ছেলেগুলোর সামনে দিয়ে যাওয়া ধরতেই ছেলেগুলো পথ আটকালো
আহানার কলিজা কাঁপতেসে,বড় বড় করে শ্বাস নিশ্বাস নিচ্ছে সে,ছেলেগুলো আহানার হাত ধরে ওকে টেনে নামাতে যেতেই রিকসার পিছনে কেউ একজনকে দেখে সবাই একসাথে রিকসার পিছনে তাকিয়ে রইলো তারপর হঠাৎই একটু পিছিয়ে গেলো
রিকসাআলা রিকসা ঘুরিয়ে রাস্তামত চলে যেতে থাকলো
আহানা বুঝতেসে না হঠাৎ ছেলেগুলো ওকে ছেড়ে দিলো কেন
আহানা আল্লাহকে ডাকতে ডাকতে মেয়েটাকে চেপে ধরে চোখ বন্ধ করে বসে আছে
মেয়েটা মেইন বাজারে আসতেই নেমে গেলো,তারপর আহানাকে টাটা দিয়ে একটা ৩তলা বাসার ভেতরে ঢুকে গেলো
আহানা নেমে যেতে নিতেই রিকসাআলা বললো মেয়েটা বাকি পুরো ভাড়া দিয়ে দিসে আহানা যেন তার বাসার ঠিকানা দেয় তাকে সেখানে নামিয়ে দিবে
আহানা অবাক হয়ে হ্যাঁ বলে দিলো
আজ তো বেঁচে গেলাম কিন্তু কাল!
বাসায় ফিরে জানালার ধারে বসে আছে আহানা,বৃষ্টি আসবে মনে হয়,বাতাসের গতি বেড়েই চলেছে,আবার মাঝে মাঝে কমে,আবারও বাড়ে,উঠানে রোদে দেওয়া ওড়নাটা উড়তেসে বারবার,ক্লিপ না লাগালে হয়ত উড়ে যেতো স্বাধীনভাবে
আহানা জানালায় মাথা ঠেকিয়ে চোখ বন্ধ করে রাখলো
আজ আর খায়নি সে কিছু,মন নেই,খিধা আছে
পরেরদিন ভোরবেলা সেই ছিঁড়া জামাটার দিকে চেয়ে আছে আহানা,এটা আজ পরতে হবে,গায়েরটা তো ধুয়ে দিয়েছি,কিন্তু ছিঁড়া জায়গাটা কি করবো,জামাটা পরে নিয়ে ওড়না ভালো করে পেঁচিয়ে জায়গাটা ঢেকে নিলো সে তারপর বের হলো বাসা থেকে,মিষ্টিদের বাসায় এসে লিফট থেকে বেরিয়েই দেখলো শান্ত ওর বাসার দরজায় হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে
আহানা একবার তাকিয়ে মিষ্টিদের বাসার ভেতর চলে গেলো,মিষ্টিকে পড়িয়ে বের হয়ে দেখলো শান্ত দরজার বাইরে এখনও হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে,হাতে সিগারেট
আহানা সিগারেটের দিকে তাকিয়ে দেখতেসে তারপর ওর নজর গেলো শান্তর হাতের দিকে,হাতে ব্যান্ডেজ করা,আহানা ব্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে সেদিকে
শান্ত ব্যাপারটা খেয়াল করে হাত লুকিয়ে আরেকদিকে তাকিয়ে সিগারেট খাওয়ায় মন দিলো
আহানা কিছু না বুঝে হেঁটে চলে আসলো সেখান থেকে
ভার্সিটিতে এসে ক্যামপাসে বসে আছে সে,ভেবে যাচ্ছে আজ নিজেকে কি করে বাঁচাবে
কিরে?গরমের মধ্যে ওড়না এমন চাদরের মত করে পরেছিস কেন?খোল
না,আমার শীত করছে,বৃষ্টি হওয়ার পরেরদিন আমার শীত লাগে
এটা আবার কেমন কথা?
রুপার কথায় আহানা কোনো জবাব দিলো না
আহানা এখন শান্তর দিকে তাকিয়ে আছে আর শান্ত বাইকে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে ওর দিকে তাকিয়ে আছে,আহানা শান্তর এমন চাহনি দেখে চোখটা নামিয়ে নিলো
কিরে শান্ত?তুই আবার মাইরপিট করেছিস?
না
তাহলে তোর হাতে ব্যান্ডেজ কেন?
হকি খেলেছি তাই হাতে লেগেছে
শান্ত ভাই সহজে হকি খেলে না,যখন খেলে তখন বিপক্ষ দলের হাঁড় আস্ত থাকে না,তা কার সাথে হকি খেলেছিস?
কলেজে পড়ুয়া কিছু নিব্বার সাথে
বেঁচে আছে তো?কোন হসপিটালে এখন?
এদের হসপিটালে ভর্তি করাইনি টাকা দিয়ে দিসি
তুই পারিস ও বটে,তা এমন রাগ ঝাড়লি কেন,কি এমন করেছে?
যা করেছে তা আমার সহ্য হয়নি তাই মেরেছি
তোর থেকে জীবনে ঠিকঠাক প্রশ্নের জবাব পাই না আমরা
শান্ত হাতের ব্যান্ডেজটা খুলে ফেলে দিলো,কাল রিকসাআলাকে সে পাঠিয়েছিল, আর বাচ্চা মেয়েটা হলো তমালের বোন,তমালকে ফোন করে ওর বোনকে এনে রিকসায় বসিয়ে আহানার কাছে পাঠিয়ে দিয়েছিল,সব শিখিয়ে পড়িয়ে,কাল পুরোটা সময় শান্ত আহানাকে ফলো করেছে,ছেলেগুলো যখন আহানার রিকসা আটকেছিলো ঠিক তখনই শান্ত সিউর হয়ে গেছে এরাই তারা যারা আহানার গায়ে আঁচড় দিয়েছে তারপর তারা আহানাকে আবারও ডিস্টার্ব করতে যাবে তখনই রিকসার পিছনে শান্তকে দেখতে পেলো হাতে হকিস্টিক,শান্ত তখন জ্যাকেট খুলতেসিলো দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে,ছেলেগুলো শান্তকে দেখে থেমে গেলো,কারন সে ইশারা করেছিল আহানাকে যেতে দিতে
আহানা চলে যেতেই শান্ত হকিস্টিক দিয়ে ৫জনের মধ্যে একজন একজন করে গলা টেনে টেনে জিজ্ঞেস করেছে আহানার হাত ধরতে গেছিলো কে,একজন সামনে এসে বললো আমি করেছি,তো?কি করবে?
শান্ত তার হাত ধরে ঘুরাতেই হাতটা বাঁকা হয়ে গেলো তার,সে নিচে বসে ছটফট করতে লাগলো যন্ত্রনায়,শান্ত জাস্ট হাতটা ঘুরিয়ে দিয়েছে যার কারনে হাতের হাঁড় নড়ে গেছে তার,বাকিরা দৌড়ে পালাতে যেতেই শান্ত ওদের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো,খুববববব ভালো করে বুঝিয়ে দিলো ৫জনকে যে আহানাকে কিভাবে সম্মান করতে হবে,আহানার সব দায়িত্ব তাদের উপর দিয়ে দিলো শান্ত,এটাও বললো আর কোনোদিন আহানার কোনো সমস্যা হলে এবার তো হাত পা ভেঙ্গে দিয়েছে পরেরবার মাথা ফাটিয়ে দিবে
শান্ত?ইফ আই এম নট রং তুই এসব আহানার জন্য করেছিস?
কাম অন নওশাদ!আমি ওর জন্য কেন করবো,আমি এলিনার জন্য করেছি
ওহ আচ্ছা
আহানা কৃষ্ণচূড়া গাছটার নিচে এসে উপরের দিকে তাকিয়ে আছে
উপর থেকে ফুল এসে তার মুখে পড়তেসে,আহানা চোখ বন্ধ করে অনুভব করতে লাগলো এই অনুভূতি
হঠাৎ খেয়াল করলো আর ফুল পড়তেসে না,চোখ মেলতেই দেখলো শান্ত তার মুখের উপর হাত দিয়ে রেখেছে
আহানা চমকে শান্তর দিকে ফিরে তাকালো
ফুলগুলো কিউট তাই না?দেখো না সব তোমার আশেপাশেই পড়ে,আমি হাত দিলে আমার হাতে পড়ে না,তাই বুদ্ধি করে তোমার মুখের উপর হাত দিয়ে এই এতগুলো ফুল কালেক্ট করতে পারলাম
আহানা কিছু বললো না,সোজা হাঁটা ধরলো,তারপর থেমে পিছন ফিরে শান্তর হাতের দিকে তাকালো,শান্ত হাতটা পকেটে ঢুকিয়ে লেকের দিকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে ততক্ষণে
আহানা সেখানে আর থাকলো না বেশিক্ষণ,চলে আসলো সেখান থেকে
আজ আবারও আকাশদের বাসায় যাচ্ছে সে,ছেলেগুলো দাঁড়িয়ে আছে,যাওয়ার পথেই দেখা হলো,বুক কেঁপে যাচ্ছে,কি করবো এখন আমি
ছেলেগুলো অসহায়ের মত আহানার দিকে তাকিয়ে আছে,একজনের হাতে ব্যান্ডেজ,আরেকজনের পায়ে,আরেকজনের ঘাড়ে
আহানা নিচের দিকে তাকিয়ে চলে গেলো,ওমা কেউ কিছু বললো না,স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে আহানা কেটে পরলো সেখান থেকে,আসার সময় আকাশদের বাসা থেকে বের হতেই দেখলো একটা রিকসা দাঁড়িয়ে আছে
৫টা ছেলের মধ্যে যে আহানার হাতে আঁচড় দিয়েছিলো সে দাঁত কেলিয়ে বললো আপু রিকসায় উঠেন,আপনাকে বাসায় পোঁছে দিবে
আহানা ভয় পেলো কারন এটা তাদের ষড়যন্ত্র ও হতে পারে
আহানা হেঁটে চলে যেতে লাগতেই ছেলেটা চোখ বড় করে আহানার সামনে এসে মাটিতে বসে পড়ে বললো আপু প্লিস রিকসায় উঠেন,আপনাকে সোজা বাসায় দিয়ে আসবে
নাহ,দরকার নেই
আপু প্লিস,আপনার পায়ে পড়ি আমি,আপু,আল্লাহর কসম আমি আর জীবনেও আপনার ক্ষতি করবো না আপু
আহানা চোখ তুলে পাশ দিয়ে হেঁটে চলে গেলো
ছেলেটা মাথার ঘাম মুছতে মুছতে আবারও আহানার সামনে গিয়ে বসে আহানার পা ধরতে যেতেই আহানা পিছিয়ে গেলো
প্লিস রিকসায় উঠুন প্লিস,আপনার কোনো ক্ষতি কেউ করবে না,আমি গ্যারান্টি দিচ্ছি,আজ আপনি রিকসায় না উঠলে আমার মাথা ফেটে যাবে
মানে???
না কিছু না,আপনি প্লিস রিকসায় উঠুন,ভাড়া আমি দিয়ে দিছি
আহানা ছেলেটার জন্য রোড ক্রসই করতে পারছে না,শেষে বাধ্য হয়ে রিকসায় উঠলো
রিকসায় বসে ভাবতেসে ছেলেটা এমন কেন করতেসে,পথে আর কোনো বিপত্তি আসেনি,আহানা ঠিকমত বাসায় ফিরে আসলো,বুঝতেসে না এমনটা কেন হচ্ছে তার সাথে,ছেলেগুলো কোনো প্ল্যান করছে না তো আমাকে ফাঁসানোর??
নাহহহ এরকম ভাবে চলতে পারে না,রান্নাঘরে এসে এসব ভুলে গিয়ে হাসলো আহানা,কারন কাল সে বেতন পাবে,পিউ আর আকাশের মায়ের থেকে,কাল নতুন মাসের এক তারিখ,কি ভালো লাগতেসে,সেই টাকা তো তারেক রহমানকে দিয়ে দিতে হবে আবার,তাও ভালো,আমাকে তো আর বাসা থেকে বের করে দিতে পারবে না,এটাই অনেক
ওমা কাঁচা মরিচ শেষ,শুধু ভাত আর নুন আছে
মরিচের গুড়া এক চামচ ভাতে ছিঁটিয়ে খেতে বসলো সে
চাল ও তো কমে এসেছে,চাল কিনবো কি করে,হাতে এক পয়সাও নেই,যা কাল পাব পুরোটায় তারেক আঙ্কেলকে দিয়ে দিতে হবে,কানের দুল এগুলা বিক্রি করে ২০টাকা দিয়ে আবারও ২কেজি চাল পাবো,কিন্তু কথা হলো ঐ ছেলেটার জন্য আমি বিক্রি করতে পারবো না,১০০টা প্রশ্ন করে আর শেষে কোথা থেকে আমার দুলটা এনে হাজির করে ফেলে উফ!!
ভোরে উঠে রেডি হয়ে বের হলো আহানা,কাল ঐ ছেলেটার কথা মনে পড়ে হাসতে হাসতে যাচ্ছে সে,মনে হয় জ্বীন ধরছে ছেলেটাকে তাই আর মেয়েদের ডিস্টার্ব করার জায়গায় পা ধরতে আসে
আহানা হাসতে হাসতে মিষ্টিদের বিল্ডিং এর ভিতরে গেলো
শান্ত বারান্দায় দাঁড়িয়ে আহানার হাসি স্পষ্ট দেখতে পেয়ে সেও হাসলো,দূর থেকে আহানার আসা দেখা যায়,ছেলেগুলোকে একদিন চা খাওয়াবো,আমার কাজ করে দিচ্ছে ভালো মতন
আহানা মিষ্টিকে পড়িয়ে বের হয়ে শান্তর বাসার দরজার দিকে তাকালো,শান্ত দরজা আটকিয়ে ওপাশে দাঁড়িয়ে আছে
আহানা দরজার এপাশে আর ওপাশে শান্ত,দুজন দুজনকে দেখছে না,কিন্তু দুজনের মনের ভেতর একই অনুভূতি♥
আহানা চলে গেলো ওখান থেকে,শান্ত গিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়লো,আগে সকাল ১০/১১টা ছাড়া তার ঘুম ভাঙ্গতো না আর এখন কিনা ভোর ৬টায় সে উঠে যায়,unbelievable!!
হ্যাঁ জানি unbelievable! তুমি মজা নিতেসো মা?নওশাদ,রিয়াজ আর সূর্য ও মজা নেয় আর তুমি বাকি ছিলে!!হুহহ
শুনো আমি কিন্তু এবার বাবাকে দেখতে যাবো,আর তোমাকেও,তোমার কবরে আমি রজনীগন্ধা ফুল দিয়ে আসবো,তোমার তো প্রিয় ফুল সেটা তাই না?
মায়ের ছবিতে হাত বুলাতে বুলাতে কথা বলে যাচ্ছে সে
আর কি লাগবে বলো?গোলাপি চুড়ি আনবো?পরবে?তোমার তো খুব প্রিয় ছিল
বিবাহ বার্ষিকির দিন বাবা যখন অফিস থেকে আসতো তখন তোমার জন্য গোলাপি চুড়ি নিয়ে আসতো,তোমার নাকি সবচেয়ে প্রিয় ছিল সেই রঙ সেই মুগ্ধতা
তোমার জন্য এবার তোমার ছেলে নিয়ে আসবে এসব
মুখটা ফ্যাকাসে করে শান্ত কেঁদে দিলো,কাঁদতে কাঁদতে বললো মা আমাকে ক্ষমা করে দিও,আমি বাবাকে ভালো রাখতে পারলাম না,বাবাকে তার নতুন স্ত্রী একটুও ভালোবাসে না,আমি পারলাম না তার পাশে থেকে তার ডেইলি ডিপ্রেশন দূর করতে,তারা আমাকে বের হয়ে যেতে বাধ্য করেছে মা,তুমি তো বুঝবা ব্যাপারটা তাই না?
আমার সাথে যেমন কথা বলো বাবার সাথেও কি বলো?রাগ করে থেকো না মা
বাবার সাথেও কথা বলিও,বাবার কোনো দোষ নেই,বাবা আজও আমাকে আর তোমাকে ভালোবাসে,পরিস্থিতির স্বীকার হয়ে আবারও বিয়ে করতে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি
আমি চাকরি পেয়ে সবার আগে তোমার জন্য গোলাপি চুড়ি আর রজনীগন্ধা কিনে নিয়ে যাব আর বাবার জন্য ক্রিম কালারের পাঞ্জাবি,ভালো হবে না?হুম হবে,তুমি বেঁচে থাকতে তোমাকে আমি খুশি উপহার দিতে পারিনি যখন এখন দিতে কি সমস্যা,আর এটাও জানি আল্লাহর কাছে থেকে তুমি কিভাবে সুখী হবে,তোমার কবরের পাশের আশ্রমের যত অনাথ শিশু আছে আমি সবাইকে পেট পুরে খাবার খাওয়াবো ইনশাল্লাহ,এতে করে দোয়া করবে তারা তোমার জন্য
আহানা হেঁটে বাড়ি ফিরছে হঠাৎ ওর সাথে দেখা হয়ে গেলো সেই মেয়েটার যার কাছে ও কানের দুল বিক্রি করেছিল
মেয়েটা আহানাকে চিনতে পেরে এগিয়ে আসলো
তুমি আমার কানের দুলটা কি করেছিলা?
শান্ত ভাইয়া আমার থেকে ১০০টাকা দিয়ে সেটা কিনে নিয়ে গেছে
ওহ
ভাইরে কি আপনি চিনেন?
আহানা হুম বলে হেঁটে চলে গেলো,বাসায় ফিরে ভাবতেসে সে শান্ত ওর দুলটা কেন কিনেছিল,আবার ওকে সেটা ফেরত ও দিলো
ভার্সিটিতে গিয়ে আহানা চারিদিকে শুধু শান্তকেই খুঁজে যাচ্ছে,কোথায় গেলো,আজ আসে নাই নাকি
আহানা এদিক ওদিক তাকিয়ে পিছন ফিরতেই শান্তর মুখোমুখি হলো
শান্ত মুচকি হেসে তাকিয়ে আছে ওর দিকে,হাত দুটো পকেটে রেখে
আহানা ঢোক গিলে একটু পিছিয়ে গেলো,তারপর বললো রুপা ডাকতেসে
দাঁড়াও
কি?
রুপা তো ডাকতেসে না
আহানা চুপ করে থেকে বললো আসলে ঐ তখন ডাকতেসিলো
ওহ আচ্ছা,এতক্ষণ আমাকে খুঁজতেসিলে বুঝি?
নাহ তো,কে বললো?
ওহহহ,গুড
আমি যাই
আহানা কিছুটা দৌড়ে পালিয়ে আসলো,আজ শান্তর হাবভাব ঠিক লাগতেসে না তার
শান্ত আহানার চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আছে,হঠাৎ কেউ একজন ওর হাত ধরে নিজের দিকে ফিরালো
।
এলিনা!
বেব!কি ব্যাপার বলোতো,তুমি কি আমাকে মিস করো না একটুও?আমি ভার্সিটিতে না আসলে একটু ফোন ও করো না,আর আমি করলেও রিসিভ করো না
শুনো এলিনা আমি আগেও বলেছি এখন আবার বলতেসি তোমার প্রতি আমার কোনো ফিলিংস নেই,শুধু শুধু সম্পর্কটাকে আগে বাড়াতে চাও কেন বলোতো?
আমি কিছু জানি না,আমার শুধু তোমাকে চাই,ব্যাস!
আহানা ক্লাসরুমে থেকে শান্ত আর এলিনাকে দেখতেছে,রুপা বললো ওদের কাপলটা কত কিউট
আহানা হেসে বললো হুম
আজ কৃষ্ণচূড়া গাছটার নিচে বসে আছে আহানা,শান্তর মত করে ইটের কণা একটা একটা করে পানিতে ফেলতেসে সে
খুব জোরে বৃষ্টি শুরু হয়ে গেলো হুট করে,অবশ্য এতক্ষণ বাতাস ছিল,কিন্তু এভাবে বৃষ্টি এসে যাবে আবার গতিও বেড়ে যাবে তা একদমই ভাবেনি আহানা,উঠে মাথায় হাত দিয়ে দৌড়াতে যেতেই কেউ ওর হাতটা ধরে ফেললো
আহানা আটকে গিয়ে পিছনে তাকালো শান্ত ওর হাত ধরে দাঁড়িয়ে আছে,বৃষ্টির পানির কারণে একবার চোখ বন্ধ করছে আবার খুলছে
আহানা চুপ করে শান্তর মুখের দিকে চেয়ে আছে,শান্ত কিছুই বলছে না,চুপচাপ ভিজে যাচ্ছে সাথে আহানাকেও ভিজাচ্ছে
আহানা হাত মুচড়াচ্ছে ছাড়ানোর জন্য কিন্তু শান্ত ছাড়তেসে না
গাছ বাতাসের কারণে নড়তেসে বারবার যার কারণে ফুল সব ঝরে পড়ে যাচ্ছে আহানার মুখের উপর গোটা একটা ফুলের তোড়া পড়তেই আহানা মুখটা বাঁকিয়ে ফেললো
শান্ত আহানার হাত ছেড়ে দিলো,আহানা হাত দিয়ে ফুলের তোড়াটা সরিয়ে চুপ করে তাকিয়ে আছে শান্তর দিকে,বৃষ্টি থামেনি এখনও
শান্ত তার হাত বাড়িয়ে আহানার থুতনিতে লেগে থাকা একটা সবুজ পাতা সরিয়ে ফেলে দিলো
আহানা বুঝতে পারলো না শান্ত কেন এমন করছে,কিসব ভেবে আহানার মুখটা মূহুর্তেই ফ্যাকাসে হয়ে গেলো,সেখান থেকে দৌড়ে পালিয়ে আসলো সে
শান্তর এবার হুস আসলো,মাথার চুল থেকে পানি ঝেড়ে গাছের শেকড়ে গিয়ে বসলো সে,কি হলো আমার,কেন করলাম এমন!!
আহানা দৌড়াতে দৌড়াতে অনেক দূরে এসে গেছে,আর একটু হাঁটলেই পিউদের বাসা
এবার হাঁটার গতি কমিয়ে দিলো সে,আমি আর যাব না কৃষ্ণচূড়া গাছটার নিচে,কোনোদিন ও না
শান্ত জ্যাকেটটা খুলে হাতে নিয়ে বসে আছে,কেন আমি আজ আহানার হাত ধরে ওকে আটকালাম,কেন আমার ওর থুতনির ঐ তিলটার প্রতি এত আকর্ষন,এলিনার ও তো তিল আছে গালে,তাহলে তার প্রতি আমার এমন ফিলিংস আসে না কেন,কেন আসে না
আজ আবারও আকাশদের বাসা থেকে বের হতেই আহানা দেখলো একটা রিকসা দাঁড়িয়ে আছে,আহানা রিকসায় না উঠে হাঁটা ধরতেই ছেলেগুলো কোথা থেকে এসে আহানার সামনে এসে হাত জোর করতে লাগলো ও যেন রিকসায় উঠে
১৬
আহানা বিরক্তি নিয়ে রিকসায় উঠে পড়লো
এমন কেন করছে ওরা,কাকে ভয় পাচ্ছে??
বাসায় ফিরে হাতে ৬হাজার টাকা নিয়ে কিছুক্ষন বসে রইলো সে,তারপর সেগুলো নিয়ে তারেক রহমানের বাসার দরজায় নক করলো
উনি দরজা খুলতেই আহানা হেসে সালাম দিয়ে বললো কেমন আছেন?
টাকা এনেছো?
আহানা চুপ করে থেকে বললো এনেছি
উনি টাকাটা হাতে নিয়ে ব্রু কুঁচকে বললেন এখানে দেখি ৬হাজার টাকা,বাকি ২হাজার কোথায়?আর এই মাসের ভাঁড়া ও তো বাকি
আঙ্কেল আমি বাকি ২হাজার টাকা কদিন পর দিয়ে দিব,এখন আমার হাতে টাকা নেই
মুখের উপর দুম করে দরজা লাগিয়ে চলে গেলেন তারেক রহমান
আহানা বাসায় ফিরে মন খারাপ করে খাটের উপর বসে আছে
কনিকা আপু ফোনে গেমস খেলতেসে,হঠাৎ আহানার মন খারাপ দেখে বললেন আহানা শুন তোকে একটা আইডিয়া দিই
হ্যাঁ বলো আপু
তুই এত ছোটাছুটি করে ১০০টা টিউশনি করে কি লাভ বল,যে টাকা পাস তা দিয়ে ঠিকমত বাসা ভাড়াও দিতে পারিস না,তোকে আমি একটা কিছু সাজেস্ট করতে পারি যদি তুই কিছু মনে না করিস??
না কিছু মনে করবো না,বলো
তুই টিউশনি ছেড়ে বাসা বাড়িতে কাজ কর,আমার চেনা এক বোনের নতুন বিয়ে হয়েছে,সে বুয়া খুঁজতেসে,সকালে সব কাজ করে দিয়ে তুই ভার্সিটিতে চলে যাবি,ব্যাস,মাসে ১০হাজার টাকা দিবে
আহানার চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়লো কথাটা শুনে,চোখ মুছে বললো ওহহ আচ্ছা
কিরে করবি?কথা বলবো?
নাহ,থাক
শুন কোনো কাজই ছোট নয়,তোর তো টাকার দরকার,এই কটা টাকায় তো তোর চলে না তাই বললাম
আহানা হেসে বললো ধন্যবাদ আপু,আমি দেখি কি করা যায়
আহানা আরেকদিকে ফিরে শুয়ে পড়লো,খুব জোরে কান্না পাচ্ছে তার,চোখ মুছেই যাচ্ছে সে,তাও চোখে পানি এসে ভরে যাচ্ছে বারবার
ঠিক বলেছে আপু,বুয়াদের ও বেতন ভালো আমার থেকেও,আমার আর বুয়ার মধ্যে তো কোনো তফাৎ নেই,বুয়ারাও পেটের দায়ে মানুষের বাসায় কাজ করে আর আমিও পেটের দায়ে কাজ করি
কনিকা আপু আজ মুরগী রান্না করেছে,আহানা পাশে দাঁড়িয়ে তার ভাতের বাটিতে পানি ঢালতেসে
কনিকা আপু খেতে খেতে বললো আহারে আমরা কত গরীব,মানুষ একসাথে একটা মুরগি রাঁধে,আর আমি মুরগীটাকে ৪দিনের জন্য পিস করে রেখেছি,পিস গুলো প্যাকেটে করে উপরের তলার আন্টির ফ্রিজে রেখে এসেছি,আজ শুধু ২পিস রেঁধেছি তা নাহলে তোকেও দিতাম
সমস্যা নেই আপু
আহানা ভাতে পানি ঢেলে গুড়া মরিচ এক চামচ দিয়ে গুলে খাটে গিয়ে বসলো
কনিকার খাওয়া হয়ে গেছে,প্লেট ধুয়ে শুয়ে পড়লো সে
আহানা পানি দিয়ে গিলে গিলে ভাত শেষ করলো
আসলে মানুষ তার সুখের সময় কাউকে ভাগ দিতে চায় না
নানা বাহানা খুঁজে তা জানে আহানা,তাই শুধু শুধু এসব নিয়ে কষ্ট পায় না সে
কষ্ট তো পেয়েছিল প্রথমদিন,যেদিন সে এই বাসায় প্রথম এসেছিল,কনিকা আর মীম দুজনেই ছিল তখন,আহানার হাতে ১টা কানাকড়িও ছিল না বলে সেদিন সে না খেয়ে ছিল,শুধু সেদিন না আশ্রম থেকে বের হওয়ার পর কটা দিনই সে পানি ছাড়া কিছুই খাওয়ার জন্য পায়নি
সেদিন মীম আর কনিকা আহানার সামনে খাবার খেয়ে যে যার কাজে চলে গিয়েছিল,ঐদিন আহানা খুব কষ্ট পেয়েছিল,তার সামনে তারা দুজন অবশিষ্ট খাবার আলমারিতে রেখে তালা দিয়েছিলো
এরপর থেকে আহানা আর এসব দেখে কষ্ট পায় না
কনিকা ভেবেছে আহানা ঘুমিয়ে পড়েছে,সে তার মায়ের সাথে ফোনে কথা বলতেসে
হ্যাঁ মা আজ মুরগী রেঁধেছি,না গো,৪দিনের জন্য পিস কেটে আলাদা রেখেছি,কি করবো বলো,একদিনে রাঁধলে ঐ আহানাকেও দিতে হতো,তাই ২পিস ২পিস করে আলাদা করে রেখেছি,আরে না একসাথে গোটা একটা রাঁধলে ঐ মেয়েটাকে হাঁড় হলেও দিতে হতো,আমি সেটা দিব না,আমার কষ্টের কামাই শুধু আমি আর তোমরা খাবা,তারপর ও ঐ মেয়েটা ড্যাবড্যাব করে তাকায় থাকে,এক নাম্বারের ছেঁসড়া মেয়ে একটা,হুম মা,আচ্ছা বাই
আহানা সব কথা শুনলো,হাত দিয়ে চোখ মুছে উঠে বসলো,কনিকা চমকে উঠলো
আহানা শুনে নি তো,থাক শুনলেও কি,যা সত্যি তাই বললাম
আহানা চুপচাপ বিছনা থেকে উঠে পানি খেয়ে আবারও শুয়ে পড়লো
পরেরদিন মিষ্টিদের বাসার সামনে আসতেই কালকের ঘটনা মনে আসলো তার
সে কেঁপে কেঁপে শান্তর বাসা পেরিয়ে মিষ্টিদের বাসার ভেতরে ঢুকে গেলো
কি হয়েছে মিস?তুমি কি কেঁদেছো?
না তো
তোমার চোখ মুখ বেলুন হয়ে আছে,,আমার মা ও কাঁদলে এমন তার চোখ মুখ বেলুন হয়ে থাকে
আহানা হাত দিয়ে মুখ ঠিক করে হেসে দিয়ে বললো না,কই,,পড়ো ঠিক করে
মিষ্টিকে পড়ানো শেষে আহানা চুপচাপ বাসা থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে,শান্ত দরজার সামনে দাঁড়িয়ে ছিল এতক্ষণ, আহানা শান্তকে খেয়ালই করলো না
এই মেয়েটার মাঝে মাঝে মন এমন খারাপ থাকে কেন?
শান্ত সোফার উপর থেকে তার জ্যাকেটটা পরে আহানার পিছু নিলো
হেঁটেই চলেছে দুজন,শান্ত হাঁপিয়ে গেছে কিন্তু আহানার কোনো বিরক্তি নেই,সে হেঁটেই যাচ্ছে
এত কষ্ট না করে রিকসা নিলেই হয়,আমার পা শেষ,এতদূরে কই যায় মেয়েটা?
অবশেষে আহানা তার বাসার সামনে আসলো
ওমা এতদূরে ওর বাসা, কিভাবে হাঁটলো এতদূর,আমি তো মনে হয় মরে যাবো,ডেইলি এমন হেঁটে বাসায় আসে নাকি?
শান্ত আহানার বাসার জানালা দিয়ে উঁকিবুকি দিচ্ছে,বাসার ভেতর ৩টা আলাদা খাট,পাশে রান্নাঘর মনে হচ্ছে
আহানা বিছানায় ব্যাগ রেখে ওড়না কোমড়ে বেঁধে তার কালকের পরা জামাটা ধুতে গেলো
শান্তকে খেয়াল করেনি এখনও
জামাটা উঠানে দিয়ে এসে এবার ঘর ঝাড়ু দিলো,শান্ত সব দেখতেসে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে
এবার তার বিছানা ঠিক করে বই নিয়ে বসলো,মনোযোগ দিয়ে পড়তেসে সে
শান্ত পাশের দেয়ালে হেলান দিয়ে একটা সিগারেট শেষ দিয়ে আরেকটা মুখে দিয়ে এদিক ওদিক তাকাচ্ছে,এই রোডে সব বাসা,সবগুলোর রঙ পানসে পাসনে,মনে হয় কয় হাজার বছর পুরোনো,আদিম যুগের,এই গলিতে আগে কোনোদিন আসেনি শান্ত
ঘড়িতে তাকিয়ে দেখলাম সকাল ৯টা বেজে গেছে
আহানার পড়া শুনা যাচ্ছে না,শান্ত ৩টা সিগারেট খেয়েছে এতক্ষণ ধরে,এবার আবারও জানালায় এসে দাঁড়ালো সে
,আহানাকে রান্নাঘরে দেখা যাচ্ছে,সেখান থেকে একটা বাটি নিয়ে এসে খাটের উপর বসলো সে
আহানার হাতের বাটিতে কি আছে তা দেখে শান্তর মাথায় যেন বাজ পড়লো
আহানার হাতের বাটিটাতে শুধু ভাত আর কিছু নেই,ভাতগুলো পানিতে ডুবানো,আহানা সেটায় খুব তৃপ্তি করে খেয়ে যাচ্ছে,মাঝে মাঝে গলায় আটকে যায় তখন টেবিল থেকে পানি নিয়ে খায় সে
আহানার মনে হলো জানালায় কেউ আছে সে তাকাতেই শান্ত সরে গেলো সাথে সাথে
আহানা দেখতে পেলো না তাকে,আবারও খাওয়ায় মন দিলো
শান্ত দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে চুপ করে আছে,এটা কি খাচ্ছে এই মেয়েটা,রোজ এটা খায় নাকি??
না রোজ কেন খাবে,এত টিউশনি করায় টাকা তো কম পায় না মনে হয়,আর আমি যতদূর জানি ও ৩টা টিউশনি করায়,মিষ্টির মা ২হাজার টাকা দিবে বাকিরা কত দেয়,আর মিষ্টিকে তো নতুন পড়াচ্ছে সে তার মানে নিশ্চয় আগে আরেকটা পড়াতো সেটা ছেড়ে মিষ্টিকে পড়ায় এখন মেবি
কারন আমি তো ওকে এই ৩টা ছাড়া আর কোনো টিউশনি করতে দেখিনি,টিউশনিতে বেশি গেলে ৩হাজার করে দেয় নয়ত ২হাজার,আচ্ছা মাসিক বেতন মোট মিলিয়ে ৮হাজার ধরলাম,তাহলে এই খাবার খায় কেন,আমার বাসার বুয়াও তো আরও ভালো খাবার খায়
শান্ত জ্যাকেট ঠিক করে আহানাদের বাসার উপরের তলায় গেলো মালিকের বাসায়,দরজায় নক করতেই তারেক রহমান এসে দরজা খুললেন
শান্তকে দেখে কিছু বুঝতেসেন না তিনি,জিজ্ঞেস করলেন কি চাই?
শান্ত সালাম দিয়ে বললো আঙ্কেল আমি কি আপনার বাসার একটা ইউনিট ভাড়া নিতে পারি?
তারেক রহমান হেসে দিয়ে শান্তকে বললো ভিতরে আসতে
শান্ত ভিতরে গিয়ে সোফায় বসলো,উনি বললেন ৩তলায় একটা ইউনিট খালি আছে
তা কত ভাড়া আঙ্কেল?
তুমি কি একা থাকবে?নাকি আরও কেউ আছে
শান্তর মনে পড়লো,আহানার রুমে ৩টা খাট দেখেছিল,তারমানে সেখানে ৩জন থাকে
আঙ্কেল আমি আর আমার ২টো ফ্রেন্ড থাকবো
তাহলে জনপ্রতি ৪হাজার করে দিতে হবে
ওহহহ,৮হাজার থেকে ৪হাজার গেলে আর ৪হাজার থাকে,কদিন আগে এলিনা ১হাজার টাকা মাইর দিয়েছে আহানার,তাহলে আর থাকে ৩হাজার,ভার্সিটির ফিস ফার্স্ট ইয়ারের ৩হাজার আর আমাদের ৪হাজার,তার মানে আহানার হাতে এখন এক টাকাও নেই?তাই তো সেদিন কানের দুলের ২০টাকা দিতে চাইছিল না,কানের দুল বেচে চাল কিনেছিল!!সব রহস্যের সমাধান সামনে আসতেসে
আচ্ছা মাসে টাকা দিতে না পারলে কিছু বলেন?ইয়ে আসলে স্টুডেন্ট মানুষ তো আমি
না কিছু বলি না,কি বলবো আর,কিন্তু আমার বাসার নিচতলায় এক মেয়ে থাকে,সাথে আরও ২টো মেয়েও থাকে,সে মেয়েটা ২মাসের বেতন এখনও ঠিকমত দিতে পারছে না,সবসময় বকেয়াটা জমা দেয়
।
হাহাহা,কি নাম তার
আহানা
ওহহহ,কত মাসের টাকা দেয়নি?
গত মাস বাদে পুরোনো ২মাসের দেয়নি,কাল ৬হাজার দিয়ে বললো বাকি ২হাজার পরে দিবে,,এখনও আগের মাসেরটা বাকি,মোট মিলিয়ে এখনও ৬হাজার টাকা পাই আমি তার থেকে
আপনার বিকাশ আছে?
হ্যাঁ আছে তো,কেন?
আহানার রিলেটিভ হই আমি,জানতে এসেছিলাম ও আপনার বাসায় কেমন আছে,জানা হয়ে গেছে,আমি আপনাকে ৬হাজার টাকা বিকাশ করে দিব,নিয়ে আসবেন কেমন?
আর ওর থেকে টাকা চাইবেন না,এখন থেকে প্রতিমাসে আমি আপনাকে ৪হাজার টাকা বিকাশ করবো,ও জিজ্ঞেস করলে বলবেন ওর আত্নীয় দিয়েছে,নাম জানতে চাইলে বললেন রফিকুর রহিম
কিন্তু তোমার নাম তো শাহরিয়ার শান্ত
যেটা বলেছি সেটা বলবেন,এর জন্য আপনাকে আমি বিকাশের টাকা উঠানোর বারতি ফিসটার সাথে বারতি বোনাস ও দিবো
কিরকম?
২০০০/৩০০০/৪০০০টাকা
আচ্ছা ঠিক আছে
শান্ত সানগ্লাস পরে একটা ভাব নিয়ে চলে যেতে নিতেই
উনি বললেন চা খেয়ে যেতে
প্রেমের পাঁচফোড়ন পর্ব ১৩+১৪
শান্ত পিছন ফিরে বললো আজ আহানাকে রাতে দাওয়াত দিয়ে খাওয়াবেন কেমন?
উনি মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ জানালো,শান্ত বের হয়ে যাওয়ার সময় আহানার রুমের জানালায় এসে আবারও দাঁড়ালো
আহানা জামা পরে চুল আঁচড়াচ্ছে,ভার্সিটিতে যাওয়ার জন্য
শান্ত মুখটা গম্ভীর করে চলে আসলো সেখান থেকে,বাইক আনেনি সাথে করে,একটা রিকসা নিয়ে উঠলো সে
এই মেয়েটার জীবনটা এমন কেন,আমি তো জানতামই না এসব,কিভাবে জানবো?কাউকে বুঝতেই দেয় না মেয়েটা!
