Home প্রেমের পাঁচফোড়ন প্রেমের পাঁচফোড়ন পর্ব ১৯+২০

প্রেমের পাঁচফোড়ন পর্ব ১৯+২০

প্রেমের পাঁচফোড়ন পর্ব ১৯+২০
Afnan Lara

শান্ত চোখ বন্ধ করে আছে
হাত মুঠো করে নিজেকে কনট্রোল করে নিলো
আহানা বাসায় এসে মুখ গোমড়া করে বসে আছে,আজ ভার্সিটি প্রাইভেট কোনোটাতেই যাব না,মেজাজ বিগড়ে গেছে পুরা
শান্ত সেই কখন থেকে ভার্সিটির গেটের দিকে চেয়ে বসে আছে
রুপা আমাকে বললো আহানা আজ আসবে না

নওশাদের কথা শুনে শান্ত চুপ করে জ্যাকেটটা হাত থেকে পরে নিয়ে কৃষ্ণচূড়া ফুলের গাছটার নিচে এসে বসলো
বিকাল ৪টা পর্যন্ত বসে ছিল ভাবলো আহানা হয়ত টিউশনি করাতে যাবে এখান দিয়ে,কিন্তু না সে আজ টিউশনি করাতেও আসেনি
শান্তর রাগ খুব বেড়ে গেলো বাসায় ফিরে এসে দরজা বন্ধ করে বসে আছে চুপচাপ
আহানা জানালার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে শুয়ে আছে,কাল রাতে যে পানি আর বিসকুট খেয়েছিল এখন পর্যন্ত কিছুই খায়নি সে
আকাশ দেখে যাচ্ছে চুপচাপ
মীম রান্না করে খেয়ে দেয়ে ঘুমিয়ে আবার ঘুম থেকে উঠে কাজে চলে গেছে
আহানা খেয়েছে কি খায় নাই সেদিকে তার বিন্দু মাত্র নজর নেই
রাত ৮টা বাজে,আহানাকে এবার খিধা ভালো করে ধরলো উঠে গিয়ে পানি আর বিসকিট একটা নিয়ে এসে বসলো খাটের উপর
বাইরে থেমে থেমে মেঘ গর্জন দিচ্ছে,যে কোনো সময় বৃষ্টি শুরু হয়ে যাবে
শান্ত ছাদে এসে বসে আছে
আহানাও উঠানে দাঁড়িয়ে নির্ভয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে
বৃষ্টি ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলেছে,আহানা চোখ বন্ধ করে ভিজতেসে
শান্ত ছাদে বসে নিচের দিকে তাকিয়ে ভিজতেসে,মনে হচ্ছে সকল ক্লান্তি দূর হয়ে যাচ্ছে
বৃষ্টির পানি আহানার মুখ ছুঁইয়ে নিচে পড়ছে আর শান্ত নিচের দিকে মুখ করে থাকায় সোজা তার পিঠের উপর পড়তেসে

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

“খুব অদূরে রাত্রি ভোরে
ইচ্ছে গুলো হচ্ছে নিখোঁজ”
“জানাশোনা তোর বায়না
আনমনা হই আমি অবুঝ♥
একটু নয় অনেক বেশি!না বাসি না,আমি আহানাকে ঘৃনা করি ঘৃনা!!
শান্ত পা দিয়ে ফুলের টব একটা ফেলে দিলো নিচে থাকা একটা ডোবায়
আহানার গা কেঁপে উঠলো হঠাৎ চোখ মেলতেই দেখলো আকাশে তার কাঁটার মত কি যেন,বজ্রপাত,এগুলো সে ছোটবেলায় দেখলে ভয় পেতো অনেক,আবার নিজে নিজে সাহসের সাথে এসবের দিকে তাকিয়ে থেকে নিজেকে শক্ত করতো
শরীর কাঁপতেসে হঠাৎ করে আর থাকা যাবে না এখানে
আহানা তার রুমে ফিরে গেলো
শান্ত চুলের থেকে পানি ঝাড়তে ঝাড়তে নিচে নেমে আসলো
আহানা রুমে ফিরে গামছা দিয়ে গা মুছতেসে,মুছা শেষ করে শুয়ে পড়লো

সকাল ৬টা বাজে!শান্ত ১০০বার লিফটের দিকে তাকিয়েছে,২০০বার রোডের দিকে তাকিয়েছে,কিন্তু আহানা আসতেসে না,কি হয়েছে ওর!
১০টার দিকে রেডি হয়ে ভার্সিটিতে আসলো শান্ত
নাহহ আজও সে আসেনি,কি হয়েছে যে ভার্সিটিতেও আসতেসে না
শান্ত বাইক নিয়ে বের হতে যেতেই এলিনা এসে পথ আটকালো
বেব চলো আজ ঘুরতে যাই দূরে কোথাও
নাহ,আমার জরুরি একটা কাজ আছে,বাই!
শান্ত বাইক স্টার্ট দিয়ে সোজা আহানার বাসার সামনে আসলো,জানালা বন্ধ বাসার
শান্ত দরজার সামনে এসে কিছুক্ষন দাঁড়িয়ে থেকে সাহস করে নক করতে যেতেই দরজাটা খুলে গেলো,দরজা আগে থেকেই খোলা ছিল,জাস্ট দরজা একটু লাগানো ছিল,ফাঁক ছিল না বলে বাইরে থেকে বোঝা দায় যে এটা বন্ধ নাকি খোলা

শান্ত অবাক হয়ে এক পা এক পা করে ভিতরে ঢুকলো
রুমটা অন্ধকার হয়ে আছে,হালকা আলো তা দিয়ে বিছানা স্পষ্ট দেখা যায়
কোণার বিছানাটায় আহানা চাদর মুড়ি দিয়ে শুয়ে আছে,বাকি বিছানাগুলো খালি,বাসায় তো আহানা ছাড়া আর কেউ নেই মনে হয়
শান্ত একটু এগিয়ে এসে আহানার বিছানার পাশে গিয়ে দাঁড়ালো
আহানার শুকনো মুখটা দেখা যাচ্ছে বাকিটা চাদরে ঢাকা
শরীর খারাপ নাকি ওর,বেলা ১২টা বেজে আসছে এখনও শুয়ে আছে
শান্ত হাতটা নিয়ে আহানার কপালে রাখতেই চমকে উঠলো,এত জ্বর!!
শান্ত তাড়াতাড়ি করে রান্নাঘরে গিয়ে একটা মগে করে পানি নিয়ে এনে আহানার পাশে বসলো,কথা হলো কি দিয়ে মাথায় পোটি দিবে

আহানার মাথার পাশে ওর গায়ের ওড়না রাখা
শান্ত সেটা নিয়ে ভিজিয়ে আহানার কপালের উপর রাখলো তারপর দেরি না করে বাসার বাইরে গিয়ে নওশাদকে ফোন দিয়ে বললো রুপাকে নিয়ে জলদি আহানার বাসায় আসতে
দরজা খোলার আওয়াজ পেয়ে আহানা ভাবলো তার রুমমেট মীম এসেছে,সে এসময়ে আসে,তাই আহানা দরজা আটকায়নি
একটু কেশে আহানা বললো
মীম আপু এসেছো?আমার জন্য সহ একটু রাঁধবে আজকে?
আমার শরীর ভালো না,রাঁধতে পারিনি,কাল থকে ভাত খাইনি,আমি ভাত দিয়ে নুন দিয়ে খেতে পারবো,এক বাটি ভাত দিলেই হবে

শান্ত রোবটের মত দাঁড়িয়ে আহানার কথা শুনতেসে,চোখ দিয়ে এক ফোটা পানি গড়িয়ে পড়লো তার
শান্ত গিয়ে আহানার বেডের পাশের আলমারিটা খুললো,তেমন আহামরি কিছু নেই,একটা জামা ভাঁজ করা আছে,পুরনো,মনে হয় বাসায় পরার জামা এটা,আর নিচের তাকে ২টা বোয়াম,তাও খালি পড়ে আছে
বাকিদের আলমারি লক করা
কিচেনে গিয়ে দেখলো সেখানে কিছুই নেই বাড়তি খাবার বলতে
শান্তর বুকটা ফেটে যাচ্ছে এসব দেখে

শান্ত এসে ওড়না আবার ভিজিয়ে আহানার মাথায় দিলো,বাসার দরজা লাগিয়ে বের হয়ে গেলো,পথেই রুপা আর নওশাদের সাথে দেখা হলো ওর
রুপা! আহানার অনেক জ্বর,তুমি গিয়ে ওকে একটু দেখো আমি ঔষুধ আনতেসি
রুপা চলে গেলো আহানার বাসার দিকে
নওশাদ শান্তর সাথে গেলো ঔষুধ আনতে
রুপা আহানার মাথায় পোটি দিতে থাকলো,ইস গায়ে এত জ্বর একবার ফোন করেও বলে নাই,আমার ফোন ও ধরে নাই
শান্ত ঔষুধ কিনে একটা রেস্টুরেন্টে গেলো
কিরে কি করবি?
আরে ওর বাসায় কোনো খাবার নাই,কিছু খেয়ে তো ঔষধ খাবে
বাইরের খাবার খেয়ে পাক্কা আরও অসুস্থ হয়ে যাবে,তুই এক কাজ কর,বাজার কর,রুপা রান্না করবে

হুম ভালো বুদ্ধি
শান্ত তরকারি, চাল আর মাছ কিনে আহানার বাসায় ফিরে গেলো নওশাদকে নিয়ে
রুপা চোখ বড় করে চেয়ে বললো আমি তো রান্না করতে পারি না!
নওশাদ ব্রু কুঁচকে বললো তুমি না বিরিয়ানি রাঁধতে পারো?
আরেহহ সেটা তো এমনি বলছিলাম😒সত্যি সত্যি বাপি আমাকে কখনও কিচেনে যেতে দেয়নি
ওকে চল নওশাদ আমি আর তুই রাঁধি
আর ইউ ম্যাড শান্ত!!রুপা মেয়ে হয়ে রান্না পারে না আর আমি আর তুই ছেলে হয়ে পারবো?
একটু মগজ লাগায় কাজ কর,ইউটিউব থাকলে রানী ভিক্টোরিয়ার নাতনিও রান্না পারবে
শান্ত রান্নাঘরে গিয়ে হাতে আলু পেঁয়াজ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে

শান্ত বল কি লিখে সার্চ করবো?
হাউ টু মেক তরকারি
শুন,কতগুলো ভিডিও এসেছে কিন্তু কথা হলো ইউটিউব চ্যানেলের কিছু আপু ভাইয়ারা তরকারিতেও দই ইউস করে,দই ছাড়া কিছু বুঝে না,দই পাবো কই?
নওশাদ!মাথা খারাপ করিস না
হ্যাঁ আমি বলতেসি প্রথমে তেল দিয়ে পেঁয়াজ দে
এক মিনিট,পেঁয়াজ কাটে কেমনে?
ওহ তাই তো দাঁড়া সার্চ করতেসি
একটা থাবড় দিমু,ইউটিউবে পেঁয়াজ কাটা দেখাবে?
আরে দেখাবে,আমি একবার দেখসিলাম দরজা কিভাবে খোলে😂

দেখ এমন করে কাটে
ওকে!
শান্ত ছুরি নিয়ে পেঁয়াজ কাটতেসে আর কেঁদে যাচ্ছে
নওশাদ দাঁত কেলিয়ে চেয়ে আছে
আম্মু!!😭ভাগ্যিস মাছ কাটিয়ে আনছিলাম বাজার থেকে
ভাই কি দরকার তোর আহানার জন্য এত কষ্ট করার!
আমি বলেছিলাম তোকে রেস্টুরেন্ট থেকে খাবার আনবো,তুই শুনিস নিই আমার কথা,তোর সো কলড গফ নাকি রান্না পারবে,এখন হলো তো!!
আমি কি জানি রুপা রান্না পারে না
ডান,পেঁয়াজ কাটা শেষ
ওকে এবার পাতিলে তেল দিয়ে পেঁয়াজ কুচি দে,তারপর রসুন,আদা বাটা দে

এক মিনিট রসুন আদা বাটা কই পাবো?
আরে আগুন কমা,তেল পুড়ে যাবে,আগে বলবি তো বাটা মসলা নাই,এক কাজ কর গোটা দিয়ে দে,বাটা বাটি তো পারি না আমরা
ওকে
পাঁচমেশালি করে অবশেষে ইলিশ মাছ দিয়ে বেগুন আলু দিয়ে তরকারি রাঁধলো দ্যা গ্রেট শাহরিয়ার শান্ত আর সহযোগিতায় ছিলেন নওশাদ রহমান
রুপা আহানাকে উঠিয়ে বসালো
আহানা রুপাকে দেখে চমকে বললো তুই?এখানে?আমি ভাবলাম মীম আপু
তোর জ্বর হয়েছে একবারও বলিস নি কেন?
তুই বাসায় আসলি কি করে আমি তো দরজা লাগিয়েছিলাম,ওহ নাহ মনে হয় লাগাই নিই,মীম আপু আসার কথা ছিল তাই দরজা লাগাই নি

আহানা টেবিলের উপর তাকিয়ে দেখলো একবাটিতে তরকারি আরেক বাটিতে ভাত
এগুলা?
রুপাকে শান্ত বলেছে যাতে ওর নাম না নেয়
আমি রেঁধেছি,তোর তো ঔষধ খেতে হবে তাই রান্না করেছি
এমন সাদা সাদা কেন?
শান্ত নওশাদের মাথায় ঘুষি দিয়ে বললো কিরে সাদা কেন?
তোরে কইসি হলুদ দিতে তুই দেস নাই?
শান্ত আর নওশাদ রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে ফিসফিস করে কথা বলতেসে
কখন বলেছিস?
রান্না শেষ হওয়ার পর নামানোর আগেই তো বলসি হলুদ দে

আহানা ভাত নিয়ে তরকারি এক চামচ নিলো,তারপর মাখিয়ে এক লোকমা মুখে দিতেই মাথা ঘুরিয়ে বমি আসতেসে তার
এত বিশ্রি খাবার,হলুদ নাই,নুন বেশি,ঝাল তো নাই একদম তার ওপর বাটা মসলার জায়গায় গোটা দিসে সব
আহানা বিছানা থেকে নেমে বাথরুমে গেলো বমি করতে
শান্ত রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে চোরের মত তাকিয়ে আছে সেদিকে
কি হলো?বমি করতেসে কেন?
রুপা বুঝতেসে না,তাই সে এক চামচ নিয়ে মুখে দিয়ে চোখ মুখ খিঁচিয়ে বললো এই অখাদ্য কে রেঁধেছে?
ওয়াক,রোগীকে এটা খাইয়ে মারতে চাও তোমরা?
আহানা কেঁপে কেঁপে বাথরুম থেকে বেরিয়ে বাইরে পা রাখতেই পড়ে যেতে নিলো শান্ত সাথে সাথে ধরে ফেললো ওকে
আহানা মুখ তুলে তাকিয়ে দেখলো শান্ত ওকে ধরে আছে
তাড়াতাড়ি হাত ছাড়িয়ে দূরে গিয়ে দাঁড়িয়ে পড়লো সে

আপনি?আমার বাসায়?
ইয়ে আসলে সরি
আহানা ব্রু কুঁচকে কিছুক্ষণ চেয়ে থেকে গিয়ে বিছানায় বসলো
তোর আইডিয়াতে আমি বাসায় রান্না করার জন্য হ্যাঁ বলেছিলাম,দেখলি তো এখন!
এখন যা বাইরের একটা ভালো মানের রেস্টুরেন্ট থেকে খাবার প্যাক করে আন
শান্ত একটা চেয়ার টেনে একটু দূরে গিয়ে বসলো
আহানা রান্না করা খাবার গুলোর দিকে তাকিয়ে আছে
এক গ্লাস পানি নিয়ে খেয়ে বললো এটা?তুই রেঁধেছিস রুপা?
না😒আমি কি রান্না পারি নাকি,এটা শান্ত ভাইয়া রাঁধছে
শান্ত এমন অখাদ্য রেঁধেছে শুনে আহানা ফিক করে হেসে দিলো,শান্তর মুখেও হাসি ফুটলো আহানার হাসি দেখে,রুপাও হেসে দিলো

এতসবের দরকার ছিল না
আহানা ভাত আলাদা করে নিয়ে পানি ঢেলে খেয়ে নিলো ২মিনিটেই
রুপা আর শান্ত অবাক হয়ে চেয়ে আছে
নওশাদ খাবার আনতে গেছে,তুই শুধু ভাত খেতে গেলি কেন?
সমস্যা নেই
আহানা ঔষুধ একটা নিয়ে পানি দিয়ে খেলো
নওশাদ খাবার নিয়ে এসে গেছে
আহানা বললো সবাইকে খেয়ে নিতে
রুপা আর নওশাদ রাক্ষসের মত খাচ্ছে,মনে হয় কয়েকবছর ধরে খাবার খায়নি,শান্ত আহানার মত করে খালি ভাতে পানি দিয়ে লুকিয়ে খেলো
কিরে চিকেন নেস না কেন?তুই তো চিকেন ছাড়া খেতে পারিস না
না খাওয়া হয়ে গেছে আমার
আহানা ঘুমিয়ে পড়েছে,জেগে থাকার চেষ্টা করেছে এতক্ষণ তাও ঘুম এসে গেলো চোখে

বিকাল হয়ে গেছে,শান্ত বললো আরেকটু থাকবে কিন্তু নওশাদ টেনে নিয়ে গেলো ওকে
রুপা বললো আহানা ঘুম থেকে উঠলে তারপর সে যাবে
আহানা ৬টটার দিকে উঠলো,রুপা ওকে মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বাই বলে সেও চলে গেলো বাসা থেকে
আহানা দরজা লাগিয়ে রান্নাঘরে আসলো,কেয়ামত বানিয়ে রাখছে রান্নাঘরকে,আল্লাহ!!
অবশিষ্ট বেগুন,আলু,চাল কতগুলো রয়ে গেছে
শান্ত ইচ্ছে করে বেশি বেশি কিনেছে যেন আহানা পরেও রান্না করে খেতে পারে
আহানা তাকের উপর দেখলো প্যাক করা খাবার রেস্টুরেন্টের
শান্ত আলাদা এক প্যাকেট রেখে গেছে
উপরে ছিল একটা চিঠি
তাতে লেখা ছিল-
এগুলা খেয়ে ঔষুধ খাবা
ইতি রুপা

আমি জানি এটা শান্ত লিখেছে,নিজের নাম লিখে নাই কারন ভেবেছে নিজের নাম লিখলে হয়ত আমি খাব না
আহানা সব গুছিয়ে খাবারের প্যাকেটটা নিয়ে টেবিলে রেখে বিছানায় এসে বসলো
সাড়ে ৮টা বাজে,আহানা জানালায় মাথা ঠেকিয়ে বাইরের দিকে তাকিয়ে আছে,২টা দিন টিউশনি করাতে পারিনি,কি জানি চাকরি থাকবে কি থাকবে না
ফোন বাজতেসে,আহানা হাতে নিয়ে দেখলো unknown নাম্বার,এটা আবার কার নাম্বার?
রিসিভ করে হ্যালো বললো সে
ওপাশ থেকে কোনো আওয়াজ আসতেসে না শুধু হালকা করে শ্বাস নিশ্বাসের আওয়াজ ভেসে আসতেসে
কে?হ্যালো?
তোমার শরীর কেমন এখন?
আপনি কে?
শশশশশাননননন্ত
ওহ,আপনি আমার নাম্বার পেলেন কই?
রুপার কাছ থেকে নিয়েছি,তোমার শরীর কেমন এখন সেটা বলো,তোমার সাথে ফালতু কথা বলার সময় নেই আমার

আহানা রেগে বললো ভালো আছি,মরি নাই
শান্ত ও রেগে গেলো মরার কথা শুনে
কেটে দিলো লাইন
আহানা চোখ বড় করে ফোন রেখে দিয়ে আবারও বাইরের দিকে তাকিয়ে থাকলো
এই ছেলেটা সুন্দর করে কথাই বলতে জানে না,বেয়াদব কোথাকার!
খাবার খেয়ে ঔষুধের কথাই ভুলে গেলো আহানা,শুয়ে পড়লো সে
রাজ্যের ঘুম চোখে এসে গেসে তার
হঠাৎ ফোনটা আবার বেজে উঠলো,আহানা ঘুম ঘুম চোখে রিসিভ করলো
হ্যালো!কে?
আমি
আমি কে?

শান্ত
কি হয়েছে?নাম্বার পেয়ে মনে হয় হাতে আকাশের চাঁদ পেয়েছেন,আমাকে এত ডিস্টার্ব করেন কেন,একদম ব্লক মেরে দিব
শুনো তোমাকে ডিস্টার্ব করার ইচ্ছা নাই আমার,জাস্ট জানতে কল করেছিলাম ঔষুধ খেয়েছো কিনা
ইস ভুলে গেসিলাম,এইতো খাচ্ছি
কিহ!ভুলে গেসো মানে?ঔষুধের কথাও মানুষ ভুলে যায়?তুমি আসলেই একটা বেয়াদব মেয়ে
এই ঠিক করে কথা বলেন,আমি ঔষুধ না খেলে আপনার কি?
কাল ভার্সিটিতে আসিও,বুঝাবো আমার কি!
শান্ত লাইন কেটে দিলো কথাটা বলে
কচু করবে আমার😒

ভোরবেলায় ঘুম থেকে উঠে নামাজটা শেষ করে নিয়ে আহানা বেরিয়ে পড়লো তার প্রতিদিনের কাজে,গন্তব্য মিষ্টিদের বাসা
দিনটা ভালোই,ভোরবেলার পরিবেশটাই অন্যরকম,ব্যস্ত নগরীকে চেনা দায়,হুট করে অন্য জেলা থেকে আসা মানুষ বলবেই না এটা বাংলাদেশের সব চাইতে ব্যস্ত শহর ঢাকা,কারণ ভোরের ঢাকার পরিবেশটাই এমন,আমার তো ঢাকার এই চিত্রটাই বেশ লাগে,আমি আর পাখিরা মিলে পথ চলছি,আমি রোড বেয়ে আর পাখিরা আকাশ বেয়ে,আর দু একজন আছে তারা রোড পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করায় ব্যস্ত
জ্বর কিছুটা কমেছে,ভালো লাগতেসে এখন,পেটের দায়ে কাজ করাই যায়,কথা হলো গিয়ে শান্ত বেয়াদবটা আজ কি করবে কে জানে

যেভাবে হুমকি দামকি দিলো আমাকে
যাই হোক আমি এসবে ভয় পাই না,বেশি বাড়াবাড়ি করতে আসলে নাকে দিয়ে দিব এক ঘুষি
সাদা নাকটা তার গোলাপি বর্ণ ধারন করবে তখন,কি সুন্দর লাগবে দেখতে
ভাবতে ভাবতে সে এসে পড়লো মিষ্টিদের বাসার সামনে
পা বাড়িয়ে ভিতরে ঢুকলো এদিক ওদিক ভালো করে পর্যবেক্ষন করে,নাহ তাহলে মনে হয় ভার্সিটিতে গেলেই জ্বালাবে যা বুঝলাম,আমি তো ভেবেছি এখানে পাকড়াও করবে আমাকে
সব জায়গা ভালো করে পরোক করে নিলেও মেইন লিফটের ভেতরটা তার দেখা হলো না,সেদিকে তার নজরই নেই,মাথায় একদমই ছিল না যে শান্ত ঠিক কোন জায়গায় তার শিকারের অপেক্ষায় আছে
লিফটে ঢুকে ৫তম বাটনে টিপ দিয়ে পাশে তাকাতেই চোখ কপালে উঠে গেলো আহানার,কলিজা বের হওয়ার উপক্রম প্রায়ই

বড় বড় নিশ্বাস ফেলে লিফটের সাথে লেগে দাঁড়িয়ে পড়লো আহানা
পাশেই শান্ত আরামসে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে ফোনে গেমস খেলতেসে
সম্ভবত পাবজি খেলতেসে,কারণ পাবজিই একমাত্র গেম যেটা খেলার সময় আশেপাশে কি চলে সেদিকে খবর থাকে না গেমারদের
আহানা নিজেকে ঠিক করে নরমাল হয়ে দাঁড়ালো
শান্ত যেন খেয়ালই করছে না আহানা যে ভয়ার্ত চোখে বারবার ওকে দেখছে
৫তলা এসে গেছে আহানা পা টিপে বের হতে নিতেই একটা হাত ওর পাশ দিয়ে এসে লিফট অফ হওয়ার বাটনে ক্লিক করে দিলো

একি!এটা কি করলেন আপনি?আমি মিষ্টিকে পড়াবো তার জন্য বের হচ্ছিলাম আপনি লিফট অফ করলেন কেন?
শান্ত আহানার কথায় কান না দিয়ে ১০তলার বাটনে টিপ দিয়ে আবারও গেমস খেলায় মন দিলো
আহানা চোখ রাঙিয়ে সামনে গিয়ে ৫তলার বাটনে টিপ দিতে যেতেই শান্ত ওর হাতের কুনুই ধরে টেনে কাছে নিয়ে আসলো
ভয়ে আহানার গলা শুকিয়ে গেছে,লিফটের ভেতর চিৎকার দিয়েও কাউকে পাবে না,শান্ত এমন করে ধরেছে কেন,কি করবে এখন?
শান্ত এক হাত দিয়ে আহানাকে ধরে আরেক হাত দিয়ে ফোনটা পকেটে ঢুকাচ্ছে
তার মুখে চুইংগাম,সেন্টারফ্রুট,সেটা ফুলিয়ে বাবল বানিয়ে ঠুস করে ফুটিয়ে আবারও চিবাচ্ছে,গুন্ডা তো নয় যেন মহাগুন্ডা!!
আহানা হাত মুচড়াতে মুচড়াতে বললো এসব কি হ্যাঁ??হাত ছাড়ুন আমার,মিষ্টিকে পড়াতে হবে,১দিন পড়াই নাই আমি

১০মিনিট বাকি এখনও
মানে?কি করবেন আপনি?১০তলায় নিয়ে যাচ্ছেন কেন আমাকে?আমার হাত ছাড়ুন বলে দিচ্ছি খুব খারাপ হয়ে যাবে
কেন?চড় মারবে?মারো
শান্ত গাল এগিয়ে নিতেই আহানা পিছিয়ে গেলো
১০তলা এসে গেছে শান্ত লিফট থেকে বেরিয়ে আহানাকে টেনে ছাদে নিয়ে গেলো
হাত ছাড়ুন!বাঁচাও বাঁচাও কেউ আছো!
তোমাকে আমি ১০তলা থেকে ফেলে দিব এখন
আহানা চোখ বড় করে ভাবলো মজা করার জায়গা পায় না নাকি
শান্ত আহানাকে টেনে ছাদের শেষ সীমানায় নিয়ে এসেছে,এবার আহানার সত্যি সত্যি ভয় করছে খুব
না জানি ফেলে দেয় আমাকে
হুম কাল রাতে কি বলছিলা যেন?রিপিট করো তো

না কই,কিছু বলিনি তো
তাই?
শান্ত আহানার দুকাঁধ ধরে ওকে ছাদের থেকে বাইরে শূন্যে নিয়ে গেলো ওর অর্ধেক বডি
আহানা চিৎকার দিয়ে বললো আর জীবনেও বলবো না “আপনার কি”,এটা বলবো না সত্যি,ছেড়ে দেন
ছেড়ে দিব?
না না,আই মিন ফালাইয়েন না আমাকে
সরি বলো
আচ্ছা সরি
আবার!

আহানা বিরক্তি নিয়ে চোখ রাঙিয়ে তাকিয়ে আছে
শান্ত একটু ঝাঁকাতেই আহানা ভয়ে শান্তর টি -শার্ট খাঁমছে ধরে এগিয়ে কাছে চলে আসলো
চোখ বন্ধ করে বললো সরি সরি আর বলবো না,মাফ করে দেন আমাকে😖
শান্ত অবাক হয়ে আছে,আহানা এভাবে কাছে চলে আসবে তাও শার্ট খাঁমছে ধরে এটা সে ভাবেনি,আহানার এই কাজে মূহুর্তেই শান্তর মুখের রাগ ক্রোধ কমে গিয়ে কেমন একটা অনূভুতির প্রস্ফুটন ঘটলো
আহানা চোখ খুলে দেখলো শান্ত ওর দিকে কেমন করে যেন চেয়ে আছে
আহানা টি -শার্ট ছেড়ে দিয়ে পিছিয়ে গেলো,তারপর দেরি না করে চলে আসলো ওখান থেকে
শান্ত রোবটের মত এখনও সেই জায়গাতেই দাঁড়িয়ে আছে,এটা কেমন অনুভূতি হচ্ছে,শরীরের শিরায় শিরায় কাঁপা কাঁপি,বুকটা ধরফর ধরফর করে যাচ্ছে,মেয়ে মানুষের ছোঁয়ায় এত শক্তি থাকে যে রাগ ও কমিয়ে দিতে পারে?
এতদিন কথাটা বিশ্বাস করতাম না এখন করতে বাধ্য,কারন এটা আমার সাথেই ঘটেছে তাও কিছুক্ষন আগে
আহানা তো আল্লাহর নাম দিয়ে লিফটে না উঠেই সিঁড়ি দিয়ে দৌড় দিলো মিষ্টিদের বাসায়
শান্ত রোবটের মত হেঁটে হেঁটে রুমে ঢুকে ধপ করে খাটের মাঝখানে বসে পড়লো
বিছানা হাতিয়ে সিগারেট একটা খুঁজে নিলো তারপর পকেট থেকে লাইটার নিয়ে সেটা দিয়ে সিগারেটটা ধরিয়ে মুখে দিলো

টিক টিক টিক ৭টা বাজে
শান্ত এই এক ঘন্টায় ৪টা সিগারেট খেয়েছে,৫তম টা মুখে দিয়ে বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ালো সে
আহানা এখন লিফটে নিশ্চয় নাকি সিঁড়িতে,মনে হয় না আজ আর লিফটে উঠবে
আহানা বিল্ডিং থেকে বের হতেই একটু থেমে উপরের দিকে তাকালো,শান্ত সিগারেট খাচ্ছে আর ওর দিকে গুন্ডা লুক নিয়ে চেয়ে আছে
আহানা মনে মনে বললো বেয়াদব,ইতর,খাডাস,অসভ্য
শান্তর আর বুঝতে বাকি নেই আহানা তাকে গালি দিচ্ছে,চোখ মুখের expression দেখেই বোঝা যায় যে সে গালি দিচ্ছে
তাও যেনো তেনো না!! হাই লেভেলের চিপ গালি
সিগারেটটা শেষ ততক্ষণে,শান্ত হাত বাড়িয়ে নিচে ফেলে দিলো সেটা
আহানা চোখ বড় করে সরে দাঁড়ালো,সিগারেট এসে একদম ওর সামনে পড়লো
আহানা দাঁতে দাঁত চেপে চলে গেলো ওখান থেকে,ইচ্ছে করতেসিলো পা দিয়ে মাড়াই দিই,কিন্তু না পরে আবার আমাকে একা পেলে ছাদ থেকে ফেলে দিবে,এরকম সাইকোর সাথে না লাগাই ভালো হবে আমার জন্য

বাসায় ফিরে ব্যাগটা রেখে রান্নাঘরে গেলো আহানা
কালকের বেগুন ৪টার মতন আছে,আলু আছে,চাল আছে
কি খুশি আহানা,ভাবতে লাগলো কতদিনে শেষ দিবে
বেগুন তাড়াতাড়ি নষ্ট হবে,পোকায় ধরবে তাই সে একটা বেগুন কেটে রাখলো ভাজি করবে সেটা দিয়ে খাবে আজ
১টা বেগুনকে ৫টুকরা করলো,২টুকরা দিয়ে এখন খাবে ভাত দিয়ে
বাকি ৩টুকরা রাতে খাবে,তাহলে বাকি আর যে ৩টা বেগুন আছে সেগুলো কাল,পরশু আর তার পরেরদিন ও যাবে
ব্যাস আগামী ৩দিনের মেনু ডান

এরপরে আলু ভেজে কদিন খাবো,তারপর পেঁয়াজ দিয়ে চালাবো,এক মাসের বাজার করে দিসে বান্দরটা
আমি এগুলাও নিতাম না কথা হলো এগুলো তো ফিরিয়ে দেওয়া যায় না,টাকা হলে ফিরাই দিতাম
বেগুন ভেজে ভাত রেঁধে খেয়ে নিলো তারপর রেডি হয়ে বের হয়ে হাঁটা ধরলো ভার্সিটির দিকে
গেইট দিয়ে ঢুকতেই সবার আগে চোখে পড়লো শান্তকে
বটগাছটার নিচে বসে আছে দলবল নিয়ে,তার চোখ আহানার দিকে
উফ!গন্ডার একটা,ছাদের কথা মনে আসলেই এখনও ভয়ে গা শিউরে উঠে আমার
আহানা চোখ নামিয়ে ক্লাসরুমে চলে গেলো

কি ভাই শান্ত,সামথিং সামথিং?
নাথিং!সূর্য!
একজন বোরিং স্যার ক্লাস করতেসে,কেউ ফোন টিপছে লুকিয়ে, কেউ গসিপ করছে,শুধু আহানা মনোযোগ দিয়ে শুনতেসে স্যারের কথা,পড়ালেখা নিয়ে আহানা বেশ সিরিয়াস
স্যার অবশেষে পড়িয়ে গেলেন,ব্রেক টাইম শুরু
আহানা চল ফুচকা খাবো
তুই যা আমি খাব না
আরেহ চল,নওশাদ খাওয়াবে
রুপা আহানার হাত ধরে টেনে নিয়ে গেলো ভার্সিটির বাইরে,রোডের পাশে ফুচকা আলা
রুপা আহানাকে নিয়ে টুল টেনে বসলো,রুপার পাশে নওশাদ এসে বসেছে,আহানা ওদের দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে খেয়াল করলো ওর পাশেও কেউ বসেছে,ঢোক গিলে পাশে তাকিয়ে দেখলো শান্ত ফোনের দিকে তাকিয়ে আছে
আহানা মুখ বাঁকিয়ে একটু সরে বসলো

সবার হাতে হাতে ফুচকাআলা ফুচকার প্লেট দিয়ে দিলেন
আহানা একটা মুখে দিয়ে শান্তর দিকে তাকালো
সে কিছুটা রহস্যময় চেহারায় চেয়ে আছে ফুচকা গুলোর দিকে,আগে কোনোদিন ফুচকা খায়নি সে,নওশাদ বললো আহানা আর রুপাকে ফুচকা খাওয়াবে আহানার কথা শুনে সে এসেছে,কথা হলো গিয়ে ফুচকার প্রতি তার interest নেই আর খেতে কেমন কে জানে
আহানা শয়তানি হাসি দিয়ে ফুচকা খাচ্ছে
আহানা!

কি?
এই মটকার ভিতরে ওগুলা কি?আই মিন টেস্ট কেমন?ঝাল হবে?নাকি মিষ্টি
আহানা দুষ্টুমি করে বললো খুব মিষ্টি,গোলাপজামের মতো একদম
শান্ত হেসে দিয়ে গপাগপ একসাথে দুইটাই মুখে দিলো
ঝালের চোট যখন ধরলো চোখ বড়করে আহানার দিকে তাকালো সে,চোখ টুকটুকে লাল রঙ ধারন করেছে,চুপচাপ আহানার দিকে তাকিয়ে বসে আছে সে
শান্তর এমন অবস্থা দেখে আহানা তার হাত থেকে প্লেটটাই রেখে দিলো
শান্তর চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে যাচ্ছে অনবরত,আহানার দিকে তাকিয়ে বাকি ফুচকা গুলো খেয়ে যাচ্ছে সে
শেষেরটা খেতে যেতেই নওশাদ হাত থেকে নিয়ে নিলো

শান্ত এটা কি করতেছিস তুই??তোরে বলসি না জাস্ট একটা খাবি,তোর ঝালে এলার্জি
নওশাদ পানির বোতল এনে শান্তর পিঠ ডলে পানি খাইয়ে দিলো
শান্ত নাক মুখ খিঁচে চোখ মুছতে মুছতে পানি খেলো
আহানা অসহায় হয়ে তাকিয়ে আছে শান্তর দিকে
সে জানতো না শান্তর ঝাল খেলে সমস্যা হয়
শান্ত পানি সব শেষ করলো তাও ঝাল যাচ্ছে না তার,বড় বড় করে শ্বাস নিচ্ছে
আহানা চিন্তিত হয়ে উঠে গিয়ে ফুচকা আলার টক বানানোর চিনি এক চামচ এনে শান্তর গাল টিপে মুখে ঢুকিয়ে দিলো

শান্তর মুখের ঝাল এবার একটু কমে এসেছে
আহানা ব্রু কুঁচকে ব্যাগ নিতে নিতে বললো ঝাল খেতে জানে না আবার ঝাল খেতে আসে,ঢং
কথাটা বলে আহানা চলে গেলো সেখান থেকে
শান্ত পকেট থেকে রুমাল নিয়ে মুখ মুছতেসে বাচ্চাদের মত,ছোট বেলা থেকেই ঝাল খেতে পারে না সে,ঝাল একদম কম খায়,বেশি খেলেই দম বন্ধ হয়ে চোখ দিয়ে যেন আগুন ঝরে তার
২টার দিকে ভার্সিটি ছুটি হয়ে গেলো
আহানা কৃষ্ণচূড়া গাছটার নিচে এসে এদিক ওদিক তাকিয়ে শান্তকে খুঁজতেসে
আমাকে খুঁজতেসো?
আহানা চমকে পিছনে তাকালো,তারপর বললো হুম
কেন?
সরি,আমি জানতাম না আপনি ঝাল খেতে পারেন না,জানলে বলতাম না এটা মিষ্টি
ইটস ওকে

শান্তর ইটস ওকে শুনে নিজেকে নির্দোষ মনে করে আহানা চুপচাপ হেঁটে চলে গেলো সেখান থেকে
সব টিউশনি শেষ করে বাসায় ফিরে ঘর পরিষ্কার করছে সে
হঠাৎ বিছানার তোষকের নিচে সেই ২হাজার টাকা পেলো যেটা সে শান্তকে দিয়ে চলে এসেছিল
ফোনে তো টাকাও নেই,কল করবো কি করে,আচ্ছা ইমারজেন্সি ব্যালেন্স নিই,তাহলেই তো হয়
ইমারজেন্সি ব্যালেন্স নিয়ে শান্তকে ফোন করলো সে
শান্ত ঘুমাচ্ছিলো তখন,সন্ধ্যা ৭টা বাজে
হহহহহহুমমমম,কে?
আমি
আমি কে?
আহানা!
ওহ তুমি?কি হয়েছে?
শান্ত চাদর সরিয়ে উঠে বসে লাইট জ্বালালো রুমের
আমাকে ২হাজার টাকা ফেরত দিলেন কেন?আপনি আমার বাসা ভাড়ার ৬হাজার টাকা শোধ করে দিসেন,আমি ২হাজার টাকা দিলাম,বাকি ৪হাজারও দিয়ে দিব,আপনি আবার ২হাজার ফেরত দিতে গেলেন কেন?

শুনো!!তুমি আমাকে যতবার টাকাটা দিয়ে যাবা ততবার আমি ফেরত দিয়ে আসব,এই টাকা আমি নিব না মানে নিব না,আর হ্যাঁ আর একদিন ফেরত দিতে আসলে ছাদ থেকে সত্যি সত্যি ফেলে দিব তোমাকে
আপনি খুব খারাপ একটা লোক,খুব খারাপ!
আহানা লাইন কেটে ফোন বিছানার উপর ছুঁড়ে মারলো,এই টাকা আমি কিছুতেই নিব না
পরেরদিন ভোরবেলায় আবার বের হলো মিষ্টিদের বাসার উদ্দেশ্যে,টাকাগুলো ও সাথে নিলো,আজ সেগুলো ফেরত দিবে সে
শান্ত দরজা খুললো জগিং করতে যাবে,দরজা খুলে হাতে তাকিয়ে দেখলো ঘড়ি নেই,নিজের রুমে গিয়ে খুঁজলো তাও পেলো না,নওশাদ সূর্যর রুমে গেলো খুঁজতে
আহানা দরজা খোলা পেয়ে উঁকি দিলো ভেতরে
এটাই সুযোগ,বেয়াদবটা আমাকে দেখার আগে টাকাটা রেখে পালাবো
ওটা মনে হয় উনার রুম,সেখানেই রেখে আসি বরং!
আহানা পা টিপে টিপে শান্তর রুমে ঢুকলো
ইয়া বড় একটা রুম

তার বাসার সব রুম মিলালেও এই একটা রুমের সমান হবে না
রুমের মাঝখানে বিছানা,সেটা দেখেই মন ভালো হয়ে যাবে এত সুন্দর,আর সবচেয়ে বড় কথা হলো পুরো রুমটা কমলা রঙের উপর করা,দেয়াল কমলা রঙের,বেডশিট থেকে শুরু করে কার্পেট ও কমলা রঙের
আহানা দেখতে দেখতে রুমটার মাঝখানে চলে আসলো
শান্ত ঘড়ি পরতে পরতে বের হয়ে যেতে নিতে থেমে গেলো,এটা কে আমার রুমে?
এগিয়ে এসে দেখলো আহানা শান্তর রুমটা ড্যাবড্যাব করে দেখে যাচ্ছে
তারপর টাকাটা বালিশের তলায় রাখলো সে
রেখে পিছন ফিরতেই হঠৎ করে শান্তকে দেখে পিছিয়ে গিয়ে দুম করে খাটে বসে গেলো ভয়ে
শান্ত কোমড়ে হাত দিয়ে বললো তোমাকে মানা করি নাই এই টাকা ফেরত দিতে আসবা না!!

তো?আপনার টাকা আমি মুফতে কেন নিব?
তোমাকে আল্লাহ কি মাটি দিয়ে বানিয়েছে??আজব মেয়ে তুমি
খালি ভাত আর নুন খেয়ে খেয়ে মাথা গেছে তোমার!সেধে টাকা দিয়ে হেল্প করতে চাচ্ছি আর তুমি কিনা বারবার ফিরিয়ে দিচ্ছো!মুফতে নিবা না তো?ঠিক আছে
শান্ত আহানার হাত ধরে টেনে নিয়ে গেলো বাথরুমের দিকে
এই এই কি করতেসেন আপনি,হাত ছাড়ুন আমার,বাঁচাও বাঁচাও
শান্ত দাঁতে দাঁত চেপে বললো চুপ করো
তারপরও যখন আহানা চুপ হচ্ছে না তখন আহানার মুখ চেপে ধরলো সে
চুপ!একদম চুপ,আমি কি তোমাকে রেপ করবো নাকি?হাত ধরলেই এত চেঁচাও কেন সবসময়?
তো কি করবেন?বাথরুমে নেন কেন?

শান্ত দরজা খুলে এক পাহাড় ময়লা জামা দেখালো,এগুলা ধুয়ে দাও,বিনিময়ে ২হাজার টাকা নাও
আমাকে কি আপনার বুয়া মনে হয়?আমি বুয়াগিরি করে টাকা নিব না
আহানা চলে যেতে নিতেই শান্ত হাত টেনে ধরে দেয়ালের সাথে লাগিয়ে ধরলো ওকে
আহানা চোখ বন্ধ করে হাত দিয়ে পুরো মুখ ঢেকে রেখেছে,সিনেমায় দেখেছিল নায়করা এমন করে কিস করে নায়িকাকে,তা ভেবে আহানার ভয় করছে
শান্ত মুখ বাঁকিয়ে ব্রু জোড়া নাচিয়ে বললো তোমার আসলে কি মনে হয়?
তোমার মত বোকা,শয়তান বেয়াদব মেয়েকে আমি কিস করবো?আমি?শাহরিয়ার শান্ত?ভেরি ফানি,হয় কাজ করে টাকা নাও নয়ত এমনি এমনি নাও,আমার কোনো কিছুতেই সমস্যা নেই,কিন্তু তোমায় টাকা নিতেই হবে

আহানা মুখ থেকে হাত সরিয়ে বললো আমি টাকা নিব না,বাই
কথা শেষ করে আহানা হনহনিয়ে বেরিয়ে চলে গেলো রুম থেকে
শান্তর মেজাজ গেলো গরম হয়ে,উফ এই মেয়েটা এমন কেন!!!
আহানা হাঁপাতে হাঁপাতে মিষ্টিদের বাসায় ঢুকলো,যাক বাবা টাকাটা রাখতে পেরেছি এটাই অনেক!

হ্যাঁ বাবা,পরের সপ্তাহে ইনশাল্লাহ আমি তোমার কাছে থাকবো,ঈদের আগের দিনই রওনা হবো,ওকে বাই,নাহ বেশিদিন থাকবো না,পরের মাস থেকে আবার পরীক্ষা,হুম আচ্ছা
শান্ত কথা বলতে বলতে বাইকে উঠে ভার্সিটির দিকে চলে গেলো
আহানা বাসায় ফিরে রান্নাবান্না সেরে খেয়ে নিয়ে ভার্সিটিতে আসলো

প্রেমের পাঁচফোড়ন পর্ব ১৭+১৮

আহানা!
কি এশা?আমাকে ডাকলে?
তোমার ওড়নায় এটা কি গিট্টু দিয়ে রাখসো?
আহানা চমকে ওড়না হাতে নিয়ে গিট্টু দেখে অবাক হলো,কিসের গিট্টু এটা,আমি তো দেই নাই
ভাবতে ভাবতে গিট্টুটা খুললো সে,ভিতরে ২হাজার টাকা
উফ!!
এই বান্দরটা আমার নাগাল পেলো কই,আসার পর থেকে তো দেখলাম না একবারও
আবার আমার ওড়নায় গিট্টু বাঁধলো কখন!
শান্ত বাইকে বসে দাঁত কেলিয়ে আছে ওর দিকে তাকিয়ে
এটা দেখে আহানার গা জ্বলে যাচ্ছে,ইচ্ছে করছে গিয়ে চুল ছিঁড়ে দিই বেয়াদবটার

প্রেমের পাঁচফোড়ন পর্ব ২১+২২