Home বাঁধনহারা প্রেম বাঁধনহারা প্রেম পর্ব ৬৪

বাঁধনহারা প্রেম পর্ব ৬৪

বাঁধনহারা প্রেম পর্ব ৬৪
shanta moni

‘কথা গুলো বলেই রোদ রুম থেকে বেড়িয়ে যায়। কোন দিক না তাকিয়ে, শুভ্র ঠায় সেই একই যায়গা দাঁড়িয়ে আছে। রোদের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে, কিছু সময় যেতেই শুভ্রের রুমে রিয়া আসে। শুভ্র রিয়াকে দেখে বাঁকা হাঁসে,
শুভ্র৷ রিয়া সেজেগুজে শুভ্রের রুমে এসেছে।
শুভ্রকে নিতে, রিয়া শুভ্রের কাছে এসে ন্যাকামো স্বরে বলে উঠে।’
‘শুভ্র বেবি, তুমি এখনো রেডি হওনি। নিচে সব গেস্টরা চলে এসেছে৷
‘শুভ্র এখনো ঠায় একই যায়গা দাঁড়িয়ে আছে।
রিয়া শুভ্রের কাছে এসে শুভ্রকে এক হাত দিয়ে ধাক্কা দিয়ে বলে উঠে।’’
‘‘কি হলো কোথায় হারিয়ে গেলে..?
‘শুভ্র হকচকিয়ে উঠে, তাড়াহুড়ো করে বলে উঠে।’’
‘‘কি..কি হ’য়েছে…?
‘তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে এসো। নিচে সবাই ওয়েট করছে..!
‘তুই যাহ পাঁচ মিনিট মধ্যে আমি আসছি।
‘কথা শেষ করেই শুভ্র ওয়াশরুম ডুকে যায়।

ওয়াশরুমে ডুকে চোখে মুখে পানি দিচ্ছে। শুভ্রের কেনো জানি মনে হচ্ছে, সে স্বপ্ন দেখছে। এইদিকে রিয়া রুম থেকে বের হতে নিবে এমন সময় দেখে ফ্লোরে একটা কাগজ পড়ে আছে। লম্বা গাউন পড়াতে নিচু হয়ে কাগজটা তুলতে একটু কষ্ট হচ্ছে। যখনি নিচু হয়ে কাগজটা তুলতে যাবে। এমন সময় বাহির থেকে ডাক আসে হাঁসি বেগমের। রিয়া রুম থেকে বেড়িয়ে হাঁসি বেগমের কাছে।
এইদিকে শুভ্রের অবস্থা খারাপ হয়ে যাচ্ছে। কোনো মতেই রোদের এমন পরিবর্তন মেনে নিতে পারছে না। সে ভেবেছিল এই মেয়ে কষ্ট পাবে। তার বিরহে কাতর থাকবে। কিন্তু না এতো সব কিছু উল্টো হচ্ছে৷ প্রায় দশ মিনিট পর ওয়াশরুম থেকে বেড় হয়, শুভ্র। শুভ্র বের হয়ে চোখ পরে ফ্লোরে পড়ে থাকা কাগজের উপর। কোনো কিছু না ভেবেই কাগজ টা হাতে তুলে।
এইদিকে

‘অয়ন রেডি হয়ে নিচে করিডর থেকে নিচে যাচ্ছে। আর এদিক ওদিক তাকাচ্ছে, অয়নের দুই চোখ জুঁইকে খুতছে৷ না চাইতেও মেয়েটাকে সে ভীষণ মিস করছে। তাই তো দরজার সামনে দিয়ে যাচ্ছে, আর উকি ঝুঁকি দিচ্ছে৷ বেশ কিছুদিন হলো জুঁই আর অয়নকে জ্বালাচ্ছে না। একেবারে অয়নের সামনে প্রযন্ত আসছে না। অয়ন এই সব কিছু ভেবে তপ্ত নিশ্বাস ফেলে৷ পা ফেলে ছাদের দিকে যায়৷
ছাদেও খুব সুন্দর করে ডেকরেট করা হয়ে।
আপাতত ছাদে এখন কেউ নেই। নিচে এনগেজমেন্ট অনুষ্ঠান হচ্ছে সব লোকজন সেইখানে আছে। অয়ন পকেট থেকে সিগারেট বেড় করে, দেশলাই দিয়ে সিগারেট ধরিয়ে খেতে থাকে। হটাৎ পিছন থেকে মেয়েলি কন্ঠ স্বর ভেসে আসে। পাশ ফিরে তাকাতেই দেখে মুখে ওড়না দিয়ে কাশছে। অয়নের জুঁইকে চিনতে বেশি সময় লাগে না। অয়ন জুঁইয়ের দিকে এক নজর তাকিয়ে হাতের সিগারেটা দূরে ফেলে দেয়। কোনো কিছু না বলেই ছাদ থেকে দ্রুত পায়ে নেমে যায়। জুঁই মুখ থেকে ওড়না সরিয়ে অয়নের যাওয়ার দিকে করুন দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। চোখের কোনে পানি চিকচিক করছে। জুঁই বিড়বিড় করে বলে উঠে।’

‘ভালোবাসার মানুষকে পাওয়া এতো কঠিন কেনো। কেনো তাদের চেয়েও পাইনা। আবার পেয়েও কেনো হারিয়ে ফেলি।
‘জুঁই হাতের উল্টো পিঠে চোখের পানি মুছে, ছাদ থেকে নেমে যায়। জুঁই নামতেই আড়াল থেকে অয়ন বেড়িয়ে আসে।
চৌধুরী বাড়ির ড্রয়িং রুমেই বড় করে এনগেজমেন্ট পার্টির আয়োজন করা হয়েছে।
চারপাশে অনেক গ্রেস্ট, বাড়ি ভর্তি লোকজন।
সামনে একটা স্টেজে শুভ্র আর রিয়া দাঁড়িয়ে আছে। শুভ্র চারদিকে চোখ বোলাচ্ছে। রিয়া নিজেকে দেখতে ব্যস্ত, অতিরিক্ত মেকাপের জন্য মনে হচ্ছে জঙ্গল থেকে কোনো পেত্নী পালিয়ে এসেছে। এখানে সবাই থাকলেও হেনা বেগম আরাফ চৌধুরী, এরা কেউ নেই। অয়ন নিলয়, এক কোনে দাঁড়িয়ে আছে। নিলয় মুখে কোনো হাঁসি নেই। সে রিয়াকে দেখছে আর নাক মুখ সিটকচ্ছে, মনে মনে বলছে।

‘ছিহহহ ওয়াক থু এই পেত্নীটা কোথা থেকে আসলো।
নিলয়ের কথা অয়নের কানে যায়। অয়ন মুখ টিপে হাঁসে। অয়নের রোদের কথা মাথায় আসছেই আসে পাশে চোখ বোলায়, কিন্তু কোথাও রোদ নেই। অয়ন তপ্ত নিশ্বাস ফেলে মনে মনে বলে উঠে।
‘হাজার বছর সাধনা করেও কেউ পায় না।
আবার কেউ সাধনা ছাড়া পেয়ে গেলেও। তার কদর বুঝে না।
‘কথা গুলো ভেবেই মুচকি হাঁসে অয়ন। সে রোদের সুখের জন্য রোদ থেকে নিজেকে খুব কষ্টে দূরে রেখেছে। কিন্তু আজও সেই আগের মতোই ওই মায়াবী কন্যাকে সে বড্ড ভালোবাসে। অয়ন এই সব কিছুই ভাবছিল, এমন সময় একজন লোক বলে উঠে। এখনি রিং বদল সুরু হবে। অয়ন সামনের দিতে তাকায়, রিয়া শুভ্রকে রিং পরিয়ে দিচ্ছে।
এইদিকে শুভ্র হাতে ডায়মন্ডের রিং নিয়ে একবার আসে পাশে তাকায়, কিন্তু না রোদ তো কোথাও নেই। ইশশ চেয়েছিল রোদের সামনে রিয়া রিং পরিয়ে দিয়ে রোদকে জ্বালাবে তা আর হলো না৷ শুভ্র কাঁপা হাতে রিয়াকে যখনি রিং পড়াবে। এমন সময় পুড়ো বিদ্যুৎ চলে যায়৷ বিদ্যুৎ যেতেই মানুষের চেচামেচি শুরু হয়৷ মিনিট খানিক সময় যেতেই, রঙ বি রঙের আলো এসে পড়ে সামনে ডান্স ফ্লোরের দিকে, সবাই বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে আছে। পিছন ফিরে কেউ দাঁড়িয়ে আছে। অধির আগ্রহে সেই দিকে তাকিয়ে আছে সবাই। এমন সময় মিউজিক ভেসে আসে।’

‘পিছন ফিরে থাকা রোদ সামনে তাকাতেই শুভ্র বসা থেকে দাঁড়িয়ে যায়। অবিশ্বাস চোখে তাকিয়ে আছে সামনের দিকে, আবার কেউ কেউ অধির আগ্রহে তাকিয়ে আছে রোদের দিকে। হোয়াইট কালালের লেহেঙ্গা যেনো ফর্সা শরীরে ধব ধব করছে। শুভ্র রোদের দিকে তাকিয়ে শুকনো ঢোগ গিলে, রোদকে এভাবে সবার সামনে নাচতে দেখে অবিশ্বাস চোখে সবাই তাকিয়ে আছে। আর আসে পাশের গেস্টরা সবাই মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে আছে। নীলা এক পাশে দাঁড়ানো ছিল। রোদ এই রকম নিজের স্বামীর বিয়েতে নাচতে দেখে মনে হচ্ছে কোনো স্বপ্ন দেখছে। সবাই কেমন করে যেনো তাকিয়ে আছে। গান বন্ধ হতেই চারদিকে কর তালি বাজে, সবাই রোদের নাচ, এবং রোদের প্রশংসাহ করছে। রোদ শুভ্রের দিকে তাকিয়ে বাঁকা হাঁসছে। শুভ্র রোদের দিকে এক ধ্যানে তাকিয়ে আছে। তার নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছে না। কিভাবেই বা বিশ্বাস করবে।
এই মেয়ে তো এখন দরজা বন্ধ করে কান্না করার কথা। কিন্তু না এতো দেখি নিজের স্বামী অন্য মেয়েকে বিয়ে করছে। সেই সব কিছু সেলিব্রট করছে। চেয়েছিল কি আর এই মেয়ে করছে কি। তাকে জ্বালাতে গিয়ে সে নিজেই জ্বলে পুড়ে শেষ হয়ে যাচ্ছে।

রিয়া রোদের দিকে কেমন করে যেনো তাকিয়ে আছে, আশে পাশের মানুষ কেমন করে যেনো রোদকে দেখছে। রোদ শুভ্র রিয়ার সামনে এসে মুচকি হেঁসে বলে উঠে।’
‘কংগ্রাচুলেশন মিস্টার শুভ্র চৌধুরী।
রোদ রিয়ার হাতে একটা গিফট বক্স দেয়।
রিয়া জোর পূর্বক মুখে হাঁসি টেঁনে, বক্সটা হাতে নেয়।
‘এমন সময় কোথা থেকে একটা ছেলে দৌড়ে এসে রোদ জড়িয়ে ধরে, হটাৎ এমন জড়িয়ে ধরাতে আসে পাশে সবাই কেমন বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে আছে। রোদ আর চোখে শুভ্রের দিকে তাকায়৷ শুভ্রের চোখ মুখ রক্তিম হয়ে গেছে। হাত মুষ্টি বদ্ধ করে রেখেছে। রোদ ছেলেটার সাথে এক পাশে সরে যায়। শুভ্র সেই দিকেই আর চোখে তাকিয়ে আছে। এমন সময় রিয়া আবার শুভ্রকে রিং পড়ানোর জন্য বলে।
শুভ্র হাতে রিং নিয়ে রোদের দিকেই তাকিয়ে আছে। রোদ শুভ্রের দিকে একটা বারের জন্য তাকাচ্ছে না। যার জন্য শুভ্র আরো রেগে যায়।

এইদিকে রিয়ার হটাৎ পেটের মধ্যে মোচড় দিয়ে উঠে। শুভ্রকে বলে সিঁড়ি বেয়ে নিজের রুমের দিকে যায়। তাড়াতাড়ি গিয়ে ওয়াশরুমে ডুকে পড়ে। এইদিকে এই সব কিছু দেখেই নিলয় হাঁসছে। প্রায় দশ মিনিট পর রিয়া নিচে আসে। শুভ্রের সামনে আসতেই আবার পেটের কামড় দেয়। সাথে সাথে পেট ধরে সিঁড়ি বেয়ে দৌড়ে উপরে উঠে। আসে পাশের গেস্টরা সবাই মুখ টিপে আসছেম একবার একবার করে পাঁচবার সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠা নামা করে। এক সময় রিয়া ক্লান্ত হয়ে সিঁড়িতে বসে পড়ে। হাঁসি বেগম দৌড়ে রিয়ার কাছে যায়।
রিয়াকে ধরে নিজের রুমে নিয়ে যায়। রিয়া বুঝতে পারছেনা হটাৎ করে এইভাবে পেটে সমস্যা হওয়ার কারন। রিয়া যেতেই নিলয় মুখ ভেঙিয়ে বলে উঠে।’
‘আসছে ব্রো বিয়ে করতে। আরে পেত্নী তোকে তো রাস্তার ভিক্ষুকও বিয়ে করবে না।
কি জানি ব্রো কি হলো। চাঁদ রেখে পাদের পিছনে পড়ছে।
‘কোথায় চাঁদ আর কোথায় এই রিয়া পাঁদ।
সবার নজর রিয়ার দিকে থাকলেও শুভ্র রোদকে খুঁজে বেড়াচ্ছে, রোদ হটাৎ করে উদাও কোথাও দেখা যাচ্ছে না।
শুভ্র মনে মনে বিড়বিড় করে বলে।
‘স্বামী অন্য মেয়েকে বিয়ে করছে বলে কষ্ট পাবে। তা না সে এই সব সেলিব্রেট করছে।’
বউতো দেখছি তার থেকেও ফাঁস্ট।
রাত ১২টা কি সাড়ে বারোটা,

‘অন্ধকার রুমে হাত পা বাঁধা অবস্থায় চেয়ারের সাথে বসে আছে শুভ্র। চোখ মেলে তাকাতেই চারদিকে অন্ধকার ছাড়া আর কিছুই দেখছে না। শুভ্র ঘন ঘন শ্বাস ফেলে, আসে পাশে চিৎকার করে সবাইকে ডাকতে থাকে। হটাৎ দরজা খোলার শব্দ পেয়ে সামনের দিকে তাকায় শুভ্র। সামনে থেকে দরজা খুলে কেউ আসছে। শুভ্র রেগে গিয়ে দাঁতে দাঁত চেঁপে বলে উঠে।’
‘কোনো জা*নো*য়ারের বাচ্চায়, আমাকে এখানে আটকে রেখেছে।
‘শুভ্র কথা শুনেই সামনে থাকা মানুষটি উচ্চ শব্দ হেঁসে উঠে। মেয়েলি কন্ঠে হাঁসির শব্দ শুনে শুভ্র ভ্রু কুচকে তাকায়, হটাৎ অন্ধকার রুমে আলো আসে। সামনে অপ্রকাশিত কিছু দেখে শুভ্র ভরকে যায়। রোদ কালো প্যান্ট, কালো জ্যাকেট, চুল গুলো খোঁপা করে উপরে বাঁধা৷ রোদের এই রুপ যেনো দেখে চোখকে বিশ্বাস করতে পারছে না। অবিশ্বাস চোখে তাকিয়ে আছে রোদের দিকে। রোদের চোখ মুখ শক্ত, মুখে বাঁকা হাঁসি। রোদ কয়েক পা এগিয়ে শুভ্রের দিকে আসে। রোদকে নিজের দিকে আসতে দেখেই শুভ্রের হুস ফিরে। শুভ্র রাগী কন্ঠে বলে উঠে।’
‘তোর সাহস কি করে হয়? আমাকে এই ভাবে বেধে রাখতে?

‘রোদ উচ্চ স্বরে হাঁসে……
শুভ্র রোদকে হাঁসতে দেখে দাঁতে দাঁত চেঁপে বলে।
‘কিসের জন্য আমাকে বেঁধে রেখেছিস! ছেড়ে দে আমায়!
রোদ শুভ্রের দিকে এসে শুভ্রের মুখটা উচু করে বলে উঠে৷’
‘‘তুমি আমার মন নিয়ে খেলছো। এখন আমি তোমার জীবন নিয়ে খেলবো।
‘রোদ কথা গুলো এমন ভাবে বলছে, যে শুভ্র ভয়ে শুকনো ঢোগ গিলে, রোদ শুভ্রে মুখ ছেড়ে দিয়ে। বুকের বা পাশে হাত রাখে।
হাত দিয়ে বুক শক্ত করে চেঁপে ধরে বলে উঠে।
‘তুমি আমাকে ধোঁকা দিয়েছিলে নাহ। মিথ্যা ভালোবাসার অভিনয় করেছিলে। আমাকে কষ্ট দেওয়ার জন্য।
এখন তো আমার কষ্ট হচ্ছে, এখন কি করা যাই বলো তো?
শুভ্র আমতা আমতা করে বলে
‘কি বলতে চাচ্ছো তুমি?
‘রোদ বাঁকা হেঁসে বলে উঠে,

‘যেই বুকে স্ত্রী জন্য ভালোবাসা নেই। সেই বুকে কার জন্য ভালোবাসা আছে। কার নাম আছে।
সেইটা আমি একটু দেখতে চাই।
শুভ্র চোখ বড় বড় করে রোদের দিকে তাকায়, এই মেয়ে কি বলছে এই সব।
রোদ শুভ্রের দিকে তাকিয়ে বাঁকা হেঁসে, ছুড়ি বের করে শুভ্রের বুকের পাশে ধরে বলে উঠে।
‘আজ আমি তোর হার্ট বের করে দেখবো সেখানে কে আছে।
কথাটা বলেই সাথে সাথে দক্ষ হাতে ছুড়ি চালায় শুভ্রের বুকে। সাথে সাথে শুভ্র গলা ফাটা চিৎকার দিয়ে উঠে বসে।
নিজেকে বিছানায় দেখে জোরে জোরে শ্বাস ফেলে। তার মানে এতোক্ষন স্বপ্ন দেখছিল। শুভ্র নিজের বুকে হাত দিয়ে ক্ষত খুঁজে কিন্তু কোথাও কোনো ক্ষত নেই। তার মানে সত্যি শেষে স্বপ্ন দেখছে। শুভ্র টি-টেবিল থেকে পানির গ্লাস নিয়ে, ঢগ ঢগ করে দুই গ্লাস পানি খেয়ে। নিজেকে স্বাভাবিক করে কিছুটা, তারপর বিড়বিড় করে বলে।
‘কি সাঙ্ঘাতিক স্বপ্ন রে বাবা। একটুর জন্য মনে হলো বেঁচে ফিরছি।
‘কতো বড় সাহস দেখছো৷ এই ৪০০ গ্রাম মেয়ে তার হার্ট বের করে দেখতে চাচ্ছে। বাবা গো কি সাঙ্ঘাতিক।
শুভ্র ঘড়ির দিকে তাকাতেই দেখে শেষ রাত ঘড়ির কাটা তিনটার ঘরে, শুভ্র ভয়ে শুকনো ঢোগ গিলে, ইদানীং তার বউ যে খেল দেখাচ্ছে। তাতে এই স্বপ্ন সত্যি হতে বেশি দেরি হবে না।

সকাল ১০ টা কি সাড়ে ১০ টা,
নিজের অফিস রুমে ডুকে সব কিছু দেখেই অবাক হচ্ছে শুভ্র। যেইখানে প্রতিদিন অফিসের সব স্টার্প দেখলে দাঁড়িয়ে সম্মান জানায় সেইখানে আজকে সবাই নিজের মতো কাজ করছে। শুভ্রকে দেখেও যেনো দেখছে না। শুভ্র এক নজর সবার দিকে তাকিয়ে, নিজের কেবিনে যায়। কেবিনের দরজা খুলে ভিতরে গিয়ে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে।
চেয়ারে বসে পিছন ফিরে আছে কেউ।
শুভ্র রাগে চোয়াল শক্ত করে বলে।
‘হোয়াট দ্যা হেল….কে আপনি…?
শুভ্রের কন্ঠ স্বর পেতেই সামনের দিকে চেয়ার নিয়ে ঘুরে রোদ। রোদকে নিজের অফিসে দেখে দুই কদম পিছিয়ে শুভ্র। রোদের গায়ে সাদা শার্ট তার উপরে কালো জ্যাকেট পড়া। চোখে সানগ্লাস, রোদকে হটাৎ করে দেখলে কেউ চিনতে পারবে না। শুভ্র কেবিনে আসার কিছুক্ষণ পর রিয়াও আসে। রিয়াও রোদকে দেখে অবিশ্বাস চোখে রোদের দিকে তাকিয়ে আছে। রিয়া রেগে গিয়ে বলে উঠে।

‘এই মেয়ে তোর সাহস কি করে হয়। এই যায়গা বসার।
রোদ ঠান্ডা হেঁসে বলে উঠে।’
‘নিজের যায়গা বসতে সাহসের প্রয়োজন নেই।
রিয়া যেনো রাগে তেঁতে উঠে রোদের দিকে এগিয়ে রোদকে থাপ্পড় মারতে গিয়ে বলে উঠে।
‘তোকে তো আ…
আর কিছু বলতে পারেনা রিয়া। রোদ রিয়ার গালে থাপ্পড় মেরে, টেবিলের সাথে মাথা চেঁপে ধরে বলে উঠে।
‘হাত অনেক বড় হয়ে গেছে তাইনা। তোকে তো আমি।
শুভ্র এগিয়ে আসতে চাইলেই রোদ আর এক হাত বাড়িয়ে চেচিয়ে বলে উঠে।
‘স্টপ ওইখানে থেমে যান। আর এক পা যদি সামনে আগান তো, আপনার বেইবিকে এইখানে জ্যান্ত মাটি দিব।
শুভ্র রোদের চোখের দিকে তাকিয়ে থেমে যায়।
রোদের চোখ দিয়ে আগুন জ্বলছে পড়ছে।

দেখে মনে হচ্ছে আহত বাঘিনী।
রোদ রিয়াকে ধাক্কা মেনে ফ্লোরে ফেলে দিয়ে। চিৎকার করে বলে।
‘ম্যানেজার ম্যানেজার..!
‘সাথে সাথে রোদদের কেবিনে ম্যানেজার আসে। তাড়াহুড়ো করে,
‘জ্বী ম্যাম বলুন…!
রোদ রাগে ফুসে উঠে বলে উঠে।’
‘ম্যানেজার মিস্টার শুভ্র চৌধুরীকে সব কিছু একটু ক্লিয়ার ভাবে বুঝিয়ে দিন। উনি ট্রামার ভিতরে আছেন প্লিজ।
‘জ্বী ম্যাম…!
ম্যানেজার শুভ্রের দিকে তাকিয়ে, আবার মাথা নিচু করে বলে উঠে!

বাঁধনহারা প্রেম পর্ব ৬৩

‘কিছু সময়ের জন্য কেবিন থেকে বেড়িয়ে সাথে উঁকিলকে নিয়ে আসে।
ম্যানেজার নরম স্বরে বলে উঠে
‘উকিল সাহেব বলুন আপনি…!
‘মিস্টার শুভ্র, আপনার অফিস কোম্পানি, প্রপাটি যা কিছু আছে সব কিছু এখন মিসেস রোদের নামে। এখন এই সব কিছু মালিক এখন মিস রোদ চৌধুরী। ‘
শুভ্র: হোয়াট…..?

বাঁধনহারা প্রেম পর্ব ৬৫