Home মির্জা সায়ান মুগ্ধ মির্জা সায়ান মুগ্ধ পর্ব ৫৭

মির্জা সায়ান মুগ্ধ পর্ব ৫৭

মির্জা সায়ান মুগ্ধ পর্ব ৫৭
jannatul firdaus mithila

“ অন্তত তোর মাঝে এই আমাকে চাইলেই একটুখানি জায়গা দিতে পারিস। কথা দিচ্ছি মেয়ে — তোর দুঃখের ফুলবাগানের প্রতিটি কাটা আমি হাসিমুখে নিজ গায়ে মেখে নিবো।”
মুগ্ধের বিমুগ্ধ বাক্যবাণ! যার প্রতিটি শব্দ কর্ণকুহরে পৌঁছাতেই বিমূঢ় হলো মাহি। গভীর দৃষ্টে একমনে তাকিয়ে আছে সুদর্শনের পানে। জিভের ডগা নিশপিশ করছে তার। চোখদুটো যেন নিজে থেকেই বলে যাচ্ছে কতকিছু! মুগ্ধ নিরব অপেক্ষায় অপেক্ষায়িত। আলতো করে ছুঁয়ে রেখেছে রমণীর তুলতুলে কপোল। দৃষ্টিজোড়া অনড় তার। পলক ফেলতে ভুলে গিয়েছে বোধহয় বহু আগে! সপ্তদশী ঢোক গিললো খানিক। অন্তঃকোণ হতে সকল ভয়ডর কাটিয়ে গম্ভীর কন্ঠে প্রতুত্তর করল —

“ অথচ আমার জীবনে আপনি আসার আগে দুঃখের ফুলবাগান নামক কোনোকিছুর অস্তিত্বই ছিলো না মনস্টার!”
চোখদুটো মুহুর্তেই সরু হয়ে গেলো মুগ্ধের। চোয়ালের রেখায় টান পড়ল বেশ! কপালের চামড়ায় গোটাকতক ভাঁজ ফেলে সন্দিগ্ধ গলায় শুধালো —
“ তার মানে বলতে চাচ্ছিস, আমি-ই তোর জীবনের একমাত্র দুঃখের কাঁটা?”
আহত হাসলো রমণী! মুখাবয়বে তক্ষুনি ফুটে উঠল এক আকাশসম ব্যথাতুর ছাপ। দৃষ্টিযুগল আলতো করে ঝুঁকিয়ে এনে, সপ্তদশী কেমন মোটা কন্ঠে আওড়াল,
“ সব কথা থোড়াই মুখে ফুটে বলতে হয়!”
সহসা ভ্রু-যুগল কুচঁকে নেয় মুগ্ধ। মুখাবয়ব জুড়ে চরম অসন্তুষ্টির ছাপ ফুটিয়ে দাঁত কিড়মিড় করল তৎক্ষনাৎ! রমণীর গালের ওপর ছুঁয়ে থাকা রুক্ষ হাতটা পরমুহূর্তেই গড়িয়ে আনলো রমণীর নরম চোয়াল রেখায়। সেথায় রুষ্টতার সনে সামান্য জোর বসাতেই মৃদু ককিয়ে ওঠে মাহি! ক্ষুদ্র বদনে খানিক নড়চড় বাড়াতেই রূঢ় মানব দাঁতে দাঁত চাপলেন যেন। চোখদুটোতে অদৃশ্য আগুন লেপ্টে পরক্ষণেই কটমটিয়ে শুধালেন,
“ আমি কাঁটা? আমি তোর জীবনের কাঁটা? ওকে ফাইন! কাঁটা হলে কাঁটাই সই। কান খুলে শুনে রাখ মেয়ে, আমি নামক এ-ই কাঁটা নিয়েই তোকে গোটা একটা জীবন কাটাতে হবে।”

বোকা মানবীর চোখদুটো ছলছল! কান্নার উপচে পড়া ঢেউয়ে বাঁধ পড়েছে যেন। কন্ঠস্বর হয়েছে বড্ড ভারী!
“ গোটা একটা জীবন? তাও আবার আপনার মতো নির্দয়ের সাথে? তারচেয়ে মৃ ত্যু বরং ঢের ভালো।”
তক্ষুনি রাগের পারদ তরতর করে আকাশ ছুঁলো মুগ্ধের। দৃঢ় চোয়ালখানা শক্ত করে ফুটিয়ে, এক ঝটকায় সপ্তদশীর কোমল বদনখানি সরিয়ে দিলো নিজের ওপর থেকে। মাহি নিস্তব্ধ! টলমল কদম দুটো খানিক নাড়িয়ে পিছিয়ে দাঁড়ালো কয়েক হাত। ওমনি পাহাড়সম বলিষ্ঠ পুরুষ উঠে দাঁড়ালেন ভাঙা কাঠের স্তুপ হতে। মুখাবয়বে একপ্রকার আগুন লেপ্টে তক্ষুনি সম্মুখে এগিয়ে এসে আক্রমণ বসালো রমণীর তুলতুলে গ্রীবাদেশে। মাহি হকচকায়নি! না নড়লো নিজ জায়গা হতে। রূঢ় মানবের পানে স্থির দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখতেই শুনতে পেলো —
“ কথায় কথায় মৃ ত্যুর কথা বলিস কোন সাহসে বেয়াদবের বাচ্চা? কি মনে হয় তোর? মৃ ত্যু হলেই তুই আমার হাত থেকে মুক্তি পাবি? ইউ বি’চ! লিসেন টু মি কেয়ার ফুলি। মরণের পরও এই নামক নির্দয়ের সঙ্গী হিসেবেই থাকতে হবে তোকে! তুই মিলিয়ে নিস কথাটা।”

“ সবকিছুতে জোরজবরদস্তি করাটা বোধহয় আপনার চরিত্রগত বদঅভ্যেস তাই না?”
“ আর কথায়-কাজে বারবার নিজের দূষিত র ক্তের কথা মনে করিয়ে দেয়াটা তোর জন্মগত বদঅভ্যেস তাই না?”
মুহুর্তেই মুখভঙ্গি শক্ত হলো মাহি’র। পেলব মুখখানা হতে সঙ্গে সঙ্গে সরে গেলো অন্তর্মুখীতার প্রলেপ! দাঁত খিঁচে তৎক্ষনাৎ বলে বসল,
“ মুখ সামলে কথা বলুন মিস্টার! কার র ক্ত কে দূষিত বলছেন আপনি? কোন স্পর্ধায় বলছেন এসব? আমায় যা ইচ্ছে বলুন বিস্ট, তবে খবরদার আমার আব্বুকে নিয়ে কিচ্ছু বলবেন না!”
সহসা রমণীর মুখের ওপর ঘাড় ঝোঁকায় মুগ্ধ। বাদামী চোখদুটো তার, আগুনের লেলিহানে চিকচিক করছে যেন! চোয়ালের পেশি শক্ত করে চিড়বিড় কন্ঠে প্রতুত্তর করল —
“ খুব জ্বলছে তা-ই না? তোর জা*নো*য়ার বাপকে কিছু বলতে গেলেই জ্বলে উঠে তোর তাই না? অথচ যেদিন জানতে পারবি — তোর বাপ ঠিক কতবড় বা*স্টার্ড, সেদিন কি বলবি তুই? পারবি এভাবে আমার সামনে দাঁড়িয়ে থেকে গলাবাজি করতে?”
কপাল গোটায় মাহি! চোখেমুখে একপ্রকার বিতৃষ্ণা লেপ্টে তক্ষুনি মুখ ঝামটি দিয়ে বলে ওঠে,

“ জোর করে তুলে এনেছেন পর থেকেই শুনে যাচ্ছি — আমার আব্বু খারাপ, তার ওপর নেওয়া প্রতিশোধের জেরে আমায় তুলে এনেছেন! রোজ নিয়ম করে টর্চার করেছেন আমায়। অথচ এপর্যন্ত একটাবারের জন্যও কিন্তু আপনি বলেননি বিস্ট, কিসের প্রতিশোধে নিচ্ছেন আপনি! মানলাম আপনি প্রতিশোধে অন্ধ, মানলাম আমার আব্বু দোষী! কোনো প্রকার দোষ করলে আমার আব্বু করেছে, আমিতো করিনি। তাহলে কিসের ভিত্তিতে আমার মতো নির্দোষের ওপর ওভাবে অমানুষিক নির্যাতন চালালেন? কিসের ভিত্তিতে চালালেন? আপনার কি মনে হয় আমি মানুষ না? মুখ বুঁজে ব্যথা গুলো সয়ে গিয়েছি বিধায় কষ্ট হয়নি আমার? আমায় নিজ হাতের কাঠ পুতুল মনে করেছেন আপনি? যে যখন ইচ্ছে বেধড়ক মারধর করবেন, যখন ইচ্ছে দূরছাই করে ছুঁড়ে ফেলবেন, আবার যখন ইচ্ছে হবে বেহায়ার মতো কাছে টানবেন!”
থামল ফুঁসতে থাকা রমণী! রূঢ় মানবের কটমট দৃষ্টিতে আজ ভয় পাচ্ছে না সে। অন্তঃকোণের তীব্র জখম গুলো ফের তাজা হয়েছে তার। চোখদুটো ঝরাচ্ছে ঘৃণার অশ্রু! মুগ্ধের বলিষ্ঠ হাতখানা আলগা হয়েছে খানিক। সে সুযোগে তড়াক দু’হাতের শক্ত ধাক্কায় রূঢ় মানবের রুক্ষ বক্ষভাঁজে আঘাত হানলো সপ্তদশী! তবে বালাইষাট। মুগ্ধ মশাই তো নড়লেন-ই না, উল্টো তীব্র আঘাতের বিপরীতে ক্ষুদ্র রমণী কেমন পিছিয়ে গেল সহসা! পিছিয়ে গিয়েও রাগ কমেনি তার। রাগে-ঘৃণায় ফুঁসতে ফুঁসতে ফের আওড়াল,

“ আপনি সবসময় বলতেন না? আমার মুখ দেখলে আপনার বমি আসে? আপনি বলতেন না? আপনি আমায় ঘৃণা করেন!”
“ ওসব পুরনো কথা! রাত গেয়ি তো বাত গেয়ি।”
যুবকের নির্লিপ্ত প্রতুত্তর! কপাল ফেটে দরদর করে লহু গড়ালেও বড্ড নির্বিকার সে। বলিষ্ঠ দু’হাত ততক্ষণে ঠায় পেয়েছে ট্রাউজারের পকেটে! লোকটার এহেন নির্লিপ্ততা দেখে রাগ বাড়ল মাহি’র। চোয়ালের পেশিতে দৃঢ়তা বাড়িয়ে তক্ষুনি ছুঁড়ল ঝাঁঝাল বাক্যবাণ —
“ আপনার জন্য ওসব পুরনো কথা হতে পারে মিস্টার অধীর রায়! তবে আমার জন্য ওগুলো ছিলো একেকটা বিষাক্ত তীর! যার অভিঘাতে আজও ক্ষত হয় আমার ছোট্ট হৃদয়। ট্রাস্ট মি মনস্টার! আ’ই উইল নেভার এভার ফরগট দোজ লাইনস! আজ এখানে, আপনার সম্মুখে দাঁড়িয়ে আপনার চোখে চোখ রেখে বলছি — আই জাস্ট হেট ইউ্য মিস্টার অধীর রায়! আমার চোখে এ পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি ঘৃণ্য ব্যক্তিটি কেবলমাত্র আপনি! আপনার নৃশংসতা, আপনার ছলচাতুরী, আপনার জোরজবরদস্তি, আপনার কথাবার্তা, আপনার মুখ, আপনার ঐ বাদামী দু’টো চোখ, সবকিছু, সবকিছুকে ঘৃণা করি আমি!”

রমণীর তীক্ষ্ণ বাক্যবাণে জর্জরিত হবার কথা ছিলো রূঢ় মানবের। অথচ হলো তার উল্টো! মুগ্ধের চোখদুটোতে কেমন তাচ্ছিল্যের ছাপ ফুটলো মুহুর্তেই। ঠোঁটের কোণ বেঁকে গেল শ্লেষাত্মক ভঙ্গিতে। বলিষ্ঠ পাদু’টো নিরবে অগ্রসর হলো সম্মুখে। রমণী ভীত নয় আজ। তবুও ঘৃণায় নাক-মুখ কুঁচকে পেছালো কদম। পেছাতে পেছাতে মুহুর্তের অভিঘাতে ধনুকের ন্যায় বাঁকানো পিঠটা তার হুট করেই গিয়ে ঠেকল দেয়ালের সনে। তৎক্ষনাৎ স্থির হলো রমণীর পাদু’টো। দাঁড়িয়ে রইলো প্রস্তরখন্ডের ন্যায়। মুগ্ধের পাদু’টো ততক্ষণে এসে দাঁড়ালো রমণীর অভিমুখে। বলিষ্ঠ হাতের সুকৌশলে দেয়াল আঁকড়ে সপ্তদশীকে আটকালো এক অভেদ্য বাঁধনে। রমণী স্থির! অন্যত্র মুখ ঘুরিয়ে রাখা তার। যুবকের নিষ্পলক শ্লেষাত্মক দৃষ্টিজোড়া সম্মুখে নিবদ্ধ! ধীরলয়ে কাত করল বলিষ্ঠ ঘাড়টা। অন্যহাতে আচমকা মাহি’র নরম তুলতুলে কব্জিসন্ধি আঁকড়ে ধরতেই তড়াক চোখ তুলে মাহি। সবেগে রূঢ় মানবের রুক্ষ হাতের মুঠো হতে কব্জি ছাড়াবার বৃথা প্রয়াসে মত্ত থাকতেই মুগ্ধ ঘটালো আরেক কান্ড! কোনরূপ বলাকওয়া ছাড়াই মানবীর হাতটা টেনে এনে তা আলগোছে চেপে ধরল মেয়েটার-ই বুকের বাঁপাশে। কন্ঠে ভীষণ তাচ্ছিল্যের ছাপ ফুটিয়ে আওড়াল,

“ বুকে হাত রেখে বলতো চড়ুই! অধীর রায়কে ঘৃণা করলেও, মির্জা সায়ান মুগ্ধকে ঘৃণা করিস কি-না!”
থমকায় মাহি! অন্তঃকোণের গোপন সম্ভাষণে হোঁচট খেয়ে চোখ নামালো ত্রস্ত। শক্ত মুখে রয়েসয়ে প্রতুত্তর ছুঁড়ল —
“ ঐ একই বিষয়! নাম দু’টো হলেও, মানুষটা তো একজনই। আমি তো নামকে নয়, গোটা মানুষটাকেই ঘৃণা করি!”
“ আসলেই?”
মুগ্ধের সন্দিগ্ধ কন্ঠ! তা শুনে কেবল ওপর নিচ মাথা নাড়ায় মাহি। সঙ্গে সঙ্গে তাচ্ছিল্যের টানে বাঁকা হাসে মুগ্ধ। তীক্ষ্ম দৃষ্টে শ্লেষাত্মক ভঙ্গিতে বলে ওঠে,
“ আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে মিথ্যে বলতে নেই বোকা চড়ুই! এতে ধরা পড়ে যাবার শঙ্কা বড্ড বেশি! যার একরূপে বিমুগ্ধ হয়েছিস, তার প্রতিটি রুপ গ্রহন করতে শেখ।”
“ এ দেহে নিশ্বাস থাকাকালীন তা আমার দ্বারা হচ্ছে না!”
রমণীর পরপর দৃঢ় প্রতুত্তর। তা কর্ণকুহরে পৌঁছাতেই দৃষ্টিজোড়ায় তাচ্ছিল্যের রেশ ছড়ালো মুগ্ধের। অধরের কোণে বসল দাঁত। ধীরলয়ে মানবীর নরম হাতের কব্জিসন্ধি ছেড়ে দিয়ে পরক্ষণেই রুক্ষ হাতের আঙুলগুলো ছোঁয়াল মানবীর মসৃণ কপোলে। সেথায় খানিক স্লাইড করতে করতে শুধালো,

“ একটা সময় ঘৃণার দুর্বোধ্য জালে লেপ্টে থেকে যাকে মা’রতে চেয়েছে আমার কঠোর মস্তিষ্ক, আজ সময়ের পরিক্রমায় সে-ই আমার দু-চোখের জালে আঁটকে থাকা মায়াবী এক প্রহেলিকা! কাউকে এতোটা ঘৃণা করতে নেই চড়ুই, যতটা ঘৃণার অভিঘাতে হৃদয় কেবল তার জন্যই স্পন্দিত হতে শুরু করে। পার্সোনাল এক্সপেরিয়েন্স থেকে বললাম! মানলে মান, না মানলে বা*ল ছেঁড়। হু কেয়ারস?”
সহসা মুখ কুঁচকায় মাহি! ক্ষুদ্র মস্তিষ্কে যা ধরলো তার ভিত্তিতেই কর্কশ কন্ঠে শুধালো —
“ সবাই এক নয় মনস্টার। কেউ কেউ চোখ থেকে ঘৃণার প্রলেপ সরাতে গিয়ে কবর অব্দি পৌঁছে যায়। মাগার আফসোস! ঘৃণাটা তখনো অটুট থাকে।”
“ এত্তো কনফিডেন্স? ভেঙে গুড়িয়ে গেলে তখন?”
তৎক্ষনাৎ ঘোলাটে দৃষ্টিজোড়া উঁচু হলো মাহির। দৃঢ়তা বাড়ল কন্ঠায়,

“ তখন আমি স্বেচ্ছায় আপনার শয্যাসঙ্গী হবো। যেভাবে চাইবেন সেভাবেই হবো!”
মুহুর্তেই ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি ফুটলো মুগ্ধের। তাচ্ছিল্যের সুরে পরপর বলে উঠল,
“ সেটা তুই না চাইলেও হবি! আর মাত্র ৬দিন পর এমনিতেই তুই আমার বেডে আসবি। স্বেচ্ছায় নয়তো কি হয়েছে? তুই বললি না আমি জোরজবরদস্তিতে এক্সপার্ট? ওকে, আ’ম অনেস্টলি এক্সেপ্টিং দিস! তোর কনসেন্ট, তোর এথিকস, এন্ড তোর অসুস্থতার গুল্লি মারি! একদিকে ঘড়ির কাঁটায় ১২টা বাজবে, আরেকদিকে তুই শুধু আমার হবি। এতে তোর চোখে আমার জন্য ঘৃণা বাড়লে বাড়ুক, হু দা ফা’ক কেয়ারস এবাউট দ্যাট? আমার কেবল দে হ পেলেই চলবে! হৃদয় দিয়ে তুই মুড়ি খা বেয়াদব মেয়েছেলে!”
কামারের দোকানে বসে নীতিবাক্য আওড়ানোর কোনো মানে নেই! তা বুঝতে বড্ড দেরি হলো মাহি’র। তবে বোধগম্য হবার পরমুহূর্তেই কর্ণকুহরে ভেসে এলো টক্সিক লোকটার খেঁক খেঁক কন্ঠস্বর!

“ এক্ষুনি আমার চোখের সামনে থেকে সরে যা! নয়তো ধরলে আস্ত রাখবো না।”
কথাটা বলেই সম্মুখ থেকে সরে গেল মুগ্ধ। কদম বাড়িয়ে গটগট করে চলে গেল বারান্দার অভিমুখে। বোকা রমণী হাঁফছেড়ে বাঁচল যেন। তক্ষুনি দ্রুতপায়ে ছুটে গেল দরজার পানে। ব্যস্ত হাতে দুয়ার খুলতেই তাকে আর পায় কে! প্রাণটা যেন হাতের মুঠোয় নিয়ে ঘর ছাড়লো রমণী।
এদিকে তার ওমন ছুটে যাওয়ার পানে আড়াল হতে চেয়ে রইলো মুগ্ধ! ঠোঁটের কোণে তাচ্ছিল্যের হাসি টেনে আনমনে বিড়বিড়ালো,
“ তুই আমার দেয়া ক্ষতগুলো মনে রাখলি পিচ্চি, অথচ তোকে আগলে রাখার চেষ্টাটুকু দেখলি না!”

“ হায় ভগবান! এ-কি হলো আমার মেয়ের? নিরু? ও মা? মা? কি হয়েছে তোর মা? চোখ খোল মা!”
সুদীপা রায়ের কন্ঠে ভয়! মধ্যবয়সী শরীরটা কাঁপছে ভীষণ। এহেন দুপুর – গড়ানো প্রহরে জঙ্গলের ওমন গহীন দিকটায় মেয়েটাকে এভাবে অচেতন আকারে পরে থাকতে দেখে অন্তরাত্মা শুকিয়ে কাঠ কর্তাগিন্নির। বারংবার ডেকে যাচ্ছেন মেয়েকে! তবে মেয়ে যে পাত্তাহীন। চোখদুটো খুলছেও না। সর্বাঙ্গ দরদর করে ঘামছে অচেতন মানবীর। সুদীপা রায় বড্ড অসহায় চোখে তাকালেন এদিক-ওদিক। সাহায্যের কেউ নেই আশেপাশে। সঙ্গে আনেননি ফোনটাও! এ পথে এসেছিলেন একা, লোকজন থাকবে কোত্থেকে শুনি? মানুষটা যে মেয়েকে ছেড়ে দিয়ে সাহায্যের জন্য ছুটতেও পারছেন না মধ্যবয়সী। পরিশেষে কোনরূপ উপায়ন্তর না পেয়ে হাঁক ছুঁড়লেন তিনি!
“ ওগো নিরুর বাবা! কোথায় গো তুমি? নিরুর বাবাআআআ!”

হাঁক ছুঁড়তে ছুঁড়তে গলা ব্যথা হয়ে আসার যোগাড় সুদীপা রায়ের। শেষমেশ আর সইতে না পেরে কেঁশে উঠলেন বেশ। ঠিক তখনি অদূরের অন্দরমহলের তিন-তলার বারান্দা হতে ধেয়ে এলো রূঢ় মানবের বিকট ধমক!
“ শেয়ালের মতো হাঁক ছুঁড়ছেন কোন সুখে? বিয়ে লেগেছে কার? আপনার ঘরের বুইড়া ভামের?”
তৎক্ষনাৎ ঘাড় বাকিয়ে তাকায় সুদীপা রায়। অদূরের বারান্দায় মুগ্ধকে সটান দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে, আজ রাগ হবার বদলে খানিক স্বস্তির নিশ্বাস ফেললেন তিনি। তড়িঘড়ি করে সাহায্যের জন্য মুখ খুলতেই যাবেন ওমনি অন্দরমহলের পেছন গেইট হতে দ্রুতপায়ে ছুটে আসেন হিমাংশু রায়। স্ত্রীর ওমন হাঁক ছোঁড়া কন্ঠের পিঠে কেমন বিচলিত আঙ্গিকে শুধায়,
“ কি হয়েছে সুধা? এভাবে চিৎকার …..!”
ছুটন্ত পদযুগল হুট করেই থমকে দাঁড়ালো হিমাংশু রায়ের। বাক আটঁকালো গলার কাছে। মেয়েকে ওমন অচেতন পড়ে থাকতে দেখে, একমুহূর্তের জন্য পায়ের তলা থেকে জমিন খসে গেল তার! বুকটা কেঁপে উঠল ধ্বক করে। মধ্যবয়স্ক চরম উদ্বিগ্নতায় তক্ষুনি মেয়ের পাশে হাঁটু গেঁড়ে বসলেন। দু’হাতে আলতো করে মেয়ের মসৃণ কপোলে চাপড় বসিয়ে ধীরলয়ে ডাকলেন,

“ মা? নিরু? কি হলো মা তোর?”
সুদীপা রায়ও কাঁদছেন। আঁচলের কোণে মুখ লুকিয়ে ব্যস্ত গলায় বলে ওঠেন,
“ তাড়াতাড়ি মেয়েকে বাড়িতে নিয়ে চলো নিরুর বাবা।”
হিমাংশু রায় ত্রস্ত মাথা নাড়ালেন। তড়িঘড়ি করে দু’হাতে মেয়েকে পাঁজা কোলে তুলতে গেলেই খট করে শব্দ হলো তার দূর্বল কটিদেশের অস্থিতে। ওমনি বেচারা মেয়েকে নিয়ে হোঁচট খেয়ে পড়লেন সম্মুখে। পরমুহূর্তেই দু’হাতে চেপে ধরলেন নিজ ভাঙা কোমর! ব্যথাতুর কন্ঠে অস্ফুটে আওড়ালেন,
“ মাগো! শেষ শেষ! আমার কোমর শেষ।”
সুদীপা রায় ভড়কালেন। তক্ষুনি এগিয়ে এসে দাঁড়ালেন স্বামীর পাশে। ব্যাকুল চিত্তে দু’হাতে স্বামীর কোমর ডলতে ডলতে শুধালেন,
“ তুমি না পারলে অধীরকে বলো না। অধীর তো বারান্দাতেই দাঁড়িয়ে আছে।”
তড়াক ঘাড় বাকাঁলেন হিমাংশু রায়। কোমর চেপে ধরেই হাঁটলেন দু-কদম। খানিকটা এগিয়ে এসে ঘাড় উঁচিয়ে তাকালেন অদূরের বারান্দার অভিমুখে। কন্ঠে ব্যথাতুর ভাবভঙ্গি ফুটিয়ে আওড়ালেন,

“ অধীর! বাবা শোনো। একটু সাহায্য করো আমায় বাবা!”
কানে ইয়ারপোড গুঁজে কার সাথে যেন বাক্যালাপে মত্ত মাফিয়া বিস্ট। তন্মধ্যে নিচ থেকে ধেয়ে আসা উঁচু কন্ঠে বিরক্তির শেষ নেই তার। বলিষ্ঠ ঘাড়টা সামান্য বাঁকিয়ে কপাল গুছিয়ে তাকালো হিমাংশু রায়ের পানে। অতঃপর দাঁত খিঁচে আওড়াল,
“ কি সাহায্য? আপনাকে চিতায় তুলে দিয়ে আসতে হবে না-কি?”
আজ আর রাগ করলেন না হিমাংশু রায়। উপায়ন্তরহীনের ন্যায় উল্টো বলে উঠেন,
“ আমার নিরুটাকে একটু কোলে তুলে বাড়ি অব্ধি নিয়ে যাবে অধীর? আমার কোমরে ভীষণ চোট লেগেছে! মনে হচ্ছে হাড়টা নড়ে গিয়েছে জায়গা থেকে। তাই….!”
তৎক্ষনাৎ চোয়াল শক্ত হলো মুগ্ধের। কানে এয়ারপোড থাকা স্বত্বেও বদরাগী পুরুষ দাঁত খিঁচে শুধালো,
“ রাতের অন্ধকারে খাটে গিয়ে কি এমন করেছেন? যার দরুন আপনার কোমরে ঠাডা পড়েছে বান্দীর ছেলে! সময়কালে নিজের বা*লপাকনা মেয়েকে যেহেতু কোলে তুলতে পারবেনই না, সেহেতু পয়দা করতে গেলেন কেনো অসভ্য নাগরিক? না-কি বউ দেখলে উত্তেজনা কাঁধে উঠে যায় কোনটা? তাছাড়া কোমরে এমন নড়বড়ে জোর নিয়ে ওমন একটা বা*লপাকনা পয়দা করলেনই বা কিভাবে বান্দীর ছেলে?”

যুবকের মুখ না যেন আস্ত একটা গোলাবারুদ! কথা দিয়েই যেন উড়িয়ে দিবে সম্মুখের মানুষজনদের। হিমাংশু রায় থম ধরে দাঁড়িয়ে রইলেন কেবল। প্রতুত্তরে ঠিক কেমন প্রতিক্রিয়া দেখাবেন তা নিয়ে বড্ড সন্দিহান তিনি। এরইমধ্যে পিঠ দেখিয়ে উল্টো পায়ে বারান্দা ছাড়লো মুগ্ধ। গটগটিয়ে চলে গেলো কক্ষে। হিমাংশু রায় ফের অসহায়ত্বে ভুগলেন। অসহায় চোখে একবার তাকালেন স্ত্রীর পানে। ভগ্ন কন্ঠে আক্ষেপের সুর টানতেই যাবেন ওমনি সেথায় আগমন ঘটলো এডউইনের। ব্যস্ত কদমে ছুটছে গম্ভীর পুরুষ! একহাতে রিভলবার। মনে হচ্ছে কাকে তাড়া করছে সে। হিমাংশু রায় চোখ সরু করলেন৷ হতবাক কন্ঠে আওড়ালেন,
“ এডউইন?”
থামলো না এডউইন। দ্রুত পায়ে ছুটলেন বাঁদিকে। ঠিক তখনি অসহায় হিমাংশু রায় ডাক পারলেন তাকে!
“ এডউইন? এডউইন! এদিকে আসো।”
তৎক্ষনাৎ পায়ের গতিতে রুখ টানলো এডউইন। গম্ভীর মুখে খানিক বিরক্তির ছাপ ফুটিয়ে আওড়ালেন,
“ কে মরেছে?”
যেমন পীর, তেমন তার মুরিদ! তাতে বিন্দুমাত্র ভড়কালেন না হিমাংশু রায়। উল্টো আহত কন্ঠে বলে উঠেন,
“ আমার মেয়েটাকে একটু বাড়িতে দিয়ে আসবে? বড্ড উপকার হতো জানো। আমার কোমরটায় হুট করেই যে কি হলো! দেখো দাঁড়াতেও পারছিনা ঠিক মতো।”
কপাল গোছায় এডউইন! দৃঢ় চোয়ালে তক্ষুনি প্রতুত্তরে বলে,

“ মাথা খারাপ? কাকে না কাকে কোলে নিতে বলছেন? তাছাড়া আপনি কে আমায় অর্ডার দেওয়ার?”
“ অর্ডার না। ইট’স আ রিকুয়েষ্ট এডউইন। প্লিজ!”
মুখভঙ্গিতে এক আকাশসম বিরক্তির ছাপ ফুটিয়ে এগিয়ে এলো এডউইন। নাক-মুখ কুঁচকে তাকালো অচেতন নিরুর পানে। মনে মনে তেঁতোভাব নিয়ে বিড়বিড়ালো,
“ এসেছি পর থেকে চিপকু মেয়েটা পিছুই ছাড়ছে না! সেন্সলেস হয়েও কোলে ওঠার কি শখ তার।”
ধীরলয়ে নিরুর পানে ঝুঁকে আসে এডউইন। হাতদুটো আলগোছে বাড়িয়ে দেয় রমণীর তুলতুলে দেহের নিচ দিয়ে। শক্ত হাতের জোরালো শক্তিতে পরমুহূর্তেই এক ঝটকায় অচেতন অষ্টাদশীকে পাঁজা কোলে তুলে নেয় এডউইন। বিরক্ত দৃষ্টে সম্মুখে পা বাড়িয়ে বিড়বিড়ায় সে!
“ হলি কাউ! কতটা দূর্ভাগ্য এসে ধরা দিলে শেষমেশ একটা চিপকু মেয়েকে কোলে তুলে হাঁটতে হচ্ছে আমার! মনস্তার…! বাঁচান প্লিজ।”

সন্ধ্যে গড়িয়ে রাত হবার যোগাড়! এরইমধ্যে বিদঘুটে অন্ধকারে বুদ হয়েছে মাহি’র কামরা। সপ্তদশী বসে আছে বিছানার কোলে। দু’হাঁটুতে ভর দিয়ে রেখেছে মাথাটা। মাঝেমধ্যে ফোপাঁনোর শব্দগুলো বেশ ভেসে আসছে রমণীর কাছ থেকে। ধীরলয়ে হাত উঠিয়েছে চুলের গোঁড়ায়। সেথায় জোরালো চাপ বসিয়ে নিজেকে শাসাতে ব্যস্ত বোকা মানবী!
“ না! আমি কোনোদিন তার প্রতি দূর্বল হবো না৷ কোনোদিন হবো না। সে আমায় পরিবারহারা করেছে! আমার গোটা জীবনটা নষ্ট করেছে মাফিয়া বিস্ট। আমি পুরো পরিবারকে হেনস্তা করেছে সে।”
নিজেকে শাসাতে গিয়ে দূর্বল মাহি। ফোলা ফোলা চোখদুটো বন্ধ তার। বদ্ধ চোখের পাতায় হুট করেই ভেসে উঠল অতীতের কিছু স্মৃতি! দু-বোনের একসঙ্গে কলেজ যাওয়া, সন্ধ্যা হতে না হতেই পড়ার টেবিলে বসে খুটখাট করা৷ পরিবারের সকলের সঙ্গে করা খুনসুটি! মুহুর্তেই ঠোঁটের ফাঁক গলিয়ে উপচে পড়া কান্নার শব্দগুলো বেরিয়ে এলো রমণীর। কাঁদতে কাঁদতে দুহাতে চেপে ধরল নিজ ক্ষুদ্র মুখখানা। রমণী কান্না বিলাসে মত্ত। ঠিক তখনি ঘরের দরজায় কড়া নাড়ানোর শব্দ পড়ল বেশ। মুহূর্তেই কান্না থেমে গেল মাহি’র। রয়েসয়ে কন্ঠ উঁচিয়ে শুধালো,
“ কে?”
ওপাশ থেকে আওয়াজ এলো না কারো। বোকা মানবী উঠে দাঁড়ায় তক্ষুনি। দু’হাতের উল্টো পিঠে সিক্ত চোখদুটো মুছে নিয়ে এগোলো দুয়ারপানে। ধীরলয়ে দুয়ার খুলতেই দেখা গেল — দরজার কাছে দাঁড়িয়ে আছে এক গৃহকর্মী! হাতে একখানা খাবার ট্রলি তার। রিনরিনে কন্ঠে বলল,

“ খাবারটা খেয়ে নিন দিদিমণি।”
নাক টানলো সপ্তদশী। গম্ভীর কন্ঠে প্রতুত্তর করল,
“ নিয়ে যান খাবার। আমার খেতে ইচ্ছে করছে না।”
সম্মুখে দাঁড়িয়ে থাকা কমবয়সী গৃহকর্মী কেমন নড়ে উঠল কথাটা শুনে। খানিক জড়তা নিয়ে পরপর বললেন,
“ খেয়ে নিন দিদিমণি। নয়তো আপনি না খেলে আমার পেটে খাবার পড়বে না আজ!”
কপাল গোছায় মাহি! মুখটা করে গম্ভীর। কন্ঠে সন্দিগ্ধতা ছড়িয়ে পরপর জিজ্ঞেস করল —
“ মানে? আমার খাওয়া, না খাওয়া নিয়ে আপনার খাওয়ার কি সম্পর্ক?”
“ তা আমি বলতে পারবো না দিদিমণি। আপনি দয়া করে খাবারটা খেয়ে নিন।”
বেচারির কথাগুলো বড্ড মনে লাগলো মাহি’র। অনিচ্ছা সত্ত্বেও মাথা নাড়িয়ে বলল,
“ ঠিক আছে। ভেতরে দিয়ে যান।”
গৃহকর্মী তা-ই করল। চটজলদি ব্যস্ত কদমে হাতের ট্রলিটা ঠেলতে ঠেলতে ঢুকল ভেতরে। মাহি আগ বাড়িয়ে তাকে কিছু বলতেই যাবে, তবে তার আর বালাই রইল না তেমন। গৃহকর্মী রমণী কেমন ব্যগ্রতায় ছুটে বেরিয়ে গেলেন ঘর ছেড়ে। মাহি হতভম্ব এরূপ কান্ডে। অন্ধকারে দেখেনি রমণীর মুখ! শঙ্কায় জর্জরিত বোকা মানবী পা ছোটায় ওয়াশরুমের দিকে। ফ্রেশ হয়ে ফিরে এসে খাবে নাহয়!

জমিদার বাড়ির বাঁদিকের পথ! খানিক অন্ধকারে রূপ ধরেছে ভয়ানক। একজোড়া নুপুর পড়া সর্তক কদম ধীরলয়ে এগোচ্ছে সেথায়। গায়ে জড়ানো একখানা শাল। মুখ ঢাকা তাতে। হাতে একখানা হারিকেন মালকিনের। মৃদুমন্দ জ্বলছে আগুন! খানিকটা সম্মুখে এসে দাঁড়াতেই পাদু’টোর মালিক চাপা স্বরে ডাকলেন কাউকে।
“ শম্ভু?”
তৎক্ষনাৎ অন্ধকার ভেঙে এগিয়ে এলো এক কৃষ্ণাঙ্গ লোক। হারিকেনের মৃদুমন্দ আলোতে কেবল দেখা যাচ্ছে তার চিকচিক দাঁতক’টা। সম্মুখে দাঁড়িয়ে থাকা মালকিন তক্ষুনি নিজ শালের নিচ হতে বের করে আনলেন একখানা রুপির বান্ডিল। তা ধীরলয়ে শম্ভুর পানে বাড়িয়ে দিয়ে সর্তক গলায় শুধালেন,

“ খাবার খেয়ে নিক আগে। তুই এক ঘন্টা পরে যাবি ওর ঘরে। আমি বাড়ির ইলেক্ট্রিসিটির তার কেটে দিব তখন। ওই মেয়ে ততক্ষণে মাতাল হয়ে যাবে, হুঁশ থাকবেনা ওর! ঐ সুযোগে ওকে বস্তাবন্দি করে যেখানে ইচ্ছে সেখানে ফেলে দিয়ে আসবি। মনে রাখবি, ও যাতে আর কোনোদিন ফিরে আসতে না পারে।”
শম্ভু দাঁত কেলিয়ে হাসলো। বুকের দুপাশে হাত উঠিয়ে দোনোমোনো কন্ঠে শুধালো,

মির্জা সায়ান মুগ্ধ পর্ব ৫৬

“ মাজি! হামকো থোড়া…!”
নারী লোভী শম্ভুর কথাটা বুঝতে খুব একটা সময় নিলেন না মালকিন। তিনি কেমন বাঁকা হেসে পরপর বলে উঠেন,
“ যা ইচ্ছে করিস! তবে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে করিস। আজকে রাতের মধ্যেই ও আমার মেয়ের জীবন থেকে সরে যাওয়া চাই!”

মির্জা সায়ান মুগ্ধ পর্ব ৫৭ (২)