রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ১৪
মহাসিন
সিরাজ ঘরে ঢুকল। শাপলার দিকে তাকিয়ে হালকা হাসল, “কিরে শাপলা, কেমন আছিস?”
“ভালো আছি,” শাপলা মৃদু গলায় জবাব দিল। “আপনি কেমন আছেন, ভাইয়া?”
“এই তো, ভালোই আছি।” ঘরের চারপাশে চোখ বুলিয়ে সিরাজ জিজ্ঞেস করল, “বাড়ির সবাই কোথায়?”
“অফিসে গেছে,” শাপলা সংক্ষেপে বলল।
সিরাজের চোখ সরু হলো। “নীলাঞ্জনা ভাবি? আলো ওরা কোথায়?”
প্রশ্নটা এড়াতে শাপলা দ্রুত বলল, “ভাইয়া, ভেতরে এসে বসুন।”
সিরাজ আর কথা বাড়াল না। ড্রয়িং রুমে গিয়ে সোফায় গা এলিয়ে দিল। তার চাহনি ঘরের প্রতিটা কোণ খুঁটিয়ে দেখছে।
শাপলা অস্বস্তি লুকিয়ে বলল, “ভাইয়া, আপনি একটু বসেন। আপনার জন্য শরবত নিয়ে আসি।”
“না না, শরবত লাগবে না,” সিরাজ হাত তুলে বাধা দিল।
“তা বললে কি হয়?” জোর দিয়ে কথাটা বলেই শাপলা কিচেনের দিকে পা বাড়াল।
মিনিট পাঁচেক পর এক গ্লাস ঠান্ডা শরবত হাতে ফিরে এলো সে। “এই নিন, ভাইয়া।”
গ্লাসটা নেওয়ার সময় সিরাজের আঙুল ইচ্ছে করেই শাপলার হাত ছুঁয়ে গেল। শাপলা চমকে উঠল। বুকের ভেতর একটা ঠান্ডা স্রোত বয়ে গেল। তবু মুখে কিছু বলল না।
সিরাজ ধীরে ধীরে শরবত খাচ্ছে, আর চোখ দুটো শাপলার মুখের উপর স্থির। সেই দৃষ্টিতে স্নেহ নেই, আছে অন্য কিছু—অচেনা, অস্বস্তিকর।
গ্লাস খালি করে ফেরত দেওয়ার সময় আবারও সে শাপলার হাত স্পর্শ করল। এবার আরও স্পষ্ট, আরও ইচ্ছাকৃত।
শাপলার গা শিরশির করে উঠল। নিঃশ্বাস ভারী হয়ে আসছে। ভয়টা গলার কাছে দলা পাকাচ্ছে। শাপলার বেশ অস্বস্তি বোধ হচ্ছে।
সিরাজ উঠে দাঁড়াল। “বাসায় তো কেউ নেই দেখছি। আমি বরং এখন যাই। পরে আসব।”
শাপলা চুপ। গলা দিয়ে কোনো শব্দ বের হলো না।
দরজার দিকে যেতে সিরাজ ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাল। সেই চাহনিতে লুকিয়ে আছে এমন কিছু, যা শাপলার র*ক্ত হিম করে দিল।
সিরাজ বেরিয়ে যেতেই শাপলা ছুটে গিয়ে সদর দরজায় খিল তুলে দিল। পিঠ ঠেকিয়ে দাঁড়াল দরজায়। বুকটা হাপরের মতো ওঠানামা করছে। ঘন ঘন শ্বাস পড়ছে।
সিরাজ—সিয়ামের চাচাতো ভাই। এই বাড়িতে তার যাতায়াত নিয়মিত, প্রায় বিনা নোটিশেই চলে আসে।
অথচ শাপলা তাকে একদমই পছন্দ করে না।
সিরাজকে তার বরাবরই অদ্ভুত ঠেকে। লোকটার হাবভাব, কথার ধরন, সবকিছুতেই কেমন একটা অস্বস্তি লুকিয়ে থাকে। সবচেয়ে অসহ্য লাগে তার চাহনি।
সিরাজ যখন তাকায়, মনে হয় চোখ দিয়েই শাপলাকে মা*পছে। আপাদমস্তক। সেই দৃষ্টিতে কোনো ভাইয়ের স্নেহ নেই, আত্মীয়ের সহজতা নেই। আছে অন্য কিছু—চোরা, চতুর, আর ভীষণ অস্বস্তিকর।
শাপলা টের পায়, সিরাজের উপস্থিতি মানেই ঘরের বাতাসটা হঠাৎ ভারী হয়ে যাওয়া। নিঃশ্বাস নিতেও কষ্ট হয়।
শাপলা কাঁপা হাতে ফোনটা তুলে সিয়ামের নাম্বারে ডায়াল করল। রিং হচ্ছে… হচ্ছে… কেউ ধরল না।
আবার কল দিল। আবারও না।
তৃতীয়বার, চতুর্থবার—প্রতিবারই ওপাশে শুধু নীরবতা।
সন্ধ্যার কালো ছায়া জানালার শার্সি গলে ঘরে ঢুকে পড়েছে। ঘড়ির কাঁটা সাতটা ছুঁয়েছে অনেকক্ষণ।
খাটের এক কোণে পাথরের মূর্তির মতো বসে আছে নীলাঞ্জনা। তার পাশে ছোট্ট আলো—মায়ের আঁচল খামচে ধরে আছে নীরবে। জানালার পাশে চেয়ারে বসা লিমা। ঘরের নিস্তব্ধতা এত গাঢ় যে নিঃশ্বাসের শব্দও শোনা যায়।
লিমা আর সইতে পারল না। নীলাঞ্জনার দিকে তাকিয়ে নরম গলায় বলল,
“আরিফকে ডেকে আনব?”
নীলাঞ্জনা নিরুত্তর। চোখ দুটো শূন্য, যেন এই পৃথিবীতে নেই সে।
আলো এবার লিমার দিকে ফিরল। ছোট্ট ঠোঁট কাঁপছে।
“আন্টি, আমার বাবা কোথায়? আমাকে বাবার কাছে নিয়ে চলো না, প্লিজ।”
আলোর কণ্ঠের আকুতি লিমার বুকটা মুচড়ে দিল। লিমা নীলাঞ্জনার দিকে তাকিয়ে বলল,
“এই নীলু, কিছু তো বল। নিজের কথা না ভাবিস, তোর মেয়েটার কথা একটু ভাব। এইটুকু বাচ্চার চোখে আর কত পানি দেখবি?”
নীলাঞ্জনার বুক চিরে একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এল। সে চোখ বন্ধ করল। বহুদিনের জমাট বাঁধা অভিমান, কষ্ট, অপেক্ষা—সব যেন একসাথে গলে যাচ্ছে। ধীরে ধীরে ঠোঁট নাড়ল,
“যা, গিয়ে ডেকে আন। গিয়ে বল… নীলাঞ্জনা তার জীবনে ফিরে যেতে চায়। সারাজীবনের জন্য।”
কথাটা শেষ হতেই লিমার মুখে এক চিলতে আলো খেলে গেল। সে আলোর হাত ধরে উঠে দাঁড়াল।
“চলো , তোমার বাবার কাছে যাই।”
মিনিট পাঁচেক পর।
দরজার পর্দা সরিয়ে ধীর পায়ে ঘরে ঢুকল আরিফ। ক্লান্ত, বিধ্বস্ত, অথচ চোখে এক সমুদ্র আশা।
আরিফকে দেখামাত্র নীলাঞ্জনার ভেতরের সমস্ত বাঁধ ভেঙে গেল। সে এক ঝটকায় খাট থেকে নেমে ছুটে গেল। ঝাঁপিয়ে পড়ল আরিফের বুকে।
“আপনি… আপনি এসেছেন?”
কথাটা শেষ হওয়ার আগেই কান্নার স্রোত নামল। শ্রাবণের মেঘ ভাঙা বৃষ্টির মতো অঝোরে ঝরতে লাগল নীলাঞ্জনার দুচোখ। আরিফের শার্ট ভিজে যাচ্ছে, তবু সে নীলাঞ্জনাকে আরও শক্ত করে বুকের মধ্যে আঁকড়ে ধরল।
নিজেকে আর ধরে রাখতে পারল না আরিফও। এতদিনের দমবন্ধ কষ্ট, অনুশোচনা, শূন্যতা—সব গলে গলে নামল চোখের কোণ বেয়ে। পুরুষ মানুষের কান্না শব্দ করে না, শুধু বুকের ভেতরটা ফেটে চৌচির হয়ে যায়।
ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে নীলাঞ্জনা বলতে লাগল, “আপনার জীবনে ফিরে গেলে আমাকে আর তাড়িয়ে দেবেন না তো? বলুন না… দেবেন না তো?”
আরিফ দুহাতে নীলাঞ্জনার মুখটা তুলে ধরল। বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে যত্ন করে মুছে দিল অশ্রুর দাগ। কণ্ঠটা ভেঙে আসছে, তবু বলল,
“কখনো না, নীলাঞ্জনা। কখনো না। তোমাকে আমি সারাজীবনের জন্য আমার জীবনে অবরুদ্ধ করে রাখব। এই বুকের খাঁচায়। আর কোনো কষ্ট তোমাকে ছুঁতেও পারবে না, কথা দিলাম। তোমার নে*শায় আমি ভয়ংকর আসক্ত হয়ে গেছি। তুমি ছাড়া আমার নিঃশ্বাসও চলে না।”
নীলাঞ্জনা ভেজা চোখে তাকাল। “আমাকে আপনার বুকে শান্তির ঘুম ঘুমাতে দেবেন? খুব ইচ্ছে করে… আপনার বুকে মাথা রেখে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে। একটা রাত… শুধু একটা রাত।”
আরিফ নীলাঞ্জনার কপালে গভীর চুমু এঁকে দিল। “তাই হবে। তুমি যা চাইবে, তাই পাবে। শুধু কথা দাও, আমাকে আর কখনো ছেড়ে চলে যাবে না তো?”
নীলাঞ্জনা আরিফের বুকে মাথা রেখে ফিসফিস করে বলল, “কখনো যাব না। আপনার জীবনেই অবরুদ্ধ হয়ে থাকব। সারাজীবনের জন্য। এটাই আমার শেষ ঠিকানা।”
দুজন ধীরে ধীরে খাটে এসে বসল। তখনই আলোকে নিয়ে ঘরে ঢুকল লিমা। ঠোঁটের কোণে তৃপ্তির হাসি।
“কিরে, তোদের মধ্যে সব মিটমাট হয়ে গেছে তো?”
নীলাঞ্জনা চোখে জল নিয়েই মাথা নাড়ল,
“হ্যাঁ।”
আলো আর এক মুহূর্ত দেরি করল না। ___“বাবা!” বলে দৌড়ে গিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ল আরিফের কোলে।
আরিফ মেয়েকে বুকের সাথে মিশিয়ে নিল। মেয়ের কপালে, গালে, চুলে অসংখ্য চু*মু দিল। এতদিনের তৃষ্ণা যেন মিটছে না।
আলো অভিমানী গলায় বলল,
“জানো বাবা, আমি মাকে কত বলেছিল তোমার কাছে যাব। কিন্তু মা আমাকে নিয়ে যায়নি। তুমি মাকে বকে দাও। খুব করে বকে দাও।”
আরিফ হেসে মেয়ের নাকটা টিপে দিল।
“ঠিক আছে , খুব করে বকে দেব। একদম ছাড়ব না।”
তারপর চোখ তুলে তাকাল লিমার দিকে। গলায় অনুযোগের সুর,
“এই যে আপনি, আমাকে মিথ্যে কেন বলেছিলেন?”
লিমা থতমত খেয়ে গেল।
“আমি? আমি কী মিথ্যে বলেছি?”
আরিফ বলল,
“এই যে, আমি প্রথম যেদিন ফোন করে জানতে চেয়েছিলাম নীলাঞ্জনা আপনার ওখানে আছে কিনা… আপনি তো না বলেছিলেন।”
লিমা বলতে লাগলো,
“আমার কী দোষ বলুন? আমি তো সত্যিটাই বলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু নীলুই আমাকে বারণ করেছিল। কিরে নীলু, সত্যিটা বল।”
নীলাঞ্জনা মাথা নিচু করল। অপরাধী গলায় বলল,
“হ্যাঁ… আমিই বারণ করেছিলাম। আমি চাইনি আপনি জানুন।”
আরিফের মুখটা নরম হয়ে এল। সে লিমার দিকে তাকিয়ে বলল,
“সরি। আপনাকে ভুল বুঝেছি। আমাকে ক্ষমা করবেন।”
লিমা হেসে উড়িয়ে দিল। তারপর নীলাঞ্জনার দিকে ফিরে বলল,
“কিরে নীলু, এখন কি চলে যাবি?”
“হ্যাঁ,” নীলাঞ্জনা আরিফের হাত শক্ত করে ধরল। একটু থেমে আবার বলল,
“তুইও আমাদের সাথে চল না। কিছুদিন আমাদের ওখান থেকে ঘুরে আসবি।”
আরিফও সায় দিল,
“হ্যাঁ, আপনি আমাদের সাথে চলুন।”
লিমা মাথা নাড়ল। চোখে জল, মুখে হাসি।
“না রে। আমি না হয় অন্য কোনোদিন গিয়ে অনেক দিন থেকে আসব। আজ তোরা যা। তোদের সময় নষ্ট করব না।”
নীলাঞ্জনা আরিফের দিকে তাকিয়ে বলল,
“মাকে একটু ফোন করে বলুন, আমরা আসতেছি।”
আরিফ ফোন বের করে মাকে সব জানাল। ওপাশে মায়ের কান্নাভেজা গলার স্বর ভেসে এল।
বিদায়ের পালা। লিমার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে তিনজন দরজার দিকে পা বাড়াল। আরিফের কোলে আলো, পাশে নীলাঞ্জনা—আরিফের হাত আঁকড়ে ধরে আছে, যেন এই হাত ছাড়লেই আবার হারিয়ে যাবে।
দরজায় দাঁড়িয়ে লিমা একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল ওদের চলে যাওয়ার দিকে।
লিমার চোখ ঝাপসা হয়ে এল। ঠোঁটে তৃপ্তির হাসি, আর বুকে একরাশ শূন্যতা। ভালোবাসা ফিরে যাচ্ছে তার নিজের ঠিকানায়। আর সে? সে…….!
লিমা সর্বশক্তি দিয়ে রুমের দরজাটা বন্ধ করে দিল। বিকট শব্দটা যেন তার বুকের ভেতর জমে থাকা সব আর্তনাদ হয়ে প্রতিধ্বনিত হলো চার দেয়ালে।
তারপর নিঃশব্দে, গুটি গুটি পায়ে হেঁটে গেল টেবিলের কাছে। কাঁপা হাতে ড্রয়ারটা খুলল। ভেতর থেকে বের করে আনল সেই চেনা মুখটা—রাকেশ স্যারের ছবি।
ছবিটা বুকের মাঝে চেপে ধরল লিমা। যেন হারিয়ে যাওয়া সবটুকু উষ্ণতা, সবটুকু ভালোবাসা ওই কাগজের টুকরোতেই আটকে আছে। চোখের বাঁধ ভেঙে গেল মুহূর্তেই।
ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে বলতে লাগল, “কেন… কেন আমায় ভালোবাসলেন না, স্যার? একবারও কি আমার চোখের দিকে তাকিয়ে দেখেননি, সেখানে শুধু আপনি ছিলেন?”
গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়া অশ্রু ছবিটা ভিজিয়ে দিচ্ছে। “আমাকে যদি একটু ভালোবাসতেন, তাহলে আপনার জীবনটা কত সুন্দর হতো! আমার জীবনটাও হয়তো অন্যরকম হতো। আমরা দুজন… দুজন মিলে একটা গোটা পৃথিবী বানাতে পারতাম।”
কণ্ঠটা ভেঙে আসছে, তবু থামছে না সে। “শুধু আপনার জন্য… শুধু আপনার একটুখানি অবহেলার জন্য আমার জীবনটা অকালেই ধ্বংস হয়ে গেল। আর আপনার জীবন? সেটাও তো শেষ হয়ে গেল না পাওয়ার যন্ত্রণায়। ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস, দেখুন। আমি যেই মানুষটাকে পাগলের মতো ভালোবাসলাম, সেই মানুষটা আমায় একটুও ভালোবাসল না।”
বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠল। “আর আপনি? আপনি যাকে ভালোবাসলেন, তাকে ভালোবাসার কথাটা বলার সাহসটুকুও করতে পারলেন না। বুকের ভেতর পাথর চাপা দিয়ে বেঁচে ছিলেন দিনের পর দিন।”
ছবিটার দিকে তাকিয়ে তাচ্ছিল্যের হাসি হাসল লিমা। সেই হাসিতে জল মিশে আছে। “শেষমেশ আমার ভালোবাসার মানুষটা একজনকে বিয়ে তো করল… কিন্তু নিয়তি? নিয়তির খেলায় সেও হারিয়ে গেল চিরতরে। মৃ*ত্যু তাকে কেড়ে নিল।”
ঘরের নিস্তব্ধতা গিলে খাচ্ছে তাকে। লিমা ছবিটা আরও শক্ত করে আঁকড়ে ধরল। “দেখুন, শেষ পর্যন্ত কী হলো? আমি একা… আমার ভালোবাসার মানুষটাও একা হয়ে গেল। অথচ আপনি যাকে ভালোবাসতেন, সে আজ অন্য কারো সাথে… জোড়া বাঁধা সংসারে আছে।”
লিমার কান্না আর থামে না। বুকফাটা আর্তনাদ বেরিয়ে আসে গলা চিরে, “এ কেমন বিচার, স্যার? ভালোবাসার অপরাধে আমি একা, আপনি একা… !
ছবিটা বুকে চেপে মেঝেতে বসে পড়ল লিমা। চারপাশের অন্ধকার তাকে গ্রাস করছে ধীরে ধীরে। শুধু বুকের ভেতর জ্বলতে থাকল এক অসমাপ্ত ভালোবাসার চিতা।
রাত দশটা। ড্রয়িং রুমের নরম আলোয় চায়ের কাপে চুমুক দিচ্ছেন সায়েক আহমেদ, নিরব আহমেদ আর মহুয়া। তিনজনের চোখই ঘড়ির কাঁটায়, কান সদর দরজায়। কখন আরিফ নীলাঞ্জনা আর ছোট্ট আলোকে নিয়ে ফিরবে—সেই অপেক্ষায় ঘরের বাতাসটাও যেন থমকে আছে।
মহুয়ার ঠিক পাশে সোফার গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে শাপলা। মেয়েটার মুখে চাপা উদ্বেগ। সিয়াম আহমেদ এখনও বাড়ি ফেরেনি। এই না-ফেরা নিয়েই মহুয়ার কপালে ভাঁজ। আর শাপলা? তার বুকের ভেতর শুধু একটাই নাম বাজছে—সিয়াম ভাইয়া। প্রতিটা মুহূর্তে মনে পড়ছে মানুষটার হাসিমাখা মুখ।
মহুয়া চায়ের শেষ চুমুকটা দিয়ে কাপ নামিয়ে রাখলেন। নিরবের দিকে ফিরে বললেন, “কিরে, সিয়াম এখনও আসছে না কেন? এত দেরি তো করে না ছেলেটা।”
নিরব হালকা হাসল, “চলে আসবে মা। ফোনে বলল, কী যেন কিনবে। তাই একটু দেরি হচ্ছে। চিন্তা কোরো না।”
কথা শেষ হতেই কলিং বেলটা বেজে উঠল। ঝনঝন শব্দে যেন পুরো বাড়িটা কেঁপে উঠল।
শাপলা বিদ্যুৎবেগে ছুটে গেল। দরজা খুলতেই দেখল—নীলাঞ্জনা, পাশে আরিফ, আর আরিফের কোলে ছোট্ট আলো। শাপলার মুখে হাজার ওয়াটের হাসি ফুটল। “ভাবি! আপনি চলে এসেছেন? ভালো আছেন তো?”
নীলাঞ্জনা ক্লান্ত অথচ শান্ত গলায় বলল, “হ্যাঁ , ভালো আছি।” বলেই ভেতরে পা রাখল। পিছু পিছু আরিফ আর আলো।
মহুয়া আর বসে থাকতে পারলেন না। সোফা ছেড়ে উঠে গিয়ে জড়িয়ে ধরলেন নীলাঞ্জনাকে। এতদিনের জমানো কষ্ট, অভিমান, প্রার্থনা—সব গলে গেল চোখের কোণে।
“আমি জানতাম। আমি জানতাম আমার নীলাঞ্জনা ঠিক ফিরে আসবে। এই ঘরটা তোকে ছাড়া শূন্য ছিল রে।”
ওদিকে আলো আরিফের কোল থেকে নেমেই দৌড় দিল দাদুর দিকে।
“দাদু! তুমি ভালো আছো তো?”
সায়েক আহমেদ নাতনিকে বুকের মধ্যে টেনে নিলেন। কপালে গভীর চু*মু এঁকে দিয়ে ভারী গলায় বললেন,
“তোকে ছাড়া দাদু কীভাবে ভালো থাকে, বল তো পাগলি?”
আলো ঠোঁট ফুলিয়ে বলল,
“আমি তো এখন চলে এসেছি।”
“হ্যাঁ, আর তোকে দেখেই দাদু একদম ভালো হয়ে গেছে,” সায়েক আহমেদের গলা কেঁপে উঠল আনন্দে।
আলো এবার ছুটল চাচ্চুর দিকে। নিরব দুহাত বাড়িয়ে তুলে নিল ভাইঝিকে।
“চাচ্চু, জানো? তোমার কথা আমার খুব মনে পড়ত। তুমি আমাকে চকলেট দেবে তো?”
নিরব হেসে পকেট থেকে চকলেট বের করল।
“এই নে। তোর জন্যই এনেছি। আমি জানতাম তো আমার আলো আমাকে দেখালেই চকলেট চাইবে তাই তো আগেই এনে রেখেছিলাম।”
আলোর চোখ খুশিতে চকচক করে উঠল। ঠিক তখনই নীলাঞ্জনা ধমকের সুরে বলল,
“এই, তোমার চকলেট খেতে হবে না। দাঁতগুলো সব পোকায় খেয়ে ফেলবে।”
নিরব চোখ টিপে বলল,
“আরে একটু খেলে কিছু হয় না। কি রে আলো, বল?”
আলো মায়ের দিকে তাকিয়ে ঠোঁট চেপে হাসল,
“হ্যাঁ মা, কিছু হবে না।”
ঘরটা হাসি আর কথায় ভরে উঠল। সবাই গল্পে মেতে উঠেছে, শুধু শাপলা দাঁড়িয়ে আছে সদর দরজার কাছে। মনটা পড়ে আছে অন্য কোথাও।
নিরব ডাক দিল, “এই শাপলা, কোথায় হারিয়ে গেলি? দরজাটা বন্ধ করে এদিকে আয়।”
শাপলা সিয়ামের ভাবনায় এতটাই ডুবে ছিল যে নিরবের কথা কানেই গেল না। দরজা বন্ধ করতে যাবে, ঠিক তখনই—সিয়াম।
শাপলা থমকে গেল। চোখের পলক ফেলতে ভুলে গেল মেয়েটা। সিয়ামকে দেখছে—মন ভরে, প্রাণ ভরে, যেন কত জনমের তৃষ্ণা মেটাচ্ছে।
সিয়াম শাপলার চোখের সামনে হাত নাড়ল। “এই শাপলা, কিরে? আমাকে দেখা শেষ হয়েছে?”
শাপলা চমকে বাস্তবে ফিরল। লজ্জায় গাল লাল করে জোরে বলে উঠল, “সিয়াম ভাইয়া! আপনি চলে এসেছেন?”
সিয়াম ঘরে ঢুকল। শাপলা দরজা আটকে তার পিছু নিল। হাতে সিয়ামের দেওয়া ব্যাগটা।
আলো সিয়ামকে দেখামাত্র চাচ্চু বলে ঝাঁপিয়ে পড়ল। সিয়াম আলোকে কোলে তুলে আদর করল। “জানিস আলো, তোর কথা আমার খুব মনে পড়ত।”
আলো গলা জড়িয়ে বলল, “চাচ্চু, তোমার কথাও আমার খুব মনে পড়ত।”
এরপর গল্প, হাসি, খুনসুটি—কত কথা। রাতের খাবার শেষে একে একে সবাই নিজের ঘরে চলে গেল। ড্রয়িং রুমে রইল শুধু মহুয়া, নীলাঞ্জনা আর আলো।
মহুয়া উঠতে যাবেন, আলো হাত টেনে ধরল। “আমি আজ তোমার সাথে ঘুমাব।”
মহুয়া অবাক হয়ে বললেন, “ওমা, তাই? কখনো তো আমার সাথে ঘুমাতে চাসনি। আজ হঠাৎ?”
আলো ফিসফিস করে বলল, “বাবা বলেছে, আমি যেন তোমার সাথে আর দাদুর সাথে থাকি। বাবা মাকে আজ রাতে অনেক আ*দর করবে। যাতে মা আর কোথাও চলে না যায়। তাই আমি তোমাদের সাথে থাকব।”
নাতনির মুখে এমন পাকা কথা শুনে মহুয়া হেসে ফেললেন। লজ্জায়, আনন্দে আলোকে কোলে তুলে নিয়ে চলে গেলেন। আর নীলাঞ্জনা? লজ্জায় তার কান গরম হয়ে গেল। আবার আরিফের ওপর রাগও হলো ভীষণ। ‘লোকটা মেয়েকে দিয়ে কী সব বলিয়েছে!’
মনে মনে আরিফকে বকতে বকতে নীলাঞ্জনা সব গুছিয়ে নিজের ঘরের দিকে পা বাড়াল। আজকের রাতটা যে অন্যরকম হতে চলেছে, তা সে ঠিকই টের পাচ্ছে।
নীলাঞ্জনা নিঃশব্দে, গুটি গুটি পায়ে ঘরে ঢুকল। পেছনে হাত দিয়ে দরজাটা আলতো করে বন্ধ করে দিল। বুকের ভেতরটা কেমন অজানা শিহরণে কাঁপছে।
ঘরের চারপাশে চোখ বোলাল সে। আরিফ নেই। হয়তো ওয়াশরুমে। বুকের ধুকপুকানি সামলে নীলাঞ্জনা এগিয়ে গেল বড় আয়নাটার সামনে। নিজেকে দেখল একবার—গাল দুটো কি একটু বেশিই লাল?
ঠিক তখনই, কোনো শব্দ ছাড়াই, দুটো শক্ত বাহু পেছন থেকে জড়িয়ে ধরল তাকে।
নীলাঞ্জনার শরীরের প্রতিটি রোমকূপ শিরশির করে উঠল। নিঃশ্বাস আটকে এল গলায়।
আরিফের গরম নিঃশ্বাস ঘাড়ের কাছে লাগছে। ফিসফিস করে বলল, “আজ আমার বউটাকে মন ভরে আ*দর করব। কতদিনের তৃ*ষ্ণা জমে আছে, জানো?”
লজ্জায় নীলাঞ্জনা কেঁপে উঠল। নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে ছুটে গেল জানালার কাছে। কাঁপা হাতে জানালার পাল্লা দুটো খুলে দিতেই জ্যোৎস্না ঝাঁপিয়ে পড়ল তার মুখে, শরীরে।
চাঁদের আলোয় নীলাঞ্জনাকে মনে হচ্ছে স্বর্গ থেকে নেমে আসা কোনো অপ্সরী। দুধে-আলতা গায়ের রঙ, ভেজা চোখের পাতা, কাঁপা ঠোঁট—আরিফের বুকের ভেতরটা তোলপাড় করে দিল সেই রূপ।
আরিফ ধীর পায়ে এগিয়ে এল। কোনো কথা না বলে নীলাঞ্জনার হাতটা ধরল। এক ঝটকায় টেনে নিল নিজের বুকের গভীরে, পরম যত্নে, পরম অধিকারে।
নীলাঞ্জনার হৃৎপিণ্ডটা যেন বুকের খাঁচা ভেঙে বেরিয়ে আসবে। লজ্জায়, ভালোলাগায় তার গাল দুটো পাকা টমেটোর মতো লাল হয়ে উঠেছে। আরিফের বুকের ওঠানামা সে স্পষ্ট টের পাচ্ছে।
আরিফ এক হাতে নীলাঞ্জনার চুলের খোঁপাটা খুলে দিল। সঙ্গে সঙ্গে ঘন কালো চুলের ঢল নেমে এল কোমর ছাপিয়ে। চুল থেকে ভেসে আসা বেলি ফুলের মিষ্টি গন্ধে আরিফের নে*শা ধরে গেল।
মুখ ডুবিয়ে দিল সে সেই চুলের গভীরে। লম্বা একটা শ্বাস নিল,
“এই গন্ধটা… এই গন্ধটার জন্য আমি পা*গল হয়ে যাই, নীলাঞ্জনা ।”
নীলাঞ্জনার পা দুটো টলছে। নিজেকে মা*তাল, অবশ লাগছে। এর আগে কখনো এমন অনুভূতি হয়নি। এ এক অন্যরকম মা*দ*কতা।
হঠাৎ আরিফ নীলাঞ্জনাকে পাঁজাকোলা করে তুলে নিল। নীলাঞ্জনা চমকে আরিফের গলা জড়িয়ে ধরল। আরিফ তাকে নিয়ে গিয়ে আলতো করে শুইয়ে দিল নরম বিছানায়।
চাঁদের আলো এসে পড়েছে বিছানায়। সেই আলোয় নীলাঞ্জনাকে লাগছে আরও মোহময়ী।
আরিফ এক মুহূর্ত তাকিয়ে রইল তার দিকে। তারপর ধীরে ধীরে নিজের গায়ের নীল শার্টটার বোতাম খু*লতে লাগল। প্রতিটি বোতাম খো*লার সাথে সাথে নীলাঞ্জনার নিঃশ্বাস ঘন হয়ে আসছে।
শার্টটা খু*লে পাশে ফেলে দিয়ে আরিফ ঝুঁকে পড়ল নীলাঞ্জনার ও*পর। দুহাতে নীলাঞ্জনার মুখটা তুলে ধরল। চোখে চোখ রাখল। সেই চোখে ভালোবাসার সমুদ্র, অধিকারের আ*গুন।
কোনো কথা না বলে আরিফ দখল করে নিল নীলাঞ্জনার কাঁপা, নরম ঠোঁ*ট দুটো। প্রথম স্পর্শটা ছিল তুলোর মতো নরম। তারপর সেই স্পর্শ গভীর হলো, তীব্র হলো, উন্মাদ হলো।
নীলাঞ্জনাও আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না। এতদিনের জমানো অভিমান, অপেক্ষা, ভালোবাসা—সব উ*জাড় করে দিল আরিফের বুকে। দুহাতে আঁকড়ে ধরল প্রিয় মানুষটাকে।
বাইরে চাঁদটা তখন মিটিমিটি হাসছে। আর ঘরের ভেতর দুটো হৃদয় মিশে যাচ্ছে একে অপরের সাথে। জ্যোৎস্না সাক্ষী হয়ে রইল তাদের এই পবিত্র ভালোবাসার।
শাপলা জানালার পাশের চেয়ারটায় চুপটি করে বসে আছে। বাইরে রাতের আকাশ। রুপোর থালার মতো একটা চাঁদ ঝুলে আছে মাঝ আকাশে। চারপাশে অসংখ্য তারা ঝিকমিক করছে—যেন কেউ কালো মখমলের চাদরে হীরের কুচি ছড়িয়ে দিয়েছে।
কী অদ্ভুত সুন্দর এই রাত! কী নীরব, কী শান্ত! শাপলার মনে হলো, এই সৌন্দর্য দেখতে দেখতে একটা জনম কাটিয়ে দেওয়া যায়।
ঠিক তখনই খুক খুক করে কাশির শব্দ। সিয়াম এসে ঢুকল ঘরে।
শাপলা একবার আড়চোখে তাকাল, তারপর আবার চোখ ফেরাল জানালার বাইরে।
সিয়াম একটা চেয়ার টেনে শাপলার ঠিক পাশে বসল। কিছুক্ষণ চুপচাপ তাকিয়ে রইল মেয়েটার মুখের দিকে। তারপর নরম গলায় শুধাল,
“কী দেখছিস অমন করে?”
শাপলা চাঁদের দিক থেকে চোখ না সরিয়েই বলল,
“ওই দূর আকাশের চাঁদটা দেখছি। দেখুন না, কত সুন্দর!”
সিয়াম ঠোঁটের কোণে হাসি ঝুলিয়ে বলল,
“মোটেও সুন্দর না। ওই চাঁদের চেয়ে হাজার গুণ বেশি সুন্দর তুই।”
শাপলা ভ্রু কুঁচকাল।
“আপনার চোখে সমস্যা আছে। ডাক্তার দেখান। কোথায় ওই আকাশের চাঁদ, আর কোথায় আমি! কিসের সাথে কী মেলাচ্ছেন?”
সিয়াম শাপলার দিকে একটু ঝুঁকে এল। চোখে চোখ রেখে বলল,
“আমার চোখে তুই-ই সবচেয়ে সুন্দর, শাপলা। আমার পৃথিবীর সবচেয়ে উজ্জ্বল চাঁদ।”
একটু থেমে আবার বলল,
“আচ্ছা, তুই কি ওই চাঁদটাকে ছুঁতে চাস?”
শাপলা হেসে ফেলল।
“এত সুন্দর জিনিস তো সবাই ছুঁতে চায়। আমিও চাই। কতটা সুন্দর, দেখেছেন?”
সিয়ামের চোখ দুটো হঠাৎ গম্ভীর হয়ে গেল। গলাটা ভারী শোনাল,
“তুই যতই চাস, তোর পছন্দের ওই চাঁদকে কখনো ছুঁতে পারবি না। তাই সে যতই সুন্দর হোক, তার কোনো মূল্য নেই।”
শাপলা অবাক হয়ে তাকাল।
সিয়াম শাপলার হাতটা আলতো করে ছুঁল।
“আর আমি? আমি চাইলেই তোকে ছুঁতে পারি। আমার নিঃশ্বাসের এত কাছে তুই। তাই তুই আমার চোখে চাঁদের চেয়েও অনেক, অনেক বেশি সুন্দর। তোর মূল্য আমার কাছে আকাশের চাঁদের চেয়েও বেশি, বুঝলি?”
শাপলার বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল। সে চোখ নামিয়ে নিল। কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল,
“আমি যে আপনাকে কল দিয়েছিলাম, রিসিভ করলেন না কেন?”
“তখন একটা মিটিংয়ে ছিলাম রে। তাই ধরতে পারিনি,” সিয়াম হালকা গলায় বলল। তারপরই প্রসঙ্গ পাল্টে বলল, “তোর জন্য আইসক্রিম এনেছি।”
শাপলার চোখ চকচক করে উঠল। “কোথায়?”
“ফ্রিজে রেখেছি। পরে খাস।”
হঠাৎ শাপলার মুখের হাসিটা মিলিয়ে গেল। সে সিয়ামের চোখের দিকে তাকিয়ে বলল,
“আপনি যে আমাকে ভালোবাসেন… আপনার পরিবারের লোকজন জানলে কী হবে, জানেন?”
সিয়াম এক মুহূর্তও না ভেবে বলল, “তারা জানলে আবার কী হবে? কিছুই হবে না।” তার গলায় অদ্ভুত এক জেদ। ” আমার কথাই শেষ কথা, শাপলা। আমি যাকে ভালোবাসি, তাকেই বিয়ে করব। দুনিয়া উল্টে গেলেও।”
তারপর সিয়ামের গলাটা নরম হলো। “এবার তুই বল। তুই আমাকে ভালোবাসিস কি না?”
শাপলা জানালার বাইরে তাকাল। “এখনো অনেক সময় আছে। আমাকে আগে ভালো করে ভাবতে দিন।”
সিয়াম উঠে দাঁড়াল। শাপলার সামনে এসে দাঁড়িয়ে বলল, “তুই যা-ই সিদ্ধান্ত নিস না কেন, তোকে বিয়ে আমিই করব। আমাকে এই পৃথিবীর কেউ আটকাতে পারবে না। মনে রাখিস।”
শাপলা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, “সময়ই বলে দেবে সব।”
সিয়াম আর কোনো কথা বলল না। হঠাৎ ঝুঁকে শাপলার কপালে গভীর একটা *চু*মু এঁকে দিল। শাপলা কেঁপে উঠল।
সিয়াম ফিসফিস করে বলল, “তুই আমার, শাপলা। একান্তই আমার ব্যক্তিগত। তুই আমাকে ভালোবাসিস কি না বাসিস, তাতে আমার কিছু যায় আসে না। আমি তোকে ভালোবাসি, এটাই শেষ কথা।”
তার চোখে আ*গুন জ্বলে উঠল। “আমার জীবনে তোকে আমি সারাজীবনের জন্য অবরুদ্ধ করে রাখব। এই খাঁচা থেকে কোনোদিন মুক্তি পাবি না তুই। তোকে আমার হয়েই থাকতে হবে, সারাজীবনের জন্য। শুধুই আমার।”
কথাটা শেষ করেই সিয়াম হনহন করে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।
শাপলা চাঁদের দিকে তাকিয়ে বলতে লাগলো,
“সিয়াম ভাইয়া… আমি যে ক্রমশ আপনার প্রতি আ*সক্ত হয়ে পড়তেছি।”
রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ১৩
বুকের ভেতরটা হালকা কেঁপে উঠল তার। “আপনাকে প্রতিটি মুহূর্ত শুধু দেখতে ইচ্ছে করে। চোখ বুজলেই আপনার মুখটা ভেসে ওঠে চোখের সামনে। এই পাগলামির শেষ কোথায়, আমি জানি না।”
একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল শাপলা। গলাটা কেমন কেঁপে গেল। “আমি জানি না, আপনাকে ভালোবাসার কথা বলার পর কী হবে। যখন আপনার পরিবারের লোকজন জানতে পারবে যে, আমি আপনাকে ভালোবাসি… তখন কী হবে? আমাকে ছুঁ*ড়ে ফেলে দেবে? নাকি ঘৃ*ণা করবে?”
