শেষ থেকে শুরু পর্ব ২২

664

গল্পের পরের পর্ব পোস্ট করার সাথে সাথে পরতে চাইলে notification অন করে রাখুন ok বাটনে ক্লিক করে

শেষ থেকে শুরু পর্ব ২২
লাবণ্য ইয়াসমিন

পায়ের উপরে পা তুলে শরবতের গ্লাসে চুমুক দিলো আবির। মেয়ে দেখতে আসলে প্রথমে মেয়েকে দিয়ে নবাগত অতিথিদেরকে শরবত দেওয়ার প্রচলন বাংলার অতি প্রাচিন প্রথা নাকি আধুনিক বিষয়টা ওকে বেশ ভাবাচ্ছে। কিছুক্ষণ আগেই অনিমা সবাইকে এক গ্লাস করে শরবত পরিবেশ করেছে। শাড়ি পড়ে লজ্জা লজ্জা মুখে শরবত পরিবেশনের সময় আবির থতমত খেয়ে গিয়েছিল এই মেয়ের কাজকর্ম দেখে।

কে বলবে এই মেয়েটাই ওয়েস্টার্ন ড্রেস পড়ে ইউনিভার্সিটির ছেলেগুলার মাথা থেকে মন সব কাঁপিয়ে দিতে উস্তাদ। আবির নিজেকে শান্ত রেখে বসে আছে। আপাতত ভূলে গেছে সামনে শাড়ি পরিহিত লজ্জাবতী লতা মেয়েটা ওর প্রিয় বন্ধু অনিমা। যার ছয় মাস বয়সী ছোট্ট একটা পুতুলের মতো মেয়ে আছে। অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে যার পিতা রোহান শেখ। কথাটা ভাবলেই মেজাজ বিগড়ে যায় আবিরের। একটা মেয়েকে এই অবস্থায় ফেলে আবারও বিয়ের কথা ভাবছে নরপিশাচটা। হঠাৎ পাশ থেকে ফিসফিস আওয়াজ শুনে আবিরের ধ‍্যান ভাঙলো। পাশ থেকে রোহানের মা চাপা কন্ঠে ওকে বলল,

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

> মেয়ের বয়সের সঙ্গে রোহানের বয়সটা মিলিয়ে নিলে ভালো হতো না? সম বয়সী লাগছে একটু।
আবির চোখ গোলগোল করে ঢোক গিলে বলল,
> আন্টি সুন্দরী মেয়েদের বয়সের কথা জিঞ্জাসা করতে নেই। এতো সুন্দর একটা মেয়ে পাচ্ছেন এটাই কি কম কথা? ভালো পরিবার সঙ্গে সুন্দরী মেয়ে আর কি চাই বলুন? যদি রোহানের জন্য না পছন্দ হয় তাহলে ছেড়ে দেন এই মেয়ের পাত্রের অভাব হবে না।
আবিরের কথার মানে ভদ্রমহিলা বুঝতে পেরে নড়াচড়া করে বসে দ্রুতকন্ঠে বলল,
> আরে না অপছন্দের প্রশ্নই আসে না। মেয়েটাকে আমার খুব পছন্দ। বাবা তাহলে কি আংটি পরিয়ে দেবো?
> সে আর বলতে? পরিয়ে দিন। আর আপা দুলাভাইকে একটু জিঞ্জাসা করেন যদি কোনো সমস্যা থাকে।
> আচ্ছা।

ভদ্রমহিলা আবিরের নির্দেশ অনুযায়ী রাজীব আর চয়নিকার থেকে জেনে নিলো ওদের পছন্দ হয়েছে কিনা। চয়নিকা মিশুক মানুষ সহজে মানুষের সঙ্গে ওর ভাব জমে যায়। এখানেও তাই হয়েছে। অনিমার সঙ্গে এটা ওটা নিয়ে বসে বসে গল্প করছে। আবির শুধু মুগ্ধ হয়ে দেখছে সবাইকে। এতোটা সহজে প্লানমাফিক কাজ হবে ভাবতেই পারেনি। রোহান যদি আসতে রাজি হতো এখানে প্লান বি রেডি ছিল। সেখানে একটু ঝামেলা ছিল তবে এখন আর কোনো ঝামেলা নেই। আপাতত নেই। রোহানকে ওর চেনা আছে বিয়ের দিন ছাড়া বউকে দেখতে চাইবে না।

ব‍্যবসা নিয়ে বিজি আছে। কিছুবছর পরে বড় একটা ভুড়ি হবে আবির ওকে অভিশাপ দিয়েছে। নড়াচড়া করতে হলে লোকজনের সাহায্য নিতে হয় এমন ভুড়ি। চয়নিকার বেশ পছন্দ হয়েছে অনিমাকে দেখে। সব কিছুই ঠিকঠাক হয়ে গেলো। আংটি পরিয়ে দিন তারিখ ঠিক করা হলো। আবির বলে দিল সামনে ওর একটা মিটিং আছে যদি বিয়েটা তাড়াতাড়ি না হয় তবে ও থাকতে পারবে না। রোহানের মা আবিরের উপরে কৃতজ্ঞতার খাতিরে সত্যি বিয়েটা এক সপ্তাহের মধ্যেই রাখলো। এখনকার যুগে টাকা পয়সা থাকলে আয়োজন করতে বাধে না। তাছাড়া কমিউনিটি সেন্টারে বিয়ে হবে সমস্যা কোথায়? সব ঠিকঠাক করে সবাই বেরিয়ে আসলো।

আসার আগে চয়নিকা ছবি উঠাতে চেয়েছিল কিন্তু আবির বলল রোহানকে সবাই চমকে দিবে। আধুনিক যুগে মেয়ে না দেখে বিয়ে হয়না বললেই চলে যদি হয় তাহলে কেমন হবে এটা ওটা বুঝিয়েছে আবির। পুরো ঝড় গেছে ওর উপর দিয়ে। মাথার চুলগুলো এলোমেলো হয়ে আছে। টেনশন হলেই ও মাথার চুলধরে টানাটানি করে। বাড়িতে ফিরে ও হাপ ছেড়ে বাঁচলো। মনে মনে বিড়বিড় করলো, পাত্রী দেখতে গিয়েই তোর এই হাল!এখনো বিয়ে, গায়ে হলুদতো বাকী। কি হবে তোর?। চারদিকে হাজারো ক‍্যামেরা গায়ে হলুদের দিন রোহান যদি বউয়ের ছবি দেখে তখন কি হবে? ঘাবড়ালে চলবে না। বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে প্লান করতে হবে ভেবে ফ্রেস হয়ে বিছানায় সোজা হয়ে শুয়ে পড়লো। একটু ঘুমানোর দরকার ছিল রাতে হাসপাতালে যেতে হবে। কথাগুলো ভেবে ও গভীর ঘুমে তলিয়ে গেলো।

মেয়েকে কোলে নিয়ে বসে আছে হৈমন্তী। মেয়েটা ঘুম থেকে উঠেই পাপা পাপা করছে। হৈমন্তী ভ্রু কুচকে আছে। পাপাকে ডাকছে কিন্তু কেনো বুঝতে পারছে না। চয়নিকা বাড়িতে নেই। রোহানের জন্য মেয়ে দেখতে গিয়ে মায়ের সঙ্গে ও বাড়িতেই আছে। রুনিও নেই। আরাফাত অফিসে গিয়েছিল ফিরবে হাসপাতাল হয়ে। অরিনকে বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে ফিরবে। বাড়িটা কেমন শুনশান হয়ে আছে। বহুকাল লোকজনের সঙ্গে থেকে একা থাকাটা কেমন বিরক্তিকর লাগছে। আমেনা বেগম ঘরে আছে। সে বিশেষ দরকার ছাড়া ঘরের বাইরে আসেনা। খলিল মির্জ সারাক্ষণ খবরের কাগজ নয়তো বইয়ের পাতায় মুখ গুজে বসে থাকে। হৈমন্তী মেয়েকে কোলে নিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসলো। মেয়েটা মাঝেমাঝেই মামা পাপা যাবো বলছে। হৈমন্তী মেয়েকে আদুরে গলাই বলল,

> পাপা অনেক দূরে মাম্মা। এখন যাওয়া যাবে না।
মেয়েটা মিনমিন কন্ঠে বলল,
> পাপা গুড় তুমি পচা।
হৈমন্তী মলিন হাসলো। মেয়েটা হঠাৎ পাপা পাপা কেনো করছে এটা ওর বোধগম্য হচ্ছে না। হৈমন্তী মেয়েকে আবিরের ছবি দেখিয়েছে সেই সঙ্গে জানিয়েছে এটাই ওর পাপা। সকলে জিঞ্জাসা করতো জান্নাতের বাবা কোথায় আছে। হৈমন্তী কৌশলে এড়িয়ে গেছে বিষয়টা। তবে মেয়েকে দত্তক নিয়েছে এটা বলতে হৃদয় কেঁপে উঠে। জীবনে কখনও কারো কাছে স্বীকার করবে না এই নিষ্ঠুর সত্যিটা।

জান্নাত ওর বাবাকে চিনে এটাই অনেক। মেয়েকে নিয়ে হৈমন্তী আজীবন কাটিয়ে দিতে পারবে। এটা তো সামান্য সুখ না। মা হওয়ার পরে নারীর জীবনে আর কি বাকী থাকে। সকল সুখ সন্তানের মায়াময় মুখে আটকে থাকে। হৈমন্তী আবিরের আবদার অনুযায়ী ওর ছবি নিয়মিত দেখিয়েছে। কথা দিয়েছিল সেই কথা ও রেখেছে এর বেশিকিছু না। তবে পরে ওর মনে হয়েছিল আবির এখন আবেগে ভেসে মেয়ে নিয়ে বাড়বাড়ি করছে কিন্তু পরবর্তীকালে যখন ও আবার বিয়ে করবে তখন কি পারবে এই দত্তক নেওয়া মেয়েকে স্বীকার করতে? এটা ভেবে ও সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কখনও মেয়েকে আবিরের ধারেকাছেও ঘেঁসতে দিবে না। হৈমন্তীর মেয়েকে অবহেলা করার সুযোগ কেউ কখনও পাবেনা। কথাগুলো ভাবতে ভাবতে হৈমন্তী রান্নাঘরের দিকে এগিয়ে গেলো। কাজের মেয়েকে বাচ্চার খাবার গরম করে দিতে বলতেই জান্নাত আধো আধো করে বলল,

> থাবো না মাম্মা। পাপা যাবো
হৈমন্তী ওকে নিয়ে সোফায় গিয়ে বসলো। শরীর প্রচণ্ড ক্লান্ত। ঘুমাতে পারলে কিছুটা শান্তি পেতো কিন্তু মেয়েকে খাওয়াতে হবে। পাপার জন্য এমন উতলা হতে দেওয়া চলবে না। হৈমন্তী জান্নাতকে এটা ওটা বলে শান্ত করছিল এমন সময় আরাফাত অরিনকে নিয়ে ভেতরে আসলো। হৈমন্তী অরিনকে দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে কেঁদে ফেলল। জান্নাতকে সোফায় বসিয়ে দৌড়ে গিয়ে ওকে জড়িয়ে নিয়ে বলল,
> কতদিন পরে দেখা হলো। কেমন ছিলে?
> আলহামদুলিল্লাহ্ আল্লাহ্ যেমন রেখেছেন তেমনই আছি। তুমি পালিয়ে গেলে একবারও খোঁজ নিলে না। কতটা ঝামেলায় ছিলাম যদি জানতে।
হৈমন্তী হেঁসে বলল,

> খুব সরি,স্বার্থপর হয়ে গিয়েছিলাম জীবন বাঁচাতে। ভেবেছিলাম মেয়েকে নিয়ে কখনও তোমাদের মুখটা দেখতে পাবো না। তবুও দেখলাম।
হৈমন্তী জান্নাতকে নিয়ে ওর কোলে দিয়ে বলল,
> আমার মেয়ে জান্নাত। জান্নাত এটা তোমার আরেকটা মাম্মা।
জান্নাত ফ‍্যাল ফ‍্যাল করে তাকিয়ে থাকলো। আরাফাত এসে জান্নাতকে নিয়ে গেলো। হৈমন্তী পুরাতন বন্ধুকে পেয়ে ক্লান্তি ভুলে গিয়ে গল্প জুড়ে দিলো। অরিন চেষ্টা করছে জান্নাতের বাবার পরিচয় বের করতে কিন্তু হৈমন্তী কথা ঘুরিয়ে দিচ্ছে। এটা ওটা বলে। অরিন মুখটা মলিন করে বলল,

> বিয়ে করতেই হলো তাহলে আমার ভাইয়া কি দোষ করেছিল হৈমি? ছেলেটা এখনো দুঃখ পাচ্ছে। তোমাকে মনে করে।
হৈমন্তী চমকে উঠলো। গলা শুকিয়ে যাচ্ছে। আবির কথা রেখেছে কাউকে ওদের সত্যিটা বলেনি এটা ভেবে কিছুটা স্বস্তি পেলো। ও কোনোরকম ঢোক গিলে বলল,
> বিয়ে বিষয়টা আমার কাছে বিষাক্ত কাটার মতো ছিলো। বিয়ে আমাকে সামান্য পরিমাণ সুখও দেয়নি বরং বাধ ভাঙা দুঃখ দিয়েছে। আমাকে বেঁচে থাকতে মৃত বানিয়ে দিয়েছিল সেই অবস্থায় কিভাবে পারতাম আরেকজন মানুষকে সুখী করতে? বারবার নিজের খারাপ অতীত আমাকে যন্ত্রণা দিতো। না নিজে ভালো থাকতাম না মিস্টার আবিরকে ভালো রাখতে পারতাম। উনাকে বলবা মেয়ে দেখে বিয়ে করে ফেলতে।

অরিন কিছু বললো না। শুধু দীর্ঘনিশ্বাস ফেলল। আবিরের সম্পর্কে ওর ভালো ধারণা আছে। হৈমন্তীর আশেপাশে ঘেঁষবে না তবুও জিদ করে থাকবে। অযথা ওর কথা বলা ঠিক হয়নি। হৈমন্তী মেয়েকে নিয়ে ভালো আছে এটাই অনেক। আরাফাত রাজীব আর চয়নিকা হৈমন্তীর সত্যিটা জানে। বাকীদের বলা হয়নি। অরিন ভেবেছে হৈমন্তীর বিয়ে হয়েছে।

আবির বন্ধুদের সঙ্গে কথাবার্তা মোটামুটি বলে নিয়েছে। রোহানের মায়ের সঙ্গে কথা বলে বিয়ের দিন গায়ে হলুদের ব‍্যবস্থা করেছে। আর যাইহোক ঘটা করে গায়ে হলুদ দিলে ঝামেলা আছে অনেক। কোনরকম রিস্ক নেওয়া ঠিক হবে না। জান্নাতকে দেখতে ইচ্ছা করছিল বহুকষ্টে তা দমিয়ে রেখেছে। জান্নাতকে ফিরিয়ে দেওয়ার আগে একশো ছবি উঠেছে বাপ মেয়ে মিলে। চমৎকার সেই ছবি। ছবিগুলো মনোযোগ দিয়ে দেখছিল সেই মূহুর্তে ফোন আসলো। আবির বিরক্ত হলো তবুও রিসিভ করলো কারণ রোহান ফোন করেছে। আবির কানে ধরতেই ওপাশ থেকে বলে উঠলো,
> বন্ধুর বিয়েতে বন্ধু থাকবে না এমনকি কখনও হয়েছে? পরশুদিন আমার বিয়ে। পুরাতন শত্রুতা ভূলে যা বন্ধু।
আবিরের দম আটকে আসছে হাসিতে তবুও নিজেকে শান্ত রেখে বলল,

> সত্যিই বিয়ে করছিস? অনিমাকে ছেড়ে দিলি তাহলে?
> এক লক্ষ টাকা দিয়েছিলাম। এই টাকায় হাসপাতালের খরচ হয়ে গিয়েছিল। দেখ হয়তো নতুন করে জীবন শুরু করেছে। আমার মা মেয়ে দেখেছে এখানে আমার কিছু বলার নেই আবির। বুঝিসতো মা কেমন মানুষ?
আবিরের ইচ্ছে হলো ব‍্যাটাকে দুটো লাথি দিতে। কত মায়ের কথা ভাবে এটা আবিরের জানা আছে। সময়ের অপেক্ষা শুধু। আবিরকে চুপ থাকতে দেখে রোহান তাড়া দিয়ে বলল,
> কিরে আসবি না?

> আসবো আমি। বিয়ের গায়েহলুদ থেকে শুরু করে শপিং সব কিছুতেই অংশগ্রহণ করবো আমি চিন্তা করিস না। আসতেই হতো আমাকে। যাইহোক মেহুল এসেছে ওকেও ডেকে নিবো কিন্তু।
রোহান খুশীতে আটখানা হয়ে বলল,
> নতুন পুরাতন সব বন্ধুদেরকে আমার বিয়েতে বলে দিব আসতে।

আবির টুকটাক কথা বল‍ে রেখে দিল। বন্ধুদের মধ্যে আগে থেকেই পরিকল্পনা হয়ে গিয়েছে। ওরা জানতো রোহান ওদেরকে বলবে। তাছাড়া গায়ে হলুদের দায়িত্ব বন্ধুদের নিতে হবে। এ বাড়ির কোনো আত্মীয় হলুদের সকালবেলায় মেয়েকে দেখবে না। ছবি টবি তুললে ঝামেলা হবে। আবির কোনো কাচা কাজ করবে না। তাছাড়া মেয়ের পরিচয়ে যথেষ্ট গোলমাল করেছে। অনিমার জায়গাই শুধু অনি বলে পরিচয় দিয়েছে। এভাবেই দুদিন পার হলো। আবির বন্ধুদের নিয়ে রোহানের বিয়ের আয়োজনে ব‍্যস্তদিন পার করছে। চয়নিকা ও বাড়ি থেকে হৈমন্তীকে আসতে বলেছিল কিন্তু ওর এখন ছুটি নেই। বলেছে বিয়ের দিন যাবে কমিউনিটি সেন্টারে। তাছাড়া অরিনের অবস্থাও সেম। অরিন আর আরাফাত পালা করে আবিরের অনুপস্থিতে হাসপাতাল সামলাচ্ছে।

বিয়ের দিন সকালবেলা,
গায়ে হলুদ আর বিয়ে যেহেতু একদিনে সেহেতু লোকজন সব চলে এসেছে। আবিরের কাজকর্মে প্রচণ্ড খুশী রোহান। বন্ধ মহল পাম দিচ্ছে রোহানকে যে এই যুগে এসেও সে মায়ের পছন্দের মেয়েকে না দেখে বিয়ে করছে। রোহান ভাব নিচ্ছে আর ফুলছে। আবির চেয়েছে এবারের বাসরঘরে গিয়ে রোহান নিজের বউয়ের মুখটা দেখুক। ঝটকা খেয়ে যখন মাটিতে থুবড়ে পড়বে সেই মূহুর্ত্তের একটা ভিডিও আবির অবশ‍্যই ধারণ করবে। বন্ধুদের মধ্যে চাপা উত্তেজনা কাজ করছে। গায়ে হলুদ শেষ হওয়ার পরে আবির দুটো মদের বতল নিয়ে রোহানের ঘরে এসে হাজির হলো। রোহান ওর হাতে মদের বোতল দেখে হতবাক। তাছাড়া আবির বা রোহান কারোরি ড্রিঙ্কস সহ‍্য হয়না। একবার খেয়েছিল ইউনিভার্সিটিতে থাকতে। বমি হয় সেই সঙ্গে মাথা ঝিমঝিম করে চোখে ঝাপসা দেখে। বিরক্তিকর অনুভূতি। রোহান আতঙ্কে ফিসফিস করে বলল,

> পাগল হয়েছিস আজকের দিনে এসব কি?
> শোন বিয়ে মানুষ একবারই করে একটু মজা মাস্তি না করলে চলে? বন্ধুদের সঙ্গে শেষ আড্ডাটা দিয়ে যা না ভাই। সবাই চাইছে। বউ আসলে কি আর তুই সিঙ্গেল থাকবি? তাছাড়া এটা খুব ভালো ড্রিঙ্কস। কোনো সমস্যা হবে না।শুধু মনটা খুশী খুশী থাকবে। প্রেম প্রেম পাবে আরকি।
রোহান মুখটা কুচকে ফেলল। কিন্তু বন্ধুরা সবাই মিলে জোরজবরদস্তি শুরু করলো। বাধ্য হয়ে রোহান বন্ধুদের সঙ্গে বসে ড্রিঙ্কস করলো কিন্তু ঝামেলা হলো আবির নিজেও খেয়ে নিয়েছে। দুবোতল ছিল। ওরা রোহানকে বেশিটা দিয়ে নিজেরা সামান্য নিলো। রোহানের অবস্থা মোটামুটি নাজেহাল। দুবার বমি করে ক্লান্ত হয়ে শুয়ে পড়লো। বেহুশ হয়নি টনটনে জ্ঞান আছে। তবে বেশিক্ষণ থাকবে না আবির এটা শিউর। সবাই রেডি হয়ে বিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়লো।

কিছুক্ষণ আগে অনিমার সঙ্গে রোহানের বিয়ে শেষ হয়েছে। রোহান প্রশ্ন ছাড়াই সব করছে। মনে হচ্ছে কাঠের পুতুল।সোফায় পা তুলে আবির বসে বসে ঝিমুচ্ছে। দূর থেকে হৈমন্তী ওকে লক্ষ করছে। ওর ভ্রু কুচকে আছে। ছেলেটার এমন ব‍্যবহার ওকে ভাবাচ্ছে। জান্নাত পাপা পাপা করে ওকে ডাকছে। হৈমন্তী মেয়েকে নিয়ে আবিরের পাশে গিয়ে বলল,
> মিস্টার আবির আপনি ঠিক আছেন?
আবির ঝাপসা চোখে তাকিয়ে কিছুই বুঝতে পারলো না। চোখ বন্ধ হয়ে আসছে। অনেক কষ্টে এতক্ষণ নিজের সামলে রেখেছে আর হচ্ছে না। কেমন বমি বমি পাচ্ছে। হৈমন্তীকে সামনে দেখে ও আনমনে বলল,

>কে আপনি?
হৈমন্তীর মেজাজ খারাপ হলো। একদিন ওর জন্য এই ছেলের প্রেম উথলে পড়ছিল আর আজকে চিনতেই পারছে না। মুখোশধারি লোকজন। ও বিরক্তি নিয়ে চলে আসতে গেলো কিন্তু হলো না। জান্নাত চিৎকার করছে। আবির জান্নাতের দিকে হাত বাড়িয়ে বলল,
> আমার মেয়ের মতো আপনার মেয়েটা। মাম্মা আসবে আমার কাছে?

জান্নাত আবিরের কাছে চলে গেলো। হৈমন্তীর বোধগম্য হচ্ছে না কিছুই। তবুও নিজেকে শান্ত রেখে বলল আপনার শরীর ঠিক নেই বাড়িতে যান। ওকে দিন আমাকে। আবির জান্নাতকে ওর কোলে দিয়ে মুখ চেপে দৌড়ে বাথরুমে চলে গেলো। আবিরের মস্তিষ্কে হৈমন্তী এইটুকু স্মৃতি আটকে থাকতে পারলো না। বাথরুমে গিয়ে বমি করে ক্লান্ত হয়ে রোহানের মায়ের পাশে বসে পড়লো। এখুনি বাড়িতে ফিরবে সবাই। রোহান স্টিলের মতো বসে আছে। সুযোগ খুঁজছে শুয়ে পড়ার। ছটফট করছে কখন বাড়িতে ফিরবে। বমি করার পর আবিরের বেশ ভালো লাগছে। সুস্থ সুস্থ লাগছে। জীবনে আর এসব মুখে তুলবে না। বন্ধুদের মধ্যে শুধু ওদের দুজনের সমস্যা হয়। তাছাড়া সবগুলো একদম ফিট আছে। আগামীকাল অনুষ্ঠান আছে। আবির রোহানের মায়ের পাশে বসেছিল। ভদ্রমহিলা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে। আবির আনমনেই বলে ফলল,
> আন্টি আপনার ছেলে দারুণ চতুর। কি করেছে জানেন বিয়ের আগেই বাবা…..
আবির আর বলতে পারলো না। ওর বন্ধু সজীব হন্তদন্ত দৌড়ে এসে ওর মুখ চেপে ধরে বলল,

শেষ থেকে শুরু পর্ব ২১

আন্টি ওর শরীর ভালো নেই। আপনারা আসুন আমরা বরং যায়। অনেক কাজকর্ম করেছে ক্লান্ত আছে।
ভদ্রমহিলার সন্দেহের দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। আবিরের অবস্থা দেখে উনি মোটামুটি সন্দেহ করছে কিছু খেয়েছে কিন্তু তাই বলে রোহানের নামে এতবড় কথা বলবে? উনি প্রশ্ন করতে চাইলো কিন্তু হলো না। সজিব ওকে জোরকরে নিয়ে আসলো। একবারে গাড়িতে গিয়ে বসলো। সজিবের বারোটা বেজে গেছে এই দুটোকে সামলাতে গিয়ে। রোহান উদ্ভুট কাজকর্ম করছে। বউয়ের মুখের দিকে উঁকি দিয়ে দেখার চেষ্টা করছে। কিন্তু ঝাপসা চোখের জন্য দেখতে পারছে না। অনিমা হাসিখুশি মুখ নিয়ে ছবি উঠেছে। আজকেতো ওর দিন। আগামীকালের জন্য সবাই অপেক্ষা করছে। চাপা উত্তেজনা সকলের মধ্যে।

শেষ থেকে শুরু পর্ব ২৩

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here