সুইটহার্ট পর্ব ১১ (২)
মোনালিসা মেহরোজ
সেদিনের পর কেটে গেছে দু’টো দিন। মাঝখানে শুক্রবার পড়ায় মেহরিনকে আর হতে হয়নি আদ্রিয়ানের মুখোমুখি। না-তো ভার্সিটির দোর পাড় করতে হয়েছে। এতে অবশ্য বেশ সুবিধেই হয়েছে মেহরিনের। সেদিনের ঘটনার পর আজও আদ্রিয়ান নামক রহস্যময় পুরুষটির কথা মস্তিষ্কে হানা দিলেই লজ্জায় কেমন আড়ষ্ট হয়ে পরে রমণী। পেলবখানা ধারণ করে টকটকে লাল বর্ণ। হৃদয় আচানক বড্ড চঞ্চল হয়ে পরে। দিকবিদিকশুন্য হয়ে পরে রমণীর মস্তিষ্ক। সেখানে আদ্রিয়ানের সামনে না পড়াতে বেশ ভালোই আছে সে।
আজ শনিবার। তিন বন্ধু মিলে ঠিক করেছে রবিবার থেকে রেগুলার ভার্সিটি যাবে। এতে বেড়েছে মেহরিনের বুকের ধুকপুকানি। এ’কদিনে অভ্রের সাথে তার টুকটাক কথা হয়েছে। অভ্রই তাকে নক করতো মাঝেমধ্যে। তবে অভ্র নামক যুবকটি খুব একটা মনোযোগ বা আকর্ষণ কাড়তে পারেনি মেহরিনের। বরং তার সাথে কথা বলতে রমণী কেমন অস্বস্তিতে গুটিয়ে যায়। মুখের উপর কিছু বলতেও পারেনা ভদ্রতার খাতিরে। তারওপরে অভ্রের সাথে মেহরিনের বাবা-মা’র বেশ ভালোই বনিবনা। এরমধ্যে মেহরিন যদি অভ্রকে কিছু বলে তাহলে তাতে তার’ই দোষ হবে। তাই চুপ করে আছে সে।
আজ বিকেলে শিফা, শাওন আর মেহরিন একসাথে বের হয়েছে কোচিংয়ের একটা ফর্ম জমা দিতে। কাজ শেষ করে ফেরার সময়ই বিপদে পড়লো তারা। পুরো রাস্তা জুড়ে ভয়াবহ ট্রাফিক জ্যাম। রিকশা, বাস, সিএনজি, প্রাইভেটকার—সব মিলিয়ে একেবারে নড়াচড়ার উপায় নেই। মেহরিন বিরক্ত মুখে রাস্তার শেষ পাশে দাঁড়িয়ে আছে। হাতে পানির বোতল। সামনে পা ফেলার মতো কোন ফুরসত নেই।
চোখমুখ ঘামে ভিজে গেছে। ফর্সা মুখশ্রী হয়ে উঠেছে লাল। সে আশেপাশে নজর বুলিয়ে বিরক্তিকর শ্বাস ফেলে আওড়ালো—-
—আমি আর বাঁচবো না।
শাওন ভ্রু কুঁচকে তাকালো। শার্টের কলার হালকা আলগা করে জিজ্ঞেস করলো—
—এখন আবার কি হলো?
মেহরিন দু’পা একবার একবার করে নাড়াচাড়া করে উত্তর করলো—-
—পা ব্যথা করছে।
—দাঁড়িয়ে আছিস মাত্র পনেরো মিনিট।
—আমার কাছে এটা পনেরো বছর মনে হচ্ছে।
শিফা বিরক্তিকর শ্বাস ফেললো। ওড়না তুলে নিজেই নিজেকে বাতাস করতে করতে ধমকে উঠলো মেহরিনকে—-
—চুপ করে দাঁড়া।
মুখ ভেঙ্গচি দিলো মেহরিন। আরও দশ মিনিট কেটে গেলো সেভাবেই, কিন্তু জ্যাম একচুলও নড়লো না। মেহরিন এবার সত্যিই অস্থির হয়ে উঠলো। সে এদিক-ওদিক তাকিয়ে প্রচন্ড বিরক্ত হলো।
—না, এভাবে হবে না।
—কি হবে না?
—আমাকে বাড়ি যেতে হবে।
শাওন চোখ উল্টালো। এই মেয়ে যে কি বলে তা হয়তো সে নিজেও জানে না। এদিকে জ্যামে ফেঁসেছে, আর তার তাড়া উঠেছে বাড়ি ফেরার। আশ্চর্য! শাওন বিরক্তিকর শ্বাস ফেলে জ্যামের দিকে তাকালো। পাশেই একটা সাইকেলের ধাক্কা লাগতো একটু হলে। সে তড়িঘড়ি করে সরে এলো। মেহরিনকে বললো—-
—উড়ে যা।
মেহরিন ভ্রু কুঁচকে নিলো। তবে খানিকবাদেই বদলে গেলো তার আদলরেখা। চোখ দুটো চকচক করে উঠলো আচানক।
—এক মিনিট!
শিফার ভ্রু যুগল উঁচিয়ে গেলো। এই চোখ চকচকানি সে খুব ভালো করেই চেনে। এর মানে মেহরিনের মাথায় ভয়ংকর কিছু এসেছে তা নিশ্চিত। তাই সে আগেই চোখমুখ খিঁচে সাবধানবাণী ছুঁড়লো—
—না।
—কি না?
—তোর মাথায় যা এসেছে সেটা না।
—কিন্তু আমি তো কিছু বলিনি।
—তবুও না।
মেহরিন শয়তানি হাসলো। ভ্রু নাচিয়ে বললো—
—বুদ্ধিটা কিন্তু অসাধারণ।
শাওন ধীরে ধীরে পিছিয়ে গেলো। চোখজোড়া বড়বড় করে বললো—
—তোর বুদ্ধি, তারমানে কুচ তো গড়বড় হে, আপ তেরি সাথ নেহি রেহুেঙ্গি। মে চালতা হু,
—চুপ কর।
ঝাঁঝিয়ে উঠলো মেহরিন। শাওন চুপ মেরে গেলো তার কড়া চাহুনিতে। মেহরিন শাওনকে থামিয়ে নিজের ব্যাগ খুললো।ভেতর থেকে একটা ওড়না বের করলো। শিফা কপাল কুঁচকে তাকিয়ে দেখছে তার কাজ কারবার।
—কি করছিস?
—দেশ সেবা।
—মানে?
মেহরিন এবার শাওনের দিকে ফিরলো। ঠোঁটের কোণায় শয়তানী হাসি ফুটিয়ে বললো—
—শার্ট খোল।
শাওন লাফিয়ে উঠলো। নিজের শার্ট দু’হাতে আঁকড়ে ধরে ইজ্জত বাঁচানোর ভঙ্গিতে বললো—-
—কিহ্?!
—শার্ট খোল বলছি।
—রাস্তার মাঝে?
—হ্যাঁ।
—কেন?
—কারণ শার্টটা লাগবে আমার।
শাওনের মুখটা কাঁদো কাঁদো হয়ে এলো।
—কিন্তু আমিই কেনো?
—কারণ তুই ছেলে।
—এই যুক্তির কোনো মানে আছে?
—আমার কাছে আছে।
দীর্ঘ পাঁচ মিনিটের তর্কের পর শেষমেশ জোর করে শাওনের ওপরের শার্টটা নিয়ে নিলো মেহরিন। একটা গাড়ির আড়ালে গেলো নিশ্চুপে। সামনে আড়াআড়িভাবে দাঁড় করিয়ে দিলো শিফ-শাওনকে, যেনো তাকে কেউ দেখতে না পায়। তারপর শার্টটা গুটিয়ে নিজের পেটের সামনে ঢুকিয়ে দিলো আচমকা। ওড়না দিয়ে শক্ত করে বেঁধেও ফেললো তা।মুহূর্তেই পেটটা বেশ খানিকটা বড় দেখাতে লাগলো। তারওপর মেহরিনের জামা পরায় গর্ভবতী মহিলাদের চেয়ে কোন অংশে কম মনে হলো না রমণীকে। শিফা চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে রইলো। এতোক্ষণে বুঝলো প্ল্যানটা কি!
—ইয়া আল্লাহ…
শাওন হতভম্ব হয়ে রইলো৷ মাথা কেমন ঘোরাচ্ছে তার।
—তুই কি প্রেগন্যান্ট সাজলি?
মেহরিন গর্বিত ভঙ্গিতে মাথা নাড়লো। শুষ্ক ঠোঁট জোড়া নাড়িয়ে আওড়ালো—-
—জি।
কপালে হাত রাখলো অপর দুজন।
—তোর মাথা খারাপ।
—ধন্যবাদ।
কথাটা বলেই সে নাটকীয় ভঙ্গিতে কোমর চেপে ধরলো। চোখমুখ ব্যাথা পাওয়ার ন্যায় কুঁচকে নিলো অতন্ত্য নাটকীয় ভঙ্গিতে। তাকে দেখলে বোঝা দায় সে অভিনয় করছে না-কি সত্যিই সে বড়ই সমস্যায় আছে। মেহরিন সামনে পা বাড়াতে বাড়াতে আওয়াজ ছাড়লো—-
—আহহহ…
তার শব্দে সঙ্গে সঙ্গেই শিফা দুই হাত দিয়ে নিজের মুখ ঢেকে ফেললো। কাঁদো কাঁদো গলায় অতন্ত্য করুণভাবে আওড়ালো—-
—আমি ওকে চিনি না।
—আমিও না।
শাওনও দ্রুত সায় দিলো তার কথায়। কিন্তু ততক্ষণে মেহরিন ট্রাফিক পুলিশের দিকে হাঁটা শুরু করে দিয়েছে। কোমর বাঁকিয়ে। ধীরে ধীরে। যেনো পৃথিবীর সবচেয়ে কষ্টে থাকা মানুষ সে। ট্রাফিক পুলিশ দূর থেকে তাকিয়ে কপাল কুঁচকালেন। মেহরিন কাছে যেতেই করুণ গলায় বললো—-
—স্যার…
—জি?
—আমাকে বাঁচান।
পুলিশ দু’জন ভড়কে গেলো তার এহেন আচরণে। একে অপরের পানে তাকিয়ে সুধালেন—-
—কি হয়েছে?
মেহরিন পেটে হাত রাখলো। সে কিছু বলতেই যাবে, তার আগেই দূর থেকে ভিড়ের মাঝে একটা চিকন ও অস্পষ্ট স্বর ভেসে এলো—-
—এমা, ইনি না এখানেই দাঁড়িয়ে ছিলেন, মাত্র কয়েক সেকেন্ডে প্রেগন্যান্ট হলেন কিভাবে?
ট্রাফিক পুলিশরা সেদিকে কান পাতলেন। গাড়ির হর্ণ, আশেপাশের মানুষের কোলাহলের মাঝে সেই শব্দটা মিলিয়ে গেলেও তাদের কেমন জানি লাগলো। অন্যদিকে মেহরিন সুস্পষ্ট আন্দাজ করতে পারলো কি হতে পারে সেই অস্পষ্ট কথাখানা। সেই চটপট নিজেকে অসুস্থ সাজিয়ে নিলো। ভান করে আওড়ালো—-
—স্যার! ওদিকে কি দেখছেন? এদিকে তাকান না! সময় হয়ে গেছে।
পুলিশ দু’জন তার দিকে ফিরলো৷ বাকি দু’জন পুলিশ রাস্তার জ্যাম সামলাচ্ছেন। একজন পুলিশ কপাল কুঁচকে বললেন—-
—কিসের সময়?
—এই যে…
ইশারায় পেট দেখালো মেহরিন। পুলিশের চোখ বড় হয়ে গেলো তার কথায়।
—ওহ!
মেহরিন সঙ্গে সঙ্গে মুখ কুঁচকে ফেললো। যেনো খুব ব্যাথা হচ্ছে তার।
—আহহ… স্যার…
তার এমন ব্যাথাতুর আওয়াজে হকচকিয়ে গেলো সামনের পুলিশরা। তড়িঘড়ি করে মেহরিনের এক বাহু আঁকড়ে বললেন—
—ঠিক আছেন আপনি? হাসপাতালে যাবেন?
—জ…জ্বী স্যার, এখনি যেতে হবে।
—তাহলে যান।
—কিন্তু জ্যাম যে, কিভাবে যাবো?
পুলিশ চারদিকে তাকালেন ঘাড় ঘুড়িয়ে।
সত্যিই ভয়াবহ জ্যাম। কপালে তাদের পরলো চিন্তার ভাজ৷মেহরিন তাদের দিকে তাকিয়ে আড়ালে কুটিল হাসলো। মুখখানা বাকিঁয়ে কাঁদো কাঁদো গলায় আবার বললো—-
—স্য…স্যার, আমার সন্তান পৃথিবীর আলো দেখতে চায় স্যার। বাঁচান ওকে, প্লিজজ!
দূরে দাঁড়িয়ে শিফা হঠাৎ কাশতে শুরু করলো। সন্তান বাঁচতে চায়? এই মেয়ে এতো ঢপ মারতে জানে? হায় খোদা! শাওন মুখ ফিরিয়ে হাসি চাপছে। পেটাটা তার ব্যাথা করছে না হাসতে পেরে। পুলিশ কিছুটা বিভ্রান্ত হয়ে গেলেন। কপাল চুলকে বললেন—-
—আপনার সাথে কেউ নেই?
—আছে।
—কোথায়?
মেহরিন কাঁপা কাঁপা আঙুল তুলে শাওনের দিকে দেখালো।
—ওই যে।
পুলিশ তাকাতেই শাওনের মুখ শুকিয়ে গেলো। আমতা আমতা করতে লাগলো দূর হতেই।
—ও আপনার স্বামী?
মুহূর্তেই শাওন দু’হাত তুলে চিৎকার করে উঠলো—-
—না না স্যার!
মেহরিন চোখ রাঙালো। চাপা গলায় শাসিয়ে উঠলো—-
—চুপ!
পুলিশ এবার আরও বিভ্রান্ত। শুকনো ঢোক গিলে বললেন—–
—তাহলে?
—দূরররর সম্পর্কের…
মেহরিন লম্বা করে বলে থেমে গেলো। পুলিশ ফের জানতে চাইলেন—
—কি?
—যাকগে, আত্মীয়।
পুলিশ সন্দেহভরা চোখে তাকালেন। মেহরিন বুঝতে পারলো পুলিশের চাহুনি। সে হুট করেই আবারো নাটকীয়ভাবে পেট চেপে ধরলো পরিস্থিতি সামলাতে—
—আহহহ!
—কি হলো?
—বাচ্চাটা মনে হয় ফুটবল খেলছে। আসলে ওয়ার্ল্ড কাপ চলছে তো, তাই হয়তো!
শাওন এবার সরাসরি রাস্তার পাশে বসে পড়লো ধপ করে। হাসি আটকাতে গিয়ে অবস্থা নাজেহাল তার। মেহরিন যে এতোটা পাজি হয়ে গেছে তা তার ভাবনারও বাহিরে।
অন্যদিকে পুলিশও ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলো। বাচ্চা ফুটবল খেলতে চায়?এ আবার কেমন কথা? কেমন মা সে? পুলিশটা কেমন যেন সন্দেহ করতে শুরু করলো এই পর্যায়ে এসে। মেহরিনকে একটু অন্যরকম লাগলো তাদের। চোখ সরু করে বললেন—-
—একটু দাঁড়ান তো।
—কেন?
—আপনার পেটটা…
—আমার পেটের কি?
—কেমন যেন…
মেহরিনের বুক ধক করে উঠলো। অন্য পুলিশ এগিয়ে আসতেই সে এক কদম পিছিয়ে গেলো হাত ছেড়ে। তড়িঘড়ি করে আবারো ব্যথার নাটক শুরু করতেই ভরকে গেলো পুলিশটা। অতঃপর তড়িঘড়ি করে জ্যামের মধ্যেও তাকে যাওয়ার রাস্তা করে দিলো। মেহরিন বিজয়ীর হাসি হেসে জ্যাম ছুটে বেড়িয়ে গেলো। অন্যদিকে গাড়িতে বসে হতভম্ব নয়নে সবকিছু দেখে যাচ্ছিলো আদ্রিয়ান। তার চোখ কোটর হতে বেড়িয়ে আসার উপক্রম। মাথাটা ভন ভন করে ঘুরছে কেমন। হৃৎস্পন্দন বোধহয় থমকে গেছে সামনের এই দৃশ্যখানা অবলোকন করে। মাথা বন্ধ করে দিয়েছে কাজ করা।
আদ্রিয়ান ধীরে ধীরে নিজের হাত তুলে চোখ কচলে নিলো। অতঃপর তা রাখলো বুকের উপর। মেহরিন ভিষন দুষ্টু তা সে জানে, তাই বলে এসব করবে? কমন সেন্সটুকুও কি নেই তার?
আদ্রিয়ান এখনো তাকিয়ে আছে মেহরিনদের যাওয়ার পানে। তার চোখজোড়া কুঁচকানো। কপালে গাঢ় ভাজের রেখা। সে এক ভ্রু উঁচিয়ে, আপন মনের বিড়বিড়িয়ে উঠলো—-
—হোয়াট?নো নো নেভার! এটা হতে পারে না। মাঠে না নামতেই কি করে গোল হয়ে গেলো? এতো সুন্দর একটা বডি বানিয়েছি কি বিনা পরিশ্রমে বিশ্বকাপ জয় করার জন্য? ইম্পসিবল!
খানিকবাদেই নিজের গালে নিজে চাপর মারলো আদ্রিয়ান। মাথা দু’দিকে দোলাতে লাগলো। আদ্রিয়ান দ্রুত পানির বোতল হাতে তুলে নিলো। অফিসে গিয়েছিলো সে, সেখান থেকে ফেরার পথেই জ্যামে আঁটকে বসে ছিলো। আর সামনে ঘটে গেলো এমন অভাবনীয় এক দৃশ্য, যা কল্পনারও বাহিরে ছিলো আদ্রিয়ানের। আদ্রিয়ান জোড়ে জোড়ে নিশ্বাস নিয়ে পানির বোতল নামিয়ে রাখলো৷ সিটে মাথা এলিয়ে দিয়ে বিড়বিড় করে আওড়ালো—-
সুইটহার্ট পর্ব ১১
—ড্যাড! আমার যদি কোনদিন হার্ট অ্যাটাক হয়, তাহলে বুঝে নিয়ো, সেই অ্যাটাকের কারণ মেহরিন নামক পাজি মেয়েটাই হবে।
আদ্রিয়ান স্টিয়ারিং চেপে ধরলো দু’হাতে। তার বুকের ধুকপুকানি কমছে না কিছুতেই। বরং তা ক্রমশ বাড়ছে। সে সিটে মাথা এলিয়ে দিলো। এসির শীতল হাওয়া ছুঁয়ে যেতে লাগলো তার ঘামার্ত ফর্সা মুখমণ্ডল।
