Home হৃদয় রাঙানো প্রেম হৃদয় রাঙানো প্রেম পর্ব ২৭

হৃদয় রাঙানো প্রেম পর্ব ২৭

হৃদয় রাঙানো প্রেম পর্ব ২৭
সিনথিয়া ইসলাম সীমা

বাড়িতে বউ প্রবেশ করার আগেই তাকে নিয়ে আলোচনায় মেতে উঠেছে পুরো মোল্লা পরিবার। বউ নিয়ে বললে ভুল হবে বউয়ের ভাই আলোচনার প্রধান কেন্দ্র। উসমান মোল্লা একেবারে ডাক্তার দেখিয়ে ছেলেকে নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বিয়ে বাড়ি হতে ছোট ছেলেকে এমন অবস্থায় ফিরে আসতে দেখেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন বাড়ির সকল সদস্য। পরবর্তীতে এই করুন দশার পিছনের কারণ শুনতেই সেই উদ্বিগ্নতা পরিনত হয়েছে রাগে। অথচ নিজের ছেলের ভুলগুলো যেন চোখেই পড়ছে না তাদের। সকলে এক জোট হয়ে ড্রয়িং রুমে বসে আছেন। অপেক্ষা নতুন বউয়ের আগমনের। উমররের মা ফরিদা বেগম তো একেবারে উর্ধ্বে! ভদ্রমহিলা কোনো ভাবেই শান্ত হচ্ছেন না। নূরজাহান বেগম তাকে শান্ত করার প্রয়াস চালাচ্ছেন। কিন্তু তার এক কথা- “ কোনোভাবেই ঐ বাড়ির মেয়েকে ঘরে প্রবেশ করতে দিবেন না তিনি। ”
এর মাঝেই বাড়ির মূল ফটকে এসে উপস্থিত হলো উমর ও ইকরা। ওমনিই সকলে মিলে জড়ো হলেন সেদিকে। ফরিদা বেগম দূর থেকেই ছেলের উদ্দেশ্যে বললেন,

“ এতকিছুর পরেও ঐ বাড়ির মেয়েকে এখানে আনার সাহস তোমার কি করে হলো উমর! ”
শাশুড়ির এমন আচরনে কিছুটা গুটিয়ে গেল ইকরা। ব্যাপারটা বুঝতে পেরে উমর মায়ের উদ্দেশ্যে বলল,
“ আপনি শান্ত হোন আম্মাজান, আগে পুরো ঘটনা পুরোপুরি বুঝে নিন। ”
“ কি বুঝবো আমি? ঐ ছেলের সাহস কি করে হয় আমার ছেলের গায়ে হাত তোলার! ”
“ আজাদ অন্যায় করেছে বলেই তার গায়ে হাত তোলা হয়েছে। ”
“ কি এমন অন্যায় করে ফেলেছে। সবই তো শুনেছি আমি তোমার আব্বাজানের থেকে। ”
“ এতোবড় অপরাধ টা কি আপনাদের চোখে পড়ছে না আম্মাজান? অন্যের স্ত্রীর উপরে নজর দেয়া কি আপনার কাছে এইটুকু ব্যাপার মনে হচ্ছে? উনার ভাই যদি শাস্তি না দিতেন আমি নিজেই শাস্তি দিতাম আজাদকে। ওখানে ওর অবস্থা দেখে শুধু চুপ ছিলাম আমি। দয়া করে এ প্রসঙ্গে আর কোনো কথা বলবেন না। ”
উপস্থিত সকলে অবাক চিত্তে তাকিয়ে রইল সামনের পুরুষটির পানে। ফরিদা বেগম কণ্ঠ শৃঙ্গে তোলে বললেন,
“ প্রথম দিনেই বউয়ের আয় টানছ তুমি! বউ ঘরে প্রবেশ করার আগেই পরিবারের কথা ভুলে গেলে! ”
হতাশার নিঃশ্বাস ফেলল উমর। অত্যধিক মোলায়েম স্বরে বলল,

” আমি কাউকেই ভুলে যাইনি আম্মাজান। আপনার এখন মাথা গরম বুঝালেও বুঝবেন আপনি। পরে এ ব্যাপারে আপনার সাথে কথা বলব আমি। ”
একটু থেমে বলল,
“ কোনো নিয়ম পালন করবেন কিনা করুন। ”
“ কোনো নিয়মের দরকার নেই। তোমার বউ নিয়ে তুমি যেভাবে ইচ্ছে সেভাবেই ঘরে প্রবেশ করো। ”
বলেই হনহন করে স্থান ত্যাগ করলেন ভদ্রমহিলা। মায়ের প্রস্থান পানে চেয়ে চোখ বুজে শ্বাস টেনে নিল উমর। পরপর শান্ত কণ্ঠে ইকরার উদ্দেশ্যে বলল,
“ নিন হাত ধরুন, ভয় পাবেন না। এই হাতের মালিকের দেহে প্রাণ থাকা অব্দি আপনি নির্ভয়ে প্রতিটি কদম ফেলতে পারেন। এবার আল্লাহর নাম নিয়ে প্রবেশ করুন আপনার নতুন জীবন যাত্রায়। ”
শক্ত করে হাতখানা ধরল ইকরা। পরপর সৃষ্টিকর্তার নাম নিয়ে এগোতে স্বামীর সাথে।

এতদিনের হাসিখুশি, প্রাণবন্ত মির্জা বাড়িটা যেন আজ শুক নীড়ে পরিণত হয়েছে। চারিদিকে বিরাজ করছে এক অদ্ভুত বিষন্নতা। একে তো বাড়ির একমাত্র মেয়ের বিদায় সাথে একটু আগেই বাড়ির দুই কর্তা; খলিল মির্জা ও জলিল মির্জা রাত চারটার ফ্লাইটে আবারও সেই দূর প্রবাসে পাড়ি জমিয়েছেন। আর আরিবা ও আয়াত গতকাল ইকরার বিদায়ের পর পরই নিজেদের বাসায় চলে গেছে। সুতরাং জনমানবে পরিপূর্ণ বাড়িটা এখন প্রায় খালি বললেই চলে। দুই ভাইয়ের বিদায়ের পর বাড়ির কেউই আর ঘুমায়নি। ড্রয়িং রুমে বসে যে যার মতো নীরবতা পালন করেছে। যেই নীরবতার আড়ালে লুকিয়ে ছিল অদৃশ এক্য শূন্যতা।
এক পল ড্রয়িং রুমের নির্জীব সদস্যদের পর্যবেক্ষন করে নিজ কক্ষে চলে এসেছে কৃশান। ওসব বিদায়ের পর্ব তার মনে দাগ কেটেছে কিনা বুঝা মুশকিল। রুমে এসেই নিজের মতো ঘুমের রাজ্যে তলিয়ে গেছে সে। দেখে মনে হচ্ছে বেশ আরামের ঘুম দিয়েছে। নিত্যদিনের নিয়ম মাফিক ফজরের নামাজ ও কোরআন তেলাওয়াতের পর্ব চুকিয়ে আজকে আর বান্ধবীর সঙ্গে ছাদে যাওয়া হলো না হুমায়ররা। মলিন মুখ নিয়ে কক্ষে প্রবেশ করল সে। একবার মানুষটার ঘুমন্ত মুখপানে চেয়ে ওভাবেই হাঁটা ধরলো বারান্দার উদ্দেশ্যে। তবে তার অগোচরে একজোড়া চোখ ঠিকই দেখল তার মুখের মলিনতা।
বারান্দায় এসে মিঠুকে ঘুমন্ত অবস্থায় দেখে মন খারাপের মাত্রা আরও বেড়ে গেল হুমায়রার। এবেলায় দেয়ালের সাথে হেলান দিয়ে বসে পড়ল মেয়েটা। বিষন্ন চোখে তাকিয়ে রইল আকাশের পানে। মানস্পটে ভাসতে লাগল ইকরার সাথে কাটানো মুহূর্ত গুলো। নিয়ম করে সকাল- বিকাল একসাথে কাটানো স্মৃতিগুলো। সহসা পিছন থেকে ভেসে আসলো সুপরিচিত মানবের কন্ঠ,

“ এই হুজুরনী..? ”
অসময়ে মানুষটার কণ্ঠ পেয়ে নড়ে উঠল হুমায়রা। নিজেকে স্বাভাবিক করে ফিরে চাইল। মিহি স্বরে উত্তর করল,
“ হুম। ”
দরজার সাথে ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে কৃশান। দৃষ্টি হুমায়রার মুখপানেই নিবদ্ধ। যেখানে স্পষ্ট ফুটে উঠছে মলিনভাব। আজকাল সামনে থাকা এই রমণীর স্বাভাবিকতার আড়ালে থাকা সকল অনুভূতি খুব সহজেই ধরা পড়ে যায় কৃশানের কাছে। সেকি এখন মেয়েটাকে গভীর ভাবে পরখ করে? নাকি এমনিতেই বুঝে যায়?
“ আপনি এতো তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠে পড়লেন যে? ”
হুমায়রার কণ্ঠে ভাবনায় ছেদ পড়ল কৃশানের। জবাবে বলল,
“ এমনিই ঘুম আসছে না। তাই ভাবছি একটু হাঁটতে বেরোই। ”
হুমায়রার মনে হলো কৃশান মিথ্যে বলছে। তার খানেক লাল চোখ জোড়ায় স্পষ্ট ঘুমের রেশ দেখা যাচ্ছে। মনে হচ্ছে ঘুমের দরুণ চোখ খুলতেও কষ্ট হচ্ছে মানুষটার। নিজের চিন্তা ধারা চেপে রাখল মেয়েটা। ছোট শব্দে জবাব দিল,

“ ওহ। ”
কিয়ৎক্ষণ নীরব রইল পরিবেশ। কারও মুখ হতেই কোনো শব্দ নির্গত হলো না। অকস্মাৎ নিঃস্তব্ধ প্রকৃতির মাঝে ঝড় তুলে দেওয়ার মতো দুটো শব্দ উচ্চারিত হলো কৃশানের কণ্ঠনালি হতে,
“ তুই যাবি? ”
অপ্রত্যাশিত শব্দদ্বয় কর্ণকুহরে পোঁছাতেই থমকাল হুমায়রা। হকচকিত হলো পেলব কায়া। মনে হলো ভুল কিছু শুনেছে সে। তৎক্ষনাৎ চোখ তুলে সামনের মানবের পানে গভীর দৃষ্টি নিক্ষেপ করল। অনিশ্চিত কণ্ঠে বলল,
“ জ্বি…? ”
বিরক্ত হলো ছেলেটা। এমনিতেই মন মস্তিষ্কের বিরুদ্ধে গিয়ে কোনোমতে প্রস্তাব টুকু করেছে। এখন আবার এমন রিয়েকশন দেখে বলল,
“ ধুর,যেতে হবে না তোর বসে থাক এখানেই। ”
“ আরে না না, যাব তো আমি। একটু অপেক্ষা করুন আমি এক্ষুনি রেডি হয়ে নিচ্ছি। ”
চলন্ত পদ যুগল থামাল কৃশান। বলল,
“ তাড়াতাড়ি কর। ”

লোহার গেইটের সামনে দাঁড়িয়ে ফোন স্ক্রোল করছে কৃশান। অপেক্ষা করছে হুমায়রার আগমনের। মিনিট পাঁচেকের মধ্যেই তার অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বাড়ির ভিতর থেকে বেরিয়ে আসলো কাঙ্ক্ষিত রমণী। কুচকুচে কালো বোরকার আবরণে ঢাকা পড়েছে তার পুরো সত্ত্বা। শুধু নিকাবের ফাঁক দিয়ে উদিত হয়ে আছে এক জোড়া অতিশয় মায়াবী আঁখি। যার সুদীর্ঘ ঘন পল্লব ঝাপটে ঝাপটে তার দিকেই এগোচ্ছে সেই নারী।
“ চলুন। ”

কথার আওয়াজে সম্বিৎ ফিরল কৃশানের। তড়িৎ চোখ ফেরাল অন্যদিকে। হাতে মোবাইলটা রেখে দিল প্যান্টের পকেটে। অপর হাতে হুমায়রার পেলব হাত খানা মুঠোয় পুরে নিয়ে হাঁটা ধরল। হাঁটার মধ্যেই অবাক চিত্তে সেদিকে তাকিয়ে রইল হুমায়রা। মানুষটার বলিষ্ঠ হাতের পাঁচ আঙুলের ভাঁজে শান্ত হয়ে আছে তার চঞ্চল হাত খানা- দৃশ্যটা দেখতেই হৃদয় জুড়ে এক অদ্ভুত ভালোলাগার অনুভূতি খেলা করে গেল মেয়েটার।
আলো আঁধারের সংমিশ্রণে ভরপুর এক স্নিগ্ধ ভোর। জনমানবশূন্য এক মাটির রাস্তায় হেঁটে চলছে এক জোড়া কপোত কপোতী। রাস্তার দুপাশ জুড়ে আছে নানান ফসলের ক্ষেত। ক্ষণে ক্ষণে বিভিন্ন ফসলের ক্ষেত হতে আসা ভিন্ন ভিন্ন সুবাস ঠান্ডা বাতাসের সাথে মিশে তৈরি করছে এক অদ্ভুত সতেজতা। যা হৃদয় দুলিয়ে দিচ্ছে মানব মানবীর।
সহসা খানেক দূরের একটা সূর্যমুখী ফুলের ক্ষেতে চোখ আটকাল হুমায়রার। মুগ্ধ নয়নে সেদিকে তাকিয়ে মনে মনে বিড়বিড় করল,

“ মাশাআল্লাহ! ”
পরপর কৃশানের নির্লিপ্ত মুখপানে চাইল। কিয়ৎক্ষণ দ্বিধান্বিত চোখে চেয়ে বলল,
“ কোথায় যাচ্ছি আমরা? ”
” গন্তব্যহীন। ”
“ চলুন না ঐ ফুলগুলোর কাছে যাই? ”
হুমায়রার আঙুল অনুসরণ করে সেদিকে তাকাল কৃশান। একবার ফুলগুলোকে পর্যবেক্ষণ করে পূর্ণ দৃষ্টি নিক্ষেপ করল সামনের রমণীর পানে। সময় নিয়ে উত্তর করল,
“ যেখানে ইচ্ছা চল। ”
মানুষটার এমন স্বাভাবিক আচরনে খানেক অবাক হলো হুমায়রা। তবে ঠোঁটে হাসি ফুটল তার। নিকাবের আড়ালে থাকা সেই হাসি না দেখলেও মেয়েটার চোখের মাঝেই খুশির ঝিলিক দেখতে পেলো কৃশান। সাথে সাথেই হৃদ কোটরে এক পশলা সুখের দেখা মিলল। মস্তিষ্ককে উপেক্ষা করে হৃদয় হতে ধ্বনিত হলো কিছু শব্দ,
“ ঐ মায়াবী মুখের বিন্দুমাত্র মলিনতা
আমার পুরো হৃদয়ে বিষন্নতা বয়ে আনে…! ”

প্রকৃতির ক্যানভাসে আঁকা এক হলুদ স্বপ্নের বাস্তব চিত্র যেন সূর্যমুখী ফুলের বাগান। দূর থেকে দেখে মনে হচ্ছে, সবুজ মাঠের বুকে কেউ সোনালী গালিচা বিছিয়ে রেখেছে। প্রতিটি ফুল যেন সূর্যের পানে চেয়ে থাকা এক একটি উজ্জ্বল হাসি। বাতাসের আলতো দোলায় অগণিত সূর্যমুখী দোল খেয়ে যেন আগন্তুককে মুগ্ধতার আবেশে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে।
কৃশানের হাত ধরে তার পিছন পিছন প্রকৃতির এই মনোরম দৃশ্য দেখতে দেখতে সামনে এগোচ্ছে হুমায়রা। প্রতিটি কদম ফেলছে অধিক সতর্কতার সাথে। ক্ষেতের আইল গুলো এতটাই সরু যে,একটু এদিক সেদিক হলেই পড়ে যাওযার সম্ভাবনা আছে। এক পর্যায়ে কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যের কিছুটা সামনে এসে থেমে গেল কৃশান। থামল তার কদমের সাথে কদম মিলিয়ে চলা হুমায়রাও। সেখানে এসে পড়ল আরেক বিপাকে। সামনে এগোনোর মতো আর কোনো আইল নেই। যেটা ছিল সেটা ভেঙে কাঁদায় পরিণত হয়েছে।সাথে টইটুম্বুর করছে ঘোলাটে রঙের ময়লা পানি। কোনো মসৃন পা এই পানিতে ভিজলে অ্যাথলেটস বা ছত্রাকজনিত সংক্রমণ হবে নিশ্চিত। ব্যাপারটা লক্ষ্য করে পাশে থাকা হুমায়রার দিক তাকাল কৃশান। প্রশ্ন ছুঁডল,
“ যাবি…? ”
“ এতোবড় পথ এসে এইটুকুর জন্য ফিরে যাব? ”
“ এছাড়া আর কোনো উপায় দেখতে পাচ্ছিস তুই? ”
“ জুতো জোড়া এখানে খুলে রেখে চলুন যাই? পানি তো বেশি না পায়ের কব্জি অব্দি হবে শুধু। ”
” পাগলে পাইছে তোরে! এই পানি দিয়ে গেলে পায়ের কি হতে পারে ধারণা আছে তোর? এসবে অভ্যস্ত হলে নাহয় আলাদা ব্যপার ছিল। ”
“ আরে কিছু হবে না ইনশাআল্লাহ, চলুন না যাই। ”

অনুনয় করে বলল হুমায়রা। বিরক্তি চোখে কিছুক্ষণ মেয়েটার দিক তাকিয়ে রইল কৃশান। পরপর মাথা নিচু করে প্যান্ট গুটাতে লাগল। সন্তুষ্ট জনক হাসি ফুটলো হুমায়রার মুখে। দেরী না করে পায়ের জুতো জোড়া খুলে ফেললো সে। দুহাতে বোরকা উপরে তুলে পা বাড়াল। তবে রমণীর মসৃন পাদ্বয় মাটি ছুঁয়ার আগেই শূন্যে উঠে গেল। এক জোড়া বলিষ্ঠ হাতের আওতায় চলে এলো তার ছোট্ট দেহ খানা। ঘটনার আকস্মিকতায় কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে শক্ত করে কৃশানের গলা জড়িয়ে ধরল হুমায়রা। ভয়ে চোখ খিঁচে মুখ খুঁজে দিল মানুষটার বুকে। এর মাঝেই শুনতে পেল বড্ডো অনীহা নিয়ে বলা কিছু বাক্য,
“ এই নারীজাতি নিয়ে যেখানে যাও সেখানেই প্যারা! পরতে পরতে আবদার ছুঁড়বে পূরণ না করেও শান্তি নেই। আবার সবদিক দিয়ে এতটাই নাজুক যে, সামলে না রাখলেও বিপদ! ”
মানুষটার স্বরে স্বাভাবিক হলো হুমায়রা। মুখ তুলে চাইল তার মুখপানে। চাপা হাসি হেসে বলল,
“ আপনি কি কোনোভাবে আমার ব্যাপারে পসেসিভ? ”
“ আমি পুরোপরিভাবেই পসেসিভ। তবে সেটা তোর ক্ষেত্রে নয় নিজের ক্ষেত্রে। কারণ এখন তোর পায়ে কিছু হলে পরে আমাকেই সারাক্ষন তোকে কোলে নিয়ে ঘুরতে হবে। দীর্ঘক্ষণের জন্য না ভুগে ক্ষণিকের জন্যই নাহয় ভুগে নিলাম। ”
চোখ ছোট ছোট হয়ে গেল মেয়েটার। লোকটার সাথে কথা বলাই বেকার! কখনো কোনো প্রশ্নের সোজা উত্তর দিবে না। যত রকমের বাঁকা কথা আছে সব এই লোকের আন্ডারেই পাওয়া যাবে!

একেবারে সূর্যমুখী ফুলের পাশে এনে হুমায়রাকে কোল থেকে নামাল কৃশান। বলল,
“ নেহ, এবার যত ইচ্ছে দেখ। ”
মেয়েটার খুশি দেখে কে! তৎক্ষনাৎ হাত দিয়ে সবগুলো ফুল ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখতে লাগল সে। মুগ্ধ দৃষ্টিতে পরখ করতে লাগল ফুলের প্রতিটি অঙ্গ প্রত্যঙ্গকে। মুহূর্তেই হারিয়ে গেল সূর্যমুখীদের সৌন্দর্যের ভিড়ে। অন্যদিকে অগণিত সূর্যমুখীর ভিড়ে কৃশানের দৃষ্টি আটকে রইল এক জ্যান্ত সূর্যমুখীর পানে। যাকে নিখুঁত দৃষ্টিতে পর্যবেক্ষণ করে গেল তার শান্ত দুটি আঁখি। ওভাবেই কেটে গেল অনেকটা সময়। এবেলায় ফুল ছেড়ে হাসিখুশি চিত্তে কৃশানের নিকট এগিয়ে এলো হুমায়রা। সাথে সাথেই নজর সংযত করে নিল কৃশান। অতোকিছু লক্ষ্য করল না মেয়েটা। বলল,
“ চলুন এবার ফিরে যাই। ”
” ফুল নিবি না? ”
হুমায়রার খালি হাতের দিক তাকিয়ে অবাক স্বরে বলল কৃশান। পৃষ্ঠে ভেসে আসলো রমণীর নরম স্বর,

“ না এগুলো কার না কার ফুল, অনুমতি ছাড়া নেওয়া যাবে না। ”
“ তাহলে এতো কষ্ট করে এখানে আসার মানে কি! ”
“ অনেক মানে আছে আপনি বুঝবেন না! চলুন তো। ”
কে শুনে কার কথা! হুমায়রার কথা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে ফুল ছিঁড়তে উদ্যত হলো ছেলেটা। ওমনিই আঁতকে উঠল রমণী। সতর্ক কণ্ঠে বলল,
“ হায় আল্লাহ, অনুমতি ছাড়া পারলে সেটা চুরি হয়ে যাবে। আমি চুরির জিনিস নিব না। ”
থেমে গেল কৃশান। সেটা দেখে যেই না একটু নিশ্চিত হতে নিবে মেয়েটা তখনি তাকে অবাক করে দিয়ে ফাঁকা ক্ষেতের মাঝে গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে উঠল কৃশান,
“ কইরে সূর্যমুখী ক্ষেতের কামলা সূর্য, তোর ক্ষেতের থেকে দুটো ফুল নিলাম। ”
টুপ করে দুটো ফুল ছিঁড়ে নিল। পরপর সেগুলো হুমায়রার দিক বাড়িয়ে দিয়ে নির্লিপ্ত কণ্ঠে বলল,

হৃদয় রাঙানো প্রেম পর্ব ২৬

“ এবার কিন্তু আমি অনুমতি নিয়ে পেরেছি সুতরাং ক্ষেতের মালিক না শুনলে সেটা তার দোষ। এখানে আমার কোনো চুরির দায় নেই! ”
কিয়ৎক্ষণ মানুষটার পানে ড্যাবড্যাব করে চেয়ে থেকে শব্দ করে হেসে উঠল হুমায়রা। নীরব প্রকৃতির মধ্যে সেই হাসির শব্দ যেন অপরূপ কোনো বাদ্যযন্ত্রের সুর হয়ে ছড়িয়ে পড়ল। দিন, ক্ষণ, অবস্থান সবকিছু ভুলে মন্ত্রমুগ্ধের ন্যায় সেদিকে তাকিয়ে রইল কৃশান।

হৃদয় রাঙানো প্রেম পর্ব ২৮

2 COMMENTS

  1. Ajker episode ato choto kno… 😞
    3 din wait koriye 1 ta episode. Ata kintu vison onnay apu.😞.. Plz apu regular 1 ta kore episode dio…

Comments are closed.