হ্রদয়ামিলন দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ পর্ব ৩০ (৪)
সাবা খান
আর ঠিক সেই মুহূর্তে আয়ানের পৃথিবীটা দুলে উঠল। তার হাত থেকে বাচ্চাগুলো পড়ে যাওয়ার আগেই পাশের নার্স দ্রুত ধরে ফেলল। আয়ান স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল কিছুক্ষণ। তার চোখদুটো বিস্ফোরিত, মুখ শুকিয়ে গেছে আতঙ্কে। সে যেন বুঝতেই পারছে না ঠিক কী হয়েছে। কিছু হারানোর ভয় তার বুকের ভিতরটা খামছে ধরেছিল। পরমুহূর্তেই সে দৌড়ে গেল রিয়ানার কাছে,
–“রিয়ানা…?”
আজ আর বিপীীতে কোনো সাড়া নেই। সে কাঁপা হাতে রিয়ানার গাল স্পর্শ করল। নিজের রুদ্ধ হয়ে আসা কণ্ঠে শুধালো,
–“কল্পবাসিনী… উঠো… দেখো আমি এসেছি… দেখো আমাদের বাচ্চারা এসেছে”
বিপক্ষে নীরবতা ছাড় আর কিছুই ভেসে আসলো না। আয়ান এবার তাকে ঝাঁকাতে শুরু করল,
–“রিয়ানা, উঠো, প্লিজ উঠো। তুমি তো বলেছিলে আমাকে একা ছেড়ে যাবে না। দেখো আমি বাবা হয়েছি… তুমি তো দেখতে চেয়েছিলে না?”
আয়ানের গলা ভেঙে আসছে। সে রক্তবমিতে ভেজা মেঝের ওপর হাঁটু গেড়ে বসে পড়ল। একবারও চারপাশের রক্তের দিকে তাকাল না। রিয়ানাকে শক্ত করে বুকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কেঁদে উঠল সকলের সামনে,
–“না, না, তুমি এভাবে যেতে পারো না। কল্পবাসিনী… আমি তো এখনো তোমাকে ঠিকভাবে ভালোবাসতেই পারলাম না…তুমি আমাকে সুযোগই দিলে না”
তার কান্না পুরো আইসিইউ কাঁপিয়ে তুলছিল কিন্তু সে থামল না,
–“একবার চোখ খোলো… শুধু একবার…আমি আর কিছু চাইব না…তুমি অন্য কাউকে ভালোবাসো তবুও সমস্যা নেই… তবুও থেকো…শুধু থেকো…আমাকে এভাবে শাস্তি দিও না। আমি তো তোমার জন্য সব করতে রাজি ছিলাম। তুমি চাইলে আমি পুরো পৃথিবীর সাথে যুদ্ধ করতাম। তাহলে কেন গেলে?… কেন?”
চারদিকে দাঁড়িয়ে থাকা সকল ডক্টর নার্সদের চোখে জল জমে গেল আয়ানের করা আহাজারি শুনে। আয়ান সেই সব কিছুর তোয়াক্কা না করে দিক্বিদিক হারিয়ে রিয়ানার মুখে অসংখ্য চুমুতে ভরিয়ে দিয়ে আওড়ায়,
–“তুমি ভীষণ স্বার্থপর ছিলে কল্পবাসিনী। আমার কথা না ভাবতে অন্তত আমাদের বাচ্চাদের কথা একবার ভেবে থেকে যেতে, আমি অন্যের জেনেও আগলে রাখতাম”
দরজার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আরজের শ্বাস আটকে আসছিল। তার ছোট বোনটা যাকে সে দূর থেকে সব সময় আগলে রেখেছে সেই মেয়েটা আজ নিথর হয়ে পড়ে আছে। আরজের চোখদুটো লাল হয়ে উঠল। সে দেয়ালে হাত রেখে দাঁড়িয়ে রইল। মনে হচ্ছে তার বুকের ভেতর কেউ ধারালো কিছু দিয়ে ক্রমাগত আঘাত করছে।
আর ঠিক তখনই তার পাশ কাটিয়ে সোফিয়া জাওয়ান ধীরে ধীরে এগিয়ে এলেন। তার শক্ত, কঠোর ব্যক্তিত্ব যেন মুহূর্তে ভেঙে গুঁড়িয়ে গেছে। তিনি কাঁপা হাতে রিয়ানার কপালে হাত রাখলেন। অনুভূত হয় ঠান্ডা, নিস্তেজ কিছু। সোফিয়ার বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠল। তিনি বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না, তার মেয়ে, তার রক্ত এভাবে নিথর হয়ে আছে। এজন্যই কি আজ তার মনটা কু গাইছিল। সত্যিই কি সে মা হিসেবে কোন দায়িত্বই পালন করেনি?
করেছিল তো, কিন্তু দূর থেকে। সোফিয়া মূলত চেয়েছিল তার আরেকটা সন্তান হোক আরজের মতো। যাকে সে ঠিক আরজের মতো গড়ে তুলবে এবং ইকবালকে খুশি করবে। ইকবাল যা যা চায় সব কিছু তার পায়ে এনে রাখবে। কিন্তু রিয়ানা হওয়াতে তার যেন সেই ইচ্ছাটা পূরণ হওয়ায় একটা বাঁধা খায়। সেজন্য কি ক্ষোভ থেকে সন্তানকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে?
নাকি অবজ্ঞা থেকে?
রিয়ানা কে ছোটবেলায় সেই হোস্টেলে রেখে আসার পর কি কোনদিনও সোফিয়া সেদিকে যায়নি?
গিয়েছে তো, রিয়ানার অগোছরে দূর থেকে ঘন্টার পর ঘন্টা মেয়ের দিকে তাকিয়ে থাকতো। কিন্তু কোনদিনও কাছে আসেনি, বা কাছে যায়নি। কি করবে, মাতৃমন না কাছে যেতে পারছে আর না দূরে যেতে। রিয়ানা শুরু শুরুতে হোস্টেলে ওঠার পর তাকে বোলিং এর শিকার হতে হয়েছিল। যদিও শুরুতে সোফিয়া তার সম্বন্ধে জানতে পারেনি। পরবর্তীতে জানার পর যারা তাকে বুলিং করেছে তাদের কে নিজ হাতে খুন করেছে সোফিয়া। আজ সেই স্মৃতিগুলো স্মৃতিস্পটে ভেসে উঠতেই সারা শরীরটা কেঁপে উঠলো সোফিয়ার। মেয়েটাকে সে কত অবজ্ঞা করেছে। আর মেয়েটা তার সান্নিধ্য পাওয়ার জন্য তার থেকে একটু ভালোবাসার জন্য শেষমেষ তার সঙ্গে পাপের জগতে ডুব দিয়েছে। সোফিয়া সবটাই বুঝতে পেরেছিল কিন্তু কেন জানি তার ভিতরে থাকা অনুভূতিগুলো ততদিনে মরে গেছে।
তিনি হঠাৎ রিয়ানার হাত নিজের বুকের কাছে টেনে নিয়ে কাঁপা গলায় ডাকলেন,
–“রিয়ানা… মা…”
বিপরীতে কোনো সাড়া নেই। জীবনে প্রথমবার সোফিয়ার কণ্ঠে মাতৃত্বের কোমলতা ফুটে উঠল,
–“মা… একবার চোখ খোল…দেখো, আমি এসেছি…তোমার মম এসেছে…”
তার চোখ ভিজে গেল অজান্তেই। অঝোর ধারায় জল গড়িয়ে পড়তে লাগল,
–“আমি তোমাকে কোনোদিন ভালোবাসতে পারিনি মা…আমি খুব খারাপ মা ছিলাম তাইনা। তার জন্য মাকে এত বড় শাস্তি দিলে বুঝি?
তুমি ছোটবেলায় কতবার আমার কোলে আসতে চেয়েছিলে… আমি তোমাকে দূরে সরিয়ে দিয়েছি”
তিনি কাঁদতে কাঁদতে রিয়ানার চুলে হাত বুলিয়ে দিলেন,
–“একবার মম বলে ডাকবে আমায়, শুধু একবার…”
কিন্তু কাতর ভরা ডাকে আজ আর কোনো সন্তান সাড়া দিল না। আইসিইউর সাদা দেয়ালজুড়ে শুধু কান্নার শব্দ প্রতিধ্বনিত হতে লাগল।
মেঘে ঢাকা সকালটা তখন ধীরে ধীরে পরিষ্কার হতে শুরু করেছে। চারপাশে অদ্ভুত এক নিস্তব্ধতা। বাতাসে ভেজা মাটির গন্ধ, কবরস্থানের পুরোনো গাছগুলোর পাতায় জমে থাকা শিশিরের মতো নীরবতা আর কোথাও কোথাও শুকনো পাতার মচমচ শব্দ সব মিলিয়ে পরিবেশটা যেন কোনো মৃত স্মৃতির দীর্ঘশ্বাস হয়ে ঝুলে আছে। রিয়ানার কবরের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলো যেন প্রত্যেকে নিজ নিজ যন্ত্রণার গভীর সমুদ্রে ডুবে আছে।
হঠাৎ ‘ধপ’ একটা ভারী শব্দ হতেই আয়ান চমকে পিছনে ফিরে তাকাতেই নজরে আসে পিছনের দৃশ্য। সানা আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারেনি। মুখের সমস্ত রক্ত সরে গিয়ে নিস্তেজ শরীরটা ঢলে পড়েছে মাটিতে। যেন এতক্ষণ ধরে নিজের ভেতরে জমে থাকা সমস্ত শোক, সমস্ত মানসিক চাপ এক মুহূর্তে তাকে ভেঙে চূর্ণবিচূর্ণ করে দিয়েছে। তবে মাটি স্পর্শ করার আগেই একজোড়া হাত তাকে তৎক্ষনাৎ ধরে ফেললো। আরজে অস্থির কণ্ঠে ডেকে ওঠে,
–“ওয়াইফি”
সে বারবার গালে হালকা চাপড় মারতে মারতে অস্থির স্বরে ডাকতে থাকে,
–“ওয়াইফি… গেট অফ, হেই চোখ খোলো”
আয়ান তখনও স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। ঠিক তখনই ছোট ছোট পায়ের শব্দ তুলে কিয়ান আর কিয়ারা দৌড়ে এসে থেমে যায় আরজের সামনে,
–“মামা”
আরজে নিজের ভেতরের সমস্ত ঝড় লুকিয়ে ঠোঁটে একটুকরো হাসি টেনে তারপর ধীরে মাথা তুলে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এসপির দিকে তাকিয়ে কিছু একটা ইশারা করে। এসপি বুঝে এক মুহূর্ত দেরি না করে এগিয়ে আসে। নিঃশব্দে কিয়ান আর কিয়ারাকে কোলে তুলে নেয়। কিয়ারা কাঁদো কাঁদো গলায় বলে ওঠে,
–“আমি মাম্মামের কাছে থাকবো..”
এসপি মৃদু স্বরে বলে,
–“মাম্মাম ঠিক আছে, লিটল গার্ল চল”
তারপর আরজে সানাকে কোলে তুলে নেয়।
বেরিয়ে যাওয়ার ঠিক আগে সে একবার পিছনে তাকায়। তার সেই রক্তচক্ষুর মতো ভয়ংকর দৃষ্টি জোড়া গিয়ে থামে সারহাদের উপর। যেন চোখ দিয়েই ছিন্নভিন্ন করে ফেলবে তাকে। সেই দৃষ্টিতে ছিল অভিযোগ, ঘৃণা, ক্রোধ আর বহু বছরের জমে থাকা অভিমান। কিন্তু আশ্চর্য জনক ভাবে, সারহাদের যেন সেদিকে কোনো খেয়ালই নেই। সে এখনও পাথরের মতো দাঁড়িয়ে আছে, নিশ্চুপ, স্তব্ধ। তার চোখ দুটো স্থির হয়ে আছে শুধু একটা নামের উপর,
“রিয়ানা জাওয়ান”
আরজে দাঁত চেপে মুখ ফিরিয়ে নেয়। তারপর দ্রুত পায়ে সানাকে নিয়ে বেরিয়ে যায়। এসপিও কিয়ান আর কিয়ারাকে নিয়ে তাদের পিছু নেয়। চারপাশ আবার নিস্তব্ধ হয়ে পড়ে শুধু বাতাস বইছে ধীরে। এতক্ষণ মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে থেকে সবটা শুনে যাওয়া সারহাদ এবার ধীরে ধীরে এগিয়ে আসে। আয়ান তাকে দেখে খুব অল্প করে সরে দাঁড়ায়। সারহাদ এগিয়ে এসে ঠিক সেই জায়গাটায় দাঁড়াতে যাচ্ছিল যেখানে এতক্ষণ আয়ান বসেছিল। কিন্তু পরমুহূর্তেই আয়ানের চোখের দিকে তাকিয়ে থেমে যায়। সেই দৃষ্টিতে কিছু একটা ছিল, একটা অদ্ভুত তীব্রতা। অধিকার?
নাকি মৃত ভালোবাসার ভয়ংকর ক্লান্তি?
সারহাদ কিছু না বলে নিজে থেকেই এক পা পিছিয়ে দাঁড়ায়। কারণ সে আয়ানের চোখের ভাষা বুঝতে পেরেছে, এই জায়গাটা এখনো আয়ানের, রিয়ানার মৃত্যুর পাঁচ বছর পরেও। কবরের ওপরে ঝরে পড়া প্রতিটা শুকনো পাতার মতোই সে এখনো রিয়ানাকে আঁকড়ে বেঁচে আছে। সারহাদ কোনো শব্দ প্রকাশ করল না। কি বলবে সে?
ক্ষমা?
সমবেদনা?
নাকি সেই নিষ্ঠুর সত্য, যে মেয়েটা তার জন্য সারাজীবন পুড়েছে, তাকে সে কখনোই নিজের করে নেয়নি?
কোনো শব্দই উপযুক্ত মনে হলো না। আয়ানও আর কিছু বলল না। কিন্তু ঠিকই মনে মনে তাচ্ছিল হেসে আওড়ায়,
–“কল্পবাসিনী,
ভাবছি জীবিত থাকতে আমি যদি আপনাকে
অন্য কারো সাথে দেখতাম, কিভাবে সহ্য করতে পারতাম, বলুন তো?
যেখানে আপনার মৃত্যুর পরও আপনার কবরের পাশে কোন পর পুরুষকে দেখলে আমার বুকের বাঁ পাশে অদ্ভুত এক চিনচিনে ব্যথা শুরু হয়ে যায়”
আয়াব একটা দীর্ঘ শ্বাস ছেড়ে উল্টো ফিরে কদম বাড়ানোর আগে আবার কি ভেবে রিয়ানার কবর টার দিকে তাকাতেই নজরে আসে সকালের হালকা রুদ্রের কারনে সারহাদের ছায়াটা একটু তীর্যক বেঁকে রিয়ানার কবরটার একপাশে পায়ের দিকটা একটু পড়ছে। সে কিছুক্ষণ সেদিকে তাকিয়ে থাকলো। কেন জানি তার এই বিষয়টাও পছন্দ হচ্ছে না তবে আর বেশি কিছু বলল না উল্টো ফিরে যেতে যেতে শুধু মনে মনে আওড়ায়,
–“আপনি মাটির নিচে শুয়ে আছেন, তবু আমার ভেতরের অধিকারবোধ এখনো জীবিত। এখনো মনে হয়, আপনার নীরব কবরটুকুর উপরেও শুধু আমারই ছায়া পড়ার কথা ছিল। বড় অদ্ভুত না?
মানুষ কখনো কখনো মৃত্যুকেও মেনে নিতে পারে…কিন্তু প্রিয় মানুষের উপর অন্য কারও উপস্থিতি সেটা কোনোদিনও নয়”
আয়ান ধীরে ধীরে কবরস্থান থেকে বেরিয়ে নিজের গাড়ির সামনে এসে থামে সে। ফ্রন্ট সিট খুলে ভিতরে হাত ঢুকিয়ে একটা ছোট্ট সিক্রেট বক্স বের করে। তারপর খুব যত্ন করে বের করে আনে কালো মলাটের সেই ডায়েরিটা। সেই ডায়েরি যেটার প্রতিটা পাতায় রিয়ানা নিজের হৃদয় রক্তাক্ত করে লিখেছিল এক শ্যাম পুরুষের নাম। “সারহাদ”
ডায়েরিটার উপর আঙুল বুলিয়ে দেয় আয়ান। তার চোখ বন্ধ হয়ে আসে ধীরে। তারপর নিচু স্বরে আওড়ায়,
–“কল্পবাসিনী… আপনার জীবনের একমাত্র ডায়েরিটা সম্পূর্ণ আরেক পুরুষকে নিয়ে লিখা”
একটা ফাঁকা ঢোক গিলে নেয় সে। তারপর কাঁপা হাসি হেসে ফের বলে,
–“আমার জায়গা হয়েছে শেষ পৃষ্ঠার মাত্র একটা লাইনে। জানেন… এই পাঁচ বছরে রোজ নিয়ম করে আমি ওই লাইনটা পড়েছি হাজার বার”
ডায়রিটা খুলে শেষ পৃষ্ঠায় গিয়ে আবারও সেই লাইনে দৃষ্টিপাত করল,
“আই উইশ আয়ান, তুমি আমার অভ্যাসে পরিণত না হয়ে ভালোবাসায় পরিণত হতে। তাহলে আমাদের একটা সুখের সংসার হতো। অথচ তুমি অভ্যাসই রয়ে গেলে আর আমি এক শ্যাম পুরুষের মায়াতে আটকে রয়ে গেলাম। আমার পাপিষ্ঠ জীবনের সবচেয়ে বড় শাস্তি, তোমাকে ভালোবাসতে না পারা, আয়ান”
কথাগুলো পড়তে পড়তে আয়ানের ঠোঁট কেঁপে ওঠে। মনে হয় কেউ যেন তার বুকের ভিতরটা ধীরে ধীরে ছিঁড়ে ফেলছে। কিন্তু তবুও তবুও সেই মৃত মেয়েটার উপর তার কোনো অভিযোগ নেই, একটুও নেই। আয়ান ধীরে ধীরে শেষ পাতাটা ছিঁড়ে নিজের পকেটে রেখে দেয়। কারণ এই এক লাইন, এই একটুকু জায়গা শুধু তার, শুধু আয়ানের। তারপর সে আবার হেঁটে সারহাদের সামনে এসে দাঁড়ায়। সারহাদ স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে এখনো সামনে। আয়ান কিছু না বলে শুধু কালো ডায়েরিটা এনে কবরের দেয়ালের এক পাশে রেখে দেয়। তারপর অশ্রুসজল চোখটা হাতের পিঠ দিয়ে মুছে ধীরে ধীরে ফিরে যায়। সারহাদ স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে কিছুক্ষণ। বাতাসে কবরের পাশের শুকনো ফুলগুলো নড়েচড়ে ওঠে। তারপর সে ধীরে ধীরে হাত বাড়িয়ে ডায়েরিটা তুলে নেয়। কালো মলাটে আঙুল ছোঁয়াতেই বুকের ভিতরটা কেমন অদ্ভুতভাবে কেঁপে ওঠে তার। কেন?
সে জানে না। সারহাদ ধীরে ধীরে ডায়েরিটা খুলে। আর পরমুহূর্তেই তার চোখ আটকে যায়…..
সকালের আকাশটা সেদিন অদ্ভুত রকমের বিষণ্ন ছিল। মেঘগুলো যেন স্তব্ধ হয়ে ঝুলে আছে নগরীর মাথার উপর। কোথাও কোনো বজ্রপাত নেই, তবুও চারপাশে চাপা এক ভারী আবহ যেন প্রকৃতিও আজ কোনো অদৃশ্য শোক বুকে নিয়ে নিশ্চুপ হয়ে গেছে। দূরের কাঁচের অট্টালিকাগুলোর গায়ে ধূসর আলো লেপ্টে আছে, এরিমধ্যে ঢাকার অভিজাত প্রাইভেট হাসপাতালের দশম তলার একটি নির্জন কক্ষে তখন নিস্তব্ধতা জমাট বেঁধে আছে।
সাদা ধবধবে বেডের উপর নিস্তেজ হয়ে শুয়ে আছে সানা। তার মুখটা কেমন ফ্যাকাশে হয়ে আছে। মনে হচ্ছে বহুদিন ধরে সে ঠিকমতো ঘুমায়নি। সারা ললাট জুড়ে এলোমেলো চুলগুলো লেপ্টে আছে। মাঝে মাঝে তার শ্বাসগুলো কেঁপে উঠছে খুব ধীরে ধীরে, যেন ভিতরে এখনো কোনো গভীর মানসিক ঝড় চলমান। কবরস্থানে জ্ঞান হারানোর পর বেশ অনেকক্ষণ পর তার জ্ঞান ফিরেছিল। কিন্তু তবুও আরজে কোনো ঝুঁকি নিতে চায়নি। সে এক মুহূর্ত সময় বিলম্ব না করে সানাকে সরাসরি হসপিটালে নিয়ে এসেছে।
এই মুহূর্তে মাঝবয়সী ডক্টর আনোয়ারা খুব মনোযোগ দিয়ে সানাকে পরীক্ষা করছেন। কখনো তার পালস দেখছেন, কখনো স্টেথোস্কোপ বুকে চেপে শুনছেন হৃদস্পন্দন। আবার কখনো রিপোর্টের দিকে তাকিয়ে কিছু হিসাব মিলাচ্ছেন। আরজে সানার একেবারে পাশে বসে আছে। তার ডান হাতটা শক্ত করে ধরে রেখেছে নিজের বলিষ্ঠ পুরুষালী দুই হাতের মাঝে। এমনভাবে ধরে আছে যেন হাতটা ছেড়ে দিলেই মানুষটা হারিয়ে যাবে। তার চেহারার দিকে তাকালেই বোঝা যাচ্ছে সে ভেতরে ভেতরে কতটা বিচলিত।
ডক্টর আনোয়ারা ইতোমধ্যে তাকে কয়েকবার বাইরে যেতে বলেছেন। কিন্তু আরজে সরাসরি না করে দিয়েছে তার মুখের উপর,
–“আ’ম নট গোয়িং এনিহোয়ার। আমি এখানেই থাকবো আমার ওয়াইফির পাশে”
তার এমন জোরদার কণ্ঠের বিপরীতে ডাক্তার শেষ পর্যন্ত দীর্ঘশ্বাস ফেলে চুপ হয়ে যান। আরজে এক দৃষ্টিতে সানার মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। যেন চোখজোড়া দিয়েই অন্তরাত্ম পর্যন্ত পড়ে নিতে চাইছে মেয়েটার। আরজে আলতো করে সানার আঙুলে চুমু খেয়ে খুব নিচু স্বরে বিড়বিড় করে আওড়ায়,
–“ওয়াইফি… ওয়াইফি… প্লিজ ডোন্ট স্কেয়ার মি লাইক দিস”
তার বিড়বিড়ানো কি শুনলো বিপরীতের রমণী?
শুনলো তো। এজন্যই সে এতক্ষণের বন্ধ করে রাখা আঁখিজোড়া তুলে ধীরে ধীরে তার দিকে তাকায়। রমণীর চোখ দুটো এখনো অশ্রুসজল। রিয়ানার কথা মনে পড়তেই বুকের ভেতরটা আবার মোচড় দিয়ে ওঠে তার। সে ঠোঁট নাড়িয়ে কিছু বলতে গিয়েও থেমে যায় কেননা কিছু কথা থাকে যেগুলো ভাষায় প্রকাশ করা যায় না শুধু অনুভব করা যায়। আরজে তাকে চোখ খুলতে দেখেই সঙ্গে সঙ্গে ঝুঁকে আসে তার দিকে। অতঃপর চিন্তিত স্বরে প্রশ্ন ছুড়ে,
–“কোথাও পেইন হচ্ছে?
মাথা ঘুরছে?
শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে?”
এক নিঃশ্বাসে প্রশ্নগুলো করে ফেলে সে। সানা আরজের এমন পাগলামি দেখে দুর্বল হেসে খুব আস্তে মাথা নাড়িয়ে শুধালো,
–“আমি ঠিক আছি…’
কিন্তু বিপক্ষে মানব যেন বিশ্বাসই করতে পারছে না। তাই সে সানাকে নয় ডাক্তার কেই গম্ভীর কণ্ঠে জিজ্ঞেস করে,
—“ডক্টর,চেক এগেইন, শি’জ ওকে, রাইট?”
বিপরীতে ডক্টর আনোয়ারা কিছু না বলে এবার হালকা হেসে ফেলেন। তিনি কিছুক্ষণ রিপোর্টের দিকে তাকিয়ে থাকেন। তারপর ধীরে ধীরে ঠোঁটের কোণে কিঞ্চিৎ হাসি ফুটিয়ে চশমাটা খুলে টেবিলের উপর রাখেন। তারপর দাঁড়িয়ে আরজের দিকে তাকিয়ে চোখে মুখে উচ্ছ্বাস নিয়ে বলেন,
–“কনগ্র্যাচুলেশন, মিস্টার জাওয়ান…”
এটুকু বলেই তিনি থেমে যান। এদিকে আরজে ও সানা দুজনেই স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তার দিকে। মূলত তারা দুজনেই বুঝতে পারছে না ডাক্তার কোন অভিসন্ধিেতে তাদের অভিনন্দন জানাচ্ছে। তারপর ডক্টর আনোয়ারার অভিজ্ঞ চোখ ক্ষনিকের মধ্যে দৃষ্টি বুঝে মৃদু হেসে বাকি বাক্যটা সম্পন্ন করেন,
–“শি ইজ প্রেগন্যান্ট”
ব্যাস, মাত্র ডাক্তারের মুখ থেকে নিঃসৃত হওয়া এই একটা বাক্য। কিন্তু সেই একটা বাক্য যেন নিস্তব্ধ কক্ষটার ভিতর হঠাৎ বোমা বিস্ফোরণের মতো আছড়ে পড়ল। সময় যেন থমকে গেল দুই কপোত-কপোতীর জন্য। সানার চোখ বিস্ময়ে বড় হয়ে ওঠে সাথে তার অল্পের জন্য নিঃশ্বাস আটকে আসার জোগাড় হয়েছিল বটে। দুজনেই নির্বাক হয়ে তাকিয়ে আছে ডক্টরের দিকে। যেন বাক্যটুকু শ্রবণ ইন্দ্রিয়ই হয়নি ঠিকভাবে কিংবা শব্দগুলো এখনো মস্তিষ্ক বেদ করে পৌঁছায়নি। ডক্টর আনোয়ারা তাদের মুখের অভিব্যক্তি দেখে মৃদু হেসে ফেলেন। তার অভিজ্ঞ মস্তিষ্ক বুঝতে পারেন এই মুহূর্তটা শুধুই তাদের। তাই আর কিছু না বলে ধীরে ধীরে ফাইলটা টেবিলে রেখে বেরিয়ে যান।
ডক্টর আনোয়ারা কক্ষ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর পুরো রুমটাতে এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতা নেমে এলো। এমন এক নীরবতা, যেখানে অদৃশ্যভাবে নতুন জীবনের প্রথম স্পন্দন ধ্বনিত হচ্ছে। হাসপাতালের সাদা দেয়ালগুলোতেও যেন আজ অন্যরকম কোমলতা লেগে আছে। কাচঘেরা জানালার ওপারে ঢাকা শহরের আকাশ তখন মেঘলা হয়ে আছে। দূরে কোথাও টিপটিপ বৃষ্টি নামছে হয়তো, কারণ কাঁচের গায়ে জমে থাকা কুয়াশা ধীরে ধীরে নেমে আসছিল নিচের দিকে। এসির ঠাণ্ডা বাতাসে সানার খোলা চুলগুলো সামান্য উড়ছে। মনিটরের ক্ষীণ বিপ্ বিপ্ শব্দটা পর্যন্ত আজ কেমন সুরেলা লাগছে তাদের কাছে। মনে হচ্ছে এই কক্ষের ভিতরেই পৃথিবী থমকে গেছে দুই কপোত-কপোতীর জন্য। আরজে এখনও স্থির হয়ে বসে আছে। তার চোখ দুটো স্থির যেন সে এখনো ঠিক বিশ্বাস করতে পারছে না ডাক্তারের বলা বাক্যটা,
“শি ইজ প্রেগন্যান্ট…”
বরং কথাটা বারবার প্রতিধ্বনিত হচ্ছে তার কানে। সে বাবা হতে চলেছে, সে… বাবা। শব্দটা ভাবতেই বুকের ভিতর অদৃশ্য একটা অনুভূতি খেলে যায়। এই মানুষটা, যে সারাজীবন নিজেকে শুধু অন্ধকার, রক্ত আর প্রতিশোধের সঙ্গে জড়িয়ে রেখেছিল, সেই মানুষটার জীবনেই আজ আরেকটা ছোট্ট প্রাণ আসছে, তার নিজের অংশ। তার আর সানার ভালোবাসার স্পন্দন।
এদিকে সানার গলা শুকিয়ে আসছে। তার চোখ দুটো টলমল করতে লাগল অদ্ভুত এক আবেগে। আরজে ধীরে ধীরে সানার পাশে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ে। অনেকক্ষণ দুজনের মধ্যে কোনরূপ কথপোকথন হলো শুধু তাকিয়ে ছিল একে অপরের দিকে। তারপর হঠাৎই আরজে নিজেকে আর সামলাতে না পেরে শক্ত করে সানাকে জড়িয়ে ধরে। এতটাই শক্ত করে যেন সমস্ত পৃথিবী থেকে আগলে রাখতে চায় তাকে। সানা হালকা চমকে ওঠে। তবে তার তোয়াক্কা না করে আরজে তার মুখে, কপালে, চোখে, গালে অসংখ্য চুমু এঁকে দিতে থাকে এলোমেলোভাবে। উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে বলতে শুরু করে,
–“থ্যাংকস্ ওয়াইফি, থ্যাংকস আ লট”
–“ইউ হ্যাভ নো আইডিয়া আমি কতটা হ্যাপি”
–“ওহ গড… আম গোয়িং টু বি আ ফাদার..”
তার কণ্ঠের এমন শিশুসুলভ উচ্ছ্বাস হয়তো সানা জীবনে প্রথমবার দেখছে। তাই সে অবাক করা দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তার দিকে। এ কোন আরজে কে দেখছে সে?
তবে তাকে কোনরূপ বাঁধাও প্রদান করলো না। এদিকে আরজে যেন সত্যিই হাতের মুঠোয় চাঁদ পেয়ে গেছে। এবার সানার ঠোঁটের কোণেও ধীরে ধীরে হাসি ফুটে ওঠে। এতদিন পর সে আরজেকে এভাবে নিঃস্বার্থ আনন্দে ভেঙে পড়তে দেখছে। আরজে আবার তাকে জড়িয়ে ধরে আদুরে গলায় বলে ওঠে,
–“ওয়াইফি… ইউ আর মাই বেস্টেস্ট গার্ল…”
–“মাই লাভ, মাই লিটল মুন, মাই হার্ট এন্ড এভরিথিং”
সানা আরজের পাগলামো দেখে ঠোঁটের কোণে কিঞ্চিৎ হাসি ফুটিয়ে চোখ নামিয়ে ফেলে। তার চোখের কোণ ভিজে উঠছে ধীরে ধীরে। এই মানুষটা তাকে এমনভাবে ভালোবাসে যেন পৃথিবীতে তার চেয়ে মূল্যবান আর কিছু নেই। হঠাৎই আরজে নিচে নেমে আসে। ধীরে ধীরে সানার উদরের সামনে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ে। তারপর খুব সাবধানে কান পেতে দেয় সেখানে। যেন সত্যিই সে ভিতরের ক্ষুদ্র প্রাণটার শব্দ শুনতে পাবে। পরমুহূর্তেই সে অত্যন্ত গম্ভীর ভঙ্গিতে বলে ওঠে,
–“হ্যালো লিটল প্রিন্সেস হার্ট… আম ইউর পাপা… ক্যান ইউ হিয়ার মি?”
সানা প্রথমে কিছুক্ষণ বোকার মতো তাকিয়ে থাকে। তারপর চোখ বড় বড় করে বলে ওঠে,
–“আপনি কিভাবে জানেন এটা প্রিন্সেস হবে?
প্রিন্সও তো হতে পারে”
আরজে ধীরে মাথা তুলে তাকায় তার দিকে। তার ঠোঁটে তখন চিরচেনা দুষ্টু হাসি। হ্যাঁ, সে জানে না কী হবে?
কিন্তু, কেন জানি তার মনে হচ্ছে এটা প্রিন্সেসই হবে। তবে এই মুহূর্তে সানাকে জালানোর সুযোগ টা সে হারাতে চায় না। তাই সে খুব আলতো করে সানার মুখের সামনে উড়ে থাকা বেবি হেয়ারগুলোতে ফুঁ দিয়ে সরিয়ে দেয়। তারপর নিচু স্বরে আওড়ায়,
–“মিসেস জাওয়ান… ডিএনএ যখন আমি দিয়েছি, তখন আমি খুব ভালো করেই জানি। আম ড্যাম শিউর, এটা প্রিন্সেসই হবে”
ব্যাস, কথাটা শ্রবণ ইন্দ্রিয় হতেই সানার অবস্থা যেন এমন হলো যে কান দিয়ে ধোঁয়া বের হবে। সে সঙ্গে সঙ্গে উল্টো দিকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। তবুও ঠোঁটের হাসিটা লুকোতে না পেরে বিড়বিড় করে বলে ওঠে,
–“শয়তান… অসভ্য একটা…”
আরজে ঠোঁট কামড়ে হেসে ফেলে। তারপর আরও কাছে সরে এসে কণ্ঠ খাদে নামিয়ে আওড়ায়,
–“অসভ্য না হলে কি এমন সুন্দর ডিএনএ দিতে পারতাম?”
–“রানভীর…”
সানা চিৎকার করে লজ্জায় আরক্তিম হয়ে বালিশ ছুঁড়ে মারতেই আরজে সেটা ধরে ফেলে নাটকীয় ভঙ্গিতে বুক চেপে ধরে বলে,
–“ওহ, আমার বেবির মাম্মাম আমাকে মারছে…”
–“সরেন এখান থেকে বাজে লোক,এটা কি এখনি বলতে পারে নাকি কেউ?”
আরজে ঠোঁটের কোণের দুষ্টু হাসিটাকে সরিয়ে একটা দীর্ঘ শ্বাস ছেড়ে আওড়ায়,
–“ইয়াহ, জাস্ট গেস”
সানা এবার সত্যিই হেসে ফেলে। হাসতে হাসতে চোখ ভিজে ওঠে তার। এমন ছোট ছোট মুহূর্তগুলোই বুঝি মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে। কিছুক্ষণ পর হাসির আবহটা ধীরে ধীরে স্তিমিত হয়ে আসে। হঠাৎই সানার মুখটা আবার গম্ভীর হয়ে ওঠে। রিয়ানার কথা মনে পড়তেই বুকের ভিতরটা হু হু করে ওঠে। সে ধীরে ধীরে বলে,
–“রানভীর, রিয়ানার জন্য খুব খারাপ লাগছে…”
কথাটা বলতেই কেমন তার গলা ধরে আসে তবুও বলে,
–“একটা মানুষ এত কষ্ট নিয়ে কিভাবে বাঁচতে পারে রানভীর? আর রিয়ানা তো কাউকে কিছু বুঝতেই দেয়নি আর না আয়ান। কিয়ান আর কিয়ারার কথা ভাবলেই আমার বুকটা ভেঙে যাচ্ছে”
আরজে চুপচাপ তার শুনছিল। সে ধীরে ধীরে সানার হাতটা নিজের হাতে নিয়ে আঙুলে আঙুল জড়িয়ে দেয়। সানা এবার নিচু স্বরে বলে,
–“রানভীর, আমি কিয়ান আর কিয়ারাকে আমাদের কাছে রাখবো”
আরজে তাকায় তার দিকে। সানা চোখের জলটুকু হাতের উল্টো পিঠে মুছে আবার বলে,
–“ওরা আমাদের সাথেই থাকবে। হ্যাঁ… আমি জানি আমি কখনোই ওদের মায়ের জায়গা নিতে পারবো না, কেউই পারবে না। কিন্তু আমি চেষ্টা করবো, আমার সাধ্যের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করবো যেন ওরা কোনোদিন মাতৃস্নেহের অভাব না অনুভব করে। ওরা যেন কোনোদিন মনে না করে ওদের মা নেই”
হ্রদয়ামিলন দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ পর্ব ৩০ (৩)
বলতে বলতে তার গলাটা আবারও ধরে আসে কান্নায়। তার বিপরীতে আরজে কিছু না বলে শুধু ধীরে ধীরে এগিয়ে এসে সানাকে নিজের বুকের ভিতর টেনে নেয়। খুব শক্ত করে জড়িয়ে ধরে। তার থুতনি এসে ঠেকে সানার মাথার উপর। কিছুক্ষণ পর খুব নিচু স্বরে সে শুধু বলে,
–“ওকে ওয়াইফি, এ্যাজ ইউর উইশ”
