Home এক প্রণয় রাত্রি এক প্রণয় রাত্রি পর্ব ৪৩

এক প্রণয় রাত্রি পর্ব ৪৩

এক প্রণয় রাত্রি পর্ব ৪৩
আসিফা খান

গাড়ি ব্রেক কষে আতিকার বাড়ির সামনে। গাড়ি থামার আভাস পেলেও আতিকা একই রকম ভাবে চুপটি হয়ে বসে থাকে সিটে। অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পরপরই আহিল আতিকা কে নিয়ে বেরিয়ে আসে,তাকে বাড়ি ছেড়ে আবারও যাবে অনুষ্ঠানের জায়গায়। বাকি কাজ গুলি গুছাতে সাহায্য করবে সে। সেই ঘটনার পর পুরোটা সময় আহিল আতিকা কে এড়িয়ে চলেছে। মেয়েটা কথা বলতে আসলেও ভক্তি দেখায়নি আহিল। আতিকার বুক পুড়ে যাচ্ছে। আহিল এর উপেক্ষা তার কাছে অতি পীড়া দায়ক। রাত বাড়ার সাথে সাথে বাড়ছে নিরবতা। আতিকার নাক টানার শব্দে আহিল রুদ্ধ শ্বাস ত্যাগ
করে। কিন্তু এগিয়ে এসে থামায় না তার পাশে বসে থাকা কান্নারত নারী কে। বেশ কিছুক্ষণ একই ভাবে পার করে। আহিল রাস্তার পানে তাকিয়ে থেকেই বেশ গম্ভীর স্বরে বলে,,,

“বাড়ি যাও আতিকা,আমার কাজ আছে।”
আহিল এর কণ্ঠ কঠিন। আতিকা মাথা তোলে। কেপে ওঠে তার হাত। গাড়ির মধ্যে হলদে রঙের বাতি নিভিয়ে দেয় নিজ দায়িত্বে। আহিল ভ্রু কুঞ্চিত করে। পাশে তাকিয়ে কিছু বলার পূর্বেই নিজ শার্টের কলার মেয়েলি হাতের হামলার শিকার হয়। মুহূর্তেই সিক্ত হয় আহিল এর পুরুষালি অধর। আহিল চমকিত হলো,হলো বিস্মিত ও। এটাকি তার লতিকা!এটাইকি তার আতিকা! স্বামীর অভিমান নিবারণে নিজের লজ্জা উড়িয়েছে এই রমণী। আহিল এর অধরের মাঝে আতিকার পুরু ঠোট মিশে আছে। আহিল এর সময় লাগলো নিজের বিস্ময়করতা কাটাতে অতঃপর ত্বরিত নিজের হাত রাখলো আতিকার পৃষ্ঠ দেশে। নিজের বুকের সহিত মিশিয়ে ফেললো আতিকার মেয়েলি কাঠামো। শব্দ করে অধরে চুম্বন এঁকে আহিল হেসে ফিসফিসিয়ে বলে,,,”আমি শেখাচ্ছি,, হাউ টু কিস প্রপার্লি।”

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

উন্মাদ চুম্বনে লিপ্ত হয় আহিল। আতিকা হাঁফিয়ে ওঠে এবার কিন্তু সরে আসে না। নিজেও টেনে নেওয়ার চেষ্টা করছে কিন্তু সে অক্ষম হচ্ছে আহিল এর কাছে।মাতোয়ারা আহিল।ছেলেটার হাতের নৃত্য অস্বাভাবিক। আতিকা লজ্জায় একাকার। নিজ হাতের সাহায্যে আহিল হাত আটকানোর প্রচেষ্টা করলেই আহিল বেসামাল হয় প্রবল। ধ্যান, জ্ঞান হারিয়ে সেথায় নিষ্পেষণ করলেই আতিকা ব্যাথাতুর শব্দ তোলে।
মথা তুলে তাকায় আহিল। আতিকার অধর রক্তিম। ভ্রু কুঁচকে ভারী শাস টানছে মেয়েটি। আহিল এক প্রকার উঠিয়ে মেয়েটিকে নিজের কোলে বসায়। নাজুক বস্ত্র ঠিক করে দিতে দিতে বলে,,,
“ভাগ্যিস রাগ করলাম নাহলে যে আমার বউ এর এই রূপ মিস করে দিতাম।”
আতিকা এবার ছল ছল নয়নে তাকায় তার পানে। কম্পিত কন্ঠে বলে,,,”আপনি আমায় ইগনোর করছেন আজ সারাটা সময়।”
আহিল রুদ্ধ শ্বাস ছেড়ে বললো,,,”রেগে গেলে আমি রুড হয়ে যাই আতিকা।। মানিয়ে নিতে পারবে না!”

“পারবো কিন্তু আপনি আমাকে একটুও উপেক্ষা করতে পারবেন না। রেগে গেলেও না।”
“আচ্ছা করবো না।”
“তখন আমার ভয় করছিল,, যদি কেউ আমাদের একান্ত মুহূর্ত দেখে ফেলত কখন কতই না লজ্জা পেতাম।।”
আহিল ঠাহর করতে পারে যে,আতিকা ঠিক বলছে।
আহিল আতিকা কে নিজের প্রশস্ত বুকে লেপ্টে বলে,,,”থাকো কিছুক্ষন,,,একটু পরে যাবে।”
“এখনও রেগে?”
“উম হুঁ।”
আতিকাও কথা বাড়ায় না। চুপ চাপ আহিল এর কাধে মাথা এলিয়ে জাপটে ধরে বসে থাকে। আহিল আলগোছে আতিকার অবাধ্য চুল সরায়। উন্মুক্ত হয় নারীসুলভ ঘাড়, কাঁধ। আহিল এসি ছাড়ে গাড়ির। মুখ ডোবায় সেই উন্মুক্ত স্থানে। প্রথমে আলতো স্পর্শ পরপরই গাঢ় ছোঁয়া দেয় সেথায়।আতিকা চোখ বুজে ফেলে। বুঝে নেয় প্রায় চার পাঁচ দিন নিজেকে গলদেশ কাউকে দেখাতে পারবে না।

এক পায়ে সারি সারি হয়ে দাড়িয়ে আছে নানান রকমের বৃক্ষ। বাতাসে কেমন সোদা গন্ধ। ইয়ানার কোলে শিমুল গাছ হতে ঝড়ে পড়ে একটি রক্তিম ফুল। ঠান্ডা শীতল হাওয়া বইছে। তৃপ্তি সহকারে তাহ গায়ে মাখছে দুই প্রেম যুগল। গাড়ির বননেট এ বসে পরিবেশ উপভোগ করছে তারা। রিফাত এর সবুজ ব্লেজার গাড়ির সিটে অবহেলায় পড়ে আছে। এখন সুঠাম দেহে শুধু সাদা শার্ট এবং সবুজ প্যান্ট। পিঠ ঠেকানো গাড়ির সামনের উইন্ডশীল্ড গ্লাসে। তাঁর আঁখি জোড়া স্থীর আপন বোকা প্রেয়সীর পানে। যে কিনা রাতের আকাশের তারা দের মেলা দেখতে ব্যাস্ত। চোখে মুখে অদ্ভুত মাধুর্য মেয়েটার। রিফাত এর মন চায় শুধু তাকিয়ে দেখতে। হওয়ার তালে উড়ে যাওয়া কেশ নিজের আঙ্গুল ছুঁইয়ে কানের পিছে গুঁজে দেয় রিফাত।। সাফোকেশন এর কারণে ইয়ানা হিজাব খুলেছে গাড়িতে,,,কিন্তু মাথায় দেওয়া ভারী দোপাট্টা।। সামনের পানিতে টইটুম্বুর বিশাল ঝিলের দিকে তাকিয়ে ইয়ানা মৃদু স্বরে সুধায়,,,
“জায়গাটা অনেক সুন্দর। এটা কোথায় রিফাত! মন খারাপ লাগলে আমি এখানে এসে বসে থাকবো।”
রিফাত ইয়ানার কোলে অযত্নে পড়ে থাকা শিমুল ফুল তুলে মেয়েটির কানের পাশে চুলের মাঝে আটক করে,ফুলটি যেনো নিজের আসোল স্থান পায়। ইয়ানা মুচকি হাসে। রিফাত বলে,,,

“এটা কোথায় সেটা তো বলা যাবে না ইনু। তোমায় মন খারাপের সুযোগ দেবো না আমি। এখানে আমরা আসবো,সময় কাটাবো। কেমন!”
ইয়ানা ঠোঁট উল্টায়। সেই ঠোঁটেই রিফাত বৃদ্ধা আঙ্গুল ঘষে আলতো স্পর্শে। ইয়ানা গাল ফুলিয়ে বলে,,,
“কিন্তু আমার জানার আগ্রহ হচ্ছে এটা কোথায়?”
“আমার কৌতূহলী খরগোশ।”
“আর আপনি বিড়াল। না না হুলো বিড়াল।”
রিফাত হো হো করে হেঁসে ওঠে ইয়ানার কথায়।
ইয়ানা ও হাসে। গর্ত সৃষ্টি হয় ডান গালে। রিফাত সেই কাঙ্ক্ষিত টোলে আঙ্গুল স্পর্শ করে, নজর সীমাবদ্ধ রাখে সেথায়, নিগূঢ় কন্ঠে বলে,,,
“সমস্ত জটিলতা তোমার এই টোলে। একদম তীরের মত ফালফাল করে দেয় বুক।”
ইয়ানার হাসি মিলিয়ে যায়। চেহারায় একরাশ লাজুকতা হাজির হয়। শুকনো ঢোক গিলে মৃদু স্বরে বলে,,,”কি করবো! হাসলে এটা নিজ থেকেই হয়।”

“তাহলে হাসবে। শুধুই আমার সামনে।”
ইয়ানা জীভ দিয়ে অধর ভেজায়। লম্বা শাস টেনে আকাশ পানে চায়। শুভ্র চাঁদ থালার মত ভেসে আছে। আশে পাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে তারকা রাশি। ইয়ানা চাঁদের দিকে তাকিয়ে বলে,,,
“চাঁদ দেখতে কেমন লাগে আপনার?”
“অনেক ভালো লাগে।”
ইয়ানা এবার রিফাত এর তাকিয়ে দেখে সে তার অভিমুখে সীমাবদ্ধ। ইয়ানা ভ্রু কুঁচকে বলে,,,”তাহলে দেখুন।”
“দেখছি তো।”
ইয়ানা বোঝে রিফাতের কথার অর্থ। মুখ ফিরিয়ে হেসেও ফেলে সে। রিফাত নামক ছেলেটাও এত আদুরে হতে পারে তাহ ইয়ানার জানা ছিল না।। সময়ের সাথে রিফাত যেনো ইয়ানার কাছে নব হচ্ছে। নতুন করে আবির্ভাব ঘটে রিফাত এর। রিফাত পকেট থেকে একটা ফটো বের করে অতঃপর সেটা ইয়ানার দিকে এগিয়ে দিয়ে বলে,,,

“দেখো তো চিনতে পারছো কি না।”
ইয়ানা কৌতুহল নিয়ে ছবিটার দিকে তাকাতেই দেখতে পায় তিন চার বছরের একটি মেয়ে ফ্রক পরিহিত ফ্লোরে বসে খেলনা গাড়ি নিয়ে খেলছে, ঠিক তার মাথার কাছে দাঁড়িয়ে আছে একটি কিশোর বালক তার চোখে মুখে অত্যাধিক বিরক্তি এবং রাগের প্রকাশ। ইয়ানা কিছুক্ষণ ছবিটির দিকে তীক্ষ্ণ নজরে তাকিয়ে থেকে অত্যাধিক উত্তেজিত হয়ে রিফাতের দিকে তাকিয়ে বলল,,,”এটা আমি,,এটা আমি তাই না!”
রিফাত মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানাতেই ইয়ানা হা হয়ে তাকিয়ে রইল। ছবিটির বালকটা অন্য কেউ নয় বরং রিফাত নিজেই। ইয়ানা সেটা উপলব্ধি করতে পেরেই রিফাতের দিকে ছোট ছোট দৃষ্টি মিলে দিয়ে বলল,,,”এটা আপনি। একই রকম দেখতে। শুধু দাড়ি আর চশমা নেই। কিন্তু আপনি এই ভাবে আমাকে দেখছেন কেনো? যেনো খেয়ে ফেলবেন।”

“নিজের জিনিসের প্রতি বরাবরই পজেসিভ আমি। তুমি আমার গাড়ি নিয়ে খেলছো,, এটা ওয়ান অফ মাই ফেভারিট টয় ছিল।”
“কিন্তু আমি তো আপনার বউ।”
“স্টুপিড,,, তখন কি আমি জানতাম তুমি আমার বউ হবে!”
ইয়ানা নিজের অবুঝ কথায় জীভ কাট ে । সত্যিই তো তখন তো তারা অনেক ছোট। ইয়ানা এবার কিছুটা কৌতুহলী দৃষ্টি নিয়ে রিফাতের চোখের দিকে তাকিয়ে বলে,,,”জানলে কি করতেন?”
রিফাত এবার দুষ্টু হেসে ইয়ানার দিকে ঝুঁকে পড়ে বলে,,,”কোলে বসিয়ে চুমু খেতাম।”
ইয়ানা ও মর্মস্পর্শী ভাবে বলে,,,”তাই! কি ভাবে?”
রিফাত যেনো আকাশের চাঁদ হাতে পেলো। ইয়ানা কে কে ধরে নিজের কাছে নিয়ে আসার জন্য হাত বাড়াতেই ইয়ানা বৃদ্ধা আঙ্গুল দেখিয়ে ,ভেংচি কেটে গাড়ির বননেট হতে দ্রুত নেমে আসে। পরিহিত ভারী গাউন দুই হাতে হালকা তুলে বলে,,,

” ফটো দেখিয়ে ছোটবেলার কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন আমাকে, কথায় কথায় ধমক দেওয়া আমায়! আপনার কিছু জিনিসে হাত দিলেই কেমন চোখ দেখাতেন। ভাবলেন কি করে আমি আপনাকে চুমু খেতে দেবো।”
রিফাত থমথমে খেয়ে যায়। এই মেয়েকে নিয়ে সে কোথায় যাবে! কেনো আগ বাড়িয়ে ফটো দেখতে গিয়েছিল। রিফাত হাসার চেষ্টা করে বলে,,,”ইয়ানা! থামো।”
ইয়ানা বাঁকা হাসি ফুটিয়ে বলে,,,” ধরে দেখান।”
“কি বাচ্ছামি শুরু করেছো। আসো আমার কাছে।”
“উম হুঁ,,,আগে ধরে দেখান।”

বলেই ইয়ানা দৌড় দেয়,রিফাত লাফ দিয়ে নামে। সেও ছুটতে আরম্ভ করলো ইয়ানার পিছে। রিফাত কে আসতে দেখে ইয়ানা মাঝে মধ্যে পিছনে তাকিয়ে দ্রুত পায়ে দৌড় দেয়। ভারী গাউন, মাথা থেকে নেমে যাওয়া দোপাট্টা সবুজ ঘাসের শহীত লেপ্টে ছুটছে। সাথে ভেসে আসছে স্নিগ্ধ হাসির গুঞ্জন। আধার রাতের চন্দ্রের শুভ্র আলোয় রাঙা পরিবেশে দুই নর নারীর সুখময় মুহূর্তের সাক্ষী স্বয়ং চাঁদ তাঁরা। গাছের ডালে বসে থাকা দুই প্রেমিক পাখিদের ডাকে শিথিল হয় অন্তর। রিফাত হাত বাড়িয়ে ইয়ানাকে যতই ছুঁয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা করছে ঠিক ততই মায়াবী নারী তার দিকে তাকিয়ে হেসে গতি তেজ করছে। একটা সময় নিঃশ্বাস ভারী হয় ইয়ান ার। গতি থামিয়ে একটু দাঁড়িয়ে শ্বাস নেওয়ার সময় পিছন থেকে তাকে ঝাপটে ধরে রিফাত। সমান তালে ভারিক্কি নিঃশ্বাস ফেলছে দুই জন। রিফাত ইয়ানার পেট খামচে ধরে নিজের দিকে ঘুরিয়ে বলে,,,
“এবার কোথায় পালাবে ইনু?”
ইয়ানা ঠোঁট গোল করে শাস ছাড়ে।চোখ বন্ধ করে রিফাত এর প্রশস্থ বুকে নিজেকে লেপ্টে নেয়। দুই জনের হৃদস্পন্দন প্রফুল্লিত। ইয়ানা মৃদু স্বরে বলে,,,”এটা আমার জায়গা।”

আলেয়ার চোখে ঘুম নেই। বারাং বার হাফিজ এর সাথে তার মিস বিহেভ এর কথা মনে পড়ছে কিন্তু পরক্ষণেই আবার নিজেকে সামলে ফেলছে। হাফিজ তার জীবনে হস্তক্ষেপ কেন করবে! কেনো? আলেয়া ব্যালকনিতে দাঁড়াতে অজান্তেই চোখ যায় হাফিজ এর রুমের দিকে। অন্তর দুলে উঠলো মুহূর্তে। হাফিজ তার জানালার সামনে দাঁড়িয়ে। এদিকেই তাকিয়ে আছে সে। আলেয়া মিনিট পেরোতেই রুমে চলে আসে। ব্যালকনির দরজা লাগিয়ে দেয় সজোরে।
হাফিজ এর শাস ফোলে। চোয়াল শক্ত হয় তার। দাতে দাঁত পিষে দ্রুত পায়ে নিজ মা বাবার রুমে যায়। দরজায় হাতের থাবা বসায় বেশ কয়েক বার। হাফজা বেগম ধড়ফড়িয়ে উঠে দরজা খোলে। ছেলেকে উসকো খুস্কো অবস্থায় দাড়িয়ে থাকতে দেখে তিনি বলেন,,

“কি হয়েছে বাবু! ঘুমাসনি কেনো? কিছু দরকার?”
“আমি বিয়ে করবো।”
সোজা উত্তর হাফিজ এর। হাফজা বেগম আলতো হেসে বললো,,,”ভালো কথা,,,তোর আব্বু কে বলে কাল থেকেই মেয়ে দেখা শুরু করবো।”
“নাহ,,,আমার মেয়ে দেখা। আমি তাকেই বিয়ে করবো। তার মা বাবা কে রাজি করানোর দায়িত্ব তোমাদের।”
“কে সে?”
“আলু।”
“কিইই সবজি!?”
“আমাদের আলু,,আলেয়া।”
“কিইই বললি! আলেয়া!!”
“ওকেই লাগবে,,,এনে দাও যত দ্রুত সম্ভব।”
প্রস্থান ঘটে হাফিজ এর। অবাক এর চরম পর্যায়ে পৌঁছে দিয়ে গেলো তার মা হাফজা বেগম কে।

ফুলে সাজানো কক্ষের মাঝ বরাবর জায়গায় দাড়িয়ে ইয়ানা। আঁখি তার চঞ্চল।। ভিতরটা কেমন আকু পাকু করছে।। এটা ইব্রাহিম সাহেব এর উপহার দেওয়া ফ্ল্যাট। তিনটে কক্ষ, বসার এবং খাওয়ার কক্ষ, কিচেন,বাথরুম মিলিয়ে বেশ বিশাল এই ফ্ল্যাট। কক্ষের দক্ষিণ দিকে সুন্দর ব্যালকনি। রিফাত এর ব্যালকনি খুব পছন্দের তাই হয়তো নাতির পছন্দ কে মাথায় রেখে ইব্রাহিম সাহেব এই ফ্ল্যাট কিনেছেন। ইয়ানা আর রিফাত এর একান্ত মুহূর্তে বিঘ্ন দেওয়ার জন্য ইব্রাহিম সাহেব কাওকে তাদের সাথে পাঠায়নি। অনুষ্ঠান শেষে তাদের দুইজন কে সুন্দর করে বিদায় দেয় স্বজনেরা। এখন ইয়ানা যে রুমে দাড়িয়ে সেটা তাদের বেডরুম। মাস্টার বেডরুম। জারবেরা এবং সাদা গোলাপ ফুলে সজ্জিত চারি পাশ। আধুনিক ভাবে ডেকোরেশন করা।। ফুলের সুঘ্রানে মেতে আছে পুরো কক্ষ। ইয়ানা লজ্জা পায়। দরজার দিকে তাকালে দেখে রিফাত রুমে প্রবেশ করছে।। রিফাত ইয়ানা কে দাড়িয়ে থাকতে দেখে বলে,,,

“কি হোলো! দাড়িয়ে কেনো?”
ইয়ানা মাথার দোপাট্টা বিছানায় রেখে কপালে ভাঁজ ফেলে বলে,,,”তো কি ভেবেছিলেন? আপনার জন্য বিছানায় বসে,ঘোমটা দিয়ে অপেক্ষা করবো!”
রিফাত আলগোছে ইয়ানার কোমর টেনে বলে,,,”অপেক্ষা তো করছিলেই! বসে না হোক,দাড়িয়েই।”
ইয়ানা কুটিল হাসে মনে। সে ভুলে যায়নি রিফাত এর কথা। মনে মনে করে পরিকল্পনা। আজ রিফাত কে জব্দ করবে। লজ্জার কাঁথা পুড়িয়ে দিয়েছে অনেক আগেই শুধুই এগিয়ে যাওয়া বাকি। ইয়ানা ঠোঁট কামড়িয়ে রিফাত এর আরো একটু সান্নিধ্যে এসে পা উঁচু করে তার দাড়ি যুক্ত চিবুকে চুমু দিয়ে বলে,,,”আপনার জন্য অপেক্ষা করবো না তো কার জন্য করবো বলুন!”
রিফাত এর ভ্রু তে ভাঁজ পড়ে। ইয়ানার সাধারণ কথায় অসাধারণ কিছু অনুভব করলো রিফাত। তার হাতের বিজরণ বাড়লো। আরো বেশি সান্নিধ্য লাভের উদ্দেশ্যে ইয়ানা কে তার কাছে আনলে ইয়ানা পিছিয়ে যায়। স্বামীর বুকে মৃদু ধাক্কা দিয়ে মৃদু হেসে বলে,,,”আপনার বেহায়া হাত কে বলুন আমায় ছাড়তে।”
রিফাত মানলো না। ইয়ানা এবার নিজের চিকল তর্জনি আঙ্গুল দিয়ে রিফাত এর ঘাড়ে আঁকিবুকি করতে করতে বলে,,,,”ফ্রেশ হবো।”

“একেবারে কাল সকালে হয়ো ফ্রেশ।”
“ইসস,, না না। আমি এখনি হবো। যান আপনিও অন্য রুম থেকে ফ্রেশ হয়ে আসুন।”
“যেতেই হবে?”
“জ্বী,,,মিস্টার। চেঞ্জ করবো আমি।”
“হেল্প করি?”
“যান বলছি।”
রিফাত বাধ্য হয়ে ছেড়ে দেয় ইয়ানা কে। ইয়ানা ঘুরে গিয়ে ড্রেসিং টেবিলের সামনে অগ্রসর হতে মনে মনে হাসলো।। ধীরে সুস্থে গহনা খুলে টেবিলে রাখে অতঃপর আলমারি খুলে নজর বুলিয়ে দেখে তার বস্ত্র বলতে কুর্তি এবং শাড়ি ছাড়া কিছু নেই। ইয়ানা কিছুক্ষন ঠোঁট কামড়িয়ে চিন্তা করলো কিছু অতঃপর হাত বাড়িয়ে টেনে নিলো প্রিয়তমের একটি সাদা শার্ট। কলারে নাক লাগিয়ে ঘ্রাণ নিলো,,আহা এই গন্ধ পৃথিবীর সব সুঘ্রাণ কে হার মানায়।।
সময় পেরায় আধাঘন্টা,চল্লিশ মিনিট। রিফাত টি শার্ট,ট্রাউজার পড়ে টাওয়াল কাধে ঝুলিয়ে রুমে প্রবেশ করে, হাতে তার দুই মগ কফি। তার এখন কফির ভীষণ প্রয়োজন তাই ইয়ানার জন্যও বানিয়ে এনেছে। কিন্তু রুম ফাঁকা। রিফাত ভ্রু কুঞ্চিত করে এদিক সেদিক তাকাতেই দেখতে পায় ইয়ানা কে। নূপুরের হালকা ঝন ঝন শব্দ তুলে ধীরে পায়ে হেলে দুলে ব্যালকনি হতে রুমে প্রবেশ করছে সে। রিফাত এর চিত্ত নেচে উঠলো। আঁখির আকার বৃহৎ হলো। কপালে ঘামের বিন্দু ফুটে উঠল। ভারী নিশ্বাস টেনে ইয়ানা কে একবার পা থেকে মাথা পর্যন্ত স্ক্যান করে। লম্বা কেশ, পরনে তার সাদা শার্ট যাহ হাঁটুর উপরে নিজের স্থান অর্জন করেছে। শুভ্র স্নিগ্ধ অনন। আবেদনময়ী রুপে তার বোকা প্রেয়সী। রিফাত এর পৌরুষত্ব বেসামাল। বুকে ঢেউ খেলে যায় তার।

“মারার প্ল্যান করছো আমাকে?”
রিফাত এহেন অসহায় ভঙ্গিতে বলা কথায় ইয়ানা খিলখিলিয়ে হেসে উঠলো। এই হাসি যেনো খঞ্জর চালালো রিফাত এর বুকের বাঁ পাশে। উন্মুক্ত শ্বেতাঙ্গ দুই পায়ের দিকে নজর গেলেই রিফাত এর কণ্ঠনালীতে খড়া পরে। ইয়ানা চপল পায়ে তার দিকে এগিয়ে এসে একবার তার হাতের কফির কাপের দিকে তাকিয়ে নাক কুচকে বলে ,,,” গরম কিছু খাবো না। ঠান্ডা খাবো। উমম,,,আইস ক্রিম এনে দিন।”
রিফাত এর দৃষ্টি অপলক। ইয়ানার মেয়েলি অবয়ব তার কাছে স্পষ্ট। লুকানো ঘিয়া রঙের অধোবস্ত্র ও এড়ালো না রিফাত তীক্ষ্ণ নজরে। মেয়েটা তাকে জ্বালিয়ে দিচ্ছে ভিতর থেকে।। ইয়ানা শার্টের ইয়া লম্বা স্লিভ দিয়ে রিফাত এর কপালের ঘাম টুকু মুছে দিতে দিতে মোহনীয় কন্ঠে বলে,,,

“একি,,,ঘামছেন কেনো আপনি!”
“গরম লাগছে ভীষন। মনে হচ্ছে কেও মরুভূমির উষ্ণ বায়ু ছেড়ে দিয়েছে রুমে।”
ইয়ানা দীর্ঘশ্বাস ফেললো। বেশ কয়েকবার মাথা ঝাকিয়ে রিফাত এর কথায় সম্মতি জানতে জানতে শার্টের উপরে বোতাম খুলে ফেললো,,,”ঠিক বলেছেন। আজ মনে হয় একটু বেশিই গরম।। আপনি দাড়িয়ে কেনো যান তাড়াতাড়ি,,,আমি আইস ক্রিম না খেয়ে ঘুমাবো না। হাতের কফিটা আমায় দিন,,,না খেলে ওটা অপচয় হবে।”
রিফাত এর হাত থেকে কাপ কেড়ে নিয়ে সোফায় নরম বদন এলিয়ে বসলো। পা দুটো সুন্দর ভঙ্গিতে সোফা হতে ফ্লোরে রাখলো। বুকের কাছটা অপূর্ব লাগছে,,,মেয়েলি কাঠামো অস্থির।। চোখ জ্বলে উঠলো মানবটির।রিফাত এর মাথা কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে যেনো। সে দ্রুত পায়ে রুম থেকে বেরিয়ে যেতেই ইয়ানা চোরা হাসলো।। রিফাত এর শ্বাস দ্রুত চলছে। লিফট থেকে নেমে আসে পাশে তাকালো। রাত বেড়েছে কিন্তু এখানে জনসংখ্যা খুব একটা কমেনি। এখনও অনেকে রাস্তায় চলাচল করছে। আসার সময় রিফাত একটা আইসক্রিম পার্লার দেখেছিল সেই ভাবনা অনুসরণ করে কিছুটা এগাতেই সেই আইসক্রিম পার্লার চোখে পড়ে। রিফাত সেখান থেকে দুই বক্স আইস ক্রিম কিনে ফিরে আসে।।

ইয়ানা একই ভঙ্গিতে সোফায় বসা অবস্থায় মোবাইল টিপছে। রিফাত কে দেখেই উৎফুল্ল হয়ে বললো,,,”এত তাড়াতাড়ি চলে এলেন,,,আমি ভেবেছিলাম লেট হবে। ভালোই করেছেন,,,দিন এদিকে।”
ইয়ানা বক্স দুটো নিয়ে সোফা আর টি টেবিলে এর মাঝবর্তী জায়গায় গোল করে বসে। চামুচ সে আগে থেকেই এনে রেখেছিল। রিফাত তার কফির কাপ হাতে নিয়ে সোফায় ঠিক ইয়ানার পাশ ঘেঁষে বসলো। চুমুক দিতেই দেখলো ঠান্ডা হয়ে গেছে সেই পানিও।। ইয়ানা এক চামুচ পুড়ে চোখ বন্ধ করে তৃপ্তি সহকারে খেতে লাগল। পা নাচিয়ে প্রদর্শন করায় আইস ক্রিম এর স্বাদ। রিফাত এদিকে ঘামছে। এক মনে ইয়ানা কে দেখছে সে। কামাঙ্গিনি রূপে ইয়ানা নিজেকে উপস্থাপন করে রেখেছে। এ যেনো স্বয়ং সিংহ কে মাংস খেতে আহ্বান জানান।
ইয়ানা না দেখেই উপলব্ধি করতে পারছে রিফাত এর অবস্থা। মজা লাগছে তার ভীষণ। হালকা মস্তক বাঁকিয়ে পুরুষটির দিকে নজর বুলিয়ে বলল,,,,

“ওভাবে দেখলে নজর লাগবে, পরে আমার পেটের সমস্যা হবে। খেতে মন চাইলে বলুন,,দিচ্ছি এক চামচ।”
রিফাত যেনো হুস ফিরে পেলো। ভড়কে গেলো কিছুটা। মেয়েটির বাক্য চঞ্চল। রিফাত আনমনে সুধালো,,,”I want to eat something else.”
রিফাত এর কথায় লাল হয় মেয়েটির গাল। ইয়ানার শরীর থেকে কেমন এক ঘ্রাণ আসছে। রিফাত এর অনুভূতি খলবলিয়ে উঠছে। তার নেত্রগোলকে ঠেকছে ইয়ানার অশ্চর্জ বদন।
“আকাশের সবচেয়ে উজ্জ্বল তারা দেখলে কেমন ছুঁতে ইচ্ছে করে,,,তাই না ডক্টর?”
ইয়ানার হঠাৎ এমন প্রশ্নে রিফাত ভ্রু কুঞ্চিত করে।
ইয়ানা এবার কিছুটা মাথা উঁচিয়ে তাকালো রিফাত এর দিকে। লোকটার শরীর থেকে কেমন গরম আবহ নির্গত হচ্ছে যাহ ইয়ানা কে ভিতর থেকেই কাঁপিয়ে তুলছে।

“আমার একটা নিজের আকাশ আছে সেই আকাশের একটাই মাত্র উজ্জ্বল নক্ষত্র আর তার হলো বোকা প্রেয়সী।”
“বোকা প্রেয়সী?”
“ইয়ানা।”
“আমি বোকা!?”
“হ্যাঁ।”
“কি ভাবে?”
“এইযে,,,আমায় প্রলুব্ধ করে চলেছো সেই কখন থেকে কিন্তু এর পরিণাম কত সাংঘাতিক হবে তাহ তুমি ভাবতেও পারছো না ইয়াবা।”
ইয়ানা চোর ধরা পড়ার মত করে আড়ালে জীভ কাটে। তার অভ্যন্তরে চলছে প্রলব ঝড়। নিজেকে সামলে উঠে পালানোর আগেই তার পায়ে মোচড় লেগে পরে যেতে নিলে তৎক্ষণাৎ তাকে ধরে নিজের কোলে বসায় রিফাত। ইয়ানা “আহ্” করে ওঠে। রিফাত কে আগলে ধরে চোখে খিঁচে নেয়। পায়ে লাগেনি খুব একটা কিন্তু ব্যাথা হচ্ছে মৃদু। রিফাত যেনো হুস হারায়। মেয়েটার চোটের কথা ভুলে বসলো ছেলেটা। ইয়ানা কে এক প্রকার নিজের সঙ্গে মিশিয়ে নিলো।লম্বা কেশ সরিয়ে অধর বসায় ইয়ানার গ্রীবাদেশে। নিজের এতক্ষণ সংযোগে রাখা সমস্ত অনুভূতি যেনো একেত্রে ঢেলে দিল চিকন দেহের অধিকারী ইয়ানার উপর।

মৃদুমন্দ ব্যাথায় কুকড়ে উঠলো ইয়ানা। রিফাত এর দাঁতের সূচালো অংশ আরো দাবিয়ে দিলো ইয়ানার শুভ্র গলদেশে। রিফাত এর ভঙ্গিমা ব্যাকুল। ইয়ানা অস্পষ্ট আর্তনাদ শুনতে পেল রিফাত কিন্তু হেলদোল হলো না তার। সেথায় অধরের গভীর চুম্বন এঁকে দেয়। ইয়ানা টেনে শাস ছাড়ে।চোখে তার পানি টালমাটাল।রিফাত একই জায়গায় ঠোঁট বোলাতেই ইয়ানা ভাঙ্গা কন্ঠে বলে,,,
“ব্যাথা করে ওখানে। একই জায়গায় আর না।”

মাথা তুলে রিফাত। চোখে কেমন ঘোর লেগে তার। সময় মাপার সময় নেই তার কাছে। লুফে নিলো নিজ প্রেয়সীর নমনীয় অধর। মাতোয়ারা হলো এবার সেথায়। মুহূর্তেই জ্বলে উঠলো ঠোঁট জোড়া। ইয়ানা বুকে ধাক্কা দিলে জ্বালা বাড়ে বৈ কমে। ইয়ানা কান্না করে দেয়।রিফাত তার পরনের শার্টের নিচের দিকের তিনটি বোতাম খুলে ফেলে। সরাসরি হাত রাখে উদাম মেয়েলি অবয়বে। ইয়ানা দিশে হারা হয়। জোরালো হাতের স্পর্শে ইয়ানা সরে আসতে চায় রিফাত হতে। ব্যাথায় টনটন করছে মোলায়েম সেই জায়গা।। প্রশস্থ বুকের মাঝে অনবরত ধাক্কা দেয় ইয়ানা। রিফাত এবার সুদৃঢ় ভাবে ইয়ানা কে আটকে ফেলে। ইয়ানার চিকন দুই হাতের মালিক হিসাবে নিজ হাত হাতকে নিয়োজিত করে। সোফায় পিঠ ঠেকায় ইয়ানার। দেখে ইয়ানার সিক্ত রক্তিম ঠোঁট। অর্ধেক শরীরের ভার ছাড়ে সেই স্বল্প দেহি রমণীর বদনে। ভারিক্কি নিঃশ্বাস ছেড়ে বলে,,,

“স্বামীর রোমান্সে কখনোই বাঁধা দেবে না মেয়ে ,,,এতে করে তারা বেশি উন্মাদ মানবে পরিণত হয়।বেপরোয়া আচরনে মশগুল হয়।”
“এত অস্থির হবেন না প্লিজ।”
“আমাকে অস্থির বানিয়েছে কে? পরিণাম সাংঘাতিক হবে আমি আগেই বলে ছিলাম।”
ইয়ানা চোখ বুজে শাস টেনে বলে,,,”আমি রেস্টুরেন্ট এর কথা ভুলিনি।”
রিফাত বাঁকা হাসলো। নরম কানের লতিতে আলতো জিহ্ববা স্পর্শ করে চুম্বন এঁকে ফিসফিসিয়ে বললো,,,,” uff this jealousines”

এক প্রণয় রাত্রি পর্ব ৪২

ইয়ানা তার ডগোর আঁখি মেলে তাকায় রিফাত এর পানে। মুহূর্তেই বিদ্যুৎ খেলে যায় তার অন্তরে।রিফাত কি ভাবে যেনো তার দিকে দেখছে। মাথা নামিয়ে শুভ্র বুকে অধর ঠেকিয়ে শক্ত চুম্বন এঁকে দেয়। রক্তিম আভা ফুটে ওঠে সেথায়। ফুলের পাঁপড়িতে ভরা বিছানায় ইয়ানা কে শুইয়ে দিতেই রিফাত লাইট বুজিয়ে দেয়।অবহেলায় পড়ে রইলো আইস ক্রিম এর আধখাওয়া বক্স। খেই হারায় রিফাত। নাজুক মেয়েটাকে জড়িয়ে ফেললো নিজের সাথে। ছোটো ছোটো আদরের বদলে ইয়ানা তাকে দীর্ঘ রজনী উপহার দিলো। প্রনয়ময় কাটলো আরো একটা রাত্রি। চাঁদের স্নিগ্ধ আলোয় শুধু রাঙা হলো ব্যালকনির থাই গ্লাস।

এক প্রণয় রাত্রি পর্ব ৪৪