এক প্রণয় রাত্রি পর্ব ৭
আসিফা খান
লজ্জা নামক অনুভূতিতে জর্জরিত ইয়ানা। চোখ তুলে রিফাত এর দিকে তাকানোর ও সাহস হচ্ছে না তার। কিছু দিন ধরে অন্তরে বহমান রাগ নামক অনুভূতিরা আকস্মিকভাবে উবে সেখানে এসে দখল করেছে এক রাশ কুণ্ঠা।
কিছু পূর্ব আগেই রিফাত ঘটালো এক অপ্রত্যাশিত ঘটনা। মেয়েটার গলায় ঝোলানো স্কার্ফ এক টান দিয়ে নিজের হাতে নিয়ে মুহূর্তেই ইয়ানার হাত দুটো বেঁধে ফেলে আর ক্লিপ দিয়ে বাঁধা চুল আগ বাড়িয়ে খুলে দিতেই তারা নিজেদের স্থান অর্জন করলো।।এহেন আচরণে ইয়ানা চমকে উঠলো,,ভরকে গেল মেয়েটা। বড় বড় চোখে তাকালো রিফাত এর দিকে। লজ্জায় একাকার সে। রিফাত নিজেও চকিত হলো তার নিজ কর্মে,,,হুট করেই মাথায় কি চাপলো তার! রিফাত সেই সব দিকে বেশি খেয়াল না করে ইয়ানার পায়ের দিকে দৃষ্টি রেখে বলল,,,
“আমার কাজে বাঁধা দেওয়া পছন্দ নয়। চুপ চাপ কিছুক্ষন বসে থাকো,,,আমাকে দেখতে দাও। এবার ছটফট করলে ইজেকশন দিয়ে অজ্ঞান করে দেবো।”
ইয়ানা তব্ধা খেয়ে যায়। কি ভয়ংকর হুমকি দিয়েছে লোকটা তাকে। রিফাত ভালোকরেই জানে ইয়ানা কি পরিমাণে ভয় পায় ইনজেকশন দেখে।।রিফাত এর থেরিপি টা কাজেও লাগল,,,চুপ চাপ নতজানু হয়ে বসে থাকলো ইয়ানা। ব্যাথা পেলেও শব্দ করলোনা সে। বুকের মধ্যে ধিক ধিক শব্দ হতে লাগলো যেনো নদীর অশান্ত পানির তরঙ্গ আছড়ে পড়ছে তীরে।ঠোটে ঠোট চেপে বসে রইলো।
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
বেশ সময় নিয়ে রিফাত ইয়ানার পা নিয়ে নাড়াচাড়া করল আর যা বুঝলো তাতে সে মাথা তুলে ইয়ানার দিকে তাকালো। গুনে এক সেকেন্ড এর কাজ,,,তারপর ব্যাথা ফুর। কিন্তু এই এক সেকেন্ড এ ইয়ানার অবস্থার কথা চিন্তা করে রিফাত এর কপালে গভীর চিন্তার ভাঁজ পড়ে।। কিন্তু এ কাজ তাকে করতেই হবে।কিছু ব্যাথা নিবারণের জন্য দ্বিগুণ ব্যথিত হতে হয়,,,কথাটা চরম সত্য মনে করে রিফাত ইয়ানার পায়ে হালকা এক মোচড় দিলো।
ব্যাথা ফুর সাথে ইয়ানা ও।
হাতে এক বাটি কষা মাংস নিয়ে আলেয়া প্রবেশ করলো তার ছোটো চাচার বাড়ি।তাদের বাড়ি থেকে হাতে গুনে দশ সেকেন্ড এর পথ।রাস্তার এপাশ ওপাশ। হাফিজ এর নাকি বেজায় পছন্দ তার বড় মায়ের হাতের মাংস কষা তাই তো আলেয়ার হাতে মাংসের বাটি তুলে দিয়ে এক প্রকার জোর করেই পাঠালো হাফিজ দের বাড়ি মিসেস আসফিয়া। একগাদা বিরক্তি নিয়ে ড্রইং রুমে এসে দাড়ালো,,,রান্না ঘর থেকে হাফিজ এর মা হাফজা আলেয়া কে দেখে বিস্তার হেসে বলে,,,
“কি রে ওখানে দাড়িয়ে কেনো? হাতে কি? নিশ্চই তোর মা বাবুর জন্য মাংস দিয়ে পাঠিয়েছে,,,কিন্তু তার তো খোঁজই নেই। ইন্টারিউয়ের প্রিপারেশন নিচ্ছে ছেলে টা। সাড়ে দশটায় নাস্তা খেয়ে রুমে গেছে এখনও তার কাজ শেষ হয়নি।”
একসাথে এত গুলো কথা বলতে বলতে আলেয়ার সামনে এসে দাড়ালো হাফজা। শাড়ীর আঁচলে হাত মুছে নিল মুহূর্তেই। ছেলেকে নিয়ে সে যে কি পরিমাণে সম্বন্ধসূচক তাহ আলেয়া বেশ জানে। বিরক্তির পর্দা কেটে গেল ক্ষণেই,,,মুখে ফুটে উঠল উজ্জ্বল এক চিলতে হাসি। বাটিটা ডাইনিং টেবিলে রেখে আলেয়া বললো,,,
“ছোটোমা,,,,জাস্ট চিল। তোমার বাবু এখন আর বাবু নেই,,,সে তো একটা ধেরে ব্যাটাছেলে ।”
বলেই হেসে উঠলো আলেয়া। হাফজা আলেয়ার গাল টিপে,, মিছে রাগ দেখিয়ে বললো,,,
“চুপ একদম। ছোটো মার কথা তো একদম মোনেই পড়ে না। কত দিন পরে এলি বলতো,,,পায়ের ব্যাথার জন্য তো আমি তোদের বাড়িও যেতে পারিনা।। আমার রিফাত আব্বার সাথেও দেখা হলো না এখনও। ওকে বালিশ না রে আলেয়া,,,একবার আমার সাথে দেখা করে যেতে। ”
আলেয়া আশ্বাস দিয়ে বললো,,,”আচ্ছা বলবো,,,আসলে দাদাভাই অনেক ব্যাস্ত এই কই দিন,,,বাড়িতেও থাকে কম।”
হাফজা আলেয়ার সাথে আরো কথা জুড়ে দিল।আলেয়া মজায় মেতে উঠলো।। ছোটো মা যেনো তার আরেক মা।চাচী সম্পর্কে আলেয়া তার বান্ধবীদের মুখে কতইনা কটু কথা শুনেছে,,,কিন্তু সেই সব কথার সাথে তার ছোটো মার কোনো মিল কখনোই পাইনি সে। তার স্নেহ, আদর,মমতা ভরা শব্দ আলেয়া কে বারংবার তার ভালোবাসা বুঝিয়ে দেয়।।
কথার মাঝেই হাফজা বাসন ভর্তি ভাত,আলেয়ার আনা তরকারি গুছিয়ে তাহ আলেয়ার হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললো,,,
“যা,,হাফিজ কে খাবার টা দিয়ে আয়,,,আর পুরো ভাত শেষ না করা পর্যন্ত ওর পাশেই থাকবি।। আমিই যেতাম রে,,,কিন্তু রান্না ঘরে কিছু কাজ আছে আমার।”
কথাটা এতই আকুতি স্বরে বলল আলেয়া না করতে পারলো না। সহসা প্লেট হাতে নিয়ে সিড়ি বেয়ে উঠে গেলো হাফিজ এর রুমের সামনে। মনে পড়লো,,সে হাফিজ জন্য বকা খেয়েছিল রিফাত এর কাছে।দোষ একশো শতাংশ তার হলেও মনে মনে হাফিজ কেই দোষারোপ করেছে সে।। গম্ভীর ভাব বজায় রেখে আলেয়া রুমে প্রবেশ করলো দেখলো হাফিজ ল্যাপটপ এর সামনে গভীর মনোযোগ সহকারে একনিষ্ঠ ভাবে কিছু বির বির করে পড়ে চলেছে। তার রুমে যে কেও প্রবেশ করেছে সে দিকে তার নজর নেই।
আলেয়া গলা খেঁকিয়ে উঠলো,,,প্লেটটা বিছানার ওপর রেখে বলল,,,,”খেয়ে নাও,,,ছোটো মা পাঠিয়েছে।”
হাফিজ চমকে উঠলো,,,,অল্পক্ষণ আলেয়ার দিকে তাকিয়ে রইল। তত্পর ভ্রু কুঁচকে বললো,,,
“তুই!মতলব কী?আবার পানি ফেলার মতলবে এসেছিস তাই না!”
খুবই সন্দেহের সাথে প্রশ্নটি করলো হাফিজ। আলেয়া তেলে বেগুনে জ্বলে উঠলো। দাত কিড়মিড় করে বললো,,,,”হাপানি রোগী,,,কোথাকার। এই জন্য মানুষের ভালো করতে নেই,,,খেতে হবে না।”
বলে প্লেট হাতে বড়ো বড়ো পা ফেলে উদ্যোগী হলো রুম থেকে বেড়িয়ে যাওয়ার। হাফিজ তো হতবাক,,,সেতো মজা করেছিল মেয়েটার সাথে। লাফ দিয়ে বিছানা থেকে ফ্লোরে নেমে আসলো সে।আলেয়া বেরিয়ে যাওয়ার আগেই তার হাত টেনে দরজা আটকিয়ে দিলো।সহসা আলেয়া চমকিত হলো। চোখ তুলে হাফিজ এর পানে চাহিয়া দেখলো ছেলেটা একদম তার সম্মুখে।
হাফিজ হালকা ঝুঁকে পড়ল আলেয়ার মুখের সামনে।নিচের ঠোঁট কামড়িয়ে হেসে দিলো।আলেয়ার গম্ভীর চেহারা, চকিত নয়নে দৃষ্টি ঘুরিয়ে গ্লান স্বরে বলল,,,
“যাচ্ছিস যা,,,কিন্তু খাবারের প্লেট নিয়ে যাচ্ছিস কেনো? কোল্ড ওয়ার টা আমার তোর সাথে বড় মায়ের মাংস কষার সাথে নয়।আর এই রাগ টাই বা কিসের?আমার জন্য রিফাত ভাই এর কাছে বকা খেয়েছিস তাই তো! আচ্ছা, সেই রিভেঞ্জ টা নাহয় পরে নিস। সুযোগ আমিই দেবো।”
অত্যন্ত অপ্রত্যাশিত ভাবে তাকালো আলেয়া হাফিজ এর দিকে। হাফিজ এর কথা শুনে আলেয়া স্তব্ধ হয়ে গেছে। ছেলেটার কথা আজ কেমন বিনিময় মনে হচ্ছে।হাফিজ আলেয়ার হাত ধরে তাকে বিছানায় বসায়,,,খুবই ক্লান্ত গলায় বলে,,,
“ঝগড়া করার বিন্দু মাত্র ইচ্ছে নেই আমার এখন।পেটে খিদে আছে কিন্তু অনেক কাজ ও আছে,,,খাইয়ে দিবি প্লিজ!”
আলেয়া ভ্রু কুঁচকে চট জলদি বলে,,,” আমি??”
“এই রুমে তুই আর আমি ছাড়া আর কি কেউ আছে?আচ্ছা হাত দিয়ে খাওয়াতে হবেনা ওখানে চামুচ আছে ওটা দিয়ে খাইয়েদে।”
আলেয়াকে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে হাফিজ আবার ও ল্যাপটপে গভীর মনোযোগ দিতে শুরু করে।। আলেয়া ও আর না বলতে পারে না। কেনো জানি ইচ্ছা করলো হাফিজ এর হ্যাঁ তে হ্যাঁ মেলাতে।সময় ব্যায় না করে আলেয়া তার ছোটো হাতে চামুচ তুলে নিলো,,,তত্পর খাইয়ে দিতে লাগলো হাফিজ কে।
এই নিয়ে তিন নাম্বার সিগারেট শেষ করলো রিফাত। গাড়িতে হেলান দিয়ে দাড়িয়ে ফোন বের করলো।দাদুর নাম্বারে ফোন করতে ইব্রাহিম সাহেব কিয়ৎকাল এর মধ্যে ফোন রিসিভ করে অত্যন্ত চিন্তিত হয়ে বললেন,,,
“দাদুভাই কোথায় তোমরা? আড়াইটা বেজেছে পার হয়ে গেল কখন আসবে তোমরা ? সব ঠিক আছে তো?”
রিফাত দীর্ঘশ্বাস ফেলে স্বাভাবিক কণ্ঠে বললো,,”সব ঠিক আছে,,,,তোমরা আমাদের জন্য অপেক্ষা করো না।আমরা আজ বাইরে খাবো।”
কথাটা কর্ণ গ্রচর হতেই ইব্রাহিম সাহেব খুশিতে ভরপুর হলেন। ইয়ানা আর রিফাত এর মধ্যে দূরত্ব কমে আসছে বলে ধারণা করলেন তিনি। রিফাত এর কথায় সম্মতি জানান তিনি উচ্ছাস মনে।। রিফাত ও দাদুর মনভাব বুঝতে পারে,,,কিন্তু সে যে সত্যিটা বলতে পারবে না,,, অযোধা সবাই চিন্তা করবে।
“আমার পা ছাড়ুন,,,ব্যাথা পাচ্ছি আমি। মায়া দয়াহীন রাক্ষস।যে দিন থেকে এসেছে আমায় কষ্ট দিচ্ছেন,,,,ছাড়ুন না প্লিজ,,,ব্যাথা পাই আমি।”
ধীরে ধীরে জ্ঞান ফেরার সাথে এরকম আহাজারি পূর্ণ কথা বির বির করে বলতে আরম্ভ করলো ইয়ানা। কপাল আর গলা ঘামে মাখামাখি।তীব্র ভয় তাকে আকড়ে ধরেছে।ছোটো বেলা থেকেই মেয়েটা অত্যন্ত ভিতাগ্রহী,,,অল্পতেই ভয়ে আড়ষ্ঠ হয়ে যায় ইয়ানা।
ইয়ানার গলার আওয়াজ পেয়ে রিফাত চট জলদি গাড়ির দরজা খুলে ভিতরে প্রবেশ করে।প্রায় কুড়ি মিনিট পর জ্ঞান ফিরেছে মেয়েটার।,রিফাত ইয়ানার অবস্থা দেখে তার কাধে হাত দেওয়ার আগেই ইয়ানা রিফাত এর বাম কন্ধ আঁকড়ে ধরে,,, বাড়ন্ত নখ বসিয়ে দেয় রিফাত এর কাধে যা পাতলা চামড়া ভেদ করে লালিমা বিন্দু ফোঁটা বেরিয়ে আসে। দাতে দাঁত চেপে রিফাত সহ্য করে সবটা। ঝট করে চোখ খোলে ইয়ানা,,,রিফাত কে এত সামনে দেখে ঘাবড়িয়ে যায় সে,,,গাড়ির দরজার সঙ্গে মিশিয়ে ফেলে নিজেকে,,,আর সামলাতে বলতে থাকে,,,
“খবরদার আমার পায়ে হাত দেবেন না।নাহলে আমি চলে যাবো। দূরে থাকুন একদম,,,খুব বাজে আপনি।কোনো কথা নেই আপনার সাথে।”
“এনাফ ইজ এনাফ,,,কি যা তা বলছো। আর একটা কথা বললে তুলে আছাড় মারব।স্টুপিড!”
রিফাত এর ধমকে চমকে উঠলো ইয়ানা,,,ঠোঁট ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে কেঁদে দিল সে।রিফাত ভারী এক নিশ্বাস ফেলে,,,নিজেকে সংযত রাখার চেষ্টা করে শান্ত গলায় বলে,,,
“রিলাক্স ইয়ানা।তোমার থেকে দূরেই আছি দেখো। আর রইলো তোমার পায়ের ব্যাথা,,,সেটা আর নেই বিশ্বাস না হলে নিজেই দেখো।”
ইয়ানার কান্না থেমে গেল।দেখলো সে সত্যি রিফাত এর থেকে দূরেই আছে। ভ্রু কুঁচকে পা নাড়িয়ে চারিয়ে দেখলো সত্যি ব্যাথা নেই তার।একদম নেই সেটা নয় কিন্তু আগের থেকে ৯০% ব্যথা কম।।তত্পর নিজের দিকে তাকালো,,,চুল তার বাঁধা,,, স্কাফ গলায় ঝুলানো ঠিক আগের মত।বুঝতে বাকি রইল না তার অজ্ঞান হওয়ার পর রিফাত সবটা ঠিক করে দিয়েছে।।মাথা নিচু করে নিল ইয়ানা,,,চোখ তুলে আর তাকালো না রিফাত এর দিকে।
রিফাত আর কথা বাড়ালো না,, গাড়ি স্টার্ট দিলো।সামনের দিকে তাকিয়েই ইয়ানা কে বললো,,,”আজ আমরা বাইরে খাবো।এই সব সম্মন্ধে বাড়িতে আলোচনা করার কিছুই নেই সবাই চিন্তা করবে। দাদু কে ফোন করে জানিয়ে দিয়েছি আমি।”
ইয়ানা কিছুই বললো না চুপ চাপ বসে রইলো।কিছু একটা ভেবে তার প্লাজুর পকেটে হাত ঢুকিয়ে একটা মেন্টোস বার করে রিফাত এর দিকে এড়িয়ে দিয়ে বলল,,,
“ডাক্তার দের মুখে সিগারেট এর গন্ধ মানায় না।”
রিফাত কোনা চোখে ইয়ানার দিকে তাকালো।ছোট্ট প্যাকেটটি খুলে মেন্টস গালে পুরে নিলো।
( বিঃদ্রঃ – ক্লাস ১১ পড়া কালীন আমি পায়ে মারাত্মক রকমের ব্যাথা পেয়েছিলাম,,, ডক্টর কেও হাত লাগতে দিচ্ছিলাম না পায়ে। পুরো পুরি বিছানায় শুয়ে দুই দিন পার করেছিলাম।। গল্পে ইয়ানার ব্যাথার ভঙ্গিমা পড়ে কেও যেনো এটা না মনে করে যে,,, ইয়ানা ওভার বিহেব দেখানো হয়েছে। সে কারণে নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করা। ধন্যবাদ◉‿◉)
“আপনি হঠাৎ আমাদের কলেজে কেনো গিয়েছিলেন?”
পেটের মধ্যে চলা এই প্রশ্ন অবশেষে মুখে প্রকাশ করেই দম ছাড়লো ইয়ানা।। অপেক্ষা করলো রিফাত এর উত্তরের।ইয়ানার প্রশ্ন শুনে রিফাত খুবই সহজ ভাবে বললো,,,,
“দাদু ফোন করে তোমায় আনতে বলেছিল।”
একদম সোজা সাপটা কথা।ইয়ানা আর পাল্টা কথা বলেনা।। চুপ হয়ে যায় আগের মত।।,,রিফাত গাড়ি থামায় একটা রেস্তোরাঁর সামনে।,,,গাড়ি থেকে নামার আগে ইয়ানার উদ্দেশ্যে বলে,,,
“ওই স্টোরেজ বক্স টা খোলো।”
ইয়ানা ভ্রু কুঁচকে গাড়ির সেটি খুলে দেখে তার প্রিয় চকলেট। রিফাত গাড়ি থেকে নেমে আসে তার আগে ছোট্ট বাক্যে বলে,,,”সে দিনের মধ্যে দুঃখিত। অবশ্য সম্পূর্ণ ভুল আমার নয়।চোরের সাথে থাকলে সেও সমান তালে দোষী।।”
এক প্রণয় রাত্রি পর্ব ৬
টেবিলে সাজানো রয়েছে চার পদের খাবার।আর শুকনো মুখে তাহ চিবিয়ে চলেছে ইয়ানা। রিফাত ফোন স্ক্রল করছে।আর মাঝে মধ্যে আড় চোখে তাকাচ্ছে ইয়ানার দিকে।।
এরই মাঝে রিফাত এর কাধে কেও হাত রাখলোরিফাত ঘুরে তাকাতেই দেখলো,,,,
