এক মুঠো চাঁদের আলো পর্ব ২৬
নুসরাত ফারিয়া
পরের দিন সকালে ডাইনিং টেবিলে একা বসে থেকে নাস্তা করছিল আলো। সে আজ একটু দেরিতে ঘুম থেকে উঠেছে। ফলে সবার নাস্তা করা শেষ, এমনকি আধার স্যারও ভার্সিটিতে চলে গিয়েছে। আলো এসব ভেবে জোরে নিঃশ্বাস ছেড়ে মুখের ভেতর পুরো অমলেট নিয়ে চিবোতে লাগল। ঠিক তখনই রাত কই থেকে উড়ে এসে তার পাশের চেয়ারে ধপাস করে বসল। আচমকা এমন হওয়ায় আলো চমকে উঠল। চেয়ার নিয়ে পড়তে পড়তেও নিজেকে সামলিয়ে নিল। মুখের খাবার শেষ করে রাতের দিকে তাকিয়ে দাঁত কিড়মিড় করে বলল,
-“আপনার সমস্যা কী হ্যাঁ?”
রাত প্লেট নিয়ে দুটো পরোটা ও একটা অমলেট নিতে নিতে বলল,
-“তুমি।”
-“মানে?”
-“নাথিং!”
আলো চোখমুখ কুঁচকে আর কিছু না বলে চুপচাপ নিজের খাবার খেতে থাকল। রাত খাবার শেষ করে এক গ্লাস পানি খেয়ে একটা অবিশ্বাস্য কান্ড ঘটিয়ে ফেললো। চেয়ার ছেড়ে উঠে যাওয়ার সময় আলোর ওড়নার আঁচলে হাত-মুখ মুছে-টুছে গেল। এহেন কান্ডে আলোর চোখদুটো রসগোল্লার মতো বড় বড় হয়ে যায়। ততক্ষণে রাত অর্ধেক সিঁড়িতে পৌঁছে গিয়েছে।
-“এ্যাই, এ্যাই, এ্যাই? আপনি আমার ওড়নায় হাত-মুখ মুছলেন কেন?”
আলো পিছন থেকে চিল্লিয়ে উঠল। কতবড় সাহস ছেলেটার। রাত ঘাড় ঘুরিয়ে শান্ত গলায় বলল,
-“জাস্ট হাত-মুখই তো মুছেছি, পুরো ওড়না তো আর নিয়ে নেইনি।”
একথা বলে আর দাঁড়ায় না। বড় বড় পা ফেলে উপরে চলে যায়। ওইদিকে আলো দাঁত কিড়মিড় করে বলল,
-“শালার লুইচ্চার ঘরে লুইচ্চা!”
আজ সারাটাদিন দিন আলোর শুয়ে-বসে থেকে কেটে গেল। ঘুম থেকে উঠে বিকেলের দিকে বাহিরে এল। ব্যথার ঔষধ খাওয়ার ফলে একটু বেশিই ঘুম পাচ্ছে তার। হামি তুলতে তুলতে ড্রয়িংরুমে প্রবেশ করতেই দেখতে পেল শেফালি চাচি বালতিতে পানি নিয়ে আসছে। নিশ্চয়ই এখন ছাঁদে গিয়ে সকল গাছে পানি দিবে। আলো চটপট এগিয়ে এসে বলল,
-“আমাকে দিন চাচি, আমি গিয়ে ফুলগাছে পানি দিবো।”
উনার রান্নাঘরে যেহেতু কাজ রয়েছে, তাই তিনি বালতিসহ মগ দিয়ে দিলেন। আলো মুচকি হেঁসে একহাতে আরএফএল এর বালতি ও অন্য হাতে প্লাস্টিকের মগ নিয়ে আস্তেধীরে সিঁড়িতে উঠতে শুরু করল। কিন্তু বিপত্তি ঘটল মাঝখানের সিঁড়িতে এসে। আচমকা পায়ের সাথে ধাক্কা লেগে একটু পানি পড়ে গেল। আলো বিরক্তিতে মুখ দিয়ে ‘চ’ বর্গীয় শব্দ উচ্চারণ করল। সে কোনো কাজ ঠিক মতো করতে পারে না।
আলোর জানা মতে এসময়ে দোতলায় কেউ নেই। আর না তাহমিনা খান কিংবা সোবহান খান উপরে উঠবে। স্যার আসবে সন্ধ্যার দিকে। আর ওই লুইচ্চা ব্যাডাও নিশ্চয়ই বাহিরে আছে। তাই সে ভাবল, গাছে পানি দিয়ে এসে সিঁড়ির পানি মুছে দিবে। এটা ভেবে গুনগুন করতে করতে উপরে উঠে গেল।
ছাঁদের দিকে যেতেই কারোর পায়ের শব্দ পেয়ে আলো ভরকে যায়। তড়াক করে পিছনে ফিরে দেখল—রাত ফোন টিপতে টিপতে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামছে। এটা দেখে আলো আঁতকে উঠল। তড়িঘড়ি করে এগিয়ে আসতে আসতে বলার চেষ্টা করল,
-“না, না ভাইয়া না! সামনে পানি…।”
আলো নিজের কথা সম্পূর্ণ করতে পারল না। তার আগেই রাত ধপাস!
কয়েকটা ছিঁড়ি গড়িয়ে এসে নিচে পরে বাকরুদ্ধ হয়ে গেল রাত। আহাম্মকের মতো সিঁড়ি বেয়ে ছুটে আসতে থাকা মেয়েটার দিকে তাকিয়ে রইল।
-“স…সরি, সরি ভাইয়া। আমি আসলে বুঝতে পারিনি আপনি বাড়িতে রয়েছেন। নাহলে আমি তখনই পানি মুছে দিতাম।”
আলো সিঁড়ি বেয়ে নামতে নামতে ঘটিয়ে ফেললো আরেক অঘটন!
মেয়েটার পায়ে লাগা ছিল। তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে তার পা পিছলে গেল। কিন্তু নিচে পড়ল না, তার আগেই চট করে সিঁড়ির রেলিঙ শক্ত করে ধরে নিজেকে পড়া থেকে বাঁচিয়ে নিল। সব ঠিক থাকলেও তার হাতের পানিসহ বালতি ঠিক নেই। সে পিছল খাওয়ার সাথে সাথে হাত ফস্কে বালতিটা অদূরে ছিটকে যায়। আর সেটা সোজা নিচে বসে থাকা রাতের মাথার ওপরই এসে পড়ে। মূহুর্তেই রাতের সর্বাঙ্গ পানিতে ভিজে গেল।
চোখের সামনে এমন ভয়ংকর দৃশ্য ঘটতে দেখে আলো একহাতে নিজের চোখ-মুখ চেপে ধরে মনে মনে দোয়া-দরুদ পড়তে থাকল। আজ তুই গেয়া বেটা!
আলো হাতের এক আঙুল ফাঁক করে নিচে তাকায়। রাত এখনো একইভাবে বসে আছে, কোনো নড়াচড়া নেই। এই ব্যাটা দম আঁটকে আবার ম’রে-টরে গেল নাকি? এটা ভাবতেই আলো সাবধানে ছুটে এসে রাতের মাথার ওপর থেকে বালতি তুলে নিল। রাত মুখ থেকে পানি বের করে শান্ত চোখে মেয়েটার ভয়ার্ত চেহারার দিকে তাকায়।
-“স….সরি ভ-ভাইয়া। আ-আমি ইচ্ছে করে কিছু করিনি।”
আলো শুকনো ঢোক গিলে মিনমিন করে বলল। এরমধ্যে রান্নাঘর থেকে শেফালি চাচি ছুটে এলেন। এবং এসে এগুলো দেখে আঁতকে উঠলেন। এসব যদি তাহমিনা খানের চোখে পড়ে, তাহলে আজ মেয়েটার রক্ষে নেই। তাই তিনি জলদি কামড় ও ওয়াইপার নিয়ে এসে পানি মুছতে লাগলেন। রাত লম্বা শ্বাস নিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে আশেপাশে তাকিয়ে নিজের ফোনটা খুঁজল। সোফার নিচে পড়ে থাকতে দেখে এগিয়ে এসে ফোনটা নিয়ে দেখল, স্ক্রিন ফেটে গেছে। সেটা দূর থেকে উঁকি দিয়ে খেয়াল করল আলো। ভেবেছিল এটা নিয়ে এখন রাত তাকে বকাবকি করবে। কিন্তু তেমনটা কিছুই হলো না। রাত কিছু না বলে চুপচাপ সিঁড়ি বেয়ে উপরে চলে যায়। যাওয়ার সময় শুধু শেফালি চাচির উদ্দেশ্যে বলে গেল—
-“নেক্টস টাইম ওর হাতে যেন পানি ভর্তি বালতি না দেওয়া হয়। নয়তো দেখা যাবে, ওইটাও আমার মাথার ওপরই এসে পড়েছে!”
আধার বাড়িতে ফিরে রুম এসে দেখল—আলো অর্ধেক বেডের নিচে ঢুকে আছে, আর অর্ধেক বাহিরে। সে ব্যাগ, কোট সোফার ওপর রেখে টাইয়ের নট ঢিলে করতে করতে এগিয়ে এসে মেয়েটার পাশে এক হাঁটু গেড়ে বসল। তারপর এক পা চেপে ধরে হ্যাচকা টানে বেডের নিচ থেকে মেয়েটাকে বের করে আনল।
আলো পেটে ভর দিয়ে একটু উঁচু হয়ে ছিল। আচমকা টানে ধপাস করে মুখ থুবড়ে ফ্লোরের উপর পড়ল। এতে সামান্য নাকে ব্যথা পেল। পিছনে না ঘুরে উবুড় হয়ে পড়ে থেকে নাক ডলতে ডলতে বলল,
-“কোন হাতির শুঁড় রে আমার পা ধরে টান মা’রল!”
একথা বলে পিছনে তাকিয়ে স্যারের গম্ভীর মুখ দেখে হাসার চেষ্টা করল আলো৷ উঠে ভদ্র মেয়ের মতো বসল। আধার একপলক লাল হয়ে যাওয়ার সরু নাকের ডগার দিকে তাকিয়ে নজর সরিয়ে নিয়ে জিজ্ঞেস করল,
-“বেডের নিচে কোন প্রেমিক-রে খুঁজতেছিলে?”
-“প্রেমিক না স্যার! কানের ঝুমকো বেডের নিচে চলে গিয়েছে। তাই ওইটাই বের করার চেষ্টা করছিলাম।”
-“পেলে?”
-“না, খুঁজে পাচ্ছি না। আপনি তো আমাকে ভালো করে খুঁজতেই দিলেন না। ওয়েট…আরেকবার খুঁজে দেখি!”
একথা বলে আলো হামাগুড়ি দিয়ে এগিয়ে এসে আবার বেডের তলে ঢুকতে যাবে তখনই আধার পিছন থেকে তার জামার গলা চেপে ধরে টেনে সোজা দাঁড় করিয়ে দিল।
আলো ঘাড় কাত করে নিজের ভিসকোস কাপড়ের টু-পিসের গলার দিকে তাকায়। যেটা টেনে ধরার ফলে অর্ধেক লম্বা হয়ে গেছে। আধার জমার গলা ছেড়ে দিতেই মেয়েটার কাঁধের নিচে এসে পড়ল। ফলস্বরূপ ফর্সা কাঁধ ও ইনারের কিছু অংশ উন্মুক্ত হলো।
অপ্রত্যাশিত এক দৃশ্যে আধার থতমত খেয়ে গেল। সে বুঝতে পারেনি এমনকিছু ঘটে যাবে৷ আলো আহাম্মকের মতো কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকল। এতক্ষণ যা হয়েছে সবটাই তার মাথার ওপর দিয়ে গেল। লম্বা একটা শ্বাস নিয়ে জামার গলা ধরে আলমারি খুলে নতুন জামা বের করতে করতে বলল,
-“আপনার জন্য চুলের বিনুনি ধরাটাই বেটার! নয়তো আমার আর কোনো ড্রেসের গলা আস্ত থাকবে না।”
একথা বলে ওয়াশরুমে চলে গেল। আধার তপ্ত শ্বাস ফেলে গলার টাই ও শার্টের কয়েকটা বোতাম খুলে দু’হাত প্যান্টের পকেটে গুঁজে চোখ বুজে নিল। মূহুর্তেই চোখের পাতায় কিছু সুন্দর দৃশ্যগুলো ভেসে উঠল।
-“আপনার দাঁড়িয়ে থেকে ঘুমানোর কোনো রোগ আছে?”
আলোর কথা শুনে আধার ঘাড় কাত করে সোজা মেয়েটার মেদহীন পেটের দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করল। তারপর বিরবির করে বলল,
-“রোগ থাকলেও বা তোমার কি?”
-“তেমন কিছু না, ডক্টরের কাছে নিয়ে গিয়ে আপনাকে গরুর ইনজেকশন দেওয়াতাম। তখন সব ঘুম এমনিই ছুটে যেত হুহ্!”
আলো মুখ ভেংচি কেটে কথাগুলো বলে বাহিরে যাওয়ার সময় অনুভব করল তার বাম হাতের কব্জি চেপে ধরেছে লোকটা। সে পিছনে ফিরে বিরক্তিতে বলল,
-“এখন আবার কী সমস্যা আপনার?”
আধার গম্ভীর কণ্ঠে বলে উঠল,
-“আমার সামনে তুমি উন্মুক্ত হয়ে থাকলেও কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু…রুমের বাইরে কখনো ওড়না ছেড়ে যাওয়ার দুঃসাহস দেখাবে না মিস. কালো! নয়তো এর পানিশমেন্ট সহ্য করতে পারবে না।”
স্যারের এহেন কথা শুনে আলো চট করে নিজের দিকে তাকাল। আরে সে তো এতকিছুর মধ্যে ভুলেই গেছিল ওড়না পরতে। যখন বুঝতে পারল তখন তড়িঘড়ি করে ছুটে এসে আলমারি খুলে ওড়না বের করে গায়ে জড়িয়ে নিল। আধার আর কিছু না বলে চুপচাপ নিজের পোশাক নিয়ে ওয়াশরুমে চলে গেল।
আলো করিডোরে হাঁটছিল আর ফোনে ছোট বোনের সাথে কথা বলছিল। তখন ছায়া একটা নিউজ দিল। সেটা শুনেই আলো ভীষণ খুশি হলো। সে চটপট বলে উঠল,
-“এই নিউজটা আমি এক্ষুনি স্যারকে দিয়ে আসছি। তুই ফোন রাখ!”
বলে নিজেই খট করে লাইন কেটে দিয়ে পায়ের ব্যথা-ট্যথা ভুলে দৌড়ে গেল। আধার ফোনে কথা বলতে বলতে এদিকটায় আসছিল। দৃষ্টি নিচে ফ্লোরের দিকে ছিল। ঠিক তখনই আচমকা ধাক্কায় ব্যালেন্স হারিয়ে ঠাস করে চিৎপটাং! আর তার ওপর ধপ করে বেচারি আলোও পড়ল।
-“আমার কোমর না ভাঙা পর্যন্ত তুমি শান্তি পাবে না, তাই তো?”
আলো জোরে জোরে শ্বাস নিতে নিতে মাথা উঁচু করল। হঠাৎ করে সামনে থেকে স্যারকে আসতে দেখে পায়ে ব্রেক করতে পারেনি। তাহলে তার কী দোষ?
-“ভাঙা বাঁশের মতো এখন আমার উপরেই পড়ে থাকবে?”
আলো ওড়না নিয়ে তড়িঘড়ি করে উঠে দাঁড়াল। আধার চোখমুখ কুঁচকে ফোন নিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে বলল,
-“আমার থেকে গুনে গুনে দশ হাত দূরে থাকবে। নয়তো ছাঁদ থেকে বাগানে আছাড় মা’রব!”
আলো এগিয়ে আসতে চাইলে আধার আঙুল দিয়ে ইশারা করে বলল,
-“দূরে থাকো।”
আলো আর এগিয়ে এল না, বরং এক পা এক পা করে পিছিয়ে গেল। তারপর অন্যদিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করে ধীর কণ্ঠে বলল,
-“আসলে আমি আপনার কাছেই যাচ্ছিলাম।”
আধার ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করল,
-“কেন?”
-“ছায়া আর মায়া খরগোশ নিয়েছে।”
-“তো?”
আলো কিছু বলতে চেয়েও বলল না। কথা ঘুরিয়ে বলল,
-“কিছু না।”
আলো আর দাঁড়াল না। চুপচাপ স্যারের পাশ কাটিয়ে চলে গেল।
রাতের বেলা সবাই একসাথে খেতে বসেছে ডাইনিংয়ে। অদ্ভুত ব্যাপার হলো আবারো আলোর পাশে রাত এসে বসেছে। কারণ আধার সামনে বসেছিল আর মেয়েটা তার সামনে একা বসেছিল। তাই সে এসে মেয়েটার পাশের চেয়ারে বসে। এটা দেখে আধার এক মূহুর্তের জন্য খাবার খাওয়া থামিয়ে তাকিয়ে ছিল। তারপর কিছু না বলে খাবার খাওয়াতে মনোযোগ দেয়।
আলো চুপচাপ খাচ্ছিল। তখন খেয়াল করল রাত সবজি নিতে চাচ্ছে। ওটা তার দিকেই কিছুটা দূরে ছিল। তাই সে নিজেই সবজির পাত্রটা নিয়ে রাতের প্লেটে সার্ভ করে দিল। রাত হেঁসে ফিসফিসিয়ে বলল,
-“থ্যাংকস বোম্বাই মরিচ!”
নামটা শুনে আলো চোখ রাঙিয়ে ধীর কণ্ঠে বলল,
-“আপনাকে কিন্তু আমি সত্যি সত্যিই বোম্বাই মরিচ খাওয়াবো।”
-“নো প্রবলেম বেবস্! তোমার হাতে সবকিছু খেতে পারব।”
আলো নাকমুখ কুঁচকে বলল,
-“ভাবী হই আপনার, ভাবী!”
-“আই ডোন্ট কেয়ার।”
-“আপনার শরীরে দেখছি বিদেশের হাওয়া লেগেছে।”
-“উমম…তুমি ঠিকই ধেরেছো। বাট…সেটা আজ বিকেলে ধুয়ে দিয়েছো তুমি।”
বিকেলের কথা মনে হতেই আলো মিটমিট করে হাসতে হাসতে বলল,
-“কথায় আছে, যেটা হয় ভালোর জন্যই হয়।”
রাত ঠোঁট কামড়ে হেঁসে আলোর দিকে ঝুঁকে এসে ফিসফিসিয়ে বলল,
-“তাহলে তোমাকে আমি পুকুরে ফেলে দিয়ে তারপর বলব, যেটা হয় ভালোর জন্যই হয়।”
আলো নিঃশব্দে হাসল। সে গল্পের মাঝে এতোটাই ডুবে আছে যে—খেয়ালই করল না একজন খাওয়া থামিয়ে দিয়ে চোয়াল শক্ত করে, রক্তিম চোখে তাকিয়ে আছে তার হাসিমাখা মুখের দিকে।
আলো ফ্রেশ হয়ে এসে বিছানায় শুতে চেয়েও শুল না। শূন্য চোখে বালিশে মুখ গুঁজে উবুড় হয়ে শুয়ে থাকা মানুষটার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকল। তারপর বালিশ নিয়ে ফ্লোরের মাঝে শুয়ে পড়ল। কারণ লোকটা তাকে দশ হাত দূরে থাকতে বলেছে। কাছে গেলে যদি বকা দেয়? আর সোফাতে শুয়েও লাভ নেই। ঘুমের ঘোরে উল্টে ওই মেঝেতেই পড়ে থাকবে। তাই প্রথম থেকে থাকাটাই ভালো।
প্রায় অনেকক্ষণ হয়ে যাওয়ার পরেও মেয়েটার অস্তিত্ব অনুভব করতে না পেরে আধার কপাল কুঁচকে পাশে তাকায়। মেয়েটাকে দেখতে না পেয়ে আরো কপাল কুঁচকে যায়। এত রাতে আবার মেয়েটা কোথায় গেল আশ্চর্য! আধার উঠে বসে আশেপাশে তাকাতেই তার দৃষ্টি মেঝেতে পড়ল। ড্রিম লাইটের আবছা আলোয় দেখা যাচ্ছে, খালি মেঝেতে গুটিসুটি হয়ে শুয়ে আছে মেয়েটা। এটা দেখে আধারের কেন জানি খুব রাগ হলো। সে ঝড়ের বেগে এসে মেয়েটাকে পাঁজা কোলে তুলে বিছানার মাঝে ছুঁড়ে মা’রল।
হঠাৎ এমন হওয়ায় আলোর ঘুম ভেঙে গেল। এক হাতে কোমর চেপে ধরে ব্যথায় গুঙিয়ে উঠল। আধোআধো চোখ মেলে সামনে রাগান্বিত চেহারায় দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটার দিকে তাকায়।
-“আমার ঘুমের সাথে আপনার কোন জন্মের শত্রুতা বলুন তো?”
আধার জবাব না দিয়ে প্রশ্ন ছুঁড়ল,
-“মেঝেতে শুয়েছিলে কেন?”
আলো উঠে বসে খেঁকিয়ে উঠল,
-“তো কী আপনার মাথার ওপরে শুব? নিজেই মানা করবে দশ হাত দূরে থাকতে, আবার দূরে থাকলে নিজেই কৈফিয়ত চাইবে।”
-“তুমি আমার সব কথা শুনো বা মানো?”
আলো মুখ ঘুরিয়ে নিয়ে বলল,
-“না।”
-“তাহলে আজ হঠাৎ এই কথাটা কেন মানলে?”
আলো কিছু না বলে চুপ করে থাকল। আধার তাচ্ছিল্যের সুরে বলল,
-“বুঝলেন মিস. কালো? আমি আর পাঁচটা মানুষের মতো স্বাভাবিক নই। বলতে পারেন অনুভূতিহীন একজন! আমার মনে দয়া-মায়া বলে কিছুই নেই। অন্যজনের মতো আপনার সাথে হেঁসে হেঁসে কথা বলতে পারি না, আর না আপনাকে হাসাতে পারি। এই আমিটা শুধু আপনার সাথে ঝগড়া, ত্যাড়ামি, অপমান আর বকাবকিই করতে পারি। মাঝেমধ্যে হার্টও করি! এই অদ্ভুত আমিটার থেকে যদি কখনো মুক্তি পেতে ইচ্ছে করে, তাহলে নির্দ্বিধায় এসে বলবেন। কারণ আপনি আমার থেকেও ভালো কাউকে ডিজার্ভ করেন।”
আলো এতক্ষণ মুখ বুঁজে সবটা সহ্য করে নিলেও শেষের কথাগুলো ঠিক সহ্য করতে পারল না। ছুটে এসে দু’হাতে মানুষটার গলা শক্ত করে জড়িয়ে ধরে ঝাঁঝাল কণ্ঠে বলল,
-“চুপ, একদম চুপ! অনেক বলেছেন আপনি। কে বলেছে আপনি স্বাভাবিক নোন? আপনি একদম স্বাভাবিক! আর আপনারও অনুভূতি রয়েছে। আপনি যদি সত্যিই অনুভূতিহীন হতেন তাহলে আমাকে ওইদিন আহত অবস্থায় জঙ্গলে পড়ে থাকতে দেখে আপনার চোখদুটো ছলছল করত না। মানলাম আপনি আমার সাথে হেঁসে হেঁসে কথা বলেন না, তাতে কি হয়েছে? ওই যে মাঝেমধ্যে ঠোঁট কামড়ে হাসেন, ওইটাই এনাফ। আর আপনার সাথে কথা বললে শুধু হাসি কেন? এই আমিটার পুরো মনটাই ভালো হয়ে যায়। বিশেষ করে আপনার পিছনে লাগতে আমার খুব ভালো লাগে। আপনার সাথে ঝগড়া, ত্যাড়ামি করতেও ভীষণ ভালো লাগে। এই আপনিটা অদ্ভুত বলেই আমার এত ভালো লাগে। আপনার কাছে কেন রয়েছি জানেন? শুধুমাত্র এই কারণগুলোর জন্য। এই আপনি ছাড়া আর আমার ঝগড়াঝাটি করার সঙ্গী কেউ নেই। আর আপনার মতোও কেউ আমার এত পাগলামি, অত্যাচার সহ্য করবে না।
আপনি আমাকে কখনোই শারীরিকভাবে হার্ট করেননি। বরং সবসময় যত্ন করেছেন, আগলে রেখেছেন। আমি যেন আঘাত না পাই সেটারও খেয়াল রাখেন। তাহলে আপনি কীসের ভিত্তিতে বললেন আপনি আমাকে হার্ট করেন? মানুষ নিজেকে ভালো প্রমাণ করে, অথচ আপনি নিজেকে খারাপ প্রমাণ করছেন! আমার যদি মুক্তি চাওয়ারই হতো, তাহলে ওইদিনই ডিভোর্স দিয়ে দিতাম। আর এখানে এসে আপনার এককথায় থাকতে রাজি হতাম না। আমি আপনার থেকে ভালো কাউকে চাই না স্যার, একটুও চাই না। আমার তো এই খারাপ আপনিটাকেই শুধু চাই। দিনশেষে শুধু এই আধপাগল আমিটাকে নিজের জীবনে একটু ঠাঁই দিয়েন, তাহলেই হবে। এছাড়া আর আমার কিছুই চাওয়ার নেই!”
কথাগুলো বলতে বলতে ঘুমিয়ে গেল আলো। একই সাথে দু’হাতের বাঁধন ঢিলে হয়ে শরীরটা ভেঙে পড়তেই আধার নিজের বুকের মাঝে শক্ত করে আগলে নিল ছোট্ট শরীরটাকে। একটু পর সাবধানে বিছানায় শুয়ে দিয়ে শরীরে কম্ফোর্টার টেনে দিল। ঘুমন্ত মেয়েটার পাশে বসে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল ওই মাসুম চেহারার দিকে। মেয়েটার দু-চোখের কোণায় অশ্রু চিকচিক করছে! আধার হাত বাড়িয়ে আলতো করে মুছে দিল। তারপর কিছুক্ষণ মেয়েটাকে দেখে উঠে বারান্দায় চলে গেল। আকাশে থাকা চাঁদের দিকে তাকিয়ে শব্দ করে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে চোখদুটো বুঁজে নিল।
সকালে ঘুম ভাঙতেই আলো সর্বপ্রথম নিজেকে আবিষ্কার করল স্বামীর নগ্ন বুকের মাঝে। সে কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে মাথা উঁচিয়ে ঘুমিয়ে থাকা মানুষটার দিকে তাকায়। আলো অনেকটা সময় ধরে তাকিয়ে থেকে মাথা এগিয়ে নিয়ে এসে ঠোঁটের মাঝে ঠোঁট চেপে ধরতেই আধার তড়াক করে চোখ মেলে তাকায়। আলো ঠোঁট সরিয়ে শব্দ করে হেঁসে উঠে বলল,
-“ঘুমানোর ভালোই ভং ধরতে পারেন দেখছি।”
আধার দাঁতে দাঁত চেপে মেয়েটাকে পাশে ঠাস করে ফেলে দিয়ে উঠে গেল। ওয়াশরুমের দিকে যেতে যেতে দাঁত কিড়মিড় করে বলে উঠল,
-“আবার যদি ওই অসভ্য ঠোঁট জোড়া আমাকে ছুঁয়েছে, তাহলে আই প্রমিস মিসেস খান….আপনার ঠোঁট কেটে নিবো একদম।”
-“তারপর আমিও আপনার ওই কিউট তুতু কেটে নিবো মি. খান!”
বলেই খিলখিল করে হেঁসে উঠল আলো। আধার রাগে গজগজ করতে করতে আবার ফিরে এসে মেয়েটাকে পাঁজা কোলে তুলে নিয়ে ওয়াশরুমের ভেতর গেল। আলো কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাকে পানিভর্তি বাথটাবের ভেতর ফেলে দিল। মেয়েটা হকচকিয়ে লাফিয়ে উঠতে চাইলে তার মাথায় হাত রেখে কয়েকবার পানিতে চুবানি দিয়ে ছেড়ে দেয় আধার।
আলো পানি-টানি খেয়ে খুকখুক করে কেশে উঠে জোরে জোরে শ্বাস নিতে লাগল। সামনে সটান হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা নিষ্ঠুর মানুষের দিকে তাকিয়ে চেঁচিয়ে উঠল,
-“আপনাকে আমি জেলে দিবো। কতবড় সাহস, পানিতে চুবিয়ে মা’রতে চেয়েছেন আমাকে!”
আধার আবারো হাত বাড়িয়ে মেয়েটার মাথায় হাত রাখতেই সে কান্নারত কণ্ঠে বলল,
-“এ্যায়ায়া…..আর বলব না, চুমু খাব না, আপনার তুতু ছুঁব না, কামড় দিবো না, আপনাকে জেলেও ভরব না। তবুও আমাকে আর পানিতে চুবানি দিয়েন না!”
আধারের খুব হাসি পেল। তবে সেটা চেহারায় প্রকাশ করল না। হাত সরিয়ে নিয়ে শুধু বলল,
-“কথাগুলো যেন মনে থাকে—নয়তো এবার এখানে নয়, সোজা নর্দমার পানিতে চুবানি দেবো!”
ড্রয়িংরুমে বসে থেকে আলো হাঁচি ফেলছে আর টিস্যু দিয়ে নাক মুছছে৷ সাতসকালে ঠান্ডা পানিতে চুবানি খেয়ে সর্দি লেগেছে। মনে মনে স্যারের চৌদ্দ গুষ্ঠি ধুয়ে দিয়েছে। তার ক্ষমতা থাকলে ওই লোকটাকে মাথায় তুলে সমুদ্রের পানিতে ছুঁড়ে মা’রত। তখন বুঝতে পারত আসল মজা!
-“এটা খাও।”
আধার এক কাপ কড়া করে মসলাদার চা বানিয়ে এনে আলোর সাথে ধরে বলল। আলো হাঁচি ফেলে নাক মুছতে মুছতে বিরবির করে বলল,
-“ক-কেন খাবো? ওতে কিছু মিশিয়ে দেননি, এটার কী গ্যারান্টি?”
-“বেশিকিছু না, জাস্ট একটু ইঁদুর মা’রা বি’ষ মিশিয়েছি।”
সোবহান খান তাদের দিকেই আসছিলেন। সেসময় নাতির ওমন কথা শুনে বললেন,
-“মেয়েটাকে জ্বালাচ্ছো কেন দাদুভাই!”
দাদাজানকে দেখে আলো নাক টেনে বলল,
-“তোমার পঁচা নাতি আজ আমাকে পানিতে চুবানি দিয়েছে দাদাজান। তাও তিনবার… হাচ্চু!”
আলো হাঁচি ফেললো। সোবহান খান নাতির দিকে তাকিয়ে অবাক কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলেন,
-“তুমি আমার নাতবউরে চুবানি দিয়েছো কেন?”
আধার সামনে থাকা ছোট কাঁচের টি-টেবিলের ওপর কাপ রেখে চলে যেতে যেতে বলল,
-“তোমার আদরের নাতবউ কাজই করেছে এমন।”
আলো চায়ের কাপ নিয়ে চুমুক দিয়ে দাদাজানের উদ্দেশ্যে বলল,
-“দেখবে, কোনো একদিন উনার মাথাটা ফাটিয়ে দিয়ে জেলে বসে আছি।”
সোবহান খান সোফায় বসে নিজের কপাল চেপে ধরলেন। এই দুইটা টম অ্যান্ড জেরিকে নিয়ে যে তিনি কী করবেন কেহ জানে!
আলো রুমে এসে আর বাহিরে যায়নি। বিছানায় চুপচাপ বসে থেকে দুই নাকের ভেতর টিস্যু গুঁজে রেখেছে আর মুখ দিয়ে নিঃশ্বাস নিচ্ছে। একটু পর স্যারকে আসতে দেখে টিস্যু বের করে নিয়ে ঠিকঠাক হয়ে বসল।
আধার মেয়েটার জন্য নাস্তা নিয়ে এসেছে। পাশে বসে কাটা চামুচ দিয়ে গরম গরম নুডলস তুলে মেয়েটার মুখের সামনে ধরল। তখন আলো ঝাঁঝাল কণ্ঠে বলল,
-“নিজে অসুস্থ বানিয়ে এখন সেবা করতে লজ্জা করছে না আপনার?”
-“কয়েকটা চুবানি খেয়ে যে অসুখ বাঁধিয়ে বসবে, সেটা কে জানত।”
আলো মুখ সরিয়ে নিয়ে নাক মুছে বলল,
-“আপনার সাথে কথা বলব না আমি।”
-“ঠিক আছে, বলতে হবে না। শুধু নাস্তাটা করে ঔষধ খেয়ে নাও, তাহলেই হবে।”
আলো কিছু না বলে চুপচাপ খেতে লাগল। খেতে খেতে একসময় দাঁত লেগে গালের ভেতরের মাংসে আচমকা কামড় লাগল। আলো গাল ধরে আর্তনাদ করে উঠতেই আধার একহাতে মেয়েটার দুগাল আলতো করে ধরে বলল,
-“দেখি, হা করো।”
আলো মুখ হা করল। আধার কপাল কুঁচকে ভেতরে তাকিয়ে দেখে ডান গাল কেটে র’ক্ত বেরিয়ে গেছে। এটা দেখে ফোঁস করে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল। এই মেয়েটা আর কোনোদিন ভালো হবে না। সে গাল ছেড়ে বিরবির করে বলল,
-“দাঁত তো নয় যেন ধারালো ব্লেড!”
সারাটা দিন কেটে গেল। আলো আজও ভার্সিটিতে যায়নি। আর কয়েক দিন পর যাবে। আপাতত সে বাড়িতেই পড়াশোনা করছে। এই তো সবে পড়ে উঠল। ঔষধ খাওয়ার পর শরীর এখন ঠিক আছে। তবে মাঝেমধ্যে নাক শিরশির করছে এই। পড়ার টেবিলে বইপত্র গুছিয়ে রেখে রুমের বাতি নিভিয়ে বিছানার মাঝে চিৎ হয়ে শুয়ে চোখদুটো বন্ধ করে নিল। কিছুক্ষণ পর হঠাৎই কিছু একটা লাফ দিয়ে তার পেটের ওপর উঠতেই আলো ভীষণ ভয় পেল। চোখ মেলে তাকিয়ে গলা ফাটিয়ে চিৎকার করতে চেয়েও করল না। মূহুর্তেই বিস্ময়ে, আনন্দে চোখদুটো বড়বড় হয়ে গেল।
শোয়া থেকে এক লাফে উঠে সাদা ধবধবে দুটো খরগোশের বাচ্চাকে কোলে নিয়ে অবিশ্বাস্য চোখে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল,
-“এ…এরা আমার স্যার?”
আধার ধীর কণ্ঠে বলল,
-“তোমার কাছে গিয়েছে মানে ওরা এখন থেকে তোমারই।”
খুশিতে আলোর চোখদুটো ছলছল করে উঠল। সে তো মনে মনে খরগোশের ছানাকেই চেয়েছিল। তাই তো গতকাল ওমন করে ছুটে স্যারের কাছে যাচ্ছিল। উদ্দেশ্যে ছিল বায়না করার! কিন্তু সে না বলার আগেই লোকটা বুঝল কীভাবে তারও এইগুলোকে চাই?
আলোকে কিছু একটা ভাবতে দেখে আধার মাথায় গাট্টা মে’রে ওয়াশরুমের দিকে যেতে যেতে বলল,
-“ছোট্ট মাথায় বেশি চাপ নিও না, নয়তো ফেটে যাবে।”
আলো হেঁসে কিউট কিউট খরগোশের ছানাদের আদর করতে লাগল। তার মনটা এক নিমিষেই ভালো হয়ে গেছে।
আধার শাওয়ার নিয়ে এসে ব্যাগ খুলে একটা বক্স ও কিছু চকলেট বের করে আলোর সামনে রাখল। মেয়েটা খরগোশদের ফ্লোরে নামিয়ে দিয়ে আগে প্লাস্টিকের বক্সটা খুললো। ভেতরে এতগুলো ঝুমকো দেখে আলোর চোখদুটো কপালে উঠে গেল। আলাদা আলাদা ডিজাইনের এবং ছোট থেকে বড় এক বক্স ঝুমকো পেয়ে আলোর জ্ঞান হারানোর উপক্রম। সেখানে ছোট্ট ছোট্ট কিছু দুলও রয়েছে। আলো স্বামীর দিকে তাকিয়ে অবাক কণ্ঠে বলল,
-“এতগুলো ঝুমকো আমি কয় বছরে পরব? আর হঠাৎ করে এগুলো দিলেন কেন?”
-“ইচ্ছে হয়েছে তাই নিয়ে এসেছি। পছন্দ না হলে ফেলে দাও।”
মানুষটার কথা শুনে আলো অদ্ভুত চোখে তাকিয়ে বলল,
-“পাগল নাকি? এত সুন্দর দুলগুলোকে আমি ফেলে দিবো? অসম্ভব!”
একথা বলে আলো বক্স নিয়ে গিয়ে ড্রেসিং টেবিলে ওপর রেখে এক জোড়া ছোট দুল নিয়ে এসে স্যারকে দিয়ে বলল,
-“এটা আমাকে পরিয়ে দিন।”
আধার কিছু বলতে চেয়েও হাস্যজ্জল মুখখানা দেখে আর কিছু বলল না। বরং দুল নিয়ে কাছে এগিয়ে এসে ঝুঁকে মেয়েটার কানে পরিয়ে দিল। মানুষটার গরম নিঃশ্বাস ঘাড়ে আছড়ে পড়তেই আলো চোখ বুজে নিল। আধার অপর কানের লতিতেও সুন্দর করে পরিয়ে দিয়ে মেয়েটার দিকে তাকায়। আলো হেঁসে জানতে চাইল,
-“সুন্দর লাগছে?”
আধার মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে থেকে বিরবির করে বলল,
-“একদম শাঁকচুন্নির মতো লাগছে।”
একথা শুনেও আলো শব্দ করে উঠে চট করে স্বামীর গলায় ঝুলে পড়ল। তারপর বলল,
-“একটা কথা বলব, চোখ বন্ধ করুন।”
আধার কপাল কুঁচকে বলল,
-“যা বলার এমনিই বলো, আমি শুনতেছি।”
-“উঁহু, চোখ বন্ধ করুন।”
আধার তপ্ত শ্বাস ফেলে চোখ বন্ধ করতে করতে বলল,
এক মুঠো চাঁদের আলো পর্ব ২৫
-“উল্টাপাল্টা কিছু করলে তোমার খবর আছে।”
আলো হেঁসে উঁচু হয়ে ফিসফিসিয়ে বলল,
-“আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আমাকে এত কিউট কিউট উপহার দেওয়ার জন্য।”
একথা বলে আলো চটপট গালে দুটো চুমু খেয়ে এক দৌড়ে রুমের বাহিরে চলে গেল। আধার গালে হাত দিয়ে থম মে’রে দাঁড়িয়ে থাকল। অনুভব করল তার হার্টবিট আবারো মিস হয়ে গেছে। এই বেয়াদব মেয়েটা নির্ঘাত তাকে মে’রে ফেলবে!

porae porbo gula tara tari dio plz….