কিশোরী কন্যা পর্ব ১৭
হামিদা আক্তার ইভা
দু’দিন আগে তাহসিন আর আদনান ঢাকা গিয়েছিল কিছু দরকারে।তার ঠিক তিন দিনের মাথায় গ্রামে ফিরে আসে।আদনানের মুখ ভার।তাহসিন চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে স্বর টেনে বলল,
“আহারে সোনা,বিয়ের জন্য বুঝি অনুমতি পাওনি?”
আদনান রেগে তাকাল।দাঁত চেপে বলল,
“তুই চুপ থাকবি তাহসিন?তোর বিয়ের কথা আমি বলেছি?”
“তা কেন বলতে যাবে?বললে বুঝি তোমার চাকরি থাকবে সোনা?”
আদনান ভীষণ বিরক্ত হলো।ভীষণ!সে সোজা হয়ে বসে চায়ের কাপ টি-টেবিলের উপর নামিয়ে গম্ভীর হয়ে বলল,
“বিয়ের কথা রাখ।শালী এবার রাজি না হলে তুলে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করব।”
“তাই সই।”
তাহসিন মৃদু হেসে পকেট থেকে ফোন বের করল।ঘরের দরজায় শব্দ হতেই সে মাথা তুলে সেদিকে তাকায়।ময়ূরী এসেছে।তাহসিন অনুমতি দিলে ময়ূরী ঘরে ঢুকে বলে বড় আব্বা তাকে ঘরে ডাকছেন।তাহসিন মাথা নাড়িয়ে আদনানকে নিয়ে বেরিয়ে যায়।তখন পুতুল আর ফাহাদকে নিয়ে ঘরে আসে আফিয়া।ওদের দু’জনকে গোসল করিয়ে দিয়েছে সে।ময়ূরী মুচকি হাসে।বাচ্চা দু’টো বিছানায় উঠে গেলে আফিয়া আস্তে ধীরে বিছানার এক কোনায় বসে।ময়ূরীও পাশে বসে।আফিয়া বলে,
“নতুন বউয়ের মুখ অমন শুকিয়ে থাকে কেন?”
ময়ূরী মাথা নাড়িয়ে হাসে।মাথার কাপড় আর একটু টেনে বলে,
“নতুন আর অছি কই ভাবি?বিয়ের তো মাস খানিক হতে চলল।”
“কী বলে মেয়ে?বছর খানিক না পেরোলে কেউ পুরনো হয় নাকি?তা ছাড়া জামাইয়ের চোখে তো তুমি বরাবর’ই নতুন।”
ভাবির দুষ্টুমি বুঝে ময়ূরী হাসল।আড়চোখে পুতুল আর ফাহাদকে দেখে বলল,
“ওদের গোসল করিয়ে দিয়েছেন কেন?শুধু শুধু কষ্ট করলেন।”
“আমার সন্তান হলে কী এইটুকু করতাম না ময়ূরী?তোমার মেয়ে বুঝি আমার মেয়ে নয়?”
“ছিঃ ছিঃ,অমন কথা বলবেন না।আপনি ওর বড় আম্মা হন।আপনার কষ্ট হয়েছে বলেই বলেছি।খারাপ ভাবে নেমেন না দয়া করে।”
দুজনের কথায় কথায় আজ অনেক কথাই হলো।যতক্ষণ না তাহসিন ঘরে ফিরল,ততক্ষণ দুজনের কথা চলল।তাহসিন ফিরতেই আফিয়া ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।সে ঘর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর তাহসিন বিছানায় এসে শুয়ে পড়ল।ময়ূরী শান্ত চোখে তার দিকে তাকিয়ে আছে।মনের মধ্যে কী চলছে মেয়েটার?আজ বাদে কাল নূপুরের বিয়ে।হয়তো আয়োজন শুরু হবে দুয়েকদিনের মধ্যেই।তাহসিন ব্যস্ত থাকবে ভীষণ।এসব ভাবলেও তার মাথা ব্যথা করছে।হঠাৎ ময়ূরীর শান্ত দৃষ্টি দেখে ভ্রু উঁচিয়ে বলল,
“বেগম সাহেবা আজ চুপ করে আছো কেন?”
“আপনার প্রাক্তন স্ত্রীর নাম কী?”
“সেটা তু..”
ময়ূরী থামিয়ে দিলো তাকে।বিছানা থেকে উঠে শাড়ির আঁচল ঠিক করে বলল,
“আমায় বুঝি বিশ্বাস হয় না আপনার?আমার চারপাশে এত মিথ্যে কেন?যখন বিশ্বাস’ই ছিল না তাহলে বিয়ে কেন করেছেন?”
তাহসিন আশ্চর্য হয়ে উঠে বসল।ময়ূরীর এহেন অদ্ভুত ধরনের কথা শুনে অবাক হয়ে বলল,
“এই মেয়ে,পাগল হয়ে গেছো?কী যা-তা বলছো এসব?”
ময়ূরী যেন রেগে গেল এই পর্যায়।ক্রোধে গলা কিছুটা চওড়া হয়ে এলো।
“পাগল তো আপনি,আপনার পুরো পরিবার আমাকে বানিয়েছেন।”
তাহসিন চোয়াল শক্ত করে ধমক দিয়ে বলল,
“গলা নিচে নামিয়ে কথা বলো।কী সমস্যা তোমার?এভাবে চ্যাঁচাচ্ছ কেন?”
মা বাবার ঝগড়া দেখে পুতুল ভয়ে কেঁদে উঠল।তার দেখাদেখি ফাহাদও ঠোঁট উল্টে কেঁদে ফেলল।তাহসিন তখনও শক্ত চোখে ময়ূরীর দিকে তাকিয়ে আছে।কপালের রগ গুলো ফুলে উঠেছে ক্রোধে।পুতুল এগিয়ে এসে বাবার এক হাত জড়িয়ে ধরে কান্নারত অবস্থায় বলল,
“বাবা!”
তাহসিন চোখ বন্ধ করল।ফোঁস করে চাপা নিঃশ্বাস ফেলে মেয়েকে বুকে জড়িয়ে ধরল।ময়ূরী রাগে কথা না বাড়িয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।যাওয়ার আগে প্রচুণ্ড শব্দ করে দরজা লাগিয়ে গেল।ফাহাদ বিছানার চাদর খামছে ধরে নিচে নেমে দৌঁড়ে গেল বোনের পিছু পিছু।পুতুল চোখের পানি মুছে বলল,
“মায়ের কী হয়েছে বাবা?”
তাহসিন মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে বলল,
“কিছু হয়নি আম্মা।আপনি কাঁদছেন কেন?”
“মা তোমায় বকল কেন বাবা?”
মেয়ের প্রশ্নে তার লজ্জা লাগল খানিক।ক্রোধে যেন মাথা ফেটে যাচ্ছে তার।সন্ধ্যার আগ দিয়ে সজিব এলো ময়ূরীকে পড়াতে।সজিব যতক্ষণ পড়ায়,ঠিক ততক্ষণ তাহসিন ময়ূরীর সাথে ঘরেই থাকে।বাড়ির মানুষের পছন্দ নয়।বউ মানুষকে একা একটা ঘরে পর-পুরুষ পড়াবে সেটা তারা ভালো চোখে দেখেন না।
তাহসিন বিছানায় চোখ বন্ধ করে আধ-শোয়া হয়ে বসে ছিল।ময়ূরী পড়ার টেবিলে পড়ছে।সজিব কিছু অংক দাগিয়ে দিতে দিতে বলল,
“আগামী মাসে পরীক্ষা।তোর তো প্রিপারেশন ভালো না দেখছি।একটু পড়াশোনায় মন দে।”
ময়ূরী গম্ভীর মুখে মাথা নাড়িয়ে বলল,
“এই পরীক্ষা না দিলে কিছু হবে?”
তাহসিন ভ্রু কুঁচকে মাথা ঘুরিয়ে ময়ূরীর দিকে তাকাল।শুধু শুধু রাগ যেন নাকের ডকায় এসে নাচছে।সজিব কিছু বলার আগেই সে ধমক দিয়ে বলল,
“পরীক্ষা দেবে না কেন?নাটক করছো থেকে থেকে?পড়াশোনা গোল্লায় দিয়ে গিন্নি সাজতে চাইছো তুমি?”
ময়ূরী সহ সজিব দু’জনেই চমকে উঠল।মেয়েটা অভিমানী চোখে তাহসিনকে একবার দেখে ঠোঁট কামড়ে মাথা নিচু করল।সজিবের সামনে এমন করে ধমক দেয়াটা তার মোটেও পছন্দ হয়নি।
সজিব বিব্রত হয়ে হালকা কেঁশে বলল,
“বটেই!পড়াশোনা আগে,তারপর সব কিছু।পরীক্ষাটা দিতে হবে।টেস্ট পরীক্ষা না দিলে বোর্ড এক্সাম দিতে সমস্যা হবে।”
তাহসিন বলল,
“ভালো করে মাথায় ঢুকিয়ে দাও।সংসার সংসার না করে যেন পড়াশোনা’টা ভালো মতো করে।”
সময় ছিল আরও আধ-ঘণ্টার মতো।সজিব তাকে পড়িয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলে ময়ূরী টেবিলেই শক্ত হয়ে বসে থাকে।তাহসিন রাগে ফোঁস ফোঁস করে তাকিয়ে থাকে সেদিকে।মেজাজটা আজ কিছুতেই যেন ঠিক করতে পারছে না সে।ভালো মন্দ কিছু বলার আগে সে হনহন করে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।
ময়ূরী শূন্য দৃষ্টি মিলে বসে রইল সেখানেই।মাথা’টা টেবিলে ঠেকিয়ে চোখ বন্ধ করল।নিজেকে বড্ড ক্লান্ত লাগছে।ষোলো বছর বয়সে কাঁধের ভার’টা একটু বেশি’ই হয়ে গেছে বলে মনে হচ্ছে।স্বামী-সংসার যতটা সহজ ভেবেছিল,ঠিক ততটাই কঠিন।
সজিব চলে যাওয়ার পর ময়ূরী ভাইকে নিয়ে নিচে নেমে এলো।মনটা চাইছে বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যেতে।কিন্তু সে নিরুপায়।ভাইকে সাথে নিয়ে নিচে নামার পর ফাহাদ বোনের গলা জড়িয়ে ধরে ধীর স্বরে বলল,
“আপা,আমারে ইকটু পানি দিবা?”
ময়ূরী নিঃশব্দে ভাইকে সোফায় বসিয়ে দেয়।ডাইনিং টেবিলে পানির জগ না থাকায় সে গ্লাস নিয়ে রান্না ঘরের দিকে পা বাড়ালে দেখতে পায় শান্তা আর চম্পা কিছু নিয়ে কথা কাটাকাটি করছে।সব চেয়ে আশ্চর্যের ব্যাপার চম্পা কথায় কথায় শান্তাকে হাত দিয়ে আঘাত করছে।অবাক হলো মেয়েটা।কয়েকপা এগিয়ে যেতেই শুনতে পেল চম্পার কথা।
“তোকে কতবার বলেছি আমার সাথে কথা বলবি না?তুই এই বাড়ির বউ হইতে চাইছিস বানাইছি না?এখন কী মরার শখ হইছে?”
শান্তা বিরক্ত হয়ে বলল,
“বউ হতে চেয়েছি,বান্দি নয়।”
“তোরে কে বান্দি বানায় রখছে?রাজরানির মতো জীবন ভালো লাগে না?”
শান্তা চম্পার দু’হাত আঁকড়ে ধরে বলল,
“খালা,এই মাহতাব আমার বশে আসছে না।লোকটার এক ঘরের মধ্যেই দুইটা ঘর।বিয়ের এই তিন মাসে একটা দিনও তার ধারের কাছে ঘেঁষতে পারিনি আমি।”
চম্পা হঠাৎ রেগে গেল।আড়চোখে রান্নাঘরের দরজার দিকে তাকিয়ে দাঁত চেপে বলল,
“এই রূপ যৌবন দিয়া কী করবি তাইলে?হারামি একটা পুরুষ মানুষরেই এখনো বশে আনতে পারলি না।”
“আমার দোষ কোথায়?মাহতাব রেগে যায় কাছে গেলেই।লোকটার ঘরে বন্দুক আছে।যদি মেরে ফেলে?”
ময়ূরী বাকরুদ্ধ হয়ে আড়ালে থেকে সব’টা শুনল।রাগে শরীরটা জ্বলে যাচ্ছে তার।বাড়ির প্রত্যেকটা মানুষ তার কাছে অ’মানুষের মতো লাগছে।সব গুলো মানুষ মিথ্যেবাদী।এই শান্তা,যে কিনা মাহতাবের বউ হয়ে এই বাড়িতে এসেছে,সে চম্পার আত্মীয় হয়।অথচ বাড়ির একটা মানুষও জানে না এই কথা।ময়ূরী আঁচল দিয়ে কপালের ঘাম মুছলো।ফাহাদ গুলুমুলু শরীরটা সোফায় বসিয়ে ঠোঁট ফুলিয়ে মায়াবী চোখে বোনের দিকে তাকিয়ে আছে।ময়ূরী আঙুল ঠোঁটের উপরে রেখে চুপ করে থাকতে বলল তাকে।আরও অনেক কথাই হয়েছে তাদের মধ্যে,যা সব কিছুই ময়ূরী শুনেছে।আফিয়ার জন্য বড্ড খারাপ লাগল তার।এসব কথা সে কাকে জানাবে?কাকে বলবে এই সত্য ঘটনা?
রাতে খেতে এলো সবাই।তাহসিন গম্ভীর মুখে চেয়ার টেনে বসল।না ময়ূরী তার দিকে তাকাল আর না তাহসিন ময়ূরীর দিকে।পুতুল বড় আম্মার সাথে নিচে নামতেই কান্না জুড়ে বসল।সে কিছুইতেই চেয়ারে গিয়ে বসবে না।সেখানে উপস্থিত ছিলেন রমজান সওদাগর,বোরহান সওদাগর,তাহসিন,আদনান,রুহুল আর বাকি মহিলারা।ময়ূরী পুতুলকে কাছে নিতে গেলে তাহসিন পিছু ঘুরে পুতুলকে ধমক দিয়ে বলে,
“কী সমস্যা আপনার?কান্না-কাটি করতে বারণ করেছি না?”
চমকে উঠল সকলে।ময়ূরীর কদম থমকে গেল তাহসিনের কথায়।সে স্পষ্ট বুঝতে পারছে তার জন্যই তাহসিন পুতুলকে ধমক দিয়েছে।পুতুল বাবার ধমক খেয়ে আফিয়াকে জড়িয়ে ধরে চিৎকার করে কাঁদতে শুরু করল।অরুণিমা বেগম ছেলের প্রতি বিরক্ত হয়ে পুতুলের কাছে গিয়ে কাছে টেনে নিলেন নাতনীকে।কড়া গলায় বললেন,
“তোমার হয়েছে কী তাহসিন?এভাবে বকছো কেন ওকে?”
তাহসিন বলল,
“তাহলে কী করব আম্মা?”
“কী করবে মানে?”
বোরহান সওদাগর বললেন,
“আহা,থামো তোমরা।পুতুলকে খাইয়ে অরুণিমা তোমার কাছে নিয়ে যাও।আজ তোমার কাছে থাকুক।”
অরুণিমা বেগম পুতুলের কান্না থামাতে পারলেন না।আফিয়া অসহায় চোখে ময়ূরীর দিকে তাকাল।ময়ূরী শুষ্ক ঠোঁট ভিজিয়ে আড়চোখে তাহসিনকে দেখে পুতুলের নিকট এগিয়ে শাশুড়ির কাছ থেকে মেয়ে কাছে টেনে নিল।আফিয়াকে বলল ওর খাবার বেড়ে দিতে।ওকে নিয়ে সোফায় গিয়ে বসে পুতুলের এলোমেলো চুল কানের কাছে গুঁজে দিয়ে বলল,
“কাঁদছ কেন মা?”
পুতুল ফিসফিস করে কী যেন বলল।ময়ূরী বুঝতে না পেরে আদুরে হাত গালে রাখলো।
“কী হয়েছে তোমার?সবার সঙ্গে বসে কেন খেতে চাও না?”
পুতুল ছলছল চোখে বিড়বিড় করে বলল,
“খুব মারে,মা!”
“কী বলছো?”
আফিয়া এসে ওদের কথায় ব্যঘাত ঘটালো।ময়ূরী খাবারের প্লেট হাতে নিয়ে দূরে ডাইনিং টেবিলে রুহুলের কোলে ফাহাদকে দেখে বলল,
“ফাহাদের খাওয়া শেষ হলে একটু কষ্ট করে পুতুলের বাবার ঘরে দিয়ে আসবেন ভাবি।আপনার সাথে আমার কিছু কথা আছে।”
আফিয়া মাথা নাড়িয়ে সেদিকে এগিয়ে গেল।ময়ূরী পুতুলকে খাবার খাইয়ে রাতের সব কাজ সেরে তাহসিনের ঘরে গিয়ে দেখল ফাহাদ কিংবা পুতুল কেউ নেই।আফিয়া হয়তো ফাহাদকে নিজের ঘরে রেখেছে।আর পুতুল তার দাদির কাছে।ময়ূরী ঘর থেকে বেরিয়ে সোজা আফিয়ার ঘরে এলো।ফাহাদ ঘুমাচ্ছে।সে দরজা লাগিয়ে দিয়ে বিছানায় এসে বসল।আফিয়া ভ্রু কুঁচকে বলল,
“কিগো?আজ বুঝি জামাইকে রেখে আমার কাছে ঘুমাবে?”
ময়ূরী বলল,
“উনার কথা বলবেন নাতো!খারাপ লোক একটা।আমাকে মোটেও বিশ্বাস করে না।”
“আমার দেবর একটু ভয় পায় তোমায়,বুঝলে?”
“এসব আমি বুঝি না।উনি আমায় একটাবার বললে কী এমন হত?আমায় বুঝি বিশ্বাস করা যায় না?”
আফিয়া ঠোঁট টিপে হাসল।ময়ূরীকে বিছানায় এসে শুতে দেখে আশ্চর্য হয়ে বলল,
“তুমি সত্যি আজ এই ঘরে ঘুমাবে?”
“তা বটে!আমার আপনার সাথে কিছু কথা ছিল।”
“বলো না?”
ময়ূরী রান্না ঘরে ঘটে যাওয়া সকল কাহিনী খুলে বলল আফিয়াকে।আফিয়া অবাক হয়ে সব কিছু শুনে গেল।চম্পা আজ দুই বছর ধরে এই চেয়ারম্যান বাড়িতে থাকে,আর শান্তা এসেছে তিন মাসের কাছাকাছি।এত দিন পেরিয়ে যাওয়ার পরও সে কিছু বুঝতে পারল না।আফিয়া অস্থির হলো।অস্থিরতা নিয়ে বলল,
“বলছো কী ময়ূরী?”
ময়ূরী বলল,
“মিথ্যে কিছুই বলিনি ভাবি।”
সে থামল।বলা উচিত না জেনেও লজ্জা একপাশে রেখে মিনমিন করে বলল,
“ওই ছোট বউয়ের সাথে উনার কোনো সম্পর্ক এখন অব্দি হয়নি।”
আফিয়া বাকরুদ্ধ হয়ে বসে রইল।সে কী ভাবছে তা ধরতে পারল না ময়ূরী।তার আজ মনে হচ্ছে বয়সের তুলনায় হুট করেই কেমন বড় হয়ে গেছে।ভারী আশ্চর্য ব্যাপার!
ফাহাদ ঘুমের ঘোরে বুকের শরীর ঘেঁষে শুলো।আফিয়ার আশ্চর্য বদনপানে তাকিয়ে রইল মেয়েটা অনেকক্ষণ।আফিয়ার কোনো স্বারা-শব্দ নেই।হঠাৎ দরজার বাইরে থেকে তাহসিনের গলার কণ্ঠস্বর শুনতে পেল তারা।আফিয়া নিজেকে সামলে আধো গলায় বলল,
“তোমার জামাই এসেছে।”
কিশোরী কন্যা পর্ব ১৬
ময়ূরী বিরক্ত হয়ে কাঁথা দিয়ে মুখ ডেকে বলল,
“চলে যেতে বলুন।ওই লোকের সাথে আমার কোনো কথা নেই।”
আফিয়া বিছানা থেকে নেমে দাঁড়াল।এগিয়ে গিয়ে দরজা খুলে দিতেই তাহসিন গম্ভীর কণ্ঠে বলল,
“আমার বউ কই?”
আফিয়া বলল,
“ঘুমাচ্ছে।”
সে মাথা উঁচিয়ে ঘরের ভেতরে দৃষ্টি রেখে দেখল বিছানায় ফাহাদ আর ময়ূরী শুয়ে আছে।সে বেজায় বিরক্ত হলো।রেগে বাক্য ব্যায় না করে হনহনিয়ে নিজের ঘরের দিকে রওনা হলো।
