কিশোরী কন্যা পর্ব ২৫
হামিদা আক্তার ইভা
নরম বিষণ্ণময় এক দুপুর।
আকাশজোড়া মেঘের ঘন চাদর টেনে বসে আছে, যেন রোদকে পুরো গ্রামের বাইরে তালা মেরে রেখেছে। চারদিকে টুপটাপ করে বৃষ্টি পড়ছে।কখনো টিনের চালায় টুপটাপ,কখনো মাটির উঠোনে ঝমঝম, আবার কখনো তালপাতার খসখসে পৃষ্ঠে টুপটুপ শব্দ তুলে।বৃষ্টিতে ভিজে বাগানটা কাদায় মাখামাখি। মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা শিমুল গাছের গুঁড়ি বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে নিচে। পুকুরের জল উপচে উঠছে, পানির বুকে শাপলার পাতাগুলো দুলছে বৃষ্টির ছন্দে।দূরে কারও খড়ের ঘরে কেরোসিনের চিমনি জ্বলছে হালকা হলুদ আলোয়। ভেজা বাতাসে কাঁচা মাটির গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে চারদিকে।
পাশের বাড়ির ছেলেপেলেরা বারান্দায় দাঁড়িয়ে বৃষ্টি দেখছে, হাত বাড়িয়ে ফোঁটা ধরে হাসাহাসি করছে। গরুর বাঁধন থেকে গরু মাথা নেড়ে নেড়ে বৃষ্টির শব্দ শুনছে।মুরগি গুলো দৌঁড়ে গিয়ে লুকিয়েছে খোপের ভেতর।দুপুর হলেও গ্রামের মানুষের ঘরে ঘরে এক ধরনের অলস নিস্তব্ধতা।কনক নিজের ঘরে বসে বসে একমনে বাইরে বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে ছিল।এই মনের দুঃখ গুলো যদি বৃষ্টির মতোই ঝরঝর করে মাটির সাথে মিশে যেত,তাহলে কতই না ভালো হতো।আজ-কাল চোখের সামনে প্রিয় পুরুষের অর্ধাঙ্গিনীকে দেখলে গায়ে জ্বলন ধরে।থরথর করে কেঁপে উঠে শরীর।কেন হয় এমন?কেনোই বা এত হিংসে?কনক তো চায় না হিংসে করতে,তবু কেন এমনটা হয়?ময়ূরীর প্রতি তাহসিনের যত্নটা যেন গোলাপের কাটার মতন মনে হয়।সে লম্বা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল।বাড়িতে আয়োজন চলছে।বাইরে বৃষ্টি হওয়ার কারণে সেখানে কাজ শুরু হবে পরে।
আপাতত বাড়ির ভেতরেই চলছে সব।সে ঘর থেকে বেরিয়ে এলো বাইরে।ফাহাদ পুতুলকে নিয়ে তাহসিনের ঘরের সামনে ঠান্ডা ফ্লোরে বসে বসে খেলছে।সে দু’টো বাচ্চাকে ভালো করে পরখ করল।সম্পর্কে এরা মামা-ভাগ্নি হয়।মিষ্টি একটা সম্পর্ক।
পুতুল ফাহাদকে চোখ পাকিয়ে ঝাড়ছে আবার খিলখিল করে হাসছে।ফাহাদ গাল ফুলিয়ে পুতুলের ঝাড়ি শুনে মিনমিন করে বলল,
“আমারে ন্যাংটা পুতুল দিলা কেন?আমি ইডা নিমু না।”
পুতুল রাগ দেখিয়ে বলল,
“একটা চটকানা দিব।এটা নিলে কী হয়?”
“তুমি আমারে ইডা দিলা কেন?”
“দিয়েছি এই অনেক।ফাজিল মামা!”
ওরা ওদের মতো ঝগড়া করছে।কনক নিচে নেমে এলো।ড্রয়িংরুমে বাড়ির মানুষ আলোচনায় বসেছেন।সে সেখানে গিয়ে যুক্ত হলো।এখন একাকিত্ব কাটানোর জন্য হলেও মানুষের মাঝে মিশতে হবে।
সওদাগর বাড়ির পেছনটা একটু অন্যরকম।পুকুরের পাশে শুধু কাঠগোলাপের বাগান।সাদা আর হলুদ রঙা।হিমি বাগানে এসেছিল ফোনে কথা বলতে বলতে।ঢাকা থেকে ঘনঘন ফোন আসছে তার।মায়ের মাথায় বিয়ের ভূত চেপেছে।তার ভাষ্যমতে মেয়ের বয়স ৩০ হতে চলল,অথচ এখনো বিয়ে হলো না।মানুষ-জন কলঙ্ক লাগানোর আগেই মেয়ের বিয়েটা দিবেন।এতে হিমির ঘোর আপত্তি।বিয়ে যে কেন করতে চায় না,এটা না নিজে বুঝতে পারছে আর না অন্যকে বোঝাতে পারছে।সে কল কেটে বাগানে বসল সিমেন্টের ব্রেঞ্চে।খানিকক্ষণ আগেই বৃষ্টি থেমেছে।ভেজা ব্রেঞ্চে বসেই মেয়েটা মাথা ঝুঁকিয়ে লম্বা শ্বাস টানল।এই জীবনের শেষ কোথায়?মানুষের হাজারটা কথা শুনতে শুনতে এখন নিজেকে বড্ড অসহায় লাগে,ক্লান্ত লাগে।
সে মাথা উঁচিয়ে পাশে তাকিয়ে দেখল,আদনান হেঁটে আসছে বাচ্চাদের মতো করে।মুখে লেগে আছে দুষ্টু হাসি।হিমি তাকিয়েই রইল।দৃষ্টি সরাল না একটুও।আদনান ওর পাশে এসে বসল নিঃশব্দে।
“তুই এত চিপায়-চুপায় ঘুরিস কেন?তোকে পুরো বাড়ি খুঁজে এলাম।”
হিমি বলল,
“এসব রেখে যা করতে গ্রামে এসেছিস সেটা কর।তোদের দু’জনের কাহিনি তো আমি বুঝতে পারছি না।কাজের কাজ না করে নিজেদের পার্সোনাল লাইফ নিয়েই ব্যস্ত।আমার তো কাজ নেই এখানে।ভাবছি কাল সকালেই চলে যাব।”
আদনান মুখ কালো করল।বলল,
“আপাতত কাজ বন্ধ।স্যারের সাথে কথা হয়েছে।”
“বেশ ভালো!”
“তুই যাবি কেন?”
“এখানে পুতুলের জন্য এসেছিলাম আমি।এখন ওর আমাকে দরকার নেই,তাহলে থেকেই বা করব কী?”
আদনান ঠোঁট চেপে নিচু স্বরে বলল,
“আমি কী একটু বেশিই বিরক্ত করছি তোকে?যদি এমন হয় আমার কারণে তুই বিরক্তবোধ করছিস,তাহলে আমি আর তোকে বিরক্ত করব না।”
হিমি মাথা তুলে আদনানের দিকে তাকাল।ছেলেটার গম্ভীর মুখ,গভীর চোখ।হঠাৎ হিমির চোখের কোনায় পানি চিকচিক করে উঠল।মেয়েরা মুখ ফিরিয়ে নিয়ে বলল,
“তুই কে?আমার সামনে থেকে যা!”
“সত্যি বিরক্ত লাগে আমাকে?”
“খুব।”
“মন থেকে বলছিস?”
হিমি লম্বা শ্বাস টানল।বলল,
“কাল রাতে দেখলাম ছাদে বসে বসে বর্ষার সাথে আড্ডা দিচ্ছিলি।তাহলে কী বিয়ের দাওয়াতটা এবার পাব?”
আদনান আশ্চর্য হয়ে বলল,
“ছাদে?তাও আবার আমি?”
“হুম,বর্ষার সাথে।”
“তুই কী পাগল হয়েছিস?আমি কখন রাতে ছাদে গিয়েছি?”
হিমির রাগ হলো খুব।সে দাঁত চেপে বলল,
“কেন এত নাটক করছিস?কেন জ্বালাচ্ছিস আমাকে?”
আদনান শান্ত হয়ে একটু এগিয়ে এলো নিকটে।হিমির নরম ছোট্ট হাত জোড়া মুঠোয় নিয়ে বলল,
“আমাকে অবিশ্বাস করছিস?আল্লাহর নাম নিয়ে বলছি,তুই ব্যতিত অন্য কোনো নারী আমার জীবনে নেই।”
হিমি বাচ্চাদের মতো কেঁদে উঠল এবার।শক্ত হৃদয়ের মেয়েটাও আজ কেমন তুলোর মতো নরম হয়ে এলো।আদনান হাত বাড়িয়ে বুকে টেনে নিল তাকে।মাথায় হাত বুলিয়ে দিল নিঃশব্দে।মেয়েটা শুধু বয়সে বড়,তা-ছাড়া আদনানের কাছে এই মেয়েকে বাচ্চা একটা মেয়েই মনে হয় সবসময়।এইযে বুকের ভেতর সব কিছু চেপে রেখে দেয়,এই জিনিসটা আদনান নিজেও জানে।মুখে মুখে হাজার কথা বললেও হিমি যে তাকে ভালোবাসে—এটাও সে খুব ভালো করেই জানে।
হিমি আদনানের বুকের কাছে শার্ট খামছে ধরে বলল,
“সবাই তো মিথ্যে বলে।আর আজ তুইও বললি।ওই মেয়ের সাথে তোর বিয়ে ঠিক হয়েছে তাই না?”
আদনান বলল,
“নাহ!”
“সত্যি কেন বলছিস না?”
“বললে কী হবে?”
“তোকে খু’ন করব।”
আদনান শব্দ করে হেসে উঠল।হিমিকে ছেড়ে ওর চোখের পানি মুছে দিতে দিতে বলল,
“তাহলে চল,আজই কাজী ডেকে আনি।এই আদনানের বউ বানাব তোকে।বউ হবি আমার?”
হিমি চোখ পাকিয়ে বলল,
“তুই আমার ছোট।যাহ,পাগলামি করবি না।”
আদনান চোখ ছোট ছোট করে হিমির চিবুক ধরে নিজের দিকে ফিরিয়ে ফিসফিস করে বলে,
“আমার তোকে চাই।আজ রাজী না হলেও কাল জোর করে তুলে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করব।”
“পাগলামি করিস কেন এত?”
“ভালোবাসি তাই।”
হিমি উঠে দাঁড়াল।আদনানের থেকে দূরুত্ব বজায় রেখে বলল,
“জানি না তুই কেন আমায় ভালোবাসিস,কিন্তু আমায় ভালোবাসাটা বড্ড অন্যায় হায়ে গেছে তোর।আমায় ভালোবাসতে নেই।ভালোবাসলে শুধু আগুনে পুড়বি।”
আদনান ঠোঁট জুড়ে হেসে ফেলল।হ্যালান দিয়ে বসে হিমির ব্যথাতুর চোখের দিকে তাকিয়ে বলল,
“তোকে নিজের থেকেও বেশি ভালোবাসি।শুধু একবার আমার হয়ে দেখ,পুরো পৃথিবীর সুখ তোর পায়ের নিচে থাকবে।”
হিমি বাকরুদ্ধ হয়ে খানিকক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল।আদনানকে সে বোঝাতে পারবে না।মেয়েটা বাড়ির পথে হাঁটতে হাঁটতে বলল,
“অসম্ভব!”
নামাজ শেষ করে তাহসিন বাড়ি ফিরেছে।ময়ূরী রান্না ঘরে শাশুড়ির সাথে কাজ করছিল।বাড়িতে মেহমান আসবে।তাদের জন্য থাকার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।রুহুল লেগে আছে বাড়ির কাজে।অন্যদিকে তাহসিন বাড়ি ফিরতেই তাকে খাবার দেয়া হলো।সে বাদে সবাই খেয়ে কাজে লেগে গেছে।বড় ডাইনিং টেবিলটায় একা বসে আছে সে।ময়ূরী গম্ভীর মুখে একে একে সব খাবার এনে সেখানে রাখছে।তাহসিনের সাথে তার কথা হয়েছে কিছু কিছু।
তাহসিন সাহস করে ডাকল তাকে।ময়ূরী ভাত বেড়ে চোখ তুলে বলল,
“জি?”
তাহসিন বলল,
“তুমি খেয়েছ?”
“পুতুল আর ফাহাদ এখনো খায়নি।ওদের খাওয়া শেষ হলে খেয়ে নিব।”
“ওরা কোথায়?”
“বড় ভাবি নিয়ে গেছে পরিষ্কার করানোর জন্য।”
তখন সিঁড়ি বেয়ে আফিয়া নেমে এলো দুই বিচ্ছুকে নিয়ে।ফাহাদ দৌঁড়ে এলো তাহসিনের পায়ের কাছে।তাহসিন বলিষ্ঠ হাত দিয়ে বাচ্চাটাকে উঠিয়ে কোলে বসাল।পুতুল ধীরে ধীরে এসে চেয়ারে বসল চাচির সাহায্যে।ওদের খেতে দেয়ার পর ময়ূরী দেখল,তাহসিন ফাহাদকে খাইয়ে দিচ্ছে।পুতুল চুপচাপ নিজের ছোট ছোট হাত দিয়ে ভাত খাচ্ছে।মেয়েটা ঠোঁট কামড়ে ধরল।মাথার ঘোমটা ঠিক করে আশেপাশে তাকাল।সে ফাহাদকে এই বাড়ি রাখতে চাইছে না।বাচ্চাটা যে বোনের আঁচল ছাড়তে চায় না।ময়ূরী ভাবল,নুপুরের বিয়ের দিন আব্বা-আম্মার সাথে ফাহাদকে পাঠিয়ে দিবে বাড়িতে।
বাচ্চাদের খাওয়া হলে ময়ূরী বলল,
“আপনি খেলেন না যে?”
তাহসিন বলল,
“তুমিও সাথে খেয়ে নাও।”
“পরে খাব।”
“আমিও।”
“আপনি কী বাচ্চা?বাচ্চাদের মতো করছেন কেন?এত ভালোবাসা আমার সহ্য হচ্ছে বা।”
“স্বামীর ভালোবাসা পেতে ভাগ্য লাগে।শুকরিয়া আদায় করো মেয়ে।”
ময়ূরী কথা না বাড়িয়ে খেয়ে নিল তখনই।সন্ধ্যায় দাদি শাশুড়ি তাকে ডেকেছেন নিজের ঘরে।ময়ূরী উপস্থিত হওয়ার পর তাকে কিছু নতুন গয়না দেয়া হয়েছে।বাড়ির বউ হিসেবে এসব তার পাওনা ছিল দাদি শাশুড়ির কাছে।ময়ূরী নিতে না চাইলেও তিনি জোর করে দিয়েছেন।মহিলা বাড়ির বউদের স্বাধীনতা পছন্দ না করলেও বাড়ির প্রত্যেকটা বউকে ভীষণ ভালোবাসেন।ময়ূরী গয়না গুলো তাহসিনের আলমারিতে রেখে দিয়েছে।এই বাড়ি থেকে যাওয়ার আগে যে শরীর থেকে গয়না খুলেছে,আর পরেনি।সে বিয়ের আগে যেমন সাধারণ ভাবে থাকত,ঠিক সেভাবেই রয়েছে।
রাতে খবর এলো মাহতাব ফিরেছে ঢাকা থেকে।তাহসিন গেছে বড় ভাবির ঘরে,ভাইয়ের সাথে দেখা করতে।আফিয়ার ঘরে আফিয়া গম্ভীর হয়ে বসে ছিল মাহতাবের পাশে।তাহসিনের সাথে ময়ূরী ঘরে প্রবেশ করতেই সে পালঙ্ক ছেড়ে উঠে দাঁড়াল।ময়ূরী ঘরে প্রবেশ করে সালাম দিল মাহতাবকে।অদ্ভুত দেখাচ্ছে লোকটাকে।তাহসিন এগিয়ে গিয়ে বসল ভাইয়ের পাশে।মেয়েটা আশ্চর্য হয়ে তাহসিনের কাণ্ড দেখছে।এতদিন পর বড় ভাই বাড়ি ফিরেছে; অথচ সে একটাবার জিজ্ঞেস করেনি এতদিন সে কোথায় ছিল?কেনোই বা বাড়ি ফিরে আসেনি।ময়ূরী নিজেই নিচু স্বরে বলল,
“ভাইজান,এতদিন বাড়ি ফিরলেন না যে?বড় আম্মা তো চিন্তায় ছিলেন ভীষণ।”
মাহতাব ময়ূরীর দিকে তাকাল না।দৃষ্টি অন্যপাশে রেখেই নরম গলায় বলল,
“ঢাকায় কাজে ব্যস্ত ছিলাম।”
“আপনার ফোন কেন বন্ধ ছিল?”
“ফোন চুরি হয়ে গেছে।”
ময়ূরীর আরও কিছু প্রশ্ন ছিল,কিন্তু সে চুপ রইল।ফোন চুরি হয়ে গেছে বলে যে বাড়িতে কাউকে কল করতে পারেনি এই সম্পূর্ণ কথা খানা তার বিশ্বাস হলো না।তবু সে চুপ রইল।তাহসিন খানিক্ষণ ভাইয়ের সাথে কথা বলে বেরিয়ে এলো ঘর থেকে।রাত হয়েছে অনেক।ফাহাদ আর পুতুলকে নিয়ে গেছেন অরুণিমা বেগম।তিনি ছেলে আর ছেলের বউকে একটু একা সময় কাটাতে দিতে চাইছেন।দু’জনের মাঝে যেই ঝামেলা চলছে,সেটা ঠিক করার জন্য হলেও দু’জনকে একা ছেড়ে দেয়া উচিত।
বাড়িতে অনেক কাজ।আগামী পরশু গায়ে হলুদ হবে।বাড়ির বউ বলে রজনী বেগম এত্ত কাজ ধরিয়ে দিয়েছেন তাকে।মেয়েটা লম্বা দীর্ঘশ্বাস ফেলে চোখ বন্ধ করল।বাইরে টুপটাপ করে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি হচ্ছে।তাহসিনের ঘরের বারান্দায় ঘরের আপছা আলোয় বসে আছে মেয়েটা।পাশে তাহসিন।সে ময়ূরীর শরীর ঘেঁষে বসে আছে পাশে।বেতের চেয়ারের পাশাপাশি একসাথে দুই নর-নারী নীরবতা পালন করতে ব্যস্ত।ময়ূরী ঘাড় ঘুরিয়ে তাহসিনর দিকে তাকাল।বলল,
“না ঘুমিয়ে এখানে কী করছেন?”
তাহসিন বলল,
“আমায় কী ক্ষমা করেছ?নাকি এখনো অভিমানে বুক ভারী হয়ে আছে?”
“যদি বলি বুকে যন্ত্রণা হচ্ছে!”
“কারণটা কী তোমার স্বামী?”
কিশোরী কন্যা পর্ব ২৪
মেয়েটা ঘাড় নিচু করে মাথা চেপে ধরল।তাহসিন নিঃশব্দে ফ্লোরে গিয়ে বসল।ময়ূরীর কোলে মাথা রেখে ভাঙা গলায় বলল,
“আমি ভীষণ শক্ত একটা মানুষ,জানো?কখনো কারোর সামনে মাথা ঝুঁকাতে শিখিনি।তবে তোমায় কবুল করার পর থেকে পদে পদে মাথা ঝুঁকিয়েছি।বিয়েটা আমি পুতুলের জন্যই করেছিলাম,কিন্তু আল্লাহ তো আমায় ভালোবাসা দিয়েছে।আজ যদি স্বীকার করি,আমার বিয়ে করা স্ত্রীকে আমি ভালোবাসি,তাহলে কী তুমি আমায় বিশ্বাস করবে না?
