কিশোরী কন্যা পর্ব ৩৩
হামিদা আক্তার ইভা
“মা” শব্দটা ছোট হলেও এর মূল্য ততটাই মূল্যবান।আম্মার সাথে আগে কতই না ঝগড়া হয়েছে দুই বোনের।কত বকা খেয়েছে আম্মার কাছে।আজ তো আম্মা নেই!আর কেউ বকবে না,শাসন করবে না,ভালোবেসে বুকে টেনে নিবে না।ষোড়শী বালিশে মুখ গুঁজে হুহু করে কাঁদছে।কেমন করে এই যন্ত্রণা সইবে সে?এই যন্ত্রণা যে সয়ে নেয়ার মতো নয়।তখন মধ্যরাত।মধু চলে গিয়েছিল কিছুক্ষণ থেকেই।তাহসিন এসেছিল ঘরে।সে ঘুমে থাকলেও ছোট্ট ফাহাদ যেন বোনের কষ্টটুকু টের পেল।পাশে শুয়ে থাকা ফাহাদ পিটপিট করে চোখ খুলে আপছা আলোয় বোনের দিকে তাকাল।হামাগুড়ি দিয়ে নিকটে এগিয়ে গিয়ে আধো স্বরে বলল,
“ও আপা!আপা!”
বাচ্চাটার কণ্ঠস্বর শুনে যেন কান্না আরও দ্বিগুণ হলো।মেয়েটা মুখ তুলে পাশে তাকিয়ে ভাইকে দেখে উঠে বসল।ফাহাদ শরীর ঘেঁষে আসতেই ময়ূরী হাত বাড়িয়ে ভাইয়ের গালে হাত রেখে বলল,
“কী হয়েছে সোনা?উঠলি কেন?”
ফাহাদ ঠোঁট উল্টে বলে,
“আমার খিদা লাকচে।”
ময়ূরী উঠে এলো বিছানা থেকে।ঘরের লাইট জ্বালিয়ে খাবার ঘর থেকে অল্প কিছু ভাতের সাথে তরকারি নিয়ে এলো।ফাহাদ বোনের কাছে এসে বসল।খাবার দেখেই বাচ্চাটার মুখ উজ্জ্বল হয়ে এসেছে।ঠোঁট কামড়েও যেন ময়ূরী কান্না আঁটকে রাখতে পারল না।ভাত মাখিয়ে ভাইয়ের সামনে ধরতেই ফাহাদ খাবার মুখে নিয়ে মুচকি হেসে বলে,
“খুব মুজা।”
ফাহাদের খেতে বেশ সময় লাগল।ফিরে এসে ফাহাদকে আর ঘুম পারাতে পারল না।সে গল্প শুনবে।ময়ূরী পাতলা কাঁধাটা ফাহাদের গায়ে ভালো করে জড়িয়ে ধরে ধরা গলায় বলল,
“অনেক রাত হয়েছে,এখন ঘুমো।”
“আপা!তুমি কাঁদু?”
“না।”
“আমি দিকচি।”
“কাঁদি না।”
বাচ্চাটা বিড়াল ছানার মতো বোনের শরীর ঘেঁষে চোখ বন্ধ করল।ঘুমাবে বোধহয়।ময়ূরী খোলা জানালার দিকে তাকিয়ে রইল অনেকক্ষণ ধরে।সে জানে,আব্বা এখন নিশ্চই মায়ের কবরের পাশে বসে ফিসফিস করে কথা বলছে।সে পাশ ফিরে শুতেই তাহসিন ঝাঁপটে ধরল তাকে।সব কিছু কেমন বিষণ্ণময় লাগছে।কোথাও একটুখানি সুখ নেই।
রাত পেরিয়ে সকাল হলো।আলোয় চিকচিক করছে চারপাশ।শবনমের মা বাড়ির দরজায় কড়া নাড়লেন।ওয়াহিদ দৌঁড়ে গিয়ে দরজা খুলে দিতেই চাচি ভেতরে এসে ভূত দেখার মতো চমকে উঠলেন।তাহসিন রান্না ঘরে বসে বসে রান্না করছে।চাচি হায়হায় করে বললেন,
“জামাই বাবা,কী করো তুমি?এই সকাল বেলায় তুমি পাক ঘাড়ে ঢুকলা কেন?”
তাহসিন বলল,
“চাচি আস্তে কথা বলুন।ওরা সারারাত ঘুমায়নি।এখন বোধহয় চোখটা লেগে এসেছে।”
মহিলা এগিয়ে এসে রান্না ঘরের সামনে ফিরায় বসে বললেন,
“তুমি বাইরে বাইর হও জামাই।আমি কইরা দেই সব।”
তাহসিন কপালের ঘাম মুছে বলল,
“দরকার নেই চাচি।আমি পারব।”
চাচি অবাক হয়ে বাড়ির ছোট জামাইকে দেখল।এত বড় বাড়ির ছেলে হয়েও যেন ভীষণ সাধারণ একটা ছেলে।না অহংকার আছে,না টাকা পয়সার দেমাগ আছে আর না কাউকে ছোট করে দেখে।তাহসিন চুলায় তরকারি বসিয়েছে।ভাত রান্না শেষ।সে আড়চোখে ঘরের দিকে তাকাল।ময়ূরী কিংবা মধু কেউই ওঠেনি এখনও।চাচি বললেন,
“তুমি রানতেও জানো?”
তাহসিন হাসল।বলল,
“আলহামদুলিল্লাহ,সব কিছুই মোটা-মোটি পারি।”
“আমাগো ময়ূরী কিন্তু রানতে জানে না।”
“এখন হয়তো জানে না কিন্তু সময়ের সাথে সাথে শিখে যাবে।”
তাহসিনের আচরণে বেশ খুশি হলেন তিনি।ওয়াহিদ গেছে থালাবাসন ধুতে।তখন ঘরের ভেতর থেকে ফাহাদ বেরিয়ে এলো।ছোট্ট ছোট্ট পা ফেলে এগিয়ে এলো তাদের নিকটে।তাহসিন ওকে নিকটে আসতে দেখে চুপচাপ বসে ছিল।ফাহাদ চাচিকে দেখেও না দেখার ভান করে রান্নাঘরে ঢুকে তাহসিনের শরীর ঘেঁষে দাঁড়াল।বলল,
“ওও দুলাবাই,আপা আমারে মারবু।”
তাহসিন কপাল কুঁচকে বলল,
“কেন?”
“বিছনায় পেসাব কুরচি।”
তাহসিন প্রথমে কথাটার মানে বুঝতে পারল না।পরে ফাহাদের কথায় চোখ বড় বড় হয়ে গেল।সে নিচু হয়ে বাচ্চাটার মাথায় হাত রেখে নরম গলায় বলল,
“ভয়ের কিছু নেই।”
ফাহাদ চোখ নামিয়ে নিল।ভয় আর লজ্জা মিলিয়ে ছোট্ট বুকটা কাঁপছে।তাহসিন দেরি না করে ওকে কোলে তুলে নিল।চাচি আর ওয়াহিদ কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাহসিন ফাহাদকে নিয়ে ঘরের দিকে পা বাড়াল।ময়ূরী তখনও ঘুমে আচ্ছন্ন।সারারাতের কান্না আর ক্লান্তিতে শরীরটা ভেঙে পড়েছে তার।তাহসিন বিছানার পাশে গিয়ে থমকে দাঁড়াল।ভেজা চাদরটা চোখে পড়তেই সব বুঝে গেল।
সে আস্তে করে ফাহাদকে নামিয়ে দিল।কোনো বিরক্তি নেই মুখে, নেই একফোঁটা রাগ।বরং কোমল স্বরে বলল,
“আপা ঘুমাচ্ছে।চুপচাপ বাইরে দাঁড়াও।”
ফাহাদ ভীত চোখে তাকিয়ে মাথা নাড়ল।তাহসিন চুপিচুপি চাদর আর বালিশ সরিয়ে নিল।ভেজা বিছানা গুছিয়ে বাইরে নিয়ে এলো।ওয়াহিদ এগিয়ে এসে বলল,
“আমি ধুইয়ে দেই?”
তাহসিন মাথা নাড়ল।
“থাক,আমি করে নিচ্ছি।”
চাচির চোখ ভিজে উঠল।এমন জামাই তিনি জীবনে দেখেননি।বাচ্চার প্রস্রাবে ভেজা বিছানাও যে এত স্নেহে সামলানো যায়, তা তার জানা ছিল না।সব গুছিয়ে তাহসিন আবার ঘরে ঢুকল।নতুন চাদর বিছিয়ে দিল।তারপর ফাহাদকে তুলে এনে পাশে শুইয়ে দিল।বাচ্চাটা সাহস পেয়ে বলল,
“দুলাবাই,আপা মারবু না তো?”
তাহসিন হেসে বলল,
“আমি থাকতে মারবে কেন?”
ময়ূরীর ঘুম ভাঙল একটু পরে।চোখ মেলে পাশে ফাহাদকে দেখে চমকে উঠল।বিছানাটা শুকনো,পরিপাটি।সবকিছু নতুন করে সাজানো।সে ধড়মড় করে উঠে বসতেই তাহসিন দরজার পাশে দাঁড়িয়ে বলল,
“ঘুম হলো?”
ময়ূরীর চোখ জ্বালা করছে।সে জানতে পারল ফাহাদ বিছানা নষ্ট করেছিল বলে অন্য চাদর বিছিয়েছে সে।সময় গেলো নিজ নিয়মে।সকাল পেরিয়ে বিকেল হলো।আগামীকাল মিলাদ হবে।তাহসিন বলল এতিমখানায় মিলাদ দিয়ে দিতে।বক্কর তাতেই রাজী হলেন।পরেরদিন ফিরোজা বেগমের নামে মিলাদ পড়ানো হলো।যা যা করতে হয়েছে,সব ওয়াহিদ আর তাহসিন করেছে।গ্রামের সরু রাস্তা ধরে হাঁটছে দু’জন।ওয়াহিদের চোখে মুখে ক্লান্তির ছাপ।তাহসিন বলল,
“আপনার কিছুদিন রেস্ট নেয়া উচিত।”
ওয়াহিদ বলল,
“লাস্ট কেস গুলো বড্ড জটিল।এগুলো রেখে রেস্ট নেই কী করে?”
“এসব নিয়ে আপনাকে ভাবতে হবে না।”
“স্যার কিছু বলবেন না?”
তাহসিন দীর্ঘশ্বাস ফেলল।ফের বলল,
“আব্বার হয়ে একটা কথা বলার ছিল।”
“বলুন।”
“মধুমিতা আমার ছোট বোনের মতো।সে আমার স্ত্রীর বোন মানে আমারও বোন।আমি চাইব আমার বোন সুস্থ-স্বাভাবিক জীবন যাপন করুক।”
“জি।”
“আমি যতদূর জানি আপনি মধুমিতাকে পছন্দ করেন।”
ওয়াহিদ বিচলিত না হয়ে স্পষ্ট গলায় বলল,
“ওকে ভালোবাসি আমি।বিয়ে করতে চাই।”
তাহসিন হাসল।হেসে বলল,
“তাড়াতাড়ি করুন।আমি তো আর ময়ূরীকে এখানে বেশিদিন রাখতে পারব না বুঝতেই পারছেন।আম্মা এতদিন বেঁচে ছিলেন,একটা ভরসা ছিল।কিন্তু এখন মানুষের মুখ বন্ধ করে রাখা যাবে না।”
ওয়াহিদ মাথা নাড়ল।সে আম্মার সাথে কাল কথা বলেছিল।ওয়াহিদের মা এসেছিলেন এবং এসে ছেলের প্রস্তাব শুনে প্রথমে রাজী না হলেও ছেলের জেদের কাছে বাধ্য হয়েছেন।
জায়গাটা শহরের একটা এলাকা।পুরান ঢাকার মতন গিজগিজ গুলি দিয়ে ভরা।সামনেই বিশাল বড় একটা পুরনো বাড়ি।বাড়িটা পুরনো হলেও রং করে সেটা নতুন বানানো হয়েছে।মানুষের মুখে শোনা যায় এটা “বে’শ্যালয়”।ওয়াহিদ বুক টানটান করে দাঁড়াল।দৃষ্টি রাখল বাড়ির ভেতর।জানালার ফাঁক দিয়ে কিছু নারী অস্বাভাবিক ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছে।কারোর বুকে আঁচল নেই,কারোর ওড়না কিংবা অঙ্গ ঢেকে রাখার মতো কাপড়।সে দৃষ্টি সরিয়ে পিছু ফিরে দাঁড়াল।দুই পাশে সারি সারি দোকান।আশেপাশে বেশ মানুষের ভিড়।পেছনের বাড়িতে কত পুরুষ ঢুকছেন আবার বের হচ্ছেন।ওয়াহিদ নাক কুঁচকে একটু দূরে গিয়ে দাঁড়াল।কারোর নাম্বারে কল কথার খানিক্ষণ পর রিসিভ হতেই সে বলল,
“সন্দেহজনক তো কিছু দেখছি না।”
ওপাশ থেকে এক গম্ভীর পুরুষের কণ্ঠস্বর ভেসে এলো,
“আপনি আপনার কাজ করুন।”
“আমার বিয়ে পরশু,আর আমি এখানে বসে ডিউটি করব?”
ওপাশ থেকে কী বলল তা শোনা গেল না।ওয়াহিদ মুখ কালো করে কল কেটে দিল।সে ফের তাকাল বাড়িটার দিকে।সে পা বাড়াল বাড়ির ভেতর।বেশিরভাগ মেয়েদের বয়স কম।বাচ্চা মেয়ে গুলো জানো’য়ারদের নেশা।মায়া হলো তার।মধু আর ময়ূরীর বয়সী মেয়েই যেন বেশি।এরা সবাই কারোর বোন,কারোর মেয়ে!সে দারোয়ানের কাছে জিজ্ঞেস করে জানতে পেরেছে “বড় আপার” ঘরটা তিন তলায়।বড় আপা এসব দেখা-শোনা করেন।ওয়াহিদকে বড় আপা ঘরে ডাকলেন।সে ঘরে প্রবেশ করে দেখল একজন নারী বাকানো কোমর নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন জানালার পাশে।কোমর সমান লম্বা চুল গুলো মাথায় বেণী গাঁথা,আর সেখানে লাল টুকটুকে একখানা গোলাপ।গায়ের চামড়া ধবধবে সাদা।ওয়াহিদ ডাকতেই সে ঘুরে দাঁড়াল।ভীষণ সুন্দর সামনে দাঁড়ানো মানুষটা।বয়স খুব বেশি নয়।৩৩-৩৫ এর মধ্যেই হবে।ওয়াহিদকে দেখে সে ঠোঁট টেনে হাসল।ওয়াহিদ হালকা কেঁশে বলল,
“আপনার সাথে দেখা করতে এলাম।”
সুখী তাকে বসতে বলল সোফায়।ওয়াহিদ গিয়ে বসল সেখানে।সুখী এগিয়ে এসে একটু দুরত্ব রেখে বসল পাশে।ওয়াহিদের ঘাম ছুটে যাচ্ছে এহেন পরিস্থিতির মুখো-মুখী হয়ে।সুখীর গায়ের কাপড় ঠিক নেই।ওয়াহিদ বলল,
“আপনার সাথে কথা ছিল।”
সুখী হেসে হাত বাড়িয়ে ওয়াহিদের কাঁধে হাত বুলিয়ে বলল,
“অন্য কাউকে কেন চাই সাহেব?এই সুখী সবার কাছে ধরা দেয় না।”
“আ..আপনি…”
সুখী তাকে থামিয়ে দিয়ে বলল,
“আপনাকে আমার ভালোলেগেছে।এক রাত আমায় দিন,তারপর বাকি রাত গুলো নাহয় অন্যদের দেবেন।”
ওয়াহিদের শরীরটা শক্ত হয়ে গেল মুহূর্তেই।হাত সরিয়ে দিল নিজের কাঁধ থেকে।চোখে-মুখে অস্বস্তি স্পষ্ট।
“এইসব কথা বলার জন্য আমি আসিনি।”
সুখীর হাসিটা একটুও মলিন হলো না।বরং ঠোঁটের কোণে তাচ্ছিল্যের রেখা ফুটে উঠল।
“এইখানে যারা আসে,তারা সবাই এই কথার জন্যই আসে সাহেব।”
ওয়াহিদ গলা শক্ত করে বলল,
“সবাই এক না।”
সুখী এবার ভালো করে তাকাল।লোকটার চোখে লালসা নেই—আছে বিরক্তি,অস্বস্তি আর কোথাও যেন গভীর ঘৃণা।সে একটু নরম হয়ে বলল,
“তাহলে বলুন।কী চাই?”
ওয়াহিদ একটু চুপ থাকল।তারপর স্পষ্ট কণ্ঠে বলল,
“একটা মেয়ে খুঁজছি।নাম রুনা।গ্রামের মেয়ে।এই ক’দিন আগে আনা হয়েছে।”
সুখীর মুখের অভিব্যক্তি বদলে গেল।হাসি মিলিয়ে গিয়ে ঠোঁট শক্ত হলো।
“এইখানে অনেক মেয়ে আসে-যায়।নাম ধরে চেনা মুশকিল।”
“চেনেন আপনি।”ওয়াহিদের কণ্ঠে দৃঢ়তা।
“কারণ নতুন মেয়েদের দায়িত্ব আপনার হাতেই থাকে।”
সুখী চোখ সরিয়ে জানালার বাইরে তাকাল।কিছুক্ষণ নীরবতা।তারপর ধীরে বলল,
“ধরুন চিনি।তাতে কী?”
“ওকে এখান থেকে বের করে নিতে চাই।”
সুখী এবার হেসে উঠল,কিন্তু সেই হাসিতে আনন্দ নেই।
“এইখান থেকে কেউ এমনিই বেরোয় না সাহেব।দাম আছে।চুক্তি আছে।”
“আমি আইন দিয়ে কথা বলতে পারি।”
“আইন?এইখানে আইন আসে শুধু মাস শেষে।”
ওয়াহিদ চুপ করে গেল।কথাটা সে জানে।তবু পকেট থেকে পরিচয়পত্র বের করল।
“সব আইন কেনা যায় না।”
সুখী কাগজটার দিকে তাকাল।চোখের দৃষ্টি বদলে গেল।এবার আর ঠাট্টা নেই।
“আপনি পুলিশ?”
“হ্যাঁ।”
সুখী দীর্ঘশ্বাস ফেলল।হাঁটতে হাঁটতে এসে চেয়ারে বসল।
“এইখানে আসা মেয়েদের বেশিরভাগই জোর করে আনা।কেউ পালাতে চায়,কেউ মেনে নেয়।রুনা!সে পালাতে চেয়েছিল।”
“কোথায় সে?”
“তিন তলায়।ঘর থেকে বের হয় না।খাবারও ঠিকমতো খায় না।”
“আমি ওকে নিয়ে যাব।”
সুখী তাকিয়ে রইল কিছুক্ষণ।তারপর বলল,
“টাকা লাগবে।বড় অঙ্কের।”
“যত লাগে দেব।”
সুখী মৃদু হেসে বলল,
“এখন অব্দি কোনো পুরুষ ছুঁয়ে দেখেনি তাকে।দাম কিন্তু বড্ড বেশি।”
“আপনার কী ভয় হচ্ছে না?”
“ইশ!ভয় লাগবে কেন?”
“আমি কিন্তু আপনাকে এরেস্ট করতে পারি।”
সুখী খিলখিল করে হেসে উঠল।ওয়াহিদের মনে হলো সুখীর সাথে কারোর যেন মিল পাচ্ছে সে।কিন্তু মনে করতে পারছে না।সুখী বাকানো কোমর নিয়ে এগিয়ে এসে ওয়াহিদের চিবুক ধরে বলল,
“শোনো সাহেব,তোমার মতো হাজারও পুলিশ এখানে আসা-যাওয়া করে।তারা এই সুখীর হাতের পুতুল।”
ওয়াহিদ এই পর্যায় রেগে গিয়ে বলল,
“বিক্রি হতে আসিনি,কাজে এসেছি।”
সুখী জানালার কাছে গিয়ে নিচে তাকাল।নিচে কোলাহল,অশ্লীল ডাক ভেসে আসছে কানে।সে বলল,
“রুনাকে আজ দিতে পারব না আমি।”
ওয়াহিদ কপাল কুঁচকে বলল,
“কেন?”
কিশোরী কন্যা পর্ব ৩২
“সামনে মাসে আরও মেয়ে আসবে।তারা এলে মালিকের সাথে কথা বলে তারপর ব্যবস্থা করতে হবে।”
“আপনার মালিক কে?”
সুখী উত্তর দিল না।ঘুরে দাঁড়াল দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে।ওয়াহিদ ভীষণ নার্ভাস।এমন একটা জায়গায় এসে নিজেই থতমত খেয়ে গেছে।সে সুখীর দৃষ্টি দেখে বোকা গলায় বলল,
“আমি বিবাহিত।ওমন করে তাকালে আপনার পাপ হবে।”
সুখী ঠোঁট টিপে হেসে বলল,
“দুঃখ পেলাম।সুখী আজ অব্দি কারোর খাঁচায় বন্দি হয়নি।শুধু আপনার খাঁচায় বন্দি হতে চেয়েছিল।”
