কিশোরী কন্যা পর্ব ৩৬
হামিদা আক্তার ইভা
সওদাগর বাড়ির মধ্যে খানিকক্ষণ আগে এক চোট যুদ্ধ হয়েছে।রজনী বেগম রাগ সামলাতে না পেরে ছেলের সামনেই চম্পাকে কয়েক ঘা বসিয়েছেন গালে।কী এক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে বাড়িটায়।বোরহান সওদাগর ছেলেদের নিয়ে বসেছেন আলোচনায়।তাহসিন ফ্লোরে পা খটখট করে রাগ নিয়ন্ত্রণ করছে।ময়ূরী তার পেছনে দাঁড়িয়ে আছে চুপচাপ।বোরহান সওদাগর নরম গলায় তার গিন্নিকে বললেন,
“বিয়ে যখন হয়েই গেছে তখন আমি এখানে কী করব বলো?তা ছাড়া আজ তো বিয়ে করেনি,করেছে বহুদিন আগে।”
রজনী বেগম আশ্চর্য হয়ে বললেন,
“সব তোমার কাছে স্বাভাবিক মনে হইতাছে?আপনার কথা কিন্তু আমি বুঝতাছি না।জুতা মাইরা বাইর করমু ওই মাইয়ারে।”
“শুধু শুধু মাথা গরম করছো কেন?”
তাহসিন এবার নিজের রাগ ধরে রাখতে পারল না।টি-টেবিলের উপরে রাখা কাঁচের গ্লাস গুলো ফ্লোরে ছুড়ে মেরে বলল,
“আপনার বিচার জাহান্নামে যাক।আগে এটা বলুন,আমার মেয়ের গায়ে হাত তোলার সাহস কী করে হয় উনার?কোন কলিজা নিয়ে আমার মেয়েকে এভাবে এতদিন অত্যাচার করেছে?”
কাঁচ ভাঙার শব্দে সবাই হতভম্ব হয়ে গেলেন মুহূর্তেই।ময়ূরী ভয়ে আঁচল চেপে ধরল।চম্পা শুকনো ঢোক গিলে আড়চোখে তাকাল রমজান সওদাগরের দিকে।বোরহান সওদাগর হালকা গলা পরিষ্কার করে বললেন,
“এসব কথা তোমায় কে বলেছে?”
তাহসিন দাঁত চেপে বলল,
“আপনার মনে হচ্ছে আমি তামাশা করছি?তামাশা মনে হচ্ছে আপনার?নাটক করতে বসেছি এখানে?”
“এত হাইপার হচ্ছ কেন?একটু শান্ত হও।”
“হয় আজ এই মহিলার একটা ব্যবস্থা করবেন,নাহলে আপনাদের সাথে সম্পর্ক আমি আজই ছিন্ন করে বের হব বউ-বাচ্চা নিয়ে।আমার খোদার নামে কসম কাটছি দাদা।”
ময়ূরী তাহসিনের কাঁধে হাত রেখে বলল,
“কী বলছেন কী এসব?”
রজনী বেগম তাহসিনের কথা শুনে কেঁদে উঠলেন এবার।কপাল চাপড়ে বললেন,
“আমার সোনার সংসার নষ্ট করছে এই কালনাগিনী।”
চম্পাকে জিজ্ঞেস করা হলো সে কেন পুতুলকে মেরেছে।কেনোই বা ছোট্ট একটা বাচ্চার প্রতি এত রাগ।তার মনে যেন একটুও ভয় নেই।বোরহান সওদাগরের প্রশ্নে সোজা বলে ফেলল তার পছন্দ নয় পুতুলকে।এক পর্যায় তাহসিন সম্পর্ক মানল না।মুখে যা এসেছে তাই বলে গাল-মন্দ করেছে।পুলিশ ডাকতে চাইলে ছোট চাচার কথায় তা আর করতে পারেনি।রজনী বেগম বলেছেন চম্পাকে এই বাড়ি রাখলে তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাবেন।রমজান সওদাগর মায়ের আদেশ মাথা পেতে নিয়েছেন।তিনি চম্পাকে আর এই বাড়ি রাখবেন না।দুদিন সময় চেয়েছেন অন্যত্রে যাওয়ার জন্য।তবে ময়ূরী ছাড়ার পাত্রী নয়।আজ যেই পরিমাণ মার চম্পা খেয়েছে,তাতে তার শান্তি হয়নি।
তাহসিনকে শান্ত করে ময়ূরী ঘরে নিয়ে এলো।গোধূলি লগ্ন তখন।তাহসিন রাগে থরথর করে কাঁপছে।ময়ূরী ভয় পেলেও জানে,তাহসিন তার সাথে গলা তুলে কথা বলার সাহস পাবে না।বাইরে থেকে ঝলমলে আলো এসে পুরো ঘর আলোকিত করেছে।ময়ূরী এগিয়ে গিয়ে তাহসিনের সামনে দাঁড়াল।তাহসিন বিছানায় বসেছিল মাথা চেপে।ময়ূরী তার ছোট্ট হাত তাহসিনের মাথায় বুলিয়ে নরম গলায় বলল,
“চাইলেই আপনি বড় কিছু করতে পারবেন আমি জানি,কিন্তু এখন বিষয়টা ভিন্ন।আপনি বুঝতে পারছেন,আমি কী বলতে চাইছি?”
তাহসিন দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
“আমি কেমন বাবা?আমার ছোট্ট একটা মেয়ের খেয়ালই ভালো করে রাখতে পারলাম না।মেয়েটা যে এত অত্যাচার সহ্য করেছে আমি ভাবতেও পারিনি।”
“আপনি নিজেকে দোষারোপ কেন করছেন,বলুন তো?তবে হ্যা,আপনার উচিত ছিল বিষয়টা আগেই দেখার।”
“ভুল হয়েছে।ওর দুষ্টুমি ভেবে গুরুত্ব দেইনি আমি।”
ময়ূরী দীর্ঘশ্বাস ফেলল।দরজার সামনে পুতুল এসে চুপটি করে দাঁড়িয়ে আছে তখন।ময়ূরী তাকে দেখতে পেয়ে ঠোঁট টিপে হাসল।হাতের ইশারায় কাছে ডাকলে পুতুল ছোট ছোট পা ফেলে এগিয়ে এলো নিকটে।ময়ূরী তাকে বিছানায় বাবার পাশে বসিয়ে দিয়ে পুতুলের নাক টেনে বলল,
“বাবার আজ ভীষণ মন খারাপ।মিষ্টি একটা চুমু দিয়ে বাবার মন ভালো করে দাও তো মা।”
পুতুল ঘাড় উঁচু করে বাবার দিকে তাকাল।তাহসিন মেয়ের কান্ড দেখতে চুপ করে বসে রইল।পুতুল হামাগুড়ি দিয়ে বাবার কোলে বসে গলা জড়িয়ে ধরল।ময়ূরীর দেখাদেখি তাহসিনের কপালে ছোট্ট করে চুমু এঁকে দিল।ময়ূরী চমকাল।তাহসিন বাকরুদ্ধ।পুতুল ঠিক মায়ের মতন বাবার মাথায় চুলের ভাজে ছোট হাত বুলিয়ে বলল,
“তোমার মন খারাপ বাবা?ভালো বাবাদের মন খারাপ থাকে না।তোমাকে আরেকটা চুমু দেই?”
পুতুলের কথা শুনে তাহসিনের বুকের ভেতরটা হু হু করে উঠল।এত ছোট্ট একটা বাচ্চা কীভাবে তার মনের ভাষা বুঝে ফেলল,সে নিজেও বুঝতে পারল না।চোখের কোণ ভিজে উঠল অজান্তেই।সে মুখ ঘুরিয়ে নিতে চাইছিল,কিন্তু পুতুলের ছোট্ট হাত দুটো শক্ত করে ধরে রেখেছে তার গলায়।
পুতুল টুক করে আরেকটা চুমু এঁকে দিল বাবার গালে।চুমুর সাথে সাথে বাবার গালের লবণাক্ত স্বাদে ভ্রু কুঁচকে ফেলল সে।ময়ূরী দৃশ্যটা দেখে চোখ নামিয়ে নিল।এই মুহূর্তটা যেন ভাঙতে ইচ্ছে করছে না কারোই।
তাহসিন পুতুলকে বুকে টেনে নিল শক্ত করে।এক হাত দিয়ে মেয়ের পিঠে বুলিয়ে দিতে দিতে ভাঙা কণ্ঠে বলল,
“আমি কথা দিচ্ছি আম্মা,আজ থেকে কেউ আর আপনাকে চোখ রাঙিয়েও তাকাতে পারবে না।বাবা থাকতে আপনাকে কেউ কষ্ট দিতে পারবে না।”
পুতুল বাবার কথা পুরো বুঝল কিনা জানা নেই।ময়ূরী মুচকি হেসে বাবা-মেয়ের ভালোবাসা দেখল।মিষ্টি একটা সংসার তার।ময়ূরী বিছানা ঠিক করে বলল,
“শোনো মা,এখন একটু ঘুমাও।”
পুতুল ঠোঁট উল্টে বলল,
“কিন্তু এখন তো বিকেল।”
“তাতে কী হয়েছে?কাছে এসো আমার।”
পুতুল বাবাকে রেখে মায়ের কাছে গেল।ময়ূরী শুয়েছে পুতুলকে নিয়ে।পুতুল কিছু একটা মনে করে বলল,
“মামা আসে না কেন মা?”
ময়ূরী নিচু গলায় বলল,
“মামা তোমার নানা ভাইয়ের কাছে আছে।”
“মামা আর আসবে না?”
“আসবে।সময় হলেই আসবে।”
পুতুল খুশি হয়ে ময়ূরীর বুকে গুটিয় এলো।চোখ বন্ধ করে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল তাকে।
ময়ূরী পুতুলের চুলে আঙুল বুলিয়ে দিতে দিতে ওর নিঃশ্বাসের ওঠানামা টের পাচ্ছিল।অল্পক্ষণেই পুতুল ঘুমের ঘোরে ঢলে পড়ল।ছোট্ট বুকটা নিয়মিত উঠানামা করছে।ময়ূরী নিশ্চিন্ত হলো।
তখনই বিছানার অন্য পাশে নড়াচড়ার শব্দ।তাহসিন ধীরে এসে শুয়ে পড়ল।এক হাত বাড়িয়ে ময়ূরীর কোমর জড়িয়ে ধরল খুব সাবধানে,যেন এতটুকু শব্দে পুতুলের ঘুম ভেঙে যাবে।ময়ূরী চমকাল না,বরং অজান্তেই তার শরীরটা তাহসিনের দিকে সরে এলো।
“রাগ কমেছে?” খুব নিচু গলায় জিজ্ঞেস করল ময়ূরী।
তাহসিন দীর্ঘশ্বাস ফেলল।ময়ূরীর কাঁধে কপাল ঠেকিয়ে বলল,
“কমেনি।তোমাদের এখানে রাখব না আমি।”
ময়ূরী কোনো কথা বলল না।শুধু তার হাতটা তাহসিনের বুকের ওপর রাখল।হৃদস্পন্দনটা এখনও একটু দ্রুত,কিন্তু আগের মতো বিক্ষিপ্ত নয়।সে ঘুরে তাহসিনের চুলে বিলি কেটে বলল,
“পরীক্ষার আগ-অব্দি নাহয় মায়ের বাড়ি থাকব?পুতুলের যত্নের ত্রুটি হবে না,সত্যি।”
তাহসিন হেসে ময়ূরীর চোখে চোখ রেখে নরম গলায় বলল,
“তোমাকে বড় ভাগ্য করে পেয়েছি।আল্লাহর কাছে হাজার শুকরিয়া আদায় করলেও কম হবে।এমন সোনায় বাঁধা কপাল কল্পনা করিনি কখনও।”
ময়ূরী ঠোঁট টিপে হাসল।
“ভাগ্য তো আমার,যে আপনার মতো স্বামী পেয়েছি।ভাগ্যবতী তো আমি।”
ময়ূরীর কথায় তাহসিনের বুকটা কেমন নরম হয়ে এলো।একটু আগেও যে রাগ আর অস্থিরতা বুকের ভেতর দাউ দাউ করে জ্বলছিল,তা যেন ধীরে ধীরে ছাই হয়ে মিলিয়ে যাচ্ছে।সে ময়ূরীর কপালে ঠোঁট ছুঁইয়ে খুব নিচু গলায় বলল,
“তুমি না থাকলে আমি আজ কী করতাম জানি না।রাগের মাথায় হয়তো এমন কিছু করে বসতাম,যার দায় সারাজীবন বইতে হত।”
ময়ূরী চোখ বন্ধ করল।স্বামীর বুকের উষ্ণতা আর কণ্ঠের কাঁপুনি স্পষ্ট টের পাচ্ছে সে।নরম করে বলল,
“সবকিছুর সমাধান রাগ দিয়ে হয় না।”
তাহসিন ময়ূরীর কথায় সম্মতির মতো মাথা নাড়ল।এক হাত বাড়িয়ে পুতুলের দিকে তাকাল।ঘুমের মাঝেও ওর ছোট্ট মুখে শান্তির ছাপ।সেই দৃশ্যটা বুকের ভেতর গভীরভাবে গেঁথে নিল সে।
ময়ূরী ধীরে চোখ খুলে তাহসিনের দিকে তাকাল।তার চোখে দৃঢ়তা,কিন্তু সেই দৃঢ়তার আড়ালে লুকানো অসীম মমতা।ময়ূরী হাত বাড়িয়ে তাহসিনের গাল ছুঁয়ে বলল,
“আমার বড্ড ভয় হয়।আপনিও আবার চা…”
“হুশ..!”
ঘরের ভেতর নীরবতা নেমে এলো আবার।বাইরে আলো গাঢ় হচ্ছে।হালকা বাতাসে জানালার পর্দা দুলছে।তাহসিন ময়ূরীকে আরও কাছে টেনে নিল,যেন এই মুহূর্তটা আগলে রাখতে চায় সারাজীবনের জন্য।
“আমি চরিত্রহীন নই।”
আজ ওয়াহিদ ঢাকা যাবে গোয়েন্দা টিমের সাথে।বেশ প্রস্তুতি নিয়েই রেডি হচ্ছে সে।কোথাও যেন বুকের ভেতর খোঁচখোঁচ করছে।মধু ক্ষত হাত নিয়ে ওয়াহিদের প্রয়োজনীয় সব কিছু এগিয়ে দিচ্ছে।পাশের ঘরে ফাহাদ ঘুমাচ্ছে আরাম করে।আব্বা বাড়িতে নেই।এখন বেশিরভাগ সময় দোকানে থাকেন তিনি।দোকানে গিয়েও শান্তি পান না ভদ্রলোক।ছোট মেয়েকে বড় বাড়ি বিয়ে দেয়ার পর থেকেই টুকটাক কথা শুনতে হয়।এত বড় বাড়ির সাথে আত্মীয়তা করে এখনও ছোট দোকান চালালে হয়?বক্কর অবশ্য তাতে কান দেন না।
ওয়াহিদ গায়ে শার্ট জড়িয়ে আড়চোখে তাকাল মধুর দিকে।মেয়েটা মুখ কালো করে বসে আছে একজায়গায়।মধু আর ফাহাদকে একা রেখে যেতে ইচ্ছে না তার,তবু যেতে হবে।ওয়াহিদ মধুর মাথায় হাত বুলিয়ে বলল,
“এখন ভয় নেই।বাড়িতে একা ভয় করলে চাচিকে ডেকে আনবি।”
মধু বলল,
“ভয় পেয়ে হবেই বা কী?খুব বেশি হলে মৃত্যু হবে।এর চেয়ে বেশি কিছু হওয়ার সম্ভাবনা আছে?”
ওয়াহিদ বিরক্ত হলো।বিয়ের দিন থেকেই মধুর মুখে এসব উল্টো-পাল্টা কথা শুনতে শুনতে সে বিরক্ত।তিক্ততা এসে গেছে এবার।সে ধমকে উঠল এবার,
“তোর সুখে থাকতে ভালো লাগে না?সব সময় উল্টো-পাল্টা কথা বলিস কেন?”
মধুর চোখ চিকচিক করে উঠল।মাথা নিচু করে ফুঁপিয়ে উঠল।সেই রাতের ভয় এখনও কাটেনি মন থেকে।ওয়াহিদ নরম হলো এবার।মায়া লাগল ভীষণ।মধুর পাশে বসল নিঃশব্দে।
“আচ্ছা সরি।তাকা আমার দিকে?”
মধু নাক টেনে তাকাল পাশে।ওয়াহিদ বলল,
“নতুন নতুন বিয়ে করেছি।এখন একটু বউয়ের সোহাগ পাওয়ার সময়,আর তুই কেঁদেই যাচ্ছিস গত কয়েকদিন ধরে।আমার প্রতি কী তোর একটু মায়া-দয়া নেই?”
“আমি আপনাকে বলেছি আজ বাড়িতে থাকতে।আব্বাও নেই,ফাহাদকে নিয়ে একা থাকব এখন?”
“আমি বাইরে একজন অফিসারকে রেখে যাচ্ছি।ভয় কিসের?”
মধু জানত না এই কথা।ওয়াহিদ তার চোখের পানি মুছে দিয়ে কপালে আলতো চুমু এঁকে বলল,
“আমার হাতে সময় নেই।রাত হবে ফিরতে।”
“না গেলে হয় না?”
“উহুম।আমার ডিউটি আমাকে করতে হবে।”
ওয়াহিদ বাড়ির বাইরে উঠোনে এসে দাঁড়াল।মধু বারান্দায় দাঁড়িয়ে তখন।ছলছল চোখে তাকিয়ে সামনেই।ওয়াহিদ বাড়ির দরজার সামনে গিয়ে হাত নাড়িয়ে বলল,
“মধুমিতা,আসার সময় তোমার জন্য একগুচ্ছ কাঠগোলাপ নিয়ে আসব।অপেক্ষায় থেকো।”
ওয়াহিদ চলে গেলে মধু ঘরে আসে।ফাহাদ চোখ কোঁচলে বিছানায় উঠে বসেছে।মধুকে দেখে হাত বাড়িয়ে দিয়েছে কোলে আসার জন্য।মধুর মায়া হলো খুব।হাতের ব্যথায় সে ভাইকে কোলে নিতে পারে না।সে কাছে এগিয়ে গিয়ে অন্যহাত দিয়ে ভাইয়ের মাথার চুল ঠিক করে দিয়ে বলল,
“আপার হাতে খুব ব্যথা সোনা।”
ফাহাদ মাথা নেড়ে মধুর আঁচল দিয়ে নাক মুছে বলল,
“মা কুই আপা?মা আশে না।”
“মা আছে।”
“কুই?আমার কাচে আশে না মা।”
মধু শুকনো ঢোক গিলল।ভাইয়ের জন্য খুব মায়া হলো তার।ছোট ভাইটা অবুঝ শিশু।সে জানেই না তার মা নেই।মা আর আসবে না তার কাছে।
কিশোরী কন্যা পর্ব ৩৫
দুপুর সময়টায় ভীষণ গরম লাগে।ঘেমে-নেয়ে একাকার অবস্থা।ছোট্ট ফাহাদ পা মেলে দিয়ে খোলা উঠোনে পাটির উপর বসে আছে।রান্নাঘরে মধু তরকারি বসিয়েছে কষ্ট করে।আজ বাড়িটা বড্ড বেশি ফাঁকা ফাঁকা লাগছে।মা নেই,বাবা নেই,ওয়াহিদ,ময়ূরী কেউ নেই।ছোট্ট একটা বাচ্চা উঠোনে চুপচাপ তার খেলনা দিয়ে খেলছে।
