Home কিশোরী কন্যা কিশোরী কন্যা পর্ব ৪০

কিশোরী কন্যা পর্ব ৪০

কিশোরী কন্যা পর্ব ৪০
হামিদা আক্তার ইভা

“আপনি কী করে এসবে?”
বলতে বলতে তাহসিনের গলা ধরে এলো।বোরহান সওদাগর নাতির এহেন রূপ দেখে হতবাক হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন।মুহূর্তেই ঘর ভরে গেল অফিসার দিয়ে।হান্ডকাফ পরানো হলো তাদের হাতে।দরজার সামনে সুখী হ্যালান দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল।ঠোঁটের কোণায় এক অদ্ভুত নরম হাসি খেলে গেল তার।গায়ের শাড়ির আঁচল মুড়িয়ে বলল,
“পাপ কখনও বাপকেও ছাড়ে না।কী অদ্ভুত না?আজ নিজের নাতির সামনে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর সাহস টুকুও নেই।”
রমজান সওদাগর সুখীকে উপেক্ষা করে তাহসিনকে বললেন,

“তুমি যা ভাবছ তেমন কিছুই না।”
তাহসিন ধীর পায়ে গিয়ে দাদার রাজকীয় চেয়ারে বসে মাথা ঝুঁকিয়ে ফ্লোরে দৃষ্টি রেখে বলল,
“তাহলে আমার ভাইকে খু ন করেছে কে?কে আফিয়া ভাবির বাবাকে খু ন করেছে?কেই বা এই বিশাল পাপিষ্ঠ সাম্রাজ্যের মাথা?আপনারা এই নোংরা খেলায় মেতে আমার ভাইয়ের জানটাও টেনে ছিঁ ড়ে খেয়েছেন।এতিম করেছেন আমার মেয়েকে।হাজার নারীর জীবন ধ্বংস করেও বলছেন তেমন কিছুই না?”
বোরহান সওদাগর শুকনো ঢোক গিলে গম্ভীর গলায় বললেন,
“না জেনে শুধু শুধু দোষারোপ করছো কেন?”
তাহসিন দাদার চোখের দিকে তাকাল।সব উত্তর যেন আজ তাহসিনের চোখে ভেসে উঠেছে।তাহসিন তাদের হাতের দিকে তাকাল।যেখানে হান্ডকাফ লাগানো হয়েছে।সে দৃষ্টি ফিরিয়ে নিল।তীব্র ঘৃণায় গলার কণ্ঠস্বরও কেঁপে উঠল এবার।

“আমার ভাইয়ের সাথে সাথে তার নিষ্পাপ স্ত্রীকেও মেরেছেন আপনারা।আপনাদের এই পাপ সম্পর্কে ভাইয়া জেনেছিল বলেই পথের কাটা ভেবে নিজের র ক্তকে খু ন করতে দুবার ভাবেননি।ভাবেননি আমার এই ফুলের মতো ফুটফুটে মেয়েটার ভবিষ্যৎ কী হবে।মা-বাবা ছাড়া কী করে বড় হবে সে!”
তাহসিনের চোখ দুটো লাল হয়ে উঠল।গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়া অশ্রুগুলো আর লুকোবার চেষ্টা করল না সে।কণ্ঠ ভারী হয়ে এলো, তবুও থামল না।

“আপনারা জানেন দাদা, ওর স্বপ্ন কী ছিল?একটা শান্ত সংসার, নিজের মেয়েকে বুকে নিয়ে নির্ভয়ে বাঁচা।কিন্তু আপনাদের লোভ, ক্ষমতা আর পাপের ভারে সবকিছু চাপা পড়ে গেল।আমার ভাই শুধু রক্তের সম্পর্ক না, আমার ছাঁয়া ছিল।আর আজ সেই ছাঁয়াটুকুও আপনারাই কেড়ে নিয়েছেন।একজন আদর্শ পুলিশ অফিসারের সাথে সাথে বিনা দোষে তার স্ত্রীকেও খু ন করেছেন।আপনাদের কী একটুও বুক কাঁপেনি?এইযে আজ হাজার হাজার নারীকে দিয়ে দে’হ ব্যবসা করাচ্ছেন,আপনাদের কী লজ্জা করছে না?বাড়িতে বউ-বাচ্চা তো আপনাদেরও আছে,তারা…”
তাহসিন কথা থামাল।রমজান সওদাগর এবার আর চোখ তুলে তাকাতে পারলেন না।মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইলেন।তাহসিন আজ মনকে শক্ত করে খুব বড় একটা সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হলো।আজ দাদা এবং চাচাকে অ্যারেস্ট করার পর হয়তো তাদের মৃ*ত্যুদণ্ড দেয়া হবে।কিংবা আজীবন জেলের সেই চার দেয়ালের মাঝে পঁচে গলে মরতে হবে।
তাহসিন এখনও সেই মহলে উপস্থিত।দাদার সাথে আরও অনেকেই যুক্ত আছেন,যারা রাজনীতির সাথে জড়িত।এর আগেও তাহসিন বেশ কয়েকজন নেতাকে অ্যারেস্ট করেছিল,শুধু প্রমাণ পাচ্ছিল না এতদিন।আজ যখন প্রমাণ হাতের মুঠোয়,তখন পুরো পৃথিবী অন্যদিকে।

তাদের নিয়ে যাওয়া হয়েছে।তাহসিন বে’শ্যালয়ের” সব মেয়েদের সুরক্ষিত রাখার ব্যবস্থা করছে।কত নারী সেখানে উপস্থিত।কেউ কেউ তো ময়ূরীর থেকেও ছোট।তাহসিনের হুট করেই ময়ূরীর মুখ খানা মনে পড়ল।ময়ূরীর মতোই এখানে শত নারী উপস্থিত।বুক চিরে বেরিয়ে এলো লম্বা দীর্ঘশ্বাস।রমজান সওদাগরের সাথে সাথে আজ চম্পাকে শিশু নির্যাতন মামলায় আটক করা হয়েছে।সুখী আফসোসের চোখে বোনের বিদায় দেখেছে।ওয়াহিদ ঠিক তার পাশেই ছিল।সুখী তাকে উদ্দেশ্য করে বলল,
“আজ সব পাপের ধ্বংস হলো।”
তাহসিন পাশ থেকে কপালে হাত স্লাইড করে বলল,
“এখন আপনার ভাগ্নিকে নিজের কাছে আনার ব্যবস্থা করুন।আমার ভাইয়ের সংসারে আগুন লাগিয়ে রেখেছে সে।”
সুখী বলল,

“তা কী করে হয়?সে সংসার করছে ওই নেতার সাথে।”
“বিয়ে করলেই সংসার হয় না।মাহতাব ভাই বাধ্য হয়েছিল বিয়ে করতে।”
“আপনার ভাই যদি চায় তাহলে আমার আপত্তি নেই।”
এত বড় খবর খানা সওদাগর বাড়ির সবার কানে পৌঁছাতেই এক প্রকার যুদ্ধ শুরু হলো।রজনী বেগম প্রায় পাগল পাগল অবস্থা।তিনি চিৎকার করছেন।তিনি মানতে নারাজ তার স্বামী এমন জঘন্য কাজ করতে পারে।মাহতাব মাথা নিচু করে বসে আছে ড্রয়িংরুমের সোফায়।এই কালো জগতের কারণে সে তার সংসার ভেঙেছে।চাচার ফাঁদে পা দিয়ে এক বে*শ্যালয়ের মেয়েকে বিয়ে করতে বাধ্য হয়েছে।শান্তা সিঁড়ির এক কোণে দাঁড়িয়ে কাঁদছে।আফিয়া হতবাক এত নোংরা সত্যের মুখো-মুখী হয়ে।ময়ূরী চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে শাশুড়ির পাশে।আজ তার কিছু বলার নেই।
তাহসিন বাড়ি ফিরল রাতে।বিষণ্ণ পায়ে বাড়ি পা রাখতেই হতভম্ব হয়ে গেল কনকের মায়ের কাজে।কনকের মা ময়ূরীর চুলের মুঠি ধরে বাজে ভাষায় গালাগালি করছেন।অরুণিমা বেগম তাকে থামাতে পারছে না।সে ছুটে গিয়ে ময়ূরীকে টেনে বুকে জড়িয়ে ধরে হুঙ্কার ছেড়ে বলল,

“আমার স্ত্রীর গায়ে হাত তোলার সাহস হলো কী করে ছোট আম্মা?আপনার হাত কিন্তু ভেঙে গুঁড়িয়ে ফেলব আমি।”
ময়ূরী তাহসিনের শার্টের কাপড় টেনে ডুকরে উঠল।কনকের মা চিৎকার করে বললেন,
“তোরা বাইর হয়ে যা এই বাড়ি থেকে।তুই তাহসিন কেমনে পারলি তোর দাদা আর চাচারে জেলে দিতে?”
“আপনার স্বামী দুধে ধোঁয়া তুলসী পাতা নয়।সে হাজারও নারীর জীবন নষ্ট করেছে ছোট আম্মা।ছোট ছোট বাচ্চার সাথে..ছি!আমার বলতেও ঘৃণা হচ্ছে।”
“সব মিথ্যা।তোরা নাটক সাজায়া আমার সংসার নষ্ট করতাছোস।”
“আপনার সংসার আগেই ভেঙেছে,শুধু আপনি টের পাননি।”
কনকের মা হায়হায় করে মাটিতে বসে পড়লেন।মাটি থাপড়ে আহাজারি শুরু করলেন।রজনী বেগম স্তব্ধ হয়ে গেছেন ততক্ষণে।তাহসিন আড়চোখে সেদিকে তাকিয়ে মাহতাবের দিকে তাকাল।পুরো বাড়িটা কেমন ভেঙে গুঁড়িয়ে গেছে এক মুহূর্তেই।ড্রয়িংরুম ভর্তি বাড়ির প্রত্যেকটা সদস্য।তাহসিন শুকনো ঢোক গিলে ময়ূরীর মাথায় হাত বুলিয়ে ফিসফিস করে বলল,

“কেঁদো না।”
তাহসিন তাকে রেখে দাদির কাছে গিয়ে বসল ফ্লোরে।রজনী বেগম সোফায় বসেছিলেন ক্লান্ত শরীর নিয়ে।তাহসিন খুব শান্ত গলায় বলল,
“তুমি তো অন্যায় মানো না,তাই না দাদি?নারী পা’চার থেকে শুরু করে জোর করে তাদের দিয়ে দে’হ ব্যবসা অব্দি করিয়েছে তারা।আমারও তো সন্তান আছে দাদি।আমার একটা মেয়ে আছে।আমি কখনও চাইব না আমার মেয়ের সাথেও ভবিষ্যতে এমন নোংরা কিছু হোক।আমার মতো ওই মেয়েদেরও তো পরিবার আছে বলো?আমিও..আমিও প্রথমে বিশ্বাস করিনি দাদা এসবে জড়িত থাকতে পারে।আম..”
তাহসিন কথা শেষ করার আগেই রজনী বেগম এক অবাক কান্ড ঘটিয়ে বসলেন।আজ এই প্রথম তিনি তাহসিনকে থাপ্পড় মারলেন।রাগে তার শরীর কাঁপছে।ময়ূরী আঁচল চাপল মুখে।অরুণিমা বেগমের কণ্ঠ ছিঁটকে বের হলো শব্দ,

“আম্মা!”
রজনী বেগম রাগে থরথর করে কাঁপছিলেন।তাহসিন দীর্ঘশ্বাস ফেলল।দাদি এবার বিষের মতো বাক্য বের করলেন মুখ দিয়ে।
“তুই আমার কেউ না।তোর লগে আজকের পর থিকা আমার কোনো সম্পর্ক নাই।হয় তুই এই বাড়ি থিকা তোর বউ-বাচ্চা নিয়া বাইর হবি,নাইলে আমার লা’শ বাইর হইব।”
তাহসিন করুণ স্বরে বলল,
“পর করে দিচ্ছ দাদি?”
রজনী বেগম মুখ ফিরিয়ে নিয়ে বললেন,
“পর তো পরই হয়।পর কোনোদিন আপন হয় নাকি?”
তাহসিন মাথা নেড়ে উঠে দাঁড়াল।চোখের পানি মুছে বলল,
“সেই তো!পর কোনোদিন আপন হয় না।”
ছোট্ট পুতুল ভয়ে গুটিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল আফিয়ার কাছে।এবার গুটি গুটি পায়ে বাবার নিকট এগিয়ে এসে তাহসিনের এক পা জড়িয়ে ধরে বলল,

“বড় নানি তোমাকে মেরেছে বাবা?ব্যথা পেয়েছ তুমি?”
তাহসিন ঝুঁকে মেয়েকে কোলে নিয়ে মাথায় চুমু এঁকে বলল,
“না আম্মা।”
অরুণিমা বেগম কাতর গলায় বললেন,
“যেয়ো না তাহসিন।তুমি ছাড়া আমার কেউ নেই।”
তাহসিন ছলছল চোখে মায়ের দিকে তাকিয়ে বাচ্চাদের মতো আবদার করে বলল,
“আমার সাথে চলো না মা!যাবে আমার সাথে?”
অরুণিমা বেগম এই বাড়ি ছেড়ে এই মুহূর্তে কিছুতেই যেতে পারবেন না।তিনি আঁচল চেপে কেঁদে উঠলেন।তাহসিন বুঝে গেল মায়ের উত্তর।সে পিছু ফিরে ময়ূরীর একহাত আঁকড়ে ধরতেই মাহতাব বলল,
“যাস না।দাদি রাগের মাথায় বলে ফেলেছে এসব।”
তাহসিন মৃদু হেসে বলল,

“আমার স্ত্রী-সন্তানের সম্মান সবার আগে।আজ থেকে পুরো পরিবারের দায়িত্ব তোমার।সবাইকে আগলে রেখো ভাইয়া।”
তাহসিন সদর দরজার দিকে এগিয়ে গেলে আফিয়া বলল,
“যাস না ময়ূরী।”
ময়ূরী ঠোঁট কামড়ে তাহসিনের হাত ধরে এক কাপড়ে বের হলো স্বামীর হাত ধরে।সে জানত এমন কিছুই হবে।তাহসিন বেরিয়ে যাওয়ার পর সওদাগর বাড়ির নীরবতা ভারী হয়ে এলো।কী হবে তাদের ভবিষ্যৎ?দহনে জ্বলছিল আফিয়ার হৃদয়।বাবার মৃ’ত্যুর খবর শুনে তাহসিন বেরিয়ে যাওয়ার পরই ছুটে গেছে নিজের ঘরে।মাহতাব ছিল শান্ত নদীর মতন।আজ সবার সামনে সব সত্য প্রকাশ হয়েও সে আফিয়ার চোখে অপরাধী।নিয়তি আজ বড্ড বেঈমানী করছে তার সাথে।

রাত ঘন হয়ে এসেছে।তাহসিন কাল সকালের টিকেট কেটেছে ঢাকা যাওয়ার।সে আর এখানে থাকবে না।এই মুহূর্তে তারা ফরাজী বাড়ি উপস্থিত।কেউ কোনো প্রশ্ন আজ করেনি তাদের।ওয়াহিদের সেই মাটির ঘরে আজ ময়ূরী আর তাহসিন শুয়েছে।দুজনের চোখে ঘুম নেই।পাগলামো করা মানুষটা আজ বড্ড নীরব।ময়ূরীর কোলে মাথা রেখে চুপচাপ শুয়ে আছে সে।ময়ূরী মাথায় হাত বুলিয়ে দিল।তাহসিনকে এতটা ভাঙতে কখনও দেখেনি সে।খুব মায়া হলো তার।মৃদু গলায় বলল,
“রাতে কিছু খাননি আপনি।আমি এক মুঠো ভাত খাইয়ে দেই আপনাকে?”
তাহসিন বলল,
“আজ গলা দিয়ে খাবার নামবে না।তুমি খেয়ে নাও।”
“আপনাকে রেখে আমি খাই কী করে?”

তাহসিন হঠাৎ মুখ গুঁজল ময়ূরীর পেটে।ময়ূরী স্পষ্ট টের পাচ্ছিল তাহসিন কাঁদছে।রমজান সওদাগরকে তো সে বাবার মতো ভালোবাসত।দাদাকে নিজের জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবেসেছে আজীবন।কিন্তু কে জানত আজ এসব হবে?সব চক্রের মূলে থাকবে দাদা!গ্রামের মেম্বার সহ অনেক নেতাকে আটক করা হয়েছে আজ।সব আজ শান্ত।শুধু অশান্ত তাহসিনের মন।ময়ূরী খানিক্ষণ থেকে খাবার নিয়ে এলো।জোর করে কয়েক মুঠো ভাত খাওয়ানোর পর আর খাওয়াতে পারল না।রাত যখন গভীর,তখন তাহসিন ময়ূরীকে বুকে জড়িয়ে নিয়ে শুয়ে আছে বিছানায়।এক পর্যায় নীরবতা ভেঙে বলল,
“তুমি যাবে আমার সাথে?চলো না চলে যাই এখান থেকে।পরীক্ষার সময় এসে নাহয় পরীক্ষা দিয়ো?”
ময়ূরী বলল,

“যাব।আমার ঘর তো আপনি।আপনি যেখানে যাবেন,আমিও তো সেখানেই যাব।আপনি বলেছিলেন না,আমাদের একটা ছোট সংসার হবে?আমার সংসার সাজাব না?”
তাহসিন মাথা নাড়ল।ভোরে আলো ফোটার আগে তাহসিনরা বাসে উঠেছে।আজ সাথে ফাহাদ আছে।মধু বেশ কিছুদিন আব্বার সাথে থাকবে এখানে।চাচি বলেছেন বক্কর ফরাজীর দেখা-শোনার দায়িত্ব তার।খাওয়া-দাওয়া নিয়ে চিন্তা যেন কেউ না করে।ময়ূরী বাসের জানালা দিয়ে বাইরে তাকাল।তারা গ্রাম ছাড়িয়েছে বেশ খানিকক্ষণ আগে।আবার কবে এখানে আসা হবে তার জানা নেই।শেষবার আসার আগে একটাবার শাশুড়ির সাথে দেখা হলো না।আফিয়ার হাত ধরে বলা হলো না, “তুমি ভালো থেকো।”

কিশোরী কন্যা পর্ব ৩৯

তাহসিন হাত বাড়িয়ে কাছে টেনে নিল তাকে।ময়ূরীর কপালে কপাল ঠেকিয়ে ফিসফিস করে বলল,
“মাঝে মাঝে রক্ত সম্পর্ক কেবল একগুচ্ছ পরিচয় বহন করে, কিন্তু মানসিক শান্তি আর সম্মান যখন হারিয়ে যায়, তখন বিচ্ছেদই হয়ে ওঠে একমাত্র মুক্তির পথ।কিছু বিদায় খুব যন্ত্রণাদায়ক হলেও অপরিহার্য; কারণ বিষাক্ত কোনো ছাঁয়ার নিচে বেঁচে থাকার চেয়ে একাকী পথ চলা অনেক বেশি সম্মানের।”

কিশোরী কন্যা পর্ব ৪১