Home তুমি আমার বিতৃষ্ণা তুমি আমার বিতৃষ্ণা পর্ব ৪

তুমি আমার বিতৃষ্ণা পর্ব ৪

তুমি আমার বিতৃষ্ণা পর্ব ৪
মাশকুরা মায়িশা

ইয়াশ মায়িশাকে একটা রেস্টুরেন্ট এ নিয়ে যায়,, ভার্সিটিতে এক্সাম চলায় তারা কেউই খেয়ে আসতে পারে নি,, তাই সে তাকে এখানে এনেছে,, মায়িশাও আর কিছু বলে না কারণ তারও অনেক ক্ষুধা পেয়েছিলো,, দুজনেই খাওয়া শুরু করে,,

অন্যদিকে,,মাশফিয়া তার কলেজের সামনে দারিয়ে ঐশী, ইয়াশ ও মায়িশার জন্য অপেক্ষা করছে,, ১ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও যখন কেউ আসে না সে একটু ভয় পেয়ে যায়,, মূলত এটা তাদের সবসময়কার নিয়ম,, ঐশী, ইয়াশ ও মায়িশা ভার্সিটি থেকে ফেরার সময় মাসফিয়াকে নিয়ে বাড়ি ফেরে,,

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

তখনই সে নিজের কাধে কারো হাত অনুভব করলে ভয় পেয়ে সরে গেলে সেখানে রেয়ান কে দেখে আশ্বস্ত হয়,,
মাশফিয়া :- রেয়ান ভাই আপনি?
রেয়ান:- হ্যা,, আসলে তোমার ভাই-বোন একটু আটকে গেছে তাই আমাকে পাঠিয়েছে,, তোমাকে নিতে,, গাড়িতে ওঠো,,
মাশফিয়া জানে রেয়ান মিথ্যে বলবে না,, তাই সেও গাড়িতে উঠে পরে,,

তিন জোড়া একই সাথে বাড়ি ফিরে,, মাশফিয়া ঐশী আর মায়িশাকে দেখে তাদের কাছে চলে যায়,, রেয়ান আব্রাহামের কাছে যায়,, তাদের দেখে ইয়াশ ও যায়,, তারা ৬জনই যখন বাড়িতে ঢুকে তখন বাড়ির অন্যান্য সদস্যের সাথে বয়স্ক এক লোক কেউ দেখতে পায়,, তাদের কেওই কিছু বুঝে উঠতে পারে না,, মাশফিয়া নিজের কৌতুহলকে আটকে রাখতে না পেরে তার মা লিপি বেগম কে প্রশ্ন করে,,

মাশফিয়া :- আম্মু এই বুড়ো টাকলা টা কে?
লিপি:- এইসব কি কথা! ইনি কাজী সাহেব সম্মান করতে শিখো!
“কাজী” নামটা শুনে সবাই ‘থ’ হয়ে যায়,, তাদের অবস্থা বুঝতে পেরে আজহারুল আহসান ও আহান শাহরিয়ার এগিয়ে আসে এবং বলেন,,
আহান শাহরিয়ার :- আব্রাহাম, ঐশী তোমাদের বিয়েটা নিয়ম অনুযায়ী আরো তিন মাস পরে হওয়ার কথা ছিল কিন্তু আবিদের করা কাজের জন্য..
আজহারুল আহসান :- তোমরা জানো আমাদের বাড়ির নিয়ম সব সময় বড়দের আগে বিয়ে হয়,, তাই আমরা ঠিক করেছি আজকে তোমাদের আকদ করে রাখবো,,
তারা যেন অবাক এর উপর অবাক হচ্ছে,, তারা দুজনেই কয়েকবার তাদের মানানোর চেষ্টা করে কিন্তু কোনো কাজই হয় না,, তাদের কে একরকম জোড় করে বিয়ের আসরে বসিয়ে দেন তারা,,

কাজী:- আপনি কি আপনার স্বামী হিসেবে মেনে নিয়েছেন? বলুন কবুল,,
পুরো ঘর জুড়ে ছড়িয়ে যায় বিস্তর নীরবতা,,কেউ কোন কথা বলছে না,, সবাই একে অপরের দিকে চাওয়াচাও করে কিন্তু তারপরেও ঐশী কবুল বলে না,,
কাজী :- কি হলো মা? বল কবুল!
এবারে ঐশীর মা শাহনাজ বেগম ওই সে কাঁধে হাত রাখেন তখন ঐশী আস্তে করে বলে ওঠে ,,
ঐশী :- কবুল..
এই একইভাবে আব্রাহামকেও বলা হয়,, সেও বেশ দেরি করে কবুল বলে,,
তবে কবুল বলার পরপর দুজনেই মনে মনে ভাবে,,
আব্রাহাম :- “ঐশী বাহ্যিক ভাবে তুমি আমার স্ত্রী হলেও,, আমি তোমাকে কখনো স্ত্রীর মর্যাদা দিবো না..!”
ঐশী :- “Welcome To Hell Mr Abraham Ahsan..! ”

ঐশী আর আব্রাহামের বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর দুজনেই নিজেদের রুমে চলে গিয়েছে,, ঐশী তার রুমের এক করে চুপচাপ বসে আছে,, মায়িশা,মাশফিয়া তার সাথেই আছে কিন্তু কি বলবে তা বুঝতে পারছে না,,
আব্রাহাম তার ঘরের বেলকনিতে দাঁড়িয়ে ছিল,, ওই সময় তার কাছে তার বহু পুরনো বন্ধু, বেস্ট ফ্রেন্ড এবং তার বর্তমান assistant রেয়ান আসে,,
সে আব্রাহামের অবস্থা বুঝতে পেরে তার সাথে মজা করার চিন্তা করে এবং মজার সুরে বলে,,

রেয়ান:- কি রে বাস-রের অপেক্ষা করছিস নাকি?
আব্রাহাম বিরক্তিতে চোখ মুখ খিচে তার দিকে তাকায় এবং বলে,,
আব্রাহাম :- বাজে বকবক করবি না এখান থেকে যা ,,
রেয়ান:- সত্যি কথা বলে ফেলেছি তাই খুব লাগছে তাই ন-
রেয়ান আর কিছু বলতে পারে না তার আগেই আব্রাহাম তার দিকে একটি বালিশ ছুড়ে মারে,,
রেয়ান:- আরে বালিশ ছুড়াছুড়ি তো বউয়ের সাথে করতে হয় আমাক-
এবারের আব্রাহাম সোজা জুতা তার মুখে ছুড়ে মারে ,,এতে রেয়ান বিরক্ত হয়ে বলে,,
রেয়ান:- ছি! তুই আমার মুখে জুতা চুরি মারলি! তুই ঘরে জুতা পেলি কই?!
আব্রাহাম শয়তানি একটি হাসি দেয় এবং বলে,,
আব্রাহাম :- আসলে এটা ঘরের জুতা না বাথরুমের জুতা!
রেয়ান:- কিহহহ! ছিহহহ ইয়াককক!

এই বলে রেয়ান ঘরে থেকে বের হওয়ার জন্য শুরু করে,,কারন সে আর চেপে রাখতে পারছে না তার প্রচন্ড বমি পাচ্ছে,, কিন্তু বেচারা দরজা পর্যন্তও কোনরকম যেতে পারে না দরজা খুলেই সব উগলে দেয়,, কিন্তু দরজার ওপাশে দাঁড়িয়ে ছিল ইয়াশ যে মূলত সাথে কথা বলতে এসেছিল,, কিন্তু বর্তমানে রেয়ান তার মুখের ওপরে বমি করে দিয়েছে,, বেচারা ইয়াস বমির তীব্র গন্ধ সহ্য করতে না পেরে ওখানেই বিয়ে হয়ে যায়,,
এদিকে ইয়াশ কে দেখে রেয়ান এবারে ভয় পেয়ে যায়,, আব্রাহামের দিকে তাকায় এবং বলে,

রেয়ান:- তুই কি করলি এটা! সব দোষ তোর!
আব্রাহাম :- আমার কি দোষ তুই বমি করেছিস ,, তুই আমার সাথে মজা করেছিস আমিও তোর সাথে মজা করেছি ওটা ঘরের জুতা ছিল,,
এই বলে আব্রাহাম ঘর থেকে বাহিরে যায় এবং ইয়াসকে তোলার চেষ্টা করে এমনই সময় রেয়ানও তার দিকে জুতা ছুড়ে মারে,, তবে আব্রাহাম সেটা থেকে সরে যায় এবং জুতোটা সোজা মাসফিয়ার মুখে লাগে,,
আসলে মাশফিয়া, মায়িশা আর ঐশী বাহিরে বের হয়ে এসেছিলো তাদের চেঁচামেচি শুনে,, তখন সেখানে বাড়ির বড়রাও আসে,, সবার অবস্থা দেখে তারা হা হয়ে তাকিয়ে আছে,,

আব্রাহাম আর ঐশী আবরাহামের ঘরে আছে,, মূলত প্রত্যেকটি বিয়ের পর যেরকমটা হয় যে স্বামী স্ত্রীর একসাথে থাকতে হবে,, সেটাই এখানে হচ্ছে,,
যদিও এতে আব্রাহাম বা ঐশীর কারোই মত ছিল না কিন্তু কেউ কিছু বলতে পারেনি,, ওইসব রান্নাটা কি বিছানার একটা সাইডে শুয়ে পড়ে এবং আব্রাহামকে উদ্দেশ্য করে বলে,,
ঐশী :- দাঁড়িয়ে আছেন কেন? এটা কি বাংলা ছায়াছবি পেয়েছেন? যে একজন বিছানায় শোবে আরেকজন মাটিতে শোবে?
আব্রাহাম কিছু বলে না বিছানায় শুয়ে পড়ে,, তবে তাদের দুজনের মাঝে এতটাই ফাঁকা যে আরো ১০ জন এখানে শুয়ে পড়তে পারবে,,

তুমি আমার বিতৃষ্ণা পর্ব ৩

রাত দুইটা
হঠাৎ কিছু একটা আব্রাহাম কি সজরে লাথি মারে এবং আব্রাহাম মাটিতে পড়ে যায় বিছানা থেকে,, বিছানা থেকে মাটিতে পড়ার সাথে সাথে তার ঘুম ভেঙ্গে যায়,, যখন তার মাথা কাজ করা শুরু করে তখন সে বুঝতে পারে আসল ঘটনা,,
ঐশী তাকে লাথি দিয়ে বিছানা থেকে ফেলে দিয়েছে ,, এটা বুঝতে আব্রাহাম বিড়বিড় করে বলে,,
আব্রাহাম :- আল্লাহ আমি কি কোন খারাপ কাজ করেছিলাম? যে তাই শাস্তি হিসেবে আমাকে আমার অপছন্দের মেয়েটাকে বিয়ে করতে হলো?!

তুমি আমার বিতৃষ্ণা পর্ব ৫