তুমি আমার বিতৃষ্ণা পর্ব ৫
মাশকুরা মায়িশা
ঐশী আর তার দলবল বাড়ি ফিরছে,, ভার্সিটি থেকে ফেরার পথে তাদেরকে আহসান গ্রুপের পাশ দিয়ে যেতে হয়,, মূলত এই কারণে আগেরবার যখন তারা রিফাতের সাথে কথা বলছিল তখন আব্রাহাম তাদেরকে দেখে নিয়েছিল,,
এমন সময় ঐশীর চোখ আব্রাহামের দিকে আটকে যায়,,যে একটা মেয়ের সাথে বেশ হেসে কথা বলছে,, ঐশী তার জীবনে আজকেই হয়তো প্রথমবার আব্রাহামকে এতটা হাসতে দেখছে,, সে নিজের বুকের মধ্যে তীব্র ব্যথা অনুভূত করে,, নিজেকেই নিজে প্রশ্ন করে ওঠে, তার এমন কেন লাগছে? সে তো আব্রাহামকে ঘৃণা করে,, তাই না?
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
ঐশী তাদের দিকে এতটাই মনোনিবেশ করে যে খেয়ালই করে না,, তার দিকে মায়িশা আর ইয়াশ তাকিয়ে আছে,, ইয়াশ ঐশীর অবস্থা দেখে তার সাথে শয়তানি করার উদ্দেশ্যে বলে,,
ইয়াশ:- ভাবি জান আপনি কি জেলাস,, না মানে ভাইয়া আপনাকে রেখে এত সুন্দর একটা মেয়ের সাথে হেসে হেসে কথা বলছে,,
ইয়াশের কথা এবং তার কথা বলার ভাবে মায়িশা অনেক কষ্ট করে নিজের হাসি আটকে রাখে,, তবে ঐশী বিরক্ত হয়ে বলে,,
ঐশী :- আজাইরা প্যাঁচাল পারবি না একদম..!
এই বলে সে রেগে ওখান থেকে চলে যেতে থাকে,, তবে যাওয়ার সময় তার সাথে আব্রাহামের চোখাচোখি হয়,, সে আব্রাহামকে সম্পূর্ণ ইগনোর করে নিজের হাটার গতি বাড়ায়,,
রাতের বেলা
আব্রাহাম যখন বাড়ি ফিরে নিজের ঘরে আসে,, সে তার বিছানার এক কোণে ঐশীকে গুটিসুটি মেরে শুয়ে ঘুমিয়ে থাকতে দেখে,, তার চোখ জোড়া ঘুমন্ত ঐশী দিকেই থেমে যায়,, যেন তা শুধু ঐশীকে দেখার জন্যই তৈরি হয়েছে,, এ কেমন মোহ আছে এই নারীর মধ্যে?এর কোন উত্তর আব্রাহাম এর কাছে নেই,, সে নিজের চোখ জোড়া অনেক কষ্টে সরিয়ে কাপড় নিয়ে গোসল করতে যায়,,
গোসল সেড়ে যখন সে ঘরে আসে সে বিছানায় ঐশীকে না দেখতে পেয়ে কিছুটা বিচলিত হয়ে যায়,, তবে সে যখন বেলকনিতে যায় তখন সেখানেও সে কে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে দীর্ঘশ্বাস ফেলে,, কিন্তু কিছু বলে না নেশা আলু চোখে ওই সে দিকে তাকিয়ে থাকে,, তার মধ্যে যেন কি এমন হয়েছে,, যখনই ঐশিকে দেখে চোখ জোড়া তার মধ্যেই থেমে যায়,, এরপর সে আস্তে করে ঐশীকে ডেকে বলে,,
আব্রাহাম:- এত রাতে শীতের মধ্যে তুই ব্যালকনিতে কি করছিস? ঘরে আয়,,
ঐশী আব্রাহামের দিকে নিষ্প্রভ চোখে তাকিয়ে আস্তে করে বলে,,
ঐশী :- আপনি যান আমি আসছি,,
আব্রাহাম কতক্ষণ ঐশীর দিকে তাকিয়ে থাকে এরপর সে মাথা নাড়িয়ে রুমের ভেতরে চলে যায়,,
ঐশী নিজেও জানে না তাই কি হয়েছে,, আজীবন আব্রাহাম কে ঘৃণা করে এসেছে,, যদিও এর কোন কারণ আজও তার মনে পড়েনি,, কিন্তু সে আব্রাহামের মত রাগী বদমেজাজি ছেলে পছন্দ করে না,, কিন্তু আব্রাহামের মধ্যে এই সকল গুনই আছে,, তাই কোনদিনই আব্রাহাম কে সে ওতো একটা পছন্দ করত না,, তার অপছন্দ তাই হয়তো কবে ঘৃণায় পরিণত হয়েছে তা সে জানে না,, কিন্তু বর্তমানে এই আব্রাহামের জন্যই তার বুকে দহন হচ্ছে,,
নিয়তির খেলার কথা চিন্তা করে সূক্ষ্ম হাসে এবং আস্তে করে বলে ওঠে,,
আপনাকে ঘৃণা করা কি আমার জন্য এতটাই সহজ ছিল?
যে এই অজানা ভালোলাগা, অজানা ভালোবাসার মত দহনে আমাকে পো”-ড়াচ্ছেন..!?
সকালবেলা
আহসান বাড়ির সবাই নাস্তা করছেন,, শাহনাজ বেগমরা আজকেই চলে যাবে,, যদিও আগে ঐশীর সাথে যাওয়ার কথা ছিল,,কিন্তু বর্তমানে ঐশীর বদলে আবিদের বউ হিসেবে রাবেয়া যাবে,, বিয়ে সত্যিই অনেক আজব একটা জিনিস,, সম্পর্কগুলো খুব তাড়াতাড়ি বদলে যায়,, যেই বাড়ি একসময় ঐশীর মামা বাড়ি ছিল সেটাই বর্তমানে তার শ্বশুর বাড়ি,,
বাড়ির ছোটদের প্রতি উদ্দেশ্য করে মাজহারুল আহসান ওরফে মায়িশা ও মাসফিয়ার বাবা বলেন,,
মাজহারুল আহসান :- এই যে বিচ্ছুর দল, শোন এবারে আমাদের কম্পানিতে অনেক লাভ হওয়ার জন্যে একটা পার্টির আয়োজন করা হয়েছে,, ওখানে তোরাও থাকবি কিন্তু কোনো ঝামেলা করবি না,,
এতে কেউ কিছু বলে না শুধু মাথা নারায়,, সবাই খাওয়ায় মনোযোগ দেন,,
রাতের বেলা
বাড়ির ৭ ছোট সদস্য পার্টিতে যাওয়ার জন্য রেডি হচ্ছে,, ঐশী কালো ও সোনালী, মাইশা বেগুনি ও সাদা, রাবেয়া মেরুন রঙের মধ্যে শাড়ি পড়েছে,, অন্যদিকে মাসফিয়া অফ-হোয়াইট কালার এর মধ্যে একটি গাউন পড়েছে,, আব্রাহাম,আবিদ ও ইয়াশ Suit পড়েছে,,
তারা সাতজন একসাথে পার্টিতে প্রবেশ করে,, সেখানে পার্টির সবাই নিজেদের মাঝে কথাবার্তা বলছিল কেউ কেউ তো স্টেজে নাচও করছিল,, তারা সাহায্যের জন্য সেখানে পরিচিত ও অপরিচিত ব্যক্তিদের সাথে কথা বলতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে,, এমনই সময় সেখানে কোথা থেকে যেন রিফাত চলে আসে যাকে দেখে ওখানে থাকা মায়িশা ঐশী ও ইয়াশ তিনজনেই বেশ অবাক হয়,,
রিফাত ঐশীকে নাচের জন্য আমন্ত্রণ করে,, অন্য সময় হলে ঐশী রাজি হতো না, তবে যখন সে আব্রাহাম এবং আগের দিনের সেই মেয়েটিকে একসাথে কথা বলতে দেখে তখনই সে রিফাতের সাথে নাচ করতে রাজি হয়ে যায়,,
ডান্স ফ্লোরে ঐশী আর রিফাত নাচে মত্ত হয়ে যায়,, কিন্তু তারা দুজনেই খেয়াল করে না দূরে থেকে কেউ রাগী এটা কি আছে,, আব্রাহাম প্রচন্ড রেগে নিজের হাত মুষ্টিবদ্ধ করে রিফাতের দিকে তাকিয়ে আছে,,
নাচ শেষে যখন ঐশী ওয়াশরুমের দিকে যাচ্ছিল তখনই তাকে কেউ টেনে দেওয়ালের সাথে আটকে দেয়,, সে ভয় পেয়ে যায় তবে পরে বুঝতে পারে এটি আর কেউ নয় বরং স্বয়ং আব্রাহাম,, সে কিছুটা রাগী সুরেই বলে,,
ঐশী :- হচ্ছেটা কি! ছাড়ুন আমাকে!?
আব্রাহাম :- রিফাতের সময় নাচার সময় তো একবারও ছাড়তে বলিস নি!
ঐশী :- কেন? আপনি কি ওই মেয়েটির সাথে চুপ করে ছিলেন ?
আব্রাহাম কি বলবে বুঝতে পারে না ওই মেয়েটি আসলে তার সহকারি মেয়েটি নতুন এসেছে বিধায় তার সাথে এত রাগারাগি করেনি কিন্তু এটা যে তার বউ দেখে রেগে যাবে এটা তো সে বোঝেনি,,
সে নিজেও নিচের ফিলিংস এর ব্যাপারে নিশ্চিত নয়,, তবে সে নিশ্চিত হতেও চায় না,, এ শুধু জানি এই মেয়েটি কিছু যতই ঘৃণা করুক না কেন অন্য কাউকে তার সহ্য হয় না,,
আব্রাহাম একটি দীর্ঘশ্বাস নিয়ে ঐশীর একদম কানের কাছে ফিসফিশিয়ে বলে,,
আব্রাহাম :- I hate you, I really really hate you,,
কিন্তু তুমি শুধুই আমার,, শুধুই আমার,, তোমার উপরে শুধুই আমার অধিকার আছে আর কারো নয়,, “তুমি আমার বিতৃষ্ণা”..!
তুমি আমার বিতৃষ্ণা পর্ব ৪
এগুলো বিড়বিড়িয়ে বলতে বলতে আব্রাহাম ঐশীর ঘাড়ে মুখ গুজে,, ঐশী ওখানেই থমকে দাঁড়িয়ে থাকে,,নড়াচড়ার শক্তি ও তার শরীরে নেই,, যেন সবকিছু অবশ হয়ে গিয়েছে,, আব্রাহামের প্রতিটি স্পর্শ তার শরীরে শিহ-রণ বইয়ে দিচ্ছে,, এ কেমন অনুভূতি?
