তুমি আমার বিতৃষ্ণা পর্ব ৭
মাশকুরা মায়িশা
রাতের রাইতের টার সময় বাড়িতে প্রবেশ করে আব্রাহাম,, নিজের ঘরে ঢুকতেই দেখতে পায় তার বিছানায় শুয়ে ঘুমিয়ে আছে ঐশী তাকে দেখে আনমনেই বলে,,
আব্রাহাম :- বউ তুমি আমার বিতৃষ্ণা থেকে এত তাড়াতাড়ি আমার এই অনাকাঙ্ক্ষিত অনুভূতিতে রূপ নিলে কিভাবে?
এরপর নিজের বলা কথায় নিজেই অবাক হয়,, যে মেয়েকে এক সময় দু চোখেও সহ্য করতে পারতো না, আজ না চাইতেও সেই মেয়েই তার মনের একাংশ জুড়ে বিরাজ করছে,, এটা ভেবেই মৃদু হাসে আব্রাহাম ,,
[পরের দিন বিকালে]
মাত্র বাড়ি ফিরল ঐশী, মায়িশা আর মাশফিয়া ,, আজকে ইয়াসের এক্সট্রা ক্লাস আছে যদিও অন্য সময় হলে তার এই আসার জন্য অপেক্ষা করত কিন্তু আজ মায়িশার কিছুটা অস্বস্তি ফিল হচ্ছে,, যদিও এর পুরোটাই ইয়াসের জন্য কারণ এই অনাকাঙ্খিত বিয়ের পর থেকেই ইয়াশ তাকে এড়িয়ে চলছে,, আর এতেই মায়িশা প্রচন্ড বিরক্ত তাই আর অপেক্ষা করেনি,,
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
বাড়ি ফিরতেই তারা বাড়ির ড্রয়িং রুমে আব্রাহামের মামা মামি ও মামাতো ভাই বোনকে দেখতে পায়,,
আব্রাহামের মামাতো ভাই অভ্র আব্রাহামের থেকে মাত্র দুই মাসের ছোট,, আর মামাতো বোন আলিশা এবার মেডিকেল স্টুডেন্ট,,
অভ্রর সাথে আব্রাহামের কোনদিনই ভালো করে বনিবনা হয় না,, এর সাথে আব্রাহামের মামির সব সময় ইচ্ছা ছিল আলিশার সাথে আব্রাহামের বিয়ে দিতে,, তবে যেহেতু আব্রাহামের বিয়ে হয়ে গিয়েছে তাই মূলত আব্রাহামে বউকে দেখার জন্যেই তিনি এসেছেন,,
তারা তিনজন বাড়িতে প্রবেশ করলে দেখতে পায় আব্রাহামের মামি আমিনা বেগম আয়েশা বেগম ও লিপি বেগমের সাথে হেসে হেসে কথা বলছে„ তখনই ঐশী মায়িশা আর মাশফিয়াকে দেখে তিনি ঐশীর কাছে এগিয়ে যান এবং বলেন,,
আমিনা বেগম :- হ্যা গো আয়েশা তুমি শেষ পর্যন্ত আব্রাহামের মত লম্বা, স্বাস্থ্যবান, ফর্সা, ভদ্র ছেলের সাথে এমন শ্যামলা মেয়ের বিয়ে দিলে? এর থেকে তো আমার আলিশা হাজার গুনে ভালো,, তাছাড়া শুনেছি আব্রাহামও নাকি রাজি ছিল না এই বিয়ের জন্য?
আমিনা বেগমের ঐশী অনেক রেগে যায় তবে গুরুজন ভেবে রাখার চেষ্টা করে,, আয়েশা বেগমও প্রচন্ড রেগে যান তবে তিনি নিজেকে ঠিক রাখার চেষ্টা করেন কারণ যত যাই হোক তিনি তার বড় ভাইয়ের বউ,, তবে মায়িশা নিজেকে আটকাতে পারেনা সে বলেই ফেলে,,
মায়িশা :- আমি যতদূর জানি বড় ভাইয়া ও তো আলিশা আপুকে বিয়ে করতে চায়নি তাই না মামী?
মায়িশার কথায় এবার আমিনা বেগম মুখ ভ্যাংচান এবং কিছুটা বিরক্তি নিয়ে বলে ওঠেন,,
আমিনা বেগম :- তা বাপু তুমি চুপ করো তুমিও যে আমার ইয়াশকে ফাঁদে ফেলে বিয়ে করেছ,, তা কি আর আমরা বুঝি না ,, তাছাড়া তুমিও তো দেখতে ওই অত সুন্দর না বোনের মত শ্যামলাই,,
এবারে মায়িশা চুপ করে যায়,, ঐশী রাগে হাত মুষ্টিবদ্ধ করে ফেললেও কিছু বলে না,, আয়েশা বেগমের রাগ যেন তির তির করে বেড়েই যাচ্ছে,, কিন্তু লিপি বেগম নিজের মাথা নিচু করে ফেলেন,,
আমিনা বেগম তো চুপ করেনি না উল্টো আরো বলতে থাকেন,,
আমিনা বেগম :- মেয়েদের একটু সুন্দর হতে হয়! তা না হলে জামাই তাদের রাখবে নাকি?
এবারে এতক্ষণ চুপ করে থাকা মাশফিয়া,, নিজেকে আর চুপ থাকতে না পেরে আমিনা বেগমকে উদ্দেশ্য করে বলে ওঠে,,
মাশফিয়া :- তা মামি মামু আপনাকে ডিভোর্স দেয় নি কেন? আপনিও কি ফাঁদে ফেলেছিলেন নাকি ? আর যাই হোক আপনি তো পুরো পাতিলের কালির মত!
মাশফিয়ার কোথায় আমি না বেগম র-ক্তচক্ষু নিয়ে তার দিকে তাকায়,, ঐশী আর মায়িশা অনেক কষ্ট করে নিজের হাসি আটকে রাখার চেষ্টা করতে থাকে,,
মাশফিয়ার করার স্পষ্ট অপমানে আমিনা বেগম প্রচন্ড রেগে গেলেও তিনি কিছু বলেন না,, কারণ মাশফিয়াকে ওনার অনেক পছন্দ,, মেয়েটি একটু স্পষ্টবাদী হলেও বেশ সুন্দরী এবং ভদ্র,, তাই এবার তিনি কিছুই বললেন না এবং কথা ঘুরিয়ে অন্য কথায় চলে গেলেন,,
অন্যদিকে অভ্র মায়িশাকে এক নজরে দেখেই যাচ্ছে,, অভ্র অনেক আগে থেকেই মায়িশাকে পছন্দ করে,, যখন সে জানতে পারে ইয়াশ আর মায়িশার বিয়ে হয়ে গেছে তখন সে হতবাক হয়ে গিয়েছিল,, কারণ সে ছোট থেকেই মায়িশাকে নিজের বউ করার স্বপ্ন দেখে আসছে,,
তখনই ভার্সিটিতে থেকে ইয়াশ বাড়ি আসে,, মায়িশা আর ইয়াসের চোখাচোখি হলে মায়িশা ঐশীকে নিয়ে নিজের রুমে চলে যেতে উদ্যত হয়,, মায়িশার হঠাৎ করে নিজের ঘরে আসার কারণ আর কেউ বুঝতে না পারলেও ঐশী ঠিকই বুঝতে পারে,,
ঐশী :- আর কতদিন ইয়াশকে এড়িয়ে চলবি?
মায়িশা :- যতদিন না তোমার “দেবর” নিজ থেকে কথা বলতে আমার কাছে আসছে,, আমি কি তাকে এড়িয়ে যেতে চাচ্ছি নাকি? সেই তো কথা বলছে না!
ইয়াশকে ঐশীর দেবর বলে সম্বোধনে ঐশী চুপ করে যায়,,তারপরেও সে মায়িশাকে উদ্দেশ্য করে বলে,,
ঐশী :- তুই জানিস যে ইয়াশ তোকে ভালবাসে,,
তবে আমার মনে হয় সে বিয়েটা হঠাৎ করে হয়ে যাওয়ায় কিছুটা অস্বস্তিতে আছে তাই এভাবে তোকে এড়িয়ে যাচ্ছে, কিন্তু তুই তো কথা বলতে পারিস,,
মায়িশা কিছু বলে না,, কারণ ঐশীতো ঠিক কথাই বলছে ইয়াশ এড়িয়ে গেলেও তো তার কথা বলতে যাওয়া উচিত ছিল,,
মায়িশা আর ঐশী তারা দুই বোন এইসব নিয়ে কথা বলছিল,, এমন সময় নিচ থেকে চেঁচামেচির আওয়াজ হয়,, গলা শুনে আব্রাহামের বলে মনে হওয়ায় তারা দুজনই নিচে নেমে আসে,, তখনই তারা শুনতে পায় আব্রাহাম বলছে,,
আব্রাহাম :- আপনার সাহস কি করে হয় আমার স্ত্রীকে অপমান করার?! সে কালো না ফর্সা সেটাকি আমি আপনাদের কাছ থেকে শুনতে চেয়েছি?!
এসব কথা শুনে তারা দুজনে অবাক হয়ে যায়,,, এসব তো আমরা জানার কথা নয়,, কারণ তখন আব্রাহাম বাড়িতেই ছিল না তাহলে? তারা ইয়াশকেও প্রচন্ড রাগী অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখতে পায়,, এতে বুঝতে পারে কথাগুলো ইয়াশের কানেও গিয়েছে,, কিন্তু বলেছে কে?
তখনই তারা দূরে দাঁড়িয়ে মাশফিয়াকে মিটিমিটি হাসতে দেখতে পায়,, এতে দুজনেই বুঝে যায় যে এইটা কার কাজ,, তখনই আব্রাহামের মামা ইজাজ শেখ বলেন,,
ইজাজ শেখ :- আব্রাহাম তুমি কিন্তু তোমার মামীকে অপমান করছ ভুলে যেও না সে আমার স্ত্রী!
এতে যেন আব্রাহামের রাগ আরো বেড়ে যায়,, সে রাগান্বিত গলায় একপ্রকার হুংকার দিয়ে বলে,,
আব্রাহাম :- তাহলে আপনার স্ত্রী কিভাবে ভুলে গেল যে, সে যাকে অপমান করছে সে, আমার,, এই “আব্রাহাম আহসানের” ওয়াইফ?! আব্রাহাম আহসানের বাড়িতে দাঁড়িয়ে থেকে তারই ওয়াইফকে অপমান করার সাহস আপনার স্ত্রী পেল কোথা থেকে?!
তুমি আমার বিতৃষ্ণা পর্ব ৬
(রাগ নিয়ন্ত্রণে আনতে দীর্ঘশ্বাস ফেলে ঐশীর দিকে তাকিয়ে জোর গলায় বলে)
ঐশী আমার স্ত্রী, আমার অর্ধাঙ্গিনী,,,
সে কালো না ফর্সা, তাতে আমার কোনো যায় আসে না,,
সে যেমনই হোক আমি তাকে ভালোবাসি,,
সে আমার বেঁচে থাকার মূল উৎস,,
আমার জীবনের কারণ,,আমার শ্যামাঙ্গিনী..!
