তুই আমার ৭ মিনিট পর্ব ৩২
ঐশী আফরিন
ভোরের স্নিগ্ধ আলো বিদায় জানাচ্ছে রাতের বিদঘুটে অন্ধকার কে। পাখিরা কিচিরমিচির ডাকে ঘর ছাড়ছে খাবারের সন্ধানে। দিগন্তে ঝুলে থাকা সূর্যটা ধীরে ধীরে নিজের শির উঁচু করছে। জানালার ফাক গলে আসা মৃদু আলোয় চোখ পিটপিট করে তাকায় স্বামীর বক্ষে লেপটে থাকা তরুণী। নয়নের পর্দা সরাতেই ধরা দেয় তামাভ্র চেহারাটা। যার গভীর নিখাদ চোখদুটো তাক করা তারই পেলবে। অপলোক তাকিয়ে থেকে কী এত দেখে উনি সেটাই বুঝে পায় না সে। কিছুক্ষন দৃষ্টি অদল বদলের পর মাধবী উঠতে চায়। কিন্ত তাকে আষ্টে পৃষ্ঠে জরিয়ে ধরে আছে ভীষণ পরিচিত দুটো হাত। কোনভাবেই উঠতে না পেরে মুখ খুলতে হয় তার “ছাড়ুন”
লোকটার কোন হোলদোল না দেখে সে আবারও বলে “ছাড়বেন?”
এবার লোকটার সরু ঠোঁট মেলে “না”
“আরে সকাল হয়ে গেছে তো”
আরিয়ান কিছু না বলে মুখ দাবিয়ে দেয় মাধবীর মসৃণ গলার ভাজে। মাধবী বিরক্তি নিয়ে চেঁচিয়ে উঠে “অসভ্য লোক কোথাকার। এমন করলে আমাকে আর জীবনেও কাছে পাবেন না”
“সে পরেরটা পরে দেখা যাবে”
“ছাড়বেন আপনি?”
“বললাম তো না”
মাধবী কনুই দিয়ে গুঁতো দেয় আরিয়ানের বুকে। সেখানে চাপ দিয়েই গায়ের জোরে উঠে বসে। আরিয়ান ব্যাথায় মৃদু শব্দে ‘আউচ’ বলে। আবারও ধরতে যাবে তার আগেই মাধবী বিছানা ছাড়ে। সে উঠে যেতেই আরিয়ান ধপ করে উঠে পরে। গা থেকে কম্বল সরিয়ে লুঙ্গিতে গিট্টু দিতে দিতে বলে “এই পরীর বাচ্চা শোন না। আয় না পেছনের পুকুর পার থেকে দুটো ডুব দিয়ে আসি। গোসলই তো করবি। কল পারে না গিয়ে পুকুরে যাই আয়”
মাধবী কিছুক্ষন ভেবে বলে “ঠান্ডা পানি”
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
“হয়েছে আর সাধু গিরি মারায়ো না। রাত বিরাতে গোসল মারাইতে পারো এখন সমস্যা হয়ে যাচ্ছে”
মাধবী তাকিয়ে দেখে লোকটা কোন ভাবেই লুঙ্গি টাকে সামলাতে পারছে না। কি মনে করে কাল রাতে লুঙ্গি আর সেন্টু গেঞ্জি পরেছিলো। এখনও সেগুলোই গায়ে। ওর নাজেহাল অবস্থা দেখে বেজায় হাসি পাচ্ছে তার। হেসেও দেয় ফিঁক করে। আরিয়ান গিট্টুর হাত থামিয়ে কপাল কুঁচকে তাকায়। ওর হাসির কারণ বুঝতে পেরে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে। আজকের দিনে বউও তাকে নিয়ে হাসাহাসি করছে লুঙ্গি সামলাতে না পারার জন্য। কি লজ্জা কি লজ্জা! নাহ এখন থেকেই লুঙ্গি পরা শিখতে হবে ভেবেই তাকে বলে “এখন থেকে সাদা লুঙ্গি পরে সাদা পাঞ্জাবি পরবো। তাহলেই খাছ বাঙালি লাগবে তাই না গৃহিনী সাহেবা?”
সে আবারও হেসে বলে “সেই লাগবে। একদম গ্রামের কৃষক চাচাদের মত”
হাসি মিলিয়ে যায় আরিয়ানের “তাহলে কি কালো লুঙ্গির সাথে সাদা পাঞ্জাবি পরবো?”
সে মুখ টিপে হেসে বলে “কিছু না পরলেই বরং ভালো লাগবে”
এবার আরিয়ান সোজা হয়ে দাঁড়ায়। লুঙ্গির গিট্টু থেকে হাত সরিয়ে দুহাত উপরে তুলে দাঁড়িয়ে বলে “নেহ ছেড়ে দিলাম। দেখতো ভালো লাগছে কি না?”
তবে তার কথা শেষ করার আগেই মাধবী চোখ মুখ খিঁচে ছুট লাগায়। যেতে যেতে বলে যায় “অসভ্য কুত্তা লোক। তোর জীবনটাও বাচ্চা কাচ্চা হবে না। হলে নাতি নাতনি হবে না। সেটা হলেও পুতি পুতিন হবে না অভদ্র কোথাকার”
আরিয়ান হো হো করে ঘর কাপিয়ে হাসে। লুঙ্গির গিট্টু ধরে এগিয়ে গিয়ে একটা সুতলি নেয়। সেটা দিয়ে কোমরে পেঁচিয়ে কোন রকম বাঁধে। ছুটে না গেলেই হলো। তারপর সেভাবেই মাধবীর পিছু নেয়। পেছন দিকে লুঙ্গি মেঝেতে গড়াগড়ি খাচ্ছে। যাই হয়ে যাক চিৎ পটাং হয়ে না পরলেই হলো। সে চিন্তা মাথায় রেখে ঘাটে গিয়ে পৌছায়। মাধবী সিরিতে বসে আছে। সেও পাশে গিয়ে আসে। পুকুরের সচ্ছ পানি জ্বল জ্বল করছে ভোরের আলোয়। আরিয়ান তাড়া দিয়ে বলে “আয় বউ আল্লাহর নাম নিয়ে গোসলটা করে ফেলি। ক্ষেতে হাঁটতে যাবো নে”
“যাবেন সত্যি?”
“হুম চল। সাঁতার তো মনে হয় না পারিস”
“সেভাবে পারি না। তবে গোসল করে উঠতে পারবো”
“আয়”
বলে মাধবীর হাতটা ধরে ধীরে ধীরে নেমে যায় ঠান্ডা পানিতে। মেয়েটা কেঁপে উঠে ঠান্ডায়। আরিয়ান ঝুঁকে পরে তার মুখের উপর। নজর পরে তার কাঁপতে থাকা ওষ্ঠে। নিবিড় দৃষ্টিতে কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে আকস্মিক তাকে জাপটে ধরে ডুব দেয় গভীর পানিতে। প্রায় ১ মিনিটের মাথায় উঠে আসে। মেয়েটা কাশতে কাশতে হাপিয়ে উঠে। বদন জুরে বিন্দু বিন্দু জল কণা। যা গড়িয়ে পরছে ঘন চোখের পাতা থেকে গাল নাক বেয়ে তিরতির করে কাঁপতে থাকা পাতলা ওষ্ঠে। স্নিগ্ধ আলোয় দৃশ্যটা কী মধুবই না লাগছে দেখতে। দুজনেই মোহিত দৃষ্টিতে একে ওপরের চোখে তাকিয়ে থাকে। অথচ আশপাশে কুয়াশায় ঘেরা। এক হাত দূরের কিছুও দেখা যাচ্ছে না। এরমাঝেই ঠক ঠক করে কাঁপতে থাকা দু কপত কপতি একে ওপরের চোখে নিবিষ্ট। বেশ কিছুক্ষন পরে ধ্যান ভেঙে আরিয়ান বলে “চল তোকে সাঁতার শেখাই গৃহিনী সাহেবা”
মাধবীও সায় জানায়। আরিয়ান মাধবীর পেটে এক হাত দিয়ে পানির উপরে ভাসিয়ে তোলে তাকে। ভাসমান হলে আরেক হাতও পেটে দিয়ে বলে দু হাত পা স্ববেগে নাড়িয়ে সামনে আগানোর চেষ্টা করতে। সেও চেষ্টা করে। একটা সময় আরিয়ান পেট থেকে হাত সরিয়ে ফেলে। মাধবী নিজে নিজে চেষ্টা করে অনেক টা যায়। বেলেন্স হাড়ালে সে আগলে ধরে। আবার ছাড়ে আবার সাহায্য করে। একটা সময় মাধবী আগের তুলনায় অনেকটা শিখা যায়। বুঝতে পেরেই আরিয়ান তাড়া দেয় “হয়েছে। যেটুকু শিখেছিস তাতেই হবে। শীত কমলে ভালোভাবে শিখিয়ে দেব। ওঠ এবার। নয়তো ঠান্ডা লেগে জ্বর আসলে এই আমাকেই সারারাত পাশে বসে থাকবে”
মাধবী ফোঁস করে নিঃশ্বাস ছেড়ে উঠতে উঠতে বলে “তাহলে কী অন্য কেউ থাকবে। আজব!”
“যে থাকতে চাইবে তাকে একদম পটল,কড়োলা,কুমরা যা যা আছে সব তুলতে নরকে পাঠিয়ে দেব”
“নরক তো আপনার বাপের”
“বাপের না হলেও বাপ তো থাকবে সেখানে”
“আপনি জানেন আপনার বাপ থাকবে না কি”
“সব তুই জানিস। আল্লাহ বান্দি এবার উঠ”
দুজনে পারে উঠলে আবারও বিপাক বাঁধে আরিয়ানের লুঙ্গি নিয়ে। পানিতে জুবুথুবু হয়ে তা একেবারে খুলে যাওয়ার জোগান। মাধবী হতাশার শ্বাস ফেলে বলে “আসার সময় এটা খুলে আসা গেল না?”
আরিয়ান কথা না বলে সুতলি দিয়ে আবারও কোমরে গিট্টু দেয় এটাকে। কোনভাবে সিরিগুলো বেয়ে ঘরে পৌছাতে পারলেই হলো। মাধবীকে সামনে সামনে হাঁটতে বলে সে লুঙ্গির কোণ ধরে কোমরে গিট্টু দেয়। নাহ এবার ঠিক লাগছে। সে আরামসে ঘরে যায়। এরমাঝে যদি মাধবী একবার ভুল করেও পেছনে ফিরতে নির্ঘাত আরো কয়েকবার অসভ্য অভদ্র বেলেহাজ বলে ডাকতো। দুজনে ভিজে জামা কাপড় পাল্টে ফেলে। আরিয়ান তার নিত্য দিনের অভ্যাসের ন্যায় সফেদ পাঞ্জাবির সাথে সফেদ শাল পরে। শালের দুধারে কালো চিকন পাড়। এটা মাধবীই পছন্দ করে দিয়েছে পরার জন্য। আর নিজেও পরেছে শুভ্র শাড়ির সাথে শুভ্র শাল। শাল দুটো একই রকম। তৈরী হয়ে ফজরের নামাযটা সেরে দুজনে নিচে নামে। বাড়ি আর কিছুক্ষন পর জাগ্রত হবে। তবে শহর নয়। সকাল সাতটা ছাড়া রাস্তা একেবারেই ফাঁকা থাকবে। এখন মাত্র পাঁচটা বজে। সময় আছে বলেই মাধবীকে বোরকা ছাড়া সাথে নিয়ে বেরিয়েছে। আরিয়ান ঘোড়া বের করলে দুজনে টগবগিয়ে রওনা দেয় ধান ক্ষেতের দিকে। রাস্তায় হঠাৎই একটা মাধবীলতার গাছ দেখে তৎক্ষনাত ঘোড়ার লাগাম টানে মাধবী। চেঁচিয়ে আরিয়ান কে ডেকে বলে “এই দাঁড়ান একটা ফুল নেই”
“আরো জোরে চেঁচা। যেন আশেপাশের মানুষ ভাবে স্বর্গ থেকে পরি এসে তার মধুর আওয়াজ দিয়ে স্বামীকে ডাকছে ফুল চুরি করার জন্য”
“ইচ্ছে হয়েছে তাই চেঁচিয়েছি। এবার ঝট করে নেমে চট করে কয়েকটা ফুল চুরি করে আনুন তো”
আরিয়ান পাঞ্জাবির কলার উঁচিয়ে বলে “তুই হয়তো ভূলে যাচ্ছিস আমি এই দেশের সুনাম ধন্য একজন এমপি”
মাধবী নির্বাক কন্ঠে উত্তর দেয় “তো আমি কি করতে পারি?”
“তোর কী মানে? এখন যদি ফুল চুরি করতে যাই পরে ধরা খেলে মান ইজ্জত সব ধুলোয় মিশে যাবে”
“এসব ঠুনকো মান ইজ্জত বউয়ের জন্য চলে গেলে কিছু হয় না”
সে বোঝানোর সুরে বলে “তোকে আজই পুরো ছাদ ভর্তি মাধবীলতা ফুলের গাছ এনে দেব কসম। বউনা ভালা জীদ ধরিস না”
“চুরি করে আনার মত অনুভূতি তো পাবো না”
মেয়েটার নানা রকম যুক্তিতে বাধ্য হয়ে আরিয়ান বাগানে প্রবেশ করে। একটা মাত্র মাধবীলতার গাছ বাগানটায়। আর বাকি সব অন্যান্য জাতের। টিনের বেরা ডেঙিয়ে কোন মতে ঢুকতে তো পারলো কিন্ত সামনে এক সাপ পরতেই সে শিরদারা সোজা করে দাঁড়ায়। আড়চোখে সাপের দিকে তাকিয়ে মাধবীকে ইশারা দেয়। মাধবী উঁকি দিয়ে দেখে এটা বিষাক্ত সাপ। সে ততক্ষনাৎ আরিয়ান কে বেরিয়ে আসতে বলে। তবে সে বের না হয়ে ‘হুশশশশ হুশশশশ’ করে। আশ্চর্যের বিষয় সাপটা খুব ভালোভাবেই চলে যায় এখান থেকে। মাধবী তীক্ষ্ণ নজর এবার তাঁক হয় আরিয়ানের দিকে। লোকটা হাত ভরে ফুল নিচ্ছে। সাপটা এভাবে হঠাৎ চলে যাওয়াতে বিষয়টা তার কাছে খটকা লাগলেও আপাতত চুপ থেকে হাসি ঝুলিয়ে রাখে মুখে। যেভাবে গিয়েছিল সেভাবেই বেরিয়ে আসে সে। পাঞ্জাবির ময়লাগুলো এক হাতে ঝেড়ে হাত ভরা ফুল থেকে একটা থোড়া স্বযত্নে গুঁজে দেয় শ্রেয়সীর কানে। পুরুষালি রুক্ষ হাতের ছোঁয়া কানের লতিতে অনুভব করতেই শিউরে উঠে তার নারী দেহ। বাকি ফুলগুলো দিয়ে দেয় হাতে। তারপর আবারও দুজনে ঘোড়ায় করে কাঙ্খিত জায়গায় পৌছায়। রাস্তায় দুজনের মধ্যে এটা ওটা নিয়ে তর্কা তর্কি লেগেই থাকে। ঘোড়া থেকে নেমে রাস্তার পাশে ক্ষেতের ধারে বসে। রাস্তাটা মাটির হলেও দু পাশে দুর্বা ঘাস। তার উপর জমে আছে সূক্ষ্ম শিশির বিন্দু। কিছুক্ষন দুজনের মাঝে নিরবতার পর আরিয়ান অদূরে একটা ইটের কণা ছুরে বলে “তুই সংসারি হবি কবে থেকে?”
মাধবী নির্বিঘ্নে উত্তর দেয় “যেদিন আমার পরিবারের খুনিদের নিজ হাতে মনের মত শাস্তি দিতে পারবো। সত্যি বলছি একদিকে ওদের রক্ত দিয়ে গোসল করবো অন্যদিকে আমার সংসার আমি নিজ হাতে আঁকড়ে ধরবো”
“যদি খুনিদের খোঁজ না পাস কখনো?”
“পাবো। তার জন্য সর্ব প্রথম তৃশান ভাইয়াকে খুঁজতে হবে”
“খুঁজে না পেলে?”
“সে যদি বেঁচে থাকে তাহলে অবশ্যই দুনিয়ার যে প্রান্তেই সে থাকুক আমি খুঁজে বের করবো”
“একা সব পারবি?”
মাধবী দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলে “যদি জীবনসঙ্গী এটুকু কাজে সঙ্গ না দেয় তবে কীসের সঙ্গী সে?”
আরিয়ান বিজ্ঞের মত মাথা নারিয়ে বলে “হুম। ধর থাকবে সে তো সাথে। কিন্ত এতেই হয়ে যাবে?”
“একজন বিশ্বস্ত সঙ্গী থাকলে দুনিয়া জয় করাও সম্ভব”
“বিশ্বাস করিস আমাকে?”
“আগে বলুন তো আপনি কি আমাকে সত্যিই ভালোবাসেন?”
“ঐ অপরাহ্নের হাওয়ারা জানে কত অসমাপ্ত কবিতা আমি মুঠোয় ভেঙে উড়িয়ে দিয়েছি একমাত্র তোর শূন্যতার হাহাকারে”
“তো ভালোই যদি বেসে থাকেন তো যাকে ভালোবাসেন তার এতটুকু মতি গতিও কি বোঝেন না?”
“তবুও তোকে ভরসা করতে পারি না কারণ তোর বিশ্বাস কখন থাকে কখন থাকে না বলা যায় না”
“তা ঠিক বলেছেন”
“মধু পাপ কিন্ত শুধু মানুষ কে ধ্বংস করে না। সাথে ভালোবাসাকেও বিষাক্ত করে তোলে”
“সেই বিষাক্ততাকেই আশক্ততা বানিয়ে সাদরে গ্রহন করবো”
“মুখে বলা যত সহজ কাজে দেখানো কিন্ত ততটাই কঠিন”
“ছোট থেকে কঠিন কাজগুলোই বেছে বেছে করতে পছন্দ করি আরিয়ান ভাই”
“বাল”
মাধবী অবাক হয়ে বলে “হঠাত বাল আসলো কোত্থেকে”
“তুই কি আরিয়ানের সাথে ভাই ডাকাটা ছাড়বি না?”
“তো ভাই না ডেকে কী ডাকবো?”
“অন্য কিছু। যা তোর ইচ্ছে হয়”
“আমার তো আপনাকে ‘শাঙ্কির পোলা’ ডাকতে ইচ্ছে করে”
“হ্যা?”
“যা শুনেছেন তা-ই”
“এটার মানে কি রে?”
“জানি না। তবে ডাকতে ইচ্ছে করে মানে এখন থেকে ডাকবো”
আরিয়ানের মস্তিষ্কে কিছুক্ষন ঘুরপাক খায় ‘শাঙ্কির পোলা’ শব্দটা। তার জানা মতে শাঙ্কি মানে হচ্ছে বড় হাড়ি। যাকে খাছ বাংলায় হাঙ্কি বলে। লোকমুখে সে শুনেছে এই কথাটা যে- হাঙ্কি ভরে খা। কিন্ত তাকে এই শাঙ্কির পোলা কেন ডাকতে ইচ্ছে হলো হঠাত এই মেয়ের। আজব! সে গলা খাঁকারি দিয়ে বলে “তোর মত বাংলা পাগল আমার জগতে দুটো দেখি নি”
“দেখার সৌভাগ্য করে দেয়ার জন্য আমাকে চট করে একটা ধন্যবাদ দিয়ে দিন”
“ধন্যবাদের সাথে একটা চুমুও দেই?”
“মুখে বোমা পরুক আপনার”
“তোকে এক তরফা যারা পছন্দ করে তাদের বুকে পরুক ছাগলি”
“তাতে আমার কি? বুকে পরুক চাই টুনটুনিতে পরুক আমার যায় আসে না”
“তুই টুনটুনিও চিনিস?”
“বাজে বকবেন না তো”
যাহ বাবা! টুনটুণির কথা বললো নিজেই। এখন তাকেই বলছে বাজে না বকতে। এই মেয়ে জাত এমনি হয়। মাধবী কিছু একটা ভেবে বলে “আপনি জীবনে কয়টা খুন করেছেন?”
“ওসব খুন টুন আমি করি না। ওসব গরিবানা ব্যাপার”
“তো আপনি কি করেন শুনি?আমার বড়লোকের শ্যা*টা*টা”
“আমি বুঝে পাই না মধু। তুই ঘর বন্দি থাকার পরেও এসব ভাষা শিখলি কোত্থেকে”
“ঘরেই যদি আপনার মত একটা গন্ডার থাকে তো আর বাহির থেকে কেন শিখতে হবে। কথা না পেঁচিয়ে সোজা উত্তর দিন”
“বললাম তো আমি খুন করি না”
“আচ্ছা আমি যখন স্বীকার করি তো আপনার স্বীকার করতে সমস্যাটা কোথায়”
“এতটুকু জেনে রাখ তোর থেকেও নিকৃষ্ট পাপী আমি। তুই যদি হোস নরখাদক তো আমি হলাম নরপিষাচ। সময় হলে এমনিতেই আমি তোকে সব জানিয়ে দেব। এখন জানিয়ে এই সুখের সময়টা নষ্ট করতে চাই না”
“আমি আপনি দুজনেই এক পথের পথিক। তো আমাকে জানালে কী এমন ক্ষতি হবে”
“তুই বড্ড বোকা নারী। তুই আসলে নিজেকে যতটা চালাক ভাবিস ততটাই বোকা তুই। হ্যা তুই অসম্ভব দুঃসাহসী তবে বোকা। বোকামি জিনিসটা কাজ করে তোর রন্ধ্রে রন্ধ্রে। আমি তোকে যতটা চিনি এবং জানি ততটা তুই নিজেকেও চিনিস না মধু। তাই যখন সময় হবে আমি নিজেই তোকে সবটা জানিয়ে দেব। কসম”
তারপর দূর আকাশের কুয়াশা ভরা সূর্যের দিক চোখ রেখে বলে ” আমার হাড়িয়ে যাওয়া স্বপ্নের খোঁজ তুই । আমার নির্জন পথের দিশা তুই । আমার পথ হারা জীবনের একমাত্র গন্তব্য তুই । আমার সমস্ত জীবনের পূর্ণতা তুই ”
আবারও কিছুক্ষন নিরবতার পর বলে “যার সম্পূর্ণ জীবনের একমাত্র আশ্রয় তুই। সে কী কখনো চাইবে তার জীবন থেকে তুই হাড়িয়ে যাস? এখন আমি বড্ড সুখ সন্ধানী হয়ে গেছিরে মধু। একই মনে জায়গা দিয়েছি পাপের সাথে পবিত্রতা। সেই পবিত্রতা টুকু পুরোটা জীবন আগলে রাখতে চায় এই দিশেহারা বক্ষপিঞ্জর । তাই আমার কথা ভেবে অন্তত এসব জানতে চাস না ”
মাধবীর কপাল সহ ভ্রুতেও গম্ভীর ভাজ পরে। এতটা কি লুকোতে চাইছে লোকটা যে এমন ভাবে বলছে। লোকটার তো সব আছে। বাবা না থাকলেও পুরো পরিবার তো আছে। তবুও তাকেই কেন বললো একমাত্র গন্তব্য? লোকটার জীবনে কী কোন খারাপ অতীত আছে? কীভাবে থাকবে? তিনি তো এত বছর বিদেশ করেছে। সেখানে কি কিছু হয়েছিল? নাহলে এমন কেন লোকটা? কেমন ছন্নছাড়া স্বভাবের। এই দুবছর সে দেখেছে শুধু তার আর অপূর্বের কোন বিষয় ছাড়া দুনিয়ার আর কারও বিষয়ে সে তৎপর হয় না। এসব আরো নানান ভাবনা থেকে মোলায়েম কন্ঠে জিজ্ঞেস করে “আপনার কি কোন খারাপ অতীত ছিলো আরিয়ান ভাই?”
“নায়ক খারাপ হলে তাদের জীবনে অতীত থাকে তবে খলনায়ক খারাপ হলে তাদের কোন অতীত থাকে না। তারা খারাপ হয় নেশার বশে। পাপ কিন্ত এক ধরনের নেশা। সেটা তুই বুঝবি না। কারণ তুই নায়িকা। তোর অতীত তোকে এই পথে এনেছে। কিন্ত আমি এসেছি নেশার বসে”
“তার মানে আপনি খারাপ?”
“তোর কি মনে হয়? আমি ভালো হলে এই পথে আসি?”
“তবে আপনি যা-ই করেন না কেন। আপনার আকাশ সম পাপ আমি চোখ বুজে ক্ষমা করে দেব, যদি তা কোন নারী ঘটিত না হয়। নারী ঘটিত বলতে কিন্ত শুধু আমার স্থান অন্য কাউকে দেওয়ার কথা না। নারীরা ফুলের মত। আপনার হাতে যদি করণ ছাড়া একটা ফুলও ঝড়ে তবে আপনিও কিন্ত ঝড়ে যাবেন”
“একদম চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করতে পরিস। কথা দিলাম কোন নিষ্পাপ ফুল আমার হতে ঝড়বে না”
মাধবী তৃপ্তিময় হাসে। একটা নারীর কাছে এটুকুই তো যথেষ্ট। যে তার স্বামীর কাছ থেকে নারী জাতি নিরাপদ। এক নারীতে আশক্ত থেকে যদি কেউ দুনিয়ার নিকৃষ্ট পাপীও হয় ,তো হোক। কিছুক্ষন অপলোক আরিয়ানের দিকে তাকিয়ে থেকে বলে “আপনি জানেন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম সুদর্শন পুরুষ কে?”
“সে জানি না । তবে শ্রেষ্ঠতম কুদর্শন পুরুষ আমি”
“উহু। আপনিই সবচেয়ে সুদর্শন পুরুষ”
“আমি!”
“হ্যা আপনি। লোকে ভাবে চকচকে গায়ের রঙ থাকলেই সে সুদর্শন। আবার কেউ কেউ ভাবে পুরুষের সৌন্দর্যই হচ্ছে টাকা। অথচ আমার কাছে মনে হয়- যেই পুরুষ এক নারীতে আশক্ত থেকে সমস্ত নারীদের এড়িয়ে চলতে পারে, সেই এই আল্লাহর দুনিয়ায় সর্বশ্রেষ্ঠ সুদর্শন সুদর্শন পুরুষ। তাই আমার দেখা শ্রেষ্ঠতম সুদর্শন পুরুষটা হলেন আপনি পাঞ্জাবিওয়ালা”
“আর তোর বাপ?”
“স্বামী হিসেবে আপনি সবচেয়ে সুদর্শন পুরুষ। আর বাবা হিসেবে তিনি সবচেয়ে সুদর্শন পুরুষ”
“আর যদি আমি তোর মেয়ের বাপ হই?”
“তাহলে আমার মেয়ের কাছে তার প্রথম দেখা সুদর্শন পুরুষ আপনি”
আরিয়ান হাসলো। কি যেন ছিলো সেই হাসিতে। মাধবী মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে থাকে সেদিকে। পাতলা অধরের ফাঁক গলে বেরিয়েছে মুক্তোর ন্যায় দন্তপাটি। লোকটাকে সবসময়ই মুচকি হাসিতে দেখা যায়। আজ দাঁত বের করে হাসাতেই কি এমন অদ্ভুত ভালো লাগা কাজ করছে। নয়তো একটা মানুষের সাধারণ হাসি কি করে এতটা সুন্দর হতে পারে। যদিও প্রানচ্ছল না। খুব মেপে রাখা হাসি। মাধবী আর বসলো না। শিশির কণায় ভিজে যাচ্ছে পরণের শাড়ি। শাড়ি ঠিক করতে করতে বলে “উঠুন তো কিছুক্ষন হাঁটি। বসে থাকতে ভালো লাগছে না”
আরিয়ানও হাত ঝেড়ে উঠে দাঁড়ায়। কোমল হাতটা আঁকড়ে ধরে তার রুক্ষ খসখসে হাত দ্বারা। এই ঘাষের উপরেই জুতো জোরা খুলে হাতে হাত রেখে সামনের দিকে হাঁটে। আকস্মিক এক বায়োবৃদ্ধ লোক তাদের সামনে পরে। দুজনে শশব্যাস্ত দাঁড়িয়ে পরে। বৃদ্ধটিকে দেখে মাধবী শাল দিয়ে মুখটা ঢেকে ফেলে। বৃদ্ধ লোকটি লাঠিটা আরেকটু শক্ত করে ধরে মাধবীকে বলে “মা তুমি কালিয়া ঘাটের মন্দিরটা চেন?”
মাধবী ভ্রু কুচকাতেই আরিয়ান লোকটার মুখের সামনে তুড়ি বাজিয়ে বলে “এই যে বুড়ো। ও কোত্থেকে চিনবে এখান কার জায়গা টায়গা। আমাকে বলো আমি বলে দিচ্ছি। কালিয়া ঘাট নামক কোন স্থান এখানে নেই”
বৃদ্ধ ঠক ঠক করতে করতে বলে “আছে আছে। লুকোনো একটা মন্দির আছে । তুমি চিনবে না। মধু মা চিনবে”
মাধবী অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে “আপনি আমার নাম কি করে জানলেন!”
তবে আরিয়ানের মাথায় সেটা কাজ না করে বলে “এই বুড়ো আমার বউকে মধু ডাকার অধিকার কেবল আমার আছে। দুরে হাঁটো তো এবার। সকাল সকাল এসে জামাই বউয়ের মাঝে সতিন হতে এসেছো”
বৃদ্ধ লোকটা একবার ঘার কাঁত করে গভীর চোখে অবলোকন করে মাধবীকে। তারপর লাঠি ঠক ঠক করতে করতে চলে যায়। লোকটার চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে থেকে মাধবী বলে “লোকটা কেমন যেন অদ্ভুত। তাই না?”
আরিয়ান পাঞ্জাবির পকেট থেকে দিয়াশলাই বের করে ঠোঁটে চেপে রাখা সিগারেটটা পুড়িয়ে এক দলা ধোঁয়ার কুন্ডুলি কুয়াশায় ছেড়ে শান্ত স্বরে বলে “ওটা জ্বীন্”
কথাটা শোনা মাত্র মাধবী আতঁকে উঠে বলে “কীহহ?”
তারপর সামনে তাকিয়ে দেখে রাস্তা ফাকা। লোকটা নেই। আবারও ধোঁয়ার কুন্ডুলি বাতাসে ছরিয়ে ফিচেল হেসে বলে “ঠিকই শুনেছিস। ব্যাটা জ্বীন ছিলো”
“কিন্ত এই সাত সকালে?”
“আসতেই পারে”
“হঠাত আমাদের সাথে দেখা করতে এলো কেন? কিছু কি হয়েছে?”
“হয়েছে তো অনেক কিছুই। জ্বীনদের বোন পরিকে সাথে নিয়ে ঘুরলে তো ওরা ওদের বোনের খোঁজ খবর নিতে আসবেই”
বলে একটু বাঁকা হাসে। কথাটা যে একদম যাদের জায়গা মত লাগার তাদের শা***য়্যা মতই লাগবে সেটা খুব ভালোভাবেই জানে সে। একদম বোন। ভেবেই আবারও হাসি পায় তার। মাধবী ভ্রু কুচকে সন্দিহান কন্ঠে বলে “আর আপনি ওনার সাথে তর্কও করলেন? শাঙ্কির পোলা আপনার জাওরামি আর এ জনমে শেষ হবে না”
“তর্ক কোথায় করলাম? এটা তো সাধারণ কথা ছিল। ওদের সাথে ইতিমধ্যে একদফা ঝগড়া করাও শেষ”
“মিথ্যে কথা। অবশ্য সত্যিও হতে পারে। আপনার মত জাওরার কাছে এ আর এমন কি”
“আচ্ছা এসব বাদ। মাঝে মাঝে হিংসে করানো দরকার। বস তোকে একটা ছোট্ট জিনিস দেই। ওহ না ভুলে গিয়েছিলাম। বসবো তো আমি। আর তুই উঁরুর উপর তোর চিকনি চামেলি ঠ্যাং রাখবি”
বলে সে বসে হাটু মুরে বসে পরে মাধবীর সামনে। নিজেই পা টেনে নিয়ে পকেট থেকে এক জোরা স্বর্ণের নূপুর বের করে। পা উঁচু করাতে মাধবী পরে যেতে নিলে আরিয়ানের কাঁধ খামচে ধরে। আরিয়ান মুচকি হেসে নূপুর জোরা পরিয়ে দিয়ে বা হাত টেনে নেয়। অনামিকাতে পরিয়ে দেয় একটা হিরের আংটি। তারপর উঠে দাঁড়িয়ে দু হাতে দুটো মোটা বেঙ্গল পরিয়ে দেয়। মাধবী আশ্চর্য হয়ে জিজ্ঞেস করে “হঠাত এসব কেন!”
“বাসর রাতে কোন ধৈর্যশীল চেমরা যে মূল্যবান সময় নষ্ট করে বউকে উপহার দেয় কে জানে। আমি অতি অধৈর্য লোক। তাই কালকের উপহার আজ দিচ্ছি। দেখি কানের দুল দুটো খোল তো”
“এসব তো বিয়েতে দিয়েছিলেন। আর রাস্তাঘাটেই দেয়ার কি দরকার”
“বিয়েতে যেগুলো দিয়েছি ওগুলো তো তোর বজ্জাত শাশুরি পরতে দিলো না। তাই হালকার মধ্যে এগুলো এনেছি। সবসময় পরার জন্য। আর বাড়িতে কিছু নাগিনদের জন্য যেতেই তো মন চায় না”
বলে নিজের হাতেই কানের দুল খুলে ছোট্ট ঝুমকাওয়ালা দুল পরিয়ে দেয়। নাক ফুল খুলে ছোট্ট হিরের নাকফুল পরিয়ে দেয়। গলাতেও সিম্পল চেইন পরিয়ে দেয়। তারপর কিছুক্ষন অপলোক তাকিয়ে থাকে। এই তো এখন মনে হচ্ছে বউ বউ। মুচকি হেসে বলে “চল গৃহিনী সাহেবা। সকাল হয়ে যাচ্ছে। মানুষ জন বেরিয়ে পরবে রাস্তায়”
মাধবীর ঠোঁটেও খেলে যায় মুচকি হাসি। এই তামাভ্র রঙের লোকটাই কি সূক্ষ্ম পরিকল্পনায় তাকে নিজের মায়ায় বা বাধিয়ে ফেলতে চাইছে। আর সেও বোকার মত মায়াবর্ণ চেহারার মায়ার ফাদে পরে যাচ্ছে । খামোখা তো লোকটা তাকে বোকা বলে না। তবে কেন যেন সত্যিই তার এই মায়ায় পরতে ভীষণ ভালো লাগছে। এমন কেন মনে হচ্ছে হঠাত! এমন হতে থাকলে তো সে লক্ষ্যব্রষ্ট হবে। আরিয়ানের পক্ষে সম্ভব হলেও তো তার পক্ষে সম্ভব না একই মনে পাপের সাথে মায়া পুষে রাখা। তবে কাকে ত্যাগ করবে পাপ না মায়া? ভালোবাসা তো ভোলা যায় কিন্ত মায়া জিনিস টা যে বড্ড ভয়ংকর। এতে যে একবার পরে তার মরণ হবে কিন্ত উঠে আসা যাবে না।
সময়ের সাথে সাথে শীত কমে গেছে। শীত কাল পেরিয়ে বসন্ত কাল চলছে। চারদিকে কোকিলের মিষ্টি সুরের কলতান। গাছে গাছে ছড়িয়েছে নতুন পাতা। নতুন ফুল। চারদিক সেজেছে বসন্তের নতুন সাজে। প্রকৃতির সাথেই বদলেছে সকল মানুষ। আয়াজ ইচ্ছের ভাঙা সংসার ভাঙাই চলছে। যে যার মত চলছে যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে। অভি আর রুহির সম্পর্ক গভীর থেকে গভীর হচ্ছে। অপূর্ব শূন্য হৃদয়ের শূণ্যতা নিয়েই বন্ধুর রাজনৈতিক দলে পাশে আছে। অরিন্দ আজও বলেনি সে নাম, যার জন্য আকুল তার প্রাণ। অপু গ্রামের পরিবেশের সাথে তার চিঠি প্রেম চালিয়ে যাচ্ছে। মেয়েটার খুশির সীমানা থাকে না, যখন মাধবীর মুখে মাঝে মাঝে অপূর্বের কথা শোনে। আরিয়ানের দিন জম্পেষ যাচ্ছে রাজনীতি আর মাধবীকে জ্বালাতে জ্বালাতে।
গ্রামে এখন খুব কমই যাওয়া হয় তাদের। অজয় একাই সব সামলাচ্ছে। মাধবীর দিন কিছুটা বিরক্তিতেই কাটছে। মাহমুদা ইশান সমানে নাতি নাতনির জন্য চাপ দিচ্ছে তাকে। কিন্ত মাধবীর বিন্দুমাত্র ইচ্ছে নেই। সে এখন অদম্য ভাবে তার ভাই তৃশান কে খুঁজে যাচ্ছে। আর তার সঙ্গ দিচ্ছে তার স্বামী। মাহমুদা ইশানের এক কথা ৪ মাস হতে চললো এখনও কেন কোন সুখবর তিনি পাননি। খুব কড়া ভাবে বললেন এবার উনার নাতি নাতনি লাগবেই। উনার এই জেদের উপর খুব বিরক্ত। এই পরন্ত সুন্দর বিকেলে সে মাহমুদা ইশানের এসব কথা এই মাত্র শুনে এসে এক কাপ চা নিয়ে বারান্দায় দাঁড়িয়েছে। মেজাজ খারাপ হচ্ছে। শুধু তার শাঙ্কির পোলার মা বলে কিছু বলতেও পারছে না। সে ‘চ’ সূচক শব্দ করে চায়ে চুমুক দিতে যাবে তার আগেই বাহিরে ভীষণ চেঁচামেচির শব্দ আসে। কয়েকদিন ধরেই নাকি আরিয়ানের বিরোধী দলেরা নাচা শুরু করেছে।
আবারও সে বিরক্ত হয় সবসময়ই একই কথা শুনছে বিরোধী দলেরা নাকি ক্ষেপেছে। সে বুঝে পায় না এই লোক চুপ করে কেন বসে থাকে। সে কিছু বললেও বলে রাজনীতিতে নাকি ঠান্ডা মাথায় চাল দিতে হয়। সে মনে মনে ভাবে সে যদি রাজনীতি করতো তাহলে হয়তো বিরোধি দল কথা বলার আগেই সে গলায় কোঁপ বসিয়ে দিতো। পরক্ষণেই মনে পরে আরিয়ান একবার বলেছিলো- মৃত্যু কখনো শাস্তি হয় না। মৃত্যুর চেয়েও বড় শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। তখনই আরিয়ানের চড়া গলায় তার বিরক্তি আকাশচুম্বি। লোকটা কাকে যেন গলা উঁচিয়ে বলছে ,
তুই আমার ৭ মিনিট পর্ব ৩১ (২)
“শালা কেলাবো সামনে দিয়ে,ফুটো হবে
পেছন দিয়ে। এমন দোচন দেবো না,সোজা
হবু সম্মুন্ধীর বাসর ঘরে চলে যাবি”
মাধবী মনে মনে বলে “শালা শাঙ্কির পোলা তুমি শুধু ষারের মত গলাই ছাড়তে পারবা। সত্যি সত্যিই মাঝে মাঝে কয়েকটা দোচন দিয়ে যে সম্মুন্ধীর বাসর ঘরে পাঠাও আর যেখানেই পাঠাও পাঠাবা- তা না। শুধু বাহাদূরি। খামোখা তো বলিনা শাঙ্কির পোলা”
