Home তোমার নামের রোদ্দুরে তোমার নামের রোদ্দুরে পর্ব ৪

তোমার নামের রোদ্দুরে পর্ব ৪

তোমার নামের রোদ্দুরে পর্ব ৪
আশফিয়া হিয়া

রুদ্ধর এক হাত শক্ত করে আরুর কোমর জড়িয়ে ধরে আছে। অন্য হতে আরুর পিঠ আগলে ধরে আছে। আরু চোখ দুটো খিঁচে শক্ত করে রুদ্ধর পিঠ জড়িয়ে ধরে রয়েছে । রুদ্ধর শরীর থেকে কড়া পারফিউম এর ঘ্রাণ আসছে। আরু নাক টেনে শ্বাস নিল। রুদ্ধর শরীরের ঘ্রাণ নাক দিয়ে টেনে নিতে লাগলো। সম্ভিত ফিরে পেতেই আরু রুদ্ধকে ছেড়ে দিল। তবে রুদ্ধর হাতের বাধঁন এখনো শক্ত করে আরুকে পেঁচিয়ে আছে।
– ” ছাড়ুন।”
রুদ্ধ আরুকে ছেড়ে দাঁড়ালো আরুর মুখটা ইতিমধ্যেই লাল টমেটোর মতো হয়ে আছে। রুদ্ধ খুব মনোযোগ দিয়ে আরুর মুখটা দেখল। আরুর মুখটা দেখে হাসি পেলেও হাসলো না। মুখটা গম্ভীর করে রাখার চেষ্টা করলো।

– ” তোর বয়স কত?”
– ” ১৭ বছর ৫ মাস আর কিছুদিন পর আঠারো হবে। কেন আপনি বুঝি জানেন না?” শেষের কথাটা কোমরে হাত রেখে বলল।
– ” তুই বড় হবি না? বাচ্চাদের মতো এইভাবে ছুটোছুটি করছিস কেন?”
আরু চঞ্চল কন্ঠে জবাব দিল,
– ” আমি তো বড়ই। আর কত বড় হব? আপনি জানেন আমার বয়সেই মেয়েরা কতগুলো প্রেম করে? অনেকের তো বিয়েও হয়ে গিয়েছে। কয়েকজনের তো বেবিও হবে কিছুদিন পর। শুধু আমারই কিছু হচ্ছে না। প্রথম কথাগুলো গড়গড় করে বললেও শেষের কথাটা একদম মিনমিন করে বলল। যদিও রুদ্ধ শেষের কথাটা শুনতে পেয়েছে।

– ” এখন তুই কি করতে চাইছিস? তুইও বিয়ে করতে চাইছিস? চাচ্চুর সাথে কথা বলবো?
– ” আমি এটা কখন বললাম?
– ” কিছুতো একটা বলেছিস।”
– ” কিছুই তো বলিনি।” রুদ্ধ দু পা এগিয়ে এলো। নাকে আঙুল ছুঁইয়ে বলল,
– “রিয়েলি?”
– ” ধ্যাঁত। ”
আরু হাত – পা ছুড়তে – ছুড়তে নিজের ঘরে চলে গেল। রুদ্ব আরুর যাওয়ার দিকে তাকিতে হাসলো।
বিড়বিড় করে বলল,
– ” মাই লিটল স্পার্কল।”

রুদ্ধ নিজের ঘরে বসে ল্যাপটবে অফিসের কাজ করছে। আর একটু পর পর কফি মগে চুমুক দিচ্ছে। ইয়াজ রুদ্ধর ঘররের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে বলল,
– ” ভাইয়া ডেকেছিলে?” ইয়াজের কন্ঠস্বর শুনে রুদ্ধ ল্যাপটব থেকে চোখ সরালো না। গম্ভীর স্বরে ভেতরে আসতে বলল।
– ” কলেজে যাসনি কেনো?”
ইয়াজ থতমত খেয়ে গেলো। এই প্রশ্ন করছে কেনো কিছু হয়েছে?
– ” শরীর ব্যাথা করছিলো।
– ” তাই? কোথায় শুনি?” রুদ্ধ এইবার কোলে ওপর থেকে ল্যাপটবটা নামিয়ে রাখল।
– ” কিডনিতে।” বলেই মুখ দিয়ে হাত ডেকে ফেলল।
– ” কোথায়? রুদ্ধ হালকা ধমক দিল।
– ” পেটে।”
রুদ্ধ চোখ রাঙিয়ে তার দিকে তাকাল। এরপর ঠান্ডা গলায় বলল,

তোমার নামের রোদ্দুরে পর্ব ৩

– ” আরুকে আজ এক ছেলে চিঠি দিয়েছি। ছেলেটা ওদের ক্লাসমেট। রিহান নাম মেইবি। কি করতে হবে আশা করি বুঝতে পেরেছিস?”
ইয়াজ উপর – নিচ মাথা দোলালো অথাৎ সে বুঝতে পেরেছে। এই কাজগুলো সে অনেকদিন ধরেই করে আসছে৷ যখনই আরুকে তার বয়সী কোনো ছেলে অথবা আরুর কোনো ক্লাসমেট লাইন মা*রার চেষ্টা করে তখনই ইয়াজের ডাক পড়ে। ইয়াজ ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।
ইয়াজ যেতেই রুদ্ধ ছোট করে শ্বাস ফেলল। এমন হাঁটুর বয়সী ছেলের সাথে নিশ্চয় তার পাঙ্গা নেয়াটা মানায় না?

তোমার নামের রোদ্দুরে পর্ব ৫

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here