Home তোমার নামের রোদ্দুরে তোমার নামের রোদ্দুরে পর্ব ৪৬

তোমার নামের রোদ্দুরে পর্ব ৪৬

তোমার নামের রোদ্দুরে পর্ব ৪৬
আশফিয়া হিয়া

রুদ্ধ আজ অফিস থেকে রাত করে বাড়িতে ফিরেছে। বাড়ির সকলেই যে যার মতো তখন নিজের ঘরে শুয়ে পড়েছে। টেবিলের ওপরে খাবারগুলো ঢাকা দিয়ে রাখা। রুদ্ধর বাড়িতে ফেরার শব্দ পেয়ে রুমা বেগম নিজের ঘর থেকে রেরিয়ে এল। রুদ্ধকে বললেন,
– ‘ আজ এত দেরী হলো কেনো, তুই তো কখনো এত দেরী করে বাড়িতে ফিরিস না?’
– ‘ কিছু কাজ ছিল মা।’
– ‘ ঠিক আছে ফ্রেশ হয়ে আরুকে নিয়ে খেয়ে নে, মেয়েটাও না খেয়ে আছে। ‘ রুদ্ধ মাথা নেড়ে রুমা বেগমকে শুয়ে পড়তে বলল ভদ্রমহিলা নিজের ঘরে চলে গেলেন। রুদ্ধ দীর্ঘশ্বাস ফেলে নিজের ঘরের দিকে চলে গেল। আরুর ওপর রাগটা তার এখনো কমেনি। রোহানের সাহস কি করে হলো ওর মাথায় হাত রাখার আর আরু সেও বিনা বাক্যে সেটা গ্রহণ করেছে তার জন্যই তো তার ভীষণ রাগ হচ্ছে। ঘরের আশে – পাশেও চোখ বুলিয়ে আরুর দেখা পেল না তখনই মনে পড়ল আরুকে তখন ঘর থেকে বের করে দিয়েছিল। আপন মনেই বলল,

– ‘ বের করে দিয়েছি বলে চলেও যেতে হবে, সারাদিনে একবারো এই ঘরে আসেনি নিশ্চয়? রুদ্ধর রাগের মাএা আরোও বৃদ্ধি পেল। প্রয়োজনীয় পোশাক নিয়ে ধাম করে ওয়াশরুমের দরজা আটকে দিল। তার দরজা আটকানোর শব্দ এতটায় তীব্র ছিল যে পাশের ঘর থেকে আরুও কেঁপে উঠেছে। রুদ্ধর জন্য সেও নিজের ঘরে বসে অপেক্ষা করছিল। আজ এত রাত করে বাড়ি ফেরার কারণটাও তার জানা রয়েছে, তার ওপরে রাগ করেই রুদ্ধ আজ এত দেরি করে বাড়ি ফিরেছে। অফিসে তার কোনো কাজই ছিল না সে ফারিশের থেকে রুদ্ধর খবরও নিয়েছে, রুদ্ধ অফিস থেকে ফারিশের বাড়িতে চলে গিয়েছিল সেখান থেকেই এখন ফিরেছে। ভেংচি কেটে বলল,

– ‘ কিছু হলেই ওয়াশরুমের দরজার ওপরে রাগ দেখাবে, এটা কি উনার বাপের সম্পওি নাকি? পরক্ষনে ভাবল এটা রুদ্ধর বাপেরই সম্পওি।’
আরুর মাথায় হঠাৎ করেই এক দুষ্টু বুদ্ধি খেলে গেল। রুদ্ধ এখনো ওয়াশরুমে রয়েছে, সেই সুযোগে রুদ্ধর ঘরে চলে এল। আলমারি থেকে জর্জেট এর কালো রঙের শাড়ি বের করল। শাড়িটা রুদ্ধ কিছুদিন আগেই এনেছিল তবে আরুর একদিনও পড়া হয়নি, ভাবল আজ এই শাড়ি পড়েই রুদ্ধকে শিক্ষা দেবে৷ ওয়াশরুম থেকে পানি পড়ার শব্দ বন্ধ হয়ে গেছে অথাৎ রুদ্ধর বের হবার সময় চলে এসেছে। আরু এক দৌড়ে নিজের ঘরে চলে এল। দরজা আটকিয়ে নিজের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। রুদ্ধ শাওয়ার নিয়ে রেরিয়েছে। মাথা ঠান্ডা করার জন্য আপাতত এর থেকে ভালো উপায় নেই। চুলগুলো পরিপাটি করে মুছে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। নিচে যাওয়ার পূর্বে একবার আরুর ঘরের দিকে দৃষ্টি চলে গেল। দরজাটা বন্ধ দেখে রাগের মাএা তরতর করে বেড়ে গেল। গটগট পায়ে হেঁটে নিচে নেমে এল। প্লেটে খাবার বেড়ে খাওয়া শুরু করল। তৎক্ষনাত পায়ের শব্দ ও মেয়েলি সুবাস পেয়ে তার খাবারের হাত থেমে গেল। তবে পিছু ঘুরে দেখল না একবারও আরু তা দেখে বিরবির করে বলল,

– ‘ আমিও দেখি কত সময় ধরে আপনি নিজেকে ধরে রাখতে পারেন।’
আরু ঠিক রুদ্ধর পাশে দাঁড়াল। শাড়ির আচল কোমরে খুজে নিল এতে করে তার কোমরের এক অংশ বেরিয়ে রইল। আরু ইচ্ছে করেই এমনটা করেছে, ভেতরে ভেতরে ভয় ও লজ্জার কারণে হাত বার বার কেঁপে উঠছে তবুও নিজেকে সামলে প্লেটে খাবার বেড়ে নিল। আরুকে শাড়ি পড়া দেখে রুদ্ধর ভ্রু কুঁচকে গেল, হঠাৎ শাড়ি পড়ার কারণ? রুদ্ধর দৃষ্টি তার কোমরে যেতেই শুকনো ঢোক গিয়ে খাবারে মনোযোগী হলো। আরু রুদ্ধর ঠিক বিপরীত পাশের চেয়ারে বসেছে, এতে করে রুদ্ধ খুব স্পষ্ট করেই তাকে দেখতে পাবে। রুদ্ধ এক ধ্যানে খেয়েই যাচ্ছে আরুর দিকে তাকাচ্ছে না। আরু আড়চোখে বারবার রুদ্ধকেই দেখছে। রুদ্ধর খাবার শেষ হতেই সে নিজের প্লেট নিয়ে কিচেনে চলে গেল। আরুও তড়িঘড়ি করে উঠে রুদ্ধর পেছনে গেল। রুদ্ধ নিজের প্লেট ধুচ্ছিল আরু নিজের চুলগুলো খোপা করে ফেলল, এতে করে ঘাড় ও গলার অনেক অংশ দৃশ্যমান হয়ে উঠল, সেখানে স্পষ্ট রুদ্ধর দেয়া চিহ্নগুলো ভেসে উঠেছে।

রুদ্ধ সেদিকে এক পলক তাকিয়ে দৃষ্টি ঘুরিয়ে নিল। আরু ইচ্ছে করেই এসব করছে বুঝতে পেরে গম্ভীর মুখে হাসি ফুটতে চাইলেও সে হাসি নিয়ন্ত্রণ করল। রুদ্ধর প্রতিক্রিয়া না পেয়ে আরুর মনটাই ভেঙ্গে যাচ্ছে। রুদ্ধ নিজের কাজ করে রুমে চলে গেল। আরু হতাশ হলো, টেবিল গুছিয়ে সেও ওপরে চলে এল। নিজের রুমে প্রবেশ করার পূর্বে রুদ্ধর রুমে উঁকি দিল। পুরো দরজা হা করে খোলা, রুম সম্পূর্ণ অন্ধকারে তলিয়ে আছে, রুদ্ধ ঠিক কোথায় আছে আরু বুঝতে পারছে না। তৎক্ষণাত একটা হাত তাকে ভেতরে টেনে কোলে তুলে ফেলল, আরু ভয় পেয়ে হালকা চেঁচিয়ে উঠল। কোনো প্রতিক্রিয়া দেখানোর আগেই রুদ্ধ তাকে বিছানায় ছুঁড়ে মারল। আরুর পুরো শাড়ি এলোমেলো হয়ে গেল। পিন না করায় শাড়ির আচল খসে পড়ল। হাত খোপা করা চুলগুলো এলোমেলো খুলে গেল। ঘরের লাইটটাও জ্বলে উঠল সঙ্গে দরজা বন্ধ করার শব্দও তার কানে এল। আরু উঠে বসারও সুযোগটুকু পেল না তার আগেই রুদ্ধ তার উপরে উঠে এল৷ আরুর হাত দুটো নিজের হাতের ভাঁজে নিয়ে চেপে ধরল, আরুর ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত দৃষ্টি বুলিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বলল,

– ‘ কি ভেবেছিস তোকে এই অবস্থায় দেখে আমি সব ভুলে যাব?’
আরু ভীত মুখে দু দিকে মাথা নাড়াল, যার অর্থ না। রুদ্ধ তার ঠোঁটে কাম*ড় দিয়ে বলল,
– ‘ মুখে বল।’
আরু ব্যাথায় মৃদ্যু শব্দ করে বলল,
– ‘ না।’
রুদ্ধ তার উন্মুক্ত কোমর খাঁমছে ধরে বলল,
– ‘ তাহলে এই সব কাকে দেখানোর জন্য পড়েছিস?’
আরু চোখ দুটো খিঁচে বলল,
– ‘ আপনাকে।’
রুদ্ধ আরুর চুলগুলো আলতো করে নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে বলল,
– ‘ রোহান তোর মাথায় ঠিক এভাবেই হাত বুলিয়ে দিয়েছি না? খুব মজা পেয়েছিস নিশ্চয়?’
আরু চোখ দুটো খুলে বলল,
– ‘ কি বলছে এসব মজা কেনো পাব। উনি হঠাৎ করেই ওভাবে হাত রাখবে আমি বুঝতে পারিনি, তাছাড়া উনি খারাপভাবে ছোঁয়ও নি তাহলে নিশ্চয় আমি সেটা মেনে নিতাম না।’
রুদ্ধ দাঁতে দাঁত চেপে বলল,

– ‘ তুই কথা বলার সুযোগ দিয়েছিস কেনো, তুই বারণ করলে সে নিশ্চয় কথা বলার সুযোগ পেত না।’
আরু হতাশার শ্বাস ফেলে বলল,
– ‘ সরুন আমি নিজের ঘরে যাব, যে বুঝতে চাইছে না তাকে হাজারবার বলেও কোনো লাভ নেই। ‘ আরু রুদ্ধকে ঠেলে সরিয়ে দিতে চাইল। রুদ্ধ তার উপর থেকে উঠে পড়ল। আরুর অভিমান আরও বেড়ে গেল, তার মানে রুদ্ধও চাই না সে এই ঘরে থাকুক? বেশ থাকবে না সে। আরু বেড থেকে নেমে দরজার দিকে এগিয়ে যেতে নিল। রুদ্ধ এক টানে আরুর শাড়ি খুলে বেডের ওপাশে ফেলে দিল। নিজে বেডের মাঝ বরাবর শুয়ে বলল,
– ‘ এবার যেখানে খুশি যেতে পারিস।’
আরু লজ্জায় হতবাক হয়ে গেছে। এটা কি করল রুদ্ধ? দিন দিন চরম পরিমানে অসভ্য হয়ে যাচ্ছে লোকটা। এই রুমে থেকে যেতে পারবি না এটা সরাসরি বললেই হয় তাই বলে এমন করবে? আরু আলমারির খুলতে যেয়েও দেখল লক করা তার মানে রুদ্ধ আগেই লক করে রেখেছিল। আরু আর কোনো উপায় না পেয়ে লাইট বন্ধ করে রুদ্ধর থেকে দূরত্ব রেখে শুয়ে পড়ল। কিছুটা সময় অতিক্রম হতে রুদ্ধ তাকে পেছন থেকে গভীরভাবে জড়িয়ে ধরে ভালোবাসা মাখা ছোঁয়া দিতে দিতে বলল,
– ‘ তোর আশে – পাশে আমার কাউকে সহ্য হয় না জান, তোর ওপরে শুধুমাএ আমার অধিকার, ইউ আর মাই পারসোনাল প্রোপার্টি। সেখানে আমি কারোর বিন্দুমাএ ছোঁয়া মেনে নিব না। ‘ আরুর ঠোঁট জুড়ে হাসি ফুটে উঠল। রুদ্ধর শক্ত করে জরিয়ে ধরল।

আজ ঘরোয়াভাবে রুহানির বিয়ের আয়েজন করা হয়েছে। শুধুমাএ কাছের কিছু আত্মীয় – স্বজন নিয়ে বিয়েটা পড়ানো হবে। তাই সকাল থেকেই যে যার মতো কাজে ব্যস্ত রয়েছে। আরু ও আহি সকাল থেকে রুহানির সঙ্গে রয়েছে। তিন বোন মিলে এক দফা কান্না – কাটিও করেছে। ছোট থেকে তিন বোনের এক সঙ্গে বড় হওয়া, এক রুম শেয়ার করা আনন্দ ও দুঃখ সবটায় তিনজন একসাথেই ভাগ করে নিয়েছে। এমনকি এক প্যাকেট চিপস কিনলেও তারা সেটা ভাগ করে খেয়েছে। কেউ কাউকে ছেড়ে কখনো কোথাও গিয়ে থাকে নি। যেখানেই গিয়েছে তিনজন এক সঙ্গেই থেকেছে। আরু বিয়ের পর থেকে আহি রুহানির সঙ্গেই তার রুমা ঘুমাত। আহি রুহানিকে জরিয়ে ধরে বলল,
– ‘ তুমি চলে গেলে আমি কার সঙ্গে ঘুমাবো রুহা আপু? আপুও তো এখন আর ঘুমাতে পারবে না।’
রুহানি মৃদ্যু হেসে বলল,

– ‘ বোকা মেয়ে, এখন বড় হচ্ছিস না? এখন থেকেই তো অভ্যাস করতে হবে কিছুদিন পর তোর ব্যাক্তিগত জীবন বলেও তো কিছু হবে তখন তুই নিজেই বলবি আমার একা থাকতেই ভালো লাগে।’
– ‘ মোটেই না, আমি এমনটা কখনোই বলবো না। ‘
– ‘ ঠিক আছে সময় হলেই দেখা যাবে।’
আরু তখন থেকে ঝিমাচ্ছে, এক দফা কান্নাকাটি করার পর এখন আবার ঝিমাচ্ছে, বারবার হাই তুলছে। আরুর কান্ড দেখে রুহানি ও আহি একে অপরের মুখ চাওয়াচাওয়ি করছে। রুহানি বলল,
– ‘ কিরে এমন ঝিমাচ্ছিস কেনো, রাতে ঘুম হয়নি?’
আরু হকচকিয়ে সোজা হয়ে বসল। আমতা আমতা করে বলল,
– ‘ ওই মাথা ব্যাথা ছিল একটু তাই ঘুমাতে পারিনি।’
রুহানি মিটিমিটি হেসে আরুর কানে কানে কিছু বলল। আরু লজ্জা পেয়ে বলল,
– ‘ ধ্যাত আপু এসব কিছুই না।’
আহি গাল ফুলিয়ে বলল,
– ‘ তোমরা কানে কানে কি ফিসফিস করছো, আমাকেও বলো।’
আরু বলল,
– ‘ সব কথা তোকে বলতে হবে ছোট মানুষ ছোটর মতো থাকবি।’
আহি মুখটা ছোট করে তাকাতেই আরু তাকে বলল,

রুদ্ধ খাবারের দিকটা তদারকি করছিল। বিয়েটা ঘরোয়াভাবে হলেও খাবারের কোনো কমতি রাখা হয়নি। রান্নার লোক এনেই আজকের দুপুরের রান্না করা হচ্ছে। ইয়াজ রুদ্ধকে বেশ কিছুক্ষণ ধরেই রুদ্ধর পিছু পিছু ঘুরছে। তবে কোনো কথা বলারই সাহস পাচ্ছে না। রুদ্ধ এবার বিরক্ত হয়ে বলল,
– ‘ কি সমস্যা আমার পেছনে এভাবে ঘুরছিস কেনো, কিছু বলবি?’
– ‘ ন. না।’
– ‘ তাহলে আমার সামনে থেকে সর।’
ইয়াজ কিছুটা সরে গিয়েও আবার ফিরে এল। রুদ্ধ ভ্রু কুঁচকে বলল,
– ‘ আবার কি চাই?’
ইয়াজ জোরে শ্বাস টেনে বলল,
– ‘ ভাইয়া তোমাকে কিছু বলার ছিল।’
– ‘ শুনছি।’
– ‘ এখানে নয় আমার ঘরে চলো প্লিজ।’
রুদ্ধ কপালে ভাঁজ ফেলে তাকেতেই বলল,
– ‘ প্লিজ। ‘
– ‘ সামনে হাঁট।’

ইয়াজ রুদ্ধকে নিয়ে নিজের ঘরে এসেই দরজা লক করে দিল। তার হাব – ভাব রুদ্ধর কাছে সুবিধার মনে হচ্ছে না।ইয়াজকে চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে, রুদ্ধ উঁচু গলায় বলল,
– ‘ ঘরে ডেকে এনে চুপ করে রয়েছিস কেনো? আমার নিচে প্রচুর কাজ রয়েছে, যা বলার বলে ফেল।’
ইয়াজ গলা খাঁকারি দিয়ে মাথা চুলকে বলল,
– ‘ ইয়েএ মানে, আ…আমি আহিকে পছন্দ করি। ‘
রুদ্ধ তার দিকে এক পলক তাকিয়ে বলল,
– ‘ খুব ভালো কথা ভাই তার বোনকে পছন্দ করবে এটাই স্বাভাবিক, এটা বলার জন্য তুই আমাকে এখানে ডেকে এনেছিস?’
ইয়াজ আহত স্বরে বলল,
– ‘ ভাইয়া এটা ঔই পছন্দ নয়, মানে..আমি মানে তোমার আর আরুর যেমনটা তেমন কথা বলছি।’ বলেই গালে হাত দিয়ে চোখদুটো বন্ধ করে নিল। দু মিনিট পার হয়ে গেছে তবুও রুদ্ধর কোনো প্রতিক্রিয়া না পেয়ে ইয়াজ ধীরে ধীরে চোখ মেলে তাকাল। রুদ্ধ গম্ভীর হয়ে দু হাত বুকে ভাঁজ করে দাঁড়িয়ে আছে। ইয়াজ আবারোও সাহস সঞ্চয় করে বলল,

– ‘ ভাইয়া কিছু বলবে না।’
রুদ্ধ গম্ভীর স্বরে বলল,
– ‘ তোর কি মনে হয় এটা আজ আমি প্রথম জেনেছি? তুই আমার ভাই, ছোট থেকেই তোর ঠিক কি প্র‍য়োজন, তোর জন্য কোনটা ভালো হবে তুই না বলার আগেই আমি তোকে সেটা দিয়েছি। তোর চোখের ভাষাটাও আমি খুব ভালো করেই বুঝি। এ বাড়ির প্রত্যকটা মানুষের খবরাখবর আমার নখদর্পেণ থাকে। রুদ্ধ কিছুটা থেমে আবারও বলল,

– ‘ আমি জানি তুই আহিকে চাস, তবে এখন সেটার কোনো ভিওি নেই এটা তুইও খুব ভালো করেই জানিস। আহির বয়সটা খুবই কম, এখন হয়তো ওর তোকে ভালো লাগছে যদি পরবর্তীতে সেই ভালো লাগাটা না থাকে তখন? সেই সময়টাতে তুই সব থেকে বেশি তুই কষ্ট পাবি। তোকে যেই কথাগুলো বলছি, এক সময় আমিও এই দিনগুলোর মধ্যে দিয়ে গিয়েছি আমারও মনে হয়েছিল আরুর অনুভূতিগুলো হয়তো এক সময় বদলে যাবে তবে আমি ভুল ছিলাম, আরুর সেই অনুভূতিগুলোই বর্তমানে তীব্র ভালোবাসায় রুপ নিয়েছে। আমিও চাই তোর ক্ষেএেও যেন এই ভাবনাটাও ভুলই হয়। তাছাড়া তুই নিজেও খুব বড় হয়ে যাসনি, তোকে আগে প্রতিষ্ঠিত হতে হবে। একজন ভাই হিসেবে আমি নিশ্চয় আমার বোনের জন্য বেস্ট কাউকেই চাইবো? তুই নিজের স্টাডি শেষ করে ফিরে আয়, সেই সময় যদি তোরা দুজনই দুজনকে চাস, আমি নিজে তোদের এক করবো, পরিবারের ব্যাপারটাও আমি নিজেই সামলে নিব, এসব নিয়ে তোকে ভাবতেও হবে না, কারণ আমার বিশ্বাস আমার ভাই যাকে ভালোবাসবে নিজের সবটা আগলে রাখবে।’
ইয়াজ আলতো হেসে রুদ্ধকে শক্ত করে জরিয়ে ধরে বলল,

– ‘ থ্যাঙ্ক ইউ সো মাচ। আমি তোমাকে ভীষণ ভালোবাসি। ‘
রুদ্ধ ও হালকা হেসে তাকে জরিয়ে ধরল। রুদ্ধ তাকে ছেড়ে চুলগুলো এলোমেলো করে দিল। ইয়াজ মাথা চুলকে বলল,
– ‘ তবে একটা বিষয়ে খেয়াল রাখবে প্লিজ, আহি যেন কোনো ছেলের চক্করে না জড়ায়।’
রুদ্ধ তার গালে মৃদ্যু চড় মেরে বলল,

তোমার নামের রোদ্দুরে পর্ব ৪৫

– ‘ বড় ভাইকে এসব বলছিস লজ্জা করছে না ফাজিল। বলেই সে চলে গেল। ইয়াজ বিরবির করে বলল,
– ‘ এসব তো তোমার থেকেই শেখা, তুমি নিজেই তো আমাকে দিয়ে এগুলো করাতে যেটা আমি ছাড়া কেউই জানে না। ‘ কথাগুলো বলতে বলতেই তার হাসি পেয়ে গেল এইগুলো এখন স্মৃতি হয়েই থাকবে। আরুকে কলেজ বা স্কুলের কেউ প্রপোজ করলে রুদ্ধর আদেশে সে নিজে গিয়ে সবগুলোকে শাসিয়ে আসত। এইসব ছোট ছোট ছেলেদের সঙ্গে নাকি তার পাঙ্গা নেয়াটা মানায় না, তাই এসব ইয়াজকেই সামলাতে হতো।

তোমার নামের রোদ্দুরে পর্ব ৪৭

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here