Home নীতিহীন রাজ নীতিহীন রাজ পর্ব ৫২

নীতিহীন রাজ পর্ব ৫২

নীতিহীন রাজ পর্ব ৫২
আশিকা আক্তার সোহাগী

“মির্জা গালিব বলেছেন ,যাদের হাত নেই তাদেরও ভাগ্য আছে।” তার মানে হাতের রেখায় কখনো ভাগ্য লেখা থাকে না। জিয়ানাও এই কথা বিশ্বাস করে সেন্ট পার্সেন্ট। ভাগ্য তো উপরওয়ালা লিখে রেখেছেনই কিন্তু সেই ভাগ্যের অসংখ্য পথ সামনে উন্মুক্ত থাকে। সিলেক্ট করার দায়িত্ব স্বয়ং নিজের উপর। জিয়ানা সহজ পথ রেখে বক্র পথ বাছাই করেছে।

সে চাইলেই নিবিড়ের ফ্ল্যাটে দুইজনে মিলে সুখে শান্তিতে নির্ভেজাল জীবন অতিবাহিত করতে পারতো।কিন্তু তার নূরম্যানসনে থাকার প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে,এটা উপলব্ধি করা সে একা না। এই যে এত গুলা মানুষ তার নিজের মায়ের পরিবার। এমন কি নিবিড়ের পরিবার। তারা যেমন একসাথে আছে সেও তাদের সাথে থাকবে।আং সাং লাইফ তার পছন্দ না। লাইফে একটু থ্রিল,সাথে খোচাখুচি ,ষড়যন্ত্র আর পারিবারিক ড্রামা না থাকলে সেটা আবার কিসের লাইফ।হাজবেন্ড বউকে নিয়ে দরজায় খিল দিলে শ্বাশুড়ি শ্রেনীর পিন্ডি জ্বলে যাবে।জামাই ভালোবেসে কিছু কিনে আনলে ননদের গাল ফুলে উঠবে।সক্কাল সক্কাল বউয়ের ভেজা চুল থেকে দাদীশ্বাশুড়ি মশকরা করবে।জামাই আর তার ভাইদের সম্পত্তি নিয়ে লাঠিবাজি হবে।এই তো লাইফ। আহা শুদ্ধ সুন্দর বঙ্গ বধূর জীবন।জিয়ানা কেনো মিস করবে এমন সুযোগ?

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

সব থেকে বড় উদ্দেশ্য নিবিড়কে তার পরিবারের কাছাকাছি রাখা।জিয়ানা জানে তাকে নিবিড় কিছুতেই নূরম্যানসনে একা রাখবে না।সাথে সেও থাকবে।
নতুন জীবন শুরুর আগে তাই ভাবলো যারা এতদিন পেলে বড় করল তাদের দোয়া নেয়া দরকার। আর সত্যি বলতে তার মনটাও কিছুদিন থেকে খুব টানছে জিয়াউলের জন্য।জিয়াউল ইদানীং একটু আকটু দাঁড়াতে পারে শুনেছে ।জেনি গিয়ে প্রায় থেকে আসে কিন্তু জিয়ানা খুব একটা যায় না।গেলেও দশ মিনিট থেকে চলে আসে।কারণ আঞ্জুমান মুখ ঘুরিয়ে রাখে।যেটা জিয়ানাকে খুবই কষ্ট দেয়। সে কষ্ট পাওয়া থেকে দূরে থাকতে পছন্দ করে।যারা কষ্ট দেয় তাদের থেকেও।আজ আছি কাল নাই ,এই এ্যামিবার মতো জীবনে হাতির মতো কষ্ট নেয়ার কোন মানেই হয় না।এটাই জিয়ানার থিউরি।

সকাল সকাল জিয়ানা রেডি হয়ে উপস্থিত হয়েছে জিয়াউলের ফ্ল্যাটে।সকালে না আসলে আঞ্জুমানকে পেতো না। তিনি দুইমাস থেকে আবার জয়েন করেছে কলেজে।আঞ্জুমান জিয়ানাকে দেখেই ভেতরে চলে গেছে।জিয়ানা কথা বলার সুযোগই পায়নি।মুচকি হাঁসি চওড়া করে জিয়াউলের রুমে প্রবেশ করে। জিয়াউল অভ্যাসগত ভাবে বইয়ে ডুবে ছিলো।জিয়ানা গলা খাকড়ি দিলে বই ফেলে অবাক নেত্রে চেয়েছিলো কয়েকপল জিয়ানার দিকে। অবাক ভাব কাটে জিয়ানার কথায়,
-ক্যাপ্টেন! এই সাজসজ্জা আজকের জন্যই শুধু। বকাঝকা শুরু করবে না তো?শ্বশুরবাড়ি যাচ্ছি।তোমাদের দোয়া নিতে আসলাম।

জিয়াউল হাত বাড়িয়ে কাছে ডাকলেন। জিয়ানা সেই সুযোগেই ছিলো। তাই এক প্রকার উড়েই চলে এলো জিয়াউলের বুকে।ছোট ছানার মতো আগলে নিলো জিয়াউল।জেনি নিজের মেয়ে হলেও জিয়াউলের সাথে কখনো এত সহজ সম্পর্ক হয়ে উঠেনি ,যতটা জিয়ানার সাথে হয়েছে।নিজের হাতে একটু একটু করে বড় করেছে।অথচ আজ এই বাচ্চাটা বড় হয়ে শ্বশুরঘরে যাচ্ছে। জিয়াউলের আজ মনে হলো বিজ্ঞানের অগ্রগতি সে সেদিন মানবে ,সেদিন নিজের সন্তানকে আবার ছোট্টবেলায় ফেরত নেয়া যাবে। এক্সিডেন্ট না হলে সে এত আর্লি মেয়েদের বিয়ে কিছুতেই দিতো না।তার বুকের হাড়ে যেনো চিনচিনে ব্যাথা হচ্ছে। সে একজন অসফল পিতা।সন্তানদের সুখের কোন ব্যবস্থা করতে পারেনি।
জিয়ানা জিয়াউলের ভারি নিশ্বাসের মানে বুঝলো। তাই আর একটু চেপে বুকে ঢুকে বলে,

-আব্বু?ওও আব্বু?
জিয়াউলের কলিজা ঠান্ডা হয়।তবে ভেতরের আত্মার তেষ্টা মিটে না। মনে হয় মেয়েটা একেবারেই চলে আসে না কেনো প্রতিদিন এভাবে ডাকে না কেনো। চোখের কোনা দিয়ে নেত্রজল গড়িয়ে পড়ে জিয়ানার কাধে।জিয়ানা মাথা উঠিয়ে দেখে তার অসাধারণ পালিত পিতাকে। যাকে কখনো কাঁদতে তো দূরের কথা ভেঙে পড়তেও দেখেনি।শক্ত সামর্থ্যবান মানুষটা কেমন দূবল হয়ে গেছে।যার চোখের জলও আজকাল দৃশ্যমান। জিয়ানা জিয়াউলকে সহজ করার জন্য বলে,
-আব্বু! সারাজীবন তো বাস্তবমুখী জ্ঞান দিয়েছো এবার সাংসারিক কূটনামির কিছু জ্ঞান দাও। যেনো তাদেরকে মাত দিতে পারি।

-সংসার করার মতো তোর বয়স হয়নি জিয়ু।যখন হবে তখন গুছিয়ে ঘর দোর সব সামলাতে পারবি।
-কি বলো বয়স হবে না কেন? আপির কাজিন রুম্পা আমার আট মাসের ছোট অথচ ওর বেবি হয়ে গেছে কবে।আমার আর দুইদিন পর একুশ হবে আব্বু তুমি ভুলে গেছো?
-ভুলি না রে আম্মু।সব কিছু যদি আমার হাতে থাকতো তবে তোদের এত আর্লি বিয়ে দিতাম না।
জিয়ানা জিয়াউলকে ছেড়ে বিছানায় বসে বলে,
-ওহ আব্বু! ডেফার্ড ম্যারেজ সাফার্ড লাইফ। যেটা করতেই হবে সেটা পরবর্তীতে করে অহেতুক লাইফ স্পয়েল করার কি দরকার।

-সম্পুর্ন অচেনা পরিবেশ অচেনা এতগুলো মানুষ। যারা আবার তোকে সহজ ভাবে নিবে না। তাদের মাঝে যেতে তোর ভয় করছে না?সাংসারিক মারপেঁচের ফলে পরে পরাজিত সৈনিকের মতো পালিয়ে আসবি না তো?
-পরাজয়ে ডরে না বীর ,ভয়ে কাপে কাপুরুষ।
জিয়ানা স্লোগান দেয়ার মতো হাত উঁচু করে বলে। জিয়াউল হেঁসে জিজ্ঞেস করে ,
-আচ্ছা হঠাৎ তোর বাঘ ভাল্লুক ভরা জায়গায় যেতে ইচ্ছা হলো কেন? নিবিড়ের ফ্ল্যাটেই তো ভালো হতো।
-বাঘের লেজ দিয়ে কান চুলকানোর শখ হয় না মাঝেমধ্যে। আমারও সেটাই হয়েছে আব্বু।
এবার জিয়াউল অট্টহাসি দিয়ে উঠে কিন্তু মুহূর্তেই মুখ আপনা আপনি বন্ধ হয়ে যায় আঞ্জুমানকে দেখে। আঞ্জুমান হাতে দুইটা ছোট ছোট কৌটা নিয়ে প্রবেশ করে রুমে। জিয়ানার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে কৌটা গুলা খুলে ফেলে।একটা থেকে দুইটা সোনার বালা আর অপরটা থেকে একটা সোনার ছেলেদের আংটি বের করে। বালা দুইটা জিয়ানার হাত টেনে নিজের কাছে নিয়ে পড়িয়ে দেয়।আর আংটিটা হাতের তালুতে দিয়ে বলে,

-শত অভাবেও এগুলা ভাঙায়নি।অনেক আগেই তোমাদের দুইবোনের জন্য দুইজোড়া বালা বানিয়ে রেখেছিলাম।আর আমার কয়েকটা আংটি ভেঙে দুই জামাইয়ের জন্য দুইটা আংটি বানিয়েছি।এরচেয়ে বেশি কিছু দেয়ার সামর্থ্য আমাদের নেই।শুধু মুখে মেয়েকে শ্বশুরবাড়ি পাঠাতে হয় না। আজকে অন্তত এই দুটো খুলো না।
বলার পর উঠে দাঁড়ালে জিয়ানা হাত টেনে ধরে।সে এতক্ষণ বিমূর্ত হয়ে তাকিয়ে ছিলো আঞ্জুমানের মুখের দিকে।সুন্দর গালগুলো ভেঙে পড়েছে।বয়সের ছাপও পড়তে শুরু করেছে।একটু একটু মেছতাও দেখা যাচ্ছে। গায়ের রঙে ভাটা পড়েছে।জিয়ানা হাত ধরে বলে,

-দুইটা বালা দিয়েই শুধু মুখ তো ভরবে না আম্মু?
আঞ্জুমান জিজ্ঞাসা দৃষ্টিতে তাকায়।জিয়াউল মুচকি হাঁসে জিয়ানার অভিব্যক্তি বুঝতে পেরে।জিয়ানা আবার বলে ,
-দোয়া আর ভালোবাসা ছাড়া জাগতিক কোনকিছু দিয়েই ভরবে না আম্মু।শ্বশুরবাড়ি নিশ্চয় সহজ জায়গা নয়? তাদের সবার প্রয়োজনের প্রিয়জন হতে গেলেও তো অনেক অনেক দোয়া দরকার আমার।
আঞ্জুমান এগিয়ে এসে জড়িয়ে ধরে জিয়ানাকে।তারপর থুতনি ধরে মুখটা উঠিয়ে দেখে কপালে চুমু এঁকে দিয়ে বলে,
-যতক্ষণ পর্যন্ত তুমি অন্যের প্রয়োজন পূরণ করতে থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ তোমার প্রয়োজন পূরন করতে থাকবেন-আবু হুরায়রা (রা)
দুনিয়ার কোন কাজই অহেতুক না।যতটুকু করবে ঠিক ততটুকু ফেরত পাবে।হোক ভালো কিংবা খারাপ।আর শ্বশুরবাড়ি গিয়ে ভদ্র সভ্য হয়ে থাকবে।জঙ্গলিপনা একদমই করবে না।মুরুব্বিদের অবশ্যই সম্মান আর আদবের সাথে কথা বলবে।পড়াশোনার পাশাপাশি সংসারের টুকটাক কাজ করবে।তাদের বাড়িতে নিশ্চয়ই মেড আছে তবুও সবার মন যুগিয়ে চলবে। মনে থাকবে? তোমার উপর আমাদের আর তোমার হাজবেন্ডের রেপুটেশন অনেকটা ডিপেন্ডেবল।
জিয়ানা মাথা নাড়ে।আজ এতটুকু সে আশা করেনি।এটার ক্রেডিট সম্পুর্ন জেনির।আঞ্জুমান নিজের দুই হাতের মাঝে জিয়ানার হাত নিয়ে বলে,

-জিয়ু? অভাব আর চারপাশের সব বিপদ একসাথে আসায় আমি হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে উঠেছিলাম।তাছাড়া তোকে নিজের হাতে বড় করে অন্যের কাছে দিতে আমার একদম ইচ্ছা ছিলো না।ভেবেছি সারাজীবন আমার কাছেই রাখবো জুনায়েদের মাধ্যমে।সবকিছু এলোমেলো হয়ে যাওয়াই আমি আমার মাঝে ছিলাম না।মাফ করেছিস তো মা?
জিয়ানা মাথা নেড়ে বলে ,
-না কোন মাফ নেই।যদি না আমাকে দেখতে নূর ম্যানসনে যাও?
আঞ্জুমান মুচকি হেঁসে বলে “যাবো ইনশাআল্লাহ ”

জিয়ানা বাহিরে দাঁড়িয়ে আছে নিবিড়ের অপেক্ষায়।সে কোন চুলায় কে জানে? আজ পুরা চান্দি ফাটা রোদ উঠেছে।মে মাসে ঝড়বৃষ্টির জন্য ঘর ছেড়ে বের হওয়া যাবে না তানা এমন মাংস শুকানো রোদ উঠেছে।তারপর লেহেঙ্গার যে ওয়েটে জিয়ানার মনে হচ্ছে মাটিতে গেথে যাচ্ছে সে।আশেপাশের সবাই তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছে। হইতো ভাবছে এমন উদ্ভট সাজে একোন পাগলের আমদানি।

পরক্ষণেই নিবিড় বাইক নিয়ে থামলো জিয়ানার সামনে।থেমেই পূর্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে একটা ঝটকা খেলো মনে মনে। মুখের এক্সপ্রেশন আর সাজসজ্জা সব উদ্ভট। লেহেঙ্গা ঘাগড়ার সাথে সাদা শার্ট। শার্টের আবার উপরের দুইবোতাম খোলা। একটা গলায় নেকলেসও পড়েছে।হাতে আবার মহিলাদের মতো বালা।একটান কাজল পড়ে ঠোঁটে হালকা লিপগ্লোস দেয়া। চুল খিচে ধরে পেচিয়ে ক্লাচার দিয়ে আটকানো। লেহেঙ্গার ঘাগরা একহাতে উঠিয়ে বিরক্তি নিয়ে তাকিয়ে আছে নিবিড়ের দিকে।ঘাগড়ার নিচে আবার স্কিনি জিন্স।পায়ে নিবিড়ের কিনে দেয়া স্নিকার্স।পেছনে স্কুলের স্টুডেন্টদের মতো তার নিত্যসঙ্গী সেই মোটা ব্যাগপ্যাক।যার হেন্ডেলে দুইটা ব্যাচ লাগানো একটাতে লেখা সাবধান। অপরটাতে লেখা বিপদজনক। পাশে ট্রলি রাখা।
নিবিড়ের প্রচন্ড হাঁসি পেলেও ইশারা করল উঠে বসতে।এখন হাঁসলে আবার বেঁকে বসতে পারে।বুদ্ধিমান কখনো মৌচাকে ঢিল ছুড়ে না।
জিয়ানা নিবিড়ের দিকে এগিয়ে বলে,

-বাক্স পেট্রা কি আপনার মাথায় বসাবো? অটো ডাকেন।এমনিতে আসছে দেরি করে আবার আক্কেল দেখো।
-জ্বি না মিসেস। আমি আরও দশ মিনিট আগেই এসেছি।সামনের গলিতে কিছু লোকজনের সামনে পড়ায় কথা বলতে হয়েছে।
পাশ দিয়ে একটা অটো রিক্সা যাওয়ার সময় সেটাকে থামিয়ে লাগেজটা উঠিয়ে ভাড়া্র টাকা দেয় নিবিড়।জিয়ানা রিক্সায় উঠে বসে বলে,
-এমন সং সেজে বাইক দিয়ে যেতে পারবো না।আপনি পেছন পেছন আসুন।
নিবিড় বাধ্য স্বামীর মতো তাই করে। আজকাল সে এই দুই আঙুলের মেয়ের কথা অক্ষরে অক্ষরে পালন করে।কেনো করে জানে না।ধমক দিতে গিয়ে সেই ধমক জোর করে গিলে ফেলে।চ*ড় থাপ্পড় তো এখন দিতেই পারবে না।কি দিন আসলো তার।
বাজার ক্রস করার আগে জিয়ানার রিক্সা থেমে যায়। নিবিড় রিক্সা ক্রস করে সামনে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞাসা দৃষ্টিতে তাকায় দেখে জিয়ানা বলে,

-এ্যাই সুখ শুনোন! শ্বশুরবাড়ি যাবো একেবারে ভাড়ে ভবানী হয়ে তো যেতে পারি না।ঝটপট ফলমূল আর কিছু মিষ্টি আর দই কিনে আনুন যান।
-ফর্মালিটি করতে হবে না।বাসায় ওইসব উইকলি যায়। তোমার মাতব্বরির দরকার নাই।
তারপর রিক্সাওয়ালার দিকে তাকিয়ে বলে,
-চল মামা।
-জিয়ানা নেমে বলে খালি হাতে আমি যাবো না।
নিবিড় কটমট করে তাকিয়ে বাইক থেকে নেমে দাঁড়িয়ে বলে,

-মামা রিক্সা সামনে আগাও।আমি কিনে আনছি সব।
বাজার পাড় করে খালি জায়গায় এসে দাঁড়ায় জিয়ানা। সেটার পাশে স্কুলের কয়েকটা ছেলে মেয়ে হাউকাউ করছে গোল করে দাঁড়িয়ে। না চাইতেও তাদের কথা তার কানে আসে।
কোন একটা মেয়ে রাগে গজগজ করে বলছে ,
-কয়টা লাং লাগে তোর? আমার বয়ফ্রেন্ডের সাথে চেটিং করিস কেন? এই কথা বল?
একটা স্কুল পড়ুয়া বাচ্চার মুখে এমন কথা শুনে জিয়ানা মাথা বের করে উঁকি দিয়ে দেখে চারটা মেয়ে আর দুইটা ছেলে গোল করে ধরেছে অন্য স্কুল ড্রেস পড়া চশমিস একটা মেয়েকে। জিয়ানা খুতিয়ে খুতিয়ে দেখার মাঝে অবাক হয় কারণ একটা ছেলের হাতে স্প্রিংয়ের হা*ন্টার চা*কু । সেই ছেলেটা চা*কুটা নিয়ে মেয়েটার মুখের কাছে এনে বলে,

-এই সুন্দর মুখটা যদি এইটা দিয়ে একটা টান দেই তবে কি মুবিন তোর দিকে ফিরে তাকাবে?
বলে খিকখিক করে হেঁসে উঠলো। জিয়ানা তাদের উদ্দেশ্যে রিক্সা থেকেই শিস বাজাই।সবাই শব্দের উৎসের দিকে তাকিয়ে দেখে উদ্ভট জিয়ানাকে। ততক্ষণে জিয়ানা নেমে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করে ,
-কি হচ্ছে এখানে?
চা*কু হাতের ছেলেটা বলে,
-আন্টি পার্সোনাল ম্যাটার এখান থেকে ফুটেন।
-আব্বেহ সামলে।হ্যাঁ? দামড়া দামড়া ছেলেদের আম্মা ডাকতে বলি। আর তুই পুচকা আমাকে আন্টি বলিস? রাস্তায় মাস্তানি হচ্ছে?

-আমরা যা খুশি তাই করবো আপনার বাপের কি?
বলে উঠলো পাশের ছেলেটা।
জিয়ানা তাদের দিকে এগিয়ে চা*কুওয়ালার মাথায় চাট্টি মেরে সরিয়ে দেয়।আর মাঝখান থেকে চশমা পড়া গোলগাল কেঁদে চোখমুখ ফুলিয়ে ফেলা মেয়েটাকে বের করে এনে বলে,
-বাপ তুলে কথা বলিস? এক থাবড়া দিলে থোবড়া বেঁকে যাবে।
তারপর চা*কুওয়ালাটার দিকে তাকিয়ে বলে,
-স্কুলে পড়া বাদ দিয়ে মাস্তানি হচ্ছে? দাঁড়ি গোফ আগে উঠতে তো দিবি বাপ? তোকে মাস্তান কম টেলিসামাদ যাদা লাগতাছে।
চা*কুওয়ালার আঁতে ঘা লেগেছে তাই সে জিয়ানার দিকে এগিয়ে এসে বলে,

-এটা কি দেখেছেন? ভালোই ভালোই কেটে পড়ুন।আমাদের মামলা আমরাই দেখছি।
জিয়ানা ফট করে হাত থেকে চা*কুটা কেড়ে নিয়ে মাটিতে ফেলে নিজের পায়ের নিচে রাখে।আর ছেলেটার দুইহাতের কবজি নিজের দুইহাত দিয়ে চেপে ধরে বলে,
-দুধ দাঁত না পড়তেই মাস্তানি করার জন্য আজ নিজেই নিজের হাতে থা*প্পড় খাবি।
বলে ছেলেটার হাত দিয়েই তার নিজের গালে ঠাস ঠাস করে উল্টা পাল্টা চ*ড় লাগালো। বাকিরা মারার কাইদা দেখে দিক দুনিয়া ভুলে দৌঁড় লাগাল।রিক্সাওয়ালা মামা হাত তালিয়ে দিয়ে বলে,
-আফা আরও কয়ডা দেন। এগুলার জ্বালায় অন্য বাইচ্চারা নষ্ট হইতাছে।
মার থামিয়ে ছেলেটাকে ছেড়ে বলে,

-এটা আমার বোন। আর যদি কোন দিন হ্যারেস করেছিস তবে তোদের প্রতিটাকে রিম্যান্ডে নিয়ে সেদ্ধ ডিম ভরবো।মুখ দিয়ে না মুখের বরাবর নিচের বিকল্প রাস্তা দিয়ে। মনে থাকবে?
ছেলেটা কিছুটা দূরে গিয়ে ঘাড় বাকিয়ে বাঁকা নজরে তাকালে জিয়ানা আবার দুই কদম আগায়। ফলে সে দৌঁড় লাগায় দিক বেদিক ভুলে।
মেয়েটা এগিয়ে এসে জড়িয়ে ধরে জিয়ানাকে।জিয়ানা কিছুটা অবাক হয় বলে,
-অচেনা মানুষকে জড়িয়ে ধরতে নেই মেয়ে।নাম কি তোমার?
-দুঃখীত আপু।আমার নাম শেলিন্স আবরার।আর আপনাকে অনেক শুকরিয়া।
জিয়ানা মেয়েটার চুল ঠিক করে দিতে দিতে বলে,

-কোন ক্লাসে পড়ো?
-এইটে আপু।ওই যে সামনের স্কুলে।ওরা অন্য স্কুলের। আমি ওদের চিনি না পর্যন্ত। আজ কয়েকদিন থেকে এমন মলেষ্ট করছে।আই ডোন্ট নো হোয়াই।
-তোমার গার্ডিয়ানকে বলোনি?
-আমার মম নেই।ড্যাড বিজনেসের জন্য দেশের বাহিরে।আপাতত এক ফুপুর বাসায় আছি।
-আচ্ছা সাবধানে থেকো।কিছুদিন কাউকে সাথে করে স্কুলে আসা যাওয়া করো।ঠিক আছে? ইউটিউবে ভিডিও দেখে সেল্ফ ডিফেন্স শিখবে।প্লাস কনফিডেন্স বাড়াবে।কেউ তোমাকে কষ্ট দিতে চাইলেই সেটা দুই হাত বাড়িয়ে নিতে হবে কেনো?দুনিয়াতে তুমি একজনই।সাতশো কোটি মানুষের মাঝে তুমি ওয়ান পিস।বি কনফিডেন্ট। ওকে?
মেয়েটা মাথা নাড়ে।
নিবিড় রিক্সার কাছে এসে বলে,

-এনিথিং রং?
জিয়ানা আর শেলিন্স একসাথে তাকায়।নিবিড় এগিয়ে এসে বলে ,
-আরেহ শেলি। কত বড় হয়ে গেছো? কি অবস্থা?
শেলিন্স মাথা নাড়ে। জিয়ানা জিজ্ঞেস করে ,
-পরিচিত?
-হ্যাঁ মাইমুনার ননদ। বাসায় এসো। ওকে?
জিয়ানা রিক্সার কাছে এসে দেখে মিষ্টির প্যাকেট হাতে নিয়ে সিটের মাঝে ক্লাবের এক ছেলে বসে আছে। তাই বাধ্য হয়ে সে নিবিড়ের বাইকে করেই রওনা দেয় নূরম্যানসনের উদ্দেশ্যে।

কাছাকাছি এসে নিবিড় জিজ্ঞেস করে ,
-বাসা থেকে কি বলে দিয়েছে?
-এক্সট্রা হাংকিপাংকি করতে না করেছে।
-গুড।আর?
-আপনার মিলিয়ন ডলার কা ইজ্জতের ফালুদা যেনো না করি সেটাও বলেছে।
নিবিড় হোঁ হোঁ করে হেঁসে বলে,
-নিজের বাড়িতে যাচ্ছো কাউকে পরোয়া করার দরকার নেই।তবে মেহেদী আর রাফিনের থেকে ১০০হাত দূরে থাকবে।
-শ্রদ্ধেয় ভাশুর হোন উনারা দূরত্ব তো বজায় রাখবোই।ফিকার নট।

বউ হিসেবে শ্বশুরবাড়ি পা দিয়েও জিয়ানার বিশেষ কোন উত্তেজনা নেই। যা হবার তা হবে টাইপ ভাব। মন মানসিকতা এমন লেবেলে পৌঁছে গেছে ভালো খারাপ বোধ কাজ করে না।
নিবিড়কে দেখেই দুইজন গার্ড এগিয়ে আসে।একজন লাগেজ আর মিষ্টির প্যাকেট নেয় অপরজন আগে আগে ভেতরে গিয়ে খবর দেয়।নূরম্যানসে যদিও নিবিড় আগেই জানিয়ে রেখেছে তারা আসছে।
সদর দরজায় এসে দেখে উম্মে কুলসুম ,পাশে স্বপ্না আর উনার পাশে অপরিচিত স্থুলকায় পাঞ্চাশের উপর একজন শ্যামা মহিলা আরও একজন অপরিচিত মেয়ে। বয়স বুঝা যাচ্ছে না।পাশে একটা চার পাঁচ বছরের মেয়ে আড়াল হয়ে দাঁড়িয়ে। জিয়ানা সবাইকে দেখে চমৎকার হাঁসি দিলো। পেছন থেকে সাদা থান পড়া সুন্দর ছোটখাটো একজন মহিলার হাতে ট্রে ভর্তি নানা জিনিস নিয়ে এগিয়ে এলেন।উনার পেছন পেছন আরও দুইজন গভর্নেন্স এলো।যাদের হাত ভর্তি নানা রকম কাঠের বাক্স।সাদা থান পড়া যিনি ,উনি নিশ্চিত অনুরাধার মা। গলায় তুলশির মালা দেখেই জিয়ানা চিনে ফেলে।দাদী এগিয়ে এসে মিষ্টি খাইয়ে দেয় জিয়ানাকে। নিবিড়ে্র কাছে গেলে সে ইশারায় না করে।জিয়ানা ব্রু কুচকে তাকালে আবার এগিয়ে নিজেই চামচ দিয়ে তুলে খায়।অপরিচিত মেয়েটা বলে,

-চমৎকার দ্যা গ্রেইট সুখনীল নিবিড় বউয়ের ইশারায় চলে দেখি?
তারপর জিয়ানার দিকে তাকিয়ে বলে,
-কি মেয়ে জাদুটাদু জানো নাকি? এমন পাথরকে গলালে কিভাবে? আর শুনো যতই ছোট হও বয়সে আমি কিন্তু তোমার একমাত্র ননদ।রায় বাঘিনী ননদিনী মাইমুনা।বুঝে শুনে চলবে!
জিয়ানার বেশ ভালো লাগলো উনার কথা শুনে। এই বাড়িতে একজন তাহলে আছে যে একটু সহজ হবে।জিয়ানা চমৎকার হেঁসে বলে,
-যে বনে বাঘ নেই সেই বনে হরিণরা রাজত্ব করে।সংসারে ননদিনী না থাকলে বউদের অবস্থাও সেইম হয়।
মাইমুনা অট্টহাসি দিয়ে বলে,

-এইবার বুঝেছি আমার ইস্পাতের মতো ভাই কেনো গলেছে।
-আঃ গল্প পড়েও করা যাবে মুনা।আগে কাজ শেষ করতে দাও।
বলে কুলসুম একজনের ট্রের উপর রাখা বক্স খুলে মোটা একটা লম্বা চেইন পড়িয়ে দেয় জিয়ানাকে।যেটার ভারে জিয়ানা অনুমান করলো কম করেও হাফ কেজি ওজন হবে। উম্মে কুলসুম সরে গেলে স্থুলকায় মহিলা সামনে এসে মিষ্টি খাইয়ে দিয়ে অপর বাক্স থেকে মোটা দুইটা মানতাশা বালা পড়িয়ে দেয় জিয়ানার দুই হাতে।কোন শব্দ ছাড়া উনি সরে যান।জিয়ানা একবার নিবিড়ের দিকে তাকায়।নিবিড় সরল মুখে চেয়ে আছে শুধু।কিন্তু জিয়ানার কাছে লাগছে মনে মনে হাঁসছে।
এরমাঝে নিবিড়ের মা এগিয়ে এসে বলে,

-এই বাড়ির বউ হয়ে যেহেতু এসেইছো ,সেহেতু আশা করবো এখন থেকে ঠিকঠাক মতো চলবে।দস্যিপনা কমাবে।
-আঃ। নিজের বাড়িতেই এসেছে। কোন স্কুলে ভর্তি হতে না।পথ ছাড়ুন আমরা ভেতরে যাবো।
বলে ধমকে উঠলো নিবিড়।জিয়ানা পরিস্থিতি সহজ করার জন্য বলে,
-আন্টি এই কালো মিষ্টিটা দেন। ইটস লুক ইয়ামি।আ..
মাইমুনা ফট করে চামচে গেথে জিয়ানার মুখে দিয়ে বলে,
-আমারও কালো জাম পছন্দ।চিমটি।
শেহনাজ স্বপ্না বাকি বক্স গুলা জিয়ানার দিকে এগিয়ে দিয়ে বলে,
-এগুলা তোমার।সুখের বড় মা উনার অধিকাংশ গহনা সুখের বউয়ের জন্য রেখে গেছেন।এগুলাতে কারো হাত দেওয়াও নিষেধ ছিলো।
উম্মে কুলসুম বলেন,

-এখানে প্রায় দুইশো ভরি আছে।এতদিন লকারে ছিলো। এখন থেকে তোমার দায়িত্ব সব।
জিয়ানা হা হয়ে গেছে।মনে মনে উচ্চারণ করলো দুইশো ভরিইইইই। নিবিড় এগিয়ে এসে বলে,
-ধন্যবাদ। আমি রেখে আসবো সব..
নিবিড়ের কথার মাঝে হুড়মুড় করে ফারহানা আর তার বোন নেমে আসে।এরা যে সরাসরি ঘুম থেকে উঠে এসেছে তা চেহারা দেখেই বুঝা যাচ্ছে। মেকাপ বিহীন এই প্রথম এই দুইবোনকে দেখে জিয়ানার কাছে মনে হচ্ছে এদের নাক আর মুখটা যদি একসাথে ধরে টেনে লম্বা করা হয় তাহলে ঠিক শেয়ালমুখী লাগবে।পাক্কা ভেটকি লোচন।পায়ে স্লিপার থাকায় আজকে বুঝলো ওইদিন পার্টিতে কুলসুম কেনো লিলিপুট বলেছিলো।তার চেহারা গবেষণা ভঙ্গ হয় ফারহানা গড়গড় করে বলে উঠা প্রশ্নে,

-আমাদের সময় পাতলা পাতলা দুই তিনসেট অর্নামেন্টস দিয়েছেন। এখন এগুলা কোত্থেকে বের হলো? আল্লাহ এতগুলা গহনা সব এই মেয়ের? এই মেয়ের কি যোগ্যতা আছে?
নিবিড়ের সহজ চেহারা শক্ত হওয়ার আগেই জিয়ানা বলে ,
-আপনার চেয়ে আমি কমপক্ষে আট ইঞ্চি লম্বা ,আমি সাইক্লিং করতে পারি।দুইমণ ওয়েট উঠাতে পারি অনায়াসেই, রেসলিং ,বক্সিং ,তায়াকান্দোও পারি।এই বয়সেই নিজের উপার্জনে দুই তিনটা পরিবার চালাতে পারি।একাই চার পাচটা পুরুষকে ধরাশায়ী করতে পারি।সবচেয়ে বড় যোগ্যতা আমি সুখনীল নিবিড়ের স্ত্রী আর নীলুফা ইয়াসমিনের একমাত্র কন্যা।ও হ্যা আর একটা পরিচয় আছে সেটা এই মুহূর্তে বলতে চাচ্ছি না।

-অহংকারে মাটিতে পা পড়বে না মনে হচ্ছে?
বলে স্বপ্না পা বাড়ালেন ভেতরের দিকে কিন্তু থামতে হলো নিবিড়ের কথায়,
-নূর ম্যানসনের আসল মালিকের একটু আকটু অহংকার মানায়।আমরা এখন ভেতরে যেতে পারি মিসেস মুজাম্মেল?
তারপর গভর্নেন্সদের দিকে তাকিয়ে নিবিড় বলে,
এগুলা সব আমার রুমে রেখে আসো।
নিবিড়ের কথায় ছোটখাটো যে একটা বাজ পড়লো সেটা উপস্থিত সবাই বুঝতে পারে।তাই ফারহানা আর তার বোন ফাইজা যেভাবে এসেছিলো সেভাবেই হনহন করে চলে গেলো।সাথে বাকিরাও ভেতরে চলে যায়। শুধু কুলসুম আর মাইমুনা আর তার পাশে বাচ্চা মেয়েটা দাঁড়িয়ে ছিলো।উম্মে কুলসুম নিবিড়কে ভেতরে আসতে বলেন আর এটাও জিজ্ঞেস করে ,

-এখন কি একটু সহজ হওয়া যায় না দাদু?অনেক বছর কেটে গেছে এই পরিবার হাঁসে না।
নিবিড়ের এক উত্তর “না”
দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বৃদ্ধাও ভেতরে চলে যায়।মাইমুনার মেয়ে পেছন থেকে এইবার বের হয়ে এসে দুইহাত উড়িয়ে জিয়ানার কোলে উঠে বলে,
-তোমাল ডেসটা আমার পছন্দ হয়েছে কুব।
ছোট বাচ্চারা সাধারণত অপরিচিত মানুষের কাছে আসে না।জোর করেও তাদের আদর করা যায় না।কিন্তু এই বাচ্চা ফট করে এসেই জিয়ানার কোলে উঠে গেলো।জিয়ানা গালে চুমু দিয়ে বলে,

-তাই? তাহলে এই ডেসটা তোমাল। ওক্কে?কিন্তু তোমাল নাম তি?
জিয়ানার কথা শুনে বাচ্চাটা ক্যাভিটি খাওয়া দাঁতে খিলখিল করে হেঁসে উঠলো সাথে জিয়ানাও।
-ওর ভালো নাম তাহানি আবরার।আমরা ডাকি তাশু।তাশু হয়েছে এখন নামো কোল থেকে। মামুনি এখন থেকে এখানেই থাকবে।অনেক সময় পাবে খাতির জমানোর। ভাই তোমরা ভেতরে যাও।
বলে তাহানি কে নিয়ে মাইমুনাও ভেতরে চলে যায়।জিয়ানা একবার এসেছিলো। ঝাচকচকে তকতকে মার্বেল পাথুরের ফ্লোর তিনতলার টপ থেকে বড় ঝাড়বাতি ঝুলছে।যেটা দেখে তার দিপীকার “ওম শান্তি ওম ” মুভির মতো বলতে ইচ্ছা হলো “এক চুটকি সিন্দুরকা কিমাত তোম কা জানো সুখবাবু” কিন্তু সে বলল,

-এই কাবলিওয়ালা কোলে করে নিয়ে যান উপরে। নতুন বউকে কোলে নিয়ে প্রথমবার ঢুকতে হয় বাসায়।এটাই নিয়ম।
বলে দুইহাত বাড়িয়ে দেয় নিবিড়ের দিকে।নিবিড় কপাল ভাজ করে বলে,
-আটার বস্তাকে কে কোলে নেয় ছ্যাহ।
‘তুই নিবি আর তোর ঘাড়ও নিবে” মনে মনে বলে জিয়ানা দৌঁড়ে ঝাম্প করে নিবিড়ের পিঠে ঝুলে যায়।হঠাৎ ঝাম্পের ফলে নিবিড় ঝুকে যায়। কিন্তু তবুও জিয়ানাকে ধরে না।ওইভাবেই হাটা ধরে।জিয়ানা দুইহাত দিয়ে গলা জড়িয়ে ধরে লটকে লটকে উপরে উঠে।দোতলার অপরপাশের থাই জানালায় দাঁড়িয়ে একজোড়া চোখ সেটা দেখে নিজের বুকে নিজেই আঘাত করে উঠে।

রুমে ঢুকে জিয়ানার তাকিতুকি করা দেখে নিবিড় প্রশ্ন করে ,
-কি খুঁজো?
-আরেহ আমি ভাবলাম আপনি সারাঘর ফুলফাল দিয়ে সাজিয়ে রেখেছে।দূর বিয়েও করেছেন ঢগমগ করে এখন বাসর করতেও চান এমন ঢগমগ করে?
নিবিড় কাবার্ডের দিকে এগিয়ে যেতে যেতে বলে,
-বাহ বাসর করার জন্য দেখি তোমার ভালোই আগ্রহ?
-সবারই আগ্রহ থাকে।যদিও দিল্লিকা লাড্ডু জো খাইয়া ও পাস্তায়া ,জো নেহি খাইয়া ও ভি পাস্তায়া।
-খেয়ে পস্তানোই ভালো তবে?

জিয়ানা উত্তর দেয় না।ঘুরে ঘুরে রুম দেখে।বিশাল বড় রুম।একটা পালঙ্ক টাইপ কিং সাইজ বেড। কালো কাঠের দেখেই বুঝা যাচ্ছে বহু আগের ডিজাইন আর অনেক মজবুত। চারপাশে চারটা কারুকার্য করা পিলার। আগে এটাতে মশারী বাধা হলেও এখন একেবারেই খালি।সিমিলার ডিজাইনের একটা তিনপার্টের আলমারি আর একটা তেপায়া কর্নার টেবিল তার উপরের ওয়ালে রাজকীয় একটা মিরর। ব্যাস বাকি রুম শুধু জানালা আর জানালা।আলোর কারণে চোখ মুদে আসছে জিয়ানার।এত বড় রুমে ইজিলি ফুটবল খেলা যাবে।রুম থেকে চোখ সরিয়ে বিছানায় গিয়ে বসে।বিছানার হাইটও বেশি। বসার ফলে জিয়ানার পা ঝুলে গেছে।পা দুলাতে দুলাতে গলার দড়ি সম চেইন খুলে রাখে। তারপর হাতের মানতাশা খুলতে খুলতে হঠাৎ চোখ যায় নিবিড়ের দিকে।
নিবিড় গোসলের জন্য শার্ট খুলে ফেলে।জিয়ানা চোয়াল ঝুলে পড়ে চকচকে দিনের আলোয় নিবিড়ের ফিট এন্ড ফাইন বডি দেখে। নিবিড় জিয়ানার তাকানো দেখে এগিয়ে গিয়ে বলে,

-নটি গার্ল। এভাবে তাকিয়ে আছো কেনো? মাইন্ডে কি চলে?
জিয়ানা চোয়াল সঠিক স্থানে এনে নিবিড়ের দিকে ঝুকে গিয়ে বলে,
-কি ইচ্ছা হচ্ছে জানেন?
নিবিড় শরীর জিয়ানার সাথে ল্যাপ্টে বলে,
-সেটাই শুনিতে চাই।
জিয়ানা নিজের দুইহাত নিবিড়ের উন্মুক্ত বক্ষে রেখে লাজুক মুখ করে ডানে বামে তাকায়। তারপর আচম্বিতে দুইহাত দিয়ে নিবিড়ের নিপল ধরে একটা মোচড় দিয়ে

নীতিহীন রাজ পর্ব ৫১

-প্যা পু প্যা পু
মুখ দিয়ে শব্দ করে ছুট লাগায় বাহিরের দিকে।নিবিড়ের শরীরের প্রতিটা লোম দাঁড়িয়ে গেছে সাথে মুখ হা হয়েও গেলো।তারপর মুচকি হেঁসে মনে মনে বলে,
-টিট ফর টেট।

নীতিহীন রাজ পর্ব ৫৩