Home নীতিহীন রাজ নীতিহীন রাজ পর্ব ৭৩

নীতিহীন রাজ পর্ব ৭৩

নীতিহীন রাজ পর্ব ৭৩
আশিকা আক্তার সোহাগী

“কিছু মানুষকে কখনোই বুঝানো যায় না।এরা নিজে থেকে সবকিছু নিজের মতো করে বুঝে নেই।”আর এই কিছু মানুষের মাঝে নিবিড় একজন।
জিয়ানা তাদের একাডেমিক ভবনের তিনতলায় দাঁড়িয়ে দেখছে সাজানো প্রহসন। ক্যাম্পাসের গেটের সামনে দুই দলের দুইটা নির্বাচনী অস্থায়ী ক্যাম্প গড়েছে।সারাদিন দুই দলের মাইকিং এ ক্যাম্পাস আর আশেপাশের সবাই তিতিবিরক্ত। এদের রেশারেশিতে জনজীবনে নাভিশ্বাস উঠে গেছে।তবে আজ চারপাশ ঠান্ডা থাকার কথা।কারণ আজ থেকে সকল প্রকার প্রচারণা মাইকিং , ক্যনাভাস , ক্যাম্পিং সবকিছু নিষিদ্ধ। এটাই নির্বাচনের শর্তের প্রথম ধাপ।কিন্তু এদের এই অস্থায়ী ক্যাম্প ভাঙা নিয়ে এখন দুই দলের হাতাহাতি শুরু হয়েছে।প্রায় ঘন্টাখানেক থেকে গ্যাঞ্জাম চলছে তো চলছেই।নিবিড়ের দলের ছেলে গুলা কেমন ইচ্ছা করেই যেনো ঝগড়া বেশি করছে।এদের আচরণ সব স্ক্রিপ্ট মনে হচ্ছে।

কারণ সিনিয়র ছেলে পেলে একটাও নেই যে থামাবে।কিন্তু আসার সময় নিবিড় সহ প্রায় সবাইকে সেই ক্যাম্পে ঢুকেতে দেখেছে জিয়ানা।
এরমাঝে একটা ককটেল ফুটার শব্দ হলো।জিয়ানা কান ধরে ঝুকে রেলিংয়ের পাশে বসে পড়ে।পরপর এবার কাছেই বিকট শব্দ আর ধোঁয়ায় চারপাশ ভরে গেলো।বিপ বিপ শব্দে জিয়ানার ফোন ভাইব্রেট করছে। নিচু হয়েই জিয়ানা ফোন পিক করে।নিবিড়ের ফোন।
‘জিয়ানা শুনতে পাচ্ছো?’
‘হ্যাঁ বলুন?’
‘ক্লাসেই থেকো বাহিরে বের হয়ো না।আমি তালহাকে একটু পর পাঠাবো।ও তোমাকে পিক করে বাসায় দিয়ে আসবে।এইদিকে আমাদের একটু ঝামেলা হয়ে গেছে। প্লিজ সোনা কৌতুহলী হয়ে বাহিরে বের হবে না। আই রিকোয়েস্ট ইউ।ওকে?’

জিয়ানা মুচকি হাঁসে। ইদানীং নিবিড় যে পরিমাণ স্ফট এন্ড সুইট বিহেভ করে জিয়ানার মাঝেমধ্যে সন্দেহ হয়,এটা আসলে সুখনীল নিবিড়ই তো? নাকি ক্লোন?মুখে বলে,
‘নাটক সাজিয়ে এখন আবার এত ভয় পাচ্ছেন কেনো?’
‘আজকের কোন প্ল্যান আমাদের ছিলো না।কিছু বহিরাগত ঢুকে গেছে এরিয়ায়।এদের উদ্দেশ্য ভালো না।আর আমাদের পার্টির কিছু ছেলে সোল্ড হয়ে গেছে।এসব নিয়েই ছেলেপেলে খেপে আছে।তাদেরকে হাতেনাতে ধরতে যাবো কিছুক্ষণ পর।তুমি এখান থেকে সোজা বাসায় যাবে ।আমি খুব টেনশনে থাকবো তুমি বাসায় না পৌঁছানো পর্যন্ত। তুমি নিরাপদে বাসায় আছো মানে আমার অর্ধেক টেনশন কম।মনে থাকবে?’
‘আচ্ছা ঠিক আছে। বাসায় যাবো।আর আপনিও সাবধানে থাকবেন? যদি কিছু হয় তবে আমি কি করবো মনে আছে না?’

‘হ্যাঁ আছে।বাঁচিয়ে আবার তুমি নিজ হাতে মা*রবে তাই তো?ওকে জান কোরবান আমার চাঁদের জন্য।আল্লাহ হাফেজ।’
‘সুখ?’
‘হুম বল?’
‘চলুন একসাথে বাড়ি ফিরি?’
‘সন্ধ্যায় ইনশাআল্লাহ দেখা হবে।আর রাতে অনেক আদর।’
বলে কেটে দেয় নিবিড়।আজ হঠাৎ এই মারদাঙ্গা পরিবেশে,বারুদের গন্ধ মিশ্রিত বাতাসে বসে জিয়ানার প্রেম করতে ইচ্ছা হলো।ফোনটা একদম রেখে দিতে ইচ্ছা হলো না।এই নরম নিবিড়কে অচেনা লাগলেও জিয়ানার মন পুলকিত হয়।প্রথম দিকের কথায় কথায় চ*ড় থাপ্পর দেয়া নিবিড় যেনো এখন জন্মগত হাজবেন্ড ম্যাটারিয়েল।
জিয়ানার পায়ে আচম্বিতে এক টুকরো ইট এসে লাগে।রেলিঙের ফাঁক দিয়ে জিয়ানা উঁকি দিয়ে দেখে,গোটা দশেক ছেলে মিলে ইট দিয়ে একাডেমিক ভবনের থাই গ্লাস ভাঙ্গার চেষ্টা চালাচ্ছে।ইটের পরিমান বাড়ছে।জিয়ানা হামাগুড়ি দিয়ে রেলিং ঘেঁষে ক্লাস রুমে ঢুকে যায়।মৌসুমী বেঞ্চের নিচ থেকে হাত দিয়ে জিয়ানাকে ইশারা করে ডাকছে।জিয়ানা দ্রুত তার কাছে গিয়ে বসে পড়ে ফ্লোরে।

এভাবে আরও মিনিট দশেক চলার পর পুলিশের গাড়ির শব্দ শোনা যায়।পুলিশ এসেই বিশৃঙ্খলা কারিদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারগ্যাস ছাড়ে।ভাঙা জানালা দিয়ে হড়বড় করে ধোঁয়া ঢুকে সারা ক্লাস রুম ভরে গেলো।মৌসুমি নিজের ওড়নার একমাথা নিজের কাছে রেখে আরেক মাথা জিয়ানাকে দেয় চোখ মুখ ঢাকার জন্য।সবারই চোখ জ্বলছে।অনেকেরই কাশি শুরু হয়ে গেছে।
বাহিরের হট্টগোল এবার পুলিশ শুরু করলো। যাকে পাচ্ছে তাকেই পুলিশ ভ্যানে পুড়ে দিচ্ছে।এরমাঝে জিয়ানা নিবিড়ের গলা শোনতে পায়।ভরাট পুরুষালী লায়ন ভয়েসটা যে তার সুখের এটা বুঝতে একটার বেশি দুইটা শব্দের দরকার পড়ে না।দ্রুত ক্লাসরুম থেকে বের হয়ে করিডোরে চলে আসে জিয়ানা।
নিবিড় পুলিশের গাড়ির সামনে সটান দাঁড়িয়ে। ঠিক যেনো কোন গর্বিত ইমারত। যাকে টলানো যায় না।যাকে উপেক্ষা করে পাড় হওয়া অসম্ভব। অসামান্য এক ব্যাক্তিত্বের সুউচ্চ এই পুরুষটা তার স্বামী ভাবতেই জিয়ানার মন স্ফিত হয়।

পরমুহূর্তেই আবার সেটা নিভে যায় যখন মনে হলো,পলিটিক্সের এই সাজানো গুছানো নোংরা দিকগুলা যদি না থাকতো তবে নিবিড় সেন্ট পার্সেন্ট একজন আগাগোড়া সভ্য পুরুষ হতো।এই যে নিজেদের এক্টিভিটি জানান দেয়ার জন্য ক্যাম্পাসের ক্ষতি করলো এগুলা কোন দেশীয় নীতি? কিছু হলেই সরকারি স্থাপনা ,বাস-ট্রাক ,দোকান পাট ভাঙ্গচুর করো ,জ্বালাও পোড়াও এসবে আদৌ কোন রাজনৈতিক ফায়দা হয় জিয়ানার বুঝে আসে না।পাবলিককে ভয় দেখিয়েই কি এরা নিজেদের ক্ষমতা জাহির করতে চায়? ভয়টাই এদের একমাত্র পুঁজি? অথচ এই ছাপোষা মানুষ গুলার কথা কখনো কোন সরকার দুদন্ড ভাবে না।ভোটের আগে হাত পা ধরে ভোট ভিক্ষা চাওয়ার পর পাঁচ বছর আর নিজেদের চেহারা দেখায় না।কালে কালে কত হনু মনু এলোগেলো সাধারণ মানুষ সব সাধারণই রয়ে গেলো।অসাধারণ হলো শুধু তারাই যারা ক্ষমতাকে তিনবেলা চিবিয়ে খায়।
জিয়ানার চিন্তা ছুটে যায় নিচে কথাবার্তায়।

পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলছেন,’এখানে সব হুলিগান এরেষ্টেট হয়েছে।যদি মনে করেন আপনার সুপারিশে ছেড়ে দিবো। তবে বলবো আপনি এখনো আমাকে চিনতে পারেন নাই মনে হয়?
‘পলিটিক্সে জড়িয়ে দুটো কান থেকে চারটা কান আর দুটো চোখ থেকে চারটা চোখে পরিনত হয়েছে।আর পুলিশ চিনবো না?অহেতুক ট্রাবল চাচ্ছি না।’
বলে গাড়ি থেকে নিজের পার্টির ছেলেদের টেনে নামিয়ে আনে।ছেলে গুলার অবস্থা এমন ,গভীর জল থেকে যেনো টেনে তোললো নিবিড়। এক একটার মুখ চোখ শুকিয়ে চামচিকার মতো দেখাচ্ছে।
নিবিড়ের চারপাশে এবার হুড়মুড় করে মানুষ জমা হতে থাকলো ।যেনো বৃষ্টি শেষে গর্ত থেকে পিলপিল করে সব পিপড়া বের হচ্ছে।জিয়ানার পাশেও এখন অসংখ্য মেয়ে জমে গেছে।সব গুলাই হা করে নিবিড়কে গিলছে.।নিবিড়ের কাটকাট কথাতে জিয়ানা একটা জিনিস বুঝলো ,

ওরাল ডেলিভারির চেয়ে ভিজুয়াল ডেলিভারিতে মানুষের আগ্রহ বেশি।
পাশ থেকে একটা মেয়ে বলে উঠে,’আহ এই লোকটাকে আমি একাই এককোটি ভোট দিতে চাই।’
তারপাশের জন বলল,’উনার জয় নিশ্চিত দেখিস।কি স্টাইল আর কন্ঠ রে বাবা।উফ একেবারে দিলে গিয়ে লাগে। ‘
‘দেখ দেখ এইদিকে তাকাচ্ছে বারবার।আমাকে দেখছে মনে হয়?’
‘না না আমার দিকে তাকিয়েছে।’

গাদাগাদি মেয়েদের ভিড় থেকে নিবিড়কে নিয়ে সব তরল কথাবার্তা চলতেই থাকে।জিয়ানা ভাবে ,আহা কি ব্যাক্তিত্বহীন ডিগ্রিধারী মেয়ে গুলা।যারা গাদা গাদা মেকাপ করে দিন রাত ক্রাশ খায় আর খাওয়াই। দিন শেষে সংসারের গিয়ে কূটনামি পাকামি করে সংসারটাকে চাঙ্গে তুলে।রাতে বাচ্চা উৎপাদনের কারবার চলে।পরবর্তীতে তাদের পরিচর্চা করতে করতে দিন শেষ। সর্বশেষে পরনিন্দা করতে করতে কবরে ঢুকে যায়।
এদের কথাবার্তায় জিয়ানার গা পিত্তি জ্বলে কখন ছাই হয়ে গেছে।মৌসুমী জিয়ানার অবস্থা টের পেয়ে বেশ জোরেশোরেই বলে,

‘জিয়ানা ভাইয়া তোকে অনেক ভালোবাসে তাই না? দেখ নিচ থেকেও তোর দিকে বারবার তাকাচ্ছে।’
এবার মেয়েদের টনক নড়ে।সবাই আড়চোখে জিয়ানাকে দেখে কানাকানি শুরু করে। এরমাঝে তালহা তিনতলায় এসে হাজির হয়।জিয়ানাকে দেখে সালাম দিয়ে বলে,
‘ভাবি কুইক চলেন।ভাই এক্ষুনি আপনাকে নিয়ে বের হতে বলেছে।’
‘চলেন তালহা ভাই।এখানে বেশিক্ষণ থাকলে আমার কান দিয়ে দুর্গন্ধ ঢুকবে।সব শাক*চুন্নির মেনহোলের মতো মুখ খুলে গেছে।’

গাড়ি ব্যাক সিটে উঠে জিয়ানা। তালহা ড্রাইভ করবে।জিয়ানা চোখ মুদে ভেবে যাচ্ছে।এই দেশের মানুষের আত্মা এখনো উনিশশতকেই পড়ে আছে। এরা নিজেরাই চায় না এদের ভাগ্যের পরিবর্তন হোক।এরা নেতার সৌন্দর্য্যে বিমোহিত হয়ে নেচে নেচে ভোট দিতে চায়।এরা নেতার আয়েসি জীবন দেখে পলিটিক্সে জড়াতে চায়।তাই তো নেতারা এদের নিয়ে টেবিল টেনিস খেলে।এপাশ ওপাশ বল ছুড়ে সময় পাড়। দুই কিলো রাস্তা মেরামত করে জনদরদী তকমা নিয়ে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলে।
এই অবাগা দেশে খোকা ঘুমালেও বর্গী আসে ,না ঘুমালেও আসে।বর্গী এখন হাটে ঘাটে।ফিরিঙ্গিরা শিখিয়ে দিয়ে গেছে কিভাবে বর্গী হয়ে শোষণ করতে হয়। গাড়ির ঝাকুনিতে জিয়ানা চোখ মেলে।বিকেলের মেয়াদ শেষ। সন্ধ্যা আসি আসি ভাব।জিয়ানা তালহাকে জিজ্ঞেস করে,
‘আচ্ছা তালহা ভাই এই যে মা*রদাঙ্গা ক্যম্পাসের ভাঙচুর করলেন। এতে কি লাভ হয় বলুন তো?’

‘এগুলাতে পার্টির লাভ ভাবি।লাইম লাইটে আসার সহজ রাস্তা।মানুষ কে বুঝানো হলো আমরা সক্রিয় আছি হুশিয়ার সাবধান।’
‘তাহলে এগুলা সব ভাওতাবাজি?’
‘কাইন্ড অফ ভাবি।’
‘রেসিপি ফর ডিজাস্টার? ‘
‘একমত ভাবি।’
‘আপনার মাঝে চামচা ভাব আছে জানেন?’
‘জ্বি।তবে প্রতিটা মানুষের অনেক গুলা স্বতন্ত্র চরিত্র আছে।একটা চরিত্র দেখে পুরো মানুষকে জাজ করা কি ঠিক ভাবি?’
‘কথা দেখি চমৎকার বলেন? কিন্তু এমন বর্ণচোরা হয়ে থাকেন কেনো?’

‘এটা বিনয় ভাবি।আপনি আমার শ্রদ্ধার মানুষ। ‘
‘আপনি কখনো মেয়েদের দিকে তাকান না?’
‘আমার আম্মার দিকে তাকাইতাম।’
‘এখন তাকান না?’
‘উনি নেই।’
‘মাই ব্যাড।আম সরি। আর কে কে আছে আপনার পরিবারের?’
‘কেউ নেই।’
‘আপনি তো বেশ ধার্মিক তাহলে চরিত্র বাঁচাতে তাড়াতাড়ি বিয়ে করছেন না কেন?’
‘আমার কাছে কে মেয়ে দিবে?’
‘আপনার মতো রিলিজিয়াস অর্থোডক্সি একজন মানুষের মেয়ের আকাল?’
‘জ্বি ভাবি প্রচুর।’

‘নেককার জীবন সঙ্গী পাওয়ার কোন আমল নেই?’
‘সবকিছুরই আমল আছে। ‘
‘বিপদ তাড়ানোর দোয়া শিখিয়ে দেন তো আমাকে?’
‘আয়াতুল কুরসি আর জালালি খতম দ্রুত কাজে আসে।’
‘জালালি খতম কোনটা?’
তালহা চুপ করে থেকে কিছুক্ষণ পর বলে,
‘আমি নিজেও ভুলে গেছি ভাবি।’
‘ওও সমস্যা নেই নেট থেকে শিখে নিবো।’
‘ভাবি ভাইদের সব জায়গা সম্পত্তি নাকি আপনার নামে উইল করা? এর কারণ কি?’
জিয়ানা খেয়াল করে তালহা লুকিক গ্লাসে তাকিয়ে জিয়ানাকে দেখছে।এই ছেলে কখনোই মাথা উঠিয়ে তাকিয়ে কথা বলেনি। আজ হঠাৎ তার চাহনি দেখে অচেনা লাগছে।জিয়ানা ভেতরের ভাবমূর্তি প্রকাশ না করে মুচকি হেঁসে বলে,
‘আমাকে আপনার ভাই মনে হয় বেশি ভরসা করে তাই হইতো।’

‘ভাইয়ের ফুপ্পির আত্মীয় আপনি?’
‘জ্বি।’
‘কেমন আত্মীয়? ‘
‘আমার চাচি।’
‘ওও।একটা প্রশ্ন করি ভাবি যদি কিছু মনে না করেন?’
‘প্লিজ ‘
‘ভাই যে আপনাকে এত নজরদারিতে রাখে আপনার কেমন লাগে?আর এত কেন ইনসিকিউরড থাকে?’
জিয়ানা পূর্ণদৃষ্টিতে তাকায় তালহার দিকে।একমনে ড্রাইভ করছে।মুচকি হেঁসে বলে,
‘সব সম্পত্তি যে আমার নামে। আমাকে যদি কেউ হাপিস করে দেয় তবে তো তাদের পথে নামতে হবে।এই জন্য।’
বলে শব্দ করে হেঁসে উঠে জিয়ানা।তালহা আবার লুকিং গ্লাসে তাকিয়ে থেকে বলে ,
‘ভাই নির্ঘাত আপনার হাঁসি দেখে প্রেমে পড়েছে।’

জিয়ানার হাঁসি থেমে যায়।সে জানে তালহা রিলিজিয়াস অর্থোডক্সি। নিবিড়ের কাছে শুনেছে তাহাজ্জুদ নামাজও পড়ে।কিন্তু এই ছেলে জালালি খতম মনে করতে পারছে না?এখন আবার একা থাকায় রসালো কথাবার্তা বলছে।ডাল মে কুছ কালা হে।জিয়ানার সাবকন্সিয়াস মাইন্ড যেটা মনে করছে সেটা ভেবে তার ভেতরে একটা কাপুনি টের পাচ্ছিলো। হঠ্যাৎ চেনা মানুষের অচেনা রুপ সামনে এলে বুঝি এমনই হয়?নিজেকে স্বাভাবিক রেখে বলে,
‘সত্যি আপনার পরিবারের কেউ নেই?
‘নাহ।কেউ নেই।’
বাসার কাছাকাছি এসে জিয়ানা নিবিড়কে মেসেজ দেয় “এরাইভড সেফলি।তালহা কে নজরে রাইখেন।”

নতুন বউয়ের শরীর থেকে এক প্রকার জেল্লা বের হয়।বউ বউ জেল্লা।আলাদা একটা স্নিগ্ধতা চেহারায় খেলা করে।মিম যখন লম্বা চুল ছেড়ে বাথরুম থেকে বের হয় আকাশ বুকে হাত দিয়ে বিছানায় ধপ করে পড়ে যায়।
মিম হকচকিয়ে দ্রুত আকাশের দিকে গিয়ে ঝুকে জিজ্ঞেস করে ,
‘কি হয়েছে আপনার?এমন করছেন কেনো?’
আকাশ আরও খিচিমিচি শুরু করায় মিম কেঁদে মা বলে চিল্লিয়ে উঠে।আর নিচ থেকে আকাশ ঝাপটা দিয়ে মিমকে ধরে বিছনায় ফেলে বলে,
‘চুপ করো বউ।এইভাবে চিল্লালে মানুষ কি বলবে?’
মিম বেক্কেল হয়ে যায়।কেমন নাটকবাজ লোকের পাল্লায় পড়েছো সে।আকাশ চোখ ছোট ছোট করে বলে,
‘আপনি আপনি করো কেন? তুমি বলো।কুইক এখনোই?’
মিম মুখ কাচুমাচু করে বলে,’একটু সময় দেন।’

‘এখনই বলো।তুমি খুব স্মার্ট সসুদর্শন ,সুপুরুষ এবং.. ‘নিচে ঝুকে কানে কানে কিছু বলে।মিম লজ্জায় পারে না গলে যেতে।আকাশ মিমকে ছেড়ে সোজা হয়ে বসে বলে,
‘শুনো একটা কাজের কথা বলি?আমি কিন্তু তোমার মতোই একশো পার্সেন্ট খাটি।বুঝতে পারছো তো?’
মিমের বোকা বোকা তাকানো দেখে আকাশ বলে,’থিউরি আর প্র‍্যাক্টিক্যাল দুইটার আকাশ পাতাল পার্থক্য সেটা কাল বুঝতে পেরেছি।যে ব্যাটা শুধু থিউরি জানে কিন্তু ল্যাবে কোনদিন ঢুকে নাই তার বিক্রিয়া প্রথমে সঠিক হবে না এটাই স্বাভাবিক। রাইট? আমিও তেমন। অনেক থিউরি পড়া পাবলিক হলেও কাল প্রথম ল্যাবে ঢুকেছি।এন্ড ইউ নো হোয়াট? থিউরি বোরিং হলেও প্র‍্যাক্টিক্যাল ইজ অসাম’
মিম আকাশের ইঙ্গিত বুঝতে পেরে শাড়ির আচল দিয়ে মাথায় লম্বা ঘোমটা দেয়ার চেষ্টা করে দেখে আকাশ ঘর কাপিয়ে হেঁসে উঠে আবার বলে,
‘আর শুনো কোনদিন যদি কোন সাদাচুলের পেত্নী এসে বলে আমি তোমার জামাইয়ের ঘাড়ে উঠে নাচতাম তবে একদমই বিশ্বাস করবা না।’

‘আমি আপনাকে দেখেছি সাদা চুলের কয়েকটা মেয়ের সাথে রুফটপ রেস্টুরেন্টে। ‘
আকাশের চোখ বড় বড় হয়ে যায়। গলা খাকি দিয়ে বলে,
‘দেখেছো না? ঠিকই দেখেছো। তাদের আমি বুঝাইতে গেছিলাম যে আমার কালা চুলের পরী লাগবে। সাদা চুলের পেত্নী দেখে আমি ডরাই।তারা যেনো আমার উপর থেকে আল্লাহর ওয়াস্তে নজর হাটিয়ে নেয়।’
মিম ফিক করে হেঁসে দেয় আকাশের কাচুমাচু মুখ দেখে।
পরক্ষণেই দরজায় নক হয়।মিসেস রত্না লান্সের জন্য ডাকছে তাদের।আজকে উনি হাসপাতাল থেকে লিভ নিয়েছে।আকাশের বাবাকেও জোর করে আটকিয়ে রেখেছেন।ভদ্রলোক রাগ করে রুমের বাহিরেই বের হয়নি।
রত্না মিমিকে নিয়ে বন্ধ দরজার সামনে দাঁড়ায়।মিমকে ইশারা করে ডাকতে।মিমের গলা শুকিয়ে আসে।আস্তে করে বলে,’কি বলবো মা? আমার ভয় লাগছে।’
‘বাবা বলে জোরে ডাক দাও।তার মেয়ের খুব শখ ছিলো।একটু কাঠখোট্টা লোক হলেও জেনুইনলি জেন্টেলম্যান।ডাকো?’

মিম দরজায় হাত দিয়ে ট্যাপ করে ডাকে,’বাবা? বাবা লান্স করবেন না? ‘
আকাশ ডায়নিং থেকে শশা খেতে খেতে বলে,
‘ডাক্তার সাব নাটক শেষ হলে বেড়িয়ে আসুন।আপনি যদি সময় মতো পদক্ষেপ নিতেন তবে কি আর আমাকে একা একাই বিয়ে করা লাগতো? ‘
রত্না আকাশ কে চোখ রাঙিয়ে মিমকে আবার ইশারা দেয় ডাকার জন্য।মিমের গলা জড়িয়ে আসতে চায়।তবুও হিম্মত করে আবার ডাকে,
‘বেরিয়ে আসুন। বাবা? শুনতে পারচ্ছেন?’
খট করে দরজা খুলে যায়।আড়চোখে মিমকে একবার দেখে আকাশের দিকে তাকিয়ে বলে,
‘নিজের রক্তেমাংসে গড়া সন্তানকে মানুষ বড় করে শুধু শ্রম আর সময় দিয়েই না।সন্তানকে ঘিরে গড়ে উঠে কিছু স্বপ্ন।একজন সন্তান যদি সেই স্বপ্নের দামই না দেয় তবে তারা ব্যার্থ প্যারেন্স।নিজে যখন বাবা হবে তখন আমার এই কথাটার মানে বুঝতে পারবে।’

বলে গটগট করে বের হয়ে যান।
দুপুরে খাওয়া দাওয়ার পর আকাশ মিসেস রত্নাকে বলে,’আম্মু বিয়ের অনেক ধকল গেছে এখন টানা একটা ঘুম দরকার।’
‘ঠিক আছে তুই ঘুমা।আমি মিম কে নিয়ে একটু বের হবো।ওর জন্য কেনাকাটা করতে হবে।’
আকাশ হা হয়ে গেছে মায়ের চালাকি দেখে।শুকনা কেশে গলায় শান দিয়ে টান টান সুরে বলে,’টিপিক্যাল শ্বাশুড়িদের মতো তুমি আজই ছেলের কাছ থেকে বউকে আলাদা করার পায়তারা করছো?দ্যাটস নট ফেয়ার আম্মু?’
মিম চোখ আয়ডায় করে বলে ,’আম্মু আমি রুমে যাই?’
‘হ্যাঁ গিয়ে রেডি হও আমরা বের হবো।’
মিম বাধ্য মেয়ের মতো রুমে চলে গেলে,আকাশ রত্নার দিকে এগিয়ে এসে বলে,’এ্যাই আম্মু তুমি আমার ভালো বউটাকে বিগ্রে দিতে চাচ্ছো কেনো? ওও কি বলেছে ওর শপিং করা লাগবে? অহেতুক কেনো লোভী বানাতেও চাও? তারচেয়ে ভালো আজ রেষ্ট নিক।পরে আমি নিয়ে গিয়ে যা যা লাগে কিনে আনবো।ঠিক আছে?’
‘নো।’

বলে উঠে চলে যায় রত্না।আকাশ দ্রুত পায়ে রুমে ঢুকে দরজার উপরের ছিটকিনি আটকে দেয় শক্ত করে।তার লিলিপুট বউ এটা নাগাল পাবে না।যাওয়াচ্ছে শপিংয়ে? মিম চুল কম্ব করতে বাথরুমে ঢুকে।আকাশের ঘরে কোন মিরর নেই।অবশ্য ছেলেদের ড্রেসিং টেবিলের দরকার পড়ে না।আকাশ উঁকি দিয়ে মিমকে দেখে বলে,
‘আসো আমি আচড়ে দেই।’
মিম পেছন ফেরে একবার তাকিয়ে বলে,
‘হাত ব্যাথা হয়ে যাবে।আমার চুলে অনেক গিট বাজে।আপনার কষ্ট হবে।’
‘আমার জন্য তুমি কষ্ট করবা আর তোমার জন্য আমি।কষ্টে কষ্টে কাটাকাটি। ‘
নিজেই মিমের হাত থেকে চিরুনী নিয়ে বিছানায় এনে বসায়।আলতো করে লম্বা চুল একহাতে ধরে আরেক হাতে আচড়ানোর চেষ্টা করে।মিম আকাশের কাজ দেখে ফিক করে হেঁসে বলে,
‘এত আস্তে আচড়ালে একমাস লাগবে শেষ করতে।’
‘লাগুক।আমার আপাতত কাজ নেই।’

মিসেস রত্না মিনিট পাঁচেক পর দরজায় নক করেন।মিম যেই উত্তর দিবে তেমনি আকাশ মুখ চেপে ধরে বলে,
‘আম্মু আরিফা ঘুমিয়ে গেছে।অনেক টায়ার্ড তো।তুমি আজ একাই যাও শপিংয়ে।বেষ্ট অফ লাক।’
রত্না মুখ টিপে হেঁসে বলে,
‘তাহলে তুই চল?’
‘আরেহ আম্মু আমার নতুন বউ একা রেখে যাবো কিভাবে? ভয় পাবে না?তুমি যাও।তাড়াতাড়ি যাও।মার্কেটের সব শেষ হয়ে গেলো।’
রত্না চলে গেলে আকাশ মিমের মুখ ছাড়ে।দুইজনের হুড়োহুড়িতে মিমের শাড়ি এলোমেলো হয়ে গেছে। মিম সেটা ঠিক করতে গেলে আকাশ বলে,
‘থাক আর ঠিক করা লাগবে না।’
মিম মাথা তুলে তাকায়। চোখে প্রশ্নবোধক চিহ্ন।আকাশ বিছানায় সটান হয়ে শুয়ে বলে,
‘এখন চূড়ান্ত এলোমেলো হবে।’

দুইপাশের ঘন বনের বুক চিড়ে চলে গেছে পিচঢালা রাস্তা।অন্ধকারের কারনে সবুজ বন এখন নিগুঢ় কালো দেখাচ্ছে।রাস্তার উপর বর্নহীন জুম বৃষ্টির ফোটা ক্রমান্বয়ে আছড়ে পড়ায় নান্দনিক এক ছন্দের সৃষ্টি হয়েছে।সেই জুম বৃষ্টির মাঝে সেডান ব্ল্যাক গাড়িটা সাঁইসাঁই করে ছুটে চলছে সর্বোচ্চ গতিতে।যেটা কিছুক্ষণ আগে জিয়ানাকে নূর ম্যানসনে নামিয়ে দিয়ে এসেছে।এখন নিবিড় ,মক্কু আকাশকে নিয়ে ছুটছে কালিয়াকৈরের দিকে।
নিবিড় আকাশের দিকে তাকিয়ে বলে,
‘তোকে নিষেধ করেছিলাম না?আসলি কেন?’
‘তালহা ফোন দিলো সেও নাই।তাই ভাবলাম যাই।’
ঘাড় চুলকে বলে আকাশ।মক্কু হেঁসে বলে,
‘তো সাহেবের দিন রাত কেমন কাটলো?’
‘স্বর্গীয় ভাই।ঝাক্কাস।’

নিবিড় পকেট থেকে ফোন বের করে। জিয়ানার টেক্সট দেখে ভ্রু কুচকে মক্কুকে জিজ্ঞেস করে ,
‘তালহার কি সমস্যা রে?’
‘ওর খালা আছে না যার কাছে বড় হয়ছে, সে নাকি গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। তাই বাড়িতে যাবে আমাকে বললো।’
‘ওর বাড়ি তো দক্ষিণাঞ্চলে। রাত ছাড়া গাড়ি নাই।এখন আসলো না কেন?’
‘আমি এই কথা বলছিলাম। বললো”অনেকদিন পর যাবে ছোট দুইটা কাজিন আছে তাদের জন্য কিছু কিনবে।’
নিবিড় ফটাফট কাউকে টেক্সট করে। তারপর মেহেদীকে টেক্সট করে সব এরেঞ্জমেন্ট হয়েছে কিনা।কল হিস্ট্রি গিয়ে নিবিড়ের কপালে আরও ভাঁজ পড়ে।জিয়ানার সাথে একঘন্টা সতেরো মিনিটের কল রেকর্ড শো করছে।ডিটেইলসে ক্লিক করে নিবিড়ের নিশ্বাস বন্ধ হয়ে যায়।সকালে যতক্ষন সে মেহেদীর রুমে ছিলো ততক্ষণের কল রিসিভ করা ছিলো।

এরমাঝে ড্রাইভার সামনে ঝুকে পড়ে যায় আর আচম্বিতে গাড়ি এঁকেবেঁকে চলা শুরু করে। সামনের সিটে বসা আকাশের মুখে রক্ত ছিটকে আসায় চিল্লিয়ে বলে উঠে ভাই এট্রাক্ট করছে মাথা নিচু করেন।গাড়ি এবড়োথেবড়ো ভাবে চলতে চলতে বড় একটা গাছের গোড়ায় স্বজোরে আঘাত হানে।মক্কু আর নিবিড় ঝুকে থাকায় মাথায় অল্প আঘাত পায়।অপরদিকে আকাশ পাশের জানালায় বাড়ি খেয়ে রক্তাক্ত হয়ে একাকার অবস্থা। প্যাচ করে আরেকটা বুলেট ছুটে আসে গাড়ির জানালা বরাবর। নিবিড় ফোনে ভয়েস কল করে মেহেদীর নাম্বারে লোকেশন আর সিচুয়েশন জানায়।তারপর কোমরে গুজা রি*ভালবারটা টান দিয়ে বের করে সিলিন্ডার চেক করে। অল্প মাথা উঁচু করে তাকিয়ে দেখার চেষ্টা করে কোনদিক দিয়ে বুলেট আসছে।নিবিড়ের গাড়ির সামনে একটা হাইস গাড়ি ভর্তি তাদের ছেলেপেলে ছিলো। তারাই বা কোথায়?
নিবিড় মক্কুকে বলে সামনের গাড়ির ছেলেদের দ্রুত ফোন দিয়ে সিচুয়েশন জানাতে।এরমাঝে এলোপাথাড়ি বুলেট আঘাত হানে নিবিড়ের গাড়িতে।নিবিড় নিজেও সামনের ভাঙা কাচ দিয়ে একটা শুট করে।

সন্ধ্যায় জিয়ানাকে যখন তালহা নামিয়ে দেয় নূর ম্যানসনে তখনই জিয়ানার মাথায় একটা প্ল্যান ঘুরে।
জিয়ানা তালহাকে জোর করে ভেতরে আনে ঠান্ডা খাওয়ানোর বাহানায়।ড্রয়িং এ বসিয়ে গভর্নেন্সকে নাস্তা দিতে বলে।তালহাকে বলে সে রুমে যাচ্ছে।তালহা যেনো অবশ্যই খেয়ে যায়।তালহা নাস্তা খাওয়ার সময় জিয়ানা তিনতলার হল রুম দিয়ে নিচে নেমে আসে।তারপর গাড়ির ডিকিতে উঠে বসে পড়ে। তার ধারণা নিবিড় আজ বড় কোন কিছুর প্ল্যান করছে।আর এই জন্যই সে সাভারের বাহিরে যাচ্ছে।

গাড়ি যখন গাছে বাড়ি খায় জিয়ানাও ভেতরে ব্যাথা পেয়ে শব্দহীন কাকিয়ে উঠে।পিন দিয়ে লক খুলার চেষ্টা করেও খুলতে পারছে না।
ঝড় আসার আগে যেমন থমথমে একটা পরিবেশের সৃষ্টি হয় এখন চারপাশ ঠিক তেমনই স্তব্ধ।
তখন ঘড়িতে বাজে রাত আটটা আঠারো।এই সময় নিবিড়রা ঘন জঙ্গলে ঘোর বিপদে। ঠিক এই সময় জিয়ানা তাদেরই গাড়ির ডিকিতে লক হয়ে আছে।অপরদিকে মিম লাল টকটকে একটা কাতানের সাথে রত্নার সকল জুয়েলারি পড়ে বসে আছে আকশের অপেক্ষায়।

নীতিহীন রাজ পর্ব ৭২

আবার প্রেগ্ন্যাসির রিপোর্ট হাতে খুশিতে কেঁদে কেটে মক্কুর অপেক্ষায় জেনি। একমনে একহাত জানালার গ্রিলে ধরে আরেকহাত দিয়ে পেটে ধরে তাকিয়ে আছে আকাশের দিকে।
সময় এক। সিচুয়েশন ভিন্ন। সবার মনের অবস্থাও আলাদা আলাদা।কারো জীবন হারানো ভয়,কারো অসীম কৌতুহলী মন,কারো নব্য প্রেমের লাজুক অনুভূতি ,কারো শূন্যতার মাঝে প্রাপ্তি।
প্রতিটা মানুষ একটা সুতোয় ঝুলে আছে……..

নীতিহীন রাজ পর্ব ৭৪