নীরব উন্মাদনা দ্বিতীয় খন্ড পর্ব ১৯
সুরাইয়া জিয়াসমিন
আরহামের পিঠ আঁকড়ে ধরে বিরবির করে বললো
_”আমি আর কখনোই এরকম করবো না। সবসময় আপনাকে বোঝার চেষ্টা করবো। কারণ আপনি আমার একমাত্র স্বামী বলে কথা।এটা আমার কর্তব্য।তবে আমাকেও একটু বোঝার চেষ্টা করবেন! ঠিক আছে?”
আরহাম মুচকি হেসে নুবার মাথায় ঠোঁট ছুয়ালো।পরপর বিরবির করে বললো
_”মেয়েকে নিয়ে আসো!”
আরহামের কথায় নুবার মুখটা চুপসে গেলো।তার আশায় এক বাতলি পানি ঢেলে দিলো আরহাম। দুইজনি বেশ স্বাভাবিক হয়ে উঠলো।পরপর আরহাম নুবাকে ছেঁড়ে দিয়ে আদুরে গলায় বলল
_”যাও।”
নুবা টিপটিপ করে আরহামের দিকে তাকিয়ে বললো
_”আপনি সত্যি আমাকে মাফ করেছেন তো।”
_”তুমি আমাকে করে দিয়েছো তাই আমিও তোমাকে করেছি। কারণ এখানে দুইজনেরি দোষ ছিলো।”
নুবা আরহামের এরকম বুঝবান কথায় চোখে পানি নিয়ে হাসলো তবে সে তো অন্য কোনো কারণে এসেছিলো।নুবা ভাবলো হয়তোবা আরহাম খেয়াল করেনি যে সে তার sorry gift এ দেওয়া শাড়ি পড়েছে। আরহাম সবটা সামলে নিতে পারে শান্তির নিশ্বাস ফেললো।নুবা আয়রাকে নিতে যেতে লাগলো তবে আবারো ফিরে আসলো নুবা। আরহাম তখন যেয়ে বিছানায় বসেছে।
নুবা শাড়ির আঁচল আঙ্গুলে পেচাতে পেচাতে এগিয়ে গেলো পরপর কিছু মাথা নিচু করে সুধালো
_”আপনি কি আমাকে ঠিক মতো খেলায় করেননি?”
আরহাম ক্লান্ত চোখে মাথা উঁচু করে নুবার দিকে তাকায়। পরপর বেশ আদুরে গলায় বলে
_”দেখেছি, সুন্দর লাগছে।”
আরহামের তেমন প্রতিক্রিয়া না দেখে নুবার মনটা নিমিষেই ভেঙ্গে গুড়িয়ে যায়।নুবা বেশ হতাশ হয়ে বলে
_”আমি আর কখনোই এরকম করবো না।”
আরহাম মিষ্টি করে হেসে বললো
_”শুনেছি,আর কতবার বলবে?”
আরহামের কথায় নুবার মুখটা চুপসে গেলো,হাতের আঙ্গুলের খত স্থানে হাত বুলাতে বুলাতে সুধালো
_”আপনি হয়তোবা এখনো আমাকে পুরোপুরি ভাবে মাফ করতে পারেরনি?”
আরহাম নুবার কথায় একটু অবাক হয়ে বললো
_”তোমার এরকম কেনো মনে হচছ?”
নুবা মাথা নিচু করে নিলো,পরপর কিছু সময় চুপ থেকে বলে উঠলো
_”আমি আপনার জন্যই সেজেছি, হয়তোবা আপনি এই সবে কোনো আগ্রহ পাচ্ছেন না,তাই না?”
নুবার কথায় আরহাম নুবার দিকে এক পলক তাকিয়ে মুচকি হেসে বললো
_”আমি আর কখনোই তোমার মনের বিরুদ্ধে কিছু করবো না। তুমি যখন চাইবে আমি তখনি তোমার কাছে আসবো। তুমি চাইলে চেন্জ করে নিতে পারো। কারণ আমি চাই না তুমি বিব্রত হও!”
আরহামের কথায় নুবা আন্দাজ করলো কিছুই ঠিক হয়নি। তার এক মূহুর্তের জন্য মনে হলো সে আরহামের মন থেকে উঠে গেছে।কথাটা ভাবতেই নুবার বুকটা ধুকপুক করে উঠলো।পরপর সে এগিয়ে অশান্ত কন্ঠে বললো
_”আমি চাই না আপনি এরকম করুন! কারণ আপনি যেমন ,আমার তেমনি ভালো লাগে। please আমাকে উপর রাগ করে এই সব কথাবার্তা বলবেন না। আপনি আপনার মতোই ঠিক আছেন। next time থেকে আমি আর কখনোই এই সবে হস্তক্ষেপ করবো না।”
আরহাম ভুরু কুঁচকে বললো
_”তোমার তো আমার স্বভাব পছন্দ না।এটাই আমি জানি।তাই আমি চেন্জ হওয়ার চেষ্টা করবো।”
নুবা হাঁসফাঁস করে উঠলো,বুঝতে পারলো আরহাম এখনো রেগে আছে।তাই তো এভাবে বলছে।নুবা আলতো করে আরহামের দুই গালে হাত রাখলো।পরপর গালে স্লাইড করে আদুরে গলায় বলল
_”I am sorry,আমি চাই না আপনি আমার জন্য চেন্জ হন। কারণ আপনি যেরকম আমার সেরকমি ভালো লাগে।তখন রাগের মাথায় উল্টা পাল্টা বলে ফেলেছি,সেটার জন্য আমি দুঃখিত।”
আরহাম নুবা গালের উপর রাগা দুই হাত সামনে এনে চুমু খেলো।পরপর বললো
_”আচ্ছা, মেয়েকে নিয়ে আসো।”
নুবা সরলো না বরং আরহামের মুখের দিকে তাকিয়ে রইলো অতঃপর হঠাৎ করেই একদম আরহামের নিকটে যেয়ে তার কাঁধের উপর দুই হাত রেখে ফিসফিস করে বলে উঠলো
_”আমি আপনার এতো কাছে? এতোটা,তবে আপনার কি কিছুই ইচ্ছা করছে না?”
আরহাম জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে মৃদু কন্ঠে বললো
_”কি ইচ্ছে হবে। আমার তো কিছুই হচ্ছে না।”
নুবা আরহামের কথায় হতাশ হলো,পরপর কাতর কন্ঠে বললো
_”কিছুই অনুভব হচ্ছে না? আমি কি চাচ্ছি,আপনি সত্যিই বুঝতে পারছেন না?”
আরহাম কিছু সময় নুবার দিকে তাকিয়ে থেকে মনে মনে হাসলো পরপর ঠোঁট বাঁকিয়ে হেসে বিরবির করে বললে
_”না বললে কি করে বুঝবো?আমিতো মনোবিজ্ঞানী না।”
বলেই আরহাম নুবার মনে মনে হালকা হাসলো। কারণ সে জানে নুবা কি চাইছে তাও সে নুবার মুখ দিয়ে শুনতে চায়।তাই তো মেয়েকে আনতে তাড়া দিচ্ছে আরহাম।তার আসল উদ্দেশ্য নিজে পরিবর্তন হওয়া না বরং নুবাকে পরিবর্তন করা।কথার জালে ফাঁসিয়ে সে নুবাকেই পরিবর্তন করছে যা নুবা টেরো পাচ্ছে না। আরহামের কখনোই তার স্বভাব পরিবর্তন করবে না সে তো শুধু কথার কথা বললো।তাতেই নুবার এই অবস্থা।”
আরহামকে আর কোনো কথা না বলতে দেখে কিছুটা নিরাশ হলো নুবা।আজ এতোটা কাছে থাকার পড়েও আরহাম তাকে জরিয়ে ধরেছে না,কাছে টানছে না।এই জিনিসটা নুবাকে বেশ প্যারা দিচ্ছে।সে টের পাচ্ছে আরহাম এখনো সবটা মেনে নেয়নি।
নুবা কিছু সময় চুপ থাকলো অতঃপর দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো।সবটা ঠিক করতে নিজেকে একটু বেলাজ করলো নুবা।চোখ মুখ খিচে আরহামের কানের কাছে এগিয়ে যেয়ে ফিসফিস করে বললো
_”I want you to fuck me. Please.”
নুবার কথা শুনে আরহাম ঠোঁটে ঠোঁট চেপে হাসলো তবু নিজের অনুভূতি প্রকাশ না করে নুবার রাঙ্গা মুখের দিকে তাকালো পরপর কেমন নিরাশ কন্ঠে বললো
_”তোমার মুখ এক কথা বলছে আর চোখ মুখের ভাব অন্য কিছু প্রকাশ করছে।যেনো তুমি কথাটা পরিস্থিতির চাপে পড়ে বললে।নিজের মনের বিরুদ্ধে!তাই তো?”
নুবা চোখ খুলে আরহামের দিকে তাকালো।বেশ লজ্জা লাগতে লাগলো তার পরপর জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে বিরবির করে বললো
_”একদমি না। আমার ইচ্ছা হচ্ছে , trust me!”
আরহাম নুবার চোখে দিকে তাকালো।আরহামকে এভাবে তাকাতে দেখে নুবার ইচ্ছে করলো মাটি ভেদ করে নিচে ঢুকে যেতে। আরহাম নুবাকে টিপটিপ করতে দেখে মুচকি হেসে তাকে নিজের কাছ থেকে সরিয়ে দিয়ে শান্ত কন্ঠে বললো
_”মেয়েকে নিয়ে আসো, প্রচন্ড ক্লান্ত আমি।একটু রেস্ট নিবো।”
আরহাম এভাবে দূরে ঠেলে দেওয়ার নুবার প্রচন্ড খারাপ লাগলো।নুবা আবারো এগিয়ে এসে অশান্ত কন্ঠে বললো
_”আপনি সত্যিই ক্লান্ত? নাকি এটা শুধুই আমাকে দূরে ঠেলে দেওয়ার বাহানা?”
আরহাম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে ঠোঁট হেলিয়ে হেসে বললো
_”আগে যেয়ে চেন্জ করে নেও। তোমাকে দেখে অস্থির লাগছে।”
নুবার এবার একটু রাগ হলো। ঠিক যেমন আরহামের হয়।যখন আরহাম তার কাছে আসে আর সে বুঝেও না বুঝার ভ্যান ধরে। ঠিক তেমন করেই নুবার রাগ হলো তবু সে নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রেখে আরহামের হাতের উপর হাত রেখে বিরবির করে বললো
_”একটু জরিয়ে ধরুন।”
বলতে বলতে আরহামের দুই হাত নিয়ে নিজের কোমড়ে রাখলো। নুবা ভাবলো হয়তোবা এবার আরহাম ঠিক আগের মতো টেনে তাকে কাছে টেনে নিবে।তবে আরহাম এমন কিছুই করলো না। বরং সে হাত দুটো নুবার কোমড় থেকে সরিয়ে নিলো।নুবা হতাশ হলো তবু রাগ হলো না তার বরং ভাবলো সবটা সামলে নিবে সে।
আরহাম দুই হাত পিছন দিকে হেলিয়ে বিছানায় রেখে,পিছন দিকে কিছুটা ঝুকে যেয়ে নুবার দিকে তাকিয়ে রইলো। এদিকে আরহামকে এভাবে তাকাতে দেখে নুবা শুকনো ঢোক গিললো।এভাবে শূন্য দৃষ্টিতে কেনো তাকিয়ে আছে আরহাম? সেটাই বুঝতে পারছে না নুবা।তবে নুবার মনে হচ্ছে আরহাম কিছু একটা চাচ্ছে,তবে তা তার মনের মতো হচ্ছে না।
নুবা এবার দীর্ঘ নিঃশ্বাস নিজের দ্বিধাবোধ কিছুটা ঘুচিয়ে নিলো।পরপর কিছু একটা ভেবে শাড়ির আঁচলটা একটু বুক থেকে নামিয়ে দিলো, অতঃপর একটু বাঁকিয়ে দাঁড়িয়ে নিজের বাম কমড়ের তিলটা দৃশ্যামান করে,ছাড়া চুল গুলো সামনের দিকে নিয়ে আসলো,দুই হাত কমড়ে গুঁজে বিরবির করে বললো
_”কেমন লাগছে?”
নুবার কান্ডে আরহাম শুকনো ঢোক গিলে ঠোঁট বাঁকিয়ে বললো
_”সুন্দর!”
নুবা নিজের মন মতো সবটা না শুনতে পেয়ে,আর একটু চেষ্টা করলো।দুই হাতের আঙ্গুল এক সাথে আঁকড়ে ধরে উপর দিকে উঠিয়ে বোডি টানটান করলো।ফল স্বরুপ নুবার পাতলা কোমড় আর উদর দেখা গেলো।নুবা আঁকিয়ে বাঁকিয়ে দাঁড়িয়ে বললো
_”এখন কেমন লাগছে?”
আরহাম জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে মনে মনে বেশ অস্থির হয়ে বললো
_”একটু মশলা কম হয়ে যাচ্ছে।”
বলতে বলতে আরহাম উঠে সোজা হয়ে বসলো।নুবা সোজা হয়ে দাঁড়ালো। অতঃপর বুকের আঁচলটা সরিয়ে দিয়ে আরহামের দিকে ঝুঁকে গেলো।আরহামের থুতনিতে এক আঙ্গুল ঠেকিয়ে নিজের মুখোমুখি করে ভারি নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_”এবার?”
আরহাম নুবার মুখের দিকে না তাকিয়ে অন্য দিকে তাকালো। ঝুঁকে থাকার ফলে নুবার বুকের ভাঁজ দৃশ্যমান হচ্ছে।এতো সময় কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এবার আরহাম জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে কাতর কন্ঠে বললো
_”সিডিউজ করছো আমাকে?”
নুবা ঝুঁকে এসে আদুরে কন্ঠে বললো
_”এবার কি মশলা কম লাগছে?”
আরহাম ভারি নিঃশ্বাস ফেলে আদুরে গলায় বলল
_”ভুল করছো, তোমার উপরেই ভারি পড়বে!”
_”পড়ুক,আমি সামলে নিবো।তবু আপনার থেকে দূরত্ব সহ্য হবে না।আমি শুধু আপনাকে চাইছি। শুধুই আপনার হতে চাইছি।”
আরহাম নুবার কোমড় জড়িয়ে ধরলো বুকে মুখে গুঁজে দিলো।নুবা পিলে চম্কে উঠলো তবু দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে নিজেকে শান্ত রেখে আরহামের মাথায় হাত বুলিয়ে দিলো। আরহাম নুবাকে বিছানায় ফেলে দিলো।পরপর নুবার দিকে ঝুঁকে যেয়ে বিচলিত কন্ঠে বললো
_”আমার শরীর থেকে বয়ে যাওয়া প্রত্যেকটা বীর্য কণা আপনার গর্ভে ধারন হোক।”
নুবা আরহামের কথায় শুকনো ঢোক গিলে বিরবির করে বললো
_”যাতে ২৯ টা বেবি এক সাথে হয়ে যায়,এই ধান্দা?”
_”হুম,তবে কি আপনি রাগ করবেন নাকি?”
নুবা আরহামের গলা জরিয়ে ধরে আদুরে গলায় বলল
_”না,একবারে হলে আমারি ভালো, কারণ এতোবার গর্ভে গর্ভবতী হতে হবে না, তবে সাবধান, আমি বেঁচে গেলেই হলো। কারণ আমি এতো তাড়াতাড়ি মরতে চাই না।”
আরহাম হেসে নুবাতেই মত্ত হয়ে গেলো।নুবা আবেশে আরহামকে কাছে টেনে নিলো।যেনো মনের উপর রাখা পাথরটা তার সরে গেলো।মনে হলো সব অশান্তি এক মুহুর্তের জন্য বাতাসে মিলিয়ে গেলো। আরহাম কাছে আসায় নুবার ভেঙ্গে যাওয়া মনটা আবারো জুরে গেলো। মুচকি হাসলো সে যেনো সবটা গুছিয়ে নিয়েছে নুবা।
_”ভাই সবসময় এমন করে,আমি বুঝি না কেন?এমন একটা সুন্দর বউ থাকলে আমি কখনোই এমন করতাম না, বরং মাথায় তুইলা রাখতাম।”
হাবিবের কথায় সাগর দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_”ভুলেও ভাইয়ের সামনে এই সব বলিস না। একদম ঠুইকা দিবো।”
হাবিব দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বিরবির করে বললো
_”এমন একটা সুন্দর মাইয়ারে কে মারে ভায়,কেমনে মারে। আমার তো দেখলেই মায়া হয়।ওই জায়গায় গায়ে হাত তুলা তো দূরে থাক।”
_”সহজে পাইয়া গেছে তাই কদর করে না।”
সাগরের কথায় হাবিব একটু হেসে বললো
_”তোর এইডা কেন মনে হয়।কত বছর কসরত করার পড়ে পাইছে।ওই মাইরায় লাইগা আল্লাহই জানে কত গুলা খুন করছে।তাও পাইয়াও এমন করে।”
_”বাদ দে,এই সব ভাই শুনলে আবার আমগোরেই টপকায় দিবো। তুই তোর কাজে ধ্যান দে।আমগো ওগোর ব্যপার নিয়া কথা কওয়ার দরকার নাই।”
হাবিব কথাটা শুনে চাঁপা নিঃশ্বাস ফেলে মাথা ঝুকালো। এই সব ব্যপার নিয়ে কথা নাই বলা ভালো।
নুবা কান্ত চোখে আশেপাশে তাকিয়ে চোখ বুঁজে নিলো। আরহাম নুবাকে চোখ বুঝতে দেখে মুচকি হেসে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো।যেনো এতো সময় পর শান্তিতে শান্তিপূর্ণ হলো সে।
নুবা আরহামের বুকে স্থান করে নিলো। আরহাম নুবার কপালে ঠোঁট ছুঁইয়ে দিলো।নুবা বেশ ক্লান্ত কন্ঠে বললো
_”আয়রাকে নিয়ে আসুন।মেয়েটা আমার কি করছে কে জানে?”
আরহাম চোখ বন্ধ করতে করতে বললো
_”কান্না করলে আম্মু নিয়ে আসবে।আর হয়তোবা আমার এতো সময়ে ঘুমিয়ে গেছে।”
নুবা আর কথা বাড়ালো না,চোখ বুঁজে ঘুমানোর চেষ্টা করলো। আরহাম নুবার উন্মুক্ত পিঠে হাত বুলিয়ে বাচ্চাদের মতো ঘুম পাড়াতে লাগলো তাকে।নুবা যা অনুভব করে মুচকি হাসলো।
সকাল সকাল পরি গা গুলিয়ে বমি আসছে।নাবিল বলেছে মাংস রান্না করতে,আর এদিকে সব গুছতে যেয়ে পরির বমি পাচ্ছে।তবু কিছু বলতে পারছে না সে।
এক পর্যায়ে পরি নাকে মুখে ওরনা পেঁচিয়ে অতঃপর মাংসে হাত দিলো। অন্যদিকে নাবিল কিছু News পেপার বেড় করে কিছু একটা যাচাই করছে।যেনো খুবি ব্যস্ত সে।পরি মাংস চুলায় বসিয়ে বাইরে বেড় হয়ে আসলো।
নাবিল এক পলক পরির নাজেহাল মুখের দিকে তাকিয়ে আবারো চোখ সরিয়ে নিলো। পরি ঘামে ভিজে একাকার হয়ে নাবিলের সামনে এসে বসলো। নাবিল পরির উপস্থিত টের পেয়ে মৃদু কন্ঠে বললো
_”রান্না শেষ?”
_”হুম, মাংস বসিয়ে দিয়ে এসেছি। কষ্ট করে একটু বেড়ে নিয়ে আসবেন। আমার শরীরে আর কুলাচ্ছে না।”
নাবিল ভুরু কুঁচকে পরির দিকে তাকালো পরপর কাঠকাঠ কন্ঠে বললো
_”আমি বাইড়া খামু? আমি?”(নিজের দিকে আঙ্গুল করে বললো সে)
পরি একটু হতাশ হয়ে বললো,
_”আমি আর পারছি না। এই শরীর নিয়ে আমার দাঁড়া আর হচ্ছে না।পারলে বেড়ে খান,না পরলে যেতে পারেন। আমি গোসলে যাচ্ছি,পুরো ঘেমে গেছি।”
পরি সকাল করেই গোসলে চলে গেলো। কারণ এই ঘাম অবস্থায় থাকলে তার ঠান্ডা লেগে যাবে।
সকালে নাস্তার টেবিলে নুবা সবার জন্য খাবার সার্ভ করছে। এদিকে ইশিতা নুবাকে দেখে মিটমিট করে হাসছে।যা অবশ্য নুবা খেয়াল করেছে তবে তেমন কিছুই বলেনি।
সকালে ঘুম থেকে উঠতে দেরি হয়ে যাওয়ায়,নুবা শাওয়ার নিয়ে নিচে চলে এসেছে,চুল টুকু শুকানোর সময় পাইনি সে।আর এদিকে নুবার সিন্ধ মুখ থেকেই ইশিতা মিটমিট করে হাসছে।তার হাসির ভিতরে সব থেকে বড় কারন হলো’কাল তাদের দুইজনকে নিয়ে হাজেরা আর আমিনা ঝগড়া করলো।এখনো দুইজনে মুখ কালো করে আছে। দুইজনের মধ্যে কথা হচ্ছে না।তবে এদিকে যাদের নিয়ে ঝগড়া হলো তারা ঠিক সব ঠিকঠাক করে ফরজ গোসল টোসল সেরে ফেলেছে।”
এই বিষয়টা নিয়েই ইশিতার বেশি হাসি পাচ্ছে।এই জন্য বলে স্বামী স্ত্রীর ঝগড়ার মাঝখানে কখনোই আসতে নেই।তারা তো সময় মতো বোঝাপড়া করে নেয় তবে মাঝখানে যারা তাদের পক্ষ নিয়ে তর্ক করে তারাই শত্রু হয়ে যায়।
নুবা খাবার সার্ভ করে ইশিতার পাশে যেয়ে বসে বিরবির করে বললো
_”তুমি বারবার আমার দিকে তাকিয়ে হাসছো কেন? আমাকে কি কোনো জায়গা দিয়ে হাস্যকর দেখা যাচ্ছে?”
নুবার প্রশ্নে ইশিতা মুচকি হেসে বললো
_”এমনি ভাবি জান!”
ইশিতার এরকম ডাক শুনে নুবা একটু অবাক হলো কারণ ইশিতা কখনোই ভাবি বলে ডাকেনি। তবে নুবা বেশ খুশি হলো ভাবি ডাক শুনে
_”এমনি এমনি তো হাসি আসে না। সত্যি করে বলতো কেনো হাসছো?”
নুবার প্রশ্নে ইশিতা আরো হেসে উঠলো পরপর মৃদু কন্ঠে বললো
_”না মানে তোমাদের ঝগড়ার কথা ভাবছিলাম।সব ঠিকঠাক হয়েছে তো?”
নুবা ইশিতার কথায় কিছু সময় চুপ থেকে অনুমান করতে পারলো কেনো হাসছে ইশিতা।নুবা বেশ লজ্জা পেয়ে শীরের ওরনা মাথায় টেনে নিলো।নুবাকে লজ্জায় লাল হতে দেখে ইশিতা খিলখিল করে হেসে উঠে বললো
_”it’s normal, তোমার দেবর আর আমার ভিতরে এরকম ঝগড়া কত হয়। অতঃপর রাতে নিজ ইচ্ছায় নিজের অপরাধ স্বীকার করে সে।”
বলতে বলতে ইশিতা মিটমিট করে হাসতে লাগলো।নুবা বেশ লজ্জা পেয়ে ওখান থেকে উঠে গেলো। আরহাম এখনো আসেনি,তাকেই ডাকতে যাচ্ছে সে।
কেটে গেছে কয় একটা দিন। আরহাম আর নুবার ভিতরের সম্পর্ক আগের মতো স্বাভাবিক হয়ে গেছে।তবে নুবা নিজেকে অনেকটা পরিবর্তন করেছে।সে সবসময় তার পাগল স্বামীকে আগলে রাখে। চেষ্টা করে যাতে আরহাম কখনোই অসন্তুষ্ট না হয়। আরহাম নুবার পরিবর্তন দেখে সেরফ হাসে। কারণ সে নিজেই এই পরিবর্তনের কারণ।
ইতি মধ্যেই তাদের বিয়ের কেনা কাটা শুরু হয়ে গেছে। এমন কি বাড়ি ডেকোরেশন করাও শুরু হয়েছে।নুবা ভিন্ন রকমের বিয়ের লেহেঙ্গা পছন্দ করেছে। সেটা আবার গাড়ো নীল রঙ্গের ,যেটা আরহামের পছন্দ।প্রথমে বিষয়টা কারো পছন্দ না হলেও পড়ে সবাই স্বাভাবিক নিয়েছে কারণ এই বিষয় আর আর নুবা অনেক খুশি।
তার থেকে আশ্চর্য জনক বিষয় হলো,নুবার গায়ে হলুদ,মেহেদি অনুষ্ঠানের জন্য পর্যন্ত সে নীল রঙ্গের ড্রেস আর শাড়ি পছন্দ করেছে অবশ্য আরহামি তা পছন্দ করে দিয়েছে।নুবাদের বিয়ের ডেকোরেশনটাও নীলের ভিতরে রাখা হয়েছে।যা নুবার প্রচন্ড পছন্দ হয়েছে।আয়রার জন্য নুবার মতো সেম রঙ্গের comfortable ড্রেস অর্ডার দিয়ে বানানো হয়েছে।
তাদের জীবন নিয়ম যতো এগিয়ে যাচ্ছে,সব কিছুই স্বাভাবিক চলছে।নুবা আরহাম আর আয়ার মার্কেটের বাইরে ঘুরছে।অন্য দিকে বাড়ির সবাই কেনা কাটায় ব্যস্ত। তাদের কাজ শেষ তাই তারা চলে এসেছে।
আরহাম এক হাত দিয়ে মেয়েকে বুকের সাথে জরিয়ে ধরেছে অন্য হাত দিয়ে নুবার এক হাত ধরে গন্তব্য হীন ভাবে হেঁটে চলেছে। এদিকে আয়রা আর নুবার দুই জনের হাতেই আইসক্রিম। আপাতত তারা আইসক্রিম খেতেই ব্যস্ত।তারা এগিয়ে যাচ্ছে সামনে অবস্থিত একটি পার্কের দিকে যেটা নতুন তৈরি হয়েছে।
নুবা এগিয়ে যেতে যেতে মৃদু কন্ঠে বললো
_”আচ্ছা,আমি ভাবছি আমার জন্য তো আর বরযাত্রী আসবে না।তাহলে আপনি এতো গুলো গাড়ি কেন বুক করলেন?”
আরহাম মুচকি হেসে বললো
_”কারণ আমরা গাড়ি নিয়ে পুরো সহজ ঘুরবো।বাড়ি থেকে বেড় হওয়ার সময় তোমার মা তোমাকে বিদায় দিয়ে কান্না কাটি করবে অতঃপর আমার পুরো শহর ঘুরে বাড়িতে ফিরবো।তখন আমার আম্মু তোমাকে নিয়ম অনুযায়ী বাড়িতে বোরণ করবে।”
কথাটা শুনে নুবা বেশ মজা পেলো।তারো বিদায় হবে। ইস্ তখন কি সে কাঁদবে? কারণ সে তো যেখান থেকে বিদায় নিবে সেখানেই এসে উঠবে।তবে কি তার একটু কান্না পাবে।তবে কাঁদতেই হবে তাকে।হেসে হেসে কি বিদায় নেওয়া যায়।কথাটুকু ভেবে নুবা মনে মনে পরিকল্পনা করতে লাগলো কি করে সে,সেই সময়টিতে কান্না করবে!
পরি একটু অবাক হয়ে নাবিলের দিকে তাকালো।একটু আগেই তারা doctor দেখাতে এসেছিলো ।তখন ফিরার সময় নাবিল পরিকে নিয়ে মার্কেটের ভিতরে গিয়েছিলো ।নাবিল যখন নিজের কাজে ব্যস্ত ছিলো তখনি পরির নজর একটি ছোট্ট জিনিসের উপর পড়ে,যা হলো ছোট্ট বাচ্চা মেয়েদের জুতা।যেটা পরির পছন্দ হলেও নাবিলকে কিছুই বলতে পারে না।তবে নাবিল খেলায় করে বিষয়টা,আর পরিকে গাড়িতে বসিয়ে রেখে,একটু পড়েই সেই জুতা দুটো পরিকে এনে দেয়।এই বিষয়টা পরিকে অবাক করে দেয়। প্রচন্ড আশ্চর্য হয়ে যায় পরি তবে সদরে জুতো দুটো যত্ন করে নিজের কাছে রেখে দেয়।
আপাতত পরি গাড়িতে বসে আছে। অন্যদিকে নাবিল গাড়ি এক পাশে পার্ক করে কলে কথা বলতে বাইরে গিয়েছে। হয়তোবা সে কারো সাথে দেখা করতে এখানে এসেছে তাই পরিকে গাড়িতে বসিয়ে রেখে গেছে।
এদিকে অনেকটা সময় গাড়িতে বসে থাকার কারনে পরির কেমন দম বন্ধ হয়ে আসলো। হঠাৎ করেই হালকা বমি পেলো তার।পরি গাড়িতে বসে থাকার চেষ্টা করলো তবে পারলো না। কারণ প্রচুর বমি পাচ্ছে পরির।পরি না পেরে মুখের নেকাব না পড়েই গাড়ি থেকে বের হয়ে গেলো।
আরহাম আর নুবা গল্প করতে করতে হাঁটছিলো তবে হঠাৎ করেই নুবার নজর পড়ে এক অনাকাঙ্ক্ষিত মহিলার দিকে।যে কিনা রাস্তার এক কোনায় দাঁড়িয়ে খুবি বাজে ভাবে হাই হুতাশ করে বমি করছে।নুবা বিষয়টা খেয়াল করলো তবে আবারো চোখ সরিয়ে নিতে চাইলো তখনি নুবার চোখ স্থির হয়ে গেলো।সে অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো পরপর মুখ দিয়ে উচ্চারণ করলো
_”পরি মেম!”
নুবার মুখে হঠাৎ করেই পরির নাম শুনে আরহাম ভুরু কুঁচকে বললো
_”কিছু বললে?”
নুবা কিছু সময় তাকিয়ে থেকে নিশ্চিত হলো, হ্যাঁ এটা তো পরি’ই ।নুবা আরহামের হাত টেনে গোলগোল চোখ করে বললো
_”ওই দিকে দেখুন আরুর আব্বু।পরি মেম!”
আরহাম নুবার কথায় ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালো। অতঃপর বুঝতে পারলো আসলেই পরিই। আরহাম তাও সেরকম রিয়েক্ট করলো না, স্বাভাবিক ভাবেই বললো
_”তাতে আমাদের কি?”
নুবা হাঁটা বন্ধ করে, আরহামের হাত ঝুঁকিয়ে বললো
_”আমাদের কি মানে? উনাকে অসুস্থ মনে হচ্ছে। চলুন দেখে আসি।”
আরহাম নাচোক করে বললো
_”প্রয়জন নেই।”
তবে নুবা এই অবস্থায় পরিকে রেখে যেতে চাইলো না, বিচলিত কন্ঠে বললো
_”অন্ততপক্ষে এক বোতল পানি এগিয়ে দিলেও তার সাহায্যে হবে চলুন তো।”
বলেই নুবা আরহামকে টেনে নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে গেলো।পরপর পাশের দোকান থেকে এক খানা পানির বোতল কিনে দৌড়ে আরহামের কাছে আসলো।
পরি যখন বমি করতে করতে ক্লান্ত তখনি পাশ থেকে কেউ বোতল এগিয়ে দিয়ে মৃদু কন্ঠে বললো
_”আগে একটু পানি খেয়ে নিন।”
হঠাৎ চিনা পরিচিতো কন্ঠে পরি ভুরু কুঁচকে নিলো।পরপর ক্লান্ত চোখে পাশ ফিরে তাকাতেই নুবাকে দেখে অবাক হয়ে গেলো। এদিকে নুবার পরির থেকে বেশি অবাক হলো, কারণ সে ইতি মধ্যেই খেয়াল করেছে পরি গর্ভবতী। এটা দেখে নুবা অবাক হলো! তবে কি পরি বিয়ে করে নিয়েছে?
পরি নুবার হাত থেকে পানির বোতল নিয়ে সোজা হয়ে কেমন করে হাঁপিয়ে উঠে নিঃশ্বাস ফেলে পানি দিয়ে কুলি কলে পরপর ঢোক ঢোক করে খেয়ে নিলো।এই মূহুর্তে পানি খুবি প্রয়জন ছিলো।
পরিকে পানি খেয়ে একটু শান্ত হতে দেখে নুবা নিজের আগ্রহ দমন না করতে পেরে বলে উঠলো
_”আপনি কি বিয়ে করে নিয়েছেন মেম?”
নুবার প্রশ্নে পরি বেশ বিব্রত হলো,পরপর চোখ ফিরিয়ে আরহামের দিকে তাকালো।যে নিজেও অবাক পরির উঁচু পেট দেখে কারন সে সবটা জানলেও ভেবেছিলো পরিকে হয়তোবা নাবিল মেরে ফেলেছে তবে পরিকে গর্ভবতী দেখে আরহাম আশ্চর্য হলো।তবে কি নাবিল পরিকে ছেড়ে দিয়ে,পরি কি বিয়ে করেছে।নাকি নাবিল পরিকে নিয়ে সংসার করছে।বিষয়টা ভাবতে লাগলো আরহাম।
পরি শুকনো ঢোক গিলে আবারো নুবার দিকে তাকিয়ে বললো
_”হুম,বি,বিয়ে করে নিয়েছি।”
পরি কথাটুকু বলতে বুকটা কেঁপে উঠলো, কারণ একটা সময় এই সবকিছু থেকে বাঁচতে যার ভারসা চেয়েছিলো, সে এখন অন্য কারো স্বামী। পরির কথায় নুবা এক গাল হেসে বললো
_”congratulations মেম, বেবির জন্য আবারো congratulations।”
পরি মুচকি হাসলো।নুবা মুখটা মলিন করে সুধালো
_”আপনাকে তো অসুস্থ লাগছে ।আপনি কি একা এসেছেন এখানে? নাকি সাথে কেউ এসেছে?”
পরি শুকনো ঢোক গিলে বললো
_”আ, আমার husband এসেছে।”
_”o,তা আপনি এখানে একা কেনো মেম। আপনার তো কোনো এক জায়গায় বসা দরকার।আপনি তো ঠিক মতো দাঁড়াতেও পাড়ছেন না!”
পরি শুকনো ঢোক গিলে বললো
_”না তেমন কিছুই না, হঠাৎ করেই বমি পেয়ে গেলো,তাই আরকি।”
নুবা পরিকে দেখে প্রচন্ড খুশি হলো। কারণ একটাই পরির বিয়ে হয়ে গেছে,সে চাইলেও আর তাদের জীবনে আসতে পারবে না।এই খুশিতেই সে একটু বেশি বেশি পরির হাল চাল জিগ্গেস করতে লাগলো। অন্যদিকে আরহাম আর নুবা একটু আশ্চর্য হলো পরির গায়ে বোরকা দেখে সাথে হাতে,হাত মোজা দেখে।নুবা একটু বেশিই হলো। খোলামেলা ঘুরতে পছন্দ করা পরি হঠাৎ করেই পর্দাশীল কি করে হয়ে গেলো। হয়তোবা স্বামীর প্রভাব।
এদিকে নাবিল নিজের কাজ শেষ করে মোবাইলে কথা বলতে বলতে এগিয়ে আসছিলো গাড়ির কাছে তবে হঠাৎ করেই কিছুটা দূরে তাকাতেই নজরে পড়লো ঠিক পরির মতো কেউ দাঁড়িয়ে আছে তবে দূর থেকে তার চেহারা ততটা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে না।
নাবিল sure হতে দুই কদম এগিয়ে যেয়ে গাড়িতে উঁকি মেরে দেখলো।না পরি নেই ।তার মানে ওটাই পরি।
নাবিল মোবাইলে কিছু বাক্য উচ্চারণ করতে করতে এগিয়ে গেলো তবে কিছুটা এগিয়ে যেতেই নাবিলের ভুরু কুঁচকে আসলো, কারণ সে কারো সাথে কথা বলছে।পরপর পাশের মেয়েটাকেও তার চেনা চেনা মনে হলো।
এদিকে নাবিল কে তাদের দিকে এগিয়ে আসতে দেখে পরি আঙ্গুলের ইশারা করে বললো
_”ওই যে আমার husband.”
পরি সরল মনেই বললো, কারণ তার মতে আরহাম আর নুবা নাবিলকে চিনে না,আর জানেও না সে কেমন তাই,নিজের স্বামী বলে পরিচয় দিতে দ্বিধাবোধ করলো না সে।
আরহাম পরির আঙ্গুল অনুসরণ করে পিছনে ঘুরে নাবিলকে দেখে কিছু সময় চেয়ে রইলো। তেমন ভাবুক দেখা গেলো না তাকে কারণ আরহাম নিজের প্রশ্নের উত্তর গুলো পেয়ে গেছে।তার মানে পরি নাবিলের সাথেই সংসার করছে।
তবে নুবা নাবিলকে দেখে ভুরু কুঁচকে নিলো। কারণ এই লোকটাকে সে কোথাও একটা দেখেছে।তবে মনে করতে পারছে না। কিছু সময় ভাবার পড়েই নুবার মনে পড়ে গেলো এই লোকটা কে।
নুবা হতভম্ব হয়ে, অস্থির কন্ঠে বলে উঠলো,
_”এটা তো সেই বজ্জাত লোকটা,যে আমাকে কিডন্যাপ করেছিলো ,সাথে আপনার দিকে বন্ধুক ত্যাগ করেছিলো!”
আরহামের দিকে তাকিয়ে আশ্চর্য হয়ে কথা টুকু বললো। আরহাম চোখের পলক ফেলে নুবার দিকে তাকালো।পরি নুবার কথা শুনে ভুরু কুঁচকে নিলো। কারণ সে এই সব বিষয়ে কিছুই জানে না।
দূরে দাঁড়িয়ে থাকা নাবিলের চোখে আরহামের চেহারা দৃশ্যমান হতেই সে হতভম্ব হয়ে গেলো।সে মোবাইলটা কানের কাছ থেকে আস্তে আস্তে নামিয়ে দেখার চেষ্টা করলো।এটা কি সত্যি, কারণ তার মতে আরহাম মারা গেছে,তবে কি এখনো বেঁচে আছে আরহাম।
নীরব উন্মাদনা দ্বিতীয় খন্ড পর্ব ১৮
নাবিল যখন sure হলো এটাই আরহাম তাখনি রাগে তার শরীর জ্বলে উঠলো।বহু দিন আগের প্রতিশোধ পরায়ণ মনটা টকবক করে উঠলো।নাবিল রাগে মুখ দিয়ে বিচ্ছিরি গালি বেড় করে পকেটে গুঁজে রাগা বন্ধুকটা পকেট থেকে বেড় করে আরহামের দিকে ত্যাগ করলো। যখন সামনে দাঁড়িয়ে থাকা তিনজনি বুঝতে ব্যাস্ত যে,এখানে কি হচ্ছে বা কে কি উল্টা পাল্টা বলছে।তখনি এক খানা গুলি এসে আরহামের শরীর ভেদ করে গেলো।আরহামের কোলে থাকা আয়রা ভয়ে চম্কে উঠলো,নুবা হতভম্ব হয়ে গেলো সাথে পরি আশ্চর্য হয়ে নাবিলের দিকে তাকালো।সে বুঝতেই পারলো না কি হলো।আশে পাশের মানুষ চোখ বড় বড় করে তাদের দিকে তাকালো।
