প্রিয় মোনালিসা পর্ব ২৫
নীতি জাহিদ
রুমে এসে কাপড় বদলাতে বদলাতে ভাবছে রাজ্যের চিন্তা। কাল নারায়ণগঞ্জ যেতে হবে। সবই ঠিক ছিলো কিন্তু মাথায় এক চিন্তা ঘুর পাক খাচ্ছে। দেশের সম্পদ, জাতির সম্পদ এই জামদানী। এমন একটি পন্য, যার পরতে পরতে মিশে আছে দেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি। সুতরাং এই কাজ সবার হাতে তুলে দেয়া অনুচিত। যার জামদানী নিয়ে ভরপুর আগ্রহ সে ছাড়া জামদানীর রন্ধ্রে কি কেউ পৌঁছাতে পারবে? সম্ভবই নয়। এত এত মেয়ে আছে কোম্পানিতে কিভাবে বুঝবে দক্ষ কে? এসব ভাবতে ভাবতে ফোন কেঁপে উঠল। স্ক্রিনে নাম্বার ভেসে উঠাতে ভাবলো, এ সময় অফিস থেকে ফোন দেয়া বারণ। অপরিচিত কে কল দিলো? ফোন রিসিভ করতেই ও পাশ থেকে শোনা গেলো,
– বাহ! মোস্ট হ্যান্ডসাম সিঙ্গেল ফাদার এখন নাকি ম্যারিড?
স্পষ্ট অনুভুত হচ্ছে অক্সিটোসিন, ভ্যাসোপ্রেসিন এবং কর্টিকট্রপিন দ্রুত রিলিজ হচ্ছে। যার ফলে রাগের প্রবণতা বাড়ছে। নিজেকে সংযত রেখে বললো,
– কেনো কোনো সমস্যা?
– অভিনন্দন। না এত তাড়াতাড়ি একাকিত্ব ফিল হলো, ভালোবাসার দাবি করা মানুষটা বুঝি আর নিজেকে দমিয়ে রাখতে পারলোনা?
ইমরান হাসলো,
– তোমার মুখে এসব মানায় না মিসেস জারিফ। এখন বিয়ে করেছি, দুদিন পর পুনরায় বাবা হবো প্রতিবার কি ফোন দিয়ে শুভেচ্ছা জানাবে নাকি?
– বাহ এই বয়সে বাবা হওয়ার এত স্বাদ?
– তুমি যদি এই বয়সে একেক জায়গায় সুইচ করতে পারো তবে আমি হালাল ভাবে কাউকে নিজের সঙ্গী করে নিলে খারাপ কি?
– ইমরান তুমি কিন্তু আমাকে অপমান করছো?
– আফসোস হচ্ছে? মি. বোস সেদিন ফোনে জানালেন তুমি নাকি ফিরতে চেয়েছিলে ইমরানের কাছে? আর অপমান কি সত্যিই এখনো করেছি? আমার বাচ্চা ছেলেটা পর্যন্ত এসে বলে, পাপা আমার লজ্জা করে মানুষ যখন মিসেস কাকনের ভিডিও নিয়ে কথা বলে…
ওপাশ থেকে নিরব কাকন। ইমরান সময় নিচ্ছে। দম টেনে চোখ বুজে ভাবলো কথা বাড়িয়ে লাভ নেই? স্পষ্ট চোখের সামনে ভেসে উঠেছে ছুড়ে মারা ডিভোর্স পেপার। রাস্তায় সুপার শপের সামনে ছেলে কোলে দাঁড়িয়ে থাকা অসহায় ইমরান। যার এক হাতে ছেলের জন্য কেনা একটা ফরমুলা বেবি মিল্ক । দাম গুনতে হতো প্রতিমাসে, সতেরো বছর আগে ঠিক সাড়ে সাতশো টাকা। টিউশন করে ছেলের জন্য টাকা জমিয়ে খাবার কিনতো। যতসব তিক্ত স্মৃতি ভেসে উঠছে। হাত জোর করে জারিফকে বলেছিলো কাকনকে ছেড়ে যেতে। বুক ভরা কষ্ট নিয়ে সেদিন প্রতিজ্ঞা করেছিলো জীবনে লড়ে যাবে যতক্ষণ না সফলতা আসে। কাকনের গলার আওয়াজে স্মৃতি বিচ্ছেদ হলো,
– ইমরান ফিরে আসতে চাই তোমার কাছে। তোমার মত সম্মান কেউ করে না।
– দুঃখিত, কাউকে কথা দিয়েছি তার মেয়েকে সযতনে বুকে আগলে রাখবো আমৃত্যু।
– আমাকে ভুলে?
– মনে রাখিনি।
– আর আমাদের ভালোবাসার চিহ্ন ইশান।
ইমরান সামান্য হেসে বললো,
– যাকে তুমি ভালোবাসার চিহ্ন দাবি করছো সে অনেক আগেই ভালোবেসে আরেকজনকে তার জান্নাতের আসনে বসিয়েছে। নিজেই দেখে নিও। সহ্য হবেনা। রাখছি।
ইমরান ফোন কেটে চুপ করে খাটে বসে আছে। কেনো ফোন দেয় কাঁকন। নিজের করা ভুল গুলোর জন্য নিজের চুল নিজেরই ছিড়তে ইচ্ছে করে মাঝে মাঝে। ঠিক সেই সময়টাতে মোনা রুমে ঢুকেছে। গাল ফুলিয়েই ঢুকেছে। কথা বলছেনা। আলমারি খুলে কি যেন রাখছে। ইমরানকে অন্যমনস্ক দেখে তাকালো। আনত মাথায় ইমরান বলে উঠলো,
– মোনালিসা কাঁকন ফোন দিয়েছিলো?
মোনা থমকে গিয়ে চুপচাপ দাঁড়ায়। কারো মুখে শব্দ নেই। বাক্যরা গতি হারিয়েছে। ইমরান মুখ তুলে মোনার দিকে তাকাতেই দেখলো মোনা বারান্দার দিকে তাকিয়ে আছে। তবে কি মোনার কোনো ভাবমূর্তি নেই! আচানক ঘাড় ঘুরিয়ে ইমরানের দিকে তাকিয়ে বললো,
– আপনার সন্তানের মা ফোন দিতেই পারে।
– হ্যাঁ তাই তো। কি মনে করে তোমাকে জানালাম জানিনা। মনে হলো দরকার।
– খেতে চলুন। সবাই অপেক্ষা করছে।
– যাও আসছি।
মোনা চুপচাপ বেরিয়ে গেলো। ভাবতে থাকলো কিভাবে আগাবে জীবনে। এক জায়গায় আটকে আছে সকল সুতো। এদিকে ইমরান ভাবছে, মোনার সাথে সহজ হওয়াটা বোধ হয় এই জন্মেও হবেনা। মেয়েটার সাথে কিছু জিনিস শেয়ার করবে ভেবেও তার অনীহার জন্য হলোনা। হয়তো ইমরানের ব্যাপারে আগ্রহ হারিয়েছে।
আইরিন আজ প্রচন্ড রেগে আছে। খাবার টেবিলের প্রতিটি জিনিস ধুমধাম করে রাখছে। নিচে সবাই খেতে বসেই লক্ষ্য করছে আইরিনের মেজাজ। নয়ন এবং ইশান মিটমিটিয়ে হাসছে। ইমরান কথা না বলে বোনের কার্যকলাপ দেখছে। সবাইকে রাগ করে খাবার বেড়ে দিয়ে নিজে বসে জোরেই বললো,
– ইমন, এটা এখন মোনা আর তুশির বাড়ি। তুই আর ইশতিয়াক ভাড়াটিয়া এই বাড়িতে। ইশান,ইতু হেড অফ দ্য ডিপার্টমেন্ট থাকুক। আর আমি হলাম এই বাড়ির ম্যানেজার। আব্বা,আম্মা তোগো দুই ভাড়াইট্টা রে দেইখা রাখার দায়িত্ব আমারে দিয়া গেছে। এই বাড়িতে যদি কোনো নাপাক, ময়লা আবর্জনা ঢুকতে আইয়ে আমি ঝাটা দিয়া বাইড়াইয়া ফরয কামটা করমু কাইলকা দেইখা নিবি।
বোনের কথার ভাষাগত উচ্চারণ পালটে যাচ্ছে, ইমরান বিচলিত হয়ে বললো,
– কি হয়েছে?
– কেন তুই জানোস না? এতক্ষন উপরে রসায় রসায় প্রেম আলাপ করছিলি যে মনে ছিলোনা। ওই বেয়াদপ আমারে কেন ফোন দিয়া কয় আমি কালকে নতুন বউয়ের মুখ দেখতে আসবো?
এতক্ষনে ইমরানের মাথায় এসেছে ঘটনা কি ঘটেছে তা। কাঁকন ঠিক কতটা বেহায়া আর নির্লজ্জ হলে আপাকে ফোন দিয়ে এসব বলে সেটা ভাবতেই নিজের ঘেন্না লাগছে। বরাবরই আপাকে ফোন দিয়ে হাবিজাবি সব বলে জালায়। আজো সেই কাজ করলো। ফোস করে দম ফেলে বললো,
– আপা প্রেম করার বয়স আমার নেই। আমাকে ফোন দিয়েছে ইশানের খবর নেয়ার জন্য। স্বভাবতই আমি কথা বাড়াইনি। হয়তো আমার সাথে কথা না আগাতে পেরে তোমাকে ফোন দিয়ে এসব বলেছে। এসবের ব্যাপারে কিছুই জানিনা।
– আসুক কালকে ঝেটিয়ে তাড়াবো। এ্যাই, রাবিয়া মতিয়া… নতুন শলার ঝাড়ু দুইটা টাইট করে বাঁধ। আর জালি বেতটারে সারা রাত তেলের ভিত্রে চুবা।
ইমরান হেসে বলে,
– আপা মুখে যাই বলো তোমার শরীরে যে ভদ্র বংশের রক্ত আছে তা ভুলো না।
নয়ন মুখ ভেঙচি দিয়ে বলে,
– তোর এখনো এত টান!
– টানের কি দেখলি? সম্মান করি।
– আপা ঝেটাবে বলায় আপাকে বংশ দেখিয়ে থামাচ্ছিস।
– কাউকে কিছুই করতে হবে না। ও আসলে আমাকে জানিয়ো। আমি আসবো। ইশান খাও।
ছেলের সামনে কিছুতেই অপ সংস্কৃতির চর্চা চায়না ইমরান। আজকের রান্নার প্রতিটি আইটেম ছিলো ভিন্ন। ইমরান অল্প সাদা ভাত নিয়ে চিংড়ি মাছের মরিচ খোলা নিলো। অল্প একটু মুখে দিতেই অন্য রকম স্বাদের আভাস পেলো। কাচা মরিচের ভর্তা, বালাচাও ভর্তা, শীতের সবজির একটা তরকারি, বেগুনের চাটনি, চিংড়ি দিয়ে কচুমুখী, সর্ষে সব মিলিয়ে বাঙালী ঘরানার নানান পদ। সবাই খেয়ে মাশা আল্লাহ বলছে। ইমরান সব খাবার আজ চেখে দেখলো। খাবার শেষে বললো,
– আজ খাবার কে রেঁধেছে?
আইরিন বলে উঠলো,
– মোনা।
ইমরান একটি শব্দ ও করে নি। খাওয়া শেষে হাত ধুয়ে নয়নকে উপরে আসতে বললো। মোনা চুপচাপ খাচ্ছে। ইশতিয়াক বলে উঠলো,
– ভাবী রান্না সত্যি খুব মজা হয়েছে। আমি, আপা আর তুশির রান্না ছাড়া সচরাচর কারো রান্নার কখনোই প্রশংসা করিনা। তবে আপনার রান্না আম্মার রান্নার মতো। বিশেষ করে সর্ষে ইলিশটা। ভাইয়ারও মনে হয় পছন্দ হয়েছে। এত চুপচাপ কখনো সব খাবার টেস্ট করেনা।
আইরিন ও সহমত জানিয়ে বললো,
– ইমরান কিন্তু খাবার বেছে খায় মোনা। আমি তোকে ইচ্ছে করে বিকেলে বলিনি। তুই রান্নার আগ্রহ দেখালি তাই। সর্ষে ইলিশ আমাদের সবার পছন্দের তাই ভাবলাম এটা যখন আছে একটা দিয়ে হলেও খেয়ে উঠবে। তবে খাবার নিয়ে কখনো দুটো কথা বলে না। যা দিবি খেতে পারলে খাবে, না খেলে চুপচাপ উঠে যাবে দু মুঠ নিয়ে। আজকে সব খাবার একটু একটু খেয়েছে। আমার খুব ভালো লেগেছে রে ও সব খেয়েছে আজ।
মোনা খানিকটা অনিচ্ছায় হাসলো। ভেতরে চাপা কষ্ট। প্রকাশ করতে না পারার যন্ত্রণা এ যেন কঠিন অগ্নি পরীক্ষা।
নিজেদের মাঝে বিষদ আলোচনায় দুজনই বার বার এসে থমকে যাচ্ছে পরবর্তী ধাপে কিভাবে আগাবে ভেবে! এক পর্যায়ে ইমরান বলে উঠলো,
– একটা উপায় আছে কিন্তু কতটুকু উচিত হবে জানিনা বা ঠিক হবে বুঝতে পারছিনা।
– কি?
– আমরা যদি মোনালিসাকে ইনভলভ করি?
– কিভাবে?
– ওকে আগে তুই আর আমি তাঁত পল্লীতে নিয়ে যাব। ও কতটুকু বুঝে শাড়ি সম্পর্কে আমরা যাচাই করবো। আমার মন বলছে ও জামদানীর আদ্যপ্রান্ত অনেক কিছুই জানে। যদি আমাদের দুয়ে দুয়ে মিলে যায় তবে নাহয় ওকে টিমে রেখে দিব। আমাদের টার্গেট হলো জামদানী নিয়ে নতুন ভাবে কাজ করা। মোনালিসা তো আজ হোক কাল হোক এমনিতেই কোম্পানির চেয়ারম্যান পদে বসবে…
নয়ন ইমরানকে থামিয়ে বললো,
– ওয়েট ক্লিয়ার কর চেয়ারম্যান পদে বসবে মানে?
– ইশান এবং মোনালিসাকে দায়িত্ব বুঝিয়ে আমি কিছু বছরের মাঝে অবসরে চলে যাব। ম্যাগনেফিকা মোনালিসা, মোনালিসা, টিউলিপের গার্মেন্টস মোনালিসাকে দিব। শাহাদাৎ প্রোপার্টিস এন্ড ইলেকট্রনিকস পুরোটা ইশানের৷
– কখন নিলি এই সিদ্ধান্ত?
– গতকাল রাতে।
– মোনা কি রাজি হবে? তোর উপর অনেক রাগ।
– রাগ হওয়াই তো স্বাভাবিক।
– সত্যিটা কেনো বলছিস না?
– এতদিন যখন বলিনি আর কখনোই বলবোনা।
– আমার উপর রাগ করেছিস?
– না বাদ দে ওসব কথা।
ইমরান উঠে দাঁড়ায়। নয়ন স্পষ্ট বুঝতে পারছে রাগটা নয়নের উপর। রুমে পায়চারি করে পুনরায় বসে বলে,
– আচ্চা নয়ন আমার কি দোষ! আমার কি করা উচিত ছিলো বল তো? ওর অনুভুতিতে সাড়া দেয়া? তবে সবাই পারভার্ট বলতো। ওকে প্রশ্রয় দিলে বলতো আমার ও সুবিধা, সিঙ্গেল ফাদার কচি মেয়ে পটাচ্ছি। তুই রাগ করে সেদিন বলিস নি আমি যেন দূরে থাকি। আমি নিজেকে আটকেছি, এখন কেনো আমাকে এসব বলছিস।
– আমি তো মাফ চেয়েছি এটার জন্য। এখন কি এভাবেই সংসার করবি?
বেশ কিছুক্ষন চুপ। নয়ন উত্তরের অপেক্ষায়। মাথা ঝুঁকে বার বার আড়াল করছে কিছু একটা। নয়ন হাতের ফোনটা ইমরানের দিকে তাক করে হাতে ধরে রেখেছে। ইমরান মাথা তুলে জবাব দিলো,
– এই প্রশ্ন বিয়ে হবার পর থেকে এক টানা নিজেকে করেছি। বার বার মস্তিষ্ক একই উত্তর দিচ্ছে ফিরিয়ে। শেষে ভাবলাম জীবনটাই তো ভুলে ভরা। ও নাহয় ভুল বুঝেই থাকুক। আমি ভুল ভাঙাবোনা। এভাবেই সংসার হবে।
– এটা কি সম্ভব?
– নয়ন এসব যখন ভাবি বুকের ব্যাথাটা বেড়ে যায়। দেশে আসবো সম্পূর্ণ প্ল্যান করলাম। বাধাটা তুই দিলি। জানালি যেন দেশে না আসি, এলে মোনার অবস্থা আরো খারাপ হবে। মোনালিসার এক্সিডেন্ট হয়েছে। প্রমান স্বরূপ ওর রক্তাক্ত দেহ,হাত, মুখ, হাসপাতালের বিছানায় আমার ভালোবাসার মানুষটার ছবি। তোর কি মনে হয়েছিলো সেদিন বলতো? আমি স্বাভাবিক ছিলাম সেই মুহুর্তে! তিনদিন পর আমার অমন অবস্থা শুনেও তোর মাঝে অপরাধ বোধ কাজ করেনি? তুই তো চেয়েছিস ম*রে যাই। তাই তো আমাকে ওর এমন ছবি দিলি।
নয়ন আফসোস নিয়ে বললো,
– এভাবে বলতে পারলি তুই?
ফোনের ও পাশ থেকে স্বর ভেসে এলো। অপ্রত্যাশিত ছিলো তা। কখন নয়ন ভিডিও কলে মিনহাজকে রেখেছে অজানা ছিলো ইমরানের। ঘাবড়ে গেলো ইমরান। মিনহাজ বলে উঠলো,
– ইমরান তুই সেদিন এজন্য স্ট্রোক করেছিলি?
– মিনহাজ ভাই তুমি?
– কথার উত্তর দে, মিথ্যা জানতাম আমি?
– আমি জানিনা নয়ন জানে। শা*লা সবসময় ভুল জায়গায় ভুল কাজ করে। তোমাকে লাইনে রেখেছে কেনো এখন?
– বেশ করেছে নতুবা এত বড় সত্য আমি না জেনেই ম/রে যেতাম। আমার মেয়েকে তুই এত ভালোবাসিস।আবার কাছে টেনে নে বেটা। আদর যত্ন পেলে সব ভুলে যাবে আমার শাহজাদী। আরেকটা কথা মোনাকে কাজে লাগা। ও শাড়ি খুব ভালো চেনে।
ইমরান লজ্জা পেলো। নয়ন মুহুর্তটাকে আনন্দময় করতে বলে উঠল,
– ভাই ইমরান তোমাকে কি এখনো ভাই ডাকে?
মিনহাজ হেসে বলে উঠলো,
– কেনো তুই শুনিস নি?
– ছ্যাহ। ছ্যাহ। শ্বশুর, বাবার সমান তাকে তুই ভাই ডাকিস। আমাকে আজ থেকে মামা ডাকবি। ভাইকে আব্বা ডাক।
ইমরানের ঠোঁটের কোণে লাজুক হাসি। হাসি আড়াল করে ঠোঁট টিপে বলে,
– ডাকবো যেদিন আব্বার মেয়ে আমাকে স্বামী হিসেবে কবুল করে নেয় সেদিন।
– ততদিনে আমি ইন্না লিল্লাহ।
দুজনই সমস্বরে চিৎকার দিয়ে উঠলো,
– প্লিজজজজ…
নয়ন আবেগী কণ্ঠে বললো,
– এসব বলোনা। নিতে পারছিনা। সারাক্ষন একটা চিন্তার মধ্যে থাকি দুজন। ইমরান অফিসে গিয়ে কাজে ভুল করছে। ওর আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়াতে আমি ঘাবড়ে যাচ্ছি। আমাদের সাহস তুমি ভাই। তুমি যদি এসব বলো আমাদের কি হবে? একটু তো রহম করো। আমাদের সব থাকার সত্ত্বে ও তুমি নেই পাশে। একজন অভিভাবক নেই। অফিস তোমাকে ছাড়া শূন্য। আমি তাও দু একটা কথা মজা করি ইমরান জিন্দা লাশের মত পড়ে থাকে নিজের কেবিনে। এখনো কেমন দম ধরে বসে আছে দেখো।
মিনহাজ মুখে হাসি রেখে বলে,
– আসলে কি বাঁচবো রে…
এতক্ষন থম মেরে চুপ করে থাকা মানুষটা এবার বলে উঠলো,
– ফিরে এসো নয়তো আমি অনেক কিছু হা রাবো। একটা মিনহাজ ভাই হা রাবো, শ্বশুর হা রাবো, আমার মোনালিসার সুখ হারাবো সবচেয়ে বড় কথা তোমার মেয়ের মুখের হাসি হা রাবো। আমি প্রতি নিয়তে দোয়া করি তোমার জন্য।
– আল্লাহ মহান। আমার মেডিসিনের সময় হয়েছে। রাখছি।
– আল্লাহ হাফেজ।
সংযোগ বিচ্ছিন্ন হতেই ইমরান বললো,
– নয়ন এদিকের কাজ গুছিয়ে আমি থাইল্যান্ড যাবো। আমার ভালো লাগছেনা। একবার ঘুরে আসবো। স্বচক্ষে দেখে আসবো চিকিৎসার অবস্থা।
প্রিয় মোনালিসা পর্ব ২৪
– তাই করিস। তুই একবার ঘুরে এলে এরপর আমি যাবো।
-হুম।
দুঃখটুকু আড়াল করে এগিয়ে চলার আরেক নাম জীবন। প্রতিনিয়ত ভালো থাকার দূর্দান্ত অভিনয়টুকু চালিয়ে যেতে যেতে ক্লান্ত পথের পথিক দুজনই। শেষ কোথায়…
