Home প্রিয় মোনালিসা প্রিয় মোনালিসা পর্ব ২৭

প্রিয় মোনালিসা পর্ব ২৭

প্রিয় মোনালিসা পর্ব ২৭
নীতি জাহিদ

হাতির ঝিলের এই পাশটা বেশ শান্ত। দু একটা মানুষের আনাগোনা আছেই। গাড়িটা একপাশে দাঁড় করিয়ে জীবনের সমীকরণ মেলাতে ব্যস্ত। সম্পর্কে গুণ এসেছে, বিয়োগ হয়েছে, ভাগ হয়েছে অবশেষে যোগ এসেছে। কিন্তু সব কিছুর ফলাফল লেস দেন অথবা মোর দেন, ইকুয়েল হচ্ছেনা। কাঁকন কখনোই ইমরানকে ভালোবাসেনি বেসেছে ইমরানের ফ্যানডমকে। কাঁকনের সাথে প্রথম পরিচয় স্কুল প্রাঙ্গন। দেখতে শুনতে স্কুলের সেরা সুন্দরী হলেও ইমরান মোটেও হ্যান্ডসামের তালিকায় ছিলোনা। তবে খ্যাতি ছিলো তার। নামকরা স্কুলে পড়াশোনা করে সব কটা ভাইবোন। বাবা শহরের নামজাদা শিল্পপতি। এত কিছুর মাঝেও ভদ্র, শান্ত ছিলো। বোন এসে টিফিন দিয়ে যেত দুই ভাইকে। ইমরান যখন নবম শ্রেণীতে তখন থেকেই কাঁকনের আলাদা আকর্ষণ জন্মায়।

কাকন জুনিয়র ছিলো তিন বছরের। ছেলেদের শাখা এবং মেয়েদের শাখা ষষ্ঠ শ্রেণীতে আলাদা হয়ে যায়। স্কুলের পরিচিত মুখ ছিলো ইমরান, কালচারাল প্রোগ্রামে খুব সুন্দর গান ও কবিতা আবৃত্তি করতে জানতো। অন্যদিকে কাঁকন ও বেশ পরিচিত। নাচের প্রতিযোগিতায় তাকে হারানো কার সাধ্যি! প্রথম পরিচয় হয় ইমরানের বিদায় অনুষ্ঠানের অনুষ্ঠানে। সেদিন ইমরান স্টেজে গান গেয়েছিলো সেই গানে কাঁকনকে নাচতে অনুরোধ করা হয়েছিলো। ইমরান স্কুল থেকে বের হয়ে গেলেও নিজেদের মাঝে যোগাযোগ বন্ধ হয়নি। ধীরে ধীরে পরিচয় থেকে প্রণয়। এই পরিচয় প্রণয়ে রূপ নেয় ইমরান যখন কলেজের গন্ডি পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে। কাঁকনের দ্বিপাক্ষিক প্রেম যেদিন ইমরানের কাছে ধরা পড়ে বোকা ইমরান বুঝতে পারেনি এই মেয়ে দুই নৌকায় পা দিয়ে চলছিলো। ইমরান বুয়েটে এডমিশন নেয়ার পর প্রাক্তনকে ছেড়ে ইমরানের কাছে ছুটে আসে। বহু ঝক্কিঝামেলা পোহানোর পর অল্প বয়সে পালিয়ে বিয়ে করে ইমরান-কাঁকন। শাহাদাৎ সাহেব যখন ছেলেকে বাড়ি থেকে বের করে দিলেন, তখন ইমরান চোখের সামনে বাস্তবতা দেখতে পায়। বিয়ের প্রথম কয়েক মাস ইমরানের জমানো টাকা থেকে বেশ চলেছে সংসার। ছোট্ট একটা দু রুমের বাসা ভাড়া নিয়েছিলো। টিউশনি করিয়ে মাসে অনেক টাকাই নিজের ভাগ্যের লিখনে লিখিয়েছে। কাঁকন তখন ইউনিভার্সিটিতে। ইমরান তৃতীয় বর্ষে। বিভিন্ন নাটকে অভিনয় করে। ইমরান বাঁধা দেয় নি। এর মাঝে অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে ইশান এসে পড়ে। যা কাকনের ক্যারিয়ারে হুমকি স্বরূপ। ইমরানের জন্য ছিলো আশীর্বাদ। টুকটাক করে ছেলের জন্য জমানো হলো বেশ কিছু টাকা। চরম বাস্তবতার মুখোমুখি হলো এরপর।

বাইক এক্সিডেন্ট করে যখন ঘরে বসে গেলো সেবার প্রথম মুখোমুখি হলো জীবনের নির্মমতার। বুয়েটে যাওয়া বন্ধ। পায়ের ট্রিটমেন্টের জন্য জমানো সব টাকা শেষ। শখের গিটার বিক্রি করে দিয়েছে। কাকনকে বন্ধুরা বলেছিলো গলার চেইন বিক্রি করে ইমরানের পায়ের অপারেশন টা করাতে। কাকন রাজি হয়েছিলো তবে চেইন টা চুরি হয়ে গিয়েছে। তখন ইশান কাকনের পেটে। কাকন এক পর্যায়ে ইমরানকে জানায় সে অ্যাবর্শন করাতে চায়। ইমরান রাজি হয়নি। ভাঙ্গা পা নিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে পড়াতে বের হত। কাকনের ক্যারিয়ার তখন আকাশ ছুঁয়েছে। কাকনের পরবর্তী ছবির ডেট পরের বছর তার ডেলিভারির পর শ্যুটিং হবে দেশের বাইরে। সে কিছুতেই এই বাচ্চা নিয়ে মুভ করতে পারবেনা। এক পর্যায়ে কাকন ইমরানকে দুটো অপশন দেয়, ইশান থাকবে। একবছর পর ইশানের সকল দায়িত্ব ইমরান নিবে এবং কাকন ডিভোর্স চায়। অন্যদিকে ইশান থাকবেনা। ওদের সম্পর্ক থাকবে। ওর ক্যারিয়ার সেট হলে নতুন বাচ্চা হবে। এই বাচ্চা ওর ক্যারিয়ারের জন্য বিরাট বাঁধা। অন্যদের মতো হোম মেকার হয়ে ঘরে বসে বাচ্চা পালতে পারবেনা সে। এছাড়া ইমরানের এত ভালোবাসা দেখানো ওর অসহ্য লাগে। শুটিং সেটে গিয়ে দিয়ে আসা, নিয়ে আসা। কয়েকটা শার্ট প্রতিদিন পরা, কোনো লাক্সারি নেই। বিয়ের আগে তো সব ছিলো। বাবাকে কেনো মানাতে পারলোনা। পালিয়ে বিয়ে না করলেই হতো।

হঠাৎ গাড়ির হর্ণের আওয়াজে ধ্যান ভেঙে বাস্তবতায় ফিরে আসে। ঝিলের পানি চিকচিক করছে লাল নীল বাতির আলোতে। তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে সেদিনের না দিতে পারা প্রশ্নের উত্তর গুলো আকাশের দিকে তাকিয়ে দিলো,
– সেদিন তোমাকে বিয়ে না করলে যে ইশানকে পেতাম না কাঁকন, পালিয়ে না গেলে যে সারাজীবন তোমার ভ্রমে কাটাতাম এই ভেবে যে কাঁকন নামে কাউকে ভালোবেসেছি অথচ নিজের করে পাই নি। বাবা বের করে না দিলে যে তোমার আসল রূপ দেখতে পারতাম না। সন্তান নষ্ট করার বুদ্ধি যে তোমাকে জারিফ দিয়েছে সেই খবর আমি রাখি। মানুষের কথায় ইনফ্লুয়েন্স হয়ে এত নিচে নামতে পারো তা জানা হত না। ভাগ্যিস সেদিন রাগের মাথায় সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছিলাম ইশানকে বেছে নিয়ে। তোমার লাক্সারির পেছনে টাকা খরচ করতে করতে ভুলেই গিয়েছিলাম নিজের জন্য কিছু শার্ট, প্যান্ট কেনা দরকার। আড়ালে তুমি নয়নকে বলেছিলে, আপনার বন্ধুর মাঝে এমন কোনো চার্ম নেই যে আমি আটকে থাকবো। অথচ সেই তুমি সতেরো বছর পর আমার বুকে আসতে তড়পাচ্ছো। আমি কারো কষ্টে খুশি হই না তবে আজ বেশ শান্তি পাচ্ছি। আমাকে ছেড়ে যাদের বেছে নিয়েছো সকলেই তোমাকে সাত ঘাটের জল খাইয়েছে। আফসোস তোমার জন্য।
পকেটের মুঠোফোনটা বেজে উঠলো। পুনরায় সেই অপছন্দের নাম। তবে আজ বিরক্ত হচ্ছেনা রিসিভ করতে। অনায়াসে ফোন তুলে বললো,

– বলো?
– তুমি তো তোমার স্ত্রী নিয়ে ভালো থাকবে, আমার ছেলেটাকে আমাকে দাও।
ইমরান ঠান্ডা মাথায় বললো,
– সম্মান শব্দটা ততক্ষন তোমার সাথে যাবে যতক্ষন শব্দের মর্যাদা দেবে। ইমরানের ভালো রূপ দেখেছো। ভুলে যেও না তোমাকে কথার আঘাতে হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছিলাম। আবার হতে চাও নাকি? কেউ না জানুক তুমি জানো সেদিন রাতে সুইসাইড করতে গিয়েছিলে আমি উপেক্ষা করেছিলাম বলে। একদিন যাকে ছেড়ে গিয়েছিলে আজ তার জন্য তড়পাচ্ছো, ভাবা যায়? কি দিন আসলো তাই না। চাইলে এবার ম*রো বা বাঁচো। আই ডোন্ট কেয়ার। ইশান কিন্তু জানেনা তার বায়োলজিক্যাল সো কল্ড মাদার তাকে দু মাসের সময় হত্যা করতে চেয়েছিলো। বলবো সেই কথা?

– না খবরদার বলবে না।
– তবে আমার পথের কাঁটা হবেনা। বাসার মানুষ জনের একটাই প্রশ্ন, আমি কেনো তোমার সাথে রূঢ় হইনা। আমি তখন হাসি, যাকে তড়পিয়ে তড়পিয়ে আঘাত করা যায় তাকে মে রে বা রুঢ় হয়ে কি মজা পাওয়া যায়! স্ত্রী সন্তান নিয়ে আমাকে ভালো থাকতে দাও। এনিওয়ে একটা চরম সত্য জানিয়ে দিই, আমি বিয়ে না করলেও তোমাকে আরেকবার মেনে নিতাম না। উপর ওয়ালা আছেন সে কথা কি ভুলে গিয়েছো, বিচ্ছেদের সংসার জোড়া লাগে কি করে? এছাড়া, তোমার মাঝে এখন আর সেই চার্মই নেই। আয়নায় দাঁড়িয়ে নিজেকে দেখবে। দেখতে তুমি অনেক পুরুষের কামনার হলে ও ইমরানের কাছে নিছক খ্যাতির দায় নিজেকে বিকিয়ে দেয়া নারী।
– আর নিতে পারছিনা, এভাবে কেনো আঘাত করছো ইমরান? বার বার আমাকে সেই প*তি*তাই বানিয়ে ছাড়লে?
– নয় কি? কথা বলতে ইচ্ছে করছেনা। আমি কাউকে ব্লক করিনা। তোমাকেও করলাম না। পরিবর্তীতে ফোন দিবেনা সেই আশাই রাখি। যদি বেশি ইচ্ছে করে ফোন দিতে তবে অন্য পথ বেছে নিও। তোমার কাছে মৃত্যু তো ছেলে খেলা। তবুও ফোন দিবেনা। তুমি ইমরান শরীফ খানের যোগ্য নও মিসেস জারিফ।আমার সাথে মোনালিসাকেই মানায়। ড্যাশিং হ্যান্ডসাম স্মার্ট ইমরান শরীফ খান।

– হয়তো সব আমার ভুল…
– ডেফিনিটলি তোমার ভুল। এখানে হয়তো, মে বি এসব আসবে না। তুমি নিজের মত আজ আমাকে সবার সামনে ছোট করলে। তবে আজ অনেক কথা বলেছি। আজকের পর আর কখনো আমার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করবেনা। ইশান তোমার সাথে কথা বলতে চায়না আমাকে জানিয়েছে। আল্লাহ হাফেজ।
কান থেকে ফোন নামিয়ে দেখছে বার বার একই নাম্বার থেকে কল আসছে। কাঁকনের কল কেটে রিসিভ করলো। ও পাশ থেকে মিহি স্বর ভেসে এলো,
– ভদ্র মানুষ কাজ ছাড়া এত রাতে বাইরে থাকে বলে জানতাম না। টেবিলে বসে আছি আমরা মা ছেলে। কেউ এসে যদি খায় তবে আমাদের খাওয়া হবে।
– আসছি পনেরো মিনিট।
ফোন রেখেই বাচ্চাদের মত ছুটে মুখে হাসি নিয়ে ব্রিজ থেকে নেমে এলো। আচমকা মন ফুরফুরে হয়ে গেলো। মেয়েটা ফোন দিলো বলেই কি! ইশান মেসেজে বললো,

”মায়ের মন ভালো করেছি পাপা, তাড়াতাড়ি এসো। টেবিলে বসে আছি আমরা দুজন।”
গাড়ির মিউজিক প্লেয়ারে চাপ দিয়ে একটা গান ছাড়লো। একটা ফোন কল কিভাবে এতটা প্রশান্তি জাগাতে পারে।
‘ নারী ধ্বংস করে, নারী গড়ে তোলে। সৃষ্টি-বিনাশের এক অসীম অধিকার নিয়ে জন্মায় এই নারী।’
কেউ গড়তে শেখায় তো কেউ ভাঙতে। এই জীবনের সূত্রটা বোধ হয় এবার মিলিয়ে ফেলতে পারবে ইমরান। শান্ত পরিবেশ ধরে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের উপর দিয়ে চলে যাচ্ছে ইমরানে কালো চিতা। স্নিগ্ধ সুর ভেসে আসছে গাড়ির ভেতর থেকে। গত কয়েক বছর যাবৎ প্রিয় গান গুলো একাকিত্বের সঙ্গী হিসেবে আছে,
– হাছন রাজায় কয়, “আমি কিছু নয় রে, আমি কিছু নয়”
অন্তরে-বাহিরে দেখি কেবল দয়াময়”

রাতের খাবার শেষ করে ইমরান ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে সিগারেটের ধোঁয়া ছাড়ছে। গায়ে জ্বর জ্বর ভাব। পেছনে কখন এসে মোনা দাঁড়িয়েছে সেই খেয়াল নেই। গলা ঝেড়ে মোনা নিজের জানান দিতেই হাতের সিগারেট এস্ট্রেতে ফেলে দিলো। মোনার দিকে তাকিয়ে বললো,
– স্যরি।
– এই বাজে অভ্যাসটা কি বাদ দেয়া যায় না।
– যায়, সময়ের ব্যাপার।
শীতের হিমেল বাতাস বইছে। মোনার গায়ে কাশ্মিরী একটা চাদর জড়ানো। মোনা নিরবতা ভেঙে বললো,
– বাবার সাথে আর কথা হয়েছে?
– না।
ভেবেছিলো মানুষটার সাথে কথা বলে নিজেদের মাঝে কিছুটা সহজবোধ্যতা ফিরিয়ে আনবে। কিন্তু যেভাবে হ্যাঁ, না তে জবাব দিচ্ছে কথা আর আগাবেনা ভেবে রুমের দিকে মুখ ঘোরালো। আগামীকাল থেকে ইউনিভার্সিটি যেতে হবে এক্সামের ডেট পড়েছে। এসাইনমেন্ট জমা দিতে হবে। গত পনেরো দিন এসবের চক্করে নিজেকে বাইরের দুনিয়াতে থেকে সম্পূর্ণ পৃথক করে রেখেছিলো। পেছন থেকে ইমরান ডাকলো,

– দাঁড়াও
– বলুন।
– কথা আছে।
মোনা ব্যালকনির রেলিং ধরে বাইরের দিকে তাকিয়ে বললো,
– শুনছি বলুন।
মিনিট দুয়েক নিরব থেকে বললো,
– আমি স্ত্রী হিসেবে তোমাকে মেনে নিতে পারছিনা, এমন চিন্তা মাথায় এলো কি করে?
মোনা একদম বিচলিত বোধ করেনি। কাট কাট চটপটে জবাব দিলো,

– না ভাবার তো কারণ নেই। বাবার কথায় বাধ্য হয়ে বিয়েটা করেছেন। বিরক্ত হয়ে দেশ ছেড়েছেন। বিয়ের পর থেকে স্বাভাবিকভাবে দুটো কথা বলেছেন? এখনো প্রাক্তন স্ত্রীর সাথে যোগাযোগ রেখেছেন। কারণ তো অনেক কটা বলবো? অন্যদিকে আমার ফুফি আপনার জন্য উন্মাদ। অথচ আমি এমনই একজনের নাম মাত্র স্ত্রী। বলুন তো ক বার বেহায়ার মতো নিজের মনের অনুভূতি প্রকাশ করেছিলাম? যখন জানলাম আপনার স্ত্রী সন্তান আছে, দূরেও সরে গেলাম। আমাকে স্বাভাবিক হওয়ার সময় টুকু দিতেন। আপনি যখন জানালেন ছেলে আছে ভেবেছিলাম, দুষ্টুমি করছেন। সালমা চাচী বলেছিলো, আপনার স্ত্রী নেই। স্ত্রী না থাকলে ছেলে আসলো কোথা থেকে এই কথা ভাবা টা কি যৌক্তিক ছিলোনা? আমি কি করে জানবো আপনি ডিভোর্সি? আপনাকে আমি পছন্দ করি, ভালোবাসা শব্দের সাথে পরিচিত হতে পেরেছি আপনি চলে যাবার পর। যখন মনে হলো আমি যাকে এতদিন বিরক্ত করেছি মানুষটা আমার সামনে নেই। এই অভিজ্ঞতা খুব খারাপ। ভেতরটা জ্বলে।
মোনার দুচোখে জল। ইমরান অপলক তাকিয়ে আছে। কি জানি আজ নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে ইচ্ছে করছেনা। বড্ড ক্লান্ত। দুদন্ড সুখ কি তার কপালে নেই। মোনা থেকে চোখ সরিয়ে অন্তরীক্ষে তাকিয়ে বললো,

– তোমাকে মন থেকে আমার সহধর্মিণী হিসেবে মেনে নিয়েছি। এবং এই বাক্যটি আজ রাতের আকাশকে সাক্ষী রেখে বলছি। আমার জীবনে একমাত্র ব্যক্তিগত নারী সত্ত্বার অস্তিত্ব এখন খুঁজে পাবে তার সবটাই তোমাকে ঘিরে। আর কিছু বলার নেই।
মোনা দুহাতে চোখ মুছছে। বুঝতে পারছে না কথাটিকে সত্যি ভাববে না সান্ত্বনা। ইমরানের মনে কি আদৌ তার জন্য কোনো অনুভূতি কাজ করে? হঠাৎ ইমরান বলে উঠলো,
– আমাদের মাঝে অদৃশ্য একটি দেয়াল আছে। সে দেয়াল কে ভাঙবে?
মোনা নিশ্চুপ। মানুষটা উত্তরের আশায় এখনো তাকিয়ে আছে। রুমের ল্যাম্পশেডের আবছা আলো ব্যালকনিতে পড়েছে। কালো ফুল স্লিভ হাই নেক গেঞ্জিতে মানুষটাকে পরিপূর্ণ একজন লাগছে। চোখের চশমার সিলভার রিমটা চিকচিক করছে। মনে মনে ভাবছে কেনোই বা কাকন প্রেমে পড়বেনা? দেখতে শুনতে বেশ। মোনার ইচ্ছে করছে খোঁচা দাঁড়ি গুলো ছুঁয়ে দিতে। ভারী গলার স্বর মনোযোগে বিচ্ছেদ ঘটালো,
– মোনালিসা তুমি কি জানো, আমার বাম পায়ে অনেক সেলাই আছে, সার্জারি করা?
মোনালিসা সম্বোধন ইদানিং শোনাই যায়না। হঠাৎ শুনে বেশ ভালো লাগছে। উত্তর করলো,
– নাহ তো।
ইমরান চেয়ারে বসে মোনাকে ইশারা দিয়ে বসতে বললো। একটু এগিয়ে মোনার চাদর দিয়ে ওর মাথায় ঘোমটা টেনে দিলো যাতে করে ঠান্ডা বাতাস কানে না লাগে। নিজের মাথায় হুডি চেপে দিলো। একটি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো,

– এক্সিডেন্টে পা ভাঙ্গে। এই ভাঙ্গা পা নিয়ে ইশানকে বড় করেছি। ওর ছয়মাসের সময় বাবা আমাকে মেনে নিয়েছিলো। কাঁকন ততদিনে আমাদের বাবা ছেলেকে ফেলে চলে যায়। মিথ্যে মামলায় বাবাকে ফাঁসিয়ে দেওলিয়া করা হয়। অপারেশন ততদিনে বাবার টাকায় করেছিলাম। বাবার বিজনেসটা পুরোপুরি ধ্বংস তখন। সব হারানোর দুশ্চিন্তায়, কষ্টে স্ট্রোক করেছিলেন। একমাস পর মা/রা যান। সেই দুঃখে মা কখনো আমার মুখ দেখেন নি। মা বরাবর আমাকে দায়ী করছেন সব কিছুর জন্য। স্বাভাবিক, আমি কাঁকনকে বিয়ে করার পর থেকেই বাবা সমাজের কাছে অপমানিত হতে লাগলো। এত ভালো পরিবারের সন্তান হয়ে কিভাবে এমন একটি মেয়েকে বিয়ে করলাম। মানুষের মুখ তো বন্ধ করা যায় না। এক বছর পর মা ও মা/রা যান। আপা আর ইশতিয়াক তখন অসহায়। সোহান, সামান্তা আমার বড্ড আদরের। দুলাভাই মারা যাওয়ার পর শ্বশুরবাড়িতে আপার আর জায়গা হলোনা। আপার গয়না, মায়ের কিছু গয়না বিক্রি করে নতুন করে সব শুরু করলাম। এরপর ই এমন চুপচাপ, পাথরের মত হয়ে গেলাম। অনুভূতি প্রকাশ ভুলে গিয়েছি। ইশতিয়াক বড় হয়েছে, সোহান, সামান্তা বড় হয়েছে। ইশান সবার কোলে কোলে বেড়ে উঠলো। সামান্তার বিয়ে দিলাম। সময় পেরোলো। আমি এদিক সেট করে কাঁকনের ছায়া থেকে সরিয়ে ইশানকে নিয়ে ইতালী পাড়ি জমালাম।সবাই ভালো আছে। আমিও আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। শুধু কষ্ট দেয় কিছু অতীত স্মৃতি।

– অতীত স্মৃতি যত ভুলে থাকা যায় তত মঙ্গল।
– তবে কেনো ভুলছোনা?
মোনা বিচলিত হলো এমন প্রশ্নে। তবুও জবাব দিলো,
– পারছিনা।
– মোনালিসা একটা প্রশ্ন করি?
– কি?
– প্রথমে ফ্যান্টাসি কাজ করেছিলো আমার প্রতি তাই না? স্ত্রী হওয়ার পর মনে হচ্ছে বড্ড বেমানান রাইট!
প্রচন্ড রাগে মোনা চেয়ার ছেড়ে উঠলো। রাগে গজগজ করতে করতে একটাই কথা বললো,

– আপনি কখনো কাউকে মন থেকে ভালোবেসেছেন? কাঁকনকেও বাসেন নি। বাসলে কাঁকন আপনাকে কখনো ছেড়ে যেত না। এখন যেমন দ্বিধায় আছেন আমার সাথে আপনাকে বেমানান তখনও একই দ্বিধায় ছিলেন এই ভেবে যে কাঁকন স্টার আর আপনি ওর থেকে কম সুন্দর। তাই তো আপনার জীবন টা এমন। এনিওয়ে খবরদার আজ আমার খাটে শুতে আসবেন তো! আপনাকে আমি দেখতে চাই না আজ রাতে। আপনি আজ থেকে আমার সাথে শুবেন না।
রুমে ঢুকেই ধুপধাপ খাটের ওপর শুয়ে কম্বল দিয়ে হাত পা ঢেকে ফেললো। ইমরানের হঠাৎ মনে হলো ওর হাসি পাচ্ছে। মেয়েটা এমন রেগে গেলো কেনো? পরক্ষনে মনে পড়লো এই মেয়ে মুখেই যতই বলুক ইমরানকে সহ্য হয়না ভেতরে ভেতরে পুরোনো অনুভূতি আজ আরো তাজা হয়ে ধরা দিয়েছে। সাধারণত এক নারী অন্য নারীর প্রসঙ্গ আসলেই এমন তেলে বেগুনে চটে। হালকা হেসে আকাশের দিকে তাকিয়ে সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বললো,
– হে আল্লাহ, এভাবেই যেন নমনীয় থাকে আমার মোনালিসা। দেখি দুরত্ব টেনে কতটা কাছে আসা যায়।
তবে নিজের প্রতি ভীষণ রাগ হচ্ছে। পরিবেশ টা সবে মাত্র সামলে নিলো এর মাঝেই রাগিয়ে দিলো হাবিজাবি বলে মেয়েটাকে। দুটো মিষ্টি কথাও তো বলতে পারতো! নাকি সব ভুলে বসে আছে?

ঘড়ির এলার্ম বেজে উঠতেই বেশ বিরক্ত হয়ে মুখের উপর থেকে কম্বল সরালো। গত কয়েকদিন বাড়ি থেকে বের হয়নি। ঠান্ডা লেগেছিলো। তাই বাসাতেই বিশ্রাম নিয়েছে। শীতের প্রকোপ বাড়ছে ধীরে ধীরে। আজ একটু খানি রোদের দেখা মিললো। সকাল সকাল দেখা মিললো স্বামী – সন্তানের এক সাথে। গত কয়েক রাত ইমরান কামরায় থাকেনা। কোথায় থাকে সেই খবর নিতে পারেনি। কারণ কাকেই বা জিজ্ঞেস করবে। সকালে রুমে এসেই তৈরি হয়। ততক্ষনে মোনা উঠে যায়। আলো চোখে পড়াতেই ঘুম ভেঙ্গে গিয়েছে।পাশে তাকিয়ে দেখে নাস্তার পসরা সাজানো। ইশান কম্বলে টান দিয়ে বললো,
– মা উঠো, স্কুলে যাবো। খাইয়ে দাও।
চোখ কচলে বললো,
– সকাল কখন হলো, জাগালেনা কেনো বাবা। সব তোমার পাপার দোষ।
ইশান মোনার হাতে পায়েশের বাটি ধরিয়ে দিয়ে হা করলো। এদিকে মোনা চোখ কচলাতে কচলাতে এক চামচ ইশানের মুখে দিয়ে ইমরানকে বকছে। ইশান ও বলে উঠলো,

– কাল রাতে আমার রুমে গিয়ে শুয়েছে কেনো পাপা? তুমি নাকি বের করে দিয়েছো। রাতে আমি ভয় পেয়ে লাফিয়ে উঠেছি। আমি তো বড় খতমের দোয়া পড়া শুরু করেছি। পাপা তখন ঘুমে বিভোর। এর মধ্যে সব কালো পরেছে৷
মোনা ভ্রু কুচকে বললো,
– শুধু কাল রাতে? বাকি রাত গুলাতে কোথায় ছিলো?
– তাতো জানিনা মা।
– কত্ত খারাপ, এখান থেকে গিয়ে ছেলেকে ভয় লাগাচ্ছে।
ইমরান ওয়াশরুম থেকে সদ্য গোসল করে মাথা মুছতে মুছতে বের হলো। যেভাবে হাঁক ছেড়ে মা ছেলে কথা বলছে ভেতর থেকে স্পষ্ট প্রতিটি শব্দ শোনা যাচ্ছে। মাথা মুছতে মুছতে বললো,
– আশ্চর্য আমি ঘুমাবো কোথায় তবে? প্রতি রাতই ওর সাথে ছিলাম। ঘুমে ছিলো বলে টের পায়নি। মোনালিসা তুমি কি আমাকে অবিশ্বাস করলে?
– বিশ্বাস অবিশ্বাস দিয়ে আমার কি? আপনার বাড়ি যেখানে খুশি থাকুন।
ইশানের দিকে মন খারাপ করে তাকিয়ে বললো,

– এত বড় হয়েছিস বেটা বাপকে চিনিস না। এমন চিৎকার দিলি আমি নিজেই লাফিয়ে উঠেছি।
– পাপা, আমি তোমাকে অশরীরী কিছু ভেবেছি। দোষ কি আমার?
– শরীরি আস্ত মানুষ শুয়ে আছি, বলে কি অশরীরী? আশ্চর্য!
– আগাগোড়া এমন কালো পরলে তাই তো লাগবে।
মোনার এমন উক্তিতে ইমরান হা করে তাকিয়ে আছে। তবে কথা বাড়ায়নি। বাড়িয়ে লাভ নেই। গিন্নী এখন বেশ ঝগড়া ঝগড়া ভাবে আছে। এমনিতেই ইমরান তার চক্ষুশূল। ছেলের সামনে চায় না ইজ্জতের ফালুদা হোক। মোনা ইশানকে খাইয়ে ওর ইউনিফর্মের কলার ঠিক করে দিয়ে মাটিতে বসে জুতার ফিতা বাঁধতে যাবে তখনই ইশান বাঁধা দিলো,
– মা এটা আমি পারবো। পা ধরোনা।
– আমি জানি তুমি পারবে৷ তবুও আমি করে দিচ্ছি। আমার মতো পারবেনা। গত পরশু দেখেছি এমন ভাবে বেঁধেছো, বাসায় আসতে আসতে খুলে যায়। মায়েরা সন্তানের পা ধরে আদর করে,যত্নে। এতে কিছু হয় না।
– তুমি তো খুব সুন্দর করে ফিতা বাঁধতে পারো।
– হ্যাঁ শিখেছি একজনের কাছ থেকে।
ইমরান মিটমিট করে হাসছে। ইঙ্গিত টা যে তার দিকে বুঝতে পারছে। মোনা জুতার ফিতা বেঁধে ইশানকে মাথায় হাত বুলিয়ে বললো,

– আমি ভার্সিটি থেকে ফিরে তোমাকে নিয়ে অফিস যাব। ঠিকাছে?
– আচ্ছা। আর লাঞ্চ?
– রাতেই বানিয়ে রেখেছি। আমাদের প্রিয় চিকেন বিরিয়ানি। তোমার আর আমার জন্য নিয়ে যাবো।
ইমরান সোফায় বসে এদের কথোপকথন শুনছে। লাঞ্চের কথা শুনে স্পষ্ট বুঝতে পারছে ইমরানের জন্য সেই ব্যবস্থা নেই। অভিমান হলো। ইশান বাবার দিকে তাকিয়ে মাকে বললো,
– পাপার জন্য নিবে না?
মোনা কিছু বলার আগেই ইমরান উত্তর দিলো,
– না, মিটিং আছে। বাইরে করবো।

মোনা স্পষ্ট বুঝতে পারছে ইগোতে লেগেছে। তাই কেউ কথা বাড়ায়নি। ইশান বেরিয়ে গেলো। মোনা ফ্রেশ হতে চলে গেলো। ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে ইমরানের অবস্থা পূর্বের মত দেখে বেশ রাগ হলো। ইশানের সামনে কিছু বলেনি এবার বেশ ক্রোধ চেপেছে। সেই তখন থেকে গলায় টাওল পেচিয়ে উদাম শরীরে ল্যাপটপে কি যেন কাজ করছে। লজ্জা শরমের মাথা খেয়েছে। দিনের বেলায় শীতের তেজ কম। জানালা দিয়ে বেশ রোদ আসছে। সকালটা সবসময় এই বাড়িতে বেশ সুন্দর। সোনালী রোদের আলোক ছটা রুমে পড়ে। তাই হয়তো বাড়ির নাম ‘সোনালী সকাল’। ইমরানের দিকে তাকাতেই এবার মোনা লজ্জা পেলো। চোখ সরিয়ে নিজের আলমারির চেম্বার থেকে ডেনিম কোট বের করে জামার উপর পরে নিলো। ইমরান ল্যাপটপ বন্ধ করে উঠে দাঁড়ায়, পরনে ফরমাল কালো প্যান্ট। গলা থেকে টাওল নামিয়ে ফেললো। পুরোপুরি উদাম শরীর। মোনার মনে দুষ্টুমি উঁকি দিলো। হঠাৎ ভাবনায় এলো এই অবস্থায় তার স্বামীকে যদি তার প্রাক্তন স্ত্রী বা অফিসের ওই রিমি দেখে এরা তো ঝাঁপিয়ে পড়বে। ইমরান কানে ইয়ারপড লাগিয়ে কথা বলছে কারো সাথে। শার্টের চেম্বার থেকে ছাই রঙা শার্ট বের করলো। সাথে চেক ব্লেইজার, টাই। টেবিলে রেখে শার্ট গায়ে জড়ালো, ওয়েক্সটা চুলে লাগিয়ে আচমকা চোখ গেলো আয়নায় ভেসে উঠা পেছনের মানুষটার দিকে। ঘাড় ঘুরিয়ে পেছনে তাকাতেই মোনা লজ্জা পেয়ে গেলো। গাল দুটো ব্লাশ করছে। মেয়েটা এমনই লজ্জা পেলো রুম থেকে বেরিয়ে গেলো। এদিকে ইমরান নিজেও মুখে হাত দিয়ে ঠোঁট চেপে হাসছে। কি হলো এটা! প্রতিদিনের অভ্যাসের মত ভেবেই নিয়েছিলো আজ রুমে কেউ নেই। মনের সুখে ল্যাপটপে কিছু ফাইল দেখে নয়নের সাথে কথা বলছিলো কানে ইয়ারপড লাগিয়ে। অন্য দিকে অফিসের জন্য তৈরি হচ্ছিলো। স্বভাবতই এমন অবস্থায় পুরুষ মানুষ দেখলে লজ্জা পাওয়ার কথা। বিয়ের পর থেকে যতদিনই ইমরান অফিসের জন্য তৈরি হতো মোনা রুম থেকে বেরিয়ে যেত অথবা নিচে থাকতো। ও পাশ থেকে নয়ন চেঁচাচ্ছে,

– কি হলো কথা বলছিস না কেনো? খোরশেদ ইসলামের ফাইলে সাইন করেছিস?
ধ্যান ফিরে আসাতে বললো,
– করেছি। এখন রাখছি বাকি কথা অফিসে হবে।
শার্টের বাটন লাগাতে লাগতে মোনা আবার রুমে এলো। ততক্ষনে শার্ট ইন করে পুরোপুরি রেডি। আড়চোখে মোনা ইমরানকে দেখছে এবং চুলটাকে পাঞ্চ ক্লিপ দিয়ে বেঁধে খোঁপা করে নিল। ইমরান জুতোর ফিতায় গিট দিয়ে পুরোপুরি রেডি হয়ে উঠে দাঁড়ায় আয়নার সামনে। টাই এর নট টা আরেকবার টেনে দেখলো ঠিক আছে কিনা। সচরাচর যা করে তাই করছে। প্যান্টের বেল্ট, জিপার টেনে চেক করছে। সব কিছু টেস্ট করতেই পুনরায় চোখ পড়লো মোনাতে। এবার মোনা পুরোপুরি লজ্জা পেয়ে বলেই উঠলো,
– কি শুরু করলেন বলুন তো?
ইমরান না পেরে হেসেই দিলো। নিজেও ব্লাশ করবে। হঠাৎ ভাবনায় এলো পুচকে বউটার সামনে এমন কাজ করা ঠিক হয়নি। ঠোঁট দুটো শুকিয়ে গিয়েছে মনে হয়। কথা বেজে যাবে বলতে গেলেই। জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে বললো,
– আমি এভাবেই তৈরি হই মোনালিসা। চেক করবোনা সব ঠিক আছে কিনা? তুমি এভাবে তাকাচ্ছো কেনো আমার দিকে? বাই চান্স জিপার না লাগিয়ে যদি বেরিয়ে পড়ি তবে…

– চুপ, একদম চুপ। আপনার কাজ আমাকে লজ্জা দিচ্ছে। কি করছেন? কখনো খালি গায়ে বসে আছেন তো, কখনো আস্তে আস্তে বাটন লাগাচ্ছেন, এখন তো লিমিটই ক্রস করলেন। ধুর। আমি গেলাম। নিচে আসুন নাস্তা রেডি।
আচমকা ধুম করে ইমরান মোনার কাছে এসে আলমারির সামনে হাত দিয়ে মোনার যাওয়ার পথ আটকে বললো,
– কি লিমিট ক্রস করেছি এখন?
মোনা চোখ নামিয়ে মেঝেতে রেখেছে। মুখটা আনত। মিনমিনে আওয়াজে বললো,
– জায়গা দিন।
– আগে উত্তর দাও।
– কিছু না।
ইমরানের বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুল মোনার ডান গাল ছুঁয়েছে। কিছুটা ঝুঁকে মোনার কানের সাথে আলতো ঠোঁট লাগিয়ে বললো,
– যদি এর চেয়ে বেশি লিমিট ক্রস করি, তবে কি করবে?
– কিছু না।
– জড়িয়ে ধরেছি? না। আদর করেছি? না। অন্যকিছু তো…
থেমে গেলে ইমরান। মোনার গালের দিকে চোখ যেতেই। আরেকটু লজ্জা দিয়ে বললো,
– গাল গুলো কি সুন্দর লজ্জায় লাল হয়েছে মোনালিসা। একটু ঠোঁট ছুঁয়ে দি?
ইমরানের তর্জনি তখন মোনার গাল ছুঁয়েছে। ড্যাবড্যাব করে মোনা তাকিয়ে আছে। দম আটকে আসছে। ইমরানের চোখে মুখে কেমন যেন বেহায়া ভাব। ঠোঁট টিপে হাসছে। মোনা শ্বাস নিতে পারছেনা। হাত দিয়ে জোর করে সরিয়ে বেরিয়ে যেতে যেতে বললো,

প্রিয় মোনালিসা পর্ব ২৬

– উফ অসহ্য… অসভ্য ইমরান সাহেব। আপনাকে আমি সহজ ভেবেছিলাম, আপনি ঠিক তার বিপরীত। খবরদার কাছে আসবেন না আমার।
মোনাকে ছেড়ে গায়ে ব্লেইজার জড়াতে জড়াতে হেসে হেসে বললো,
– বিপরীতের কিছুই করলাম না এতেই তকমা পেয়ে গেলাম! করলে কি করবে এই মেয়ে?

প্রিয় মোনালিসা পর্ব ২৮