Home প্রিয় মোনালিসা প্রিয় মোনালিসা পর্ব ৪৭

প্রিয় মোনালিসা পর্ব ৪৭

প্রিয় মোনালিসা পর্ব ৪৭
নীতি জাহিদ

রৌদ্রতপ্ত দিনের হাওয়া যেন শরীর জুড়ে উত্তাপের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। গলা শুকিয়ে অনেকটাই কাঠ। যাওয়ার অনিচ্ছা সত্ত্বেও যেতে হচ্ছে। মোনা এই অর্ডারটি কোনো ভাবেই হাত ছাড়া করতে চায় না। সমস্ত দিন আজ ব্যস্ততায় কেটেছে। ঈদের শপিংয়ের কিছুটা অংশ বাকি। বিয়ের আগে বাবার হাত ধরে শপিংয়ে চলে যেত বাবার মেয়েটা। অথচ বছর ঘুরতেই এখন শপিং করতে হয় পরিবারের সকলের জন্য। দায়িত্ববোধ মাঝে মাঝে মানুষকে চরম বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়। এর মাঝে সব অর্ডার ঠিক মত ডেলিভারি হয়েছে কিনা দেখতে হয়েছে। শোরুমের এমপ্লয়িদের খোঁজ খবর সব ম্যানেজ করতে হয়। মাঝে মাঝে মনে হত বাবা এত কি কাজ করে যে মোনাকে সময় দিতে পারেনা! একটা জামদানীর শো রুম সামলাতে মোনার নাকে মুখে অবস্থা অথচ বাবা, মামা এবং ইমরান সাহেব পুরো একটা কোম্পানি, অনেক গুলো শাখা সামলায়। সে তুলনায় তার কষ্ট কিছুই না। ইশানের ধাক্কায় ধ্যান বিচ্ছিন্ন হলো।

– মা, তোমার ফোন এসেছে।
তড়িঘড়ি করে ফোন রিসিভ করতে মানুষটা মোটা স্বর,
– আসসালামু আলাইকুম, কোথায় ছিলে?
– ওয়ালাইকুমুস সালাম। স্যরি ব্যাগে ছিলো খেয়াল করিনি। আমি এবং ইশান একটু বের হয়েছি একটা মিটিং এটেন্ড করতে। এটা শেষ করেই বাড়ি ফিরবো।
– তুমি তো বাড়ি ছিলে, বের হলে কেনো? বাইরে তাপমাত্রা দেখেছো? বলেছি সব অর্ডার ক্লোজ করে ফেলতে।
– আচ্ছা আজকেই শেষ। তেমন কাজ নেই। উত্তেজিত হবেন না। আমার সাথে মামাও আছে। আপনি কতদূর। আমাদের সাথে ইফতার করতে পারবেন?
– ইনশাআল্লাহ পারবো। তোমরা তাড়াতাড়ি ফিরবে। অপেক্ষায় থাকবো।
– ঠিক আছে। আল্লাহ হাফেজ।
ফোন রেখেই মনে মনে হিসেব কষে ফেললো মোনা। অনলাইনের সব কাজ আজ রাতেই শেষ। শো রুম আগামীকাল ইফতারের আগেই অফ করে দেওয়া হবে। ডিলটা কনফার্ম হলেই সে আজ বাসায় ফিরতে। বেতন-বোনাস সব দেয়া শেষ। ইমরান সাহেব মানুষটা ছায়ার মত সবসময় পাশে থাকে। অল্পতেই দুশ্চিন্তা করে। অনেকে বলে এত বেশি আহ্লাদ ভালো না, নজর লাগে। কথা সত্য। বিপদ যেন সরতেই চায়না। বিয়ের পর থেকে টানা বিপদ।

মা ছেলে দুজনই ছুট লাগিয়েছে ফ্রেশ হতে। ইফতারের কেবল দশ মিনিট বাকি। সবাই টেবিলে। ইমরান জোর আওয়াজে বললো,
– মুখটা ধুয়ে বসে যাও। ড্রেস পরে পালটে নিও।
কে শোনে কার কথা। সাত মিনিটের মাথায় পোশাক পালটে দুজন চেয়ারে বসে গেলো। নয়ন তো কোনো রকম মুখ ধুয়ে ওদের সাথেই বসেছে। রিক্তা এবং নাহিয়ার আজ দাওয়াত এই বাড়িতে। টেবিলে বসে দোয়া করতে করতেই সময় হয়ে গেলো। সকলে মুখে খেজুর তুলে ইফতার করে নিচ্ছে। এরপর পানীয় টুকু দিয়ে গলা ভিজিয়ে কি যে শান্তি পেলো মা ছেলে। ইশান মায়ের দিকে তাকিয়ে বলে,

– মা আমার মনে হচ্ছিলো আজ বোধহয় গলাটা ছিড়ে যাবে। তোমার তো দুপুর থেকেই শরীর খারাপ করছিলো। এখন শান্তি পেয়েছো কি?
মোনা মাথা নেড়ে বললো,
– আলহামদুলিল্লাহ।
ওদের দুজনের ফুসুরফাসুর দেখে আইরিন প্রশ্ন করলো,
– কিরে কি বলছিস মা ছেলে দুটো?
ইমরান মুখে এক চামচ সালাদ দিয়ে বললো,
– ডিল সাকসেসফুল?
নয়ন,মোনা এবং ইশান তিনজনই বললো,
– আলহামদুলিল্লাহ।
ইশান বলে উঠলো,

– পাপা, আমি তো মায়ের সাথে প্রায় যাই অনেক মিটিং এ কিন্তু ট্রাস্ট মি আজকের মত ইম্প্রেস আমাকে কেউ করতে পারেনি। ওই আংকেলটা জাস্ট স্পিচলেস। এত দূর্দান্ত তার ম্যানেজ করার স্কিল আর কথা বলার ধরন। ইয়্যু আর মাই আইডল। আমি সবসময় তোমার প্রতিটি বাচনভঙ্গি অনুসরণ করি। তোমার পর কেউ যদি আমাকে ইমপ্রেস করতে পারে তবে তিনি এই ড্যানিয়েল আংকেল। হি ইজ ঠু মাচ স্মার্ট।
ইমরান বেশ কৌতুহল নিয়ে নয়ন এবং মোনার দিকে তাকালো। মোনা হাসছে। নয়ন ও মুখ খুলে বললো,
– ইমরান সত্যি ভদ্রলোক খুবই বিচারবোধ সম্পন্ন। যেভাবে কথা বলল সচরাচর আমাদের দেশের মানুষজন এভাবে বলে না। হয়তো উনার অরিজিন দেশের বাইরে তাই এত সভ্য।
ইমরান মাথা নেড়ে বললো,

– তাহলে তো দেখা করা বাঞ্চনীয়। যেখানে আমার প্রিন্স ইমপ্রেসড সেখানে অবশ্যই ভদ্রলোকের অনেক গুণ আছে।
মোনা আনমনে খেতে খেতে বললো,
– জ্বি, তা তো অবশ্যই। কথায় মনে হলো প্রকৃতপক্ষে একজন ভদ্রলোক।
ইমরান মোনার দিকে তাকিয়ে রইলো অপলক। এর মাঝে ইশান বলে উঠলো,
– পাপা দেখতেও বেশ চমৎকার। উনার ড্রেসিং সেন্স জাস্ট ওয়াও।
নয়ন কথা কেড়ে নিয়ে বলে,
– ইশান তোমার আব্বা থেকে সুন্দর। ভদ্রলোক আমার মত স্মার্ট। তোমার বাপ তো কালা, বুড়া। কিন্তু ওই ভদ্রলোকের বয়স ও কম।
ইশান বলে উঠলো,
– উফ আংকেল, আবার…
রিক্তার ধমকে নয়ন চুপ হয়ে গেল। মোনা একপেশে হাসি দিলো। ইমরান তিনজনকে দেখে খাবারে মনোযোগ দিলো। নিজের ইফতার টুকু শেষ করে নামাযের জন্য টেবিল ছাড়তেই পেছন থেকে আইরিন ডেকে বললো,

– কিছুই তো খেলিনা।
– পরে। নামাযের দেরি হচ্ছে।
নিজের কামরার উদ্দেশ্য ডাইনিং এরিয়া প্রস্থান করলো। ইমরান যেতেই মোনা একটা প্লেটে একটু করে সব ইফতার নিয়ে দাঁড়িয়ে পড়লো। টেবিলে সবাই জিজ্ঞেস করতেই বললো,
– উপরে যেয়ে খাবো। নামায টা পড়ে নিই। আমি তো ইমরান সাহেবের সাথে নামায আদায় করি।
যেতে যেতে ইশানের কানের কাছে বললো,
– রুমে এসো নামাজের পর। তোমার পাপা হয়তো মন খারাপ করেছে।
ইশান খাবার থামিয়ে মায়ের দিকে তাকিয়ে বললো,
– ইয়া আল্লাহ মা। তাই পাপা…
থেমে গেলো ছেলেটা। মা ছেলে যুক্তি করে উপরে রুমে এলো। ইমরান চেয়ারে বসেই সালাত আদায় করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। হাঁটতে গেলে এখনো ক্রাচ ব্যবহার করে। ইশান পেছন থেকে বাবাকে জড়িয়ে ধরলো। হকচকিয়ে গেলো ইমরান। পেছন ফিরে স্ত্রী সন্তানকে দেখে বললো,

– কি হয়েছে?
ইশান ছলছল চোখে বাবাকে বললো,
– পাপা, স্যরি। আমি কিন্তু ওভাবে বলিনি। প্লিজ তুমি রাগ করোনা। ইউ আর মাই হিরো,ইন্সপিরেশন।
ইমরান ছেলেকে বুকে টেনে বললো,
– নো পাপা, কেনো রাগ করবো। তুমি কারো প্রশংসা করেছো পাপা খুশি হয়েছি জান। এভাবে শিখবে মানুষের গুন,দোষ বাছাই।
– তবে খেলে না কেনো?
– অনেক দিন পর আজ এতদূর জার্নি করেছি না। একটু ক্লান্ত। সালাত আদায় করে পাপা তোমার সব গল্প শুনবো প্রিন্স। এখন খেয়ে তুমিও যাও সালাত আদায় করে বিশ্রাম নাও।
ইশান মাথা নেড়ে মায়ের সাথে কথা বলতে এগিয়ে গেলো। ইমরান সালাতে মনোযোগ দিলো। মায়ের দিকে তাকাতেই চোখ ঝাপটে বুঝিয়ে দিলো বাকিটুকু মোনা সামলে নিবে। হাতের প্লেট রেখে ইমরানের সাথেই সালাত আদায় শেষ করেছে। ইফতারের প্লেট এগিয়ে দিলে ইমরান এক পিছ ফল নিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়লো। মোনা নিচু স্বরে প্রশ্ন রাখলো,
– আপনার কি শরীর বেশি খারাপ?
নির্লিপ্ত স্বর,

– না, ঠিক আছি।
– এত চুপ তো থাকেন না কখনো।
– এমনি ক্লান্ত।
– আমরা কথা গুলো খুব স্বাভাবিক ভাবে বলেছি…
– আচ্ছা মোনালিসা তোমরা মা-ছেলে এমন অদ্ভুত বিহেভিয়ার কেনো দেখাচ্ছো বুঝিয়ে বলবে? কি ভাবছো খোলাখুলি প্রকাশ করো?
মাথানত মোনার। শব্দ গলায় জড়িয়ে যাচ্ছে। কেন এমন অনুভূতি হচ্ছে! কি বলবে মানুষটাকে! ওই ভদ্রলোককে সুন্দর বলাতে উনি কি রাগ করেছেন? এমন প্রশ্ন করা কতটা চাইল্ডিশ আচরণ হবে এতটুকু স্পষ্ট ঠাহর করা যাচ্ছে। মোনার নিরবতা দেখে ইমরান বেশ কিছুক্ষন তাকিয়ে ছিলো। পাশ ফিরে শুয়ে বললো,
– লাইট টা কষ্ট করে নিভিয়ে দাও।
চোখ তুলে মোনা বললো,
– আমি যে খাবার আনলাম।
– ঠিক আছে খেয়ে এরপর নিভিয়ে দিও।
– দুজনের জন্য এনেছি তো।
ইমরান পাশ ফিরে মোনার দিকে তাকিয়ে বললো,
– দুজন কোথায় পেলে? আর কে আসবে খেতে?
– আপনি এবং আমি।
এবার ইমরানের গলা একটু রূঢ় শোনালো,

– আমি কি বলেছি আমি খাবো? নিচে তো পর্যাপ্ত পরিমাণ খাবার ছিলো। খেলে সেখান থেকেই খেয়ে আসতাম। উপরে এসে খেতে হবে কেনো? আমি খেয়েছি। তুমি খেতে পারোনি খেয়ে নাও।
পুনরায় পাশ ফিরে শুয়ে পড়লো ইমরান। রুমের বাতি নিভিয়ে খাবার প্লেট টেবিলে রেখে বারান্দায় চলে গেলো মোনা। কেনো যেন মোনার মন সায় দিচ্ছে ইমরান এসে সব কিছু স্বাভাবিক করে দিবে। তবে আজ মনের ভাবনা সত্যি হয়নি। ইমরান আসে নি। ঘন্টা পেরোলো। মোনার দৃষ্টি অন্তরীক্ষে। কেনো মানুষটা হঠাৎ অভিমান করলো! হঠাৎ রুম থেকে ডাক শুনে ছুটে গেলো। ইমরান ঘুম ঘুম গলায় বললো,
– ফোন এসেছে তোমার।
স্ক্রিনে নামটা জ্বলজ্বল করছে। স্পষ্ট ইংরেজি অক্ষরে লিখা Mr. Daniel. মোনা ফোন হাতে নিয়ে বারান্দার দরজা অবধি এসেও ফিরে গিয়ে খাটে বসে জোরেই কথা বললো। ইমরানের ঘুমের রেশ ছেড়ে গিয়েছে ফোনের আওয়াজেই। মোনার গলার উচ্চস্বরে বাকি টুকু ঘুম ছুটে গিয়েছে। প্রচন্ড মাথাব্যথা করার সত্ত্বেও কিছু বলছেনা মোনাকে। কথা শেষ হতেই বললো,

– মোনালিসা, আমার মনে হয় তুমি আর শুবেনা। তাহলে বাইরে গিয়ে কি গল্প করবে? আমি একটু ঘুমাই। মাইগ্রেন পেইন বেড়ে গিয়েছে।
মোনা চমকে উঠলো। ভদ্রতার সহিত কিভাবে রুম থেকে বের করতে হয় তা এই লোকের শব্দ গুচ্ছ সুন্দর ভাবে বুঝিয়ে দিয়েছে। লাইট নিভিয়ে হাতের ফোন সাইলেন্ট করে মোনা ঠায় দাঁড়িয়ে আছে। ইমরান পাশ না ফিরেই বললো,
– কিছু বলবে? দাঁড়িয়ে আছো কেনো?
ভেতরের চাপা কষ্টটা আর পারলো না চেপে রাখতে। ছেড়ে দিলো অশ্রুধারা। ফুফিয়ে কেঁদে বললো,
– আমি কিছুই করিনি এরপরও আপনি আমাকে এভাবে কষ্ট দিচ্ছেন?
শোয়া থেকে উঠে বসলো ইমরান। বললো,
– কাঁদার কি হলো! কি কষ্ট দিলাম?
এখনো ইমরান উপেক্ষা করছে! মোনার চোখের পানি দেখে যে ইমরান ছুটে আসে সে এখনো প্রশ্নের কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছে। এতটা উপেক্ষা মেনে নিতে পারেনি মোনা। ওড়না চেপে মুখ মুছে নিলো। কথা না বলে খাবারের প্লেট টা হাতে নিয়ে বেরিয়ে যাবে তখন ইমরান বলে উঠলো,

– দরজা লক করে দিয়ে যেও।
এই প্রথম মোনা বাচ্চামো করে ফেললো যা অনুচিত। কথা না বাড়িয়ে টেবিলে খাবারের প্লেট রেখে আলমারি থেকে ব্যাগটা বের করে রুম থেকে বেরিয়ে যাচ্ছিলো। পেছন দিক থেকে স্বর এলো,
– কোনো কিছুর অতিরিক্ত ভালো নয়। এখন বাড়ি থেকে বের হয়ে কি আমার মান সম্মান বাড়াবে না কমাবে? বাবাকে কি উত্তর দিবে? ইমরান বের করে দিয়েছে? উনি কিন্তু আমাকে বিশ্বাস করেন।
নিজের জেদে বহাল থেকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে এলো মোনা। ইফতারের পর সকলে বিশ্রাম নিচ্ছে। ডাইনিং এরিয়া সম্পূর্ণ ফাঁকা। গেট দিয়ে বের হতেই দারোয়ান প্রশ্ন করলো। তাকে বুঝিয়ে রাস্তায় নেমে এলো। সুনশান রাস্তা। কয়েক কদম এগিয়ে ধুপ করে বসে পড়লো এক কোণে। আজ মোনার সব এলোমেলো লাগছে। এভাবে বাড়ি থেকে বের হওয়ার মত বাচ্চামো মোনা আজ অবধি করেনি। স্বামীর সাথে অভিমান করে মোনা রাস্তায়! একথা ভাবলে নিজেকে কেমন যেন ছোট হীনমন্যতা সম্পন্ন মনে হচ্ছে। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মোনা বেরিয়ে এলো আর ইমরান সাহেব আজ একবারও এগিয়ে এলেন না। মাঝে মাঝে মনে হয় মানুষটা নিজের বলয়ে থাকতে পছন্দ করেন, প্রত্যেককে তার মন মতো পরিচালনা করেন, ব্যতিক্রম হলে শাস্তি একটাই নিরব দূরত্ব যা সবচেয়ে বড় যন্ত্রণা। এই সময়টাতে কোথায় যাবে এই প্রশ্ন টাও করলো না? যদি মোনার কোনো দূর্ঘটনা হয়! হয়তো সব কিছুর উর্ধ্বে তার ইগো।

– বের হওয়ার ব্যাপারে নিজের জেদকে এতটাই গুরুত্ব দিতে হবে যে, রুমে অসুস্থ স্বামী আছে তার সেবার চেয়েও বেরিয়ে যাওয়াটা অধিক প্রয়োজনীয় মনে হলো!
আচমকা পরিচিত আওয়াজ শুনে ঘাড় ঘুরিয়ে দেখে তার পাশেই রাস্তার উপর বসে আছে মানুষটা। মোনা চমকে গিয়ে তাকিয়ে আছে। বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে বললো,
– আপনি এখানে?
– কোথায় আশা করেছিলেন আমাকে, ম্যাডাম মোনালিসা? এখন কি আমি সুপারম্যান যে আপনার পিছু পিছু উড়ে চলে আসবো। মাথার যন্ত্রণায় চোখ খুলতে কষ্ট আর পায়ের ব্যাথায় হাঁটতে কষ্ট । এতখানি আসতে বেশ কষ্ট হয়েছে আমার। আপনার কি আর ওসব চিন্তা আছে। কোথাকার কে সুদর্শন, ভদ্র ওসব নিয়েই ইফতারের পর থেকে আলোচনা। অনেক দিন পর আজ এতদূর ঢাকার বাইরে গেলাম কাজে। আসার পর একবারো জিজ্ঞেস করা হয়েছে, ইমরান সাহেব ভালো আছেন? আপনার শরীর কেমন? অভিমান হওয়াটা কি স্বাভাবিক নয়?
মোনা জোরে কেঁদে বললো,

– আপনি আমায় সেই সময়টুকু দিয়েছেন? রুম থেকে বের করে দিয়েছেন উলটো অপমান করে।
– আল্লাহ আল্লাহ মাফ করো। মোনালিসা! আমি তোমাকে বের করে দিয়েছি? বলেছি দরজা আটকে বাইরে গল্প করো।
– দুটো তো এক হলো।
– আচ্ছা।
এতটুকু বলেই ইমরান পুনরায় চুপ। মোনা মৃদু চিৎকার দিয়ে বললো,
– আবার চুপ হলেন কেনো?
– তোমার ফোন…
মোনা হাতের দিকে তাকিয়ে দেখে ওই ড্যানিয়েল আবার কল করেছে। এবার মোনা রেগে গিয়ে কল কেটে দিয়ে যাচ্ছে তাই ভাষায় বকলো। ইমরান হেসে বললো,
– হি ইজ ইয়্যুর ক্লায়েন্ট। ইয়্যু হ্যাভ টু হ্যান্ডেল হিম স্কিলফুলি ওকে!
– পারবোনা আর। করবোনা এসব বিজনেস। ফলশ্রুতিতে আমাকে রাস্তায় বসতে হয়।
– আমাকেও তো রাস্তায় নামালে। তাহলে আমিও বলি করবোনা বিজনেস। এরপর বিজনেস না করে পুরো পরিবার সমেত রাস্তায় নামবো। পজিটিভ জেদ ভালো, তুমি যা করছো পুরোটাই নেগেটিভ। প্রসঙ্গ বদলে ভেতরে চলো। শরীর বেশ খারাপ আমার।

– আপনি যান, আপনার বাড়ি, আপনার রুম, আপনার মর্জি।
ইমরান দম ফেলে ক্রাচে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে বললো,
– ড্যানিয়েল কি এতটাই সুদর্শন যে পা ভাঙ্গা স্বামীকে আর ভালো লাগছেনা। বিকালের পর থেকে তোমার ঘর,রুম সব আমার বানিয়ে দিলে।
অন্তরাত্মা কেঁপে উঠলো। বসা থেকে দাঁড়িয়ে রাস্তার মাঝেই ঝাপটে ধরলো ইমরানকে। আশপাশে অল্প কিছু মানুষের আনাগোনা। সবাই তারাবীহ পড়তে গিয়েছে মসজিদে। মোনা জড়িয়ে ধরে বললো,
– আমার মন খারাপ হয়েছিলো, তাই বেরিয়ে এসেছি। বাসায় যেতাম নাতো। আর এভাবে কখনো বলবেন না ইমরান সাহেব। আমিও আর বের হবোনা। আপনি মারলেও যাবোনা।
– চুপ। আমি কখনো এই হামিং বার্ডের গায়ে হাত তুলতে পারি। ভেতরে চলো। রুমে যেয়ে ভালোবাসবে রাস্তায় মানুষ অদ্ভুতভাবে দেখছে।
মান অভিমান শেষ করে দুজন এগিয়ে যাচ্ছে বাড়ির দিকে। এর মাঝে গল্প জুড়ে দিয়েছে আজকের মিটিংয়ের। ইমরান কিঞ্চিত হাসছে গল্প শুনে।
রুমে এসে আলমারিতে ব্যাগ রাখতে রাখতে মোনা আঙুল তুলে বললো,

– খবরদার আমাকে আর পঁচা কথা বলে কষ্ট দিবেন না। আমি শুধু আমার ইমরান সাহেবকে ভালোবাসি।
ইমরান মাথা ঝেঁকে বললো,
– হুম, তারই নমুনা দেখছি।
মোনা সামনে এগিয়ে কোমড়ে হাত রেখে বললো,
– আবার মশকরা করছেন।
– কি উপায়ে বুঝবো ভালোবাসাটা শুধু ইমরান সাহেবের জন্য?
মোনা এগিয়ে এসে ইমরানের কোলে বসে গলা জড়িয়ে ধরলো। গাল ফুলিয়ে বললো,
– এখন কি অগ্নি পরীক্ষা দিতে হবে?
– না লাগবেনা। চুলে একটু বিলি কেটে দিলেই আপাতত এই কালা মানিক আপনার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবে।
মোনা আচমকা লজ্জা পেয়ে ঠোঁটের কোণে হাসি লুকিয়ে বলে,
– একটু আদর করে দিই?
ইমরান বেশ মজা পেয়ে উপর নিচ মাথা দুলিয়ে বললো,
– অবশ্যই কেনো নয়? আজ ইমরানের কপাল খুলেছে।
ইমরানের গাল দুটো আজলে তুলে প্রথমে ডান গালে, পরে বাম গালে চু*মু দিয়ে উঠে দাঁড়ায় মোনা। ইমরানের বদন জুড়ে হাসির ছটা। ভ্রু নাচিয়ে নিশব্দ প্রশ্ন, আর কিছু? মোনা ইশারায় উপর নিচ মাথা ঝাঁকালো, আরো আছে। কৌতুহলী ইমরান ইশারায় প্রশ্ন শুধায়, কি? মোনা পুনরায় ইমরানের একেবারে সন্নিকটে এসে টুপ করে ঠোঁটে চু*মু দিয়ে রুম থেকে পালিয়ে যায়। ইমরান নিজেই লজ্জা পেয়ে গেল এই মেয়ের কান্ডে। শব্দ করে হেসে বলে,
– চুলে বিলি কেটে দেয়া বাকি তো। পালালে কোথায়?

মধ্যরাত দুটো। কনফারেন্সে দুজন। আলোচনার বিষয়বস্তু পাঠানগড় জমিদার বাড়ি। আজ ইমরান গিয়েছিলো জমিদার বাড়ি দর্শনে। পুরো বাড়ি ঘুরেও পুরোনো জিনিসপত্র ব্যতীত তেমন কিছু আবিষ্কার করতে পারেনি। ও পাশ থেকে প্রশ্ন করলো,
– আমার মনে হচ্ছে তুই ঠিক ভাবে চেক করিস নি। বাড়ির নিচের পোরশন দেখেছিস?
ইমরান জানালো,
– নিচের পোরশন কই পাবো ওভাবে। কয়েকটা গুদাম ঘর তাও খালি, কিছুই নেই।
– আমার পোড়াবাড়িটার কথা মনে আছে? ওটা কিন্তু দেখতে এমন পুরোনো বাড়ি ছিলো অথচ দ্বিতীয় বার গিয়ে চেক করে দেখার পর বের হলো ওটা একটা মাদকদ্রব্যের সাম্রাজ্য ছিলো সেই সাথে ওখানে সব পাপ কাজ হতো। মানুষ মে*রে ঝুলিয়ে রাখা হত। একেকটা কঙ্কাল চড়াও দামে বিক্রি হত।
ইমরান চিন্তিত হয়ে বললো,

– নারে নাফি। ওরম কিছুই নেই। এতবার চেক দিলাম। আচ্ছা ওয়েট কলে রবিন এবং সজীবকে নিই। ওরা সেকেন্ড টাইম রিচেক দিতে আজ সেখানে ছিলো।
ইমরান রবিন এবং সজীবকে যুক্ত করতেই দুজনের মুখভঙ্গি কেমন ভয়ানক দেখা গেলো। রবিন হাঁপাচ্ছে। সজীব কলের মধ্যেই পানি গিলছে। নাফিস প্রশ্ন করলো,
– হয়েছে টা কি তোমাদের?
সজীব পানি গিলে বললো,
– স্যার মাত্র এসেছি আমরা। ওটা বাড়ি না, একটা ভূতের রাজ্য।
ইমরান এবং নাফিস একসাথে,
– কিহ? সোজাসাপটা বলো।
রবিন খানিকটা স্বাভাবিক হয়ে বললো,
– ওখানে রাত নামলে ব্ল্যাক ম্যাজিক শুরু হয়। স্যার ব্ল্যাক ম্যাজিক বললে ভুল হবে সরাসরি শয়তান পূজা। দিনে সর্বশান্ত থাকে। আমি আর সজীব বেরিয়ে যাচ্ছিলাম। তখনই দেখি কয়েকজন সাদা কাপড়ে মোড়ানো মানুষ ঢুকছে, মুখ বাঁধা। স্থানীয়রা তো এমনিতেই ও পাশে যায়না। ওই মানুষ গুলো কয়েকজন ছোট বাচ্চা নিয়ে ভেতরে ঢুকলো। বাচ্চাদের বয়স হবে চৌদ্দ/পনেরো। ছেলে গুলোকে আগুনের সামনে বসিয়ে মন্ত্র পড়াচ্ছিলো আর মেয়ে গুলোকে পাশের রুমে ঢুকিয়ে দিলো। স্যার এরপর যা দেখলাম…
নাফিস প্রশ্ন করলো,

– কি হয়েছে বলো?
সজীব ভেজা দুচোখ মুছে বললো,
– স্যার মেয়েগুলোকে ভেতরে রে/ইপ করা হচ্ছে।
ইমরান মুখ দিয়ে বের করলো,
– ইন্না-লিল্লাহ।
– স্যার মানুষ না?
নাফিস প্রশ্ন করলো হতভম্ব হয়ে,
– মানে কি? মানুষ না তো কিহ?
– চোখে দেখিনা স্যার। মনে হয় কি শয়তান বা জ্বীন। স্যার অদ্ভুত কিছু। আমি আর রবিন ভয়ে পালিয়ে এসেছি। ওদের গোঙানির আওয়াজ কি ভয়ঙ্কর। হুদাই অদৃশ্য কিছু মেয়েগুলার উপর পৈশাচিক শারীরিক নির্যাতন চালাচ্ছে। মেয়েগুলোকে সাদা কাপড়ে ঢেকে দিয়েছে। আমি জীবনেও ভুলবোনা। জীবনে এত এত জিনিস দেখেছি কিন্তু এমন দেখিনি। এত ডিল করেছি, হাতিয়ার চালিয়েছি হাত কাঁপেনি। আজ মনে হলো প্রাণ নিয়ে পালিয়ে আসাটাও অনেক দুঃসাধ্য। স্যার ওরা শয়তান পূজা করে। আর দস্তগীর সেখানকার সবচেয়ে বড় স্পন্সর। বাড়িটা নামে আপনাদের স্যার, কাজ তো যা করার ওরা করছে। এসব কাজ নাকি ওই বাড়িতে আজ প্রায় বছর পাচেক ধরে হয়ে আসছে।

– কই পেলে এই খবর?
– ওরাই কার সাথে যেন নতুন ডিল করছিলো ফান্ডিং এর জন্য। সেখানে উচ্চারণ করেছে। আরেকটা ব্যাপার স্যার, কয়েকটা দামী গাড়িতে করে আসা মানুষজন সেখানে যুক্ত আছে। মানে এদের ফান্ড দেয়ার জন্য অনেক পটেনশিয়াল, ইনফ্লুয়েনশিয়াল লোকজন আছে। মুখ ঢেকে আসে সবাই, মুখ ঢেকে চলে যায়। কি সব শয়তানি মন্ত্র জঁপে।
স্তব্ধ চারপাশ। নাফিসের মুখে হাত। ইমরান দুশ্চিন্তা নিয়ে বললো,
– আল্লাহ রক্ষা করো। বাংলাদেশে এসব চর্চা হচ্ছে আমরা জানিনা। সমূলে উৎপাটন না করলে তো ক্ষতি বাড়বে। নাফিস আমার যতদূর মনে হচ্ছে ওরা শয়তান বা ইফরিতের বংশধর বাড়াচ্ছে। স্বাভাবিক জীবনচক্র পুরোপুরি ব্যাহত হচ্ছে। আল্লাহ মাফ করার মালিক। এদের ধারে কাছে ও তো ঘেঁষা যাবেনা।
নাফিস চমকে প্রশ্ন করলো,

– এটা কি করে সম্ভব জ্বীন আর মানুষ?
ইমরানের চিন্তিত উত্তর,
– সম্ভব। ইলুমিনাতিতে। স্বাভাবিকভাবে সম্ভব নয়। তবে জাদু করে সম্ভব। সেসবে না যাই কিন্তু প্রতিকার কি?
নাফিস আশ্বাসের গলায় বললো,
– আমি খুব ভালো কিছু আলেম, ইসলামি স্কলারদের চিনি। ওদের শরণাপন্ন হতে হবে। আচ্ছা ও কি চাচ্ছে বলতো? দুনিয়াতে এত কাজ থাকতে শয়তানকে বেছে নিলো কেনো?
– আমারো তাই প্রশ্ন। এত কিছু থাকতে শেষে কিনা শয়তান? ওদের সবার মাঝেই এমন ধারা অব্যাহত আছে। এসব কিছু করতো বলে আনারকলি ফুফুর জীবনটাতে ঝড় নেমে এসেছিলো। সব কিছুর বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে।
নাফিস প্রত্যুত্তরে বললো,
– আমাদের দেশের অনেক ইনফ্লুয়েনশিয়াল লোকজন এসব করে শুনতাম ক্ষমতা লাভের আশায় অথচ আজ সত্যতা ও বেরিয়ে আসলো।
রবিন বললো,
– স্যার আমি শুনছি এসবের পরে নাকি মানুষ অমর হয়। ওই দস্তগীর অমর হইতে চায় মনে হয়। সিনেমাতে দেখছি। মানুষের রক্ত খায়, কলিজা খায় আরো কত কি…
ইমরান ধমকে বললো,

– চুপ থাকো। যত্তসব। মানুষ মরণশীল। মহান আল্লাহ
তা আলা পবিত্র কুরআনে বলেছেন ”কুল্লু নাফসিন জাইকাতুল মাউত”। প্রত্যেক প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহন করতে হবে। ( সূরা আল ইমরান, আয়াত -১৮৫) শয়তানের পূজা করুক আর জ্বীনের পূজা করুক, মরতে তো হবে সবাইকে। সেই সাথে মানুষ এবং জ্বীনের কাজের হিসেব নেয়া হবে। কথা হচ্ছে আমাদের সাবধানে থাকতে হবে। কেউ কোনো মুখ খুলবেনা। এই কথা ছড়ালে বিপদ। এই গোপন আস্তানার সম্প্রসারণের জন্যই ওর জমিদার বাড়ি চাই। আর আমি কি বোকা! ভাবলাম, যাক ও এত যখন চাইছে ওকে ওটা দিয়ে দিব। আমার কি কাজ। এখন তো মনে হচ্ছে আল্লাহ আমাকে বাঁচিয়েছে। এই বাড়ি দিলে তো নিজের অজান্তে পাপ কাজে লিপ্ত হয়ে যেতাম। ওর মেয়েটার কোনো খোঁজ পেলে রবিন?
– মেয়েটা ওর কাছেই থাকে। কথা কম বলে। মা মা করে কাঁদে। দশ বছর হবে বয়স।
– আল্লাহ বাচ্চাটাকে ওর হিংস্রতা থেকে রক্ষা করুন। আমিন।
নিজেদের মাঝে আলাপ শেষ করে কামরা জুড়ে পায়চারি করছে ইমরান। মন অস্থির হয়ে উঠেছে। আচমকা ফোনে মেসেজ এলো। মেসেজ ওপেন করতেই লিখা উঠলো,

– She is so nice. I Like her attitude.
মাথার মাঝে কিছু একটা খেলে গেলো। ইমরান আচানক মোনার ফোন ধরলো। পাসওয়ার্ড ইমরানের জানা, EE+DC। এমন অদ্ভুত পাসওয়ার্ডের মানে জিজ্ঞেস করাতে উত্তর দিয়েছিলো,
– Imran এবং Mona দুই নামের অ্যালফাবেটের যোগফল 55 এবং 43. ইংরেজি 55 হলো EE এবং 43 হলো DC।
উত্তরে ইমরান বলেছিলো,
– যদি বীজগণিতের জনক আল- খারেজমি বেঁচে থাকতেন তোমাকে কাছে ডেকে নিয়ে নিশ্চিত দোয়া করে দিতেন।
মোনা হেসে বললো,

– খারেজমির পরিবর্তে আপনি দিয়ে দিয়েন ভালোবাসা।
ভাবতে ভাবতে আজ কোনোরকম অনুমতি ব্যতীত পাসওয়ার্ড দিয়ে ফোন খুলে কাঙ্খিত নাম্বার নিয়ে ইনফরমেশন এর জন্য পাঠিয়ে দিলো। কিছুক্ষন পর নাম্বারের স্বত্বাধিকারীর সম্পূর্ণ তথ্য সামনে এলেও ইমরান কোনো ক্লু খুঁজে পেলো না। নিজের অজান্তে মোনার গ্যালারীতে চাপ দিলো। আজকের মিটিংয়ে মা-ছেলের কয়েকটা ছবি দেখে আনমনে হেসে উঠলো। অকস্মাৎ চোখ আটকে গেলো একটা ফেইসে। শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা মনে হলো। বিড়বিড় করে উচ্চারণ করলো,

প্রিয় মোনালিসা পর্ব ৪৬

– ইন্না-লিল্লাহ। ইয়া আল্লাহ রক্ষা করো আমার স্ত্রী- সন্তানকে।
মাথায় হাত দিয়ে মোনার ফোন হাতে নিয়ে মিনিট পাচেক নিরব ছিলো। ঘুমে আচ্ছন্ন মোনাকে বুকে জড়িয়ে শুয়েছিলো কিছুক্ষণ। এরপর উঠে গিয়ে ছেলের কামরায় ঢুকে ছেলের মাথার পাশে বসেছিলো খানিকক্ষণ। ছেলেকে আদর করে অশান্ত মনকে শান্ত করতে সালাতে দাঁড়িয়ে পড়লো। অদৃশ্য শক্তির সাথে কি করে মোকাবেলা করবে!

প্রিয় মোনালিসা পর্ব ৪৮