প্রিয় মোনালিসা পর্ব ৬
নীতি জাহিদ
ঘোর মন খারাপ নিয়ে কলেজ এসেছে। তখন থেকে চয়ন ডেকেই যাচ্ছে কিন্তু প্রতি উত্তর নেই। গতকাল বাবা ওই লোকটার জন্য তার উপর রাগ করে কথা বলেনি। কি এমন হয়েছে ইমরান সাহেব ডাকাতে? সবাই একটা সাধারণ ব্যাপার নিয়ে এমন ভাবে কথা বলা শুরু করেছে মনে হচ্ছে যেন মহা অপরাধ করে ফেলেছে। তবে মোনার মাঝে কাল রাত থেকে অপরাধ বোধ কাজ করেছে। গম্ভীর মুখো লোকটিকে ক্ষেপাতেই ইচ্ছে করে এমন সম্বোধন করেছিলো। অবশ্যই সে কচি খুকী নয় যে এসবের মানে বুঝেনা। বয়সে বড় কোনো পুরুষ মানুষকে এমন সম্বোধন খুব বাজে শোনায়। ব্যাপারটাকে মোটেও বাচ্চামো বলা যায়না। অশোভনীয় ব্যাপার। সব কিছু বুঝেও কেনো নিজের জেদটাকে বজায় রাখতে হবে এটাই মোনার মাথায় আসে না। তার এই জেদটাই একদিন তাকে ডুবাবে। এসব নিয়ে বাড়াবাড়ি করাতে আজ নিজের মধ্যে চাপা কষ্ট অনুভব করছে। গতকাল রাত থেকে শরীর কিছুটা ভালো। বাসায় ভালো না লাগাতে কলেজে এসেছে নাস্তা না করেই।
সবচেয়ে অপছন্দের বিষয় গণিত। পারে না তা নয়, মজা পায়না এই বিষয়টিতে। আগে সমরেশ স্যার বুঝাতেন ভালোই লাগতো। তবুও মাঝে মাঝে বিরক্ত হতো। স্যার চলে যাবার পর এহসান স্যার এসেছে। ছয়মাস হলো উনি গণিত ক্লাস নেন। এই লোক দেখতে ভালো হলেও ভেতরে পুরোই তেঁতো। মোনার যাকে মনে ধরেনা তার কথাও শুনতে ভালো লাগেনা। তাই সে প্রথম ক্লাসেই অন্যমনস্ক। পক্ষান্তরে বাকিরা খুব মনোযোগ দিয়ে এই লোকের ক্লাস করছে কারণ তিনি স্কুল রমনীদের অতি পছন্দের মানুষ। রবীন্দ্রনাথের অপরাজিত বইয়ে একটা মাকাল ফল ছিলো তার নাম অনুপম এখন এহসান স্যারকে তার মাকাল ফল মনে হচ্ছে। উপরে সুন্দর ভেতরে তেঁতো। বড়ই অদ্ভুত ব্যাপার। চয়ন খুব মনোযোগ দিয়ে খাতায় অংক তুলছে। মোনাকে ধাক্কা দিয়ে বললো,
– বোর্ড মুছে ফেলবে, তাড়াতাড়ি তোল।
এতক্ষন এত মেয়ে কথা বলছে কারো দিকে নজর গেলোনা, কেবল চয়নের মুখ নিশ্রিত দুটো শব্দতে লোকটা হোয়াইট বোর্ডে লিখা থামিয়ে পেছন ফেরে বজ্রপাত সৃষ্টি করলো ক্লাসে চয়নকে ধমক দিয়ে।
– ঠিক কতখানি ম্যানারলেস হলে ক্লাসে টিচার থাকা অবস্থায় কথা বলো তুমি? স্ট্যান্ড আপ।
মোনা ও ভয়ে জড়োসড়ো হয়ে গেলো। চয়ন মেয়েটা বুঝতেই পারলোনা মিনিটের মধ্যে কি হলো ক্লাসে। স্যারের চক্ষুনিবদ্ধ দ্বিতীয় সারির বেঞ্চিতে, যেখানে মোনা-চয়ন নামের দুই তরুণী বসে আছে। মোনা ঢোক গিলে চয়নকে দাঁড় করিয়ে দেয় সাথে নিজেও দাঁড়ায়। স্যার চমকে দিয়ে মোনাকে ধমকে বলে,
– আমি কি তোমাকে দাঁড়ানোর নেমতন্ন পাঠিয়েছে। তুমি কি কারণে দাঁড়িয়েছো?
ভ্রু কুঁচকে আসলো মোনার। স্যারের গলা কিছুটা নরম বুঝতে পেরে বলে উঠলো,
– চয়ন তো একা কথা বলেনি স্যার। শাস্তি তো আমার ও প্রাপ্য।
চয়নের দিকে তাকিয়ে এহসান স্যার একটাই কথা বললো,
– মোনার কথা জানিনা। তবে চয়ন তুমি একেবারে গোল্লায় গেছো। এনিওয়ে সিট ডাউন।
ঠোঁট কামড়ে চোখের পানি ফেলছে চয়ন। সাদা খাতায় পড়তেই লিখাগুলোর কালি ছড়াতে শুরু করলো। চয়নের কাঁধে হাত রাখতেই ঠান্ডা স্বভাবের মেয়েটা কেমন অসহায় চোখে তাকালো। স্যার ক্লাসে না থাকলে আজ বকেই দিত। অকস্মাৎ এহসান স্যার টেবিলের উপর শব্দ করে ডাস্টার রেখে মার্কার পকেটে গুঁজে ক্লাস থেকে বের হয়ে গেলো। যাওয়ার আগে কাউকে কিছু বলেও যায়নি। ক্লাস শেষ হওয়ার আরো পনেরো মিনিট বাকি। স্যার বের হওয়ার দু/তিন মিনিটের মাথায় পিয়ন এসে জানালো স্যার আজকে আর আসবেনা।
মাত্র প্রথম ক্লাস ছিলো। চাইলেও ছুটি নেয়া সম্ভব নয়। দুজনই ক্লাস ক্যাপ্টেনকে বলে ওয়াশরুমে এলো। ক্লাসের বাকিরাও চুপচাপ ছিলো। বুঝতে পেরেছিলো চয়নকে এভাবে বকা দেয়াতে খারাপ লেগেছে মেয়েটার। এতটা রিয়েক্ট করা স্যারের উচিত হয়নি। ওয়াশরুমে এসে মোনা চয়নকে বললো,
– এত বাড়াবাড়ি কেনো করছিস? আমার মনে হয় স্যার কিছু আন্দাজ করেছে?
চয়ন চোখ মুখে পানির ঝাপটা দিচ্ছে। মোনার দিকে প্রশ্নসূচক চোখে তাকালো। মোনা বেসিনের পাশে টাইলসে পা ঝুলিয়ে বসে বললো,
– স্যারের শেষ কথাটা শুনসনি? কি হিসেবে স্যার বললো তুই গোল্লায় গিয়েছিস? তোর তো রেজাল্ট ও ভালো।
চয়ন হতবাক হয়ে বললো,
– আমি তো সত্যি এর আগে স্যারের বকা খাইনি।
– একদম তাই। তবেই বলছি স্যারকে নিয়ে যে আকাশ কুসুম ভাবতিস তা বাদ দে।
– মোনা আমি সত্যি স্যারকে খুব পছন্দ করি, শ্রদ্ধা করি এখন এটা যদি আমার আবেগ হয় তবে আবেগ। আমি চেষ্টা করছি বের হতে এই আবেগ থেকে পারছিনা তো!
– ধুর হ পাগল। আমাদের চেয়ে বেটা পনেরো বছরের বড়।
– তুই বললি এই কথা মোনা? তুই নিজেই তো আমার মাথায় উপন্যাসের পোকা ঢাললি। সারাক্ষন বাংলা উপন্যাসের নায়কদের কথা বিড়বিড় করতি আর জমিদারের ছোট্ট বউ হওয়ার স্বপ্ন দেখতি।
মোনা দাঁত খিচিয়ে বলে,
– ওটা স্বপ্ন। এখন জমিদার ও নাই আর ছোট্ট বউ ও হতে পারবোনা। একুশ শতকে এসে জমিদার কই পাবো। পেলে বিয়ে করে নিবো।
চয়ন বিরক্ত হয়ে বেরিয়ে গেলো ওয়াশরুম থেকে। পেছন পেছন মোনা ছুটতে ছুটতে বললো,
– আচ্ছা তোকে সুযোগ দিলাম এহসান স্যারকে পটিয়ে এখন বিয়ে করার। আমি সাক্ষী হব।
– অবশ্যই মহারানী। আমার বাল্যবিবাহে আপনাকে ছাড়া আর কাউকে তো সাক্ষী হিসেবে পাওয়াই যাবেনা। দুনিয়ার মানুষ এত পাগল হয়নি।
দুই বান্ধবী খুনশুটি করতে করতে ক্লাসের দিকে এগিয়ে গেলো। মোনা মনে মনে প্রশান্তি অনুভব করলো। যাক মেয়েটা একটু হেসেছে তবে প্রকৃতপক্ষে আজ এহসান স্যারের ব্যবহার চিন্তায় ফেলার মতো ছিলো।
টেবিলের সামনে ছানার মিষ্টি রাখলো রহমত। ফোনে কাজ করতে ব্যস্ত ছিলো। এর মাঝে রহমত এলো ডিশ নিয়ে। মাথা ধরা এখনো ছাড়েনি। দু আঙ্গুলে কপাল ঘষছে। ফ্যাক্টরির অবস্থা জানার জন্য ফোন দিয়েছিলো ফ্যাক্টরি ম্যানেজারকে। নয়টা বাজার দশ মিনিট বাকি এখনো একটা কাক-পক্ষীও নেই। ইমরান মনে মনে ডিসিশন নিয়েছে আজ ফ্যাক্টরিতে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে আসবে। যদি শত কোটি লস হয় হবে তবুও নিজের আত্নসম্মান সবার আগে। হালাল উপার্জন তার। কখনো বিপদে এক টাকা দিয়ে কেউ বলেনি ইমরান এগিয়ে যা। বাবা-মা চলে যাওয়ার পর সোনার চামচ মুখে দেয়া ছেলের জীবন হয়ে উঠেছিলো মর্মান্তিক। মাঝে মাঝে মনে হয় বাবার মনে কষ্ট দিয়েছে তাই হয়তো শাস্তি প্রাপ্য ছিলো। তবে এভাবে বেড়ে উঠাটা দুজনের দোয়া।
বাবা মারা যাওয়ার সময় মাথায় হাত দিয়ে বলেছিলো,
– “তুই পারবি বাবা,সব সামলে নিতে। ভাই বোনের খেয়াল রাখিস।”
তিলে তিলে গড়ে তুলেছে সাম্রাজ্য। এগিয়ে এসেছিলো বন্ধু আর মিনহাজ ভাই। এরপর আর পিছনে তাকাতে হয়নাই। রহমতের ডাকে সম্বিত ফিরে প্লেটের দিকে তাকিয়ে কান থেকে ফোন নামালো। প্রশ্ন করার আগেই উত্তর এলো রহমতের,
– স্যার, তামান্না ম্যাডামের বিয়ার মিষ্টি।
এতটুকুই কথা। ইমরানের কানে পুনরায় ফোন দিলো। রহমত কফি দিয়েই বের হয়ে যাচ্ছে। কফিতে চুমুক দিলো। ফোনের ও পাশ থেকে প্রত্যাশিত জবাব পেয়ে কিঞ্চিৎ হাসলো। রহমতকে বললো নয়ন আর মিনহাজকে ডেকে নিয়ে আসতে। নয়ন মিনহাজ আসতেই মিষ্টির প্লেট এগিয়ে দিলো। নয়ন জানালো সে খেয়েছে। মিনহাজ তো ডায়াবেটিস এর জন্য খায় না।
– ম্যে আই কাম ইন স্যার?
মেয়েলি গলা শুনে তিনজনের চোখ দরজায় নিবদ্ধ হলো। ইমরান দরজার দিকে তাকিয়ে অনুমতি দিলো,
– ইয়েস কাম।
তামান্না ভেতরে ঢুকে জড়োসড়ো হয়ে দাঁড়িয়ে বললো,
– স্যার আমার বিয়ের মিষ্টি।
– হুম। পুনরায় অভিনন্দন।
তামান্না তিনটি বিয়ের নিমন্ত্রণ পত্র এগিয়ে দিয়ে বললো,
– স্যার ছোট করে আমাদের বাড়িতে আব্বু আম্মু আয়োজন করেছে। আসলে খুব খুশি হব।
ইমরান চুপ। মিনহাজ উত্তর দিলো, ইনশাআল্লাহ।
তামন্না বের হতেই তিনজন বেরিয়ে পড়লো।
রিকশা দিয়ে বাসায় যায় মোনা। আজো ব্যতিক্রম হবে না। তবে একটু ফুল দোকানে যাবে আজ। সামনেই দোকান। হেঁটে সেদিকে অগ্রসর হলো। ততটুকু পথ একটি কথাই মাথায় ঘুরছে,
– চয়ন আর এহসান স্যার কি আসলেই সুন্দর জুটি?
ঘড়ির দিকে তাকাতেই দেখতে পেলো সাড়ে চারটা। কোচিং শেষ করে এরপর বাসায় ফিরতে হয়,মন খারাপ থাকলেই ফুল দোকানে যায়। দোকানে প্রবেশ করে নিজের পছন্দের দুটো বেলী ফুলের গাজরা নিলো। সালমা চাচী নিবেনা তাই উনার জন্য নিলোনা। দোকান থেকে বের হতেই চোখে পড়লো পরিচিত ব্যক্তি। এক পাশে দাঁড়িয়ে ফোনে কথা বলছে। দেখেও না দেখার ভান করে চলে যাওয়ার জন্য পা বাড়ালো। পেছন থেকে সেই কন্ঠ।
– মোনালিসা।
বান্ধবীরা বলতো যে পুরুষের গলার স্বর মোটা সে পুরুষ সুন্দর, দেখতে সুন্দর এমন নয় হয়তো ব্যক্তিত্বে সুন্দর বুঝিয়েছে। উঠতি বয়সী তরুনী প্রথম প্রেমে পড়েছিলো গলার স্বরের। সেই স্বর একজন টেলিভিশন নিউজ প্রেজেন্টারের। গতকাল কানে তার চেয়েও বেশ আকর্ষণীয় এই স্বরটা বেজেছে। আজ ও বাজলো। মোটা পুরুষালি স্বরটাই যেন থমকে দিলো সব। ঘাড় ঘুরিয়ে ডাকের উৎসের দিকে মুখ করলো মোনা। তাকিয়ে দেখে মানুষটা ঠোঁটের কোণে একপেশে হাসি ঝুলিয়ে কিছুটা এগিয়ে এলো। মোনা রেগে থাকলেও ভদ্রতা বশত সালাম দিলো। ইমরান একটু ঝুঁকে প্রশ্ন করলো,
– রাগ কমেছে?
তীক্ষ্ণ দৃষ্টি মোনার। ইমরান মোনার হাতের দিকে ইশারা করে প্রশ্ন করলো,
– কার জন্য?
অনিচ্ছা এবং ইচ্ছার সংমিশ্রণে উত্তর দিলো,
– আমার আর ফুফির।
– সুন্দর।
– জানি আমি।
– মোনালিসা?
ধক করে উঠলো মোনার হৃদপিন্ড। এভাবে ডাকে কেনো মানুষটা? হাসফাঁস লাগছে মোনার। ইমরান মোনার দিকে তাকিয়ে মোনার দু কাঁধ ধরে নিজের দিকে ফিরিয়ে মাটিতে হাঁটু গেড়ে বসে মোনার জুতার ফিতা লাগিয়ে দিতে দিতে বললো,
– এভাবে তো পড়ে যেতে পারো রাস্তায়। দেখো আই নো ইউ আর জিনিয়াস। কিন্তু মাঝে মাঝে কিছু পরিস্থিতি তো সামলে নিতে শিখতে হয় তাই না। তুমি বড় হচ্ছো না? তোমার বাবার অনেক আশা তোমায় ঘিরে। দুষ্টুমি করলে তো বাবা কষ্ট পাবে। এই যে আজ সারাদিন আমাদের অনেক কাজ ছিলো কিন্তু তোমার বাবার দিকে তাকিয়ে দেখি মন খুব খারাপ । এটা কি ঠিক হয়েছে?
বাবার মন খারাপ শুনে মোনা ছলছলে চোখে তাকায়। পরিবারের মানুষ জন ছাড়া বাইরে কেউ কখনো এত যত্ন করেনি মোনাকে। দু হাতে চোখ মুছে মোনা বলে,
– আমি বাসায় যাবো।
ইমরান বললো,
– কিভাবে?
– রিকশায়।
– আমার গাড়িটা নিয়ে যাও। আমি যাবোনা তোমাদের বাসায়। বাইরে প্রচন্ড রোদ। রিকশায় গেলে তোমার শরীর আরো খারাপ হবে।
– কালকের জন্য স্যরি ইমরান সাহেব।
ভুলবশত বলে ফেলেছে এবার। সাথে সাথে জিহবায় কামড় দিয়ে কান ধরে বলে,
– আর বলবোনা, স্যরি স্যরি।
ইমরান এবার মুচকি হাসি দিয়ে মাথা ঝাঁকিয়ে বললো,
– ঠিক আছে যাও,গাড়িতে উঠো।
– আর আপনি?
– এই যে রিকশা নিচ্ছি।
মোনা হাত বাড়িয়ে বললো,
– ফ্রেন্ডস?
সাথে গান ও গাইলো দু লাইন,
– তুমি কি আমার বন্ধু হবে,
ভুলিয়ে দেবে দুঃখ যত।
ইমরান হেসে দিলো। ভাবলো আসলে আদুরে একটা মেয়ে। হ্যান্ডশেক করে বললো,
– ওকে ফ্রেন্ডস।
খুশিতে লাফিয়ে বলে,
– বাসায় চলুন আমার সাথে।
ইমরান মাথা নেড়ে রাগ করার ভাণ করে বলে,
– যদি কেউ বের করে দেয়?
– স্যরি বলেছি তো। আর করবোনা।
মোনার মাথায় হাত দিয়ে চুলগুলো একটু এলোমেলো করে করে বলল,
– ওকে, গিভ মি ফাইভ মিনিটস। তুমি গাড়িতে গিয়ে বসো।
ফুল দোকান থেকে একটা ফ্লাওয়ার বুকে নিয়ে পাশের সুপার শপে গেলো। এসে দেখে মোনা আগের জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে। হাতে একটা ব্যাগ নিয়ে মোনার সামনে এসে ওর ছোট্ট হাতটা মুঠোয় পুরে গাড়িতে উঠে পড়লো দুজন। সিটে বসতেই মোনার দিকে ব্যাগ এগিয়ে দিলো। ব্যাগ খুলে দেখলো কিছু চিপস, আইসক্রিম এবং চকলেট। মোনা খুশি মনে আইসস্ক্রিম বের করে খাওয়া শুরু করলো। ইমরানের দিকে আইসক্রিম ধরে খেতে বলে। ইমরান না খেয়ে বললো,
– আমি স্যুগার খাইনা।
– একটু
– তুমি খাও।
গলার গম্ভীর নাকোচ করা স্বরটা এবার বেশ বিচ্ছিরি শুনালো। মোনা নাক কুচকে জানালায় তাকালো।
জানার ইচ্ছেতে প্রশ্ন করলো মোনা,
– আপনি সবসময় আমাকে না না করেন কেনো?
ল্যাপটপ থেকে চোখ না তুলেই বললো,
– না করার মতো কাজ করো তাই।
মুখ ঘুরিয়ে মোনা পিঠ দিয়ে বসলো ইমরানের দিকে।
যাত্রা শুরু। গাড়িতে রবিন সফট ভয়েসে গান দিয়েছে। রিয়ার মিররে চোখ যেতেই দেখতে পেলো ইমরানের ব্যস্ততা ল্যাপটপ নিয়ে। চোখে সানগ্লাস। গাড়িতে কেনো সানগ্লাস! ঠোঁট বাকিয়ে পুনরায় খাওয়ায় মনোযোগ দিলো। হঠাৎ আইসক্রিম খেতে খেতে ইমরানকে রাগাতে জোরে জোরে ছড়া শুরু করলো,
প্রিয় মোনালিসা পর্ব ৫
জনি জনি,ইয়েস পাপা
ইটিং স্যুগার?,নো পাপা
টেলিং লাইস?,নো পাপা
ওপেন ইউর মাউথ
হা হা হা।
ল্যাপটপ থেকে নজর সরিয়ে মোনার দিকে তাকালো।। মোনা তো আপন মনে জানালায় মন দিয়ে আওড়ে যাচ্ছে। ইমরানের মুখের ভঙ্গি পরিবর্তন হয়নি। মনে মনে ভাবলো,
– আর কি কি পারে এই মেয়ে?
