Home প্রেয়সীর অনুরাগ প্রেয়সীর অনুরাগ পর্ব ২৭

প্রেয়সীর অনুরাগ পর্ব ২৭

প্রেয়সীর অনুরাগ পর্ব ২৭
Sadiya Jahan Simi

”ভাই আপনি মোটা হয়ে যাচ্ছেন। কেমন আলু আলু লাগছে আপনাকে।”
রনির কথায় ফোন থেকে চোখ দুটো বড় বড় করে তাকালো আভিয়ান। যেন আগুন জ্বলছে চোখে। রনি তাতে ভড়কে গিয়ে আমতা আমতা করে বলল,
”ইয়ে মানে ভাই..
আভিয়ান গর্জে উঠলো মুহুর্তেই। টি টেবিলে রাখা কফির কাপটা তুলে নিয়ে সজোরে ছুঁড়ে মারলো রনির দিকে। রনি সেটা বুঝতে দেরি করে ফেলেছে। যখনই বুঝতে পারলো টেবিলে রাখা কাপটা এখন ওর কপাল বরাবর লাগবে তখনই বেচারা লাফ দিয়ে সরে গেল। তবে শেষ রক্ষা হলো না। কাপটা গিয়ে লেগেছে কাঁধ বরাবর। রনি কিছুটা দূরেই দাঁড়িয়ে ছিল। আভিয়ানের ছোঁড়া কফির কাপটার বেগও বেশ জোরে ছিল। যার দরুন ব্যথা পেয়েছে বেশ। রনি কাঁধে হাত দিয়ে ঢলতে ঢলতে বলল,

”ভাই কি করেছি আমি! শুধু মারলেন। ইশ্ এতো জোরে কেউ মারে?”
আভিয়ান জ্বলন্ত চোখে তাকিয়ে রইল। যেন লাল অগ্নি সংযোগ রয়েছে তার চোখ দুটোতে। ফুঁসতে ফুঁসতে বলল,
”তোকে আজ পিটিয়ে বের করবো আমি। কোন এঙ্গেল থেকে আমায় মোটা মনে হচ্ছে তোর! চোখ কি নাইট ক্রিমের সাথে গুলিয়ে খেয়েছিস?”
নাইট ক্রিমের কথা শুনে মুখটা ভোঁতা করে ফেলল রনি। একটু আধটু নাইট ক্রিম নাহয় দেয়। তাই বলে কি বস প্রতিনিয়ত খোটা দিবে তা নিয়ে! রনি অসহায় হয়ে বলল,
”ভাই আপনি খালি আমার এইডা লইয়া টান মারেন। আমি নাহয় একটু পর
ফর্সা হওয়ার লাইগা নাইট ক্রিম মাখি। এতে কি দোষের কিছু আছে?”
আভিয়ান ভ্রু কুঁচকে বলল, ”তুই কি মেয়ে! তুই কেন নাইট ক্রিম মাখবি? বুঝা আমাকে। জেন্ডার পরিবর্তন করতে ইচ্ছে হচ্ছে?”

আভিয়ানের এহেন কথায় রনি অভ্যস্ত। আভিয়ান এখন প্রায়ই নিজের পার্সোনালিটির বাইরে গিয়ে এসব অদ্ভুত কথা বার্তা বলে। তাই বলে যে জেন্ডার নিয়ে প্রশ্ন তুলবে তা কালক্ষেপণেও ভাবতে পারেনি রনি। বেচারা মুখটা আগের চেয়ে আরো থমথমে অবস্থা। অসহায় চোখে আভিয়ানের দিকে তাকিয়ে কিছু বলার আগেই আভিয়ান সন্দেহ নিয়ে জানতে চাইল,
”এই রনি সত্যি করে একটা কথা বলতো।”
”কি কথা ভাই? বলেন, আমি সত্যিই বলি সবসময়।”
আভিয়ান বসা থেকে উঠে দাঁড়ালো। নিজেকে একবার পরোখ করে নিল। উৎসাহ কন্ঠে শুধায়,
”আমি কি আসলেই মোটা হয়ে গেছি! তুই হঠাৎ এই কথা বললি কেন?”
রনি যেন‌ সুযোগ পেলো এবার। এতোক্ষণ কি নাটক করলো এই কথা বলাতে। আর এখন নিজেই যেচে পড়ে জিজ্ঞেস করছে।

”কি হলো ! কিছু বলছিস না কেন? আমাকে মোটা বললি কেন!”
রনি সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে গেল। মনে মনেই হেসে উঠলো। তারপর সিরিয়াস ভঙ্গিতে বলল, ”ভাই আপনি বিশ্বাস করছেন না কেনো? সত্যি বলতেছি। আপনার পেট একটু বড় হয়ছে।”
আভিয়ান চমকে তাকালো। রনি নিজেকে যথাসম্ভব কন্ট্রোল রেখে দাঁড়িয়ে আছে। আসলেই সত্যি আভিয়ান একটু মোটা হয়েছে।
”পেট বড় হয়েছে! আসলেই?”
”জ্বি ভাই। আমি সত্যিই বলতেছি। বিশ্বাস না হলে আরো কয়েকজনকে ডেকে আনেন।”
আভিয়ান শুনলো রনির কথা। কিছু একটা ভেবেই হাঁক ছেড়ে ডাকলো তিনজন বডিগার্ডকে। বসের ডাক শুনেই ছুটে হাজির হলো তিনজনই। আভিয়ানের কপালে চিন্তার ভাঁজ। কৌতুহল নিয়ে তিনজন কে বলল,
”আমার মাঝে কি কোনো চেঞ্জ দেখতে পারছিস তোরা? মানে আগের মতোই আছি নাকি অন্যরকম হয়েছি!”
তিনজন গার্ড একে অপরের মুখ চাওয়াচাওয়ি করলেন। তারমধ্যে একজন আভিয়ানের দিকে তাকিয়ে ফটাফট করে বলল,

”হো ভাই। কিছু পরিবর্তন হয়ছে।”
আভিয়ান নড়েচড়ে বসলো। ভ্রু কুঁচকে বলল, ”কি চেঞ্জ এসেছে?”
”ভাই আপনার পেট বাড়ছে। অনেকটা বড় লাগতেছে।”
এই জনের সাথে মিলিয়ে অপরজন ঠাশ করে বলল, ”মনে হয়তেছে ভাইয়ে পাঁচ মাসের বাচ্চা পেটে লইয়া ঘুরে।”
এই কথায় সবাই হেঁসে উঠল। রনি পারছেনা হামাগুড়ি দিতে। হাসতে হাসতেই কোমড়ে হাত দিয়ে বসে পড়ল রনি। চোখে জল চিকচিক করছে। কথা বলতে পারছেনা। বাকি তিনজনের ও এই অবস্থা। রনি কোনো রকম হাসি কন্ট্রোল করে বলল,

”ভা,,ভাই আপনি প্রেগন্যান্ট! ভাবী আপনারে এমন দেখলে দৌড়ে পালাবে।”
রনির কথায় আভিয়ানের যেন এইবার রাগ আকাশছোঁয়া। রাফসার মুখোমুখি হয়না প্রায় মাস হতে চলল। গত বেশ কিছুদিন ধরে আভিয়ান ডায়েট করছে না। খাওয়ার পরিমাণ ও বেশ ছিল। রাতে গত একমাসে বাড়ি ফিরেনি সে। দিনের বেলায়ও না। বলতে গেলে একমাসে হাতে গোনা কয়েকবার এসেছে ’মায়াবী হাউসে’ । এতো কিছুর মাঝে আভিয়ান খেয়াল করেনি সে মুটিয়ে যাচ্ছে। মুহুর্তেই মধ্যেই আভিয়ান কল্পনা করতে লাগলো।
রাফসার সাথে ও দেখা করতে গিয়েছে। হাতে গোলাপের তোড়া। রাফসা শাড়ি পরে হাসছে। আভিয়ান একটা পাঞ্জাবি পরে গিয়ে দাঁড়ালো রাফসার সামনে। তারপর হাঁটু গেড়ে বসলো। গোলাপের তোড়াটা বাড়িয়ে দিয়ে বলল,
”ওহে আমার মায়াবী। সেই প্রথম দেখাতেই তুমি আমায় খুন করেছো। তোমার ভাসা ভাসা চোখের মনোমুগ্ধকর চাহনিতে আমি সেদিনই খুন হয়েছি। আমার চোখে তোমার প্রথম চোখ রাখা আমি আজো অনুভব করি। তোমার সেই ঘন পাপড়ি যুক্ত ডাগর ডাগর চোখজোড়া আমার বুকের বাম পাশে তান্ডব চালিয়েছিল। তোমার প্রেমে পড়েছিলাম আমি সেই প্রথম দেখায়। জীবন্ত লাশ হয়ে বেঁচে আছি শুধু তোমার অপেক্ষায়। আমার মায়াবী আমি ভালোবাসি তোমায়। তুমি কি আমার মনের রাজ্যের রানী হবে। বিয়ে করবে আমায়?”

রাফসা দুম করে বলল, ”এমা আঙ্কেল, কি বলছেন আপনি এসব! আমি আপনার মেয়ের বয়সী। নিজেকে একবার দেখুন। আপনাকে দেখে মনে হচ্ছে আপনি কারো বাচ্চা পেটে নিয়ে ঘুরেছেন।”
আঁতকে উঠল আভিয়ান। কি সাংঘাতিক চিন্তা ভাবনা। বিড়বিড় করে বলল, ”কি জঘন্য। ও মাই গড ও মাই গড।”
তারা চারজন এখনো হেসেই যাচ্ছে। আভিয়ান চোখ গরম করে তাকিয়ে হুংকার দিয়ে বলল,
”চুউউউপ আবালের দল। তোদের আমি শুধু শুধুই পালছি। দাঁত গুলো বন্ধ কর নয়তো হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ভাঙ্গ‌বো আজ।”
সাথে সাথেই চুপ করে গেল সবাই। রনি সোজা হয়ে উঠে দাঁড়ালো। বাকি তিনজন চলে যায় বাইরে। আভিয়ান ফোঁস করে নিঃশ্বাস ফেলে। পকেটে হাত গুঁজে রুমের দিকে যেতে যেতে বলল, ”কাল‌ আমি মর্নিং ওয়াকে যাবো। রেডি থাকিস সকালে।”
রনি বেচারা অসহায় চোখে চেয়ে রইল। যা শীত তারমধ্যে নাকি সকালে উঠতে হবে ।

শহরের একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাটটির বিশাল ড্রয়িংরুমে এখন ঘুটঘুটে অন্ধকার। কিন্তু এই অন্ধকারের মধ্যেও এক ধরণের আভিজাত্যের ঘ্রাণ লেগে আছে। মেহগনি কাঠের দামী আসবাব আর ভেলভেটের ভারী পর্দার আড়ালে বাইরের শহরের আলো ঢাকা পড়েছে। ঘরের চারদিকের দেয়ালে সারি সারি ফ্রেম। প্রায় পাঁচশ ছবি আছে বোধহয় বা তার বেশি। ছবিগুলো তার প্রেয়সীর। ম্লান চাঁদের আলোয় কাঁচের ফ্রেমগুলো মাঝে মাঝে চিকচিক করে উঠছে। যেন অসংখ্য চোখ অন্ধকারে তাকিয়ে আছে।

রুমের মাঝখানে ইতালিয়ান লেদারের সোফায় হেলান দিয়ে বসে আছে সেই রহস্যময় আগন্তুক। লোকটির পরনে সিল্কের কালো শার্ট, কবজিতে দামী রোলেক্স ঘড়িটা অন্ধকারেও হীরের মতো ঝিলিক দিচ্ছে। তার বসার ভঙ্গিটা শান্ত, কিন্তু ভেতরে যেন কোনো ঝড়ের পূর্বাভাস। তার চলাফেরায় এক ধরণের রাজকীয় দাপট স্পষ্ট।
টিপয়ের ওপর রাখা এক বোতল দামী স্কচ। সে খুব ধীরলয়ে ক্রিস্টালের গ্লাসে পানীয়টা ঢালল। বরফের টুকরোগুলো যখন গ্লাসের গায়ে ধাক্কা খেল, সেই টুংটাং শব্দটা নিস্তব্ধ রুমে যেন প্রতিধ্বনি তৈরি করল। এক চুমুক দিয়ে সে পকেট থেকে বের করল একটা দামী গোল্ড লিফ কিংবা দামী কোনো চুরুট। সোনার লাইটারটা জ্বলে উঠতেই এক মুহূর্তের জন্য তার তীক্ষ্ণ নাক আর গভীর চোখ দুটো স্পষ্ট হলো।
ধোঁয়া ছেড়ে সে দেয়ালের ছবিগুলোর দিকে তাকাল। দামী পারফিউম আর সিগারেটের কড়া ধোঁয়া মিলেমিশে এক অদ্ভুত মায়াবী পরিবেশ তৈরি হয়েছে। রাতের গভীরতা যত বাড়ছে, তার গ্লাসের তলানি আর সিগারেটের আগুন ততটাই রহস্যের জাল বুনছে। সোফা থেকে উঠে এলো সে ধীর পায়ে। পদযুগল থামল ঠিক শতশত ছবি লাগানো দেয়ালটার সামনে।

তার চোখের দৃষ্টি স্থির হয়ে আছে ঠিক মাঝখানের বড় ছবিটার দিকে। ঘরের এই গুমোট অন্ধকার আর সিগারেটের নীলচে ধোঁয়া মিলেমিশে এক একটা নামহীন হাহাকার তৈরি করেছে। অচেনা আগুন্তকটি হাত দিয়ে ছুঁয়ে দিল ছবির মুখখানি। ঠোঁটের কোণে মৃদু হাসি। হঠাৎ করেই সে গুনগুনিয়ে উঠলো।
আলতো ছোঁয়ায় চোখের চাওয়ায়
পাওয়া না পাওয়ার কি যে নেশা
সে স্মৃতিটাই আজও হাতড়ায়
হারিয়ে ফেলা ভালোবাসা~

রাত দশটার বেশি বাজছে। ফরাজী বাড়িতে ডিনার করার সময় এটা। রোহান এসে সোফায় বসল। জায়িন আগে থেকেই ছিল। ভাইকে দেখে বলল,
”ভাইয়া আমাদের বাড়িতে কোনো বিয়ে হচ্ছে না কেন?”
জায়িনের কথায় ভ্রু কুঁচকে যায় রোহানের। এই ছেলে হঠাৎ বিয়ের কথা বলছে কেন? চোখ জোড়া ছোট ছোট করে বলল, ”কেন হচ্ছে সেটা আমি কি করে জানবো। আর তুই বিয়ের কথা বলছিস কেন!”
জায়িন মাথা চুলকে হেসে বলল, ”উদ্যান ভাই, তুমি,রিশান ভাই প্রায় সমবয়সী। তোমরা তিনজন বিয়ে করলে একজনের জীবন ধন্য হতো।”
”আমাদের বিয়ে দিয়ে আবার কার বিয়ে ধন্য হবে?”
”তুমি বুঝতে পারছো না ভাইয়া। সবার বয়স হচ্ছে। কতদিন বা বাঁচবে বলো। তাই তাড়াতাড়ি বিয়ে করে নেওয়া উচিত বলে আমার মনে হয়।”
রোহান আড়মোড়া হয়ে বসল। সন্দেহ নিয়ে বলল, ”তুই বিয়ে করতে চাইছিস!”
রোহানের কথায় নাজুক হাসলো জায়িন। বড় ভাইয়ের কাছে বিয়ের কথা শুনে একটু লজ্জা পেলো। রোহান চোখ ছোট ছোট করে তাকিয়ে বোঝার চেষ্টা করছে।
জায়িন বলল, ”ওই আরকি। তোমরা তাড়াতাড়ি বিয়েটা করো না। আমি কবে বিয়ে করব?”
রোহান ভ্রু কুঁচকে বলল, ”বিয়ে করে বউকে খাওয়াবি কি?”

”মোহাব্বত খাওয়াবো।”
রোহান হাত বাড়িয়ে ধুম করে এক কিল বসালো জায়িনের গায়ে। কান টেনে ধরে বলল, ”আচ্ছা। মোহাব্বত খাওয়াবি? তা সেটা খেতে কেমন?”
”সেই স্বাদ ভাইয়া। তুমি সিঙ্গেল বুঝবে না।”
রোহান চোরা চোখে তাকিয়ে মনে মনে ভাবল, ‘ইশ আজ ললনা ছলনা থাকলে এই অপবাদ শুনতে হতো না। তারপর হঠাৎ করে চিৎকার করে বলতে শুরু করল,
”মা ও মাআআ। তোয়ার পোয়া বিয়ে গরিবু হদ্দে। দিয়ুম না ডানাতে বাতে চড়?”
জায়িন জলদি করে রোহানের মুখ চেপে ধরল।
”ভাই আর বলব না। চুপ থাকো।”
রোহান তখনো চেঁচিয়ে যাচ্ছে।

দীর্ঘ ফোনালাপ ছেড়ে উঠে রাফসা। দুইদিন ধরে বন্ধুত্বটা ঠিক করার আপ্রাণ চেষ্টা করছে। তবে কিছুতেই কিছু হচ্ছে না। সায়মার বোনকে কুমিল্লা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে নানু বাড়িতে। সাতারুল এই খবর শুনে বেশ দাঙ্গা হাঙ্গামা করেছে। আশরাফুলের কাছ থেকে শুনেছে কাল সাতারুলের ফ্লাইট। দেশ ছাড়বে সাতারুল। এতে যেন সবাই ভেঙ্গে পড়েছে। সায়মা একটাবার বুঝালে হয়তো বুঝবে। কিন্তু সায়মাও জেদ চেপে আছে। বন্ধুত্ব রাখবেনা সাঁতারুলের সাথে। সব শেষ করে দিবে।
রাফসা দীর্ঘশ্বাস ফেলে উঠে দাঁড়ালো। রুমের কোথাও অ্যাশকে দেখতে না পেয়ে ভ্রু কুঁচকে যায়। কোথায় আছে সেটা বুঝতে পেরে হাঁটা দিল সে উদ্দেশ্য।
উদ্যান আজ বাড়িতেই ছিল। এক সপ্তাহ ধরে শান্তিতে ঘুম হয়নি। নিজের ঘরে‌ বসেই ইন্দোনেশিয়ান‌ হরোর মুভি দেখছে। শরীরে শুধু একটি কালো ট্রাউজার। উন্মুক্ত বডি। পা জোড়া লম্বা করে বিছানো। তারউপর বালিশ দিয়ে ল্যাপটপ রাখা। অ্যাশ পাশেই শুয়ে আছে।
রাফসা এসে ঘরের দরজায় দাঁড়ায়। ভেতরের পরিস্থিতি বুঝে ঢুকল। উদ্যানের সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে কোমড়ে হাত রেখে রেগে বলল,

”আপনি অ্যাশ কে ধরে রেখেছেন কেন?”
হঠাৎ আওয়াজে ডিস্টার্ব হয় উদ্যানের। চোখ তুলে রাফসাকে দেখে একটুও অবাক হলো না। উদ্যান জানতো রাফসা আসবে। তাইতো অ্যাশকে বন্দি করে রেখেছে। রাফসার চোখে চোখ রেখে ভ্রু কুঁচকে বলল,
”আমি কোথায় ধরে রেখেছি! চোখে বেশি দেখিস?”
”জ্বী না। ঠিকঠাকই দেখি। অ্যাশ আমাকে ছেড়ে বেশিক্ষণ থাকতে পারেনা। সেটা আমি ভালো করেই জানি। আপনি ইচ্ছে করে ওকে আটকে রেখেছেন।”
উদ্যান গম্ভীর চোখে তাকালো। রাফসা ফের বলল, ”অ্যাশ কে আমার কাছে দিন।”
”নো।”
উদ্যানের কথায় রাফসা তেতে উঠল। দাঁতে দাঁত চেপে বলল, ”অসহ্যকর।”
কথাটা বলেই ঝুঁকে অ্যাশকে কোলে তুলে নিল। সোজা হয়ে দাঁড়ানোর আগেই উদ্যান রাফসার এক হাত ধরে হ্যাঁচকা টেনে কোলে বসিয়ে দিল। সামনের দিকে করে দুই হাত শক্ত করে কোমড় পেঁচিয়ে ধরে। রাফসা ব্যাপারটা বুঝতে পেরেই চেঁচিয়ে উঠলো।

”এই ছাড়বেন আপনি! নাকি মাথায় তুলে আছাড় মারবো?”
উদ্যান তা শুনেও যেন শুনলো না। রাফসার কাঁধে থুতনি ঠেকিয়ে ঠান্ডা স্বরে বলল, ”ল্যাপটপে তাকাও জান।”
রাফসা তাকায়। সে মুহূর্তেই ল্যাপটপে ভেসে উঠলো এক ভয়ংকর মুখ। চোখজোড়া সাদা। মুখ চুয়ে রক্ত পড়ছে। সব মিলিয়ে যা তা একটা অবস্থা। রাফসা এমনিতে ভয় পায় এসব। হুট করে দেখতে পেয়ে ভয়ে চিৎকার করে উঠল। উদ্যান তড়িঘড়ি করে একহাত দিয়ে মুখ চেপে ধরে বলল,

প্রেয়সীর অনুরাগ পর্ব ২৬ (২)

”আমার মানসম্মান খাওয়ার ধান্দায় আছো? চুপ করে এনজয় করো জান। আই মিন মুভিটা।”
রাফসা কোনোরকম উদ্যানের হাত সরিয়ে নিল। রাগে গজগজ করতে করতে বলল,
”ছুবেন না একদম। আপনার ছোঁয়া বিষের মতো লাগে।”

প্রেয়সীর অনুরাগ পর্ব ২৮