Home প্রেয়সীর অনুরাগ প্রেয়সীর অনুরাগ পর্ব ২৬ (২)

প্রেয়সীর অনুরাগ পর্ব ২৬ (২)

প্রেয়সীর অনুরাগ পর্ব ২৬ (২)
Sadiya Jahan Simi

মাঝে কেটে গিয়েছে আরো এক সপ্তাহ। সবার জীবন নিয়ম মাফিক চলছে। তবে আঁটকে আছে একজনের জীবন। গত এক সপ্তাহে উদ্যান একবারও রাফসার দেখা পায়নি। সকালে মেডিকেলে যাওয়ার সময় ও রাফসাকে দেখে যেতে পারে না। পারবে কি করে,সে তো ঘরে দরজা লাগিয়ে বসেছে। যেন পণ করেছে উদ্যানের মুখোমুখি হবেই না। রাতে বাড়ি ফিরতে প্রায় লেইট হয়। গত দুই দিন আগে রাতে বাড়ি ফিরে সর্ব প্রথম রাফসার ঘরে গিয়েছিল। এতো ডাকাডাকির পরেও দরজা খোলা তো দূরের কথা একটা টু শব্দ অব্দি করেনি। চিৎকার করতে পারেনি যদি কেউ দেখে ফেলে। অগ্যাতা রাগে গজগজ করতে করতেই চলে গিয়েছিল।

এতো কিছুর মাঝেও সবচেয়ে বড় কথা রাফসার মেডিকেল পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে গত পাঁচদিন আগে। ওর রেজাল্ট সর্ব প্রথম উদ্যান ই দেখেছে। ড্রয়িং রুমে সবাই ভীড় করে বসেছিল। হুমাইরা ফরাজী টেনশনে যেন জ্ঞান হারানোর উপক্রম হয়েছিল। সবাই অস্থির হয়ে দোয়া করছিল। শুধু তার মুখের আদল বেশ স্বাভাবিক ছিল। যেন জানতো রাফসা চান্স পাবেই। হলোও তাই। ফলাফল চেক করতেই উদ্যান ঠাঁই কিছু সময় বসে ছিল। এদিকে সবার জান বের হওয়ার উপক্রম। উদ্যান যখন বলল রাফসার চান্স হয়েছে পুরো বাড়িতে হুড়োহুড়ি শুরু হয়। উষা দৌড়ে গিয়ে জানায় রাফসাকে। বেচারী ভয়ে নামাজের জায়নামাজ থেকে উঠেনি। সিজদায় লুটিয়ে কতশত দোয়া করেছে। চোখের পানি ফেলে আল্লাহর কাছে ভিক্ষা চেয়েছে। মন প্রাণ থেকে চাইলে আল্লাহ কখনো ফিরিয়ে দেয়না। শত চেষ্টা করে যেতে হয় সফলতার ছোঁয়া পেতে।
যখন রাফসা শুনলো ও মেডিকেলে চান্স পেয়েছে। ডুকরে কেঁদে উঠেছিল। সেদিনটা ওর জীবনের সবচেয়ে আনন্দময় একটি দিন ছিল। জন্মের পর এই একটি খুশির সংবাদ বয়ে এনেছিল ওর মনে প্রশান্তির আভা। এতো পরিশ্রম বিফলে যায়নি।

জেদই পারে আমাদের পুরোপুরি পাল্টে দিতে। যেখানে সম্মান নেই, সেখানে কেন যাবো আমরা। পড়ালেখা ছাড়া জীবনে সফলতা অর্জন করা সম্ভব নয়। সমাজে মাথা উঁচু করে বাঁচতে হলে পড়াশোনা আবশ্যক। প্রেম, ভালোবাসা, মোবাইল চালানো এসব পরেও করা যাবে। কিন্তু যায় দিন আর আসবেনা। আমাদের যেন পরবর্তী সময়ে গিয়ে আফসোস করতে না হয়। তেমন করেই সময়কে কাজে লাগানো উচিত। পরীক্ষার হলে গিয়ে যখন দেখবো কিছু পারি না। নিজেকে তখন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় অসহায় মানুষ মনে হবে। কেন কিছু পড়লাম না। কেন আমার মূল্যবান সময়গুলো প্রেম,ভালোবাসা,ফোনের পেছনে নষ্ট করলাম। আবার যদি প্রথম থেকে শুরু করতে পারতাম। কিন্তু সেটা আর সম্ভব হবে না। তুমি তোমার মূল্যবান সময়গুলো নষ্ট করে পেছনে ফেলে এসেছো। এখন আফসোস করা ব্যতীত আর কিছুই অবশিষ্ট নেই তোমার। সময় থাকতে নিজের একটা পরিচয় গড়ে তুলো মেয়েরা। জীবনটা উপভোগ করতে শেখো। যে সময়টা নষ্ট করছো,সেটা পরে আহাজারি করেও ফিরে পাবে না। সময় থাকতে তার কদর করা শেখো। রাফসার মতো নিজেকে চেঞ্জ করে ফেলো। অবহেলিত হয়ে একটা জীবন পাড় করতে হবে না।

কাল রাতে বেশ দেরি করেই বাড়ি ফিরেছে উদ্যান। রাত আনুমানিক একটা বাজবে। বাড়ি ফিরে ফাটা ড্রয়িং রুম থেকে শুকনো ঢোক গিলে। বউটা একটু অপেক্ষা করবে,আদর যত্ন করে খাবার খাওয়াবে। তা না করে ঘরে খিল দিয়ে বসেছে। সি বিচ থেকে আসার পর রাফসার ছায়া অব্দি দেখেনি।
আজকের সকালটা শুরু হয়েছে বেশ খানিকটা সময় নিয়ে । চারদিকে কুয়াশার চাদরে আবৃত । কুয়াশা কাটতে সময় লেগেছে আজ। পাতায় পাতায় শিশির বিন্দু জমে ছিল।
রাতে বাড়ি ফিরতে দেরী হলেও আজ হসপিটালে একটু জলদিই যেতে হবে। সকাল আটটায় উঠেই শাওয়ারে গিয়েছে উদ্যান। এই কনকনে শীতের মাঝেও সকাল গোসল করাটা উদ্যানের কাছে স্বাভাবিক।
শাওয়ার ছেড়ে বেরিয়ে এলো সে। চুল বেয়ে পানির কণা নেমে আসছে। বুকে জলের কনা চিকচিক করছে। গলায় ঝুলিয়ে রাখা সাদা তাওয়ালটা দিয়ে অবিন্যস্ত ভেজা চুলগুলো মুছে নিতে ব্যস্ত। ফর্সা মুখখানায় প্রধান কেন্দ্রবিন্দু ছোট ছোট চাপদাড়ি। তারমধ্যে একজোড়া শুষ্ক হালকা গোলাপি রাঙা অধর খানা। সাদা কালো রঙের মাঝে তা যেন একটু বেশিই ফুটে আছে। থুতনির মাঝখানে ছোট একটা তিন। যা ছোট ছোট চাপদাড়ির মাঝে ঢাকা পড়েছে। খুব কাছ থেকে দেখলে বোঝা যায় এই স্থানের তিলটি। মিররের সামনে দাঁড়িয়ে রেডি হওয়ার মাঝে গুটি গুটি পায়ে ঘরে প্রবেশ করল অ্যাশ। প্রাণীটি গিয়ে সোজা দাঁড়ায় উদ্যানের সামনে। অ্যাশ কে দেখে অবাক হলো উদ্যান। বিড়ালটা খুব একটা আসেনা এই ঘরে। এলেও পিছু পিছু ছুটে আসে রাফসা। উদ্যান নিচু হয়ে অ্যাশকে কোলে তুলে নিল। মাথায় হাত বুলিয়ে গম্ভীর গলায় শুধোয়,

”তোমার বেয়াদব মাম্মা কোথায়? তার যে একটা স্বামী আছে,সেই খেয়াল কি নেই! দিন কে দিন অবাধ্য হচ্ছে বউটা। সাথে তোমাকে ট্রেনিং প্রাপ্ত বেয়াদব বানিয়ে ছাড়ছে।”
অ্যাশ বোধহয় বুঝলো লোকটা তার মাম্মার নামে কিছু বলছে। তাই তো মুহূর্তেই শান্ত থাকা অ্যাশ কেমন করে হাক ছাড়ছে। যেন বলছে, এই বেয়াদব আব্বা একদম আমার মাম্মার দোষ দিবি না। সারাক্ষণ মাম্মার ভুল ধরে। নিজে একটা খচ্চর সেটা বলেনা। অ্যাশের ডাকে বিরক্ত হয়ে ভ্রু কুঁচকে বলে,
”দেখেছো তোমাকেও বেয়াদব বানিয়েছে। তোমার মাম্মা যদি আমার বউ হয়,তাহলে আমি তোমার পাপাই তো হবো। তবুও আমার সাথে বেয়াদবি করছো! মা মেয়ে দুটোই বেয়াদব। আমার ফিউচার বাচ্চা কাচ্চাদের বোধহয় তোমার মাম্মা আমার নামে নয়ছয় বুঝিয়ে দূরে রাখবে।যাও যাও,মায়ের চ্যালা। দূরে গিয়ে মরো।”
কথাটা বলেও উদ্যান বিরক্ত হলো। দূরে গিয়ে মরো,এটা তো শুনেছে রাফসার থেকে। অ্যাশ কে নামিয়ে দিল উদ্যান। সাদা শার্ট জড়িয়ে নেয় শরীরে। প্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে বেরিয়ে পড়ে হসপিটালের উদ্দেশ্য।

অনেকদিন পর রাফসা আজ বেরিয়েছে বন্ধুদের সাথে দেখা করতে। একটি রেস্টুরেন্টে বসে আছে ওরা তিনজন। ছেলেরা এখনো আসেনি। এতো কিছুর মাঝেও দুঃখজনক বিষয় ওদের সবার চান্স হলেও সাতারুলের হয়নি। এই ব্যাপারে সবাই আপসেট। সাতারুলকে এ কদিন অনলাইনে পাওয়া যায়নি। আশরাফুল আজ বাড়ি গিয়ে নিয়ে আসবে।
রেস্টুরেন্টের এক কোণে টেবিলটা ওদের দখলে। সাবিকুন রাফসা টুকটাক কথা বললেও মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছে সায়মা। বিষয়টা চোখে পড়তেই রাফসা জিজ্ঞেস করল,
“কি হয়েছে! তোর মুখটা এমন করে রেখেছিস কেন? মন খারাপ, নাকি শরীর!”
”ভালো লাগছে না।”
”কেন কি হয়েছে তোর! না বললে বুঝব কি করে?” জানতে চাইল সাবিকুন।
সায়মা রাগে গজগজ করতে করতে বলল, ”সাতারুল আসুক। তারপর হবে যা হওয়ার।”
সায়মার কথায় খানিট অবাক হলো দু’জন। রাফসা সন্দেহ নিয়ে জানতে চাইল, ”কি হয়েছে! কোনো ঝামেলা হলো নাকি সাতারুলের সাথে?”

”ওই যে আশরাফুল সাতারুল এসেছে।”
আঙুল দিয়ে ইশারা করে বললো সাবিকুন। ওর কথায় দুজনে পেছনে ফিরে তাকায়। সাতারুলের চেহারা স্বাভাবিক। নিশ্চল ভঙ্গিতে হেঁটে আসছে। মেডিকেল চান্স না পাওয়ার আফসোসের রেশটুকু অব্দি নেই মুখে। দৃঢ় বিশ্বাসের সহীত এগিয়ে আসছে। দুজনে এসেই বসে পড়ল ফাঁকা চেয়ারগুলোতে।
আশরাফুল কিছুটা হায়হুতাশ করে বললো, ”মামা মেডিকেলে চান্স না পেয়ে একদম দেবদাস হয়ে গেছে রে। ঘরে অন্ধকারে পড়ে রইছে। জোর করে ধরে আনলাম ওরে।”
সায়মা তাচ্ছিল্যের স্বরে বলে উঠলো, ”সেটা ওই শোক নয়রে। ওরে ধরেছে অন্য শোকে।”
”কোন শোকে! কি বলছিস, ক্লিয়ার করে বল শালী।”
শান্ত পরিবেশ টা হুট করেই ভারী হয়ে উঠল। সায়মা চেয়ার ছেড়ে উঠেই থাপ্পড় মেরেছে সাতারুলের গায়ে। তব্দা খেয়ে গেল ওরা তিনজনই। সাতারুল গালে হাত দিয়ে রেগে বলল,
”সবসময় মজা ভালো লাগে না। ফাজলামোর একটা লিমিট আছে।”
”ইয়েস, যেটা তুই ক্রস করেছিস। তোর সাহস কি করে হলো আমার ছোট বোনের সাথে রিলেশনে যাওয়ার! আমার বন্ধু হয়ে আমার পেছনেই ছুড়ি বসাচ্ছিস? এই তোর বিবেকে বাঁধেনি একটুও! তোকে আমায় বন্ধু পরিচয় পরিচয় দিতে লজ্জা করছে।”

সাতারুল সায়মার কথায় আরো রেগে বলল, ”তোর বোনের সাথে রিলেশন আছে তার প্রমাণ কি!”
”রিলেশন নেই আমার বোনের সাথে! পালিয়ে যাবি আমার বোনকে নিয়ে, প্ল্যানিং করিসনি?”
”আন্দাজে কথা বলবি না সায়মা। মেজাজ গরম হয়ে আছে এমনিতেই।”
সায়মা সাইড ব্যাগ থেকে ফোনটা বের করে বলল, ”ওকে ফাইন। প্রমাণ দেখাচ্ছি।”
ফোনের গ‌্যালারি থেকে একে একে বেশ কয়েকটি স্কিনশট দেখায় সায়মখ। যাতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে সাতারুলের সাথে সায়মার বোনের সম্পর্ক আছে। রাফসা, আশরাফুল,সাবিকুন অবাক হয়ে দেখছে এসব। ওরা কখনো ভাবতেই পারেনি সাতারুল এমনটা করবে। সাতারুলের মুখ এবার চুপসে গেল। সায়মা পুনরায় চেঁচিয়ে উঠলো,
”কেন করলি এটা? তুই জানিস আমার ফ্যামিলিতে কি চলছে! আমার মা বাবা বলছে ছোট বোনকে তোর পেছনে লাগিয়ে দিয়েছি আমি। অথচ জানিই না এসবের কিছুই।”
সাতারুল নিজেও এইবার চেঁচিয়ে বলল, ”এই কারণেই ওর সাথে আমার কথা হচ্ছে না। আর এইদিকে আমি পাগল হয়ে যাচ্ছি। রিলেশন করি,তো কি হয়েছে!”
”এই আয়নায় তোর চেহারাটা দেখিস। কোথায় আমার বোন,আর কোথায় তুই! তোদের একসাথে মানায় বলতো আমায়।”

”চেহারার খোটা দিচ্ছিস!”
আশরাফুল ওদের মধ্যে বাঁধা দিয়ে বলল, ”এভাবে চেচাস না। ঠান্ডা মাথায় সলভ কর।”
সায়মা চিবিয়ে চিবিয়ে বলল, ”সলভ মাই ফুট! এই বেয়াদবের সাথে কোনো সম্পর্কই রাখবো না। আমার উপর দিয়ে কি যাচ্ছে জানিস তোরা!”
”এই যা। তোর মতো বন্ধু এই সাঁতারুলের দরকার পড়েনা। তোর বোনকে তুলে নিয়ে আসবো। দেখবো কি করিস।”
”এলাকাটা তো তোর বাপ দাদার। বললি আর গিয়ে তুলে আনলি। মুখটা কম। চালা।”
সাতারুল বসা থেকে উঠে তেড়ে উঠল। আশরাফুল শক্ত হাতে ধরে রাখে। রাফসার মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে এসব।
” প্লিজ তোরা এমন করিস না। আমাদের বন্ধুত্ব নষ্ট হবে।”
”ওর সাহস কি করে হলো আমার বাপ দাদা তুলে কথা বলার? মেয়ে না হলে এখানেই আজ পুঁতে ফেলতাম।”
”সেটাই পারবি। গুন্ডা তো তুই।সেটা খুব ভালো করেই জানা আছে। আমার বোনের থেকে দূরে থাকবি একদম।”
সাতারুল আবারো ছাড়া পাওয়ার জন্য ছটপট করতেই আশরাফুল টেনে নিয়ে গেল। সায়মা রাগে গজগজ করতে করতে বসে পড়ে। মাথায় হাত দিয়ে লম্বা লম্বা কয়েকটা শ্বাস ফেলে।
”আমাদের মধ্যে এমন একটা দিন আসবে কখনো কল্পনাও করিনি।”

রাত বেড়েছে। প্রায় বারোটার কাছাকাছি। রাফসা এমন সময় কিচেনে কফি বানাতে ব্যস্ত। সন্ধ্যা সেই রাত পর্যন্ত গ্ৰুপে কথা বলেছে। ওদের ফ্রেন্ডশিপ টা বোধহয় আর ঠিক হবে না। সবার মন খারাপ। অতিরিক্ত চিন্তা করলে রাফসার মাথা ভার হয়ে থাকে। তাই তো এতো রাতে কফি বানাতে এসেছে।কাপে কফি ঢেলে কিচেন থেকে বেরোতেই উদ্যান কে সামনে দেখে ভরকে গেল। গত এক সপ্তাহ আগে দেখা হয়েছিল দু’জনে। আজ সাতদিন পর মুখোমুখি হলো দু’জন। উদ্যান কে দেখে শুকনো ঢোক গিলে রাফসা। এখন না মাথায় তুলে আছাড় মেরে কোমর ভেঙে দেয়। বিগত দিনগুলোতে দেখা না দিয়েও প্রচুর জ্বালিয়েছে। এই যে রাত বিরাতে গিয়ে দরজা ধাক্কাধাক্কি করলেও খুলেনি। এতো এতো ফোন, মেসেজ দিলেও পাওা দেয়নি। নিশ্চিত আজ থাপড়ে গাল ফাটিয়ে দিবে।
রাফসা খেয়াল করে দেখলো উদ্যানের চেহারায় ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট। প্রতিদিনের ন্যায় এপ্রোনটা একহাতে ভাঁজ করে ঝুলিয়ে রাখা। এলোমেলো অবিন্যস্ত চুল গুলো পেছনের দিকে হেলে আছে। চোখজোড়া ছোট ছোট দেখাচ্ছে। বোধহয় ঘুম জেঁকেছে। রাফসার খানিট মায়া হলো। তবুও নিজের মায়াকে একপাশে রেখে উদ্যান কে পাশ কাটিয়ে নিতেই খপ করে হাত ধরে ফেলল লোকটা। বুকটা ছলাৎ ছলাৎ করে উঠলো। এই বুঝি থাপ্পড় পড়ল গালে। উদ্যান রাফসাকে নিজের সামনে এনে ভ্রু কুঁচকে বলল,

”কি মেডাম। কেমন আছেন আপনি?”
” আলহামদুলিল্লাহ ভালো।”
উদ্যান ঠোঁট দুটো কামড়ে ধরে উপর থেকে নিচে রাফসাকে একবার পরোখ করে নিল। উদ্যানের দৃষ্টিতে থতমত খেয়ে গেল রাফসা।
”ওকেহ। আপনার দেখা পাওয়া যাচ্ছে না কেন? আজকাল সূর্য এবং আপনি দেখি বেশ ভাব দেখাচ্ছেন! এক সপ্তাহ ধরে সূর্য মামার দেখা নেই, সাথে আপনার ও।”
উদ্যানের এহেন ঠাট্রায় ভয়টা উবে গেল রাফসার । বেশ ভাব নিয়ে বলল, ”তো, কি হয়েছে এখন!”
উদ্যান দুপাশে মাথা নাড়ল। এপ্রোন ধরে রাখা হাতটা উঁচিয়ে তর্জনী আঙ্গুল দ্বারা কপাল চুলকে গম্ভীর গলায় শুধোয়,
”আপনার যে একজন হাসবেন্ড আছে সেটা কি পানির সাথে গুলিয়ে খেয়েছেন!”
রাফসা ডানে বামে তাকিয়ে বলল, ” হাসবেন্ড! কোথায় আমার হাসবেন্ড? আমি আনম্যারিড। হাসবেন্ড টপকালো কোন কালে!”

প্রেয়সীর অনুরাগ পর্ব ২৬

”ওকেহ। বুঝতে পেরেছি ব্লিডিং হার্ট, হাসবেন্ড এর দেখা না পেয়ে পাগল হয়ে গিয়েছেন। নোট প্রবলেম, আই এম হেয়ার।”
রাফসা এক আঙ্গুল উঁচিয়ে তেতে বলল, ”এই দেখুন রেজিস্ট্রি করা জামাই। আমি আপনাকে জামাই মানি না। বুঝেছেন আপনি?”
উদ্যানের কপালে কয়েক স্তর ভাঁজ পড়ল রাফসার জবাবে। রেজিস্ট্রি করা জামাই মানে । শুধু রেজিস্ট্রি হয়েছে বলে কি সে জামাই না।
”থাপড়ে গাল ফাটিয়ে দেবো বেয়াদব। হাসবেন্ড না হলে কি!”
”চাচাতো স্বামী।”
রাফসার কথায় থতমত খেয়ে গেল উদ্যান। নাক মুখ কুঁচকে বলে, ”অ্যা!”

প্রেয়সীর অনুরাগ পর্ব ২৭