Home প্রেয়সীর অনুরাগ প্রেয়সীর অনুরাগ পর্ব ৩০

প্রেয়সীর অনুরাগ পর্ব ৩০

প্রেয়সীর অনুরাগ পর্ব ৩০
Sadiya Jahan Simi

” এখন ডিসেম্বর চলছে। আর দুই মাস বাদেই নির্বাচন। সব আধঘাট বেঁধেই নামতে হবে। কোনোরকম হেলাফেলা করা চলবে না। চারদিকে চোখ কান খোলা রাখতে হবে। এবারের এমপি পদ ওই রাজীব ফরাজীর হাত থেকে ছিনিয়ে আনবোই।”
কুটিল হেসে কথাগুলো বলল আজমল শিকদার। পাশেই ওনার এসিস্ট্যান্ট আকবর আলি। এবং এখানে উপস্থিত আছে রাজনৈতিক দলের বেশ কয়েকজন নেতা। তারমধ্যে কাদির খান বলে উঠলেন।
” ইলেকশনের কথা ছাড়ো। ব্যবসায় যে লাল বাতি জ্বলছে,তার খবর আছে!”
হঠাৎ প্রশ্নে আজমল শিকদার ভাবুক হলেন। ওনার মেইন আয়ের ৮০ % আসে কালো দুনিয়ার থেকে। সেই‌ ব্যবসায় যদি লাল বাতি জ্বলে,তাহলে যে রাস্তায় নামতে হবে।

” একশ জন কাল এনেছে আস্তানায়। কিন্তু,,
ভ্রু কুঁচকে তাকালেন আজমল শিকদার। একশন জন এনেছে গতকাল,তাহলে নির্দিষ্ট একটা একাউন্ট এতোক্ষণে ওনার ব্যাংকে জমা হয়ে যাওয়ার কথা। তবে এখনো অব্দি কোনো টাকাই জমা হয়নি।
” কিন্তু কি?”
” মেয়েগুলো কে কোনোভাবে ছাড়িয়ে নিয়েছে কেউ। আপনার ছেলেকে বলুন এদিকটায় একটু মন দিতে। সারাক্ষণ নিজের মস্তিতে মেতে থাকলে চলবে?”
আজমল শিকদার ভারী নিঃশ্বাস ফেলল। আভিয়ান এসবে আসবে না কোনোভাবেই। তার কারণ রাজীব ফরাজীর মেয়ে। কিছু ভাবতেই ওনার কপালে কয়েক স্তর ভাঁজ পড়ল। চাপা স্বরে আকবর আলি কে বললেন,

” রাজীবের মেয়েটাকে দেখেছিস?”
” না স্যার। কিন্তু হঠাৎ এই প্রশ্ন?”
আজমল শিকদার হাসলেন কেমন করে। চোখের চশমা একটু ঠেলে হাসতে হাসতে বলল, ” আমার ছেলের বউ। দেখা করাটা দরকার। না হওয়া বউমার মুখটা যে দেখতে হবে। কে সে মেয়ে,যার জন্য আভিয়ান শিকদার এতো মরিয়া!”
” আপনি দেখেননি সে মেয়েকে?” কাদের খানের প্রশ্নে চোখ তুলল আজমল শিকদার। হাতের কলমটা ঘুরিয়ে বলল,
” না। ফরাজী বাড়ির সবচেয়ে ছোট সদস্য সে। সবাইকে দেখলেও রাজীবের মেয়েটাকে দেখা হয়নি। তার আগেই ঘটেছিল নানা কাহিনী।”
” আমাদের পরবর্তী কাজ কি মিস্টার শিকদার?”
” আমাদের রয়েসের এগোতে হবে। যা কাজ করার তা করবে সেই রহস্যময় মানব। এবং আমাদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে তো ফরাজী বাড়িতে একজন আছেই।”

সকাল সকাল সবাই জোড়ো হয়েছে ড্রয়িং রুমে। মিমের বিয়ের বেশি দিন নেই। আজ থেকেই কেনাকাটা শুরু করবে। ফ্যামিলিতে মিমের বিয়েটাই প্রথম। সবার কাছে এই বিয়েটা প্রথম হলেও উদ্যানের কাছে নয়। সময় সুযোগ বুঝে সে আরো তিনবছর আগেই কোপ মেরে দিয়েছে। সবকিছুতেই সে ফাস্ট,বিয়েতে কেন পিছিয়ে থাকবে? সেকেন্ড ওয়ার্ডটা ঠিক পছন্দ নয় উদ্যানের। সবকিছুতেই তার এগিয়ে থাকতে হবে।
হুমাইরা ফরাজী চারদিকে তাকিয়ে রাফসাকে খুঁজল। মেয়ের উপস্থিতি না পেয়েই অবাক হয়ে বলল,
” এ কি! সবাই রেডি হয়ে পড়েছে। আমার মেয়ে কোথায়? কাল সন্ধ্যায় ও তো ঘ্যান ঘ্যান করল,আজ শপিং মলে গিয়ে বোরকা কিনবে।”
” চাচি রাফসা বাড়িতে নেই।” ঊষার কথায় ভ্রু কুঁচকে যায় হুমাইরা ফরাজীর। বাড়িতে নেই মানে।
” কোথায় গিয়েছে? শপিং করতে যাবো জানে না মেয়েটা?”
” চিন্তা করো না চাচি। ফ্রেন্ডদের সাথে দেখা করতে গিয়েছে। খুব দরকার ছিল বোধহয়। কেমন তাড়াহুড়ো করে বেরলো।তোমায় বলেনি,তুমি যেতে দিতে না।আমায় বলে গিয়েছে।”

” তো মেয়েটা কিছু কিনবে না?”
রোহান এতোক্ষণে ফোন হতে দৃষ্টি সরিয়ে নিল। কিছু একটা ভেবে বলল,
” সমস্যা নেই চাচি। উদ্যানের শপিং করা বাকি। বলেছে সন্ধ্যায় আসবে। তখন না হয় রাফসা উদ্যান গিয়ে পছন্দ মতো শপিং করে নিবে।”
” আচ্ছা ঠিক আছে। এখনো সবাই উঠো। আর দেরি করো না তোমরা।”
ওনি তাড়া দিতেই সবাই বেরিয়ে পড়ল ।

আজ প্রায় দুই বছর পর স্কুল মাঠে এসেছে রাফসারা। সেই যে এসএসসি দিয়ে বেরিয়েছিল। আর এই দিকে আসেনি। রাফসা চেয়ে দেখলো আশপাশে। কত পরিবর্তন এসেছে। পুরোনো দেয়ালটা এখন নতুন করে সেজেছে। নীল রং পাল্টে এখন দেয়ালে শোভা পেয়েছে হালকা গোলাপি রঙের মেলা। স্কুলের নাম সুন্দর করে খোদাই করা। আশেপাশে কিছু গাছপালা ছিল। কিন্তু এখন তা দেখা যাচ্ছে না। কেটে ফেলেছে বোধহয়। হতাশার শ্বাস ফেলে রাফসা। কেমন চেঞ্জ হয়ে যাচ্ছে সব।
” এখানে এসেছি কেন আমরা?”
সায়মার বিরক্ত কন্ঠে তাকালো রাফসা। সায়মার চোখ মুখ দেখে বলল,
” এমন করছিস কেন? কি হয়েছে!”
” ভালো লাগছে না আমার। এখানে কেন এসেছি সেটা বল।”
” এমনিতেই। এখানে আসা কি বারণ! কত সময় কেটেছে আমাদের এই মাঠে,ভুলে গিয়েছিস সব?”
সাবিকুনের কথায় বিরক্ত হলো বেশ সায়মা। তার দুমিনিট বাদেই দেখা যায় আশরাফুল আসছে। তার পেছনে সাতারুল। চেহারার হাল বেহাল।

” কি অবস্থা তোদের?” আশরাফুলের কথায় কেমন একটা উদাসীন ভাব ফুটে উঠল। বোধহয় কিছু নিয়ে চিন্তায় আছে। রাফসা ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করল।
” তোর চোখ মুখ এমন লাগছে কেন? কি হয়েছে তোর?”
” কি হবে আর! দেখছিস না, আমাদের ফ্রেন্ডশিপটা কেমন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।”
আশরাফুলের কথায় সাবিকুন হতাশার শ্বাস ফেলে বলে,
” আমাদের বন্ধুত্বে কারো নজর পড়েছে রে। পুরো স্কুল – কলেজ সবসময় আমাদের বন্ধুত্ব নিয়ে কতকিছু বলতো। বেশিদিন টিকবে না ফ্রেন্ডশিপ।একটা সময় ঠিক নষ্ট হবে। তাদের কথাগুলো সত্যি হচ্ছে যেন আজ।”
” সায়মা,সাতারুল তোরা সবকিছু ঠিক করে নে প্লিজ।এমন করলে একটা সময় সব নষ্ট হয়ে যাবে। কত গর্ব করে আমাদের ফ্রেন্ডশিপের কথা বলতাম। কখনো ভাঙন ধরবে না আমাদের মধ্যে। কিন্তু আজ একটা সামান্য কারণে সম্পর্কটা নড়েচড়ে হয়ে যাচ্ছে।”
সাবিকুনের কথায় এবার তেতে উঠল সায়মা। রেগে বলল,
” তোদের কাছে সামান্য ইস্যু হতে পারে বাট আমার কাছে নয়। তোদের কোনো আইডিয়া আছে, আমার উপর দিয়ে কি যাচ্ছে!”

” প্লিজ স্টপ সায়মা। কথা বাড়াস না আর। ইগোর কারণে আজ এই অবস্থা। কেউ নত হতে রাজি নয়। নিজেদের মধ্যে কথা বলে ঠিক করে নিলেই তো হলো। এতো দূর যাচ্ছিস কেনো তোরা দুজনে!”
” রাফসা তুই কথা বাড়াবি না একদম। এই বেয়াদব ছেলের হয়ে কথা বলছিস! জানিস না ও কি করেছে? তারপরও কোন মুখে এসব কথা বলছিস তোরা।”
সাতারুল মুহূর্তেই চেঁচিয়ে উঠলো, ” এই তুই কাকে বেয়াদব ছেলে বললি! চড় মেরে একদম কান গরম করে দিব। চিনিস তুই আমারে! কি হয়ছে প্রেম করাতে?”
” চুপ কর বেয়াদব ছেলে। যত বড় মুখ নয় তত বড় কথা। তোকে কোন দিক দিয়ে যায় আমার বোনের সাথে!”
সায়মার কথায় নিশ্চুপ হয়ে গেল মুহুর্তেই। শুধুমাত্র রিলেশনে যাওয়ার কারণে এতো কিছু হয়ে যাবে টের পেলে কখনোই এসবে জড়াতো না।

” আমার কমতি কি!” সাতারুল কেমন করে যেন বলল কথাটা। সায়মা আগের মতো করেই উওর দিল।
” আমার পরীর মতো বোনের সাথে তোর কোন দিক দিয়ে যায় বল।”
” সায়মা তুই কিন্তু এখন বেশিই করছিস। দোষ একা সাতারুল করেনি। অবশ্যই তোর বোনের দোষও আছে এখানে। আগে নিজের বোনকে ভালো হতে বল। তারপর অন্যজন কে কথা শুনাবি।”
আশরাফুল কথাটা বলেই সাতারুলকে নিয়ে জায়গা ছাড়ল। সায়মা বিরক্ত হয়ে তাকিয়ে রইল। রাফসা হতাশার শ্বাস ফেলে। কি থেকে কি হচ্ছে কিছুই বুঝতে পারছে না।
” তোরা এখানে একটু দাঁড়া। আমি সামনের পরিচিত আঙ্কেলের দোকান থেকে একটা হিজাব কিনে আনি।”
রাফসা মাথা নামিয়ে সায় দিতেই সাবিকুন চলে গেল।

” আ,,আমু বাববা যাবু।”
আদো আদো কন্ঠে কথাটা উচ্চারণ করল চারবছরের একটি শিশু। কথাটা শুনতেই তড়িৎ গতিতে পেছনে ফিরে তার মা। চোখে মুখে কেমন অসহায়ত্ব নেমে এসেছে। চোখজোড়ায় পানি চিকচিক করছে। যেন এক্ষুনি তা গড়িয়ে পড়বে। হাতের কাজ ফেলে বাচ্চাটাকে বুকের সাথে চেপে ধরে ভাঙ্গা কন্ঠে বলল,
” বাবা লাগবে না তোমার। আম্মু আছি না আরিয়ান।”
মায়ের কথা শুনেই বাচ্চাটা জোরে কেঁদে উঠলো। তার বাবা চাই। পাশের ঘরে একটা বাচ্চা আছে। আরিয়ানের সমবয়সী। একটা লোক প্রতিদিন বাড়ি ফিরতে চকলেট আনে। বাবা বলে ডাকে বাচ্চাটা। তাই তো ছোট্ট চার বছরের আরিয়ান আজ বাবার জন্য বায়না করছে। গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে কেঁদে কেঁদে বলছে,
” না বাবা যাবু। আমমু বাবা যাবু। চকলেট,বাবা।”
মেয়েটার চোখ ভর্তি জল আর বাঁধ মানলো না। গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়ল নোনা পানি।

” বাবা নেই জান বাচ্চা। বাবা আসবে না। তোমার বাবা নেই। মা আছি তো। চকলেট কিনে দেবো আমার ছেলেকে।”
” ইন্না বাবা চাই। আসতে বলু। বাবা।”
বাচ্চাটা কে জোর করে বুকের সাথে চেপে ধরে রাখল নারীটি। সে ও কাঁদছে। এমন জীবন কেন হলো তার! স্বামীর সুখ কপালে জুটলো না। অবশ্য স্বামী কখনোই তাকে বউ বলে সম্মান করেনি। বাচ্চাটাকে অব্দি স্বীকৃতি দেয়নি। এই ছোট বাচ্চাটার কি দোষ। বাবার আদর ছাড়া বড় হচ্ছে।
” তোর বাবা খুব খারাপ। কখনোই মানবে না তোকে। আমার ভাগ্য কেন এতো নড়বড়ে হলো! খোদা আমায় আর কত শাস্তি দিবে?”

কিছুক্ষণের কথা বলে গেলেও সাবিকুনের এখনো আসার কোনো খবর নেই। পাক্কা আধা ঘন্টা ধরে দাঁড়িয়ে আছে রাফসা সায়মা। আরো দুই মিনিট পর হাজির হয় সাবিকুন। চোখে মুখে রাগের আভাস। সাবিকুনের এই হাল দেখে সায়মা জিজ্ঞেস করল,
” কি হয়েছে তোর! এমন রেগে আছিস কেন?”
” আমাদের স্কুলের বেশ কয়েকটা মেয়ের সাথে এক ছেলে প্রেম করেছিল, মনে আছে ?”
দুজনেই মাথা নেড়ে বুঝালো মনে আছে। এক ছেলে ছিল যে কিনা এই স্কুলের কয়েক জন মেয়ের প্রেম করেছে। পুরো স্কুল এ খবর জানে।
” আমি হিজাব কিনে বের হতেই ছেলেটা আমার সামনে এসে দাড়ালো। আমি প্রথম দেখাতেই চিনতে পেরেছি।”
” হুঁ, তারপর কি হলো!” জিজ্ঞেস করল রাফসা।
” নাম্বার চাইলো। আমি পাশ কাটিয়ে চলে আসতে নিলেই হাত ধরে টান মারে। কতগুলো কথা শুনিয়ে দিয়ে আসছি।”

” কি ! এতো বড়ো সাহস ওই ছেলের? বেয়াদবের আজ খবর আছে।চল ।”
রাফসার কথায় দুজনে পা বাড়ায় সামনে। বাজারে এসে আশেপাশে খুঁজে কিছুক্ষণ। এখানেই পাওয়া যাবে ছেলেটাকে।
” এই দেখ ওই বেয়াদব ছেলেটা। ” সাবিকুনের কথায় রাফসা সায়মা সেদিকে তাকায়। মুহূর্তেই হাজির হয় ওই ছেলের সামনে। হঠাৎ করে কাউকে দাঁড়িয়ে যেতে দেখে ছেলেটা দাঁড়িয়ে গেল। সাবিকুন কে দেখেই চিনতে পারল। হেসে বলল,
” কি নাম্বার দিতে আসছেন? সমস্যা নেই দিয়ে যান।”
” ভাইয়া আপনার সাথে একটু কথা ছিল। একটু ওদিকে আসবেন?”
ছেলেটা ফিরে চাইল রাফসার দিকে। ঠিক বুঝল না কথাটা। তাই জানতে চাইল,
” আমাকে বলছেন?”
” হ্যাঁ। একটু আসবেন প্লিজ। আমরা ওর ফ্রেন্ড। আপনার সাথে কথা ছিল।”
” অবশ্যই চলুন।”

ছেলেটা হাঁটতেই পেছন পেছন তিনজনে পা ফেলে। একেঅপরের মুখের দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে চোখ টিপে। ছেলেটাকে নিয়ে স্কুল মাঠে এসেছে ওরা। আজ শুক্রবার। স্কুল বন্ধ। চারদিকে জনমানবহীন। দুই একজন যাতায়াত করছে খানিক বাদে বাদে। ছেলেটা থেমে গেল। পেছনে ফিরে বলল,
” কি বলবেন?”
” আমার ফ্রেন্ডের হাত ধরেছেন কেন? কোন সাহসে হাত ধরেছেন?”
সায়মার কথায় যেন বিরক্ত হলো ছেলেটা। কপাল কুঁচকে বলল,
” হাতই তো ধরেছি। বেশিকিছু তো করিনি আর।”
” এই বেয়াদব চিনিস আমাদের কে? এক থাপ্পড়ে দাঁত ফেলে দিবো।”
” সায়মা বেশি কথা না বলে গাছের সাথে বাঁধ বেয়াদবটাকে।”
রাফসার কথায় মাথা দুলায় দু’জন। ছেলেটা তাকিয়ে আছে। সাবিকুন শপিং ব্যাগ থেকে একটু আগে কেনা হিজাবটা বের করে আনল। দুজনে দুদিক থেকে চেপে ধরে তিনজন মিলে মুহূর্তেই গাছের সাথে বেঁধে ফেলল। ছেলেটা চাইলেই ছুটে যেত পারতো। কিন্তু কিছু বোঝার আগেই হাত বাঁধা পড়ে যায়।
” কিরে বেয়াদব মুখের চটাং চটাং কথাগুলো কোথায়! আর ধরবি কখনো কোনো মেয়ের হাত?”
”এই বাঁধন খুলেন। সাহস তো কম নয়। আমারে গাছের সাথে বাঁধছেন কোন সাহসে?”
” এইই চুপ কর শালা। আবার বেয়াদবি করস। দিব কানের নিচে একটা।” ধমকে উঠলো সায়মা। প্রায় আধা ঘন্টা হয়ে গেলেও ছেলেটা ছুটতে পারে না।

” দেখেন ছাইড়া দেন। আর হাত ধরবে না।”
রাফসা মোবাইল বের করে ভিডিও অন করল। তারপর বলল,
” ছাড়ব এক শর্তে। বলুন, আম্মা আমার ভুল হয়ে গিয়েছে। আর কখনো কোনো মেয়ের হাত ধরব না। এটা বললেই ছেড়ে দিবো।”
ছেলেটা অসহায় হয়ে তাকালো। এতোক্ষণে বুঝে গিয়েছে ওরা কারা। আগে থেকেই চিনতো তিনজন কে। কিন্তু মুখে মাস্ক থাকার কারণে চিনতে পারেনি। অগ্যতা বাধ্য হয়েই বলল,
” আম্মা আমার ভুল হয়ে গেছে মাফ করে দেন। আর কখনো কোনো মেয়ের হাত ধরব না।”

আজও সন্ধ্যায় বাড়ি এসে হাজির উদ্যান। বেশ ক্লান্ত লাগছে তাকে। বাড়ির সবার কেনাকাটা শেষ। বিকেলের দিকেই বাড়ি ফিরেছিল সবাই। সারাদিন লাগিয়ে কেনাকাটা শেষ করেছে। সবাই ড্রয়িং রুমে বসেই আড্ডা দিচ্ছে। রাফসাকে এসে কেউ দেখেনি। সে ঘুমে বিভোর। আর কেউ ডাকেনি ওকে। উদ্যান কে দেখতেই রোহান ডেকে উঠল।
” উদ্যান এখানে আয়।” রোহানের ডাকে পাশে গিয়ে বসল । চুলগুলো এলোমেলো হয়ে পড়ে আছে। সারাদিনের গোছানো চুল শেষ বেলায় এসে অগোছালো হয়ে যায়। রাহেলা ফরাজী ছেলেকে দেখেই ছুটে আসেন। রাতের জন্য রান্না বসিয়েছেন।

” বাবা শরীর খারাপ লাগছে তোর?”
” না আম্মু। ঠিক আছি। একটু মাথা ব্যথা করছে।”
” মাথা ব্যথা করছে! আজ তাহলে আর শপিংয়ে যাওয়া হবে না। আমরা সবাই শপিং করে ফেলেছি। তুই আর রাফসা বাকি। ছোট চাচি কে আরো বললাম তুই বাড়ি এলেই রাফসাকে নিয়ে শপিং করতে যাবি।”
রোহানের কথায় ভ্রু কুঁচকে উদ্যান জিজ্ঞেস করল, ” কেন ,ও শপিং করেনি?”

প্রেয়সীর অনুরাগ পর্ব ২৯

” না। বাড়িতে ছিল না। ফ্রেন্ডদের সাথে দেখা করতে গিয়েছিল।”
” আম্মু আমি রুমে যাচ্ছি। টেনশন করো না।‌”
বলেই উঠে দাঁড়ালো উদ্যান। পা চালায় উপরে। উদ্দেশ্য নিজের ঘর বা তার বউয়ের ঘর।

প্রেয়সীর অনুরাগ পর্ব ৩১